১৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা | ভ্রূণের বৃদ্ধি, মায়ের শরীর এবং কিছু টিপস

গর্ভাবস্থার ১৭ তম সপ্তাহ থেকে সাধারণত গর্ভের ভ্রূণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। দ্রুত বৃদ্ধির এ পর্যায়কে গ্রোথ স্পার্ট (Growth spurt) বলে। ভ্রূণটির মাথা ও শরীরের অনুপাত এখন অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গর্ভাবস্থার ১৭ তম সপ্তাহকে প্রেগন্যান্সির দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের চতুর্থ সপ্তাহ হিসেবে ধরা হয়। এ সপ্তাহের অবস্থান গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসে।

বিজ্ঞাপণ
সপ্তাহ – ১৭

গর্ভধারণের ১৭ সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

ভ্রূণের চামড়ার নিচে এ সময় থেকে চর্বির স্তর জমতে শুরু করে। এই চর্বিগুলোকে এডিপোস (Adipose) বলা হয়।  এই চর্বির স্তরের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ জন্মের পর এগুলোই তাকে শক্তি ও উষ্ণতা প্রদান করবে। এ সময় থেকে বাকি গর্ভকালীন সময় জুড়েই ভ্রূণের শরীরে চর্বি জমা হতে থাকে, ফলশ্রুতিতে ভ্রূণের ওজন অপেক্ষাকৃত দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তার শারীরিক বিভিন্ন অঙ্গগুলো পরিপূর্ণতা পেতে থাকে।

আশ্চর্যজনক হলেও, এ সময় থেকেই ভ্রূণ তার চোষার এবং গেলার দক্ষতা ঝালিয়ে নিতে শুরু করে। এসব দক্ষতা জন্মের পর তাকে মায়ের বুকের দুধ বা বোতলের দুধ খেতে সাহায্য করে। বস্তুত একটি শিশুর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় যে সব রিফ্লেক্স থাকা দরকার তার  সবগুলোরই গর্ভাবস্থার এই পর্যায় থেকে বিকাশ হতে শুরু করে।

গর্ভের শিশুটির আকার ১৭ সপ্তাহে একটি ডালিমের সাথে তুলনা করা যায়।এ সময় ভ্রূণের উচ্চতা থাকে প্রায় ৫.১২ ইঞ্চি বা ১৩ সেমি এবং এর ওজন হয় আনুমানিক ৪.৯৪ আউন্স বা ১৪০ গ্রামের মত।

১৭ তম সপ্তাহের দিকে এসে ভ্রূণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। সেগুলো নিম্নরূপঃ

কান

ভ্রূণের শ্রবণ যন্ত্রের আভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো এ সপ্তাহে বিকাশের প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকে। তাই এসময় থেকে ভ্রূণটি পুরোপুরি স্পষ্টভাবে না হলেও মায়ের গলার শব্দ কিছুটা শুনতে পারে।

হৃদপিণ্ড

ভ্রূণের মস্তিষ্ক এ সপ্তাহ থেকে তার হৃদপিণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করতে পারে যার ফলে তার হৃদপিণ্ড একটি নির্দিষ্ট ধারায় স্পন্দিত হতে থাকে। এ সপ্তাহে ভ্রূণের হৃদস্পন্দন হতে পারে প্রতি মিনিটে ১৪০ থেকে ১৫০ বার যা মায়ের হৃদস্পন্দনের প্রায় দ্বিগুণ। 

আঙ্গুলের ছাপ

এ সপ্তাহ থেকে শুরু করে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণের হাত ও পায়ের আঙ্গুলের স্বতন্ত্র ছাপ পুরোপুরি গঠিত হয়ে যাবে। গর্ভে যমজ শিশু থাকলে তাদেরও নিজেদের হাত ও পায়ের আঙ্গুলের ছাপ আলাদা তৈরি হয়।

আম্বিলিকাল কর্ড ও প্লাসেন্টা

গর্ভের ভ্রূণের বৃদ্ধির সাথে সাথে তার আম্বিলিকার কর্ড ও প্লাসেন্টারও বৃদ্ধি হতে থাকে। আম্বিলিকাল  কর্ড এ সময় থেকে আরও পুরু ও লম্বা হতে থাকে যাতে তা গর্ভের ভ্রূণের বাড়তি প্রয়োজন মেটাতে পারে।

আম্বিলিকাল কর্ডে একটি শিরা ও দুটি ধমনী থাকে।  শিরাটি মায়ের শরীর থেকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি ভ্রূণের দেহে সরবরাহ করে এবং ধমনী দুটি ভ্রূণের বর্জ্য পদার্থ প্লাসেন্টাতে পৌঁছে দেয় যা পরবর্তীতে মায়ের শরীরের মাধ্যমে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।

প্লাসেন্টাতে এ সময়ে হাজার হাজার রক্তবাহী নালী তৈরি হয় যেগুলো মায়ের শরীর থেকে অক্সিজেন ও পুষ্টি ভ্রূণের দেহে সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কঙ্কাল

শিশুটির কঙ্কাল ধীরে ধীরে নরম তরুণাস্থি (Cartilage) থেকে শক্ত হাঁড়ে পরিনত হতে থাকবে। এই হাঁড়গুলো শিশুর জন্মের পরও শক্ত হতে থাকে এবং একটির সাথে আরেকটি জোড়া লাগতে থাকে।

গর্ভে শিশুরা না ঘামলেও এ সময় থেকেই তার শরীরে ঘর্মগ্রন্থির গঠন শুরু হয়। এই গ্রন্থিগুলো পুরোপুরি সক্রিয় হতে শিশুর জন্মের পরেও কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়।

১৭ তম সপ্তাহে মায়ের শারীরিক পরিবর্তন

মায়ের জরায়ু এ সপ্তাহ নাগাদ আকারে বৃদ্ধি পেয়ে পেলভিস  ও নাভির মাঝামাঝি চলে আসে। এই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জরায়ুকে জায়াগা করে দিতে মায়ের শরীরের অন্ত্রগুলো পেটের উপরের দিকে এবং পাশের দিকে সরে যায়। অন্ত্রগুলোর এই স্থান পরিবর্তনের কারণে মায়ের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল কিছু সমস্যা দেখা  দিতে পারে, যেমন – বুক জ্বালা করা, বদহজম ইত্যাদি।

ভ্রূণের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে মায়ের শরীরের ভর কেন্দ্রেও পরিবর্তন আসবে এবং বর্ধিত ওজনের ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা হবে।এসময় সমান তলা বিশিষ্ট জুতা পরার চেষ্টা করুন এবং যখনই মনে হবে কোনোভাবে দাঁড়ালে বা বসলে আপনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন, তাহলে সেটা বর্জন করুন।

আপনার জন্য যদি গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা নতুন হয় তাহলে জেনে রাখুন যে এসময় গর্ভের শিশুর নড়াচড়ার কারণে আপনার পেটের মধ্যে বুদবুদ ওঠার মতো বা ভেতরে কোনো কিছু ওড়ার মতো অনুভূতি হতে পারে, গ্যাস বা বদহজমের কারণে কখনো কখনো যেমনটা হয়।

আপনার মনে হতে পারে যে পেটের ভেতর হয়তো একটা প্রজাপতি ঢুকে গেছে আর ক্রমাগত উড়ছে। কিছু কিছু মায়েরা ১৭-১৮ সপ্তাহ নাগাদই গর্ভের শিশুর নড়াচড়া টের পেতে পারেন।

গর্ভাবস্থার এ সময় যেসব উপসর্গ বেশি দেখা দিতে পারে তা হল –

স্ট্রেচ মার্কস

গর্ভাবস্থার সাধারনত ৬ থেকে ৭ মাসের দিকে স্ট্রেচ মার্কস দেখা দেয় তবে অনেকের ক্ষেত্রে আরও আগেও দেখা দিতে পারে। প্রথম দিকে স্ট্রেচ মার্কস বা চামড়ার উপর দেখা দেয়া ফাটা দাগগুলো হালকা গোলাপি বর্ণের থাকে এবং এতে চুলকানি থাকতে পারে। ধীরে ধীরে দাগগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বাড়তে থাকে এবং এগুলো লাল বা বেগুনী রঙ ধারন করতে পারে। প্রসবের পর এগুলো ধীরে ধীরে বিবর্ণ হয়ে যায় এবং ধুসর রং ধারণ করতে পারে।

বেশীরভাগ মহিলাদের সাধারণত পেটে ফাটা দাগ হলেও ব্রেস্ট, উরু, কোমর এবং নিতম্বে দেখা যাওয়াটাও স্বাভাবিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শরীরের চর্বিযুক্ত স্থানে স্ট্রেচ মার্কস বেশি দেখা যায়।

বিজ্ঞাপণ

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন হলো জরায়ুর অনিয়মিত সংকোচন যা গর্ভাবস্থার মধ্যবর্তী সময়ে (দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার) দেখা দিতে পারে। তবে তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে এটি বেশী বোঝা যায় (কারো কারো ক্ষেত্রে নাও হতে পারে)। এই সংকোচনকে ফলস লেবার পেইনও বলে।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশনকে প্র্যাকটিস কন্ট্রাকশনও বলা হয় কারন এ ধরনের কন্ট্রাকশন আসল প্রসবের লক্ষণ না হলেও মায়ের শরীরকে আসল প্রসবের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন গর্ভাবস্থার ১৬ সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে। তবে শুরুর দিকে এটি এতই মৃদু থাকে যে অনেক মা তা অনুভব করতে পারেনা। জরায়ু যতই বড় হতে থাকে ততই এ কন্ট্রাকশন বেশী অনুভূত হয়।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশনের সময় জরায়ু, তলপেট বা কুঁচকির অংশে সংকোচন অনুভূত হয়। অর্থাৎ এসব অংশ একবার শক্ত হয়ে যায় আবার ছেড়ে দেয়। প্রসবের সময়ও এ ধরনের অনুভূতিই হয়। তবে ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন এবং আসল প্রসব যন্ত্রণার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন সাধারণত অনিয়মিত এবং ব্যাথাহীন হয়। তবে তা মাঝে মাঝে তীব্র, ব্যাথাযুক্ত এবং অস্বস্তিকর হতে পারে। প্রসব বেদনার মত এ ধরনের কন্ট্রাকশন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকেনা বা তীব্রতর হয়না এবং কন্ট্রাকশনের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যাবধান কমতে থাকেনা।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন সাধারণত ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট ধরে হতে পারে তবে ঘণ্টায় একবার বা দুবারের বেশী হয়না। বেশীরভাগ সময়ই শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করলে বা বিশ্রাম নিলে এটি চলে যায়।

দুঃস্বপ্ন

গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ চিন্তা ও প্রসব সংক্রান্ত ভীতি থেকেই নানারকম স্বপ্ন দেখে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন গর্ভবতী নারীর বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ফলে যে উদ্বেগ এবং ভয়ের জন্ম নেয় তার কারণেই এমনটা হতে পারে।

স্কীন পিগমেন্টেশন (Skin pigmentation)

এ সময় হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মেলানিন প্রোডাকশন বেড়ে যায়। ত্বকে সৃষ্টি হয় নানা ধরনের পিগমেন্টরি ডিজঅর্ডার। হঠাৎ করে মুখে, গলায় কালো বা বাদামী ছোপ দেখা দেয়। একে অনেকে “মাস্ক অফ প্রেগন্যান্সি” বলে থাকেন।মাস্ক অফ প্রেগনেন্সিকে ক্লোয়েজমা বা মেলাজমা ও বলে। প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ গর্ভবতী মায়েরাই এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।

সায়াটিকা (Sciatic nerve pain)

গর্ভাবস্থায় কোমরে ব্যাথা হওয়ার একটি কারণ হতে পারে সায়াটিক নার্ভের উপর অতিরিক্ত চাপ। গর্ভাবস্থায় বড় হয়ে যাওয়া জরায়ুর চাপ যখন শরীরের দুটি সায়াটিক নার্ভের উপর পড়ে তখন কোমরে, নিতম্বে বা উরুতে ব্যাথা হতে পারে। এ ধরনের ব্যাথাকে বলে সায়াটিকা ।এ ধরনের ব্যাথা সাধারণত কোমর বা কোমরের উপরে পিঠের মাঝ বরাবর হয়।

এ ব্যাথা কখনো কখনো পায়ের দিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। আবার বেশ কিছু কারণে এ ব্যাথা বেড়ে যেতে পারে, যেমন- একটানা অনেকক্ষন বসে থাকলে, দাঁড়িয়ে থাকলে বা ভারী কিছু তুললে বা বহন করলে। সাধারণত রাতের দিকে এ ধরনের ব্যাথা বেশী অনুভুত হয়।

গর্ভাবস্থায় সায়াটিকার ব্যাথা হওয়া স্বাভাবিক। তারপরও এ ধরনের ব্যাথা হলে ডাক্তারকে জানানো উচিত কারণ তা মারাত্মক কোন কিছুর লক্ষনও হতে পারে।

মায়ের পেট ও বুকের মাঝামাঝি এসময় থেকে কালো দাগ দেখা দিতে পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক, কারণ ক্রমবর্ধিষ্ণু শিশুকে জায়গা করে দেয়ার জন্য মায়ের পেটও বিস্তৃত হচ্ছে। এধরনের দাগকে লিনিয়া নিগ্রা (Linea nigra) বলে।

এছাড়াও এসময় থেকে আপনার চুল পড়ার হার কমে যাবে। ফলে, আপনার চুল আরো ঘন আর উজ্জ্বল দেখাবে। এ সবই হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়।

এসব ছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে মায়েরা আরও অনেক ধরণের উপসর্গ অনুভব করতে পারেন। গর্ভকালীন সব ধরণের উপসর্গ নিয়ে জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।

গর্ভধারণের এ সপ্তাহে করনীয়

যেহেতু এখন ক্রমাগত বড় হতে থাকা জরায়ুকে জায়গা করে দেয়ার জন্য আপনার পেশী এবং লিগামেন্টগুলোতে টান বাড়বে, আপনি সামান্য ব্যথা অনুভব করতে পারেন। যদি আপনি এখনো ব্যায়াম শুরু না করেন, তাহলে এ পর্যায়ে নিয়মিত গর্ভাবস্থার উপযোগী কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। এতে করে আপনার পেশী সবল থাকবে।

বিজ্ঞাপণ

এই সময় থেকে পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ শুরু করতে পারেন। এসব ব্যায়ামগুলো প্রসবের সময় বেশ সাহায্য করে। সেই সাথে প্রসবের পর দ্রুত সেরে উঠতে এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার মত সমস্যা রোধে বেশ কার্যকর।

গর্ভাবস্থার এ সময় কখনো কখনো মায়ের চোখ শুষ্ক লাগতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ড্রপ ব্যাবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও যদি আপনার লেন্স পড়ার অভ্যাস থাকে তবে কম সময়ের জন্য পড়ুন বা এসময়টাতে চশমা ব্যাবহারের চেষ্টা করুন।

স্ট্রেচ মার্কস প্রতিরোধের তেমন কোন উপায় নেই। কোন ক্রীম বা লোশনের মাধ্যমে এর প্রতিরোধ করা যায় এমন কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। তাই কোন ক্রীম বা লোশন কোম্পানি যদি এমন দাবী করে যে তাদের পণ্য ব্যাবহারে আপনার ফাটা দাগ পুরোপুরি মিলিয়ে যাবে তবে তা ভুল। তাই এসবের পেছনে অযথা টাকা অপচয় করবেন না।

তবে ত্বক সুন্দর এবং মসৃণ দেখাতে, হাইড্রেটেড রাখতে এবং গর্ভাবস্থায় দেখা দেয়া চুলকানির উপশম করতে লোশন বা তেল ব্যাবহার করতে পারেন।

গর্ভাবস্থার ১৫ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের জরায়ু অনেক বড় হয়ে যায়। এর ফলে মা যদি চিৎ হয়ে শোয় তবে তা রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এভাবে শোয়ার ফলে জরায়ুর চাপে ইনফেরিয়র ভেনা কাভা (inferior vena cava) সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থার ১৬ সপ্তাহ পার হয়ে যাবার পর অনেকক্ষণ চিত হয়ে শুয়ে থাকলে মায়ের জ্ঞান হারানোর মতো অনুভূতি হতে পারে, কারণ গর্ভস্থ শিশুটির সকল চাপ তখন রক্তনালীগুলোর ওপর পড়ে।

গর্ভাবস্থায় পাশ ফিরে শোওয়া বিশেষ করে বাম পাশ ফিরে শোওয়াটা সবচাইতে নিরাপদ।বাম কাত হয়ে শোয়াটা গর্ভস্থ শিশুর জন্যও ভালো কারণ এতে করে পুষ্টি ও রক্ত প্লাসেন্টার মাধ্যমে সহজেই বাচ্চার কাছে পৌঁছাতে পারে।

আপনার যদি আরও সন্তান থেকে থাকে, তাহলে নতুন অতিথির জন্য তাকে এখন থেকেই মানসিকভাবে তৈরি করতে শুরু করুন। অনেক বাচ্চাই সহজে তাদের নতুন ভাই/বোনের সাথে তাদের ঘর, খেলনা, কাপড়চোপড়, সর্বোপরি মা-বাবাকেও শেয়ার করতে চায় না। কীভাবে প্রথম সন্তানকে নতুন শিশুটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করবেন সে ব্যাপারে আরো জানুন

সুস্থ পরিবেশই শুধু একটা সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে । এটা বর্তমানে বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমানিত যে মায়ের সাথে সন্তানের আত্মিক সম্পর্ক থাকে । কাজেই গর্ভবতী মাকে সর্বদা হাসিখুশি ও চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। সেই সাথে পরিবারের অন্যান্য সদ্যসদ্যেরও মাকে যথাযথ মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ- ১৬
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ- ১৮>>

Related posts

Leave a Comment