২৬ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা | ভ্রূণের বৃদ্ধি, মায়ের শরীর এবং কিছু টিপস

গর্ভাবস্থার ২৬ তম সপ্তাহে গর্ভের ভ্রূণের বেশিরভাগ ইন্দ্রিয়ের গঠন প্রায় শেষের দিকে থাকে এবং ভ্রূণটি তার চারপাশের পরিবেশের প্রতি বেশ ভালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। ভ্রূণটি এখন চুষতে, শুনতে, স্বাদ গ্রহণ করতে এমনকি মায়ের নড়াচড়ায় বা কোন উচ্চ শব্দে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

গর্ভাবস্থার ২৬ তম সপ্তাহকে প্রেগন্যান্সির দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের ১৩তম সপ্তাহ হিসেবে ধরা হয়। এ সপ্তাহের অবস্থান গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ মাসে।

বিজ্ঞাপণ
২৬ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা

গর্ভধারণের ২৬ তম সপ্তাহে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থার ২৬ তম সপ্তাহে ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্র আরো বিকশিত হতে থাকে এবং হাত ও পায়ের স্নায়ুগুলো আগের চেয়ে আরো পরিপক্ব হয়ে ওঠে যার কারণে ভ্রূণের নড়াচড়া আগের চেয়ে আরো জোরালো হতে থাকে।

গর্ভের ভ্রূণটির জেগে থাকা ও ঘুমানোর একটি রুটিন এই সময় তৈরি হতে থাকবে এবং সেটি আপনার পছন্দ অনুযায়ী না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আপনি হয়তো যখন ঘুমাতে যাবেন সে তখন সবচাইতে বেশি সক্রিয় থাকবে আর আপনি যখন জেগে তার নড়াচড়া অনুভব করার চেষ্টা করছেন  কিংবা হাঁটাচলা করছেন তখন সে হয়তো ঘুমিয়ে থাকবে। এর অবশ্য একটি কারণ হতে পারে- যখন আপনি হাঁটাচলা করছেন তখন সেই দুলুনিতে গর্ভের শিশু ঘুমিয়ে পড়ে। 

ভ্রূণের স্বাদগ্রন্থি বা টেস্টবাড (taste bud) এখন পুরোপুরি সুগঠিত এবং তার মাড়ির উপরের অংশে তার স্থায়ী দাঁতের গঠনও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।

ভ্রূণের আকার ২৬ তম সপ্তাহে একটি বাঁধাকপির সাথে তুলনা করা যায়। এসময় ভ্রূণের উচ্চতা থাকে প্রায় ১৪.০২ ইঞ্চি বা ৩৫.৬ সেমি এবং এর ওজন হয় আনুমানিক ১.৬৮ পাউন্ড বা ৭৬০ গ্রামের মত।

২৬ তম সপ্তাহের দিকে এসে ভ্রূণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। সেগুলো নিম্নরূপঃ

চোখ

ভ্রূণের চোখের পাপড়ি এসময় থেকে গজাতে শুরু করে এবং তার চোখ প্রথমবারের মত খোলা বাধা করার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সে প্রথমবারের মত চোখ মেলতে পারে।

এসময় ভ্রূণের চোখের রং থাকতে পারে নীল বর্ণের। তবে এটি তার চোখের স্থায়ী রং নয়। এমনকি জন্মের পরও তার চোখের যে রং থাকে তাও পরে পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত জন্মের তিন বছরের মধ্যে শিশু তার চোখের স্থায়ী রং লাভ করে।

মস্তিষ্ক

এ সপ্তাহে ভ্রূণের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা আরো পরিপক্বতা পায়। এর ফলে সে শব্দ শোনার পাশাপাশি তাতে সাড়া দিতেও শুরু করতে পারে। যেমন মায়ের কণ্ঠস্বর শুনলে বা উচ্চ কোন শব্দে সে নড়ে উঠতে পারে অথবা তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ বিভিন্ন ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া বা রেসপন্স সিস্টেম কার্যকর হতে থাকে।

ফুসফুস

ভ্রূণের ফুসফুস এখনো পুরোপুরি বিকশিত না হলেও দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। এই সময় কোন বাচ্চা জন্ম নিলে যদি সে পর্যাপ্ত সাপোর্ট পায় তবে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ ভাগ। যদিও ঠিক ভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার জন্য তার মেডিক্যাল সাপোর্টের প্রয়োজন হবে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

এখন থেকেই ভ্রূণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম (immune system) গঠিত হতে শুরু করবে। যদিও রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডিগুলো ভ্রূণ নিজে উৎপন্ন করেনা। এগুলো মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরে আসে যা তাকে জন্মের পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।  

এই ধরণের ইমিউনিটিকে প্যাসিভ ইমিউনিটি ( passive immunity) বলা হয়। এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়না। তাই জন্মের কিছুদিন পর থেকে শিশুকে টিকা দিতে বলা হয় যাতে গর্ভে লাভ করা এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পরও শিশু সুরক্ষিত থাকে।

মেরুদণ্ড

এসময় ভ্রূণের মেরুদণ্ড আরো শক্ত হতে থাকে যেনো  বাড়তে থাকা ভ্রূণের শরীর পর্যাপ্ত সাপোর্ট পায়। এসময় মেরুদণ্ডে ১৫০টি জয়েন্ট, ৩৩ টি হাঁড়ের রিং এবং ১০০০ লিগামেন্ট থাকে।

জননাঙ্গ

ভ্রূণটি মেয়ে হলে তার জরায়ুর গঠন এখন পরিপূর্ণ। আর ভ্রূণটি যদি ছেলে হয় তবে তার পেটের ভেতর থাকা অণ্ডকোষ পরিণত হয়ে নীচের দিকে তাদের নির্ধারিত স্থানে আসার কাজটি চলমান থাকবে।

সাধারণত তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে অণ্ডকোষগুলো তাদের স্বস্থানে চলে আসে। তবে কিছু কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে জন্মের পরও প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।

২৬ তম সপ্তাহে মায়ের শারীরিক পরিবর্তন

গত কয়েক সপ্তাহে বেশিরভাগ মায়ের গর্ভাবস্থা অপেক্ষাকৃত সহজ ছিল কারণ এসময় গর্ভকালীন বিভিন্ন উপসর্গ বিশেষ করে ক্লান্ত লাগা, বমি ভাব ইত্যাদি কম থাকে। তবে তৃতীয় ট্রাইমেস্টার যেহেতু কাছাকাছি চলে এসেছে তাই এই সময়ে এসে মায়েদের ক্লান্ত লাগার অনুভূতি আবার ফেরত আসতে পারে।

এছাড়াও এখন মায়েদের  শরীর কিছুটা ভারসাম্যহীন ও নড়বড়ে মতে হতে পারে। এসব লাগাটা স্বাভাবিক কারণ এখন অতিরিক্ত ওজন বহন করার কারণে মায়ের শরীরকে আরও বেশি কাজ করতে হয় এবং জরায়ুর আকার বৃদ্ধির কারণে শরীরের ভরকেন্দ্রেরও পরিবর্তন হয়।

গর্ভাবস্থার এ সময় নতুন যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে তা হল

বিজ্ঞাপণ

ভুলে যাওয়ার প্রবণতা

প্রায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ গর্ভবতী নারীরাই বলে থাকেন যে গর্ভধারণকালে  তারা কিছুটা ভুলোমনা এবং অমনোযোগী হয়ে পড়ছেন। প্রেগন্যান্ট অবস্থায় এটি ঘটতে পারে হরমোনজনিত কারণে। সবকিছু ভুলে যাওয়ার এই উপসর্গটিকে সাধারণভাবে বলা হয় অ্যামনেশিয়া (Amnesia)। কিন্তু যখন নতুন মা বা হবু মায়েদের এ ধরণের সমস্যা দেখা দেয় তখন তাকে “মমনেশিয়া” (Momnesia) নামেও অভিহিত করা হয়।

সাধারণত গর্ভাবস্থার কিছু সময় পর পর্যন্ত এই অবস্থা থাকে,  তারপর হরমোনের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলে এই উপসর্গও আস্তে আস্তে দূর হয়ে যায়।

গর্ভাবস্থায় ভুলে যাওয়ার সমস্যা রোধে আপনার খুব বেশী কিছু একটা করার নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলো যাতে ভুলে না যান, সেগুলো মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন, যেমন – গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে পারেন, প্রয়োজনীয় মিটিং থাকলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে পারেন, বিভিন্ন বিষয় টুকে রাখতে ছোট নোটবুক ব্যবহার করতে পারেন। 

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, আপনার কাজকর্মের জটিলতা কমিয়ে ফেলুন। যেমন,  একই সাথে অনেক কাজ করা থেকে বিরত থাকুন৷ প্রথমে ঠিক করুন কোনটা বেশী জরুরি কোনটা কম, সে অনুযায়ী কাজ আগে পরে করুন। মনে রাখবেন, এই সময়ে আপনার নিজের শরীরে শক্তি থাকাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। দরকারী কাজের জন্যে শক্তি জমিয়ে রাখুন।

অতিরক্ত গরম অনুভূত হওয়া ও ঘাম হওয়া

গর্ভকালীন সময়ে অনেক ধরনের হরমোন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি নিঃসৃত হওয়া, শরীরে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি  কারণে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।এছাড়াও এসময় গর্ভে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণের দ্রুত বিকাশের কারণে মায়ের শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ করতে থাকে যার কারণেও অপেক্ষাকৃত বেশি গরম অনুভূত হয়। আবার এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াস্বরূপ অতিরিক্ত ঘামও নির্গত হতে থাকে।

ঘামের সাথে যেহেতু আপনি শরীর থেকে প্রচুর আর্দ্রতা হারাচ্ছেন, তাই এই সময়ে শরীরের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, সুতির তৈরি পাতলা এবং হালকা বাতাস চলাচলের উপযুক্ত কাপড় পড়ুন, অধিক মশলাযুক্ত খাবার, ক্যাফেইন এবং অন্যান্য যে পানিয় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে দেয় সেগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

অতিরিক্ত ঘামের কারণে বড় ধরনের কোন সমস্যার সৃষ্টি হওয়াটা খুব একটা দেখা যায় না। শরীর  হাইড্রেটেড থাকলে এবং শরীরের ত্বক ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক থাকলে এ বিষয়টির তেমন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব থাকে না।

দুঃস্বপ্ন

গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ চিন্তা ও প্রসব সংক্রান্ত ভীতি থেকেই নানারকম স্বপ্ন দেখে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন গর্ভবতী নারীর বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ফলে যে উদ্বেগ এবং ভয়ের জন্ম নেয় তার কারণেই এমনটা হতে পারে।

এসব নিয়ে অযথা দু:শ্চিন্তা করবেন না। এসময় পরিবারের সাথে একটু ঘনিষ্ট থাকার চেষ্টা করুন। গর্ভবতী স্ত্রীর প্রতি স্বামীর একটু অতিরিক্ত যত্ন, ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং মনোযোগ এসময় স্ত্রীর মানসিক চাপ কমাতে ভীষণ প্রয়োজনীয়।

কোমর ব্যাথা

গর্ভধারণের শুরু থেকেই শরীরের কিছু হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে প্রজেস্টেরন এবং রিলাক্সিন হরমোন সন্তান জন্মদানের প্রস্তুতি হিসেবে কোমরের বিভিন্ন জয়েন্ট এবং লিগামেন্টকে নরম এবং নমনীয় করে দেয়। এর ফলে মায়ের শরীর অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে এবং জয়েন্টের ভারবহন ক্ষমতা কমে যায়। এর কারণে হাঁটার সময়, অনেকক্ষণ একটানা বসে থাকলে কিংবা হুট করে চেয়ার থেকে ওঠার সময় বা কোন কিছু তোলার সময় কোমর ব্যাথা অনুভূত হয়।

গর্ভধারণকালে মেরুদণ্ডের উপর বেশ চাপ পড়ে কারণ শরীরকে অতিরিক্ত ওজন বহন করতে হয়। তাই, আপনি যখন বসে বসে কাজ করবেন, সোজা হয়ে বসে থাকার চেষ্টা করুন। এতে আপনার ভাল Posture বা ভঙ্গিমা বজায় থাকবে, যা আপনার  ব্যথা উপশম করতে কাজে দেবে। ।

সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত একটু ঝুঁকে থাকেন। এতে মেরুদণ্ডের উপর আরো বেশি চাপ পড়ে। যদিও  সোজা হয়ে দাঁড়ানোটা এসময় একটু কঠিন হবে তারপরও চেষ্টা করুন যাতে দাঁড়ানোর সময় ঘাড় পেছনের দিকে থাকে। একটানা বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকার চেষ্টা করুন। দাঁড়িয়ে থাকতে হলে কিছুক্ষন পর পর বসে বিশ্রাম নিন।

এসব ছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে মায়েরা আরও অনেক ধরণের উপসর্গ অনুভব করতে পারেন। গর্ভকালীন সব ধরণের উপসর্গ নিয়ে জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।

গর্ভধারণের এ সপ্তাহে করনীয়

গর্ভাবস্থার ২৬তম সপ্তাহে গর্ভের শিশু অনেক সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং নিয়মিত নড়াচড়া করতে শুরু করে। এই সময় গর্ভের শিশুর নড়াচড়ার একটি প্যাটার্ন তৈরি হয়ে যায়। সে কোন সময়টাতে সবচাইতে বেশি আক্টিভ থাকে, কতবার নড়াচড়া করে এসব এখন থেকেই খেয়াল করতে শুরু করুন।

বিজ্ঞাপণ

অনেকেই এই সময় গর্ভে ভ্রূণের অবস্থান নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। এই সময়ের আলট্রা সাউন্ডে যদি বাচ্চার অবস্থান অস্বাভাবিক পাওয়া যায় তবে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। ভ্রূণ ৩৬ সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করে।

যখন আলট্রা সাউন্ড করা হচ্ছে তখন হয়তোবা সে ব্রীচ পজিশনে বা ট্রান্সভার্স লাই পজিশনে আছে। কিন্তু ভ্রূণের এই অবস্থান আলট্রাসাউন্ড করার পরই হয়তো পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।এমনকি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রসবের ঠিক আগ মুহূর্তেও অনেক শিশু অবস্থান পরিবর্তন করে।

গর্ভাবস্থার শেষ দিকে ভ্রূণ কি অবস্থানে আছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেসময় ডাক্তার আলট্রাসাউন্ড করে যেটা আপনার জন্য প্রয়োজনীয় সে অনুযায়ী পরামর্শ দেবেন। তাই অহেতুক দুশ্চিন্তা করবেন না।

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মায়ের Rh ফ্যাক্টর জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। Rh ফ্যাক্টর খুবই উদ্বেগের বিষয় যখন মায়ের তা নেগেটিভ থাকে এবং গর্ভের শিশুর পজিটিভ থাকে। আপনার যদি Rh ফ্যাক্টর জানা না থাকে তবে এই সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষা করে তা নির্ণয় করাটা জরুরী। যদি মায়ের Rh নেগেটিভ পাওয়া যায় তবে সাধারণত ২৬-২৮ সপ্তাহের মধ্যে একটি ইনজেকশন দেয়ার প্রয়োজন পরে। পরে ৩৪-৩৬ সপ্তাহের মধ্যে আরেকটি ইনজেকশন দেয়া হয়।

গর্ভাবস্থায় সুষম খাবার খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। বাচ্চার সঠিক বৃদ্ধি এবং প্রসবের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে  সুষম খাবারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।চিনি ও  শর্করা  জাতীয় খাবার কম খেয়ে ডাল, বাদাম, দুধ, ডিম , প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

ঠিক মত পুষ্টিকর খাবার না খেলে ভ্রূণের বিকাশ ঠিকমতো না হওয়ার সম্ভবনা থাকে, আবার অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় ওজন অতিরিক্ত বেড়ে মায়ের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে প্রিম্যাচিওর শিশু প্রসব কিংবা অন্যান্য  প্রসবকালিন জটিলতা দেখা দেয়ার সম্ভবনা বাড়ে।  

সবশেষে মনে রাখা উচিত, গর্ভবতী মাকে সব সময় হাসিখুশি ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক অবস্থা পরবর্তীকালে শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলে, যা গবেষণায় প্রমাণিত।

নতুন মায়েরা অনেক কিছুই জানেন না এবং অনেক ব্যাপারে নার্ভাস থাকেন। হাজার হাজার উপদেশের ভিড়ে কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল সেটিও বুঝে উঠতে পারেন না। গর্ভকালীন সময়ে যুগোপযোগী বিভিন্ন লেখা পড়ে ও এক্সপার্টদের কাছ থেকে করণীয় কি ইত্যাদি নিজেকেই জেনে নিতে হবে। এবং সামনের কঠিন পথ পাড়ি দেয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ২৫
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ২৭ >>

Related posts

Leave a Comment