গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতি জনিত রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন

Updated on

কীভাবে বুঝবেন আপনার আয়রনের ঘাটতি জনিত রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া হয়েছে?

আয়রনের ঘাটতির কারণে যদি গর্ভাবস্থায় রক্তশুন্যতা হয়ে থাকে তাহলে আপনার মধ্যে হয়ত কোন ধরনের লক্ষণই দেখা যাবে না, বিশেষ করে আপনার সমস্যাটি যদি প্রাথমিক অবস্থায় থাকে অর্থাৎ সমস্যাটি যদি অল্প হয়। অন্যথায় আপনার ক্লান্ত, দুর্বল অথবা মাথা ঝিম ঝিম করার মত অনুভব হতে পারে।

তবে এই ধরনের লক্ষণ গর্ভকালীন সময়ে এমনিতেই আপনার মধ্যে দেখা যেতে পারে, যার ফলে রক্ত পরীক্ষা করার আগ পর্যন্ত আপনি হয়ত বুঝতেই পারবেন না যে আপনার আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্তশুন্যতা হয়েছে।

এছাড়া যেহেতু গর্ভকালীন সময়ে অনেকেই আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্ত শূন্যতায় ভোগেন তাই আপনার ডাক্তার হয়ত একদম প্রথমবারের রুটিন চেকআপের সময়েই আপনাকে রক্ত পরীক্ষা করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকবেন।

এমনকি গর্ভধারণ করার প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার যদি আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্তশুন্যতা নাও থাকে তারপরেও সম্ভাবনা থেকে যায় যে কিছুদিনের মধ্যেই হয়ত আপনি এই ধরনের জটিলতায় ভুগতে পারেন। আর তাই দ্বিতীয়তৃতীয় ট্রাইমেস্টারেও আপনাকে রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন কি না।

[ আরও পড়ুনঃ আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা বা এনেমিয়া ]

কীভাবে পরীক্ষা করা হবে যে আপনার আয়রনের ঘাটতি জনিত রক্তশূন্যতা আছে কি না?

বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হবে আপনি কি আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্তশূন্যতায় ভুগছেন কিনা। ডাক্তার Complete Blood Count (CBC) নামক পরীক্ষার মাধ্যমে এটা নির্ণয় করে দেখবেন।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তের বিভিন্ন উপাদান পরীক্ষা করা হয়, তবে যখন রক্তশুন্যতা নির্ধারণের জন্য এই পরীক্ষা ব্যাবহার করা হয় তখন এই পরীক্ষায় হিমোগ্লোবিন এবং hematocrit এর মাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ হিমোগ্লোবিন এবং hematocrit এর মাত্রার উপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হবে যে আপনি এই ধরনের জটিলতায় ভুগছেন কি না।

হিমোগ্লোবিন হল এক ধরনের প্রোটিন সমৃদ্ধ লোহিত রক্ত কণিকা।  হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমেই আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে। রক্ত পরীক্ষা করার মাধ্যমে দেখা হবে আপনার রক্তের মধ্যে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ঠিক কি পরিমাণ বিদ্যমান।

এছাড়া hematocrit এর মাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় আপনার প্লাজমাতে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ কতটুকু। উল্লেখ্য যে প্লাজমা বলতে রক্তের তরল অংশটুকুকে বুঝায়। আপনার রক্তে হিমোগ্লোবিন অথবা hematocrit এর পরিমাণ যদি কমে আসে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি রক্তশূন্যতায় ভুগছেন। 

যদি আপনার প্রতি ডেসিলিটার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১১ গ্রাম থেকে কম এবং প্রথম তিন মাসে hematocrit এর পরিমাণ শতকরা ৩৩ শতাংশ থেকে কম হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার রক্তশূন্যতা বা এনেমিয়া আছে এবং তদনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

তবে একটি ব্যাপার মনে রাখবেন যে দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে হিমোগ্লোবিন এবং hematocrit এর পরিমাণ যদি একটুখানি কমে আসে তাহলে সেটা নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা করবেন না, কেননা এটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়।

এই সময়ে শরীরের রক্তের পরিমাণ অনেকাংশেই বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ এবং আকারের তুলনায় প্লাজমা একটু বেশিই বেড়ে যায়। আর তাই দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে আপনার হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ যদি প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ১০.৫ গ্রাম এবং hematocrit এর পরিমাণ শতকরা ৩২ শতাংশ থেকে কমে যায় তাহলে আপনাকে রক্তশূন্যতার জন্য চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

বেশ কিছু অবস্থার কারণেই রক্তশূন্যতা হতে পারে তবে তারমধ্যে আয়রনের ঘাটতির কারণেই এমন হতে বেশি দেখা যায়। তাই আপনার ডাক্তার হয়ত আপনাকে আরো অনেক ধরনের পরীক্ষা করতে না বলে বরং আয়রনের ঘাটতি জনিত  রক্তশূন্যতারই চিকিৎসার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকবেন।

রক্তশূন্যতার চিকিৎসা গ্রহণের পরেও যদি আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি না পায়, তাহলে কি করবেন?

চিকিৎসা গ্রহণের পরেও যদি আপনার রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি না পায়, অথবা আপনার ডাক্তার ঠিক নিশ্চিত হতে পারছেন না যে আপনার রক্ত শুন্যতা আয়রনের ঘাটতির কারণেই হয়েছে নাকি অন্য কোন কারণে হয়েছে, তখন নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডাক্তার আপনাকে অন্যান্য আরো কিছু পরীক্ষা করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকবেন।

নিম্ন বর্ণীত কিছু পরীক্ষা করানোর ব্যাপারে ডাক্তার আপনাকে পরামর্শ দিতে পারেনঃ 

Serum ferritin test

এটাও এক অন্য ধরনের রক্ত পরীক্ষা। তবে ধারনা করা হয় যে আয়রনের ঘাটতি জনিত রক্তশূন্যতার যাবতীয় পরীক্ষার মধ্যে এটাই সবচাইতে নির্ভুল এবং সংবেদনশীল পরীক্ষা।

Ferritin হল এক ধরনের প্রোটিন যেটা কোষের মধ্যে আয়রন ধারণ করে থাকে। আর তাই রক্তে কি পরিমাণ ferritin আছে সেটা জানতে পারলেও বুঝা যায় যে রক্তে আয়রনের পরিমাণ ঠিক কতটুকু।

Reticulocyte count

Reticulocyte হল অপরিপক্ব রক্ত কণিকা। আর তাই রক্তে Reticulocyte কি পরিমাণে আছে সেই সংখ্যা নির্ণয় করার মাধ্যমে বুঝা যায় যে শরীর কি পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন রক্ত কণিকা উৎপন্ন করছে কি না।

Peripheral smear

এই পরীক্ষার মধ্যে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে রক্তের লোহিত কণিকার আকার এবং প্রকৃতি পরীক্ষা করা হয়। আপনার যদি আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্ত শুন্যতা হয়ে থাকে তাহলে এই লোহিত রক্ত কণিকাগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ ছোট এবং ফ্যাকাসে বর্ণের দেখাবে।  

Serum iron

এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে আয়রনের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

Transferrin level

Transferrin রক্তের মধ্যে আয়রন বহন করে থাকে। Transferrin এর পরিমাণকে আয়রন বহন করার ধারণক্ষমতাও বলা হয়ে থাকে এবং এই পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝা যায় যে রক্তের মধ্যে কি পরিমাণ Transferrin আছে যেগুলো আয়রন বহণ করছে না।

আয়রনের ঘাটতি জনিত রক্তশূন্যতার চিকিৎসা কি?

যদিও বিভিন্ন ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণ আয়রন রয়েছে, তাই বলে আয়রনের ঘাটতি জনিত  রক্তশূন্যতা হলে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়। আর তাই আপনার ডাক্তার আপনাকে আয়রনের সাপলিমেন্ট খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকবেন।

আপনার ঠিক কতটুকু পরিমাণ অতিরিক্ত আয়রনের প্রয়োজন সেই অনুসারে আপনাকে সাপলিমেন্ট দেয়া হবে। কিন্তু সাধারণত প্রতিদিন ৬০ থেকে ১২০ মিলিগ্রাম আয়রন সাপলিমেন্ট দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া মাতৃত্ব কালীন ভিটামিনও আপনাকে গ্রহণ করতে হবে যার মাধ্যমে প্রায় ৩০ মিলিগ্রাম আয়রন আপনি পেয়ে যাবেন।

কীভাবে আয়রন সাপলিমেন্ট থেকে সবচাইতে বেশি ফলাফল পাওয়া যায়?

শরীর যাতে করে বেশি পরিমাণ আয়রন গ্রহণ করতে পারে তার জন্য খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে বা খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর আয়রনের সাপলিমেন্ট খেতে পারেন।

রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে কতদিন সময় প্রয়োজন হয়?

বেশীরভাগ নারীদের জন্যই রক্তশূন্যতার জন্য আয়রনের সাপলিমেন্ট একটি কার্যকরী চিকিৎসা হিসেবে পরিলক্ষিত করা যায়। আয়রন সাপলিমেন্ট খাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই রক্তে হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ বাড়তে থাকবে, যদিও পুনরায় পরীক্ষা করার জন্য আপনাকে হয়ত মাস খানেক অপেক্ষা করতে হতে পারে।

যদি দেখা যায় যে সাপলিমেন্ট খাওয়ার পরেও আপনার রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে না তাহলে আদতে আপনার রক্ত শুন্যতা কি আয়রনের ঘাটতির জন্যই হয়েছে কি না সেটা জানার জন্য আরো বেশ কিছু পরীক্ষা করতে পরামর্শ দিবেন। 

যদি অন্যান্য আরো পরীক্ষা করার পরে দেখা যায় যে আপনার আয়রনের ঘাটতির কারণেই রক্ত শুন্যতা হয়েছে এবং সাপলিমেন্ট খাওয়ার পরেও আয়রনের পরিমাণ বাড়ছে না তখন ডাক্তার আপনার রক্তে সরাসরি আয়রন গ্রহণ করার ব্যাপারে পরামর্শ দিবেন।  এই ধরনের আয়রন সরাসরি IV এর মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয় এবং এটা হাসপাতালে নেয়া যেতে পারে আবার ডাক্তারের চেম্বারেও নেয়া যেতে পারে।

আয়রন ট্যাবলেটের ব্যাপারে আরেকটি জরুরী বিষয়ঃ গর্ভকালীন সময়ে এই ধরনের ট্যাবলেট গ্রহণ করা একদমই নিরাপদ তবে খেয়াল রাখবেন ট্যাবলেট যাতে এমন কৌটার মধ্যে থাকে যেখান থেকে কোন শিশু বের করতে না পারে। এছাড়া ট্যাবলেট অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

আয়রনের সাপলিমেন্টের পার্শ-প্রতিক্রিয়া কি

দুর্ভাগ্য বশত আরয়ন ট্যাবলেটেরর বেশ কিছু বহুল প্রচলিত পার্শ-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তন্মধ্যে কৌষ্ঠকাঠিন্য অন্যতম, এছাড়া আয়রন ট্যাবলেট খেলে বমি ভাব, পেটে গ্যাস এবং পেটের মধ্যে অস্বস্তিকর অনুভূতি হতেও দেখা যায়।

যদি বমি বমি ভাব আপনাকে খুবই সমস্যার মধ্যে ফেলে দেয় তাহলে ওষুধ খাওয়ার সময় নির্ধারণের মাধ্যমে এই অনুভূতি কমিয়ে নিয়ে আসা যায়। সকালে উঠে একদম খালি পেটে আয়রন সাপলিমেন্ট খাবেন না বরং খাওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই আয়রনের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলুন। অথবা আপনি চাইলে ঘুমানোর ঠিক আগে আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে নিতে পারেন তাহলে আপনার অস্বস্তিকর সময়টা হয়ত ঘুমের মধ্য দিয়েই কেটে যাবে।

এছাড়া আপনি হয়ত খেয়াল করবেন আপনার মল এর রঙ আগের থেকে গাড় হয়ে গেছে, তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই কারণ আয়রন ট্যাবলেট খেলে এমন হওয়াটা একদমই স্বাভাবিক ব্যাপার।

যদিও পার্শ প্রতিক্রিয়াগুলো আপনার জন্য বেশ অস্বস্তিকর, তবুও আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। যদি পার্শ প্রতিক্রিয়ার কারণে আপনার অতিরিক্ত সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন।

বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমে এই লক্ষণগুলো দমিয়ে রাখা যায়, সেগুলো নিম্নরূপঃ

  • প্রতিদিন আপনাকে যে পরিমাণ ওষুধ খাওয়ার জন্য ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন সেটা ছোট ছোট পরিমাণে সারাদিনে কয়েকবার করে খেলে ওষুধের প্রভাব আপনার উপর কম পড়বে এবং অস্বস্তি লাগাটাও বেশ কমে আসবে।
  • আপনার যদি কোন নির্দিষ্ট সাপলিমেন্টের কারণে অস্বস্তি লাগে তাহলে আপনি ভিন্ন কোম্পানির ওষুধ ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
  • ট্যাবলেটের মাধ্যমে না খেয়ে বরং যদি আপনি তরল ওষুধ সেবন করেন তাহলে হয়ত আপনার খারাপ লাগাটা বেশ কমে আসবে। এভাবে আপনি ওষুধের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে ওষুধ সেবন করতে পারেন।

তবে এই পন্থাগুলো অবলম্বন করলে আপনার শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণে কিঞ্চিৎ দেরী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কেননা এভাবে ওষুধ সেবন করলে সাধারণ সাপলিমেন্ট থেকে কম পরিমাণে আয়রন আপনার শরীরে প্রবেশ করবে।

এমতাবস্থায় কি একটু বেশিই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে?

গর্ভকালীন সময়ে সামান্য রক্তশুন্যতায় ভোগা একদমই স্বাভাবিক একটা বিষয়, আর তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে সাপলিমেন্ট সেবন করলেই আপনাকে আর অতিরিক্ত কোন চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে না। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে গর্ভধারণের চতুর্থ মাসে অথবা সপ্তম মাসে আবার রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হবে যে আপনার অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না।

তবে আপনার রক্তশূন্যতা যদি ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং শরীরে আয়রনের পরিমাণও বেশ কম থাকে তাহলে আপনাকে হয়ত বারবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হতে পারে। যাতে করে ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন তারজন্য হয়ত প্রতি মাসেই একবার করে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।

এছাড়া আপনার রক্ত শুন্যতা যদি চরম আকার ধারণ করে তাহলে আপনাকে একটু অতিরিক্ত যত্নের মধ্যে থাকতে হবে। তার জন্য সাধারণত ডাক্তার আপনাকে একজন হেমাটোলোজিস্ট অথবা maternal-fetal medicine (MFM) বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দিবেন। IV এর মাধ্যমে আয়রন সাপলিমেন্ট গ্রহণ করার প্রয়োজনও হতে পারে।

আপনার রক্ত শুন্যতা যদি তীব্র আকার ধারণ করে এবং সেটা আপনার এবং গর্ভের শিশুর জন্য বিপদজনক হয়ে উঠে তাহলে আপনার শরীরে রক্ত প্রদান করা লাগবে। যাই হোক গর্ভকালীন সময়ে রক্ত প্রদান করার ব্যাপারটা খুব একটা ঘটতে দেখা যায় না। বেশীরভাগ নারীদেরই সাপলিমেন্ট অথবা IV এর মাধ্যমে আয়রন গ্রহণ করাটাই যথেষ্ট হয়।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে কি কোন উপকারে আসবে?

হ্যাঁ, অবশ্যই! আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার মাধ্যমেও শরীর আয়রন গ্রহণ করে। আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস আপনাকে আয়রনের ঘাটতি জনিত রক্ত শুন্যতা থেকে দূরে রাখবে এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে সাপলিমেন্ট যদি গ্রহণ করেন তাহলে দ্রুতই আপনার শারীরিক অবস্থার মধ্যে উন্নতি দেখা যাবে।

কিছু আয়রন সমৃদ্ধ খাবার নিম্নে বর্ণীত হলঃ

  • লাল মাংস
  • আয়রন সমৃদ্ধ সিরিয়াল দিয়ে সকালের নাস্তা
  • মটরশুঁটি
  • মসুরের ডাল
  • চিংড়ি মাছ
  • টার্কির মাংস

অন্যান্য আয়রন সমৃদ্ধ খাবার (nonheme iron) থেকে বরং প্রাণী হতে প্রাপ্ত আয়রন (heme iron) শরীর বেশি গ্রহণ করতে পারে।

এছাড়া আপনি যখন আয়রন সাপলিমেন্ট সেবন করবেন অথবা আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাবেন তার সাথে যদি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার এবং পানীয় পান করেন তাহলে শরীর খুব সহজে সাপলিমেন্ট এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার থেকে আয়রন গ্রহণ করতে পারে। জেনে রাখা ভালো যে এক গ্লাস কমলা অথবা টমেটোর জুস, কিছু স্ট্রবেরি অথবা আঙুর হতে পারে ভিটামিন সি এর খুব ভালো উৎস।  

দুধ, চিজ এবং দই থেকে প্রাপ্ত ক্যালসিয়াম গর্ভকালীন সময়ে খুব ভালো খাদ্যাভ্যাস কিন্তু এগুলো শরীরের আয়রন গ্রহণ করার ক্ষমতায় বাঁধা প্রদান করে। আর তাই যখন আপনি আয়রন সাপলিমেন্ট সেবন করবেন তখন দুধ পান করা থেকে এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে চিজ দিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

একই কথা চা এবং কফির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, কেননা এগুলোও আয়রন গ্রহণ করা থেকে শরীরকে বাঁধা প্রদান করে থাকে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts