শিশুর চিকেনপক্স : লক্ষণ, করণীয়, প্রতিরোধ

Updated on

ভেরিসেলা-জোস্টার ভাইরাস দ্বারা বাহিত অত্যন্ত সংক্রামক এক রোগ চিকেনপক্স। যদিও একসময় শিশুদের এই রোগটা বেশ নিয়মিতই ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়তো, কিন্তু ১৯৯৫ সালে চিকেনপক্সের টিকা আবিষ্কারের পর এই রোগের মহমারি রুপ ধারণ করাটা অনেকটা কমে এসেছে এখন।

শিশুর বয়স ১২ মাস হওয়ার আগ পর্যন্ত সে চিকেনপক্সের টিকা নিতে পারে না। তবে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই সময়ে ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের চিকেন পক্স হওয়ার ঘটনা প্রায় ৯০% পর্যন্ত কমে এসেছে। এর কারণ খুব সম্ভবত টিকার কারণে সৃষ্টি হওয়া ‘সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা’।

সঠিক বয়স না হওয়া কিংবা অন্য কোন কারণে যেসব শিশুকে কোন রোগের টিকা দেওয়া যায়না, সে রোগ থেকে তাদের সুরক্ষার জন্যে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ কাজের।

একটা নির্দিষ্ট এলাকার বিরাট অংশের মানুষকে যখন কোন রোগের টিকা দেওয়া হয়ে যাবে, তখন সে এলাকায় ওই রোগের মহামারি রুপ ধারণ করার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়। ঠিক এভাবেই চিকেনপক্সের টিকা দিয়ে একটা বিরাট অংশের শিশুকে সুরক্ষিত করে ফেলার পর, টিকা আবিষ্কারের পূর্বের তূলনায় এখন শিশুর চিকেনপক্সের সংক্রমণ অনেকটাই কমে এসেছে।

শিশু যদি চিকেনপক্সে আক্রান্ত ব্যাক্তি অর্থাৎ সংক্রামকের সংস্পর্শে আসে, তার চিকেনপক্স হওয়ার বেশ সম্ভাবনা থাকে তবে শিশুর শরীরে যদি ‘প্যাসিভ ইমিউনিটি’ থাকে, সেক্ষেত্রে পক্সের মাত্রাটা অনেকটা কমে যায়।

‘প্যাসিভ ইমিউনিটি’ হলো মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে এবং জন্মের পর শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে যায়।

মা যেমন শিশুকে চিকেনপক্স থেকে রক্ষা করতে পারে, আবার মায়ের শরীর থেকেও শিশুর শরীরে চিকেনপক্সের ভাইরাস চলে যেতে পারে। মা গর্ভবতী থাকা অবস্থায় কিংবা পরে যদি এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে, তবে শিশুরও চিকেনপক্স হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। প্রসবের ৫ দিনের মধ্যে বা জন্ম নেয়ার দুই দিনের মধ্যে যদি মায়ের কাছ থেকে এ রোগের সংক্রমণ হয় তবে বাচ্চার জটিলতা দেখা দিতে পারে।

চিকেনপক্স হওয়ার কারণে শরীরে যে ফুসকুড়িগুলো উঠে সেগুলো কিংবা সেগুলো থেকে বের হওয়া পুঁজ যদি সরাসরি শিশুর শরীরে লাগে, সেক্ষেত্রেও শিশুর শরীরে চিকেনপক্স সংক্রমিত হয়ে যায়।

শিশুর চিকেনপক্সের লক্ষণ, কিভাবে তা চিকিৎসা করা যায় এবং চিকেনপক্সের প্রতিরোধ ব্যাবস্থা কেমন হতে পারে, তা নিয়েই এই আর্টিকেল।

শিশুর চিকেনপক্সের লক্ষণ

শিশুর চিকেনপক্স হলে প্রথমত নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো শিশুর মধ্যে দেখা যেতে পারে:

  • জ্বর; শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ১০১° ফারেনহাইট থেকে ১০২° ফারেনহাইটের (৩৮.৩° সেন্টিগ্রেড – ৩৮.৯° সেন্টিগ্রেড) আশেপাশে থাকবে।
  • শিশুর খাওয়ার রুচি কমে আসা, কম খাওয়া
  • কাশি
  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
  • শিশু অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়া
  • অতিরিক্ত ঘুমানো

চিকেনপক্সের কারণে শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি উঠার এক থেকে দু’দিন আগে এই উপসর্গগুলো দেখা যেতে পারে। এরপর শিশুর ঘাড়ে, পেটে, মাথার তালুতে এবং মুখে ছোট ছোট লালচে চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি দেখা দেবে। এরপর ধীরে ধীরে ফুসকুড়ি সারা শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়িগুলো হালকা কিংবা ভয়াবহ দুই মাত্রারই হতে পারে। টানা দুই থেকে চার দিনে পুরো শরীরে প্রায় ২০০ থেকে ৫০০’র মতো ফুসকুড়ি দেখা যায়।

চিকেনপক্সের ফুসকুড়ির বিভিন্ন পর্যায় আছে। প্রথমে ফুসকুড়িগুলো লাল লাল দানাদার মতো থাকে এবং কদিনের মধ্যেই সেগুলো পুঁজযুক্ত ফোস্কায় পরিণত হয়। কদিনের মধ্যে আবার ফোস্কা ফেটে পুঁজগুলো বেরিয়ে গেলে ফুসকুড়িগুলো গর্তের মত হয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে এটা উপরের চামড়ার সমান হয়ে খোসের মত হয়ে যায়, শুকিয়ে যায় এবং ভালো হওয়া শুরু করে।

চিকেনপক্স সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। যেহেতু পুরো শরীরে ধীরে ধীরে একের পর এক ফুসকুড়ি উঠে তাই একেকটা ফুসকুড়ি একেক পর্যায়ের হতে পারে। কোনটা এখনো লাল দানাদার থাকা অবস্থায় অন্য আরেকটা হয়তো পুঁজযুক্ত ফোস্কায় পরিণত হয়েছে, আবার একই সময়ে কোনোটা হয়ত পুঁজ বের হয়ে গর্তমতো হয়ে গিয়েছে – এমন হতে পারে।

শিশু চিকেন পক্সের ভাইরাসে আক্রান্ত হলে লক্ষণ দেখা দিতে কতদিন সময় লাগে? 

চিকেনপক্স বেশ ছোঁয়াচে একটি রোগ। ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তির কাশি, লালা এবং ফুসকুড়ির পুঁজ থেকে সহজেই আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ভাইরাস আক্রান্ত ব্যাক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমেও ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেই বাতাসে কেউ নিঃশ্বাস নিলে, নিঃশ্বাসের মাধ্যমেও সংক্রমিত হয়ে যেতে পারেন।

ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে চিকেন পক্সের লক্ষণ দেখা দেয়া শুরু করে।

চিকেনপক্স আক্রান্ত ব্যাক্তি কতদিন ‘ছোঁয়াচে’ থাকে?

চিকেনপক্সে আক্রান্ত রোগী ফুসকুড়িগুলো গায়ে দৃশ্যমান হওয়ার দু’দিন আগে থেকেই ‘ছোঁয়াচে’। গায়ের ফুসকুড়ি গুলো খোস অর্থাৎ শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে সংক্রামকের ভূমিকা পালন করতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ৫ দিন বা এর বেশী সময় ধরে এটা চলে। তাই জ্বর শুরহ হওয়ার পর থেকে শিশুকে কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ দিন ডে কেয়ার কিংবা বাইরে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা উচিত।

শিশুকে কি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আছে?

শিশুর জ্বর এবং ফুসকুড়ির লক্ষণগুলো দেখে আপনার যদি সন্দেহ হয় যে শিশুর চিকেনপক্স হয়েছে, আপনার উচিত হবে সাথে সাথেই ডাক্তার দেখানো- এমনকি ফুসকুড়ি কিংবা উপসর্গগুলি যত সামান্যই হোকনা কেন!

শিশুর ডাক্তারকে বুঝতে দিন শিশুর নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো হচ্ছে কিনা। নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো পরীক্ষা করলে শিশুর কোন মাত্রার চিকেনপক্স হয়েছে, কতটা সিরিয়াস- তা ডাক্তার নিরুপন করতে পারবেন:

  • শিশুর জ্বর ১০২° ফারেনহাইট (৩৮.৯° সেলসিয়াস) বা এর বেশী
  • এক চোখ কিংবা দুই চোখেই ফুসকুড়ি
  • ফুসকুড়ি স্পর্শ করলে গরম লাগছে কিনা
  • অতিরিক্ত দুর্বল এবং অনেক বেশী ঘুমানো
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
  • প্রচুর কাশি
  • বমি
  • দ্রুত নিঃশ্বাস নেওয়া
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • মাংসপেশি কাঁপছে কিনা

 শিশুর চিকেন পক্স হলে তার চিকিৎসা কি?

যেহেতু চিকেনপক্স একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই কোন প্রকার এন্টিবায়োটিক এক্ষেত্রে কাজ করে না। তবে চিকেনপক্সের ফুসকুড়ির পাশাপাশি যদি ব্যাকটেরিয়াজনিত কোন ফুসকুড়ি উঠে, সেক্ষেত্রে ডাক্তার এন্টিবায়োটিক দিতে পারেন।

চিকেনপক্সের ফুসকুড়ি চুলকালে কিংবা হাত দিয়ে ঘসলে সেখানে ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। তাই এই ইনফেকশন এড়াতে শিশুকে হাতে হাতমোজা পড়ানো এবং নখ কেটে দেওয়া যায়। বিশেষত, গোসলের পর শিশুর শরীর মুছতে গিয়ে যাত্র জোরে ঘসা না লাগে , সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দিন। জোরে জোরে না মুছে, তোয়ালে দিয়ে আলতো করে উপরে উপরে মুছে দিন। তাহলে ফুসকুড়ির চুলকানিটাও কমবে কিছুটা।

বাচ্চার যদি জটিলতার ঝুঁকি থাকে তবে ডাক্তার থাকে অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ দিতে পারেন। বিশেষ করে বাচ্চা যদি প্রি ম্যাচিওর হয় এবং তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি দুর্বল থাকে।

রোগীকে যথাসম্ভব আরাম বা প্রশান্তি দেওয়া, এটাই চিকেনপক্সের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য। অন্যান্য বয়ষ্ক শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসা যেমন, আপনার ছোট্ট শিশুর চিকেনপক্সের চিকিৎসাও তেমনই:

  • ক্যালামাইন লোশন প্রয়োগ এবং ওটমিল দ্বারা গোসলের মাধ্যমে অতিরিক্ত চুলকানি অনেকটা লাঘব করা যায়।
  • শিশুকে প্রচুর বিশ্রামে রাখতে হবে
  • শিশুকে প্রচুর পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে

আপনার শিশুর বয়স যদি তিন মাসের কম হয়, সেক্ষেত্রে ডাক্তারকে না জানিয়ে কোনভাবেই জ্বর কমানোর ঔষুধ দেবেন না। এছাড়া, শিশুকে কোনভাবেই এসপিরিন দেওয়া যাবে না। এসপিরিন শিশুকে ভয়াবহ রোগ ‘রে’স সিন্ড্রোম’এর দিকে নিয়ে যেতে পারে।

শিশুর চিকেনপক্স হলে সম্ভাব্য  জটিলতাগুলো কি কি হতে পারে?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকেনপক্স কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই ক’দিন কষ্ট দিয়ে আপনা আপনিই চলে যায়। স্বাভাবিক মাত্রার হোক কিংবা ভয়াবহ মাত্রার, একবার চিকেনপক্স হলে কিংবা চিকেনপক্সের টিকার একটি ডোজ দিলে বেশিরভাগ মানুষের শরীর চিকেনপক্স থেকে সুরক্ষিত হয়ে যায়। তবে কারো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি তত একটা ভালো না থাকে, সেক্ষেত্রে একবার চিকেনপক্স হওয়ার পর আবারো হওয়াটা অসম্ভব নয়।

গর্ভবতী নারীর চিকেনপক্স হলে, তা শিশুর জন্যে বেশ কিছু ভয়াবহ জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে চিকেনপক্স হলে, জন্মের সময় শিশুর কম ওজন কিংবা অঙ্গ বিকৃতি ঘটতে পারে। শিশু জন্ম দেওয়ার কাছাকাছি সময়ে অর্থাৎ জন্ম দেওয়ার আগে বা পরপর সময়ে চিকেনপক্স হলে সেটা থেকে শিশুর ভয়াবহ ইনফেকশন হতে পারে, যাতে জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে।

যেসব শিশু মায়ের শরীর থেকে ‘প্যাসিভ ইমিউনিটি’ অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না, তাদেরও বিভিন্ন জটিলতায় পড়ার বেশ সম্ভাবনা রয়ে যায়। যার মধ্যে আছে –

  • সেপসিস
  • গলায় ইনকফেকশনসহ ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্যান্য ইনফেকশন
  • এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কপ্রদাহ
  • পানিশূন্যতা
  • নিউমোনিয়া

[ আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় চিকেন পক্স কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ]

চিকেনপক্স প্রতিরোধে টিকা

Vaccines.gov এর মতে, চিকেনপক্সের দুইটা ডোজ সম্পূর্ণ করতে পারলে, এর ঝুঁকি প্রায় ৯৪% পর্যন্ত কমিয়ে আনা যায়। তবে ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে এই টিকা দেওয়া যায় না। শিশুর বয়স ১২ মাস পার হলে এর পর থেকে এই টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া যায়।

শিশুকে চিকেনপক্স থেকে আরো সুরক্ষিত রাখতে, তার বয়স ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে তাকে আরেকটি বুস্টার ডোজ দেওয়া উচিত। কারণ প্রথম ডোজটির ক্ষমতা ৫ বছরের মধ্যে অনেকটা কমে যায়। যেসব শিশুকে টিকা দেওয়া যায় নি কিংবা টিকা দেওয়া হয় নি, তাদেরকে চিকেনপক্সে আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখা উচিত।

হার্ড ইমিউনিটি (Herd Immunity) অর্থাৎ সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুকে চিকেনপক্স থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। কিন্তু আপনি যদি এমন কোন পরিবেশে থাকেন, যেখানে টিকা দেওয়াটা খুব বেশী একটা সাধারণ ব্যাপার নয়, সেক্ষেত্রে আপনার শিশুকে অন্যান্য শিশুদের থেকে কিছুটা নিরাপদে রাখাই শ্রেয়।

পরিশেষ

চিকেনপক্সের টিকা আসার পর বিশ্বজুড়ে এর পাদুর্ভাব অনেকটা কমে এলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নিয়মিতই চিকেনপক্স দেখা যায়। আপনার যদি সন্দেহ হয় যে হয়তো আপনার শিশুর  চিকেনপক্স হয়েছে, সাথে সাথে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

সাধারণত অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকেনপক্সকে অত সিরিয়াস কোন রোগ বলা যাবে না, তবে সঠিক যত্নের অভাবে এর পরিণতি ভয়াবহ হতেই পারে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts