স্বাভাবিক প্রসবের পর মায়ের শরীরের পরিবর্তন ও যত্ন

প্রসব পরবর্তী ৬-৮ সপ্তাহ সময় একজন মায়ের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ের সঠিক পরিচর্যা একদিকে মাকে যেমন গর্ভ ও প্রসব সংক্রান্ত বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সাহায্য করে, তেমনি মাকে এ সময়ের বিভিন্ন জটিলতা থেকে রক্ষা করে। সঠিক ভাবে বাচ্চার যত্ন নিতে ও বুকের দুধ খাওয়াতে সাহায্য করে। কিন্তু অজ্ঞতা অথবা অনিহার কারণে আমাদের দেশে মায়েদের প্রসব পরবর্তী সেবার জন্য চিকিত্সকের পরামর্শ নেবার হার অনেক কম।

প্রসব পরবর্তী যত্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, মায়ের স্বাস্থ্য। তিনি যেন যথাযথভাবে নবজাতকের যত্ন নিতে সক্ষম হন তা নিশ্চিত করা, এ সময়ে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো, প্রজনন স্বাস্থ্য, জন্মনিরোধক এবং নতুন জীবনের সঙ্গে খাপ-খাওয়ানোর বিষয়ে একজন মাকে জানানো উচিত।

স্বাভাবিক প্রসবের পর পরিবর্তন 

স্বাভাবিক প্রসবের পর মায়ের শরীরে অনেক ধরনের পরিবর্তন আসে। স্বাভাবিক প্রসবের (Vaginal Delivery) পর যেসব পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক সেগুলো হলো-

যোনীপথে রক্তপাত (লকিয়া)

বাচ্চার জন্মের প্রায় দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। প্রথমদিকে এর প্রবাহ বেশী থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে কমে আসে। শুরুতে রক্তপাতের সাথে ছোট রক্তের পিন্ড বের হতে পারে। পরে সেটা চাকাচাকা না হয়ে পানির মতো হয়।  প্রথম কয়েক সপ্তাহ পরে তা লাল রংয়ের পরিবর্তে গোলাপী-বাদামী হওয়া উচিত। যদি রক্তপাত উজ্জ্বল, ভারী, জমাট বাধা রক্ত বা দুর্গন্ধযুক্ত হয় তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে দেখা করুন। সাধারনত এরকম ডিসচার্জ ডেলিভারীর পর ৪০ দিন পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে আরো আগেই বন্ধ হতে পারে।

মাসিকের রাস্তায় বা নিম্নাঙ্গের চারপাশের সেলাই

ডেলিভারীর পর প্রজনন অঙ্গগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ খানিকটা সময়ের প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিক প্রসবে অনেকের এপিসিওটমি লাগে বা টিয়ার থাকে, যা সারতে বেশ কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। যদি আপনার সেলাই থাকে, তাহলে এখনও আপনার ব্যাথা থাকতে পারে। যদি জায়গাটাতে ব্যাথা বা ফুলা থাকে তবে আপনার ডাক্তারকে দেখান। আপনি পরবর্তী কিছু সপ্তাহে সেখানে সেলাই-এর কিছু টুকরা দেখতে পারবেন। এতে ক্ষতের জায়গায় খুলে যাবে না- এতে বুঝা যায় জায়গাটা শুকিয়ে যাওয়াতে সুতা মিশে যাচ্ছে। লবণ পানিতে গোসল করবেন না, কারণ লবণ ক্ষত জায়গাটা দূর্বল করতে পারে।

প্রস্রাবের সমস্যা

স্বাভাবিক প্রসবের পর ব্লাডার এবং প্রস্রাবের রাস্তার আশেপাশের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, যেটি সারতে কিছুটা সময় নেবে। এসময় প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, বিশেষ করে পেরিনিয়াম এরিয়ায় কাঁটাছেড়া হলে, সেলাইয়ের জায়গা বেশ জ্বলতে পারে। অনেকের আবার ঘনঘন কিন্তু পরিমানে অল্প প্রস্রাব হয়। ডেলিভারীর পর ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু পুরোপুরি না সারা পর্যন্ত এই সমস্যা থাকতে পারে। অনেকের আবার কাশি বা হাঁচি দিলে অথবা জোরে হাসলে সামান্য প্রস্রাবের ফোঁটা বের হয়ে আসতে পারে। সাধারনত সময়ের সাথে সাথে এই সমস্যা দূর হয়। এসব সমস্যাগুলোকে এড়ানোর জন্য প্রয়োজন প্রচুর পানি পান করা, প্রস্রাব আটকে না রেখে বার বার প্রস্রাব করা।

কন্ট্রাকশন

ডেলিভারীর পরও কয়েকদিন জরায়ুর কন্ট্রাকশন চলতে পারে। এটা স্বাভাবিক। অতিরিক্ত রক্তপাত কমাতে এবং জরায়ু তার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে এই কন্ট্রাকশন দরকার। এটা অনেকটা পিরিয়ডের সময় অনেকের যেরকম তলপেটে ব্যাথা হয়, সেরকম। এই কন্ট্রাকশন, ডেলিভারীর সময়কার মতো এত তীব্র না হলেও, মা এটা অনুভব করতে পারবেন। ডেলিভারীর পর আস্তে আস্তে এটা কমে আসার কথা। তবে এর সাথে যদি জ্বর থাকে, তলপেটে সহনীয় মাত্রার বেশী ব্যাথা থাকে, চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

কোষ্টকাঠিন্য

এক ধরনের সমস্যা কিন্তু এর সহজ সমাধান রয়েছে। কিছু খাবার যেগুলো তাড়াতাড়ি হজম হয় যেমন কাঁচাশাকসব্জি, তাজা ফল, শুকনা ফল, হোলগ্রেইন রুটি, রানড়বা করা সিম ইত্যাদি দিয়ে সালাদ বানানো – এগুলোতে রয়েছে অনেক আঁশ যা আমাদেরকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খেলে (চা/কফি কম খেলে) বা হাঁটাহাঁটি করলেও সাহায্য হয়।

অর্শ্ব (হিমোরয়েডস্)

বাচ্চা জন্মানোর পর আপনি পায়খানার রাস্তায় ব্যাথা অনুভব করতে পারেন ।বিশেষ করে এপিসিওটমি (Episiotomy) হলে আরো বেশি ব্যাথা থাকে।  যখন আপনি পায়খানা করতে যান তখন বেশি চাপাচাপি না করাটা জরুরী। জায়গাটাকে প্রশমিত করার জন্য আপনি গরম পানিতে গোসল করতে পারেন এবং ঐ জায়গার জন্য ওভার দি কাউন্টার μিম/মলম অথবা/বা ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল খেতে পারেন।

স্তনের ক্ষত ও লিকেজ

গোটা প্রেগন্যান্সিতে স্তনের পরিবর্তন ঘটে। স্তন আকারে বড় হয়, দৃঢ ও ভারী হয়। ডেলিভারীর পর দুধের ফ্লো বাড়লে, অতিরিক্ত দুধের চাপে, স্তনে ব্যাথা হতে পারে। ওভারফ্লোর কারনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দুধের কারনে যে ব্যাথা, তাকে এনগোরজমেন্ট (Engorgement) বলে। অনেক সময় দুধ লিক করে (নিজ থেকেই গড়িয়ে পড়ে)। এছাড়া বাচ্চাকে ঠিকমতো দুধ খাওয়ানো শিখাতে সময় লাগে। বারবার বাচ্চাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করানোর ফলে, ঘর্ষনে নিপলে ঘা এর মতো হতে পারে। ব্যাথা থেকে জ্বর আসতে পারে।

আরও পড়ুনঃ শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো সংক্রান্ত কিছু সমস্যা ও সমাধান

মেজাজের উঠানামা

প্রেগন্যান্সিতে অনেকেরই খুব মুড সুইং হয়, যেটা সাধারনত হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা (Hormonal Imalance) জন্য হয়ে থাকে। ডেলিভারীর পর তা রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায় না। বরং ডেলিভারীর পর “বেবি ব্লু” সহ নানা রকম পোষ্ট-পার্টাম ডিসওর্ডার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন মায়েদের মন খারাপ থাকা বা ডিপ্রেশন, যা সাধারনত বেবি-ব্লু নামে পরিচিত, দুই এক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে থাকলে, তা পোষ্ট-পার্টাম সাইকোসিসে পরিনত হতে পারে। শরীরের সাথে সাথে নতুন মায়ের মনের যত্ন নেয়া সমান গুরুত্বপূর্ন। কারন মন ভালো না থাকলে, মায়ের পক্ষে বাচ্চার দেখাশুনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতা বা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন

প্রসব পরবর্তী মায়ের পরিচর্যার পদক্ষেপসমূহ

মায়ের বিশ্রাম , ঘুম ও চলাফেরা

স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে প্রসবকালিন ধকল কেটে ওঠার পর মায়ের ৮-১০ ঘন্টা সম্পূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন। এরপর থেকে মাকে স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করতে হবে। আজকাল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলাফেরা শুরু করতে বলেন ডাক্তারগণ। কারণ এর উপকারিতা অনেক। যেমন: স্বাভাবিক চলাফেরা মাকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে, প্রস্রাব-পায়খানার জটিলতা থেকে মুক্ত করে, জরায়ুর ভেতরে জমে থাকা রক্ত বের হয়ে যেতে সাহায্য করে এবং রক্ত জমাট বাধা রোগ হওয়া থেকে রক্ষা করে।

তবে স্বাভাবিক চলাফেরা মানে এই নয় যে, মা তার দৈনন্দিন সাংসারিক অথবা চাকুরীস্থলের কাজকর্ম শুরু করবে। প্রসব পরবর্তী ৬-৮ সপ্তাহ সকল পরিশ্রমের এবং ভারী কাজ থেকে মাকে বিরত থাকতে হবে। কারণ মায়ের এসময় মানসিক এবং শারীরিক বিশ্রাম প্রয়োজন। দুপুরে খাবার পর কমপক্ষে ২ ঘন্টা বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। প্রতিদিন বিশ্রামের সময় কিছুক্ষণ উপুড় হয়ে শোয়া ভাল, যা জরায়ুর অবস্থান স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের ফলে মা নিজে সুস্থ থেকে বাচ্চাকে সঠিকভাবে যত্ন নিতে ও বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ শিশুকে ভালোভাবে বুকের দুধ খাওয়া শেখাতে কিছু পরামর্শ

মায়ের খাবার

প্রসব পরবর্তীতে মায়ের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি খাবার বেশি খাওয়া দরকার। এই অতিরিক্ত ক্যালরি বুকের দুধ তৈরীর জন্য প্রয়োজন হয়। তাই এ সময় মাকে সঠিকমাত্রায় সুষম খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর শাক সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। এ সময় মায়ের দেহে পানির প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায় ও ঘন ঘন পিপাসা পায়। মাকে সব সময় পিপাসা পেলেই প্রচুর পানি পান করতে হবে। পানি পানের উপকারিতা অনেক। যেমন: এই পানি বুকের দুধের মাধ্যমে বাচ্চার পানির প্রয়োজনীয়তা মেটায়। বাচ্চাকে আলাদাকরে পানি খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না। পানি মায়ের শরীরের বিভিন্ন পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে, প্রস্রাবের প্রদাহ, কোষ্টকাঠিন্য এবং রক্ত জমাট বাধা রোগ হবার ঝুঁকি কমায়।

সেলাইয়ের স্থানের যত্ন

অনেক সময় স্বাভাবিক ডেলিভারির সময় পেরিনিয়াম কাটা ও সেলাই-এর প্রয়োজন হয়। কাটা স্থান তাড়াতাড়ি ভালো হবার জন্য স্থানটি শুকনো পরিষ্কার রাখা দরকার। প্রতিবার টয়লেটে যাবার পর স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার ও শুকনো গজ অথবা কাপড় দিয়ে শুকাতে হবে। প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাবের (মাসিক) জন্য ভালো স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে হবে এবং তা বার পরিবর্তন করতে হবে যাতে সেলাই-এর স্থানটি বেশিক্ষণ রক্তস্রাব দিয়ে ভেজা না থাকে। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

স্তনের যত্ন

ডেলিভারির পর মায়ের স্তনে দুধ আসার কারণে বিভিন্ন পরিবর্তন হয়, যার জন্য প্রয়োজন স্তনের সঠিক পরিচর্যা। সঠিক যত্নের অভাবে মায়েরা বিভিন্ন জটিলতায় ভুগে থাকেন। প্রতিদিন গোসলের সময় এবং বাচ্চার দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনের বোটা পরিষ্কার করতে হবে, যাতে দুধ বের হবার ছিদ্রগুলো বন্ধ না হয়ে যায়। এসময় স্তনের আকার বড় ও ভারী হয়ে থাকে। ডেলিভারির ২-৩ দিন পর স্তনে প্রচুর দুধ আসার ফলে স্তন শক্ত হতে পারে ও ব্যথা হতে পারে। এর থেকে পরিত্রান পাবার উপায় হচ্ছে বার বার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো। স্তনে হালকা গরম সেক দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ব্যথার ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

প্রসব পরবর্তী ব্যায়াম

আপনার পূর্বের জামা কাপড়ে এখনই ফেরত যেতে পারবেন তা আশা করবেন না। আপনার পেট কিছুটা ফোলা দেখা যাবে এবং চামড়া কিছুটা ঢিলা হবে তা আপনাকে মেনে নিতে হবে –কিন্তু এটা চিরস্থায়ী নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়ের সাথে সাথে আপনি আবার পুর্বের আকৃতিতে ফেরত যাবেন।

স্বাভাবিক প্রসবের পর মায়ের কিছু কিছু হালকা ব্যায়াম করা প্রয়োজন। যা একদিকে মায়ের ঢিলে হয়ে যাওয়া মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে সাহায্য করে, অন্যদিকে মা কিছু কিছু রোগ হওয়া থেকে রক্ষা পান। যেমন-রক্ত জমাট বাধার রোগ, কোমরব্যথা, জরায়ু নেমে আসা ইত্যাদি। তবে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়মে ব্যায়াম করতে হবে। পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ করুন নিয়মিত। এটি জরায়ুর দেয়াল মজবুত করে, পেলভিক মাসল শক্ত করে। এটা অনেকটা প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখার মতো। প্রথম পাঁচ সেকেন্ড করে শুরু করুন। আস্তে আস্তে সময় বাড়ান। দাঁড়িয়ে, শুয়ে, বসে- যেকোন অবস্থানে থেকে এটি করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ প্রসব পরবর্তী স্থূলতা ও এর প্রতিকার

প্রসব পরবর্তী চেকআপ

ডেলিভারির ৬-৮ সপ্তাহ পর মাকে অবশ্যই একবার চিকিত্সকের কাছে যাওয়া উচিত, সম্পর্ণ চেক-আপের জন্য। এসময় চিকিত্সক মাকে সম্পূর্ণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিত্সা ও উপদেশ দিয়ে থাকেন। এই চেকআপের সুবিধাসমূহ হচ্ছে-

  • গর্ভধাণের সময় মায়ের শরীরে যে পরিবর্তন হয়েছিল তা পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে কিনা চিকিত্সক তা নির্ণয় করে থাকেন
  • মায়ের কোন রোগ থাকলে তা নির্ণয় করতে এবং তার চিকিত্সা দিতে পারেন
  • মাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে উদ্ধুদ্ধ এবং সাহায্য করতে পারেন
  • বাচ্চার যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ান এবং টিকা দেবার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে পারেন
  • মায়ের কোন সমস্যা থাকলে তা সমাধানে সাহায্য করতে ও উপদেশ দিতে পারেন

জন্ম নিয়ন্ত্রন

এটা জরুরী যে, বাচ্চার জন্মানোর পরপরই যদি জন্ম নিয়ন্ত্রন নিয়ে চিন্তা করেন তবে জন্মোত্তর ৬ সপ্তাহ চেকআপ-এর জন্য অপেক্ষা করবেন না- কারণ আপনি এর আগেও গর্ভবতী হতে পারেন (যদি আপনি বুকের দুধ খাওয়ান তারপরও) কারণ আপনি আপনার মাসিকের পূর্বেই ডিম্বানু উৎপাদন করবেন। বুকের দুধ খাওয়ালে ডিম্বস্ফোটন দেরী হয় কিন্তু যদি আপনি আপনার পরবর্তী গর্ভধারণের সময় ঠিক করে রাখেন তবে জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবহার করা ভালো।

যদি আপনি বুকের দুধ খাওয়ান, তবে আপনি মিশ্রিত বড়ি খেতে পারবেন না কারণ এটা আপনার দুধের যোগান ব্যাঘাত ঘটাতে পারে কিন্তু অন্য আরও উপায় আছে যেটা আপনার বুকের দুধে কোন ব্যাঘাত ঘটাবে না।

আরও পড়ুনঃ প্রসব পরবর্তী গর্ভনিরোধ বা জন্মবিরতিকরন

যৌন মিলন

যখন রক্তপাত বন্ধ হবে তখন যৌনসঙ্গম করা যেতে পারে- সাধারণত ৪-৬ সপ্তাহে। কিছু মহিলা এই সময়ে যৌনসঙ্গম করতে চায় কিন্তু যখন আপনি বিছানায় থাকেন তখন যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি চান তা হল ঘুম! দূর্বলতা ছাড়া, যে কারণগুলো যৌনসঙ্গম বিঘ্নিত করে তা হল:

সেলাই

যদি আপনার সেলাই থাকে, তবে যৌনসঙ্গম আরামদায়ক হতে ৬-৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যদি তিন মাস পরও সঙ্গম ব্যাথাদায়ক হয়, তবে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

অল্প পিচ্ছিলতা

হরমোন পরিবর্তনের মানে হলো আপনার মাসিকের রাস্তা স্বাভাবিকের থেকে কম পিচ্ছিল হবে। এটা ১০ সপ্তাহ পরে ঠিক হয়ে যাবে। সেই পর্যন্ত, পিচ্ছিলকারক ব্যবহার করুন অথবা সঙ্গমের পূর্বে একটু বেশি সময় মেলামেশা করুন।

আপনার অনুভূতি

কিছু মহিলা এই সময়ে তার শারিরীক পরিবর্তন মেনে নেন- কিন্তু অনেকেই তা মানতে পারেন না। আপনি নিজেকে আকৃতিহীন মনে করতে পারেন। আপনি মনে করতে পারেন এই শরীর আপনার না। এটা আপনার গর্ভাবস্থার শরীরের মতো নয়- কিন্তু আবার আপনার পূর্বের শরীরের মতোও নয়।

বুকের দুধ

কিছু মহিলার যৌনসঙ্গমের সময় বুকের দুধ চুয়ে চুয়ে পড়বে। যদি আপনি বা আপনার সঙ্গী এর সাথে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন তবে বাচ্চাকে আগে দুধ পান করান বা দুধের পরিমান কমানোর জন্য দুধ বের করে নিন বা প্যাডযুক্ত ব্রা পরিধান করুন। ভালো খবর এই যে, কয়েক মাসের মধ্যেই আপনার শরীরের আকৃতি এবং যৌন জীবনের উন্নতি হবে। এই সময়ে:

  • আপনার অনুভূতি সম্পর্কে একজন আরেকজনের সাথে কথা বলুন
  • কিছু ‘ব্যক্তিগত মুহুর্ত’ একসাথে কাটান
  • প্রথম যৌনসঙ্গমের সময় বেশি কিছু আশা করবেন না
  • যদি অস্বস্তিকর মনে হয়, তবে আরও কিছু সপ্তাহ অপেক্ষা করুন
  • মনে রাখবেন একজন আরেকজনের কাছাকাছি আসার এবং আনন্দ করার আরও অনেক পদ্ধতি আছে ।

আমার মাসিক আবার কখন হবে?

অনেক মহিলাই যারা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান তারা পুরোপুরি বুকের দুধ বন্ধ না করা পর্যন্ত তাদের মাসিক হয় না। তবুও, কিছু মহিলার এই সময়ের পূর্বেই মাসিক হতে পারে। যদি আপনি বাচ্চাকে বোতলের দুধ খাওয়ান, তবে চার সপ্তাহ পরেই মাসিক হতে পারে। মনে রাখবে যে আপনার মাসিক না হলেও আপনার ডিমস্ফুটন হবে এবং আপনি যদি জন্ম নিয়ন্ত্রক ব্যবহার না করেন তবে আপনি আবার গর্ভবতী হতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ প্রসবের পর পিরিয়ড বা মাসিক কখন শুরু হয়?

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment