সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভধারন । সপ্তাহ – ১৫

Updated on

গর্ভাবস্থা এর এই সপ্তাহে বাচ্চা ৯-১০ সে. মি. লম্বা হয় ও ওজন ১০০ গ্রামের মত হয়।বাচ্চার ত্বক খুবই পাতলা হয় এবং চুল উঠতে শুরু করে।কমলালেবুর আকার ধারণ করা গর্ভস্থ শিশুটি এ সপ্তাহে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠবে। মাঝে মাঝে সে একটু ঘুমিয়ে নেবে। তারপর শক্তি পুনরুদ্ধার হয়ে গেলে বাকিটা সময় সে ক্রমাগত হাতপা নাড়বে।

তার ইন্দ্রিয়গুলো এখন বিগত সপ্তাহের চাইতেও শক্তিশালী। শিশুটির অন্তঃকর্ণ ও ইতিমধ্যে গঠিত হয়ে যাবে। ফলে, আপনি যদি এখন তাকে গান শোনান, সে স্পষ্টই শুনতে পাবে।

তার দৃষ্টিও বেশ ভালোভাবেই বিকশিত হয়ে যাবে এ সপ্তাহ নাগাদ। আপনি যদি শিশুটির অবস্থান অনুযায়ী পেটের ওপর আলো ফেলেন, তাহলে সে আলোর উৎস থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবে।

[youtube https://www.youtube.com/watch?v=sCibtxumCQU&feature=youtu.be ]

গর্ভধারণের এ সপ্তাহে আপনি

আবারও সতেজ অনুভব করতে পেরে ভালো লাগছে? এই সতেজ থাকার সময়টুকু যতটুকু সম্ভব উপভোগ করে নিন। দোকানে যান, নতুন কাপড় – চোপড় কিনুন। এখনকার সাইজের কাপড়গুলো তো কিছুদিন পরেই আর গায়ে আঁটবে না।

খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস যদি স্বাভাবিক হয়ে আসে, তাহলে বিভিন্ন রকম খাবার খেতে শুরু করুন। এতে করে শিশুটির জন্মের পর বুকের দুধ ছাড়িয়ে যখন তাকে শক্ত খাবার খাওয়াতে শুরু করবেন, সে সহজেই সেগুলো গ্রহণ করবে।

যেহেতু এখন শরীরে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যাবে, আপনার গরম লাগার অনুভূতিও বেশি হবে। এ সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। কারো কারো নাক বন্ধ হয়ে যায়। খাওয়ার পর পরই বুক জ্বালা-পোড়া করা বা বদহজমের সমস্যা হতে পারে এবং পেট ফুলে যেতে পারে। এসময় অনেকের মাড়ি ফুলে যাওয়ার সমস্যাও হয়ে থাকে, ফলে দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেয়া জরুরি। 

এসময় নতুন যে সমস্যায় আপনি ভুগতে পারেন তা হলো সবকিছু ভুলে যাওয়া। তা যদি হয়েই থাকে, তাহলে সব দোষ হরমোনের! আপনি হয়তো চাবি কোথায় রেখছেন ভুলে যেতে পারেন, কিংবা ডাক্তারের সাথে যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে সেইটাই হয়তো আপনার মনে থাকবে না। কিন্তু, তার মানে কিন্তু এই না যে আপনি আলঝেইমারের মতো কোনো স্মৃতিবিনাশী রোগে আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন। এ সবই হরমোনের খেলা।

একটা ডায়রিতে সবকিছু লিখে রাখতে পারেন, কিংবা অ্যালার্মও দিয়ে রাখতে পারেন। গর্ভাবস্থায় সবকিছু ভুলে যাওয়ার এই উপসর্গটিকে বলা হয় প্রেগনেন্সি অ্যামনেশিয়া ( Pregnancy Amnesia). গর্ভাবস্থার কিছু সময় পর পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে, তারপর হরমোনের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলে এই উপসর্গও দূর হয়ে যাবে।

এসময় থেকেই সাধারণত আপনি যে মাপের অন্তর্বাস পরেন সেটা আর মাপসই মনে হবে না। আপনি আরও খেয়াল করবেন যে আপনার স্তনবৃন্তের চারপাশ গাঢ় বর্ণ ধারণ করছে। স্তনদ্বয় আরও ভারী, অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠবে এবং ফোলাভাব ও ব্যথার অনুভূতিও বাড়বে। আগে থেকেই এগুলো সম্পর্কে জেনে রাখুন যাতে হঠাৎ এরকম পরিবর্তনে চমকে না যেতে হয়।

দম বন্ধ হয়ে যাবার মতো অনুভূতি হচ্ছে? গর্ভাবস্থায় দম বন্ধ হয়ে যাবার মতো অনুভূতি খুব স্বাভাবিক ঘটনা। আপনার ক্রমশ স্ফীত হতে থাকা পেট ডায়াফ্রামকে ( পেট ও বুকের মাঝখানের পর্দা) চাপ দেয় বলেই এমন হয়।

শরীরের metabolism বেড়ে যাওয়ার কারনে এসময় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে শরীর গরম থাকতে পারে এবং অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

গর্ভধারণের এ সপ্তাহের কিছু পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় দঁাতের যত্ন নেয়া খুবই প্রয়োজন৷ এসময় দঁাত পরিষ্কার রাখতে হবে৷ গর্ভাবস্থায় অনেক সময় মাড়ি ফুলে রক্তপাত হয়৷ তাই এ সময়ে মাড়ির যত্ন প্রথম থেকেই নেওয়া উচিত৷ প্রতিদিন সকালে ও রাতে শোয়ার আগে দঁাত ব্রাশ করা প্রয়োজন৷ দঁাত বা মাড়ির কোনও সমস্যা থাকলে দন্ত চিকিত্‌সকের পরামর্শ নিন৷

কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। দিনে অন্তত আট গ্লাস পানি পান করতে হবে। আঁশ আছে এ রকম খাবার, যেমন- শাকসবজি, ফলমূল, বিচিজাতীয় খাবার, ডাল, আটা ইত্যাদি খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করার জন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

হালকা ব্যায়াম করতে হবে কিন্তু ভারি কাজ করা যাবে না । ঝুকে বা নুয়ে কাজ না করাই উচিত । হাঁটা চলায় সাবধান হতে হবে । এগুলো আমরা সবাই জানি কিন্তু ঠিক মত পালন করিনা। কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সচেতন থাকতে হবে ।

গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে মায়ের ওপর৷ অর্থাত্‌ সুস্থ মা মানেই সুস্থ শিশু৷ শিশুর পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার খাদ্যের যোগান দিতে হয় মাকে৷ মা যে খাবার খাবেন শিশুও সেই খাবার খেয়ে পুষ্টি লাভ করে৷ এ কারণে স্বাভাবিক মহিলাদের তুলনায় একজন গর্ভবতী মায়ের খাবারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি৷

সঠিক পরিমাণে খাবার গ্রহণ না করলে সন্তান ঠিকমত বৃদ্ধি পাবে না৷ ফলে সন্তান অপুষ্টি নিয়ে জণ্মাবে৷ গর্ভবতী অবস্থায় কী খাবেন এবং কোন খাবার গর্ভের সন্তান এবং মায়ের জন্য প্রয়োজন তা জেনে নিন।

সময় কাটানোর অংশ হিসেবে বাচ্চার নাম এখন থেকেই খুজতে পারেন। বাচ্চার সুন্দর আরবি বা বাংলা নাম ও নামের অর্থ জানতে Fairyland Baby Names এর সাহায্য নিতে পারেন।

মাকে সবসময় পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে সাহস দিতে হবে। কোনভাবেই তাকে ভয়ের কোন কথা বলে ভড়কে দেওয়া যাবেনা।একজন মা ও তার পরিবারের সঠিক প্রস্তুতি ও মানসিক সাহসই একটি সুস্থ, সুন্দর ও সবল শিশুর জন্ম দিতে পারে।

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ- ১৪
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ- ১৬>>

তথ্যসূত্রঃ

maya.com.bd/content/web/language/bn/1937/
babycenter.com
parenting.com

Related posts