প্রসব পরবর্তী চুল পড়া : কারণ ও করণীয়

সন্তান জন্ম দেয়ার পরপর আপনার যদি প্রচুর পরিমাণে চুল পড়তে থাকে, তাহলে হয়ত খেয়াল করবেন যে চুল পড়ার সাথে সাথে মাথার স্কিনও খুশকির মত করে উঠে যাচ্ছে। সাধারণত এই ধরনের সমস্যা সন্তান জন্ম দেয়ার ছয় মাস পর থেকে হয়ে থাকে।

বাচ্চা জন্মের পর অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণ কি?

স্বাভাবিক অবস্থায় একজন ব্যক্তির প্রতিদিন গড়ে ১০০টির মত চুল পড়ে, তবে এটা হুট করেই অর্থাৎ একসাথে হয় না আর তাই ব্যাপারটা আপনি তেমন একটা খেয়াল করতে পারেন না। গর্ভকালীন সময়ে আপনার শরীরের অতিরিক্ত হরমোনের কারণে আপনার চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং চুলগুলো হয়ে উঠে একদম সুপার মডেলদের মত ঘন ও সুন্দর।

মাঝেমধ্যে এই সময়ে চুল এতই ঘন হয়ে উঠে যে আপনি ঠিকমত চুলে ব্রাশও করতে পারেন না। তবে সবকিছুরই একটা শেষ আছে, আর এই সুন্দর চুলগুলোরও একটা পরিসমাপ্তি আছে।

কেননা, গর্ভের সন্তান যখন ভূমিষ্ঠ হয় তখন আপনার শরীরের অতিরিক্ত হরমোনগুলো সব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকে। একইসাথে অতিরিক্ত হরমোনের কারণে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চুলগুলোও ঝড়ে পড়তে থাকে।

প্রসব পরবর্তী চুল পড়া নিয়ে আপনার কি কি জেনে রাখা জরুরী?

প্রথমত, ভয় পাবেন না আপনার মাথায় টাক পড়তে যাচ্ছে না। শুধুমাত্র যেটা হচ্ছে, সেটা হল আপনার চুলের অবস্থা গর্ভকালীন সময়ের আগের মত স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

এছাড়া যদি আপনি শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে  থাকেন তাহলে বুকের দুধ ছাড়ানো বা তার সলিড শুরু করার আগ পর্যন্ত  গর্ভকালীন সময়ের কিছু অতিরিক্ত চুলে রয়ে যেতে পারে।

আর এই সময়ে আপনি চুলের যতই যত্ন করুন না কেন, আপনার শিশুর প্রথম জন্মদিনের কেক কাটার সময়ের মধ্যেই আপনার অতিরিক্ত চুলগুলো ঝড়ে যাবে এবং আপনার চুলের অবস্থা গর্ভকালীন সময়ের আগের মত হয়ে যাবে।

প্রসব পরবর্তী চুল পড়া নিয়ে আপনার কি করনীয়?

শিশুর জন্ম দেয়ার পরবর্তী সময় থেকেই যদি আপনার চুল পড়া শুরু হয়ে যায় তাহলে আপনি নিম্ন বর্ণীত উপায়গুলো অবলম্বন করতে পারেনঃ

চুলের সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নিয়মিত সুষম খাবার খাবেন এবং ডাক্তার আপনাকে যে মাতৃত্ব-জনিত ভিটামিন সাপলিমেন্টগুলো খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো নিয়মিত সেবন করবেন।

অতিরিক্ত চুল পড়া থেকে বিরত রাখার জন্য একটু নমনীয় হন। শুধুমাত্র প্রয়োজন হলেই কেবল শ্যাম্পু ব্যাবহার করবেন (এই সময়ে যদি আপনি শ্যাম্পু করার সময়টুকু বের করতে পারেন তবেই!)। এছাড়া একটা ভালো কন্ডিশনার ও চুলে যাতে টান না পড়ে এজন্য ভালোমানের চিরুনি ব্যবহার করবেন।

এই সময়ে চুল বাঁধার জন্য রাবার ব্যান্ড ব্যবহার না করে বরং মখমলের তৈরি নরম চুলের ব্যান্ড ব্যবহার করুন, আর কখনই চুল পেছন দিকে টান টান ও শক্ত করে বাধবেন না।

চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না এবং এই সময়ে পার্লার থেকে চুল কার্লি অথবা সিল্কি করাবেন না। একইসাথে এই চুল পড়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চুলে কোন ধরনের ক্যামিকেল ট্রিটমেন্ট দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

সারাদিন বাচ্চার কেয়ার নেয়ায় চুল বিরক্ত করে বলে দিনের পর দিন টাইট খোঁপা বেঁধে ফেলে রাখবেন না। মনে রাখবেন এসময়ই আপনার রুট-গুলো উইক হয়ে যাবে। টাইট করে বাঁধা খোঁপায় এই দুর্বল চুলের গোঁড়াই আরও বেশি করে উঠে চলে আসবে… চুল খুব আলগাভাবে বেণী করে রাখতে পারেন। বাট ‘নো পনিটেইল’ আর ‘নো টাইট বান’!

আপনার যদি মনে হয় যে একটু বেশিই চুল পড়ছে তাহলে প্রয়োজন মনে হলে আপনার ডাক্তারের সাথে আলাপ করে নিন। কেননা অন্যান্য আরো কিছু লক্ষণের সাথে যদি এই অতিরিক্ত চুল পড়তেও দেখা যায় তাহলে এটা প্রসব পরবর্তী থাইরয়েড সমস্যার কারণে হতে পারে। তাই ডাক্তারের সাথে আলাপ করে নেয়াই ভালো।   

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts