শিশুর বেড়ে ওঠা | প্রথম মাস

জন্মের প্রথম মাস থেকেই শিশুর চেহারা ও শারীরিক বৃদ্ধি ছাড়াও তার ইন্দ্রিয় ও মোটর স্কিল এর উন্নতি হতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে একটি চার সপ্তাহ বয়সের শিশুও “মা” এবং “না” শব্দের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে। এখনই তারা বিভিন্ন ধরণের শব্দের মাধ্যমে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।

শিশুর জন্মের পর, দেখবেন সে সবসময় পা নিজের দিকে একটু বাঁকা করে রাখতে চায় সবসময়। গর্ভকালীন সময়ে এই অবস্থাতে ছিল বলেই সে সবসময় এমনভাবে পা বাঁকিয়ে রাখে। এমনকি তার হাতও পুরোপুরি প্রসারিত থাকেনা। এতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। ধীরে ধীরে সে হাত পা মেলতে শুরু করবে এবং ৬ মাস বয়স হতে হতে সে পুরোপুরি সোজা হতে পারবে।

বিজ্ঞাপণ

মজার ব্যাপার হল জন্মের পরপরই আপনার শিশুকে ছোট্ট একটি বলের মত করে ভাঁজ করে রাখা সম্ভব, কেননা গর্ভকালীন সময়ে সে ঠিক এই অবস্থাতেই ছিল। যেহেতু সে অনেকটা সময় মায়ের জরায়ুতে উষ্ণ এবং আরামদায়ক অবস্থায় ছিল তাই এখন সে জন্মের পরে কম্বল বা কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।

অনেক মা এটি ভেবে চিন্তিত থাকেন যে বাচ্চা পরিমান মত দুধ পাচ্ছে কিনা, কারণ বাচ্চা হয়ত কিছুক্ষন পরপরই কাঁদছে। এটা খুবই স্বাভাবিক কারণ খাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক এর মধ্যেই বাচ্চার খাবার হজম হয়ে যায়।

কিছু কিছু জিনিষ খেয়াল করলেই আপনি নিশ্চিন্ত হতে পারেন যে আপনার বাচ্চা পরিমান মত দুধ পাচ্ছে। বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের বুক নরম ও খালি বোধ হওয়া, বাচ্চার গায়ের রঙ পরিষ্কার থাকা, বাচ্চার শরীরের কোন অংশে চাপ দিলে তা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসা, বাচ্চার ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি, দিনে ৬ থেকে ৮ বার পস্রাব পায়খানা হওয়া ইত্যাদি।

শিশুর বেড়ে ওঠা | প্রথম মাস | Audio Article

প্রথম মাসে বাচ্চার খাওয়া ও ঘুম

জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশু ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা ঘুমায়। এটা অস্বাভাবিক নয়। ঘুম শিশুদের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা এ সময় তাদের মস্তিষ্ক ও শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। শুধু রাতের ঘুমই যথেষ্ট নয়, নিয়মিত দিনে ভাঙা ভাঙা ঘুম/ন্যাপও তাদের ঘুমের অনেকটা চাহিদা পূরণ করে।

বাচ্চাকে চিত করে শোওয়ানো সবচাইতে নিরাপদ কারণ এতে SIDS (সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম) এর রিস্ক কমে যায়। কিন্তু বাচ্চা যখন জেগে থাকে, তাকে উপুড় হয়ে থাকতে দিন। এতে ঘাড়ের মাংশপেশী শক্ত হয়।

বাচ্চা যখনি ঘুমায় তখন নিজেও কিছুটা ঘুম বা বিশ্রাম এর চেষ্টা করুন। কারণ আগামী বেশ কিছু মাস আপনার নির্ঘুম রাত কাটানোর সম্ভাবনাই বেশী।

প্রথম মাসে বাচ্চা প্রতি দুই বা তিন ঘণ্টা অন্তর খেতে চাইবে। অধকিাংশ নবজাতক শিশু ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৮ বার বা তারও বেশী খায়।শিশু যখনই খাবার খাওয়ানোর ইঙ্গিত করে তাকে খাবার খাওয়ান। যতক্ষণ সে খেতে চায় তাকে ততক্ষন খাওয়ান।

সে প্রথম স্তনের দুধ খাওয়া থামিয়ে দিলে, তার ঢেকুর উঠান এবং দ্বিতীয় স্তনটি থেকে খেতে দিন। এটি আপনার শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে আপনার বুকের দুধের একটি ভাল সরবরাহ থাকা নিশ্চিত করবে।

The American Academy of Pediatrics (AAP) এর পরামর্শ মতে , আপনার শিশু যদি ৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়ে থাকে তবে জন্মের প্রথম দুই সপ্তাহ পর্যন্ত তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে খাওয়াতে হবে।

মনে রাখবেন প্রতিটি শিশুই আলাদা। প্রত্যেকটি নবজাতকের ঘুম , খাওয়ার অভ্যাসও আলাদা।

প্রথম মাসে বাচ্চার মলত্যাগ

জন্মের প্রথম দিকে meconium (গর্ভে থাকাকালীন অন্ত্রে উৎপন্ন হওয়া একধরনের পদার্থ) এর কারনে বাচ্চার পায়খানা ঘন ও গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়। বাচ্চা খাওয়া শুরু করার পর meconium আস্তে আস্তে পরিষ্কার হতে থাকে এবং পায়খানার রঙ হলুদ এর দিকে যেতে থাকে।

তবে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের ডায়েট বা ফর্মুলা খাওয়ানো বাচ্চাদের ফর্মুলার ধরন ও পরিমান এর উপর নির্ভর করে রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। একটি নবজাতক দৈনিক ৮ থেকে ১২ বার পর্যন্ত মল মুত্র ত্যাগ করতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানো বাচ্চাদের মল সাধারণত নরম অনেকটা ডায়রিয়ার মত দেখতে হয়।

নবজাতকের নাভি

জন্মের এক থেকে তিন সপ্তাহের মাঝে নাভি শুকিয়ে ঝরে পড়ে। এই সময়ের মাঝে নবজাতকের নাভির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিৎ। স্বাভাবিকভাবে নাভি ঝরে পড়লে এটি শিশুর দেহে খুবই সামান্য ক্ষত সৃষ্টি করে যা অতি অল্প সময়ের মাঝেই ভাল হয়ে যায়।

মনে রাখবেন নাভি সময়ের সাথে সাথে শুকনো, বিবর্ণ দেখানোই স্বাভাবিক। নাভি পড়ে যাবার পর জায়গায় রক্ত থাকতে পারে অথবা জায়গাটি লাল থাকতে পারে। এটি স্বাভাবিক এবং এর জন্য আলাদা কিছুর প্রয়োজন নেই।

আগে নবজাতকের নাভীর যত্নে অ্যান্টিসেপটিক পাউডার বা অ্যালকোহলে ভিজানো তুলা ব্যবহার করা হত। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষনায় বলা হয়েছে নাভী যত শুস্ক রাখা যাবে তত ইনফেকশন কম হবে।

প্রথম মাসে বাচ্চার কান্না

সব নবজাতকই কান্না করে, এটাই বাস্তবতা। কান্নাই পৃথিবীতে তাদের প্রয়োজন জানান দেয়ার একমাত্র উপায়। কিন্তু কিছু কিছু নবজাতক (প্রায় ১৫ থেকে ২০ ভাগ) অন্যদের তুলনায় অনেক বেশী কান্না করে।

বাচ্চা যদি অনেক বেশী কান্না করে, সাধারানত তিন ঘণ্টা বা তার বেশী, সপ্তাহে তিন বা চার দিনের বেশী এবং তার যদি কোন ব্যাখ্যা না থাকে, ধরে নিতে পারেন বাচ্চার হয়তো কলিক সমস্যা আছে। 

কোন কারন ছাড়া সুস্থ বাচ্চার অতিরিক্ত কান্নাকাটিকে সাধারণত কলিক বলে।  ১৫ থেকে ২০ ভাগ নবজাতক এর ক্ষেত্রে এটা দেখা যায়। কলিক কি কারনে হয় তা এখনো জানা যায়নি। তবে গ্যাসের সমস্যা, হজমের সমস্যা, reflux, বা পরিবেশগত কারনে কলিক হতে পারে মনে করা হয়।

কলিকের কারনে বাচ্চা যে কোন সময় কান্না করতে পারে। তবে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কান্না বেশী থাকে। এতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই কারণ ৬০ ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে তা ৩ মাসের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। ৯০ ভাগ বাচ্চা ৪ মাস এর মধ্যে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠে।

এ সময় গুলোতে আপনার আদর এবং ভালবাসা বাচ্চাকে আরাম দিতে পারে।

বেবি ব্লুজ

সন্তান জন্ম গ্রহণ করার কয়েকদিনের মধ্যে আপনার কিছুটা মনমরা ও খিটখিটে অনুভব হতে পারে। এমনকি খুব সাধারণ কারণে আপনার কান্নাও চলে আসতে পারে। এই ধরনের লক্ষণকে সাধারণত বেবি ব্লুজ (Baby Blues) বলা হয়ে থাকে। নবজাতক ফুটফুটে সন্তান কোলে নেয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই এই ধরনের অনুভূতির কারণে আপনার নিজের কাছেই অনেক খারাপ লাগতে পারে।

তবে এসব যদি ২ থেকে ৩ সপ্তাহের বেশী স্থায়ী হয় এবং আপনি সারাদিনই অবসাদগ্রস্থ থাকেন, কোন কাজেই আপনার উৎসাহ না থাকে, খাবারে অরুচি, আতঙ্কিত, অপরাধ বোধ, ঘুমের সমস্যা এমনকি আত্মহত্যার চিন্তার মত উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে Postpartum Depression এর আশঙ্কা বেশী।

এক্ষেত্রে অতিসত্বর চিকিৎসক  এর পরামর্শ নিন। এতে আপনার সাথে সাথে আপনার বাচ্চা এবং পুরো পরিবারই উপকৃত হবে।

১ মাস বয়সে শিশুর ইন্দ্রিয়

শ্রবণশক্তি

শিশুর শ্রবণশক্তি জন্মের প্রথম মাসে অনেকটাই সংবেদনশীল এবং সম্পূর্ণরূপে বিকশিত থাকে। তারা এখন শব্দের উৎসের দিকে মাথা ঘোরাতে চেষ্টা করবে। ঘরের একপ্রান্ত থেকে তালি দিয়ে বা ঝুনঝুনি বাজিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন। দেখবেন তারা হয়তো কিছুটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠবে।

আপনি আপনার বাচ্ছাকে নার্সারি রাইম বা কিছু মৃদু গান বাজিয়ে শোনাতে পারেন। দেখবেন তারা ভিন্ন ভিন্ন গানে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

দৃষ্টি শক্তি

এই সময় শিশুর দৃষ্টি ঝাপসা থাকে। শিশুরা সাধারণত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি দূরত্বের জিনিস দেখতে পায়। তাই বাচ্চার মুখের কাছে মুখ আনলেই সে আপনাকে দেখতে পাবে।

বাচ্চা যদি চোখে চোখ না রাখে ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই। কারণ এ বয়সী বাচ্চার সাধারণত ভ্রু, চুল বা আপনার মুখের নড়াচড়াই ভালভাবে খেয়াল করে। গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের মুখ অন্য যে কোন কিছুর চাইতে নবজাতককে বেশী আকর্ষণ করে।

বিজ্ঞাপণ

মাথা ঘুরিয়ে বা চোখের সাহায্যে তারা চলমান বস্তুকে অনুসরণ করে। কিন্তু যখনই তা দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে যায় সেটার অস্তিত্ব তারা ভুলে যায়।

যদি কখনো শিশুর ট্যারা চোখ দেখেন তাহলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ফোকাস করার জন্য তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। এ বয়সের শিশুর বেশীরভাগ খেলনাই সাদা কালো হয় কারণ হাই কন্ট্রাস্ট রং তারা সহজে খুঁজে পায়।

স্বাদ ও গন্ধ

বাচ্চার স্বাদ গ্রন্থিগুলো জন্মের সময় প্রায় বিকশিত থাকে। প্রকৃতপক্ষে নবজাতকদের, বয়স্কদের তুলনায় স্বাদগ্রন্থি বা টেস্ট বাড বেশি থাকে। জন্মের পরই বাচ্চারা মিষ্টি এবং তেঁতো স্বাদের জিনিসের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তবে লবণাক্ত জিনিসের প্রতি প্রতিক্রিয়া সাধারণত ৫ মাসের আগে দেখায় না।

জন্মের পর থেকেই বাচ্চা গন্ধ বা ঘ্রাণ বুঝতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে বাচ্চার কাছে ব্রেস্টমিল্কে চুবিয়ে কোন কাপড় বা স্পঞ্জ রাখলে ৫ দিন বয়সই একটি বাচ্চা সেদিকে ফেরার চেষ্টা করে যেটা প্রমাণ করে সে গন্ধ বুঝতে পারে।

১ মাস বয়সে শিশুর মোটর স্কিল

শিশুর নড়াচড়া ও সচেতনতা

এ বয়সে শিশু তার হাত ও পায়ের অস্তিত্ব বুঝতে পারলেও তা নাড়ানো সমন্বয় করতে আরও মাস খানেক বা মাস দুয়েক সময় লাগবে।

মাথা নাড়ানো

শিশুর ঘাড়ের পেশী এখনও অনেক দুর্বল। তারপর ও খেয়াল করবেন যখন সে তার পেটের উপর শুয়ে থাকে বা আপনার কোলে থাকে তখন সে তার মাথা হয়তবা সামান্য তুলে ধরতে পারে। এ ছাড়াও এসময় শিশু মাথা এদিক ওদিক সামান্য নাড়াতে পারে।

কিভাবে প্রথম মাসে আপনার শিশুর বিকাশে সাহায্য করবেন

শিশুর সাথে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলুন এবং অনেক আই কন্টাক্ট করুন। যদিও সে আপনার কথা কিছুই বুঝবেনা কিন্তু আপনার গলার স্বর তাকে শান্ত রাখবে এবং এখন থেকেই এসব তার ভাষার বিকাশে সাহায্য করবে।

উজ্জ্বল রং এর ঝুনঝুনি তার দৃষ্টি সীমার মধ্যে নাড়াতে থাকুন যাতে সে তার দৃষ্টি দিয়ে তা অনুসরণ করতে পারে। শিশুর বিছানার উপর উজ্জ্বল রং এর কিছু ঝুলিয়ে রাখুন। এতে তার ফোকাস এর উন্নতি হবে।

বাচ্চারা চুষতে পছন্দ করে। তাই এটা থামানোর চেষ্টা করবেন না। অনেক সময় যখন কোন কিছুই কাজ করেনা চুষনি বাচ্চা কে শান্ত করতে পারে।  American Academy of Pediatrics এর গবেষণায় দেখা গেছে ঘুমানোর সময় চুষনির ব্যাবহার SIDS এর আশঙ্কা কম করে।

আপনার শিশু যখন কেঁদে ওঠে তাকে কোলে তুলে নিন ও সান্তনা দিন। বিজ্ঞানীদের মতে শিশুর কান্নাকে অবহেলা করা মোটেও উচিত নয়। কেননা, এমন অবহেলা শিশু বিকাশে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

নবজাতক বাচ্চারা শারীরিক খেলাধুলা পছন্দ করে, বিশেষ করে যখন আপনি তাদের মুখে হালকাভাবে সুড়সুড়ি দেবেন বা তাদের হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলি গুনে খেলা করবেন।

মাত্র কয়েক মিনিট বয়সের বাচ্চারা, যদি তারা পরিতৃপ্ত ও সচেতন থাকে, চারপাশের লোকজনের মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। ধীরে ধীরে আপনার মুখ হা করার কিংবা জিভ বের করার চেষ্টা করে দেখুন- আপনার বাচ্চা হয়তো আপনার নকল করবে।

মনে রাখা উচিত প্রত্যেকটি বাচ্চাই একএক জন ভিন্ন মানুষ। তাই সব বাচ্চাই একই ভাবে বাড়বে এমনটা ভাবা ঠিক নয়। নবজাতক এর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন আশঙ্কা বা জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

[ আরও পড়ুনঃ ০-৩ মাস বয়সী শিশুর বিকাশে যেভাবে সাহায্য করবেন ]

শিশুর বেড়ে ওঠার মাইলস্টোনঃ ১ মাস

  • এক সপ্তাহের মধ্যে মায়ের আওয়াজ, চেহারা ও স্পর্শ চিনতে শিখবে।
  • চলন্ত কিছুর দিকে তাকানো শিখবে।
  • মাথা ঘুরিয়ে শব্দের উৎসের দিকে তাকানো চেস্টা করবে।
  • ইন্দ্রিয় সচেতনতা যেমনঃ সাদা-কালো বা এজাতীয় রঙ এর চরম বৈপরীত্য, শব্দ, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ, তাপমাত্রায় তারতম্য এবং শারিরীক ব্যাথা অনুভুতি জাগ্রত হওয়া শুরু করে।
  • ক্ষুধা এবং শারিরীক ব্যাথা জানান দেবার মাধ্যম হিসেবে কান্নাকে বেছে নেয়।

বিপদ চিহ্ন

প্রত্যেকটি বাচ্চাই তার নিজস্ব গতিতে বেড়ে ওঠে। তারপরও যদি প্রথম মাসে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখেন তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন-

বিজ্ঞাপণ
  • যদি খুবই আস্তে আস্তে খায় এবং ভালভাবে চুষতে না পারে।
  • যদি দৃষ্টি ফোকাস করতে না পারে এবং আশপাশের নড়াচড়া দিকে মনোযোগ না দেয়।
  • উজ্জ্বল আলোতে কোন প্রতিক্রিয়া না দেখায়।
  • বাচ্চা যদি নেতিয়ে থাকে।
  • উচ্চ শব্দে কোন প্রতিক্রিয়া না দেখায়।

এ সময় কি কি  মাইলস্টোন আপনার শিশু অর্জন করতে যাচ্ছে তা জানার সাথে সাথে ভুলে যাবেন না যে এট শুধু মাত্র একটা গাইডলাইন। প্রতিটি শিশুই ইউনিক ( স্বকীয় ) এবং তার বেড়ে ওঠার গতিও ভিন্ন।

যে শিশুটি অন্যদের থেকে প্রথমে বসতে শিখেছে সে হয়ত সবার শেষে হামাগুড়ি দিতে শিখবে। অথবা ১৮ মাস বয়সী যে শিশুটি শব্দ ও অঙ্গাভঙ্গির মাধ্যমে এখনো ভাবের আদান প্রদান করছে সে হটাৎ করেই দুই বছর বয়সে ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাক্য বলা শুরু করতে পারে।

এই টাইমলাইন সিরিজ যেন আপনার কোন রকম দুঃশ্চিন্তার কারন না হয় খেয়াল রাখবেন। প্রতিটি টাইমলাইনকে একটি গাইড হিসেবে ধরে নিতে হবে ।নবজাতক এর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন আশঙ্কা বা জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

সবার জন্য শুভকামনা।

 <<শিশুর বেড়ে ওঠা – ২ মাস

AAFP. 2013. Colic. American Academy of Family Physicians. http://familydoctor.org/familydoctor/en/diseases-conditions/colic.html [Accessed December 2016]

AAP. 2015. Umbilical cord care. American Academy of Pediatrics. http://www.healthychildren.org/English/ages-stages/baby/bathing-skin-care/Pages/Umbilical-Cord-Care.aspx [Accessed December 2016]

ACOG. 2013. FAQ091. Postpartum depression. American College of Obstetricians and Gynecologists. http://www.acog.org/Patients/FAQs/Postpartum-Depression [Accessed December 2016]

Mayo Clinic. 2014. Colic. http://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/colic/basics/definition/con-20019091 [Accessed December 2016]

Your newborn’s development.  https://www.babycenter.com/0_your-newborns-development-birth-to-12-mo_1477143.bc

Your 1-week-old’s development. https://www.babycenter.com/0_your-1-week-oldsdevelopment_1477163.bc

Your 2-week-old’s development. https://www.babycenter.com/0_your-2-week-olds-development_1477167.bc

Your 3-week-old’s development.  https://www.babycenter.com/0_your-3-week-olds-development_1477171.bc
Your 4-week-old’s development.  https://www.babycenter.com/0_your-4-week-olds-development_1477174.bc

Related posts

Leave a Comment