সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা । সপ্তাহ – ৫

Updated on

এই সপ্তাহে আপনি গর্ভধারণের উপসর্গ গুলো সর্ম্পকে পরিচিত হতে শুরু করবেন। এই সপ্তাহে বাচ্চার হৃদপিন্ড, পাকস্থলি, লিঙ্গ ও কিডনির গঠন শুরূ হয়।  এই সময় ভ্রুন দ্রুত বাড়তে থাকে।

ভ্রুন এর তিনটি স্তর থাকে – ectoderm যা থেকে বাচ্চার nervous system, চোখ, কান এবং অনেক connective tissue গঠিত হয়। mesoderm থেকে বাচ্চার হাড়, পেশী, হৃদপিণ্ড এবং circulatory system গঠিত হয়। endoderm থেকে বাচ্চার lungs, intestines এবং bladder গঠিত হয়।

এ সপ্তাহের শুরুতে ভ্রুন ১.০৫ মিলিমিটার বা .০৫ ইঞ্চি লম্বা হয়।

আপেল বীচির আকৃতির গর্ভস্থ শিশুটিকে এখন অনেকটা ব্যাঙ্গাচির মতো মনে হয়। এসময় মধ্যভাগে একটা স্ফীত অংশ দেখা যায়, যেটা হচ্ছে হৃদপিণ্ড। এখনো হৃদপিণ্ডের আলাদা প্রকোষ্ঠ তৈরি হয়নি কিন্তু তার মধ্যে স্পন্দন তৈরি হয়েছে এবং সে শরীরের অন্যান্য অংশে রক্তসঞ্চালন চালিয়ে যাচ্ছে।

এ পর্যায়ে শিশুটির নিজস্ব কিছু রক্তনালী গঠিত হয় । কিছু রক্তনালী মিলে একটি দড়ির (Strings) মত তৈরি করে যা কিছু দিনের মধ্যে নাভিকান্ডে (Umbilical Cord) পরিণত হয়ে শিশুটিকে তার মায়ের দেহের সাথে সংযুক্ত করবে।

[youtube https://www.youtube.com/watch?v=PkM2m5o3Cl0&feature=youtu.be ]

এর মধ্যেই গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেছে এবং এর আঙ্গুলের মতো দেখতে অংশের (Chorionic Villi) মাধ্যমে ভ্রূণের জন্য মায়ের দেহ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। দেহের অন্যান্য জরুরি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিকাশও শুরু হয়ে গেছে।

শিশুর মস্তিষ্ক আর মেরুদণ্ড প্রায় গঠিত হয়ে গেছে, তবে এখনো সেগুলো জোড়া লাগেনি। দেহের বাকি অংশের চাইতে মাথা সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে কারণ তাকে খুব শীঘ্রই হৃদস্পন্দনের গতি, রক্ত সঞ্চালন আর জীবাণু সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করার পুরো দায়িত্ব নিতে হবে।

শারীরিক পরিবর্তন

গর্ভাবস্থার লক্ষণ এই সপ্তাহে শুরু হতে পারে। এসময় সাধারনতঃ বমি বমি ভাব (সকালে মাত্র), ক্লান্তি, বুকের অস্বস্তি প্রকাশ পাবে, এবং প্রায়ই প্রস্রাব করার প্রয়োজন হবে। সব কিছুই স্বাভাবিক এবং মোটামুটি সবারই হয়ে থাকে। যদিও এগুলো বিরক্তিকর কিন্তু খুশীর কথা হচ্ছে যে এগুলো সারা জীবনের জন্য নয়।

কিছু মহিলার গর্ভাবস্থার প্রথম তিনমাসের মধ্যে মাথাব্যাথা হতে পারে। যদি আপনি তাদের মধ্যে একজন হন তবে আমাদের টিপস অনুসরন করতে পারেন

যাইহোক, কিছু গর্ভাবস্থার লক্ষণ আপনার কখনোই  উপেক্ষা করা উচিত হবে না। আপনি গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে কোন বিপদের লক্ষণঅনুভব করেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাহায্য নিন। গর্ভাবস্থায় ভাল খাওয়া গুরুত্বপুর্ন কারন শিশুর বৃদ্ধিতে পুষ্টির প্রয়োজন। একবারে বেশী না খেয়ে অল্পঅল্প করে খান এবং পান করুন, এটা বমিবমি ভাব, বদহজম এবং ক্লান্তি দুর করবে।

  • বমি বমি ভাব এবং morning sickness শুরু হতে পারে। কিছু কিছু খাবারের ক্ষেত্রে অনীহা আসতে পারে।
  • স্তনে নরম ভাব এবং nipple অনেক সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। স্তন এর আঁকার ও বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • ঘন ঘন পস্রাবের বেগ চাপতে পারে।
  • দুর্বল বা মাথা হালকা লাগতে পারে। সুগার লেভেল কম বা অনেক্ষন কিছু না খেলে তা বেশী হতে পারে।
  • মেজাজের উঠানামা (Mood Swing), অকারণে মন খারাপ হওয়া, রাগ হওয়া। ভালো লাগা কিংবা খারাপ লাগা উভয়ই তীব্র অনুভূত হয়।
  • মাঝে মাঝে বিষণ্ণতা গ্রাস করতে পারে। তবে তা যদি ২ সপ্তাহের বেশী থাকে তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

এ সপ্তাহে করনীয়

গর্ভবতী হবার পর আপনি প্রথম যখন টের পাবেন আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে, ততদিনে আপনার গর্ভাবস্থার ৫ সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। এই পর্যায়ে আপনি প্রথম সন্দেহ করতে শুরু করবেন আপনি গর্ভবতী কি না।

যদি এখনো আপনি নিশ্চিত না হয়ে থাকেন, তাহলে এই সপ্তাহেই আপনি ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করান। বাসায় পরীক্ষা করার জন্যও বিভিন্ন ‘গর্ভাবস্থা নির্ণয়ের পরীক্ষার’ (pregnancy test) কিট (kit) পাওয়া যায়। তাহলে সুখবর জানতে আর দেরি কিসের!

স্বাভাবিকভাবেই আর সবার মতো আপনারও বমি বমি ভাব হবে ( সেটা যে কেবল সকালবেলাই হবে তা নয়), ক্লান্তিবোধ হবে, স্তনে অস্বস্তি হবে এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসবে। যদিও এই ব্যপারগুলো বিরক্তিকর, কিন্তু এসব এ সময়ের জন্য স্বাভাবিক। আশার কথা হচ্ছে যে এগুলো কেবল গর্ভাবস্থারই অংশ এবং সাময়িক।

তারপরও, গর্ভাবস্থার এমন কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়। যদি সেসব বিপদজনক লক্ষণের কোনোটা আপনার মধ্যে টের পান, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। গর্ভাবস্থার প্রতিটা পর্যায়েই আপনাকে ভালোভাবে খাওয়াদাওয়া করতে হবে, যাতে আপনার গর্ভস্থ শিশুটি তার প্রয়োজনীয় পুষ্টিটুকু পায়।

অল্প অল্প করে হলেও নিয়মমতো খাওয়া দাওয়া করুন ও পানি পান করুন। এতে করে আপনার হজম প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করবে এবং বমি বমি ভাব ও ক্লান্তি বোধও দূর হবে। বিভিন্ন ধরণের খাবার খান, বিশেষ করে আপনি যদি নিরামিষাশী হন।

এসময় প্রচুর ভিটামিন সি খান কারন ভিটামিন সি ভ্রূণ এর কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ভাল উৎস হলো কমলালেবু, লাল ক্যাপসিকাম, ব্লাককারেন্ট, টমেটো এবং কিউই ফল। যদি মনে করেন খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি পাচ্ছেন না তবে ভিটামিন সি ট্যাবলেট খেতে পারেন।

যদি আপনি চাকরিজীবী হন, তাহলে মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যাপারে ভাবতে শুরু করুন এবং জেনে নিন আপনি কতদিনের ছুটি পাবেন। আপনার বয়স যদি ৩৫ এর বেশি হয়ে থাকে, কিংবা আপনি যদি জেনেটিক সমস্যা নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাহলে আপনি এ সংক্রান্ত পরীক্ষার ব্যাপারে ভাবতে পারেন।

Nuchal Fold Test কিংবা CVS Test এ রকম দুটো টেস্ট যার মাধ্যমে বাচ্চার কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা যায় এবং সেটা যত আগে করানো যায় ততই ভালো। যদি আপনার এর আগে গর্ভপাত হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো এবারের গর্ভাবস্থা আপনার জন্য নির্মল আনন্দের হবে না। সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ইতিবাচক থাকার করুন।

“প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ হোক মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত ”

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ৪
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ৬>>

তথ্যসূত্রঃ
maya.com.bd/content/web/language/bn/1919/
babycenter.com
parenting.com

Related posts