১৩ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা | ভ্রূণের বৃদ্ধি, মায়ের শরীর এবং কিছু টিপস

Spread the love

গর্ভাবস্থার ১৩ তম সপ্তাহে আপনি প্রথম ট্রাইমেস্টারের শেষ সপ্তাহে চলে এসেছেন। অনেকেই ভাবতে পারেন গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ট্রাইমেস্টারের হিসেব সবাই একইভাবে করে। তবে ব্যাপারটা ঠিক তেমন নয়। অনেক বিশেষজ্ঞ  ১৩ তম সপ্তাহকেই প্রথম ট্রাইমেস্টারের শুরু হিসেবে ধরেন আবার অনেকে ১৫ সপ্তাহ থেকেই প্রথম ট্রাইমেস্টার হিসেব করেন। তবে আমরা আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রেসিয়ান এন্ড গাইনোকোলজিস্ট এর স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ট্রাইমেস্টার হিসেব করছি এবং সে অনুযায়ী দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার শুরু হবে পরের সপ্তাহ থেকে।

১৩ সপ্তাহের অবস্থান গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাসে। আগামী সপ্তাহ থেকে গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাস শুরু হবে।

বিজ্ঞাপণ

গর্ভধারণের ১৩ সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার এপর্যন্ত গর্ভের ভ্রূণের মাথা তার পুরো শরীরের আকারের প্রায় অর্ধেক ছিল। তবে এই সপ্তাহ থেকে তার মাথার আকারের পরিবর্তন হয়ে ধীরে ধীরে শরীরের সমানুপাতিক হতে শুরু করবে। এই সপ্তাহ শেষ নাগাদ ভ্রূণের মাথা তার শরীরের আকারের এক তৃতীয়াংশ হয়ে যেতে পারে।

গর্ভের শিশুটির আকার এই সপ্তাহে একটি বড় লেবুর সাথে তুলনা করা যায়।এ সময় ভ্রূণের উচ্চতা থাকে প্রায় ২.৯১ ইঞ্চি বা ৭.৪ সেমি এবং এর ওজন হয় আনুমানিক .৮১ আউন্স বা ২৩ গ্রামের মত। গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত শিশুর পা তার পেটের সাথে গুটানো অবস্থায় থাকে। তাই এ সময় পর্যন্ত ভ্রুনের উচ্চতা পরিমাপের জন্য ভ্রুনের উপরের অংশ থেকে নিচ পর্যন্ত উচ্চতা নেয়া হয়।

যেহেতু এই সময়ের পর মায়েরা আলট্রা সাউন্ডের মাধ্যমে বাচ্চার ওজন ও উচ্চতা জানতে পারেন তাই আমাদের পরামর্শ থাকবে যাতে অন্যের রিপোর্টের সাথে নিজের তুলনা না করেন। গর্ভাবস্থার এই সময় পর্যন্ত সব ভ্রূণের বৃদ্ধি প্রায় একই রকম থাকে কিন্তু এসময় থেকে প্রতিটি ভ্রূণ তাদের নিজস্ব গতিতে বাড়তে থাকবে। কারও বৃদ্ধি দ্রুত হবে আবার কারোটা একটু ধীরগতির। তবে সব ভ্রূণই একটি নির্দিষ্ট ধারা মেনে বৃদ্ধি  পেতে থাকে এবং গর্ভাবস্থার শেষ দিকে গিয়ে বেশিরভাগ ভ্রূণই প্রয়োজনীয় ওজন ও উচ্চতা লাভ করে। 

১৩তম সপ্তাহের দিকে এসে গর্ভের ভ্রূণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। সেগুলো নিম্নরূপঃ

পেট

ভ্রূণ ইতিমধ্যেই অ্যাম্নিওটিক ফ্লুয়িড গ্রহন ও প্রস্রাবের মাধ্যমে তা ত্যাগ করা শুরু করবে। তার শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া তরল সে আবার গ্রহন করে। এভাবে মায়ের জরায়ুর সবটুকু অ্যাম্নিওটিক ফ্লুয়িড সে প্রতি কয়েকঘণ্টায় রিসাইকেল করতে থাকে।

এসময় থেকেই ভ্রূণের শরীরে মিকোনিয়াম উৎপন্ন হতে থাকে যা তার অন্ত্রে জমা হয়। জন্মের পর প্রথম কয়েকদিন সে এই মিকোনিয়ামই মল হিসেবে ত্যাগ করবে।

হাত

শিশুটির নিজস্বতার প্রতীক হিসেবে তার আঙ্গুলের ছাপও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

জননাঙ্গ

মেয়ে ভ্রূণের ডিম্বাশয় এবং ছেলে ভ্রূণের শুক্রাশয় ইতিমধ্যেই পুরোপুরি গঠিত হয়ে যাওয়ার কথা। ভ্রূণের জননাঙ্গের বাহ্যিক অংশও তাদের নিজ স্থানে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে সেগুলোর আকার এতোটাই ছোট থাকে যে এখনই আলট্রাসাউন্ডে ভ্রূণের লিঙ্গ আলাদাভাবে বোঝা যায়না।

রিফ্লেক্স

কিছু কিছু ভ্রূণ এই সময় থেকেই তার বৃদ্ধাঙ্গুল চোষা শুরু করতে পারে। ভ্রূণের এই আঙ্গুল চোষার মাধ্যমে তার সাকিং রিফ্লেক্সের উন্নতি হতে থাকে যা জন্মের পর শিশুকে বুকের দুধ খেতে সাহায্য করে।

হাঁড়

ভ্রূণের মাথা, হাত ও পায়ের দিকের টিস্যুগুলো এসময় ধীরে ধীরে হাঁড়ে রূপান্তরিত হতে থাক।

ত্বক

ভ্রূণের পাতলা ত্বকে এসময় থেকে নরম ও সূক্ষ্ম চুলের আবরণ গজাতে শুরু করে। এগুলোকে লানুগো বলা হয়। এই লানুগোর কারণে ভ্রূণের শরীরে ভারনিক্সের আবরণ লেগে থাকতে পারে যা অ্যাম্নিওটিক ফ্লুয়িড থেকে ভ্রূণের ত্বকের সুরক্ষা দেয়।

প্লাসেন্টা

মায়ের প্লাসেন্টার বিকাশ এখনো চলমান তবে তা এরমধ্যেই ভ্রূণের পুষ্টি ও অক্সিজেন পরিবহন এবং বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনের কাজ করছে। প্লাসেন্টার গঠন পুরোপুরি শেষ হতে আরও পাঁচ থেকে সাত সপ্তাহ সময় লাগবে।

১৩ তম সপ্তাহে মায়ের শারীরিক পরিবর্তন

১৩ তম সপ্তাহের মধ্যে মায়ের জরায়ু পেলভিসের উপরের দিকে এবং বাইরের দিকে বাড়তে শুরু করে। তাই এই সময় থেকে গর্ভবতী মায়ের পেটের আকার কিছুটা বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে প্রত্যেকটি মায়ের শারীরিক গঠন আলাদা। কারো যদি মনে হয় পেটের আকার কোন পরিবর্তন আসেনি তবে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। মায়ের পেটের আকার কেমন হবে তা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন- হরমোন, গর্ভাবস্থার আগের ওজন, কততম গর্ভাবস্থা এবং মায়ের পেটের পেশী ইত্যাদি।

জরায়ু উপরের দিকে বাড়ার সাথে সাথে মায়ের ব্লাডারের উপর থেকে চাপ কমতে থাকে। তাই মায়ের যদি ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসার সমস্যা থেকে থাকে তবে এ সময় থেকে তা কমতে শুরু করতে পারে। একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, প্রস্রাবের সময় ব্যাথা হওয়া স্বাভাবিক নয়। এটি ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। তাই এ ধরণের সমস্যা হলে ডাক্তারকে জানান।

এ সময় থেকেই মায়ের মর্নিং সিকনেস বা বমি বমি ভাবের উপসর্গও অনেকাংশে কমে যেতে পারে।এসময় সাধারণত বেশিরভাগ মায়েরা আরও সতেজ বোধ করবেন ।এই কারণেই দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারকে গর্ভকালীন সময়ের সবচাইতে সহজ ও আরামের সময় বলা হয়।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে কারো কারো ক্ষেত্রে এসব সমস্যা এখনো থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে কিছু মায়েদের মর্নিং সিকনেস এবং ক্লান্ত লাগার সমস্যা চতুর্থ বা পঞ্চম মাস পর্যন্ত থাকতে পারে আবার খুব অল্প কিছু মায়েদের ক্ষেত্রে তা পুরো গর্ভাবস্থা জুড়েই চলতে পারে।

বিজ্ঞাপণ

যেসব উপসর্গ এই সময়টাতে বেশি দেখা যায় তা হল-

ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ

এই সময়ে সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া নির্গত হওয়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় এস্ট্রজেন হরমোন এর পরিমান বেড়ে যায় এবং যোনীর আশপাশে এসময় রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় বলেই এমনটা হয়। এই বিষয়টি অস্বস্তিকর হলেও এর বিশেষ উপকারী দিক আছে। এই ডিসচার্জ জরায়ুমুখ এবং জন্মনালীকে বিভিন্ন ধরণের ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে এবং যৌনাঙ্গের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে।

রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন

রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন এক ধরনের তীব্র ব্যাথা যা সাধারনত অল্প সময়ের জন্য হয় এবং অনেকটা মাংশপেশীর খিঁচুনির মত মনে হতে পারে। এ ব্যাথা দুপাশেই হতে পারে তবে ডান পাশে বেশী হয় যা উরু পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

গর্ভবতী মায়েরা যখন হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করেন তখন সাধারণত  রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন অনুভূত হতে পারে, যেমন- বিছানা বা চেয়ার থেকে ওঠার সময়। কাশি দেয়ার সময় বা বিছানায় নড়াচড়া করার সময়ও এ ব্যাথা হতে পারে।

এই ধরণের ব্যাথা সাধারণত তেমন কোন উদ্বেগের বিষয় নয়, তবে যদি এর সাথে জ্বর, কাঁপুনি বা রক্তপাতের মত উপসর্গ থাকে তবে ডাক্তারকে জানাতে হবে।

স্তনের নিঃসরণ

এ সময়ে মায়ের  স্তন থেকে তরল নিঃসৃত হতে পারে।  পুরু, চটচটে, হলদেটে কমলা রঙের যে তরল পদার্থ বেরিয়ে আসে সেটি প্রকৃতপক্ষে কোলোস্ট্রাম, যাকে শালদুধ বলা হয় ।

গর্ভবতী অবস্থায় কোলোস্ট্রাম চুঁইয়ে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে আপনার বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়। এটি গর্ভাবস্থার অতি সাধারণ একটি উপসর্গ।

তবে, যদি তরলগুলো আপনার কাছে পুঁজের মতন মনে হয় অথবা ব্যাথা অনুভব হয়, নিজের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় তবে দ্রুত আপনার চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাত করবেন।

শারীরিক মিলনের ইচ্ছা

এ সপ্তাহ থেকে শারিরক মিলনের ইচ্ছা তীব্রতর হতে পারে। অনেক নারীর কাছেই শোনা গেছে যে এ সময় সঙ্গীর সাথে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। এস্ট্রোজেন (Estrogen) হরমোনের নিঃসরণ এবং মায়ের প্রজননতন্ত্রে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালনের কারণে এমনটা হয়।

গর্ভাবস্থায় শারীরিক সম্পর্ক শিশুর কোন ক্ষতি করে না।ডাক্তার যদি কোনো কারণে নিষেধ করে না থাকেন তাহলে এ সময় সহবাসে কোনো সমস্যা নেই।

বিজ্ঞাপণ

এসব ছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে মায়েরা আরও অনেক ধরণের উপসর্গ অনুভব করতে পারেন। গর্ভকালীন সব ধরণের উপসর্গ নিয়ে জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।

এ সপ্তাহে করনীয়

স্বাভাবিক অবস্থায় দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে ডায়েটে ৩৪০ ক্যালোরি এবং তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে ৪৫০ ক্যালোরি অতিরিক্ত গ্রহণ করতে বলা হয়। তবে মায়ের ওজন যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অথবা কম হয় তাহলে শরীরের অবস্থা অনুযায়ী কম অথবা বেশি পরিমাণে ক্যালোরি গ্রহণ করতে হতে পারে। এছাড়াও গর্ভে যদি একের অধিক সন্তান থাকে তাহলে একটু বেশি পরিমাণে ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। তাই গৎবাঁধা কোন ডায়েট ফলো না করে আপনার কি প্রয়োজন তা নিয়ে একজন পুষ্টিবিদের সাথে কথা বলুন।

মর্নিং সিকনেস কমে আসার কারণে এসময় মায়ের ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে।  তিন বেলা প্রধান খাবারের মাঝে ক্ষুধা পেলে ফলের সালাদ বা শাক সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন, যাতে একই সাথে সুষম খাবারের চাহিদাও পূর্ণ হয়।

যেহেতু এসময় বাচ্চার হাড় ও দাঁতের গঠন চলতে থাকে তাই ডায়েটে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। WHO এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং বিশেষ করে শেষ ৩ মাসের প্রতিদিন ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। দুধ, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছ, বাদাম, কমলালেবু, শুকনো ফল, সবুজ পাতাসহ শাক-সবজি, ফুলকপি ও তৈলবীজ খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে৷ যাদের দুধ খেতে সমস্যা হয় তাদের জন্য দই সবচেয়ে সঠিক সমাধান।

হাঁটা চলা অব্যাহত রাখুন। একটানা বেশিক্ষণ বসে কাজ করবেন না। এই সময় থেকে পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ শুরু করতে পারেন। এসব ব্যায়ামগুলো প্রসবের সময় বেশ সাহায্য করে। সেই সাথে প্রসবের পর দ্রুত সেরে উঠতে এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার মত সমস্যা রোধে বেশ কার্যকর।

গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের নিরাপত্তার জন্য স্বাভাবিকভাবেই মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু কমে যায়। তাই এই সময় বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমণ এড়াতে একটু সাবধানতা প্রয়োজন। ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন, বাইরে গেলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সাথে রাখুন। খাবার পানীয় টুথব্রাশ কারো সাথে শেয়ার করবেন না এবং অসুস্থ মানুষজনের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে এ সময় প্রচুর পানি খাওয়া, সাথে নরম সবজি, ওটস, বিভিন্ন ফল ও ফলের শাঁস খাওয়া আপনার জন্য উপকারী হবে। এতে করে মূত্রনালির কোনো সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে তাও কমে যাবে।

সুস্থ পরিবেশই শুধু একটা সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে । এটা বর্তমানে বৈজ্ঞানিক ভাবেও প্রমানিত যে মায়ের সাথে সন্তানের আত্তিক সম্পর্ক থাকে । কাজেই গর্ভবতী মাকে সর্বদা হাসিখুশি ও চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। সেই সাথে পরিবারের অন্যান্য সদ্যসদ্যেরও মাকে যথাযথ মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১২
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১৪>>


Spread the love

Related posts

Leave a Comment