গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু : ঝুঁকি ও করনীয়

গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু

বর্ষাকালে এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় অন্যান্য পোকার সাথে মশার উপদ্রবটাও কিঞ্চিৎ বেড়ে যায়। যার ফলে মশা বাহিত বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু এই ধরনের সময়গুলোতে আমাদেরকে আক্রমণ করে থাকে। মশা-বাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে ডেঙ্গু অন্যতম একটি ভয়াবহ রোগ যার ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এই রোগ মা এবং গর্ভের শিশুর জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ডেঙ্গু কি? ডেঙ্গু হল মশা বাহিত একটি রোগ। সময়মত সুচিকিৎসা প্রদান করা না হলে প্রাণঘাতী ইনফেকশন ডেঙ্গু জ্বর আমাদের শরীরের উপরে প্রচুর প্রভাব বিস্তার করে। ডাক্তারি ভাষায় প্রাণঘাতী এই ইনফেকশনকে Dengue haemorrhagic…

Read More

বাচ্চার হার্টবিট না আসার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত

বাচ্চার হার্টবিট না আসার কারণ

গর্ভাবস্থায় সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে আছে কি না অর্থাৎ আপনার গর্ভাবস্থা স্বাভাবিকভাবে আগাচ্ছে কিনা সেটা বোঝার সবচাইতে ভালো নির্দেশক হোল শুরুর দিকের আলট্রাসাউন্ডে বাচ্চার হার্টবিট আসা বা শুনতে পাওয়া। সাধারণত গর্ভকালীন সময়টা এই ধাপে পৌঁছালেই আমরা ধারনা করে নিতে পারি যে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কমে এসেছে। তবে এই সময়ে আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করার পর যদি শিশুর হৃৎস্পন্দন শুনতে না পান, তখন? আপনি হয়ত ভাবতে পারেন যে আলট্রাসাউন্ডে বাচ্চার হার্টবিট না আসার মানেই হল গর্ভপাত হয়ে যাবে। তবে এমতাবস্থায় কি ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন অর্থাৎ আপনি কি আশার দোলায় দোদুল্যমান অবস্থায়…

Read More

স্পাইনা বিফিডা (Spina bifida) বা শিশুর নিউরাল টিউব ডিফেক্ট

স্পাইনা বিফিডা (Spina bifida)

স্পাইনা বিফিডা কি? স্পাইনা বিফিডা একধরণের নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (NTD) অর্থাৎ এক ধরণের স্নায়বিক ত্রুটি। শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মেরুদণ্ড এবং স্পাইনাল কর্ড যদি ঠিকঠাকভাবে গড়ে না উঠে, তখন স্পাইনা বিফিডা হয়ে থাকে। নিউরাল টিউব ভ্রুণের একটি অংশ, যা বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তীতে শিশুর মস্তিষ্ক, স্পাইনাল কর্ড (spinal cord) এবং মেরুদণ্ডে  পরিণত হয়। সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে নিউরাল টিউব গঠিত হওয়া শুরু হয় । স্পাইনা বিফিডায় আক্রান্ত শিশুদের নিউরাল টিউবের একটি অংশ ঠিকভাবে বিকশিত হয় না বা এর গঠন প্রক্রিয়া ঠিকমতো শেষ হয় না। এ কারণে স্পাইনাল কর্ডে এবং মেরুদণ্ডের…

Read More

মৃত সন্তান প্রসব বা Stillbirth সম্পর্কে যেসব জানা জরুরী

মৃত সন্তান প্রসব বা Stillbirth

মৃত সন্তান প্রসব বা Stillbirth কি? হতে পারে আপনি কিছুদিনের মধ্যেই শুনেছেন যে আপনার গর্ভের শিশুটি মারা গিয়েছে এবং এটা যে কতটা কষ্টের একটি সংবাদ সেটা আর বলাই বাহুল্য।গর্ভধারণ করার ২০ সপ্তাহে বা এর পর যদি গর্ভের শিশুটি মারা যায় তাহলে তাকে মৃত সন্তান প্রসব বা stillbirth বলা হয়। উল্লেখ্য যে ২০ সপ্তাহের আগে যদি গর্ভের শিশু মারা যায় তাহলে তাকে মিসকারেজ বা গর্ভপাত বলা হয়ে থাকে। আমেরিকার প্রায় ১৬০টি গর্ভধারণের মধ্যে গড়ে ১টির ক্ষেত্রে মৃত সন্তান প্রসব হতে দেখা যায়। বেশীরভাগ সময়েই প্রসব বেদনা (Labor) শুরু হওয়ার আগে গর্ভে…

Read More

গর্ভাবস্থায় যে সব বিপদ চিহ্ন দেখলে দ্রুত ব্যাবস্থা নিতে হবে

গর্ভাবস্থায় যে সব বিপদ চিহ্ন দেখলে দ্রুত ব্যাবস্থা নিতে হবে

গর্ভে সন্তান আসার পর থেকে তার ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত সময়টি খুবই গুরত্বপূর্ণ। সামান্য একটু অসচেতনতা ঘটাতে পারে মা ও তার অনাগত সন্তানের ক্ষতি। তাই আসুন জেনে নিই গর্ভাবস্থার কিছু বিপদচিহ্ন। বিভিন্ন বিপদ সংকেত যেসকল উপসর্গ অবহেলা করা যাবে না গর্ভাবস্থা সম্পর্কে আপনি যতই পড়ে থাকুন কিংবা অন্য মায়েদের সাথে আলাপ করে থাকুন না কেন, আপনার নিজের ৯ মাসে যা যা ঘটছে তার সবকিছুই স্বাভাবিক কি না সেটা বলা কঠিন। এখানে কিছু উপসর্গ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে যার কোনোটা দেখা যাওয়া মানেই বিপদের ঘণ্টা! যদি আপনি এই উপসর্গগুলোর সামান্য উপস্থিতিও টের…

Read More

গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা সমূহ

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের হিসাব মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রসবজনিত মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৭০ জন। প্রতি বছরই প্রায় ১২ হাজার নারী প্রসবজনিত জটিলতার কারণে মারা যান। গর্ভাবস্থায় নারীদের চাই বিশেষ যত্ন। মহিলাদের গর্ভধারণের পূর্বেই নিজের স্বাস্থ্য, গর্ভধারণ ও সন্তান পালন সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। কারণ একজন সুস্থ্য মা-ই পারে একটি সু্স্থ ও স্বাভাবিক শিশুর জন্ম দিতে। তাই গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রয়োজন সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা। বেশীরভাগ গর্ভাবস্থা সহজেই পার হয়ে যায়। কিন্তু জটিলতার বিপদজ্জনক উপসর্গগুলো জানা থাকলে প্রয়োজনের সময় আপনি দ্রুত উদ্যোগ নিতে পারবেন। আপনার ডাক্তার,ধাত্রী বা হাসপাতালের সাথে কথা…

Read More

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার পোস্টেরিয়র পজিশন

পোস্টেরিয়র পজিশন

পোস্টেরিয়র পজিশন বলতে কি বোঝায়? যখন গর্ভে শিশুর মাথা নীচের দিকে থাকে কিন্ত মুখ মায়ের পেটের দিকে ঘোরানো থাকে তখন বাচ্চার এই পজিশনকে বলা হয় occiput posterior (OP) position বা সংক্ষেপে পোস্টেরিয়র পজিশন। এ ধরনের নামকরণের কারণ হোল এ পজিশনে বাচ্চার মাথার খুলির পেছনের অংশ (the occipital bone) পেলভিসের পেছনের দিকে থাকে। এ ধরনের পজিশনকে অনেক সময় “ফেস আপ” বা “সানি সাইড আপ’ বলা হয়। বাচ্চা যখন গর্ভাবস্থার শেষের দিকে নীচের দিকে নামতে থাকে তখন মায়ের পেলভিসে অবস্থানের সবচাইতে ভালো পজিশন হোল বাচ্চার পিঠ মায়ের পেটের দিকে থাকা। বাচ্চা যখন…

Read More

গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টাজনিত কি কি জটিলতা দেখা দিতে পারে?

প্লাসেন্টাজনিত জটিলতা

প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল কি? প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল একটি ফুল আকৃতির অঙ্গ যা গর্ভাবস্থায় মায়েদের জরায়ূর ভেতরে লেগে থাকে এবং সন্তানের সাথে মায়ের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এটি গর্ভের শিশুর রক্তসঞ্চালনকে মায়ের রক্তসঞ্চালন থেকে পৃথক রাখে। গর্ভের শিশুর শরীর যে সমস্ত কাজের জন্য উপযোগী হয়ে উঠে না, গর্ভফুল সে কাজগুলি তার হয়ে করে থাকে। এটি জরায়ুর দেয়াল সংলগ্ন একটি চ্যাপ্টা ও কিছুটা গোলাকৃতির অঙ্গ যা  শিশুর নাড়ী (আম্বিলিক্যাল কর্ড) এর মাধ্যমে ভ্রুনের সাথে সংযুক্ত থাকে। প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) হলো মাতৃগর্ভে শিশুর সুরক্ষা বা সাপোর্ট সিস্টেম। প্লাসেন্টা কোনো কারনে ঠিকভাবে কাজ না…

Read More

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা প্রতিরোধে করণীয়

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা প্রতিরোধে করণীয়

বাংলাদেশ ম্যাটার্নাল মর্টালিটি সার্ভে ২০১০ অনুযায়ী, মাতৃত্বজনিত কারণে মৃত্যুর মধ্যে ৭ শতাংশ মারা যায় দীর্ঘ প্রসব জটিলতায়, ২০ শতাংশ মারা যায় একলাম্পশিয়ায়, রক্তক্ষরণে মারা যায় ৩১ শতাংশ, গর্ভপাতে মারা যায় ১ শতাংশ। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয় গর্ভজনিত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানান জটিল কারণে। এক শতাংশ মৃত্যু কেন হয় তা নির্ণয় করা যায়নি। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা আগে থেকে নির্ণয় করা সম্ভব হলে মাতৃমৃত্যূ রোধ করা সম্ভব। সে জন্য প্রয়োজন নিয়মিত চেকআপ বা ডাক্তারি পরীক্ষা করা। বেশির ভাগ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা চেকআপের মাধ্যমে শনাক্ত করা গেলে সময় মত ব্যবস্থা নেয়া যায়।…

Read More

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ট্রান্সভার্স লাই পজিশন

ট্রান্সভার্স লাই

ট্রান্সভার্স লাই বলতে কি বোঝায়? বাচ্চা যখন গর্ভাবস্থার শেষের দিকে নীচের দিকে নামতে থাকে তখন মায়ের পেলভিসে অবস্থানের সবচাইতে ভালো পজিশন হোল বাচ্চার পিঠ মায়ের পেটের দিকে থাকা। বাচ্চা যখন এ পজিশনে থাকে তখন প্রসবের সময় তার থুতনি নীচের দিকে নামানো থাকে এবং তার মাথার সবচাইতে ছোট অংশ (মাথার উপরের ভাগ) আগে বেড়িয়ে আসে। গর্ভধারণের প্রথম দিকে মায়ের জারয়ুর ভেতর বাচ্চার নড়াচড়ার যথেষ্ট জায়গা থাকে। সে সময় বাচ্চা নিয়মিত পজিশন পরিবর্তন করে। কিন্তু গর্ভাবস্থার শেষ দিকে শিশুর আকার বাড়ার সাথে সাথে জরায়ু তে তার নড়াচড়ার করার জায়গা কমতে থাকে। তাই…

Read More