১১ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা | ভ্রূণের বৃদ্ধি, মায়ের শরীর এবং কিছু টিপস

শেয়ার করে অন্যদের জানাতে সাহায্য করুন

গর্ভধারণের এগারোতম সপ্তাহে গর্ভের ভ্রূণের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য বিকাশও খুব দ্রুত হতে থাকে। এই সময়ে সে ছোট্ট এক্রোবেটের মত  নড়াচড়াও শুরু করে। মায়ের জরায়ুতে সে কখনো হয়তো তার শরীরকে টান টান করছে বা কখনো উল্টেপাল্টে ভেসে বেড়াচ্ছে।  

এই সময়ে ভ্রূণটি একটি ছোট লেবুর আকার ধারণ করে! গর্ভের শিশুটি এই সপ্তাহে এসে প্রায় ১.৬ ইঞ্চির (৪.১ সেমি) মত লম্বা হয়ে যায় এবং তার ওজন হয় .২৫ (৭ গ্রাম)  আউন্সের মত। কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও  এই সময়ে শিশুর মাথা এবং শরীরের বাকি অংশের আয়তন প্রায় সমান থাকে। তবে পরবর্তী সময় থেকে শরীরের নিম্নাংশের আকার বাড়তে থাকে।

বিজ্ঞাপণ
Loading...

সপ্তাহ ১১ বলতে বোঝায় গর্ভধারণের তিন মাস চলছে বা নির্দিষ্ট করে বললে দুই মাস দুই সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে। আর তিন সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার শুরু হবে।

গর্ভধারণের এগারোতম  সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে ভ্রূণের বৃদ্ধির এম্ব্রিয়ো পর্যায় ধরা হয়। ১১তম সপ্তাহে গর্ভের শিশুটিকে আর এম্ব্রিয়ো বলা হয়না। এগারো সপ্তাহ থেকে গর্ভের ভ্রূণের ফিটাল পিরিয়ড শুরু হয় এবং এখন থেকে এটিকে ফিটাস বলা হয়। ভ্রূণের গুরুত্বপূর্ণ সকল অঙ্গগুলো এই সময়ের মধ্যে তাদের সঠিক অবস্থানে চলে আসে এমনকি বেশীরভাগ অঙ্গগুলোই তাদের নিজ নিজ কাজও  শুরু করে দেয়।

ভ্রূণের বৃদ্ধির এম্ব্রিয়োনিক পিরিয়ডে বেশিরভাগ অঙ্গ গঠিত হয়। আর ফিটাল পিরিয়ডে এসে ভ্রূণের শারিরক বৃদ্ধির সাথে সাথে গঠিত হওয়া অঙ্গগুলোর পরিপূর্ণ বিকাশ হতে থাকে।

এগারোতম সপ্তাহের দিকে এসে গর্ভের ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। সেগুলো নিম্নরূপঃ

মাথা এবং ঘাড়

এই সময়ে শিশুর মাথা এবং পুরো শরীর জুড়ে চুলের গোড়া বা হেয়ার ফলিকলের গঠন শুরু হতে পারে। ছোট থলির মতো চুলের এই ফলিকল ত্বকের ভেতরে থেকে গাছের শিকড়ের মতো আঁকড়ে থাকে।

বুক

এই সময়ে ভ্রূণের বুকে নিপল দৃশ্যমান হয়ে উঠে। এছাড়াও ভ্রূণের ডায়াফ্রাম (Diaphragm) এসময় তৈরি হতে শুরু করে। ডায়াফ্রাম একটি পর্দার মত অঙ্গ, যা মানুষের বুক এবং পেট কে আলাদা করে রাখে।

কান

ভ্রূণটির কানের আকৃতি এই সময়ে পুরোপুরি গঠিত হয়ে যায়। অর্থাৎ ১১তম সপ্তাহে এসে ভ্রূণের কান তাদের সঠিক যায়গায় অর্থাৎ মাথার ঠিক দুই পাশে নিজেদের অবস্থান পাকা করে নেয়।

মুখ এবং নাক

এই সময়ে ভ্রূণের নাকের ছিদ্রগুলো পুরোপুরি খুলে যায় এবং জিহ্বা দৃশ্যমান হওয়া শুরু করে। মুখগহ্বরের ভেতর দুটি মাড়ির নিচে তার বিশটি দাঁতের গঠন চলতে থাকে। যদিও জন্মের ৭-৮ মাসের আগে এই দাঁতগুলো সাধারণত দৃশ্যমান হয়না।

অন্যান্য অঙ্গ

এ পর্যায়ে শিশুটির জোড়া লেগে থাকা হাত পায়ের আঙ্গুল গুলো আলাদা হয়ে যায় এবং ভ্রূণের হাত ও পা তার শরীরের সামনের দিকে থাকে। নখের বিকাশ চলতে থাকে এবং শরীরের হাড়গুলো আরও শক্ত হতে থাকে।

যৌনাঙ্গ

১১তম সপ্তাহের শেষের দিকেই শিশুর যৌনাঙ্গের বাহ্যিক অংশ পুরোপুরি গঠিত হয়ে যেতে পারে এবং আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে আপনি হয়তো জানতে পারবেন গর্ভের শিশুটি কি মেয়ে না ছেলে। গর্ভের শিশুটি যদি মেয়ে হয়ে থাকে তাহলে তার ডিম্বাশয় গঠন হওয়া শুরু হতে পারে।

এছাড়া এই সময়ে ভ্রূণের রগ, শিরা এবং ধমনী ধীরে ধীরে গঠিত হওয়া শুরু করবে এবং তার পাতলা চামড়ার নিচে সেগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। এই সময় শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস এর মাধ্যমে amniotic fluid গ্রহণ ও ত্যাগ করে যা তার lungs এর গঠনে সাহায্য করে।

যদিও শিশুটির চোখ এখনো বন্ধ কিন্তু সে মোটেও ঘুমন্ত নয়। আপনি যদিও তার নড়াচড়া এখনি টের পাবেন না কিন্তু এখন থেকেই সে হাত পা ছুড়াছুড়ি শুরু করবে।এছাড়া যেহেতু এই সময়ে শিশুর ডায়াফ্রাম গঠিত হয়ে যায় তাই শিশুর হেঁচকিও হতে পারে।

এই সময়ে শিশুর স্নায়ু এবং পেশি একসাথে কাজ করা শুরু করে। ফলাফল স্বরূপ এই সময়ে শিশু ঝাঁকি দিয়ে কেঁপে উঠার মত নড়াচড়া করতে পারবে। যদিও সেই নড়াচড়া এখনি মায়েরা বুঝতে পারবেন না। গর্ভধারণের ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহের আগে বেশিরভাগ গর্ভবতী মা শিশুর নড়াচড়া অনুভব করতে পারেন না। এছাড়া এটা যদি প্রথম সন্তান হয়ে থাকে তাহলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভ্রূণের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ধরণের গঠন শেষ হয়ে যাবে। এরপর যে অংশটি বাকি থাকে সেটা হল ভ্রূণটির ধীরে ধীরে বড় হওয়া অর্থাৎ বৃদ্ধি পাওয়া। বড় হওয়ার সাথে সাথে তার মস্তিষ্কেরও পরিপূর্ণ ভাবে বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়ে যায়।

এগারোতম সপ্তাহে মায়ের শারীরিক পরিবর্তন

এই সপ্তাহে আপনার কোমর কিছুটা ভারী হওয়া শুরু করলেও পেটের আকারে তেমন পরিবর্তন বোঝা নাও যেতে পারে। এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এক বা একাধিকবার মা হবার অভিজ্ঞতা থাকলে পরবর্তী গর্ভধারণে অপেক্ষাকৃত আগেই পেটের আকার বাড়া শুরু হতে পারে। কারণ এক্ষেত্রে মায়ের জরায়ু এবং পেটের পেশী আগের গর্ভধারণের কারণে কিছুটা প্রসারিত থাকে।প্রথমবার মা হতে যাওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১২-১৬ সপ্তাহের মাঝে পেটের আকার বৃদ্ধি পেতে পারে।

পেটের আকার বাড়ার কারণে মায়ের শরীরের পেশী এবং লিগামেন্টগুলোতে টান লাগে। এতে রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন হতে পারে। রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন এক ধরনের তীব্র ব্যাথা যা সাধারনত অল্প সময়ের জন্য হয় এবং অনেকটা মাংশপেশীর খিঁচুনির মত মনে হতে পারে। এ ব্যাথা দুপাশেই হতে পারে তবে ডান পাশে বেশী হয় যা উরু পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে ব্যাথা  যদি খুব তীব্র হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারকে জানাতে হবে।

১১তম সপ্তাহে মায়েরা গর্ভধারণের যেসব উপসর্গের মুখোমুখি হতে পারে তা হল-  

বিজ্ঞাপণ
Loading...

ক্লান্ত লাগা – মায়েদের এসময় খুব ক্লান্ত এবং দুর্বল লাগতে পারে।হরমোনের পরিবর্তন,  বিশেষ করে প্রজেস্টরন বৃদ্ধি পাওয়া এর অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানোর অনুভূতি – গর্ভবতী অনেক নারী মাঝে মাঝেই জ্ঞান হারানোর মতো অনুভব করেন। গর্ভাবস্থায় শরীরের হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই এমন বোধ হয়।

শারীরিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া – গর্ভকালীন সময়ে অনেক ধরনের হরমোন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি নিঃসৃত হয়, শরীরে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং ওজন বৃদ্ধি পায়। আর এসব কারণের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য – গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। প্রোজেস্টেরন হরমোনের কারণে মায়েদের শরীরের পেশীগুলো শিথীল হয়ে পড়ে। যেহেতু পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলোও শিথীল হয়ে পড়ে, ফলে মায়েদের খাবার হজম ধীরে হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। কখনও কখনও গর্ভাবস্থায় আয়রন সাপ্লিমেন্ট নেয়ার কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

লেগ ক্র্যাম্প- গর্ভাবস্থায় জরায়ুর আকার বাড়ার কারণে এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার কারনে পায়ের রক্তনালীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে রক্তনালী গুলো সঙ্কুচিত হয়ে যায় এবং পা থেকে হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল স্বাভাবিকের চাইতে আস্তে হয়। এ কারনে পায়ে ক্র্যাম্প হতে পারে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় পায়ে পানিও আসে যা ইডেমা নামেও পরিচিত

গ্যাসের সমস্যা – গর্ভাবস্থায় প্রোজেস্টেরন হরমোনের কারণে পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলো শিথীল হয়ে পড়ে, এবং মায়েদের খাবার হজম ধীরে হয়। এর ফলে শরীরে গ্যাস সহজে বাড়তে থাকে এবং ঢেঁকুর বা বায়ু ত্যাগের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে।

সবচাইতে অস্বস্তিকর বিষয় হোল  প্রোজেস্টেরন হরমোনের বৃদ্ধির কারণে পেশীতে যে শিথিলতা দেখা দেয় তার ফলে বায়ু ত্যাগ নিয়ন্ত্রন করা কষ্টকর হয়ে ওঠে।

এ সপ্তাহ নাগাদ গর্ভবতী মায়ের স্তনের আকার বাড়তে শুরু করতে পারে সুতরাং অন্তর্বাস হতে হবে আরামদায়ক। বেশিরভাগ মায়ের এসময় মর্নিং সিকনেসের প্রবণতা কমে যায় তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এসময় মর্নিং সিকনেস একইরকম কিংবা আরও বাড়তে পারে।

এসব ছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে মায়েরা আরও অনেক ধরণের উপসর্গ অনুভব করতে পারেন। গর্ভকালীন সব ধরণের উপসর্গ নিয়ে জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।

গর্ভাবস্থার এ সপ্তাহে করনীয়

এসময় গর্ভপাতের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায় সুতরাং এখন আপনি একটা প্রসবকালীন পরিকল্পনা করতে শুরু করে দিতে পারেন। একজন সেবিকা বা দক্ষ ধাত্রীর সাথে কথা বলে রাখতে পারেন, যিনি আপনাকে সন্তান প্রসবের সময় উপযুক্ত যত্ন ও তত্ত্বাবধান করবেন।

এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ আপনাকে আর বাড়তি ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট না খেলেও চলবে, কারণ আপনার শিশুর নিউরাল টিউবের (Neural Tube) গঠন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে।তবে এখন তো বটেই, সামনের দিনগুলোতেও সুষম খাবার খাওয়ার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। দিনে অন্তত সাত থেকে আট গ্লাস পানি পান করতে হবে। আঁশ আছে এ রকম খাবার, যেমন- শাকসবজি, ফলমূল, বিচিজাতীয় খাবার, ডাল, আটা ইত্যাদি খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করার জন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপণ
Loading...

গর্ভাবস্থায় দাঁতের যত্ন নেয়া খুবই প্রয়োজন৷ এসময় দঁাত পরিষ্কার রাখতে হবে৷ গর্ভাবস্থায় অনেক সময় মাড়ি ফুলে রক্তপাত হয়৷ তাই এ সময়ে মাড়ির যত্ন প্রথম থেকেই নেওয়া উচিত৷ প্রতিদিন সকালে ও রাতে শোয়ার আগে দঁাত ব্রাশ করা প্রয়োজন৷ দঁাত বা মাড়ির কোনও সমস্যা থাকলে দন্ত চিকিত্‌সকের পরামর্শ নিন৷

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস ওজন কমে যাওয়া কিংবা ওজন না বাড়া অনেক মহিলার কাছে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে, যে সকল মহিলারা “মর্নিং সিকনেসে ” (যা ৭০-৮০ ভাগ গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়) ভোগেন তাদের জন্য এটি সাধারণ একটি বিষয়।

গর্ভাবস্থার যদি প্রথম তিনমাস মাঝে মাঝে মর্নিং সিকনেস দেখা দেয় তবে এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এসব উপসর্গ সাধারণত ঠিক হয়ে যায়।

প্রেগন্যান্সির প্রথম তিন মাস এবং শেষের তিন মাস দুরের জার্নি করা উচিৎ না।বিশেষ করে যদি রাস্তা ভালো না হয় বা ঝাঁকুনি লাগার ব্যাপার থাকে তবে সেটা মায়ের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

হালকা ব্যায়াম করতে হবে কিন্তু শরীরের ক্ষমতার তুলনায় ভারি কাজ করা যাবেনা। ঝুকে বা নুয়ে কাজ না করাই উচিত । হাঁটা চলায় সাবধান হতে হবে । এগুলো আমরা সবাই জানি কিন্তু ঠিক মত পালন করিনা। কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সচেতন থাকতে হবে ।

সুস্থ পরিবেশই শুধু একটা সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে । এটা বর্তমানে বৈজ্ঞানিক ভাবেও প্রমানিত যে মায়ের সাথে সন্তানের আত্তিক সম্পর্ক থাকে । কাজেই গর্ভবতী মাকে সর্বদা হাসিখুশি ও চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। সেই সাথে পরিবারের অন্যান্য সদ্যসদ্যেরও মাকে যথাযথ মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১০
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ১২>>


শেয়ার করে অন্যদের জানাতে সাহায্য করুন

Related posts

Leave a Comment