শিশুর মাথার কোন অংশ সমান হয়ে যাওয়া বা ফ্ল্যাট হেড সিনড্রোম (Flat head syndrome)

Last Updated on

Plagiocephaly এবং Brachycephaly বা ফ্ল্যাট হেড সিনড্রোম কি?

শিশুর মাথার পিছনের অংশে অথবা যে কোন এক পাশের অংশে কিছুটা যায়গা যখন সমান থাকে তাকে Plagiocephaly বলে। Plagiocephaly মানে হল মাথার একটা অংশ বাঁকা অথবা ঢালু থাকা তবে বেশিরভাগ মানুষ এটাকে Flat head syndrome নামে আখ্যায়িত করে থাকে। সাধারণত সময়ের সাথে সাথে এটা ঠিক হয়ে যায়।

আবার যদি এই সমান অংশটা শিশুর কপাল বরাবর মাথার ঠিক পিছনের অংশে হয় তবে একে Brachycephaly বলা হয়। এমতাবস্থায় শিশুর মাথা কিছুটা প্রশস্ত মনে হয় আর কপালের অংশ কিঞ্চিৎ স্ফীত হয়ে থাকে।

ফ্ল্যাট হেড সিনড্রোম

পাঁচ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এমন লক্ষণ প্রায়শই দেখা যায়। কেননা জন্মের সময় শিশুর মাথার হাড়গুলো বেশ নরম এবং নমনীয় থাকে। যদিও এই ধরনের লক্ষণ মেয়ে শিশু থেকে ছেলে শিশুর মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে ছেলে শিশুদের মধ্যেই কেন বেশি দেখা যায় এর কারণ সঠিকভাবে কারো জানা নেই।

শিশুর মাথার খুলি বেশ নরম থাকার কারণে জন্মের সময় প্রসব নালী দিয়ে তাদের বের করে আনাটা কিছুটা সহজ হয়। আর জন্মের সময় এই নরম হাড়গুলোর আকার খুব সহজেই পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। শিশুর শরীরের এসব সব নরম হাড়গুলো ধীরে ধীরে সময়ের সাথে শক্ত ও পরিপক্ব হতে থাকে।

শিশুর মাথার এই ধরনের আকৃতি নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা করবেন না। প্রত্যেকটা শিশুর মাথার আকৃতি একে অপরের থেকে ভিন্ন রকম। তাই মনে রাখবেন যে আপনার শিশুর মাথার আকৃতিও একটু সামান্য ব্যতিক্রম হতেই পারে।

এছাড়া আপনার শিশুর বেড়ে ওঠা এখনো প্রায় পুরোটাই বাকি পরে আছে এবং তার মাথার চারপাশ ধীরে ধীরে গোল হয়ে যাওয়াটাও ঠিক সেই বৃদ্ধির একটা স্বাভাবিক অংশ।

শিশুর মাথায় এই ধরনের সমান অংশ থাকার কারণ কি?

শিশুর মাথার খুলীতে প্রতিনিয়ত হালকা চাপ লাগার কারণে মাথার খুলির একটা অংশ সমান হয়ে যায়। এমনকি জন্মের আগে থেকেই শিশুর মাথার খুলীতে এমনটা হয়ে থাকার সম্ভাবনাও আছে। কেননা, মায়ের গর্ভে কিন্তু আসলে অনেক যায়গা থাকে না, আর তাই গর্ভাবস্থাতেই মাথায় এই ধরনের মৃদু চাপ লেগে থাকতে পারে। সাধারণত যে কারণগুলোতে শিশুর মাথার খুলির কিছু অংশ সমান হয়ে যায়ঃ

এছাড়া শিশু জন্ম নেয়ার পর যদি একই অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে থাকে তাহলে তার মাথার খুলিতে একটা সমতল অংশ তৈরি হতে পারে। জন্মের প্রথম দিকে এই ধরনের লক্ষণ দেয়া দেয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, কেননা তখনো শিশুর মধ্যে নিজে থেকে তার মাথা নাড়ানোর মত শক্তি তৈরি হয়না।

Flat head syndrome বা মাথার একাংশ সমান হয়ে যাওয়াটা এখন খুবই স্বাভাবিক কারণ এখন সব শিশু বিশেষজ্ঞরাই শিশুকে চিৎ করে শোয়ানোর পরামর্শ দেন।  

শিশুকে চিত করে শোয়ালে এর বিশেষ একটা উপকারও আছে, কারণ এভাবে শুইয়ে রাখাটা শিশুর Sudden infant death syndrome (নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু) এর ঝুঁকি কমায়। আর বিছানার ম্যাট্রেসেও এখন অনেক শক্ত থাকার কারণে শিশুর মাথায় চাপ একটু বেশি পড়ে। তবুও চিত করে শোয়া নবজাতক শিশুর জন্য সবচাইতে নিরাপদ, তাই শিশুর মাথার একাংশ একটু চাপ লেগে সমতল হয়ে গেলেও সেটা ঠিক করার জন্য তাকে উপুড় করে শোয়াবেন না।

প্রিম্যাচিউর শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের লক্ষণ একটু বেশি দেখা যায়, কেননা তাদের মাথার খুলি তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি নরম থাকে এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে নবজাতকের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি আই, সি,ইউ তে শুয়ে থাকে। এছাড়া প্রিম্যাচিউর শিশুরা যেহেতু নিজ থেকেই তাদের মাথা নাড়াতে পারে না, তাই তারা মাথার এক পাশ দিয়ে শুয়ে থাকতে বেশি পছন্দ করে।

অন্য আরো একটি কারণে শিশুদের মাথার খুলিতে এই ধরনের সমতল অংশ দেখা যায়, আর সেটা হল যখন তাদের ঘাড়ের পেশী কিছুটা শক্ত হয়ে থাকে (torticollis) ।  এই শক্ত পেশির কারণে তারা মাথা একই অবস্থানে রেখে শুয়ে থাকতে পছন্দ করে।

আপনার শিশুর যদি ঘাড়ের পেশী শক্ত হয়ে থাকে (ডাক্তারি ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় Torticollis) তাহলে আপনার শিশু বিশেষজ্ঞ একজন ফিজিওথেরাপিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করার বিষয়ে পরামর্শ দিবেন। ফিজিওথেরাপিস্ট আপনাকে দেখিয়ে দিবেন যে প্রতিদিন কয়েকবার করে কীভাবে খুব আলতো কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে শিশুর এই সমস্যা দূর করা যেতে পারে।

গড়াগড়ি দেয়া, উঠে বসা এবং হামাগুড়ি দেয়ার ক্ষেত্রে আপনার শিশুর যদি কিঞ্চিৎ দেরি হয় তাহলেও শিশুর মাথার খুলিতে এই ধরনের লক্ষণ দেখা যেতে পারে। কেননা এই অবস্থায় তার একই অবস্থায় বেশি সময় শুয়ে থাকা হয়।

খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে plagiocephaly এবং brachycephaly ছাড়া অন্য কোন কারণে শিশুর মাথার আকৃতির মধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা আসতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যখন শিশুর মাথার নরম অংশগুলো তার মস্তিষ্কের পুরোপুরি বেড়ে ওঠার আগেই জোড়া লেগে যায় তখন তার মাথার আকৃতির তারতম্য ঘটতে পারে।  তবে এই সমস্যা খুব সাধারণত তেমন একটা দেখা যায় না। এটা খুবই বিরল এবং প্রায় ২০০০ শিশুর মধ্যে হয়ত একজনের এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এই ধরনের সমস্যাকে ডাক্তারি ভাষায় craniosynostosis বলা হয়ে থাকে। তবে সাধারণত craniosynostosis এর জন্য কোন ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না বরং যদি এটা খুব অতিরিক্ত খারাপ অবস্থার মত হয়ে থাকে তাহলে সার্জারি/অপারেশনের মাধ্যমে এই সমস্যা ঠিক করে ফেলা যায়।

যদি আপনি শিশুর মাথার আকৃতি নিয়ে কোন ধরনের উদ্বেগের মধ্যে থাকেন তাহলে আপনি একজন শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে পারেন। এরপর আপনার শিশু বিশেষজ্ঞই নির্ধারণ করবেন যে আপনার শিশুর জন্য আলাদা ধরনের কোন বিশেষ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না।

Plagiocephaly এবং brachycephaly এর কারণে কি শিশুর কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে?

সাধারণত plagiocephaly এবং brachycephaly এর কারণে শিশুর কোন ধরনের ক্ষতি হয় না এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর কোন ধরনের বাঁধা সৃষ্টি করে না। সাধারণত বাবা মায়েরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন শিশুর মাথার অদ্ভুত আকৃতির কারণে। বিশেষ করে শিশুর চুল যদি খুব পাতলা থাকে এবং মাথার আকৃতির অস্বাভাবিকতা দৃশ্যমান হয়, তাহলে তাকে কেমন দেখাবে এই নিয়েই তাদের মধ্যে বেশি উদ্বেগ থাকে।

এছাড়া শিশু যখন মাথার এই আকৃতি নিয়ে বড় হবে এবং সে বুঝতে শিখবে, তখন তার নিজের মাথার আকৃতির জন্য মনের কি অবস্থা হবে এটা নিয়ে আপনি হয়ত একটু উদ্বিগ্ন। তবে এটা নিয়ে তেমন একটা উদ্বেগের কিছু নেই, কেননা শিশুর বয়স দুই বছর হওয়ার আগেই তার মাথার আকৃতি একদম স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেয়াটা সবসময়েই ভালো, কেননা শিশুর মাথার আকৃতি নিজে থেকেও ঠিক হতে পারে আবার চিকিৎসার মাধ্যমেও ঠিক করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটা ঠিক হয়ে যাবে, তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না।

শিশুর ফ্ল্যাট হেড সিনড্রোম হলে আপনার করনীয় কি?

যদি আপনার শিশুর মাথার আকৃতির মধ্যে কিঞ্চিৎ অস্বাভাবিকতা থেকে থাকে, তাহলে সময়ের সাথে সাথে আপনার কোন কিছু করা ছাড়াই সেটা ঠিক হয়ে যাবে।

তবে আপনি যদি শিশুর মাথার আকৃতি ঠিক হওয়ার জন্য তাকে কিছুটা সাহায্য করতে চান তাহলে ঘুমের সময়, খাবারের সময় এমনকি খেলার সময় শিশু যখন শুয়ে থাকে তখন তার শোয়ার অবস্থান কিছুক্ষণ পর পর পরিবর্তন করে দিতে পারেন।

শিশুর শোয়ার অবস্থান এভাবে পরিবর্তন করলে সেটা শিশুর মাথার সমতল হয়ে থাকা অংশ স্বাভাবিক আকৃতিতে ফিরে আসার ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর এই শোয়ার অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়টি আপনি শিশুর জন্মের পর থেকেই চেষ্টা করে যেতে পারেন।

তবে আপনার শিশুকে নিরাপদ রাখার জন্য সে যখন ঘুমাবে তখন তাকে চিত করে শোয়াতে হবে। এছাড়া অন্যান্য আরো কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত করতে পারেন যে শিশু তার মাথার সমতল অংশে ভর দিয়ে শুয়ে থাকছে না। আর সেগুলো হলঃ

  • যখন আপনি শিশুকে চিত করে শোয়াবেন, খেয়াল রাখবেন যাতে বিছানার সাথে শিশুর মাথার সমতল অংশের স্পর্শ লেগে না থাকে অর্থাৎ তার মাথার যেদিক স্বাভাবিক আছে সেদিকে মাথা কাত করে শোয়ান।
  • ঘুমানোর সময় শিশুকে তার বিছানায় রাখার সময় একদিন পর পর দিক পরিবর্তন করে দিন। যেমন একরাতে শোয়ানর সময় তার পা যেদিকে থাকে পরের রাতে সেদিকে তার মাথা দিয়ে শোয়ান। কারণ শিশুরা একদিকে ফিরে ঘুমাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই এভাবে দিক পরিবর্তন করে দিলে সে সে নিজ থেকেই তার মাথা ঘুরিয়ে আবার একই দিকে মুখ করে ঘুমাবে।
  • আপনার শিশু যদি ক্রিব অথবা Moses Basket এর মধ্যে ঘুমায় তাহলে শিশু যাতে সবসময় একই দিকে তাকিয়ে না থাকে তাই বারবার সেটার অবস্থা পরিবর্তন করে দিতে হবে।

এছাড়া আপনি বিশেষ ভাবে তৈরি ম্যাট্রেস ব্যাবহার করতে পারেন, যেগুলো খুব আলতো করে তৈরি হয় যাতে করে শিশুর মাথার ওজন একটা বড় অংশের মধ্যে ছড়ানো থাকে। এই ধরনের বিশেষ ম্যাট্রেসে প্রস্তুতকারীদের মতে এই ম্যাট্রেসে শুয়ে থাকলে সবসময় শিশুর মাথার একই অংশে চাপ লাগবে না। সে যাই হোক, এই ধরনের ম্যাট্রেস সাধারণ ম্যাট্রেস থেকে অনেক বেশি দামী হয়ে থাকে এবং এই ধরনের ম্যাট্রেস ব্যাবহারের মাধ্যমে শিশুর মাথার খুলির সমতল অংশ ঠিক হয়ে যায় সেদিকেও বিশেষ কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।

বিশেষ ধরনের বালিশ, অথবা মাথার অবস্থা ঠিক রাখার জন্য হেড পজিশনার যেগুলোর মধ্যে খাঁজ করা থাকে সেগুলো ব্যাবহার না করাই ভালো। কেননা শিশুর বিছানায় এই ধরনের অতিরিক্ত বালিশ শিশুর SIDS (নবজাতক শিশুর আকস্মিক মৃত্যু) এর ঝুঁকি বাড়ায়। 

শিশু যখন জেগে থাকে তখনই তার শরীরের অথবা শোয়ার অবস্থা পরিবর্তন করা যায় কি না এসব নিয়ে ভাবা উচিৎ। শিশুর মাথার সমতল অংশে যাতে চাপ না থাকে এবং শিশু যাতে করে মাথা চারপাশে ঘুরায় এই ব্যাপারে নিম্নে কিছু পরামর্শ প্রদান করা হলঃ

  • শিশুকে তার দোলনা চেয়ার, কোলের নেয়ার স্লিং এবং সমতল বিছানার মধ্যে প্রায়শই পরিবর্তন করতে থাকুন। অর্থাৎ একজায়গায় বেশিক্ষণ শুইয়ে রাখবেন না।
  • শিশুর খেলনা গুলো সবসময় তার বিছানার এক পাশে রাখবে না, সেগুলো একেক সময় একেক দিকে রাখুন। এটা শিশুকে তার খেলনার দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য মাথা ঘোরানোর ব্যাপারে উৎসাহী করবে।
  • শিশুকে মাঝে মধ্যেই তার পেটের উপর উপুড় করে শোয়ান। এটা আপনি শিশুকে বিছানায় রেখেও করতে পারেন আবার আপনার কোলে রেখেও করতে পারেন। তবে নবজাতক অবস্থায় শিশুকে আপনার কোলের উপরে এভাবে রাখাটাই ভালো এবং এভাবে রাখার সময়টা খুব ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকুন। প্রাথমিক অবস্থায় এক দুই মিনিট এবং পরবর্তীতে প্রতিদিন আধা ঘণ্টার মত এমন করে রাখতে পারেন। আর তিন মাসের সময় হয়ে গেলে শিশু যখন আপনার দিকে মুখ করে থাকবে তখন আপনি তার সাথে খেলতেও পারবেন যাতে করে সে আপনার দিকে তাকানোর সময় মাথার অবস্থা পরিবর্তন করতে পারে।
  • শিশু সমতল অংশে যখন মাথা রাখবে সেই সময়টার পরিমাণ কমিয়ে দিন অর্থাৎ শিশুর মাথার একই অংশে যাতে চাপ না লাগে সেজন্য বারবার তার অবস্থা পরিবর্তন করুন। তাই যখন গাড়িতে করে শিশুকে নিয়ে ভ্রমণ করবেন তখন কার সিটে শিশুকে বেশি সময় না রেখে যদি সম্ভব হয় তাহলে কোলে রাখুন।
  • শিশুকে যখন কোলে রাখবেন তখন তাকে একেক সময় একেক ভাবে কোলে নিন এবং আপনার কাঁধ পরিবর্তন করুন। এবং লক্ষ্য রাখবেন খাওয়ার সময়েও যাতে তার মাথার অবস্থা সবসময় এক রকম না থাকে।

শিশুর বয়স চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে শিশু খুব আনন্দের সাথে এভাবে থাকতে পছন্দ করবে এমনকি সে নিজে থেকে উঠে বসতেও পারবে। আর এই সময়ে দিনের বেলায় শিশুর মাথার উপর থেকে চাপ ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে, কেননা সে মাথার উপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকে খুব কম সময়ে। আর এই কারণে ঠিক এই সময়ে শিশুর মাথা ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক আকৃতিতে ফিরে আসতে থাকে।

সাধারণত এই ধরনের সব কিছুই শিশুর মাথার খুলির সমতল অংশ ঠিক করে ফেলার জন্য যথেষ্ট, এমনকি এর জন্য অতিরিক্ত কোন ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজনও পড়ে না। তবে শিশুর মাথার আকৃতিতে লক্ষণীয় কোন পরিবর্তন আসতে বেশ কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। তাই যদি একটু বেশি সময়ও লেগে যায় তবুও খুব একটা উদ্বিগ্ন হবেন না।

Plagiocephaly এবং brachycephaly এর জন্য কি ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করা যেতে পারে?

আপনার যদি মনে হয় শিশুর মাথার আকৃতি নিজ থেকেই ঠিক হচ্ছে না এবং এই নিয়ে আপনার মধ্যে বেশ উদ্বেগ কাজ করছে তাহলে আপনার শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। আপনার শিশুর জন্য হয়ত পরবর্তীতে ফিজিওথেরাপিস্ট এর প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে যদি তার মাথা একদিন হতে অন্যদিকে নাড়াতে কষ্ট হয়।

Plagiocephaly এবং brachycephaly এর জন্য সবচাইতে ভালো চিকিৎসা হল শিশুকে নিয়মিত তার মাথা নাড়ানোর ব্যাপারে সাহায্য করা তবে ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে শিশুকে সাহায্য করার পাশাপাশি একজন ফিজিওথেরাপিস্ট এর শরণাপন্ন হতে বলতেও পারেন। বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এমনটা বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই কাজে দেয়।

শিশুর মাথার পরানোর জন্য বিশেষ ধরনের হেলমেট বাজারে পাওয়া যায়। তবে এটা বেশ ব্যয়বহুল এবং ঠিক কতটা কার্যকরী সেটা আদৌ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ধরনের হেলমেট থেরাপিকে ডাক্তারি ভাষায় cranial remoulding অথবা cranial orthosis বলা হয়ে থাকে।

শিশুর মাথার পরানোর জন্য বিশেষ ধরনের হেলমেট বাজারে পাওয়া যায়।

যে সকল শিশুর মধ্যে Plagiocephaly এবং brachycephaly প্রবল আকার ধারণ করেছে এবং বারবার শিশুর মাথার অবস্থা পরিবর্তন করেও তেমন কোন লাভ হয়নি সে সকল শিশুদের জন্য এই চিকিৎসা ফল দিতে পারে। আপনি যদি শিশুর জন্য cranial remoulding চিকিৎসা গ্রহণ করতে চান তবে এর জন্য আপনার ব্যয় করতে হবে বেশ বড় অংকের টাকা। এজন্য প্রায় দুই হাজার পাউন্ডের মত খরচ হতে পারে এবং এর উপর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে শরণাপন্ন হতে হবে। আর এই বিশেষ ডাক্তারের সংখ্যাও খুব একটা বেশি নয়।

এই ধরনের হেলমেট সারাদিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টার মত সময় শিশুর মাথায় খুব আলতো করে প্রয়োজনীয় স্থানে চাপ প্রদান করতে থাকে। এই ধরনের বিশেষ হেলমেটের পেছনে মূল ভাবনা হল, শিশুর মাথার সমতল অংশ যাতে স্বাভাবিক এবং মৃদু চাপের মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়।

একজন বিশেষজ্ঞ খুব ভালভাবে শিশুর মাথার আকৃতি পরিমাপ করে নিবেন। শিশুর মাথার মাপ অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত এই হেলমেটটি শিশুকে মাথায় পরতে হবে। শিশুর মাথায় এটা যদি সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে যায় তাহলে শিশুকে এটা প্রায় কয়েক মাস ধরে দৈনিক ২৩ ঘণ্টা পরে থাকতে হবে। শিশুর মাথা সঠিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে কি না এবং মাথায় সঠিকভাবে খাপ খাচ্ছে কি না এটা দেখার জন্য মধ্যে শিশুকে দুই এক সপ্তাহ পরপর পরীক্ষা করতে হবে।

সবসময় এই হেলমেট মাথায় পরে থাকা শিশুর জন্য বেশ অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তার মাথা প্রচুর পরিমাণে ঘামাতে পারে, তাই প্রায় প্রতিনিয়তই শিশুর মাথা পরিষ্কার রাখতে হবে। এছাড়া সবসময় এই হেলমেট পরে থাকার কারণে শিশুর মাথায় র‍্যাশও হতে পারে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts