সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভধারন । সপ্তাহ – ১৩

আপনার গর্ভের শিশুটিকে এখন একটি টম্যাটোর আকারের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। গর্ভের শিশুটি মেয়ে হয়ে থাকলে তার ডিম্বাশয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষ ডিম্বানু জমা হয়ে যাবে। শিশুটির নিজস্বতার প্রতীক হিসেবে তার আঙ্গুলের ছাপও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

শিশুটির অন্ত্র (Intestine) ইতিমধ্যেই নাভির কাছ থেকে সরে তার স্থায়ী অবস্থানে চলে যাবে। এই সময় যতবার শিশুটি ঢেঁকুর তুলবে, তার ডায়াফ্রাম (পেট এবং বুকের মাঝখানের পর্দা) আরো শক্তিশালী হবে। এ সপ্তাহে আপনার শিশুর বিকাশে নতুন সংযোজন হবে ভোকাল কর্ড (শব্দ তৈরি হয় যেখান থেকে)। জন্মের পর যখন তার ক্ষুধা লাগবে, গায়ে নোংরা লাগবে বা সে এমনিই বিরক্ত বোধ করবে, তখন এই ভোকাল কর্ড এর সাহায্যেই সে চিৎকার করে বা কেঁদে আপনাকে তা জানান দেবে!

শিশুটির দেহত্বক এখন চুল দিয়ে ঢাকা থাকবে। এখন আপনি চাইলে শিশুটিকে ঘুমপাড়ানি গানও শোনাতে পারবেন, কারণ তার শ্রবণ ইন্দ্রিয় এর মধ্যেই ভালোভাবেই গঠিত হয়ে যাবে। শিশুটির স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতিও এখন যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

এ সপ্তাহে শারীরিক পরিবর্তন

এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ আপনার দ্বিতীয় ‘তিন মাস’ (Trimester) শুরু হয়ে যাবে। এই পর্যায়ে গর্ভাবস্থার নতুন কোনো উপসর্গ থাকবে না বললেই চলে। আপনার জরায়ু এখন একটা জাম্বুরার আকার ধারণ করবে। সকালের অসুস্থতাও এখন অনেকাংশেই কমে যাবে। কিন্তু এ সময় আপনার বিশেষ কোন খাবারের খেতে তীব্র ইচ্ছা তৈরি হতে পারে। এমনও হতে পারে যে খাবার আপনি খেতে চাচ্ছেন তা হয়তো অন্য সময় আপনার ভালোই লাগে না।

বিগত কয়েক সপ্তাহের শারীরিক অবস্থার কারণে আপনার নিশ্চয়ই আপনার সঙ্গীর ওপর অনেক রাগ হয়েছে, হয়ত মনে হয়েছে তার জন্যই আজকে আপনার এই অবস্থা। এ সপ্তাহ থেকে আপনার সঙ্গীর প্রতি আপনার আকর্ষণ আরও তীব্র হবে। এখন আপনি আরও সতেজ বোধ করবেন । অনেক নারীর কাছেই শোনা গেছে যে এ সময় যৌন আকাঙ্ক্ষা (Libido) বেড়ে যায় এবং গর্ভাবস্থার এই পর্যায়েই তারা যৌন মিলন সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন। ইস্ট্রোজেন (Estrogen) হরমোনের নিঃসরণ এবং আপনার প্রজননতন্ত্রে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালনের কারণে এমনটা হয়। ডাক্তার যদি কোনো কারণে নিষেধ করে না থাকেন তাহলে এ সময় যৌন মিলন করতে কোনো সমস্যা নেই। গর্ভাবস্থায় যৌন মিলন শিশুর কোন ক্ষতি করে না। ভালবাসা পূর্ণ শারীরিক সম্পর্ক গর্ভাবস্থায় একজন নারীর সুস্থতার জন্যও প্রয়োজন। যৌন মিলন গর্ভবতি মায়ের স্বাস্থ্যকে প্রসবের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।

আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের ভাব এখনই দূর হয়ে যাবে না। এ সময় প্রচুর পানি খাওয়া আপনার জন্য উপকারী হবে। এতে করে মূত্রনালির কোনো সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে তাও কমে যাবে। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কিভাবে নিরাময় করবেন বা সেসময় কি কি করা উচিত সে সম্পর্কে আমাদের নিবন্ধ থেকে জেনে নিন।

 

করনীয়

গর্ভাবস্থার এই পর্যায়ে ভালো খবর হলো আপনার সকালবেলার যে অসুস্থতা ছিল তা দূর হয়ে যাবে। কিন্তু এখন নিশ্চয়ই আপনার প্রচণ্ড ক্ষুধা পায়? তিন বেলা প্রধান খাবারের মাঝে ক্ষুধা পেলে ফলের সালাদ বা শাক সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন, যাতে একই সাথে সুষম খাবারের চাহিদাও পূর্ণ হয়।

সবকিছু কি তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে? গর্ভাবস্থায় ছোটোখাটো বিষয় ভুলে যাচ্ছেন? এমনটা হতে পারে। এসময় শরীরকে সক্রিয় রাখা ভালো, কিন্তু সেই সাথে এটাও জেনে নিতে হবে কোন কোন সময় ব্যায়াম করা যাবে না। আপনার শরীরে HIV/AIDS বা Hepatitis B ভাইরাস আছে কি না, গর্ভাবস্থায় সেটা জেনে নেয়া জরুরি। যদি আপনি গর্ভবতী হন, তাহলে এ সম্পর্কে পড়তে ভুলবেন না।

সুস্থ পরিবেশ ই শুধু একটা সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে । এ সময় ধর্মীয় বই পুস্তক পাঠ করলে , সুন্দর সন্তানের স্বপ্ন দেখলে বাস্তবেও সুন্দর, সুস্থ বাচ্চার জন্ম দেয়া সম্ভব । এটা বর্তমানে বৈজ্ঞানিক ভাবেও প্রমানিত যে মায়ের সাথে সন্তানের আত্তিক সম্পর্ক থাকে । কাজেই মাকে আনন্দে থাকতে হবে, পরিবারকেও মাকে সাপোর্ট দিতে হবে ।

গর্ভাবস্থায় দঁাতের যত্ন নেয়া খুবই প্রয়োজন৷ এসময় দঁাত পরিষ্কার রাখতে হবে৷ গর্ভাবস্থায় অনেক সময় মাড়ি ফুলে রক্তপাত হয়৷ তাই এ সময়ে মাড়ির যত্ন প্রথম থেকেই নেওয়া উচিত৷ প্রতিদিন সকালে ও রাতে শোয়ার আগে দঁাত ব্রাশ করা প্রয়োজন৷ দঁাত বা মাড়ির কোনও সমস্যা থাকলে দন্ত চিকিত্‌সকের পরামর্শ নিন৷

 

তথ্যসূত্রঃ

maya.com.bd/content/web/language/bn/1939/
babycenter.com

 

Related posts

Leave a Comment