প্রসবের পর শারিরীক কি কি পরিবর্তন আসতে পারে ?

Updated on

প্রসবের পর আমার জরায়ুর কেমন পরিবর্তন হবে?

শিশু জন্ম নেওয়ার কয়েক মিনিট পরেই জরায়ু সংকুচিত হওয়া শুরু করে, প্রসব বেদনার সময়ের মতো এর ক্রিসক্রসড ফাইবারগুলোও আঁটসাঁট হতে থাকে। এই সংকোচনের ফলে গর্ভ থেকে প্লাসেন্টাকে আলাদা করাও সহজ হয়ে পড়ে।

প্লাসেন্টা বেড়িয়ে যাওয়ার পর, যে ধমনীগুলোতে প্লাসেন্টাটি সংযুক্ত ছিল, জরায়ুর সংকোচনের ফলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আর এটা হওয়ার সময়, আপনি ক্র‍্যাম্প (আফটার-পেইন) অনুভব করতে পারেন।

শিশু জন্মদানের প্রথম কয়েক দিনে আপনি জরায়ুর উপরিভাগকে আপনার নাভী বরাবর অনুভব করতে পারবেন।  এক সপ্তাহের মধ্যে, শিশু জন্ম দেওয়ার পরপর আপনার জরায়ুর ওজন যত ছিল তার অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ১ পাউন্ডের আশেপাশে হবে। দু সপ্তাহ পর, সেটার ওজন প্রায় ১১ আউন্সের মতো হয়ে যাবে এবং জরায়ু পুরোটাই নাভীর নিচের নিম্নাঙ্গে (পেলভিস) স্থান করে নেবে।

চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে, জরায়ু একদম গর্ভপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে আসবে এবং এর ওজন ৩.৫ আউন্সের মতো হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াকে involution of the uterus  বলা হয়।

প্রসবের পর আমার শরীরের ওজন কতটুকু কমতে পারে?

প্রায় ১২ পাউন্ডের মতো। শিশুর জন্যে প্রায় ৭ বা ৮ পাউন্ড, প্লেসেন্টা ১ পাউন্ড এবং বাকিটা রক্ত এবং এমনিওটিক তরল।

গর্ভধারণের পূর্বে আপনার ওজন যত ছিল, সেটুকুতে আপনি দ্রুতই পৌঁছে যাবেন এমনটা ভাবার কিছু নেই৷ কিন্তু প্রসবোত্তর সময়ে এসে আপনার ওজন একটু একটু কমতে থাকবে কারণ গর্ভধারণের সময় আপনার শরীরের কোষগুলো যে অতিরিক্ত পানি জমা করে রেখেছিল সেগুলো নিঃসরণ করা শুরু করে। এছাড়া আপনি গর্ভবতী অবস্থায় শরীরে যে অতিরিক্ত রক্ত ছিল, তা থেকেও তরল বের করে দিতে থাকে।

তাই শিশু জন্ম দেওয়ার প্রথম দু একদিনে, স্বাভাবিকের তুলনায় আপনার অনেক অনেক বেশী- প্রায় ২.৮ লিটারের মতো প্রস্রাব হবে। প্রচুর ঘামানোটাও স্বাভাবিক৷ প্রথম সপ্তাহ পর, আপনার ওজন আরো ৪ থেকে ৬ পাউন্ডের মতো কমে যেতে পারে। অবশ্য, এই পরিমানটা মূলত নির্ভর করে গর্ভধারণকালীন অবস্থায় আপনার শরীর কতটুকু পানি জমা করে রেখেছিল সেটার উপর।

[ আরও পড়ুনঃ প্রসব পরবর্তী স্থূলতা ও এর প্রতিকার ]

প্রসবের পর আমাকে এখনও দেখতে গর্ভবতীর মতো লাগছে কেন?

আপনার জরায়ু একদম পূর্বের মতো স্বাভাবিক সাইজে এসে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস পর পর্যন্তও আপনাকে দেখতে গর্ভবতী লাগতে পারে। এর কারণ হলো, গর্ভবতী থাকা অবস্থায় আপনার পেটের মাংসপেশী অনেক বেশী প্রসারণের ফলে বেড়ে গিয়েছে।

এটা ঠিক হতে বেশ কিছুদিন সময় তো লাগবেই৷ এছাড়া নিয়মিত পেটের ব্যায়াম করেও পেটকে স্বাভাবিক আকারে নিয়ে আসতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, কিছু কিছু মায়েদের পেটের এই ঝুলে যাওয়া মাংসপেশি কখনোই ঠিক আগের মতো হয়ে যায় না।

প্রস্রাবের বেগ আসলে সেটা বুঝতে পারি না কেন?

পুরো প্রসববেদনা এবং ডেলিভারির প্রক্রিয়ায় আপনার ব্লাডার বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যার ফলে সাময়িকভাবে ব্লাডার ফুলে যাওয়া এবং সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলা প্রভৃতি ব্যাপার ঘটতে পারে।

ডেলিভারির প্রথম দিন, আপনি হয়তো কোন প্রস্রাবের চাপ অনুভব করবেন না। বিশেষত, আপনার প্রসববেদনা যদি অনেক্ষণ স্থায়ী থাকে কিংবা ভ্যাক্যুয়ামের সাহায্যে ভ্যাজিনাল ডেলিভারি হয় অথবা এপিডিউরাল প্রয়োগ করা হয়। এজন্যে প্রসববেদনাকালীন সময়ে প্রস্রাবের জন্যে একটি মূত্রনিষ্কাষণযন্ত্র লাগিয়ে দেওয়া হয় যাতে ব্লাডার অতিরিক্ত ভরে না যায়।

ডেলিভারির পর পর, আপনার শরীরের অতিরিক্ত পানি দিয়ে দ্রুত ব্লাডার ভর্তি হওয়া শুরু করে তাই প্রস্রাবের চাপ না আসলেও বারবার প্রস্রাব করা প্রয়োজন। ব্লাডারে অনেক বেশী প্রস্রাব জমা হতে থাকলে, বার বার টয়লেটে গিয়ে প্রস্রাব করা কঠিন তো বটেই, হুটহাট কিছু দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।

ব্লাডার অনেক বেশী প্রস্রাবে ভর্তি হলে ফুলে যায় এবং এতে প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা তো হয়ই, জরায়ুর সংকোচনেও এটা বাধা সৃষ্টি করে যার ফলে ক্র‍্যাম্পও বেড়ে যায় এবং অনেক বেশী রক্তপাতের সম্ভাবনাও থাকে।

ডেলিভারির কয়েক ঘন্টা পরও যদি আপনার প্রস্রাব না আসে তাহলে ব্লাডার থেকে একটি প্রস্রাবনিষ্কাশন যন্ত্র (ক্যাথেটার) লাগিয়ে নেওয়া উচিত। তবে সিজারিয়ান হলে অস্ত্রোপচারের আগে এমনিতেও প্রস্রাবের এই যন্ত্রটি লাগিয়ে নেওয়া হয় যা অস্ত্রোপচারের পরও কিছু সময় লাগানো থাকে।

আপনার প্রস্রাবের যে কোন সমস্যা হলে কিংবা প্রস্রাব অনেক কম পরিমানে হলে সেটা অবশ্যই নার্সকে জানাবেন। ব্লাডার অনেক বেশী পূর্ণ হয়ে গেলে, সেটা অনেক সময় প্রস্রাব হওয়ায় বাধা সৃষ্টি করে।

[ আরও পড়ুনঃ প্রসবের পর প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বা ইনকন্টিনেন্স ]

যৌনাঙ্গ এবং তার আশপাশ কি আবার পূর্বের মতো স্বাভাবিক হতে পারে?

আপনার যদি ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি হয়, সেক্ষেত্রে আপনার যোনী পূর্বের তূলনায় স্থায়ীভাবেই কিছুটা বড় থাকতে পারে।

ডেলিভারির পরপর যোনী বেশ ফোলা এবং বিধ্বস্ত থাকবে। এর কয়েকদিন পর, ফোলাটা ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং যোনীর মাংসপেশীগুলো কিছুটা দৃঢ় হওয়া শুরু করবে। কয়েকসপ্তাহ পর, যোনী ধাপে ধাপে কিছুটা ছোট হওয়া শুরু করবে। নিয়মিত ‘কেগ্যাল ব্যায়াম’ করলে, তা মাংসপেশিগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সহায়তা করে।

ভ্যাজাইনাল ডেলিভারির সময়, পেরিনিয়ামে (যোনীর আশেপাশে) যদি খুব বেশী একটা ছিঁড়ে না যায় এবং কোন সেলাইয়ের প্রয়োজন না হয়, সেক্ষেত্রে এটা মোটামুটি দ্রুতই শুকিয়ে যায় এবং কমই অস্বস্তি তৈরি করে।

কিন্তু পেরিনিয়ামে অনেক বেশী ছিড়ে যাওয়ার ফলে যদি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয় বা এপিসিওটমি করা লাগে , সেক্ষেত্রে এটা পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছু সময় লাগে। তাই সেক্ষেত্রে যৌন মিলনে আবদ্ধ হওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের কাছ থেকে প্রসবোত্তর চেক আপ ও পরামর্শ নিয়ে তবেই এগুনো উচিত।

এর পরও যদি আপনার মনে হয় যে আপনার শরীরের নিম্নাংশ এখনোও তেমন দৃঢ় হয় নি, তাহলে আপনি পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগ পর্যন্ত যৌনমিলন কিছুটা পিছিয়েই দিন। এই সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন কোন পদ্ধতিতে জন্মবিরতিকরণ প্রক্রিয়া গ্রহণ করবেন।

আপনি যখন শারীরিক ও মানসিক দুইভাবেই যৌন মিলন করতে প্রস্তুত, তখনই এর জন্যে স্থির হোন। তবে অবশ্যই শুরুটা ধীরে সুস্থেই করা উচিত কারণ এস্ট্রোজেনের লেভেল কমে যাওয়ার কারণে যোনী থেকে পূর্বের তুলনায় অনেক কম পরিমাণে লুব্রিকেন্ট নিঃসৃত হবে।

আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ পান করিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে যোনীর এই শুকনো ভাবটা অনেক বেশী পরিষ্কারভাবে আপনার কাছে ধরা পড়বে কারণ শিশুকে বুকের দুধ পান করালে তা এস্ট্রোজেনের মাত্রাটা কমাতে থাকে। ঠিক এই কারণে প্রথম প্রথম যৌনমিলন বেশ অস্বস্তিকর ব্যাপার হতে পারে তবে কৃত্তিম লুব্রিকেন্টের ব্যাবহার এক্ষেত্রে বেশ ভালো কাজে দিতে পারে।

বাজার থেকে লুব্রিকেন্ট নিলে অবশ্যই পানি-ভিত্তিক লুব্রিকেন্টই নেওয়া উচিত। বিশেষত যদি পরিবন্ধকতা-ভিত্তিক কোন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যাবহার করেন, তাহলে তো অবশ্যই। তেল ভিত্তিক লুব্রিকেন্ট ল্যাটেক্সের গুণাগুণ কমিয়ে ফেলে, যার ফলে কনডম ছিড়ে যাওয়া কিংবা ডায়াফ্রাম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যোনীস্রাব কি?

শিশু জন্ম দেওয়ার পর ১ কিংবা ২ মাস পর্যন্ত লোচিয়া কিংবা যোনীস্রাব হওয়াটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। মূলত রক্ত, বিভিন্ন প্রকার ব্যাকটেরিয়া এবং জরায়ু থেকে নিঃসৃত টিস্যু নিয়েই গঠিত হয় লোচিয়া কিংবা যোনীস্রাব।

প্রথম কয়েকদিন, লোচিয়ায় অনেক বেশী পরিমাণে রক্ত থাকে, তাই তা দেখতে ঘন পিরিয়ডের রক্তের মতো লাল বর্ণের হয়। তবে ধীরে ধীরে স্রাবের পরিমানটা কমে আসবে এবং দু চারদিনের মধ্যেই স্রাব কিছুটা গোলাপি রঙের এবং অনেকটা পানির মতো তরল হয়ে যাবে।

ডেলিভারির ১০ দিনের মাথায়, আপনার খুব অল্পপরিমাণ সাদা কিংবা হলুদাভ স্রাব হবে, যা আগামী ২ বা তিন সপ্তাহের মধ্যে একদম বন্ধ হয়ে যাবে। তবে কিছু কিছু মায়েরদের খুব অল্প অল্প করে স্রাব আরো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়টা কেমন হতে পারে?

শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর প্রথম সেশনে পেটের নিচে ক্র‍্যাম্প বা ব্যাথা হতে পারে কারণ শিশুর চুষে খাওয়াটা শরীর থেকে অক্সিটোসিনের নিঃসরণের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এটি এমন একটি হরমোন যার ফলে জরায়ুর সংকোচন ঘটে থাকে।

ডেলিভারির দুই দিন পর, স্তনে যখন দুধ আসা শুরু করে, স্তন প্রসারিত, কোমল এবং শক্ত হয়ে যায়। এই সময় স্তনে কিছুটা ধরফরানি অনুভূত হতে পারে এবং অস্বাভাবিক রকমের পূর্ণ মনে হতে পারে। ফুলে যাওয়ায় এমন এই অস্বস্তিকে এনগোরজমেন্ট বলে এবং দু’একদিন পরেই এটা প্রায় ঠিক হয়ে যায়।

গর্ভপরবর্তী সময়ে এত ধকলের মাঝে কিছুটা স্বস্থির জন্যে যে কাজটা সর্বোত্তম হতে পারে, তা হলে শিশুকে বুকের দুধ পান করানো। শুরু থেকেই নিয়মিত শিশুকে বুকের দুধ পান করালে অনেক সময় শুধু এর মাধ্যমেই এনগোরজমেন্ট প্রতিরোধ সম্ভব।

তারপরও যদি কোন উপকার না হয় কিংবা শিশুর ঠিকঠাকভাবে দুধ পান করতে কোন সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার কিংবা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিন।

[ আরও পড়ুনঃ শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো সংক্রান্ত কিছু সমস্যা ও সমাধান ]

যদি শিশুকে বুকের দুধ পান না করাই, সেক্ষেত্রে?

শিশুকে বুকের দুধ পান করান কিংবা না করান- আপনার স্তন দুধ উৎপাদন করবেই এবং শিশু জন্ম দেওয়ার দু’এক দিনের মধ্যেই স্তন একদম পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।

স্তন এমন পূর্ণ হয়ে থাকলে সেটা আপনার জন্যে অনেক বেশী অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে যা অনেকদিনই আপনাকে ভোগাতে পারে। শিশু জন্মানোর তিন থেকে পাঁচদিনের মাথায় ব্যাথাটা অনেক বেশীই হবে এবং পুরো দুধটুকু শুকিয়ে আসতে প্রায় কয়েক সপ্তাহ লেগে যাওয়াটা অসম্ভব কিছু না।

আর এই সময়ে, রাত দিন ২৪ ঘন্টাই সাপোর্টিভ ব্রা পরিধান করা উচিত এবং মাঝে মাঝে বরফের সেক দেওয়া উচিত যাতে ফোলা কিছুটা কমে যায় এবং নতুন দুধের উৎপাদনও আর না হয়। তবে বরফের সেক দেওয়ার সময় অবশ্যই কাপড়ে মুড়ে দিন, খেয়াল রাখুন সরাসরি চামড়ায় যেন ঠান্ডাটা না লাগে।

এছাড়া আপনি ব্যাথা নিরাময়ে এইসটামিনোফেন অথবা ইবোপ্রোফেন খেতে পারেন এবং আপনার যদি খুব বেশী অস্বস্তি হয়, সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু দুধ চেপে বের করে দিতে পারেন।

তবে, এটা করলে কিন্তু দুধ শুকানোর প্রক্রিয়াটাও দীর্ঘ হতে পারে কারণ নিপলে উদ্দীপনা দিলে এবং স্তন থেকে দুধ নিঃসৃত হলে তা শরীরকে আরো দুধ উৎপাদনের বার্তাই পাঠায়। আবার স্তনে কোনভাবেই উষ্ণ কিছু স্পর্শ করাবেন না, কারণ উষ্ণতা নতুন দুধ উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করে।

 আমার চুল পড়ে যাচ্ছে কেন?

গর্ভবতী থাকা অবস্থায় আপনার চুল যদি ঘন মোটা হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে এখন হয়তো তা মুঠোয় মুঠোয় আপনার হাতে চলে আসছে। এটা মূলত নতুন মায়েদের ক্ষেত্রেই বেশী হয় এবং শিশু জন্ম দেওয়ার কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। তবে চিন্তা করবেন না, মাথা ন্যাড়া হওয়ার কোন ভয় নেই।

আপনার গর্ভাবস্থায়, আপনার শরীরে এস্ট্রোজেনের অধিক মাত্রার ফলে চুল বেশ দ্রুত বাড়ে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম ঝরে পড়ে। কিন্তু ডেলিভারির পর শরীরে এস্ট্রোজেনের মাত্রা হুট করে কমে যায় এবং এজন্যে অনেক বেশী হারে চুল পড়া শুরু করে। অবশ্য ধীরে ধীরে (সাধারণত প্রায় ১ বছরের মতো সময় নেয়) আপনার চুলের বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার হার গর্ভধারণের আগের মতোই হয়ে যাবে।

এর একটা ভালো দিক হলো, গর্ভাবস্থায় আন্ড্রোজেনস নামক হরমোনের কারণে যদি আপনার মুখে কিংবা শরীরে অনেক বেশী লোম উঠে, ডেলিভারির পরে ছয় মাসের মধ্যেই আপনি সেসব অবাঞ্চিত লোম থেকে মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন।

আর ত্বক কেমন হবে?

হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক অবসাদ, চাপ এবং সর্বোপরি মাতৃত্বের ক্লান্তি সবমিলিয়ে পুরো শরীরের সাথে সাথে কিছু প্রভাব আপনার ত্বকেও পড়ে।গর্ভবতী অবস্থায়ও যাদের ত্বক একদম দাগহীন পরিষ্কার ছিল, ডেলিভারির ১ মাস পরেই হয়তো ত্বকের বিভিন্ন যায়গায় দাগ দেখা দিতে পারে। আবার অন্যদিকে গর্ভবতী অবস্থায় যদি আপনার ব্রণ উঠে থাকে, এখন এসে সেখানে বেশ উন্নতি লক্ষ্য করতে পারেন।

আপনার যদি ক্লোসমা (ঠোঁট, নাক, গাল ও কপালে মানচিত্রের মতো বিচ্ছিন্ন কালো দাগ) কিংবা নাভি থেকে নিচে অবদি লাইন টানা কালো দাগ থাকে- শিশু জন্ম দেওয়ার এক মাস পরেই আপনি হয়তো সেগুলোতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করতে পারবেন। আপনার ত্বককে সূর্যের সরাসরি রোদ থেকে নিরাপদে রাখতে পারলে দাগগুলো একেবারেই মুছে যেতে পারে।

গর্ভকালীন সময়ে সংকোচন প্রসারণের ফলে চামড়ায় ভাঁজ পড়ার যে দাগ (স্ট্রেচ মার্কস)  হয়ে থাকে, সেগুলোও ধীরে ধীরে হালকা হয়ে আসে। যদিও এ দাগ কখনোই একেবারে ঠিক মুছে যায় না।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts