গর্ভাবস্থায় দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ (Anxiety)

গর্ভাবস্থায় দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ

গর্ভাবস্থায় সামান্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়াটা একদমই স্বাভাবিক একটা বিষয়। এটা আপনার প্রথম সন্তান হোক অথবা না, আপনার জীবনটা এখন এমন ভাবে পালটে যাবে যার উপর আপনার বিন্দুমাত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এছাড়া গর্ভকালীন সময়ে আপনার শরীরের মধ্যে হরমোনের যে পরিবর্তন হয় তার কারণে মানসিক অবস্থা অনেকটাই প্রভাবিত হয়। এগুলোও আপনার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আর তাই অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই সময়ে আপনার মধ্যে যদি উদ্বেগ একটু বেশিই দেখা যায় তাহলে মনে রাখবেন এটা অবাক হওয়ার মত কিছু নয়। কিন্তু এই দুশ্চিন্তা এবং ভয় যদি আপনার স্বাভাবিক জীবন যাপনের ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি করে তাহলে এই বিষয়ে আপনার হয়ত বিশেষজ্ঞ কারো সাহায্যের প্রয়োজন আছে।

গর্ভাবস্থায় দুশ্চিন্তা রীতিমত সমস্যার আকার ধারণ করেছে কি না সেটা কীভাবে বুঝবেন?

শিশুর স্বাস্থ্য, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা অথবা আপনি কি ভালো মা হতে পারবেন কি না এইসব বিষয়ে হয়ত আপনার মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা যেতে পারে। আর ইতোপূর্বে যদি আপনার গর্ভকালীন সময়ে জটিল কোন সমস্যা দেখা গিয়ে থাকে অথবা আগে আপনার প্রসবের সময় কোন ধরনের সমস্যা দেখা গিয়েছে তাহলে আপনি আবারও একই ধরনের জটিলতায় ভুগতে পারেন এই ভয়টা মাথা থেকে দুরভিত করাটা কিঞ্চিৎ কঠিনই বটে।

আর এই দুশ্চিন্তাগুলো তখনই সমস্যার রূপ ধারণ করে যখন দুশ্চিন্তার কারণে আপনার স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হয়। আপনার দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ যদি আপনাকে এমন কিছু করা থেকে বাঁধা দেয় যেগুলো আপনি স্বাভাবিক অবস্থায় খুব স্বাভাবিক ভাবেই করতেন তাহলে বুঝতে হবে আপনি দুশ্চিন্তা জনিত সমস্যা অথবা অসুখে (anxiety disorder) ভুগছেন।

দুশ্চিন্তা জনিত অসুখ (Anxiety Disorder) বলতে কি বোঝায়?

দুশ্চিন্তা জনিত অসুখ হল এমন একটা অবস্থা যা আপনাকে প্রায়শই ভীতির মধ্যে রাখে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভয় এবং উদ্বেগ একদমই স্বাভাবিক কিছু ব্যাপার। কিন্তু আপনি যদি দুশ্চিন্তা জনিত অসুখে ভোগেন তাহলে আপনার মধ্যে সেই ভয় এবং উদ্বেগের অনুভূতি স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় একটু বেশিই তীব্র আকার ধারণ করবে। দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের কারণে আপনার মধ্যে শারীরিক কিছু লক্ষণও দেখা যেতে পারে যেমন, প্রচুর পরিমাণে ঘামানো, হাত পা কাঁপা অথবা খুব দ্রুত হৃদ কম্পন হওয়া।

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা হল একটা খুবই সাধারণ মানসিক সমস্যা। কেননা নারীরা তাদের জীবনে পুরুষের তুলনায় শতকরা ষাট ভাগ বেশি দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এটা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন যে, গর্ভকালীন সময়ে নারীদের দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হওয়ার মত অসুখে ভোগার বিষয়টা কি প্রায়শই ঘটে থাকে কি না। তবে বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে অনেক নারীরাই গর্ভকালীন সময়ে দুশ্চিন্তা জনিত অসুখে ভুগে থাকেন।

এই দুশ্চিন্তা অনেক ধরনের হতে পারে এবং কেউ যদি একই সাথে বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা জনিত অসুখে ভোগেন তাহলে সেটা খুবই অস্বাভাবিক কিছু নয়। দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের সাথে বিষণ্ণতার মত অন্যান্য মানসিক সমস্যাও একত্রে দেখা যেতে পারে। কেননা প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতায় যে সব নারীরা ভোগেন তাদের শতকরা পঞ্চাশ ভাগের মধ্যেই প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে দুশ্চিন্তা থাকে যা শুরু হয় তাদের গর্ভকালীন সময়ে।

নিম্নে দুশ্চিন্তা জনিত কিছু অসুখের সম্পর্কে বর্ণনা করা হলঃ

Generalized anxiety disorder (GAD)

যদি প্রতিদিনই সব অবস্থার জন্যই আপনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে থাকেন, যেসব বিষয় অন্যান্য মানুষ খুবই স্বাভাবিক ভাবে নেয় তাহলে আপনি হয়তোবা Generalized anxiety disorder (GAD) নামক রোগে আক্রান্ত। GAD আপনাকে যে কোন বিষয় সহজে বুঝতে বাঁধা দিবে, খিটখিটে মেজাজের করে দিবে এবং কোন বিষয়ে মনোযোগ দিতে অক্ষম করে তুলবে।

এছাড়া আপনার শরীরের পেশীতেও সেই দুশ্চিন্তার প্রভাব আসবে এবং সেটা আপনাকে ঠিকমত ঘুমাতে বাঁধা দিবে। এছাড়াও অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়েও আপনার অনেক দুশ্চিন্তা হতে থাকবে এবং আপনি এই চিন্তাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

Panic disorder

সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই হুট করেই যদি আপনি আতঙ্কিত হয়ে যান এবং ব্যাপারটা বারবার ঘটতে থাকে তাহলে সেটা প্যানিক ডিজঅর্ডারের লক্ষণ। এই ধরনের আতংকের সাথে সাধারণত কিছু শারীরিক লক্ষণও দেখা যায়, যেমন দ্রুত হৃদকম্পন, প্রচুর পরিমাণ ঘামানো, হাত পা কাঁপা অথবা বমি বমি ভাব আসা।

হুট করেই মনের মধ্যে এই ধরনের আতংক চলে আসাটা বেশ ভয়ানকই বটে। যে সকল মানুষদের মধ্যে হুট করেই এই ধরনের আতংক চলে আসে তারা মাঝেমধ্যে এই ভেবেও ভয় পান যে তারা হয়ত এখনই মারা যাবেন। প্রসবের পর সাধারণত এ ধরণের প্যানিক অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।  

Phobias

ফোভিয়া হল কোন নির্দিষ্ট বস্তু অথবা অবস্থা নিয়ে প্রচণ্ড রকমের ভয় অথবা উদ্বেগ। কখনো এই ধরনের প্রচণ্ড রকম আতংক সামান্য ঝুঁকি আছে এমন কোন বিষয়েও হতে পারে যেমন বিমান যাত্রা, উচ্চতা ইত্যাদি। কিন্তু এই ধরনের হালকা ঝুঁকির ক্ষেত্রে ভয়টা একটু বেশিই মাত্রাতিরিক্ত হয়ে থাকে। এই ধরনের অতিরিক্ত আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ তাদের ভয়ের অবস্থাগুলো থেকে এড়িয়ে থাকতে অনেক ধরনের অদ্ভুত কাজও করে থাকেন।

অন্যান্য কি কি অবস্থার কারণে এমন উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে?

কিছু কিছু অবস্থা আছে যেগুলো দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের মধ্যে পরে না তবে এই ধরনের অবস্থায় দুশ্চিন্তা এক ধরনের লক্ষণ। নিম্নে সেই অবস্থাগুলো সম্পর্কে বর্ণনা করা হলঃ

Posttraumatic stress disorder (PTSD): ভয়ংকর কোন কিছু দেখা অথবা অভিজ্ঞতা হলে এমন হতে পারে। যেমন, কোন ধরনের হিংস্রতা, যৌন হয়রানীর কারণেও এমন ধরনের দুশ্চিন্তার অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে। PTSD এর কারণে বারবার অতীতের কথা মনে হতে পারে অথবা দুঃস্বপ্ন আসতে পারে অথবা এমন লাগতে পারে যে আপনি আবারো হয়ত সেই ভয়ানক ঘটনার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন।

গর্ভকালীন অবস্থায় শিশু মারা যাওয়া অথবা বিপদ জনক জরুরী প্রসবের মধ্যে গেলেও এই PTSD এর সৃষ্টি হতে পারে। এবং এই ধরনের সমস্যায় ভোগা নারীরা জখন পরবর্তীতে আবারো গর্ভধারণ করেন তখন তারা খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। তাদের বারবার আগের অবস্থার কথা মনে পড়ে এবং তারা নিজেদেরকে সেই ভয়ংকর অনুভূতির কাছে একদম অসহায় মনে করতে থাকেন।

Obsessive-compulsive disorder (OCD): OCD তে আক্রান্ত নারীরা সাধারণত খুব বেশি আবেগি অথবা রুড় আচরণ করে থাকেন। কখনো তাদের মধ্যে এই দুই ধরনের আচরণই দেখা যেতে পারে।

অবসেশন হল সেই অবস্থা, যখন অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তাগুলো বারবার ফিরে আসতে থাকে। আর অপরদিকে কমপালশন হল এমন কিছু কাজ যেগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তাগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য তারা বারবার করে থাকেন। এই ধরনের কাজগুলো সাময়িক ভাবে দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখতে পারলেও, খুব দ্রুতই ভয়ের অনুভূতিগুলো বারবার ফিরে আসে। প্রথমবারের মত গর্ভধারণ করলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং এর লক্ষণগুলো সন্তান জন্ম গ্রহণ করার পর আরো তীব্র আকার ধারণ করে।

অন্যান্য কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থাঃ খুব অল্প ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত অবস্থাও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে সকল নারীরা হাইপারথাইরয়েডিজম, হৃদযন্ত্র জনিত অসুখ এবং শ্বাস জনিত অসুখে ভুগে তাদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা দেখা যেতে পারে।

আপনার অবস্থা অনুযায়ী ডাক্তার আপনার দুশ্চিন্তার কারণ খুঁজে বের করার জন্য পরীক্ষা দিয়ে থাকবেন। যদি এই ধরনের পরীক্ষায় ধরা পরে আপনার এমন কোন কিছুই হয়নি তাহলে আপনাকে হয়ত একজন ভালো মনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হতে পারে।

দুশ্চিন্তা কীভাবে আপনার গর্ভাবস্থা এবং শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে?

এ সম্পর্কে কিছু বলাটা বেশ কঠিনই বটে। কেননা গর্ভাবস্থায় anxiety disorder নিয়ে খুব একটা গবেষণা করা হয়নি। যে কয়টাই করা হয়েছে সেগুলো থেকে কোন ধরনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যায় নি। গর্ভকালীন সময়ে এই ধরনের দুশ্চিন্তা গ্রস্ত নারীরা নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই প্রসবের ঝুঁকিতে থাকেন, তবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

American College of Obstetricians and Gynecologists এর মতে গর্ভকালীন সময়ে দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপের কারণে প্রসব খুব দ্রুত হতে পারে আবার খুব ধীরও হতে পারে। তবে এই সম্পর্কে আরো বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

এছাড়া কিছু গবেষণার মতে যে সকল মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগেছেন তাদের সন্তানেরা প্রাথমিক বছরগুলোতে স্বাভাবিক বৃদ্ধির মাইলস্টোনগুলোতে একটু ধীরেই পৌঁছাতে পারে।

গর্ভকালীন সময়ে এই ধরনের দুশ্চিন্তা জনিত রোগের চিকিৎসা কি?

দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের চিকিৎসা আদতে নির্ভর করে আপনার মধ্যে কি ধরনের দুশ্চিন্তা কাজ করছে তার উপর। এই ধরনের দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের প্রাথমিক চিকিৎসা হল কথা বলা অর্থাৎ কাউন্সিলিং। তবে এই ধরনের কথা বলার মাধ্যমে কাউন্সিলিং গ্রহণ করেও যদি কোন আশানুরূপ ফল পাওয়া না যায় অথবা আপনার দুশ্চিন্তা খুব তীব্র আকার ধারণ করে তাহলে আপনার হয়ত আরো কিছু বিশেষ ধরনের ওষুধের প্রয়োজন পড়বে।

Talk therapy: কখনো কারো সাথে সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার মাধ্যমেও তাদেরকে ভালো অনুভব করানো যায়। আপনার ডাক্তার যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আপনাকে এই ধরনের কাজে বিশেষজ্ঞ কোন সাইকোলোজিস্ট এর কাছে আপনাকে পাঠাতে পারেন।

আপনার খুব ভয়ের কথাওগুলো ও কারণগুলো নিয়ে কারো সাথে আলাপ করাটা বেশ কষ্টের, বিশেষ করে আপনি যদি ভাবতে থাকেন যে এইসব কথা শুনে লোকে কি ভাববে? তবে আপনার সাইকোলোজিস্ট অর্থাৎ মনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে কোন ধরনের দ্বিধা না রেখে সব কিছু খুলে বলুন।

এছাড়া আপনার ডাক্তার হয়ত আপনাকে কগনেটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (CBT) নামক এক ধরনের কাউন্সিলিং এর ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারেন। দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের উপর CBT বেশ ভালো এবং কার্যকরী প্রভাব ফেলতে পারে, কেননা এর মাধ্যমে নতুন ভাবে চিন্তা করার উপায়, প্রতিক্রিয়া দেখানোর উপায় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আচার আচরণ করার উপায় সম্পর্কে জানা যায়।  

CBT এর ক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার আপনার সাথে আপনার চিন্তা চেতনা, আবেগ এবং প্রতিক্রিয়া নিয়ে কল্পনাপ্রসূত অবস্থা অথবা বাস্তব ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে আলাপ করবেন। আপনার চিন্তা ভাবনার মধ্যে যদি কোন অস্বাভাবিকতা থেকে থাকে তাহলে ডাক্তার আপনাকে সেদিকে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখতে বলবেন এবং কীভাবে আপনি অন্য কোন  ভাবে সেই সকল অবস্থায় চিন্তা করতে পারবেন সে ব্যাপারে সাহায্য করবেন।

ওষুধঃ

দুশ্চিন্তা জনিত ওষুধ আপনার প্লাসেন্টা অতিক্রম করে গর্ভের শিশু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এই ধরনের ওষুধ এর ব্যাপারে পরামর্শ দেয়ার সময় ডাক্তার একটু বাড়তি সতর্ক থাকবেন। গর্ভকালীন সময়ে যে কোন ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রেই কিছু ঝুঁকি থেকেই যায় আর আপনার মধ্যে যদি দুশ্চিন্তা জনিত সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সেটা আপনার পক্ষে মানিয়ে নেয়াটা একটু কঠিনই হয়ে উঠবে।

ডাক্তার আপনাকে কোন ওষুধ দেয়ার আগে তার ঝুঁকি থেকে উপকার বেশি কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। হতাশাগ্রস্ত হওয়ার মত অন্যান্য জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে, অথবা টক থেরাপি যখন কাজ না করে তখন হয়ত ওষুধ খাওয়াটা, না খাওয়া থেকে আপনার জন্য একটু বেশি নিরাপদ।

যদি ওষুধ আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে ওষুধের সঠিক মাত্রা সম্পর্কে জানার জন্য ওষুধের উপকার এবং অপকার সম্পর্কে ডাক্তারের সাথে আলাপ করে নিন। যদি আপনি ইতোমধ্যেই কোন ওষুধ খান তাহলে ডাক্তারের সাথে আলাপ না করে সেটা খাওয়া বন্ধ করবেন না। কেননা হুট করেই কোন ধরনের ওষুধ বন্ধ করে দিলে তার হয়ত কোন ক্ষতিকর প্রভাব থাকতে পারে।

দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ওষুধ ব্যাবহার করা হয়?

নিম্ন বর্ণীত ওষুধগুলো সাধারণত দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের জন্য ব্যাবহার করা হয়ঃ

Selective serotonin reuptake inhibitors

হতাশার মতই, গর্ভকালীন সময়ে দুশ্চিন্তা জনিত অসুখের জন্য Selective serotonin reuptake inhibitors নামক ওষুধ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। গর্ভকালীন সময়ে এই ধরনের ওষুধের ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে একটু কম। এই ধরনের ওষুধের মধ্যে যেগুলো দুশ্চিন্তার জন্য ব্যবহৃত হয় সেগুলো নিম্নরূপঃ

  • Fluoxetine
  • Sertraline
  • Citalopram
  • Paroxetine

Benzodiazepines

কোন কোন নারী গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং আতংকের জন্য Benzodiazepines সেবন করে থাকেন। তবে এই ধরনের ওষুধ কিছু মহিলাদের উপর সন্তান জন্মদানে জটিলটা সৃষ্টি করতে পারে, যদিও সেটা সংখ্যায় খুবই কম। প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসার পর এই ধরনের ওষুধ সেবন করলে প্রসবের পর শিশুর মধ্যে কিছু জটিলটা দেখা যেতে পারে। তার মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং বুকের দুধ পান করতে কষ্ট হওয়া অন্যতম।

যদি আপনি ইতোমধ্যেই এই ধরনের ওষুধ সেবন করে থাকেন তাহলে আপনার গর্ভাবস্থায় শিশুর ঝুঁকি কমানোর জন্য আপনার ডাক্তার আপনার ওষুধের মাত্রা কমিয়ে অন্য কোন নিরাপদ ওষুধের দিকে আপনাকে হয়ত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।  

আপনি আপনার ওষুধের আগের মতই সেবন করে থাকেন অথবা একদমই বন্ধ করে দেন, ডাক্তার আপনার উন্নতিগুলো খুব কাছ থেকে লক্ষ্য রাখবেন। এমনকি আপনার শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার করেও সে সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছে কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

যদি আপনার মধ্যে কখনো এমন চিন্তা আসে যে এই অবস্থার সাথে আপনি আর মানিয়ে চলতে পারছেন না অথবা আপনার নিজেকে ক্ষতি করতে ইচ্ছে করছে তাহলে তাৎক্ষনিক ভাবে ডাক্তারের সাথে আলাপ করে নিন।

ভেষজ প্রতীকারঃ

দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য কাভা নামক এক ধরনের শিকড় ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে এটা ব্যবহার করা তেমন একটা নিরাপদ নয়। কেননা কাভা সেবনের ফলে আপনার লিভারে ক্ষতি হতে পারে এমনকি গর্ভাবস্থায় এটা আপনার জরায়ুর পেশিগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে।

গর্ভকালীন সময়ে যে কোন ধরনের ভেষজ প্রতীকার থেকে দূরে থাকাই ভালো, যদি না আপনার ডাক্তার আপনাকে সেটা সেবন করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গর্ভকালীন অবস্থায় ভেষজ প্রতীকারগুলো কতটা নিরাপদ এর উপরে খুব কম সংখ্যক গবেষণাই হয়েছে। এছাড়া ভেষজ ওষুধগুলো সাধারণত কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই তৈরি হয় এবং বেশীরভাগ সময়ে যে জিনিসগুলো সেই ওষুধে থাকার কথা বলা হয় সেগুলোও থাকে না।

“ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ওষুধ গ্রহন করবেন না।”

দুশ্চিন্তা জনিত সমস্যার সাথে মানিয়ে চলার ক্ষেত্রে আপনার করনীয় কি?

প্রতিনিয়তই দুশ্চিন্তা অথবা উদ্বেগ বেশ বিরক্তিকরই বটে। মানসিক ডাক্তারের কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার সাথে সাথে আপনিও দুশ্চিন্তার সাথে মানিয়ে চলার জন্য কিছু পন্থা অবলম্বন করতে পারেন। নিচে এই সম্পর্কে কিছু উপায় বর্ণনা করা হলঃ

নিজের যত্ন নিনঃ আপনার শরীরের স্বাভাবিক এবং সাধারণ প্রয়োজনগুলো পরিপূর্ণ করুন যেমন খাওয়া, হালকা ব্যায়াম করা এবং যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেয়া। এগুলো আপনার দুশ্চিন্তাগুলোকে মানিয়ে চলার ব্যাপারে অনেক সাহায্য করবে।

ইয়োগাঃ দুশ্চিন্তা দূরে রেখে আপনাকে আরামদায়ক রাখার ব্যাপারে ইয়োগা বেশ উপকারী। গর্ভকালীন নারীদের জন্য বিশেষ ধরনের ইয়োগা ক্লাসের ব্যাপারে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

অনুভূতি প্রকাশ করুনঃ এমন কারো সাথে আপনি আপনার অনুভূতিগুলো প্রকাশ করুন যাকে আপনি বিশ্বাস করেন। আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে, প্রিয় বন্ধুর সাথে অথবা আশেপাশে এলাকার অন্যান্য মায়েদের সাথে আপনার অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নিনঃ আপনার হয়ত তেমন একটা ভালো ঘুম হবে না তবুও দিনের বেলায় যতটা সম্ভব বিশ্রাম নিতে থাকুন। এমনকি কোন ম্যাগাজিন পড়া অবস্থায় অথবা টিভি দেখা অবস্থায় হলেও বিশ্রাম নিতে থাকুন। কেননা আপনি যখন প্রচুর পরিমাণে মানসিক চাপে থাকেন তখন আপনার শরীরের অনেক বিশ্রামের প্রয়োজন।

হালকা ব্যায়াম করুনঃ সাধারণত ভালো থাকার জন্য এবং মস্তিষ্ক যাতে দুশ্চিন্তা এবং হতাশা থেকে দূরে থাকার হরমোন নিঃসৃত করতে পারে তার জন্য নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা বেশ উপকারী।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts