সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা । সপ্তাহ – ১

গর্ভধারণের সময় গণনা সাধারণত শুরু হয় মাসিকের প্রথম দিন হতেই। এই সময়ের দুই এক সপ্তাহের  মধ্যেই সাধারণত গর্ভসঞ্চার হয়ে থাকে। যেহেতু গর্ভসঞ্চার এর নির্দিষ্ট সময় নির্ণয় করা সম্ভব নয়, তাই বিশেষজ্ঞরা শেষ মাসিক এর প্রথম দিন থেকে পরবর্তী ৪০ সপ্তাহকে গর্ভধারণের সময় হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। এই হিসেবেই প্রসবের দিন (Due Date) গণনা করা হয়।

আপনার Due Date জানতে আমাদের Due Date Calculator ব্যাবহার করতে পারেন।

প্রথম সপ্তাহের এ সময়টিতে কেউ  গর্ভবতী হয়েছে এটি ঠিক বলা যায় না – কারন সাধারনত গর্ভসঞ্চারের ব্যাপারটি মাসিক শেষের দুই সপ্তাহ পর ঘটে থাকে। প্রতিবার মাসিকের  পরে আপনার শরীর অনেক জটিল হরমনাল পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যায়। এ ব্যাপারটি ঘটে মূলত শরীরকে গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত করতে। তাই মাসিকের প্রথম দিনকেই গর্ভধারণের প্রথম দিন হিসেবে ধরা হয়।

বেশীরভাগ মায়েদের ক্ষেত্রেই মাসিক শুরুর ১২-১৪ দিনের মধ্যেই ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। একে ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটন বলে। এ সময় ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু অবমুক্ত হয়ে ফেলপিয়ান টিউবে অবস্থান করে এবং নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।পরবতীতে তা ক্রমশঃ গর্ভাশয়ের এর দিকে অগ্রসর হয়। তার এই যাত্রাপথে যদি কোন শুক্রানু দ্বারা ডিম্বানুটি নিষিক্ত হয় তবে তা গর্ভাশয়ে গিয়ে অবস্থান নেয়, যাকে আমরা নারীর গর্ভধারন বলি।

আর যদি ডিম্বানুটি কোন পুরুষের শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত না হয়, তবে তা বিচূর্ন হয়ে কিছু রক্তকনিকা সহ মাসিক ঋতুচক্রের সময় নির্গত হয়ে যাবে। নিষিক্ত ডিম্বাণু যাতে ভালোভাবে প্রতিস্থাপিত হতে পারে তাই এসময় জরায়ুর দেয়ালও পুরু হয়ে ওঠে। যদি গর্ভধারণ না ঘটে তবে জরায়ুর দেয়ালের বাড়তি অংশও মাসিক ঋতুচক্রের সময় বেরিয়ে আসে।

ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটনের পাঁচ দিন আগে থেকে ওভুলেশনের দিন পর্যন্ত সময়কে সবচাইতে বেশী উর্বর সময় ধরা হয়ে থাকে যদিও শেষ তিন দিন গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী।

ওভুলেশন নির্ণয়ের কোন অব্যর্থ পদ্ধতি নেই। তবে কিছু কিছু পদ্ধতিতে এর সময় সম্পর্কে ধারনা করা যায়। তাই আপনার যদি গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকে তবে এই সময়ে বা সময়ের কিছু আগেই আপনার সঙ্গীর সাথে সহবাস করার পরামর্শ দেয়া হয়।

গর্ভবতী হওয়ার প্রথম সপ্তাহের লক্ষণ

প্রথম সপ্তাহে গর্ভধারণের কোনও পরিস্কার লক্ষণ এ সময় দেখা যায় না। কারণ এখনো গর্ভধারণের প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। তবে কারও কারও দূর্বল লাগতে পারে; ঘনঘন বাথরুমে যাওয়ার দরকার হতে পারে। মেজাজের ওঠানামা (Mood Swing) শুরু হতে পারে। এ লক্ষণগুলো অনেকটা স্বাভাবিক সময়ে মাসিক হওয়ার আগে এবং মাসিকের সময়ে হরমোনগত উঠানামার কারনে ঘটে থাকা পরিবর্তনের মতোই বলে অনেকে এগুলো আলাদা করে ভাবেন না।

এই সপ্তাহে আপনার করনীয়

  • আপনার যদি গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকে তবে এখন থেকেই সুস্থ ও নিয়মানুবর্তী লাইফস্টাইল মেনটেইন করার চেষ্টা করুন। ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকুন।
  • আপনি যদি কোনো ওষুধ ব্যাবহার করে থাকেন তাহলে বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে জেনে নিন তা গর্ভধারণের জন্য নিরাপদ কিনা।
  • বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে Pre-Natal multivitamin খাওয়া শুরু করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ মাইক্রো গ্রাম ফলিক এসিড খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে বাচ্চার অনেকধরনের জন্মগত ত্রুটি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ফলিক এসিড গর্ভধারণের অন্তত ৩ মাস আগে থেকে শুরু করাই  ভাল।
  • অ্যাক্টিভ থাকার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন হালকা শরীরচর্চার অভ্যাস করুন।
  • ক্রনিক অসুখ (ব্লাড প্রেসার, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস ইত্যাদি) থাকলে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যত্নবান হোন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সবার জন্য শুভকামনা।

গর্ভাবস্থা সপ্তাহ -২ >>

গর্ভাবস্থার প্রথম সপ্তাহ | Audio Article

Related posts