সন্তান প্রতিপালনে বাবার সক্রিয় উপস্থিতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক

শেয়ার করে অন্যদের জানাতে সাহায্য করুন

অভিভাবকত্বের ব্যাপারে প্রচলিত মিডিয়া, গল্প, উপন্যাসে কেন যেন বাবাকে বরাবরই দ্বিতীয় কাতারে রাখা হয়। অথচ মা, বাবা দুজনই একজন শিশুর জীবনে সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়ই আমরা দেখতে পাই বাবাকে বিভিন্ন মাধ্যমে আবেগহীন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

বাবার সাথে যেন শুধু টাকার সম্পর্ক! দীর্ঘদিন ধরে এধরনের ভুল উপস্থাপনের কারণে বর্তমান সময়ে এসে বাবারা সন্তান বড় করার বিষয়ে একধাপ পেছনে থাকতে বাধ্য হন। মায়েদের ওপরেই সব দায়িত্ব থাকে।

বিজ্ঞাপণ

অবশ্যই মায়ের ভালবাসা সন্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পেশাল। কিন্তু তা-ই বলে বাবাকে পার্শ্বচরিত্র বানিয়ে দেওয়াটা মোটেও উচিত নয়। একজন সক্রিয় বাবা শিশুর বাড়ন্ত সময়ে মায়ের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। শুধু শিশুকালেই নয়, সন্তানের কৈশোর থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনেও বাবার অনেক গুরুত্ব রয়েছে।

বাবা ও মানসিক বিকাশ

মায়ের মতো বাবাও একটি শিশুর মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিয়ম-কানুন শেখার ব্যাপারে শিশুরা সাধারণত তার বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা চায় বাবা তাদেরকে পথ দেখিয়ে দিক।

শিশুরা বাবার কাছ থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপত্তা আশা করে। শিশুরা তার বাবাকে গর্ববোধ করাতে চায়, তাই বাবা যদি শিশুর পাশে থাকে তখন শিশুর মনের জোর বেড়ে যায় বহুগুণে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা যদি শিশুর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, স্নেহময় হোন, তা শিশুর জ্ঞান বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়নে চমৎকারভাবে প্রভাব ফেলে থাকে।  ‍শুধু তা-ই নয় বাবার সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব শিশুকে ভাল মানুষ হওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাবা এবং শিশুর আচরণের মানদণ্ড

বাবা শুধু শিশুর অভ্যন্তরীণ মানসিকতা নয়, বাহ্যিক আচরণের ক্ষেত্রেও প্রভাব রাখেন। সাধারণত বাবা তার সন্তানের সাথে যেরকম আচরণ করেন, সেটার ওপর ভিত্তি করে সন্তান তার বন্ধু, প্রেমিক/প্রেমিকা এবং জীবনসঙ্গীর সাথে আচরণ করে। অর্থাৎ, শিশু তার বাবার আচরণের দ্বারা ভবিষ্যৎ জীবনে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়।

বাবা ও কন্যার সম্পর্ক

নিরাপত্তা ও ইমোশনাল সাপোর্টের জন্য ছোট মেয়েরা তাদের বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। একজন বাবা তার মেয়েকে দেখান পুরুষের সাথে কীভাবে চমৎকার একটা সম্পর্ক রাখা যায়। যদি বাবা ভালবাসেন, ভদ্র নমনীয় হন, তবে তার মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর, নিজের জীবনসঙ্গী খোঁজার সময় বাবার মাঝে দেখতে পাওয়া গুণাবলী খুঁজবে। বাবা যদি শক্তিশালী এবং সাহসী হোন তাহলে তার মেয়েও সেরকম গুণাবলী সম্পন্ন পুরুষের ঘনিষ্ঠ হতে চাইবে।

বাবা ও ছেলের সম্পর্ক

মেয়েরা তার জীবনসঙ্গীর মাঝে বাবার গুণাবলী খুঁজলেও ছেলেদের বেলায় ব্যাপারটা বদলে যায়। ছেলেরা বরং নিজেই বাবার মতো হওয়ার চেষ্টা করে, বাবাকে আদর্শ মানে। ছেলেরা ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাপারে অনুমতি চেয়ে থাকে।

যদি বাবা যত্নবান হোন, অন্যান্য মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলেন তাহলে তার ছেলেও ছোটবেলা থেকে সেই গুণটি অনুসরণ করে বড় হবে। যদি কোনো শিশুর বাবা না থাকে তাহলে সে অন্য কোনো পুরুষের মাঝে বাবার ছায়া খুঁজে বেড়ায়, সে চায় তার জন্য সেই পুরুষটি প্রয়োজনীয় নিয়ম নির্ধারণ করে দিক। তাকে শেখাক কীভাবে পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়।

বুদ্ধির বিকাশে বাবার অবদান

বাবা হয়তো একটু গম্ভীর প্রকৃতির হন কিন্তু তিনি সাধারণত সন্তানের মানসিক বিকাশ, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা প্রথম এক বছর বাবার সাথে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত ছিল তারা ভবিষ্যৎ জীবনে জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলক ভাল করেছে। জ্ঞানের প্রতি, জানার প্রতি তাদের কৌতুহল ও অন্বেষণ করার ক্ষুধাটাও বেশি।

যেসব শিশুরা বাবার সাথে বেশি সময় কাটায় তারা মৌখিক পরীক্ষা ও গণিত টেস্টে বেশি স্কোর পেয়ে থাকে। শুধু তা-ই নয়, সামনের জীবনে তাদের স্কুল থেকে ড্রপ আউট হওয়া এবং কিশোর বয়সে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেকাংশে কমে যায়।

আত্মবিশ্বাস ও বাবা

একজন বাবা যখন তার সন্তানকে মানসিকভাবে সাপোর্ট করেন, তা সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার হয়ে দাঁড়ায়। সন্তান বুঝতে পারে বাবার কাছে তার মূল্য আছে, বাবা তাকে কতটা ভালবাসেন।

যে সন্তানরা বাবার কাছ থেকে সাপোর্টিভ আচরণ পায়, নিজের প্রতি তাদের দারুণ আত্মবিশ্বাস থাকে, তারা সাধারণত অনেক সুখী হয়। বাবার কাছ থেকে সাপোর্ট পাওয়া সন্তানদের সহ্যক্ষমতা বেশি থাকে এবং তারা বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সামলে নিতে পারে। তারা সহজেই ভেঙে পড়ে না, নতুন পরিবেশে বা কাজে যোগ দিতে তাদের মাঝে দ্বিধা, ভয় ইত্যাদি কম কাজ করে। বাবার সাপোর্ট পাওয়া সন্তানদের চাপের মাঝে কাজ করার সক্ষমতা বেশি থাকে এবং তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

বাবা তার দৃষ্টিভঙ্গি

শিশুরা সাধারণত অনেক প্রশ্ন করতে ভালবাসে। বাবা ও মা তাদের প্রশ্নগুলো উত্তর নিজস্বভাবে দিয়ে থাকেন। স্মার্ট, সক্রিয় বাবা ও মা যখন তাদের নিজেদের মতো করে ভিন্ন ভিন্নভাবে কোনো প্রশ্নের জবাব দেন, তখন সেটা সন্তানের চিন্তার পরিধি বিস্তৃতি করতে সাহায্য করে।

একজন ভাল বাবা জীবনের ব্যাপারে তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সন্তানের সাথে শেয়ার করেন এবং সন্তানকে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবান দক্ষতাগুলোর ব্যাপারে দীক্ষা দেন।

বাবা একটু ব্যতিক্রম

ফাদারিং এক্সপার্ট ডক্টর কাইল প্রুয়েট বলেন, বাবা তার সন্তানের সাথে একটু ভিন্নভাবে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকেন। মাত্র ৮ মাস বয়স থেকেই শিশু তার বাবা ও মাকে আচরণের ভিত্তিতে আলাদা করে চিনতে পারে। বাবা ও মায়ের ভিন্নধর্মী আচরণ, আদরের মাধ্যমে সন্তান আচরণ ভিত্তিক সম্পর্কের ব্যাপারে বুঝতে পারে।

মা সাধারণত শিশুর বোঝার সুবিধার্থে সবকিছু সহজভাবে বলেন, সহজ শব্দ ব্যবহার করেন, শিশু যে আধো আধো শব্দে কথা বলে মা-ও সেইভাবে আধো আধো শব্দ বলে শিশুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বাবা তেমনটা করেন না। বাবা শিশুর সাথে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং নিজের মতো করে শিশুকে তা বোঝানোর চেষ্টা করেন। এতে শিশুর শব্দ ভাণ্ডার বড় হয়।

এভাবে শিশুটি নিজের অজান্তেই সে ধীরে ধীরে বুঝে ওঠে পুরুষ ও নারী ভিন্নভাবে জীবনকে পরিচালনা করে থাকে। এটাও বুঝতে পারে, অন্য প্রাপ্তবয়স্ক ও বাচ্চাদের প্রতি তাদের আচরণেরও ভিন্নতা রয়েছে। শিশুর বিকাশের জন্য এই বোধদয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার।

বাবা ও খেলাধূলা

বাবা কিন্তু সন্তানের সাথে ভিন্নভাবে খেলাধূলা করেন। সুড়সুড়ি দেন, খেলাচ্ছলে কুস্তি করেন, বাচ্চাকে শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে কোলে লুফে নেন ইত্যাদি। পার্থক্য দেখুন, অন্যদিকে মা বলেন, “বাবুকে অত উঁচুতে ছুঁড়ে দিয়ো না!” বাবা সন্তানের সাথে দৌড়াদৌড়ি করেন, কখনোবা দানবের মতো সেজে একটু মজা করে ভয়ও দেখান!

ফাদারিং এক্সপার্ট জন স্ন্যারে বলেন, যেসব শিশু তার বাবার সাথে খেলাধূলা করে তারা শিখে যায় অন্যকে কামড় দেওয়া, লাথি দেওয়া কিংবা কোনরকম শারীরিক আঘাত করা একদম ঠিক নয়। খেলাচ্ছলে বাবা সন্তানকে এসব ব্যাপারে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। বাবার সাথে খেলা করা সন্তানরা একদিকে যেমন ভীতু হয় না, অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাবও রাখে না। বাবা তাদেরকে দুটো মধ্যে ভারসাম্য রাখতে শেখান।

বিজ্ঞাপণ

সাহসের উৎস বাবা

কোনো একটা খেলার মাঠে গিয়ে অভিভাবকদের কথাগুলো খেয়াল করে দেখুন। কে তার সন্তানকে দোলনায় আরেকটু জোরে দোল খাওয়ার উৎসাহ দিচ্ছেন? সাইকেলটা আরেকটু জোরে চালাতে বলছেন? বলটা আরেকটু জোরে ছুঁড়তে বলছেন? আর কে তার সন্তানকে সাবধানে থাকতে বলছেন?

শেষের প্রশ্নের উত্তর আসবে : মা। আর বাকি সবগুলোতে উত্তর আসবে : বাবা। কারণ, মায়েরা রক্ষণশীল হয়ে থাকেন। তারা চান বাচ্চা যেন কোথাও ব্যথা না পায়, যেন কোনো চোট না লাগে। অন্যদিকে বাবারা সন্তানকে অ্যাডভেঞ্চারের জন্য উৎসাহিত করেন। আরেকটু সাহসী হতে বলেন। বাবারা চান তাদের সন্তানরা নিজের সর্বোচ্চটা দিক।

যদি কোনো শিশু ওপরের থাকা দুই পদ্ধতির শুধুমাত্র একটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে সেটা তার জন্য ক্ষতি ডেকে আনবে। শুধুমাত্র মায়ের কথা শুনলে, কোনদিন আত্মবিশ্বাস বাড়বে না, সন্তান ভীতু হবে। আবার শুধু বাবার কথা শুনলে সন্তান হয়ে উঠবে বেপরোয়া, ঝুঁকি বিবেচনা করতে শিখবে না। তাই বাবা-মা দুজনের যৌথ পরামর্শ ও শাসন শিশুর জন্য খুবই জরুরি। যাতে শিশু একই সাথে নিরাপদে থেকে অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করতে পারে এবং নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।

ন্যায়-অন্যায় ও বাবা

গবেষণায় দেখা গেছে, মা সাধারণত সহানুভূতি, যত্ন, সাহায্য ইত্যাদি বিষয়ে সন্তানকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে বাবা চাপ, দায়িত্ব, ন্যায় বিচার, সচ্ছতা ইত্যাদি বিষয়ে জোর প্রদান করেন।

বাবা সাধারণত পদ্ধতিগতভাবে এবং তুলনামূলক কঠোরতার সাথে সন্তানকে এসব ব্যাপারে জ্ঞান দান করেন। ন্যায়ভাবে চললে কী হবে, অন্যায় করলে কী হবে ইত্যাদি বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে মা জোর দেন সহানুভূতি, করুণা ও দয়ার দিকে।

যদি সন্তানের জীবনে যেকোনো একটার উপস্থিতি থাকে, তাহলে তা মঙ্গল বয়ে আনবে না। কিন্তু দুটোর উপস্থিতি ও সমন্বয় সন্তানের মাঝে নিয়ম, ন্যায়-অন্যায় এবং আবেগের উপযুক্ত ভারসাম্য তৈরি করে।

পুরুষের জগত ও বাবা

নারী ও পুরুষ অবশ্যই ভিন্ন। তারা ভিন্নভাবে খাবার গ্রহণ করে, ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পরে। জীবনকে তারা ভিন্ন ভিন্নভাবে সামলে চলে। যে ছেলে ও মেয়েরা বাবার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে থেকে বড় হয় তারা পুরুষের ব্যাপারে বেশি জানে। তারা জানে এই পৃথিবীতে পুরুষেরা কীভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

মেয়ে তার বাবাকে দেখে জানতে পারে একজন আদর্শ পুরুষ নারীদের প্রতি কেমন আচরণ করে। তারা জানে কোন আচরণটি গ্রহণযোগ্য নয়, কোন আচরণটি আপত্তিকর। পুরুষের ব্যাপারে অনেক কৌতুহলের জবাব তাদের কাছে থাকে। বাবার মাধ্যমে তারা জানতে পারে একজন পুরুষের গালের খোঁচা খোঁচা দাড়ি কেমন হয়, সেটার স্পর্শ পেলে কেমন লাগে, একজন পুরুষ যখন তার শক্তিশালী বাহু দিয়ে বুকে জড়িয়ে নেয় তখন কেমন অনুভূতি হয় ইত্যাদি।

এই জ্ঞান মেয়েকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সহায়তা করে। কৌতুহল নিবারণ করতে গিয়ে কোনো অনিরাপদ পুরুষ মানুষের সাথে মেলামেশা করার ঝুঁকি কমে যায়। অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকে।

অন্যদিকে যে ছেলে বাবার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে বেড়ে ওঠে তার মাঝে হিংস্রতা, আগ্রাসী মনোভাব কম থাকে। বাবার কাছ থেকে তারা শেখে কীভাবে নিজের পুরুষত্ব, গায়ের শক্তিকে পজেটিভভাবে ব্যবহার করতে হয়। একজন স্মার্ট, সচেতন বাবা তার ছেলে সন্তানকে তার বয়স অনুযায়ী যৌনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এবং আচরণতগত দীক্ষা প্রদান করে থাকেন।

বাবা ও নির্ভরতা

বাবা তার সন্তানের কাছে পরম নির্ভরতার স্থান। একজন ভাল বাবা তার সন্তানের জন্য আদর্শ পুরুষ হিসেবে ধরা দেন। তিনি সন্তানকে ভাল আচরণ করতে শেখান এবং তার মাঝে আচরণগত উন্নতি আনার ব্যাপারে জোর দিয়ে থাকেন।

ফলশ্রুতিতে, যে শিশুরা বাবার সাথে বেশি সময় কাটায় তাদের আচরণগত ত্রুটি কম থাকে। তারা সমস্যা দেখলে ঘাবড়ে যায় না, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা কম থাকে, দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে এবং সামাজিকতা রক্ষার ব্যাপারে বেশি আন্তরিক হয়। বাবার সাথে বেশি সময় কাটানো সন্তানেরা দয়বান ও উদার হয়ে থাকে। তারা অন্যের প্রয়োজন ও অধিকারের ব্যাপারেও অধিক সর্তক থাকে।

বিজ্ঞাপণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা স্রেফ ঘরের দ্বিতীয় অভিভাবক নন। একজন সক্রিয় বাবা তার সন্তানের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রভাব রাখতে পারেন। সেই প্রভাবগুলো অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাই বাবাকে অবশ্যই তার নিজের গুরুত্ব বুঝতে হবে এবং সন্তানের সাথে সেই মোতাবেক নিজেকে পরিচালনা করতে হবে। তবেই আমরা আগামী প্রজন্মের মাঝে চমৎকার মানুষদের দেখা পাবো। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। 

সবার জন্য শুভকামনা।


শেয়ার করে অন্যদের জানাতে সাহায্য করুন

Related posts