ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) বা গর্ভে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া

ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (Intrauterine growth restriction) কি?

গর্ভাবস্থায় আপনার শিশুটি যদি স্বাভাবিকের চাইতে অপেক্ষাকৃত ছোট হয় তাহলে ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) সমস্যা আছে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে যদি দেখা যায় গর্ভের শিশুর ওজন তার প্রত্যাশিত ওজনের দশম পারসেন্টাইলের নিচে, সে ক্ষেত্রে এই সমস্যাকে ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন বলে।

গর্ভের শিশুকে অপেক্ষাকৃত ছোট বলে মনে হওয়ার অনেক কারণই রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) আছে মনে করা শিশুটি হয়ত এমনিতেই ছোট ( বাবা বা মায়ের মত), আবার অনেক সময়ে দেখা যায় গর্ভকালীন অবস্থায় কিছুটা ছোট দেখা গেলেও জন্মের সময় শিশু তার স্বাভাবিক আকৃতি নিয়েই জন্ম গ্রহণ করছে।

কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আবার দেখা যায় কোন কারণে গর্ভের শিশুটি স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় মাতৃ-কালীন সেবা প্রদানকারী হাসপাতাল অথবা ডাক্তার শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়ার কারণটি খুঁজে বের করতে সচেষ্ট হবেন।

গর্ভের শিশুটি ঠিক কতটা বড়, তা কীভাবে জানা যাবে?

গর্ভকালীন অবস্থার প্রথম তিন মাসে মাতৃ-কালীন সেবা প্রদানকারী হাসপাতাল অথবা ডাক্তার আপনার পেলভিক পরীক্ষার সময় আপনার জরায়ু বা গর্ভাশয় এর আকারও পরীক্ষা করবেন। এরপর প্রতিবার রুটিন চেকআপের সময় আপনার পেটের আকৃতি মেপে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হচ্ছে কি না এ ব্যাপারটি সুনিশ্চিত করবেন।

যদি মাপার পর আকার প্রত্যাশার তুলনায় ছোট হয়, তাহলে শিশুর সঠিক ওজন ও আকৃতি জানার জন্য আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন।

আপনি যদি গর্ভকালীন সময়ের প্রাথমিক দিকে থাকেন এবং এটাই হয় আপনার প্রথম আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা তাহলে একটা বিষয় মনে রাখবেন আপনার, ক্ষেত্রে পরিমাপটি একটু ছোট হতে পারে। (অন্য যাবতীয় সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার দিন অর্থাৎ গর্ভধারণ করার দিনটি ভুল নির্ধারণ করেছেন)।

আর শেষ পিরিয়ডের প্রথম দিন মনে রাখতে আপনি যদি কোন ভুল করে থাকেন অথবা যদি আপানর ওভুলেশন স্বাভাবিকের চাইতে একটু দেরীতে হয় তবে এমনটা হতে পারে।  

আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে আপনার গর্ভধারণের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে যদি জানা যায়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনাকে শিশুর বৃদ্ধি সম্পর্কে জানার জন্য আবার আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষাটি করাতে হতে পারে। দ্বিতীয় আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার পরেও যদি দেখা যায় আপনার গর্ভের শিশুটির ওজন কিছুটা কম তাহলে হয়তো আপনার শিশু ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) এ আক্রান্ত।

শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সমস্যা হওয়ার কারণগুলো কি?

শিশু যদি তার প্রয়োজন অনুসারে অক্সিজেন এবং পুষ্টি উপাদান না পায় তাহলে সে স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে না। জেনেটিক কারণেও গর্ভে শিশুর স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তবে একটা খুবই বিরল।  নিম্নে ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) অর্থাৎ গর্ভকালীন সময়ে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে বর্ণীত হলঃ

  • প্লাসেন্টাতে কোন ধরনের অস্বাভাবিকতা। প্ল্যাসেন্টা হল শরীরের এমন একটি অঙ্গ যা কিনা গর্ভের শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন এবং পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এই প্লাসেন্টা ঠিকভাবে কাজ করে না, যদি এটা বেশ ছোট হয়, সঠিকভাবে গঠিত না হয়, প্লাসেন্টা যদি জরায়ু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে থাকে ( ডাক্তারি ভাষায় এই রোগকে প্ল্যাসেনটাল অ্যাবরাপশন  বলা হয়ে থাকে)। প্লাসেন্টা যদি জরায়ুর একদম নিচের দিকে অবস্থান করে তাহলে ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) অর্থাৎ গর্ভকালীন সময়ে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়ার ঝুঁকি থাকে। (ডাক্তারি ভাষায় এই সমস্যাকে প্লাসেন্টা প্রিভিয়া বলা হয়)
  • ক্রনিক হাইপার-টেনশন অথবা প্রি-এক্লাম্পশিয়া এর মত যদি কোন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে থাকে (বিশেষ করে প্রি-এক্লাম্পশিয়া যদি দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের দিকে অনেক বেশি বেড়ে যায় অথবা গর্ভকালীন অবস্থায় ক্রনিক হাইপার-টেনশন এবং প্রি-এক্লাম্পশিয়া দুই সমস্যাই দেখা যায়)। এছাড়া কিডনি এবং হৃদযন্ত্র জনিত সমস্যার কারণেও গর্ভকালীন অবস্থায় শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি নাও হতে পারে। এনিমিয়া (যেমন- সিকেল সেল ডিজিজ) থাকলে, এডভান্স ডায়াবেটিকস থাকলে, রক্ত জমাট বাঁধা জনিত সমস্যা থাকলে, এনটিফসফলিপিড এনটিবডি সিন্ড্রোম অথবা ফুসফুসে মারাত্মক ধরনের কোন রোগ থাকলেও গর্ভকালীন সময়ে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
  • ক্রোমোজোম জনিত শারীরিক অস্বাভাবিকতা, যেমন ডাউন সিনড্রোম অথবা জন্মগত ক্রুটি যেমন, anencephaly (এই ধরনের সমস্যায় মস্তিষ্কে একটা অংশ থাকে না) অথবা কিডনি ও এবডোমিনাল ওয়ালের সমস্যার কারণেও গর্ভকালীন অবস্থায় শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি নাও ঘটতে পারে।
  • যমজ অথবা এর চেয়ে বেশি শিশু গর্ভে থাকলে।
  • সিগারেট, এলকোহল অথবা ক্ষতিকর ড্রাগের কারণেও এই ধরনের সমস্যা দেখা যেতে পারে।
  • কয়েক ধরনের ইনফেকশন আছে যেগুলো শিশু আপনার কাছ থেকে পেয়ে থাকতে পারে যেমন, টক্সোপ্লাসমোসিস, CMV, Syphilis অথবা rubella। এই ধরনের সমস্যার কারণেও গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধিতে অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে।
  • কিছু ওষুধ আছে যেমন anticonvulsants, এই ধরনের ওষুধ সেবনের ফলেও এমনটা হতে পারে।
  • বড় ধরনের পুষ্টির অভাবেও এমনটা হতে পারে।

এছাড়া যে সব নারীরা গর্ভধারণ করার আগে থেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম ওজনের থাকেন ও গর্ভ ধারণ করার পরেও তাদের ওজন পর্যাপ্ত বৃদ্ধি পায়না এবং যে সকল নারীরা একটু উঁচু ভূমিতে বসবাস (high altitudes) করেন তারাও সাধারণত ছোট শিশু জন্ম দিয়ে থাকেন।

আপনার পেটের আকৃতি একদম স্বাভাবিক থাকার পরেও উপরোক্ত যে কোন ধরনের অবস্থা যদি আপনার মধ্যে দেখা যায় তাহলেও রুটিন চেকআপের সময় আপনার শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি পরীক্ষা করার জন্য আলট্রাসাউন্ড দিয়ে ওজন পরীক্ষা করা হবে।

আর আপনার যদি ইতোপূর্বে ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) এর শিশু গর্ভধারণ করেন অথবা মৃত শিশু প্রসব করে থাকেন তাহলেও গর্ভধারণের ৬ষ্ঠ মাসের শেষের দিকে অথবা ৭ম মাসের শুরুর দিকে আলট্রাসাউন্ড দিয়ে আপনার শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি পরীক্ষা করা হবে।

অবশেষে আপনার মাতৃ-কালীন সেবা প্রদানকারী ডাক্তার যদি কোন কারণ ছাড়াই আপনার শরীরের রক্তে AFP এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে দেখেন তাহলেও আপনাকে বেশ কয়েকবার করে আলট্রাসাউন্ড এর মাধ্যমে শিশুর বৃদ্ধি পরীক্ষা করানোর জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকবেন।

ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) কীভাবে শিশুর স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে?

গর্ভাবস্থায় যে সব শিশুরা ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) এ ভুগে তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই গর্ভকালীন সময়ে, প্রসবের সময় এমনকি জন্মের পরেও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা যায়। তবে তাদের মধ্যে ঠিক কি ধরনের জটিলতা দেখা যাবে এবং সেটার মাত্রা কতটুকু থাকবে সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে কি কারণে তাদের প্রাথমিক অবস্থায় ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) হয়েছিল এবং সেটার মাত্রা কতটুকু ছিল তার উপর। এছাড়া গর্ভাবস্থার কোন সময় এটা শুরু হয়েছিল এবং শিশু কতদিন ধরে গর্ভে অবস্থান করেছে সেটার উপরেও তার মধ্যে পরবর্তীতে কতটুকু ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করবে তা নির্ভর করে। 

গবেষণায় দেখা গেছে যে সব শিশুদের ওজন স্বাভাবিক ওজনের পাঁচ শতাংশ নিচে থাকে, বিশেষ করে যদি ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে সাধারণত তাদের মধ্যে বেশ কিছু জটিলতা দেখা যেতে পারে। তদুপরি স্বাভাবিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জটিলতায় ভোগা শিশুরা যদি প্রিম্যাচিউর অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করে তাহলে ক্ষণস্থায়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী দুই ধরনের জটিলতার ঝুঁকিতে থাকে।

ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া শিশুদের সাধারণত মাতৃগর্ভে অক্সিজেন এবং পুষ্টি উপাদান কম পেয়ে থাকে এবং তারা মৃত অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করার ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া এই ধরনের শিশুরা প্রসবের ধাক্কা সামলে উঠতে পারে না তাই এমতাবস্থায় সিজারিয়ানের মাধ্যমে প্রসবের ঘটনা প্রায়শই দেখা যায়।

এই ধরণের সমস্যায় ভোগা শিশুদের জন্মের সময় সাধারণত তাদের রক্তে সুগারের পরিমাণ কম থাকে, তাদের ইনফেকশন প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় ভোগে এবং তাদের লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেশি থাকে।

এছাড়া এই ধরনের শিশুদের জন্ডিসে এবং  meconium aspiration (গর্ভকালীন সময়ে অথবা প্রসবের সময় এই রোগে আক্রান্ত শিশু নিজের মল নিজেই নিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করে ফেলে) রোগে ভোগার প্রবণতা বেশি থাকে। 

গর্ভকালীন সময়ে স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া শিশুর স্বাস্থ্য ভবিষ্যতে কীরূপ ধারণ করবে সেটা আদতে নির্ভর করে একদম প্রাথমিক অবস্থা ঠিক কি কারণে তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়নি তার উপর। স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া যে শিশুরা অন্যান্য সকল দিক থেকে একদম স্বাভাবিক থাকে পরবর্তীতে সাধারণত তাদের মধ্যে কোন সমস্যা দেখা যায় না। তবে প্রিম্যাচিউর শিশুদের ক্ষেত্রে পরবর্তীতেও বৃদ্ধি জনিত জটিলতা দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) এর সাথে cerebral palsy রোগেরও যোগসূত্র রয়েছে। পরিশেষে, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভকালীন সময়ে স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া শিশু পরবর্তীতে স্থূলকায় অর্থাৎ মোটা হয় এবং হৃদ-জনিত সমস্যায়, টাইপ টু ডায়াবেটিক এবং উচ্চ রক্ত চাপে ভোগে।

আপনার শিশুর যদি ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) হয় তাহলে কি হবে?

প্রথমেই আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে শিশুর শিশুর গঠন খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করা হবে এটা দেখার জন্য যে তার বৃদ্ধি স্বাভাবিক ভাবে হচ্ছে না, সেটা গঠন জনিত কোন ধরনের সমস্যার কারণেই কি না। এছাড়া শিশুর ক্রোমোজোম জনিত কোন ধরনের সমস্যা আছে কি না সেটাও পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তার আপনাকে amniocentesis করার পরামর্শ দিতে পারে, বিশেষ করে যদি গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়েই আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় তার মধ্যে গঠন জনিত কোন ধরনের বড় জটিলটা পরিলক্ষিত হয়।

আপনার অবস্থার উপর ভিত্তি করে ডাক্তার আপনার রক্ত পরীক্ষা অথবা amniocentesis পরীক্ষা করাতে দিতে পারেন, এটা দেখার জন্য যে কোন ধরনের ইনফেকশনের কারণে অথবা রক্ত জমাট বাঁধতে না পারার কারণেই কি এই স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে কি না। তদুপরি আপনার মধ্যে প্রি-এক্লাম্পশিয়ার কোন ধরনের লক্ষণ দেখা যায় কি না, সেটাও খুব গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ইন্ট্রাইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন (IUGR) এর কারণ যাই হোক না কেন, প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ পরপর আপনাকে আলট্রাসাউন্ড দিয়ে শিশুর আকার, বৃদ্ধির মাত্রা এবং আপনার গর্ভে ফ্লুয়িডের পরিমাণ কেমন আছে সেটা পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া আপনার শিশুকে nonstress পরীক্ষা, bisophysical profiles এবং Doppler আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার শরীর থেকে শিশুর শরীরে ঠিকমত রক্ত প্রবাহ হচ্ছে কি না সেটা পরীক্ষা করে হবে।

ডাক্তার আপনার গর্ভাবস্থায় আপনার শিশুর নড়াচড়া গণনা করতেও বলতে পারেন।  শিশু স্বাভাবিক আছে কি না এটা জানার জন্য এটা বেশ ভালো একটা উপায় হিসেবে গণ্য হয়।

সাধারণত আপনার গর্ভকালীন সময় যদি ৩৭ সপ্তাহ অথবা তার কাছাকাছি হয়ে থাকে, তাহলে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে আপনার শিশুর জন্ম দেয়া হবে (যদি মনে করা হয় যে শিশু সাধারণ প্রসবের ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে না অথবা অন্য কোন কারণে যদি আপনার স্বাভাবিক প্রসব করা থেকে বিরত থাকতে হয় )।

তবে গর্ভকালীন সময় যদি ৩৭ সপ্তাহের কাছাকাছি না হয় তাহলে কি হবে সেটা আদতে নির্ভর করছে আপনার এবং আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের উপর। আপনার শিশুর স্বাস্থ্য যদি ভালো না হয় অথবা আপনি যদি প্রি-এক্লাম্পশিয়া জনিত খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে সিজারের মাধ্যমে আপনাকে সন্তান জন্ম দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

শিশুর স্বাভাবিক জন্ম গ্রহনের জন্য আপনার করনীয় কি?

ডাক্তার আপনাকে যত ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা দিয়ে থাকবেন সবগুলোই করানোর ব্যাপারে সচেষ্ট হন। এছাড়া আপনি যদি কোন ছোট হাসপাতালে প্রসব করার ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সবসময় মাথায় রাখবেন যে কোন ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার জন্য আপনার একটা বড় এবং ভালো হাসপাতালে যাওয়া জরুরী যেখানে নবজাতক শিশুর জন্য আইসিইউ অর্থাৎ NICU রয়েছে। কেননা নবজাতক শিশুর যে কোন ধরনের জটিলটা তারাই সবচাইতে ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবে।

আপনি যদি স্মোক করেন, ড্রিংক করেন এবং ড্রাগ নিয়ে থাকেন, তাহলে নবজাতক শিশুর জন্য এই মুহূর্ত থেকেই সেগুলো পরিহার করুন। (আপনার ডাক্তার থেকে এই ব্যাপারে পরামর্শ নেয়ার ব্যাপারে কখনই লজ্জা পাবেন না)।

আপনার যদি স্বাভাবিকের তুলনায় কম ওজন হয়ে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে সুষম খাবার খেতে হবে। এছাড়া গর্ভকালীন সময়ে এরোবিক ব্যায়াম সহ সকল ধরনের কঠিন ব্যায়াম থেকে বিরত থাকবেন। তবে এই সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে হালকা ধরনের ব্যায়াম করা ভালো।

কোন কোন ডাক্তার আপনাকে হয়ত পরিপূর্ণ ভাবে বেডরেস্ট নিতে বলতে পারেন, তবে এখন পর্যন্ত এই ধরনের বিশ্রামের উপকারিতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক বৃদ্ধি না পাওয়া শিশুর উপর তার মায়ের বেডরেস্টের প্রভাব সম্পর্কে সমসাময়িক একটা ছোট্ট গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই ধরনের সমস্যায় পরিপূর্ণ বেড রেস্টে থাকার মধ্যে তেমন কোন ধরনের উপকার হয় না। 

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts