বাচ্চা কোন বয়স থেকে উপুড় হতে বা গড়াতে শেখে?

Updated on

যখনই আপনার ছোট্ট সন্তান অঙ্গ সঞ্চালনের ব্যাপারে দক্ষ হয়ে যাবে, এরপর থেকেই ওকে এপাশ-ওপাশ উল্টে যেতে দেখবেন প্রতিনিয়ত।

প্রথমবারের মত নিজে নিজে উপুড় হতে পারা বা গড়ানো, বাচ্চা এবং বাবা-মা দুজনের জন্যই আশ্চর্যজনক, আর যদি আপনার বাচ্চাকে পেট থেকে পিঠের দিকে উল্টাতে দেখেন তাহলে খুব একটা অবাক হবেন না , কেননা অতি শীঘ্রই এই ব্যাপারটা আপনার সন্তানের সবচাইতে প্রিয় খেলায় পরিণত হবে। হাত, গলা, পিঠ এবং শরীরের বাড়ন্ত শক্তি দিয়ে আপনার সন্তান শরীরের নড়াচড়া করার বা গড়াগড়ি করার মতো নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করবে।

তবে এই মুহুর্তে আপনাকে অবশ্যই অনেক বেশী সতর্ক থাকতে হবে কেননা বাচ্চাদের এই সময়টায় যেখানে রাখেন না কেন ওরা ওদের শরীরকে গড়াতে চাইবে; তাই লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পড়ে না যায় কিংবা কোন বিপদ না হয়।

বাচ্চারা কখন থেকে উপুড় হতে বা গড়ানো শুরু করে?

কিছু কিছু সদ্য জন্ম নেয়া বাচ্চারা একপাশে কাত হয়ে শুতে পারবে একদম প্রথম দিন থেকে, তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই যেটা হয় যে জন্ম নেয়ার একমাসের মধ্যেই আস্তে আস্তে বাচ্চারা নিজে নিজে কাত হওয়ার শক্তি হারাতে থাকে।

৪ মাস বয়সের মধ্যেই, আপনার বাচ্চার শরীরের উপরের অংশ এবং পেশীসমূহ শক্তিশালী হতে শুরু করবে এবং তাকে যখন পেটের উপর ভর দিনে রাখা হবে তখন সে হাতের সাহায্যে নিজেকে উপরে তুলে চিৎ হয়ে যেতে পারে।

সাধারণত টামি টাইমের সময় এই ধরনের অনিচ্ছাকৃত কাজগুলো ঘটে থাকে। এমনকি এমনও হতে পারে যে ৩ মাস বয়সেই ও এই ধরনের কাজগুলো করতে সক্ষম হতে পারে।

যদিও ৪ মাস বয়সের মধ্যেই বাচ্চারা এইভাবে উল্টাতে শিখে যায় তবে ৬ মাস বয়সের মধ্যেই বেশীরভাগ বাচ্চারা পেট থেকে পিঠ এবং আবার পিঠ থেকে পেটের দিকে গড়াতে পারে।

আপনার বাচ্চার গড়াতে শেখায় আপনি কতটুকু সাহায্য করতে পারেন

অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন সে যেন পর্যাপ্ত টামি টাইম পায় যাতে ওর পিঠ, ঘাড় এবং হাতগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠে যার মাধ্যমে ধাক্কা দিয়ে ও গড়াতে পারে (বাচ্চার বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ)।

মূলত জন্মের প্রথম সপ্তাহ থেকেই টামি টাইম শুরু করে দিতে পারেন আপনি, এক্ষেত্রে জাগ্রত অবস্থায় কয়েক মিনিটের জন্য ওকে উপুড় করে আপনার কোলে শুইয়ে রাখতে পারেন।

বাচ্চার বয়স এক মাস হওয়ার পর, আপনি ওকে সম্ভব হলে প্রায় প্রতিদিনই  ১৫/২০ মিনিট করে টামি টাইম করাতে পারেন (তবে অবশ্যই আপনার উপস্থিতিতেই)। যদি দেখেন আপনার সন্তান এই ব্যাপারে অসন্তুষ্ট হচ্ছে তাহলে টামি টাইমের সময় কমিয়ে দিন – এক থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই করুন – এবং এভাবেই আস্তে আস্তে দীর্ঘক্ষণের অভ্যাস গড়ে উঠবে।

মাদুর বা নরম তোষকের উপর ছড়ানো ছিড়ানো আকর্ষণীয় খেলনাই হতে পারে আপনার শিশুর গড়াতে শেখার অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। ওর আশেপাশে কাছাকাছি অবস্থানে লোভনীয় কিছু রাখতে পারেন যার আকর্ষণে ও ওই জিনিশটার কাছে পৌঁছাতে চাইবে, ফলে ওর শরীর এবং মাংসপেশির দক্ষতা বাড়বে এবং এমনও হতে পারে যে ও এভাবেই গড়াতে শিখে যাবে।

মাঝে মাঝে বাচ্চাকে ধীরে ধীরে এপাশ ওপাশ করে তাকে আবার চিৎ করে শুইয়ে দিন। এতে সে বুঝতে শিখবে কিভাবে উল্টে যেতে হয়। আপনি চাইলে এটা নিজে করেও তাকে দেখাতে পারেন।  তাই, ওর সাথে মাটিতে শুয়ে ওকে দেখাতে পারেন গড়ানোর কয়েকটা নিয়মকানুন।

গড়াতে শুরু করলে কি নিয়ে চিন্তিত হবেন না

একবার যখন আপনার শিশু পেট থেকে পিঠ এবং পিঠ থেকে পেটের দিকে গড়াতে শিখে যাবে, তখন দেখবেন রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে নিজের খাটেও ও গড়াগড়ি করছে। যদিও এটা চিন্তার কোন বিষয় না, তারপরও অভিজ্ঞদের মতে, বাচ্চাকে চিৎ করে শুইয়ে দেয়াটাই যথাপোযুক্ত, এমনকি যদি ও সারারাত একই অবস্থানে না থাকে তাও।

যেহেতু আপনার বাচ্চার পেটের উপর ভর দিয়ে গড়ানোর মতো শক্তি এবং দক্ষতা হয়েছে, সেহেতু ঘুমের মধ্যে ব্যঘাত ঘটলে সেটা বুঝার ক্ষমতাও ওর তৈরী হয়েছে – যার মানে হচ্ছে শ্বাস প্রশ্বাসের অসুবিধে হয় এমন অবস্থায় নিজেকে আঁটকে ফেলার সম্ভাবনা তার জন্য কম।

৬ মাস বয়স পার হলে, শিশুর মৃত্যুর প্রবণতা সংক্রান্ত ঝুঁকিও কমে যায় , যেটা খুব বেশী লক্ষ্য করা যায় ২ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেই।

আপনার সন্তানের পেটে ভর দিয়ে ঘুমানো নিয়ে যদি আপনি সত্যিই অনেক বেশী চিন্তিত থাকেন, তাহলে আপনি ওকে বিছানায় চিৎ করে অথবা এক পাশে  কাত করে তার এক হাত প্রসারিত করে শুইয়ে দিতে পারেন।

এটা করলে যা হবে তা হচ্ছে, সে যদি ঘুমের মধ্যে উল্টে যেতে চাই তবে তার প্রসারিত হাতের দিকে উল্টানোর সম্ভাবনা বেশি থাকবে। সেদিকে সে ঘুরতে চাইলে তার হাতটি তার শরীরের নিচে চলে আসবে সে পুরোপুরি উপুড় হতে পারবেনা।  

তবে এর পাশাপাশি এটাও মনে রাখবেন যে, প্রত্যেকটা বাচ্চাই ওদের নিজস্ব সময় এবং নিজস্ব বাড়ন্ত শক্তির উপর ভিত্তি করেই গড়াতে শিখে। বেশ কয়েক সপ্তাহ পেটের উপর ভর দিয়ে শুইয়ে থাকার পর সে হয়তো আবিষ্কার করবে কিভাবে হাতের উপর ভর দিয়ে তার শরীর তুলতে হবে এবং পিঠের দিকে উল্টাতে হবে। এরও অনেক সপ্তাহ পর সে বুঝতে পারবে কিভাবে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থা থেকে হাতের সাহায্যে পেটের দিকে উল্টে যেতে হবে।  

শুধুমাত্র ওকে অনুশীলন করার যথেষ্ট সু্যোগ দিন, ভালো হয় লেপ-তোষক কিংবা মেঝেতে কুশনের উপর দিলে। এবং অবশ্যই ওর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নড়াচড়াতেও আপনি খুশী হয়ে ওকে অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ দিবেন।

গড়াতে শিখে গেলে এরপর কি

আপনার বাচ্চা যখন গড়ানোতে দক্ষতা অর্জন করবে এবং তার ঘাড় যখন তার মাথা স্থির রাখার মত শক্ত হয়ে উঠবে তার মানে হলো সে দ্রুত বসতে শেখা শুরু করবে। প্রথমে সে আপনার সাহায্য নিয়ে এবং ধীরে ধীরে নিজেই বসতে পারবে।

এরপর থেকেই মূলত ও হামাগুড়ি দেয়া শুরু করবে এবং এরপরের ধাপটা সোজা হয়ে দাঁড়ান। হামাগুড়ি দেয়া এবং সোজা হয়ে দাঁড়ান সম্পর্কে যখন ও অভিজ্ঞ হয়ে যাবে তখনই ও হাঁটার জন্যেও নিজেকে প্রস্তুত করে ফেলবে

সর্বদা, আপনার শিশু সম্পর্কে যদি আপনি সামান্যতম চিন্তিত হন তবে অবশ্যই আপনার পরিচিত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন। এবং অবশ্যই আপনার শিশুর প্রতিটি পদক্ষেপ উপভোগ করতে ভুলবেন না। প্রথম বছরটা হচ্ছে আপনার জন্য সন্তানের গড়ানো, হামাগুড়ি, হাসি এমনকি হাঁটার মতো বিষয়গুলো উপভোগ করার বছর।

শিশুর অন্যান্য মাইলস্টোনগুলো সম্পর্কে পড়ুন-

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment