শিশু রাতে জেগে থাকে আর দিনে ঘুমায় ? সম্ভাব্য কারণ এবং করণীয় কি

শেয়ার করে অন্যদের জানাতে সাহায্য করুন

শুধু আপনি একা নন। এই প্রশ্ন লাখ লাখ অভিভাবকের। কেন তাদের বাচ্চা সারাদিন ঘুমায় কিন্তু রাতে জেগে থাকে? কেন রাতে তাদেরকে শান্তিতে ঘুমোতে দেয় না? চলুন এই সমস্যার কারণ এবং প্রতিকারগুলো জেনে নেওয়া যাক।

বাচ্চা রাত, দিনের পার্থক্য বোঝে না

আমাদের শরীরে একটি ঘড়ি আছে, যাকে দেহঘড়ি বলা হয়। এই দেহঘড়ির নিজস্ব ছন্দ আছে যাকে বলা হয় সিরক্যাডিয়ান রিদম (circadian rhythm)।  দেহঘড়ি আমাদেরকে রাত, দিনের সাথে অভ্যস্ত করতে সহায়তা করে। আমাদের দেহে একধরনের সহজাত ছন্দ কিংবা রুটিনের জন্ম দেয়। আমরা দিনে কাজ করি, রাত হলে আমাদের ওপর ক্লান্তি ভর করে, আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। এই দেহঘড়ির অবস্থান আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে। মস্তিষ্কের এই অংশ বাহ্যিক জিনিস থেকে সংকেত নিয়ে আমাদের শরীরকে জানায়, এবার ঘুমোনোর সময় হয়েছে।

বিজ্ঞাপণ
Loading...

একজন নবজাতক শিশু রাত, দিনের পার্থক্য বুঝতে পারে না কারণ তার দেহঘড়ি এখনো বিকশিত হয়নি। বাবা, মা বাচ্চাদের কাছ থেকে অবাস্তব আশা করে বসে থাকেন। তারা ভাবেন তাদের বাচ্চাটি বড়দের মতো দিনে জেগে থাকবে আর রাতে লক্ষ্মীর মতো ঘুমোবে! বাবা, মাকে মাথায় রাখতে হবে একটি শিশু ৯ মাস মায়ের গর্ভে ছিল, অন্ধকারে ছিল। পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বাহিক্য দুনিয়ার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিশুর যথেষ্ট সময় লাগবে। সবকিছু চট করে ঠিক হয়ে যাবে না।

বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পর প্রথম ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত রাত, দিন আলাদা করতে পারে না, গুলিয়ে ফেলে।

বাচ্চা ক্ষুধার্ত

নবজাতক শিশুরা সাধারণত একবারে অনেক খাবার গ্রহণ করতে পারে না। যদি আপনি বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে জেনে রাখবেন, দুধ খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। তার মানে, বাচ্চা খুব দ্রুত পুনরায় ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠে।

সদ্য মা হওয়া নারীর দেহে অক্সিটসিন এবং প্রোল্যাকটিনের পরিমাণ রাতের বেলা বেড়ে যায় তাই রাতে মায়ের বুকে বেশি দুধ আসে। এতে বাচ্চার অভ্যাস হয়ে যায় রাতে বার বার জেগে খেতে চাওয়া।

বাচ্চা অসুস্থ

আপনার বাচ্চার শরীর সবসময় কিছু না কিছু ঘটে চলেছে। হয়তো সেগুলোর কারণে সে খুবই অস্বস্তিবোধ করছে। বিভিন্ন কারণে আপনার বাচ্চা অস্বস্তিবোধ করতে পারে। যেমন :

উপরোক্ত সমস্যারগুলো যেকোনো একটা হলেই আপনার বাচ্চা প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ভুগবে। সে রাতে ঘুম থেকে জেগে যাবে। যদি দেখতে পান, বাচ্চার যন্ত্রণা হচ্ছে কিংবা এলার্জির সমস্যা বাড়ছে তাহলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।

যদি দেখতে পান গ্যাসের সমস্যার কারণে বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করছে তাহলে প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া কিছু পন্থা অবলম্বন করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যেমন : পেট থেকে গ্যাস বের করে দেওয়ার জন্য বাচ্চার শরীর মাসাজ করে দেওয়া, ঢেঁকুর তোলানো ইত্যাদি।

বাচ্চা আপনাকে কাছে চায়

কিছু বাচ্চা তাদের বাবা, মাকে এত ভালবাসে যে তারা ঘুমিয়ে নষ্ট করতে চায় না, বরং বাবা, মায়ের সাথে সুন্দর সময় কাটাতে চায়, আদর চায়, খেলা করতে চায়। হোক সেটা দিনের বেলা কিংবা মাঝরাতে!

আপনার বাচ্চা একটু বেশিই স্পর্শকাতর

সাধারণত বাচ্চারা স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু বাচ্চা একটু বেশিই স্পর্শকাতর হয়। বেশি উদ্দীপনা, উত্তেজনা তাদের চোখ থেকে ঘুম কেড়ে নিতে পারে। এত উত্তেজনার উৎস কী? ছোট বাচ্চারা যেহেতু মায়ের ওপর সর্বক্ষণ নির্ভরশীল থাকে তাই সাধারণত উত্তেজনার উৎস হয়- মা। যদি মা অনেক বেশি চকলেট খান তাহলে সেটার প্রভাব তার বুকের দুধে পড়ে এবং সেই দুধ পান করে নবজাতক সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তাই যেসব মায়েরা বুকের দুধ খাওয়ান তাদের উচিত নিজের খাদ্যতালিকার প্রতি কঠোর নজর রাখা। মনে রাখতে হবে, আপনি শুধু নিজের জন্য খাচ্ছেন না, আপনার বাচ্চাও সরাসরি আপনার খাবার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

যেসব বাচ্চারা রাতে জেগে থাকে, সাধারণত তাদের এই আচরণের সাথে তাদের মায়ের খাদ্যতালিকার প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকে। হয়তো তাদের মা এমন কিছু খাবার হিসেবে গ্রহণ করছেন, যা বাচ্চাদের পেটের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না।

এছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, বাচ্চা যদি সারাদিন অনেক বেশি হইহুল্লা করে কিংবা আওয়াজের ভেতরে থাকে তাহলে রাতে তার ঘুমোতে সমস্যা হয়। রাত নামার সাথে সাথে সে বড়দের মতো হুট করে শান্ত হতে পারে না, ঘুমিয়ে যেতে পারে না।

আপনার বাচ্চার রাতে ঘুমানোর রুটিন যেভাবে তৈরি করবেন

দিনের বেলাকে উত্তেজনাময় করে রাখুন

বাচ্চার বয়স ২ সপ্তাহ হয়ে গেলে, তখন থেকে এই কৌশল অবলম্বন করতে শুরু করুন। তাকে শেখানোর চেষ্টা করুন, “রাতের বেলা, অন্ধকারে আমরা ঘুমোই আর দিনের বেলা, আলোতে আমরা জেগে থাকি, মজা করি।”

কিন্তু কাজটা কীভাবে করবেন? বাচ্চাকে সকালের আলো অনুভব করতে দিন। তাকে সূর্যের আলোর সাথে পরিচিত করান। সূর্যের আলো যেভাবে আপনাকে সকালে ঘুম থেকে ওঠার সংকেত দেয় ঠিক তেমনি আপনার সন্তানকেও সংকেত দেবে। আপনার কাজ হলো আপনার সন্তানের “দেহঘড়ি” বিকশিত হতে সাহায্য করা।

এখানে জেনে রাখা প্রয়োজন, শুধু আলোই কিন্তু দেহঘড়িকে বিকশিত করে না। আলোর পাশাপাশি পারিপাশ্বির্ক কার্যক্রম অনেক বড় ভূমিকা রাখে। আপনার বাচ্চাকে বোঝাতে হবে, আলো ফুটলে দিনের বেলায় সব মজার মজার কর্মকাণ্ড ঘটে। সবাই ব্যস্ত থাকে, কাজ করে, হুল্লোড় করে।

যদি আপনার বাচ্চা দিনের বেলায় ঘুমোতে চায়, তাকে জোর করে জাগিয়ে রাখবেন না। তাকে ঘুমোতে দিন। কিন্তু রুমের পরিবেশ একেবারে রাতের বেলার মতো করে ফেলবেন না। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করুন, পরিবারের বড় সন্তান থাকলে তাদের সাথে কথা বলুন, খেলুন। এভাবে আপনার বাচ্চাকে বুঝিয়ে দিন, এটা দিনের বেলা। সে চাইলে ঘুমোতে পারে কিন্তু রাতের বেলার মতো পরিবেশ এখন পাবে না। এভাবে তাকে দিনের বেলা এবং রাতের বেলার মাঝে পার্থক্য বুঝিয়ে দিন।

যদি আপনার বাচ্চা দিনে বেশি ঘুমোয় সেক্ষেত্রে আপনাকে একটু ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে হবে। তাকে সারাদিন ঘুমোতে দেওয়া যাবে না। বাচ্চাকে জাগিয়ে দিতে হবে। নইলে সারাদিন ঘুমিয়ে সে সারারাত জেগে থাকবে।

বাবা কিংবা মা হিসেবে নিজের সন্তানের খাবারের রুটিন সম্পর্কে আপনিই সবচেয়ে ভাল বলতে পারবেন। বাচ্চা যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমিয়ে ফেলে তাহলে তাকে জাগিয়ে খাবার খাইয়ে দিন। হুট করে টেনে তুলবেন না বা জাগিয়ে দেবেন না। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে তার ঘুম ভাঙান, তাকে যদি কাঁথা জড়িয়ে রাখা হয়ে তবে তা খুলে দিন, গালে, হাতে বা পায়ে আলতো হাত বুলিয়ে দিন বা তাকে সোজা করে ধরুন। তারপর তাকে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে তার সাথে কথা বলুন, গান গান, খেলনা নিয়ে তার সাথে খেলুন, শব্দ করে এরকম খেলনা ব্যবহার করুন; তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন “যথেষ্ট ঘুমিয়েছো এবার জেগে থাকো”।

রাতকে অন্ধকার এবং বোরিং করে দিন

বাচ্চার রুমকে রাতের বেলা অন্ধকার এবং সুনসান করার ব্যবস্থা করুন। বাচ্চা যখন মাঝরাতে খাওয়ার জন্য জেগে উঠবে কিংবা তার ডায়াপার বদলানোর দরকার পড়বে তখনো অন্ধকার, সুনসান পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করুন। এটা বাচ্চাকে দিনের বেলা আর রাতের বেলার মাঝে পার্থক্য করতে সাহায্য করবে।

রাতে যখন বাচ্চা খাওয়ার জন্য জেগে উঠবে তখন প্রথমে তার ডায়াপার বদলে দেবেন তারপর খাওয়াবেন। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিকভাবে কিছু জড়তা থাকে। তাই প্রথমে ডায়াপার বদলে দিলে বাচ্চার শরীর থেকে সেই জড়তাগুলো কেটে যায় এবং তারপর বাচ্চা পেট ভরে খাবার খেতে পারে।

শরীরে জড়তা থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করতে পারে না। ফলে দেখা যায়, তারা ২-৩ মিনিট বুকের দুধ টেনেই ঘুমিয়ে পড়ছে এবং ১ ঘণ্টা পড়েই আবার ক্ষুধার কারণে জেগে উঠছে। অথচ সে যদি পেট ভরে দুধ পান করতো তাহলে দিব্যি ২-৩ ঘণ্টা একটানা ঘুমোতে।

দিনের বেলার ঘুমের রুটিন সংশোধন

যদি আপনার বাচ্চা রাতে ঠিকভাবে না ঘুমায় তাহলে তার দিনের ঘুমের রুটিনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি তার ক্লান্তি, বিশ্রাম ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়েও সচেষ্ট হতে হবে। দেখা যায়, যেসব বাচ্চা বেশি ক্লান্ত থাকে তারা ঘুমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা করে। অতিরিক্ত ক্লান্তি বাচ্চাকে শান্তভাবে ঘুমোতে দেয় না। করটিসল নামের একটি হরমোন আছে, যা নিঃসৃত হয়ে আমাদের দেহের ক্লান্তির সাথে যুদ্ধ করে। হরমোনের এই যুদ্ধ বাচ্চার ঘুমের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটায়।

দেখা গেছে, বাচ্চারা দিনে পরিমাণ মতো ঘুমোলে, রাতেও ঘুমায়। হয়তো পুরো রাত ঘুমায় না, কিন্তু ঘুমায়। তাই বাচ্চাকে দিনে ঘুমোতে দিন। তাকে একেবারে ক্লান্ত করে ফেলবেন না। অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে গেলে তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটবে। গবেষণায় এটাও দেখা গেছে যেসব শিশু দিনে বেশ কয়েকবার অল্প সময়ের ঘুম দেয় তারা সাধারণত সেসব শিশুদের চাইতে রাতে ভালো ঘুমায় যারা দিনের বেলা কম বার কিন্তু লম্বা সময়ের জন্য ঘুমায়।

এভাবে সচেতনভাবে বাচ্চার দিনের ঘুমের রুটিনে এদিক, ওদিক করলে ভাল ফল পাওয়া সম্ভব। মনে রাখতে হবে, নবজাতকরা কখনোই প্রাপ্তবয়স্কদের মতো সারারাত ঘুমোবে না। তারা দিনেও ঘুমোবে, রাতেও ঘুমোবে। তবে দিনে বেশি ঘুমোবে নাকি রাতে বেশি ঘুমোবে তা নির্ভর করছে বাবা, মায়ের দক্ষতা এবং সচেতনতার ওপর।

বিজ্ঞাপণ
Loading...

বাচ্চাকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখা

বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে চার বা পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত তার মাঝে সহজাতভাবে একধরনের চমকে ওঠার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ঘুমের মাঝে তাদের মনে হয় তারা কোনো উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছে। এইধরনের অনুভূতির কারণে তারা ঘুমের ভেতরেই সবেগে হাত, পা ছোঁড়ে। হাত, পা ছোঁড়ার ফলে তাদের শরীরে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয় এবং তাদের ঘুম ভেঙে যায়।

বাচ্চাকে কাপড় দিয়ে একটু  শক্ত করে জড়িয়ে রাখলে কিংবা পেঁচিয়ে রাখলে এই তীব্র ঝাঁকুনির ধাক্কাটা অনেকাংশে কমিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে তারা ঘুমের ভেতরে হাত, পা ছুঁড়লেও সেটা তাদের ঘুম ভাঙাতে পারে না এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে নির্বিঘ্নে ঘুমোতে পারে।

বাচ্চাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে খাওয়াবেন না

যদি আপনার বাচ্চার বয়স যদি ২ মাসের বেশি হয় এবং তার ওজন যদি যথাযথভাবে বাড়তে থাকে তাহলে রাতে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে খাওয়াবেন না। আপনার বাচ্চাকে তার নিজস্ব ঘুমের রুটিন তৈরি করে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সে যদি দিনে বেশি খেয়ে থাকে তাহলে তাকে রাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খাওয়ানোর কোনো দরকার নেই।

[ আরও পড়ুন- খাওয়ানোর জন্য নবজাতককে ঘুম থেকে জাগানো কি উচিত ? ]

আপনার শিশুকে নিজে নিজে ঘুমিয়ে পড়তে উতসাহ দিন

শিশু কিংবা প্রাপ্ত বয়স্ক, আমরা সকলেই প্রতিরাতে অল্প সময়ের জন্য কয়েকবার জেগে উঠি(কখনো তা কয়েক সেকেন্ড হতে কয়েক মিনিট হতে পারে)। আমরা প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষেরা আবার নিজে নিজে ঘুমিয়ে পড়ি, যা আমাদের সকালে মনেও পড়ে না।

সারা রাত ঘুমিয়ে পার করার চাবিকাঠি হলো এভাবে ঘুমিয়ে পড়তে পারা। কিছু শিশুকে তা স্বাভাবিক ভাবেই করতে দেখা যায়।  কিন্তু যদি আপনার শিশু না পারে তাহলে তাকে এই দক্ষতা আয়ত্ত করতে হবে।

শিশু যখন খাবার খায়, কোলে থাকে অথবা আপনার বিছানায় থাকে সেই অবস্থায় যাতে শিশু ঘুমিয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। শিশুর মধ্যে যখন ঘুমিয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখবেন তখন তাকে তার বিছানায় রেখে দিন যাতে করে সে নিজ থেকেই ঘুমিয়ে যায়। এই ধরনের কাজের মুল উদ্দেশ্য হল শিশু যাতে করে নিজে থেকেই ঘুমানো শিখে যায়, এতে করে পরবর্তীতে শিশুর ঘুম পাড়ানোর জন্য আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হবে না। 

[ আরও পড়ুন- বাচ্চাকে কিভাবে ঘুমের প্রশিক্ষণ দেবেন।]

যা করা যাবে না

বাচ্চা সারারাত ঘুমোবে ভেবে তাকে সারাদিন জাগিয়ে রাখা ঠিক হবে না। “দিনে জাগবে, রাতে ঘুমোবে” কথাটা শুনতে ভাল মনে হলেও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা বরং হিতে বিপরীত হয়ে যায়। এই কৌশল অবলম্বন করতে গেলে বাচ্চাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, তারা বেশি কান্নাকাটি করে, তাদেরকে শান্ত করা কঠিন হয়। ফলশ্রুতিতে দেখা যায়, বাচ্চারা দিনে ঘুমাতে পারে না অন্যদিকে রাতেও কম ঘুমায়। অপর পক্ষে যেসব বাচ্চারা সাধারণ রুটিনে থাকে তারা উপরোক্ত বাচ্চাদের চেয়ে রাতে বেশি ঘুমিয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপণ
Loading...

অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে, বাচ্চারা ঘুমানোর আগে কিছু সংকেত দেয় কিংবা তাদের আচরণে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাদের চোখে ঘুমঘুম ভাব চলে আসে, তারা হাই তোলে কিংবা হৈচৈ বাধিয়ে দেয়, ছটফট করে। মূলত এভাবেই বাচ্চারা সংকেত দেয়, তারা বোঝাতে চায় “আমার ঘুম পেয়েছে। আমি এখন ঘুমোবো।” বাবা, মায়ের উচিত এসব সংকেতের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং সেগুলো আমলে নেওয়া।

এমনও হতে পারে বাচ্চা হয়তো অল্প কিছুক্ষণ আগেই ঘুম থেকে উঠেছে কিন্তু আবার ঘুমানোর সংকেত দিচ্ছে; এটাও গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। অনেক বাচ্চা আছে যারা স্বল্প বিরতিতে পুনরায় ঘুমিয়ে যায়। বাচ্চাদের এসব সংকেত, ইঙ্গিত বুঝতে বাবা, মা দেরি করে ফেললে বা বুঝতে ব্যর্থ হলে বাচ্চারা ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে যায় এবং তারা কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। তাই সংকেত বুঝে বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানো জরুরি। এতে বাচ্চারা সহজেই ঘুমিয়ে পড়ে এবং তাদের ঘুমটা ভাল হয়।

শেষ কথা

রাত জুড়ে ঘুমানোর ব্যাপারে অভ্যস্ত হতে আপনার ছোট্ট সন্তানটির কিছুটা বাড়তি সময় লাগতে পারে। সাধারণত বাচ্চার বয়স তিন মাস হয়ে গেলে তারা দিন এবং রাতকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারে। তখন থেকে তারা রাতে বেশি ঘুমোতে শুরু করে এবং দিনে কম ঘুমায়।

এটাও মনে রাখা দরকার, আপনার সন্তান রাতে ঘুমালো নাকি দিনে ঘুমালো তারচেয়ে বেশি জরুরি হলো তার ঘুমটা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা। রাত, দিন মিলিয়ে একটি শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম হতে হবে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২৪ ঘণ্টার মাঝে একজন নবজাতকের কমপক্ষে ১৬ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। তাই আপনি যদি বাচ্চাকে রাতে ঘুমানোর অভ্যাস করিয়ে ফেলেন তারপরেও সে দিনের বেলায় বেশ কয়েক ঘণ্টা ঘুমোবে। অন্যদিকে রাতে কয়েক ঘণ্টা নিজে জেগে থাকার পাশাপাশি আপনাকেও জাগিয়ে রাখতে পারে। অন্তত সন্তান জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস আপনাকে এই বিষয়টির মুখোমুখি হতে হবে।

তাই ব্যাপারটা মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা তৈরি করুন এবং সুযোগ পেলে দিনের বেলা বাচ্চার সাথে আপনিও একটু ঘুমিয়ে নিন। তাহলে রাতের বেলায় বাচ্চার সাথে আপনিও জেগে থাকতে পারবেন, তাকে সঙ্গ দিতে পারবেন।

সবার জন্য শুভকামনা।

A Guide to Your Baby’s Sleep Patterns – https://www.whattoexpect.com/baby-behavior/infant-sleep-patterns.aspx

Why is my newborn awake all night and sleeping all day? – https://www.todaysparent.com/baby/baby-sleep-when-your-newborn-is-up-all-night/

5 Reasons Why Your Newborn Isn’t Sleeping at Night – https://www.healthline.com/health/parenting/newborn-not-sleeping

How to Set Good Sleep Patterns for Your Baby – https://www.webmd.com/parenting/baby/newborns#1

My baby is up all night and sleeps all day – https://www.babycentre.co.uk/x553863/my-baby-is-up-all-night-and-sleeps-all-day

ARE YOU MAKING THESE BABY SLEEP MISTAKES? – https://www.preciouslittlesleep.com/are-you-making-these-baby-sleep-mistakes/

Bedtime habits for infants and children – https://medlineplus.gov/ency/article/002392.htm

 
 
 

 


শেয়ার করে অন্যদের জানাতে সাহায্য করুন

Related posts

Leave a Comment