১ বছরের কম বয়সী শিশুর বিষম খাওয়া বা শ্বাসনালীতে কিছু আটকে গেলে ও শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার (CPR) জন্য জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসা

Last Updated on

আমাদের শিশুকে বাঁচানোর জন্য জরুরী চিকিৎসা প্রদান করতে হবে, এমন একটা অবস্থা আমাদের জীবনে আসুক এটা আমরা কেউই চাই না। কিন্তু জীবনে অপ্রত্যাশিত অনেক কিছুই ঘটতে পারে। শিশুর গলায় খাবার অথবা খেলনা আটকে যেয়ে শিশু বিষম খেতে পারে, টাব অথবা সুইমিং পুলের পানিতে ডুবে যেতে পারে অথবা বাসায় যে কোন ধরনের তারে তার গলা পেঁচিয়ে যেতে পারে।

শিশুর বিষম খাওয়া ও শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনা সম্পর্কিত জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে এখানে বর্ণিত হল। কিন্তু কখনই আপনার তথ্যের একমাত্র উৎস হিসেবে এই আর্টিকেলের উপর নির্ভরশীল হবেন না। শিশুর শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসার উপর অনেক প্রশিক্ষণ আছে, একটু সময় বের করে সেগুলোর কোন একটায় অংশ গ্রহণ করুন এবং হাতে কলমে শিশুর শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানুন।

মনে রাখবেন শিশুর বয়স অনুসারে এই সমস্ত পন্থাগুলোর মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তন আসতে পারে এবং সঠিক উপায়ে এইসব প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান না করতে পারলে সেটা শিশুর জন্য বড় কোন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই সমস্ত জরুরী সেবার প্রশিক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনার এলাকার স্থানীয় রেডক্রস এর অফিসে যোগাযোগ করুন।

নিচে যে সকল প্রাথমিক চিকিৎসার উপায়গুলো বর্ণনা করা হবে, সেগুলো শুধুমাত্র ১২ মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

শিশুর বিষম খাওয়া অথবা শ্বাস নালীতে কোন কিছু আটকে যাওয়া

প্রথম ধাপঃ খুব দ্রুত অবস্থা যাচাই করুন

হুট করেই যদি দেখতে পান আপনার শিশু কাঁদতে পারছে না অথবা কাশতে পারছে না, তার মানে হতে পারে আপনার শিশুর শ্বাসনালীতে কোন কিছু আটকে গেছে এবং সেটা বের করতে শিশুর দিকে সাহায্যের হাত আপনাকেই বাড়িয়ে দিতে হবে। এমন অবস্থায় দেখা যাবে, আপনার শিশু মুখ দিয়ে অদ্ভুত শব্দ করছে অথবা কোন শব্দই করতে পারছেনা, কেবল মাত্র মুখ হা করে আছে। এই সময় শিশুর ত্বক লাল অথবা নীল হয়ে যেতে পারে।

শিশুর মুখ খুলে যদি গলার মধ্যে আটকে যাওয়া জিনিসটি দেখতে পান, সাবধানতার সাথে বের করে ফেলুন। তবে অন্ধভাবে আঙ্গুল দিয়ে খোঁচাখুঁচি করবেন না, এতে আটকে যাওয়াটি জিনিসটি আরো ভিতরে ঢুকে বিপদ আরো বাড়াতে পারে

এছাড়া যদি দেখা যায় আপনার শিশু অনেক কাশছে এবং হামি খাচ্ছে, এর মানে হল তার কণ্ঠনালী কিঞ্চিৎ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এমন দেখা গেলে, আপনার শিশুকে বেশি করে কাশতে দিন। কেননা শ্বাসনালীতে কোন কিছু আটকে গেলে কাশির মাধ্যমেই সেটা সবচাইতে ভালোভাবে বের করা যায়। 

যদি আপনার শিশু কাশির মাধ্যমে শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া জিনিসটি বের করতে না পারে, তাহলে কাউকে ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল করতে বলুন। এবং সেই সময়ে আপনি শিশুর উপুড় করে তার পিঠে ধীরে ধীরে ধাক্কা দিন। (নিম্নের দ্বিতীয় ধাপ এর ছবি অনুসরণ করুন)

আপনি যদি শিশুর সাথে একা থাকেন, তাহলে প্রথম দুই মিনিট শিশুকে জরুরী চিকিৎসা দিন এরপর ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল করুন।

অপরদিকে, আপনার যদি সন্দেহ হয় যে আপনার শিশুর গলা অথবা শ্বাসনালী ফুলে বন্ধ হয়ে গেছে, তাহলে দ্রুত ইমারজেন্সি নাম্বারে কল করুন। আপনার শিশুর হয়ত কোন খাবার অথবা কোন কিছুর কামড়ের কারণে এলার্জিতে আক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়াও শিশুর যদি হৃদযন্ত্রের কোন সমস্যা থাকে অথবা হুট করে যদি শিশু অজ্ঞান হয়ে যায় অথবা শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে দ্রুত ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল করুন।

দ্বিতীয় ধাপঃ পিঠে চাপড় দিয়ে (Back blow) এবং বুকে চাপ দিয়ে (Chest thrust) এর মাধ্যমে শ্বাসনালীতে আটকে থাকা জিনিসটি বের করার চেষ্টা করুন

প্রথমে পিঠে চাপড় দিন (Back blows)

আপনার শিশু যদি কাঁদতে না পারে, কাশতে না পারে, নিঃশ্বাস নিতেও না পারে এবং শ্বাসনালীতে কোন কিছু আটকে যাওয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে আপনার ধারণা! তাহলে শিশুকে আপনার এক হাতের বাহুর উপর চিত করে শুইয়ে দিন। তার মাথার পেছনের দিক আপনার হাতের তালুর উপর রাখুন।  

অপর হাত শিশুর সামনে দিকে রাখুন, সে এখন আপনার দুই হাতের মাঝে একটা স্যান্ডউইচ এর মত অবস্থায় আছে।  আপনার আঙুল দিয়ে শিশুর চোয়াল ধরুন এবং হাতের মধ্যে সেভাবে রেখেই তাকে উপুড় করুন। আপনার হাত হাঁটু উপর রেখে এমনভাবে একটু নিচু করুন যাতে শিশুর মাথা তার বুক থেকে একটু নিচু অবস্থায় থাকে।

শিশুর দুই কাঁধের মাঝখানের অংশে হাতের তালুর নিচের অংশ দিয়ে জোরে জোরে পাঁচবার চাপড় দিয়ে চেষ্টা করুন শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া জিনিসটি বের করে আনতে। আপনার অন্য হাতের তালুতে শিশুর ঘাড় সহ মাথা ও চোয়াল ভালো করে ধরে রাখুন যাতে শিশু আপনার হাত থেকে পড়ে না যায়।

Back Blow

যদি জিনিসটি শিশুর শ্বাসনালী থেকে বের হয়ে না আসে, তাহলে আপনার হাত (যে হাতটি দিয়ে এতক্ষণ ধাক্কা দিচ্ছিলেন) শিশুর মাথার পেছনে এবং বাহু তার মেরুদণ্ড বরাবর রেখে তাকে আবার ঘুরিয়ে দিন। সাবধানে থাকবেন শিশু যাতে পড়ে না যায়।

এরপর শিশুকে বুকে চাপ দিবেন (chest thrust)

আপনার আঙুলের সাপোর্টে শিশুকে আগের মতই দুই হাতের মাঝখানে রাখবেন, তবে এবার উপুড় করে নয় বরং চিত করে। আপনার হাঁটুর উপর হাতকে সামান্য নিচু করুন যাতে করে শিশুর মাথা তার বুক থেকে সামান্য নিচু অবস্থানে থাকে।

দুই অথবা তিন আঙুল একসাথে করে শিশুর বুকের মাঝখানের চওড়া হাড়ের (breast bone) উপর দুই আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিন চাপ। প্রতিবার চাপ দেয়ার সময় বুক যাতে আধা ইঞ্চি অথবা এক ইঞ্চির বেশি নিচে না নামে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এরপর চাপ ছেড়ে দিন যাতে করে শিশুর বুক আবার তার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এভাবে পাঁচবার chest thrust দিন।

chest thrust

এভাবে back blows এবং chest thrust দিতে থাকুন।

এভাবে পাঁচবার করে দুটো পদ্ধতি করতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত আটকে যাওয়া বস্তুটি বেড়িয়ে আসছে, বা শিশু জোরে কাশি দেয়া শুরু করছে, কাঁদছে, নিশ্বাস নিচ্ছে বা সে অচেতন হয়ে পরছে। যদি আপনার শিশু কাশতে থাকে তাহলে তাকে কাশির মাধ্যমে শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া জিনিসটি বের করে দিতে দিন।

শিশু যদি অচেতন হয়ে পড়ে

শিশুর শ্বাসক্রিয়া এবং হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে যেভাবে পুনরূজ্জীবিত (Resuscitate) করতে হয় – সেই নিয়ম অনুযায়ী শিশুর জীবন রক্ষা করার চেষ্টা করুন।আপনার শিশু যদি একেবারেই অচেতন হয়ে পড়ে তাহলে শিশুকে মেঝেতে শুইয়ে দিয়ে এরপর শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার (CPR) চেষ্টা করুন। শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার প্রত্যেকটা উপায় অবলম্বন করার সাথে সাথে শিশুর মুখ হা করে দেখুন যে কোন কিছু বের হয়ে এসেছে কি না। যদি বের হয়ে আসে তাহলে সেটা ফেলে দিন।

তবে একটা ব্যাপার মনে রাখবেন, শিশুর মুখ দিয়ে যদি কোন কিছু না দেখা যায় তাহলে কোন অবস্থাতেই শিশুর মুখের মধ্যে আঙুল ঢুকাবেন না। যদি আপনি শিশুর গলায় আটকে থাকা জিনিসটি না দেখেই শিশুর গলায় আঙুল ঢুকিয়ে দিন তাহলে দুর্ঘটনা বশত আপনি হয়ত সেই জিনিসটি শিশুর গলার আরো গভীরে পাঠিয়ে দিতে পারেন। যদি আপনি কিছু দেখে থাকেন, তাহলে সবচাইতে ছোট আঙুল দিয়ে জিনিসটি বের করে আনার চেষ্টা করুন।

কোন ইমার্জেন্সি সাহায্য আসার আগ পর্যন্ত এই ধরনের জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে থাকুন।

শিশুর শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা (CPR) কীভাবে করবেন?

CPR শব্দটির পূর্ণ অর্থ হল Cardiopulmanory resucitation. শিশু অচেতন হয়ে পড়ার সাথে সাথে তার শ্বাস প্রশ্বাস যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এটা শিশুকে বাঁচানোর জন্য এই পদ্ধতিটি খুবই কার্যকরী পদক্ষেপ।

CPR এ chest compression এবং মুখে বাতাস দেয়া হয়, যেন জরুরী সাহায্য আসার আগ পর্যন্ত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত মস্তিষ্ক সহ শরীরের জরুরী অঙ্গগুলোতে প্রবাহিত হয়। এভাবে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত শরীরে প্রবাহিত করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের যে কোন ধরনের ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। কেননা মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য জরুরী অঙ্গে অক্সিজেন সহ রক্ত প্রবাহিত না হয় তাহলে শিশু তাৎক্ষনিকভাবে মারা ও যেতে পারে।

নবজাতক শিশুর শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়াটি খুব একটা কঠিন কিছু নয়। নিম্নের নিয়মগুলো মেনে চলুনঃ

প্রথম ধাপঃ প্রথমে চিহ্নিত করুন যে আপনার শিশু কি অচেতন অবস্থায় আছে কি না এবং শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে কি না

এই অবস্থায় শিশুর নাম ধরে তাকে চিৎকার দিয়ে ডাকতে পারেন। যদি সে কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া না দেখায়, তাহলে তার পায়ের নিচে হালকা আঘাত করুন এবং আবার চিৎকার দিয়ে তাকে ডেকে দেখুন যে তার শ্বাস প্রশ্বাস হচ্ছে কি না। খেয়াল করে দেখুন তার বুক উঁচু নিচু হচ্ছে কি না অথবা তার নিঃশ্বাসের শব্দ শোনার চেষ্টা করুন।

যদি আপনার নবজাতক শিশু কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া না দেখায় এবং শ্বাস নেয়া শুরু না করে অথবা শ্বাস নেয়ার চেষ্টা শুরু না করে তাহলে সাথে সাথে কাউকে জরুরী নাম্বারে কল করতে বলুন। (যদি শিশুর কাছে একমাত্র আপনিই থাকেন, তাহলে দুই মিনিট ধরে তাকে নিম্ন বর্ণিত জরুরী সেবা দিতে থাকুন, এরপর ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল দিন।)

আলতো করে আপনার শিশুকে চিত করে শক্ত এবং সমতল জায়গায় শুইয়ে দিন এবং তার পাশে হাঁটু গেড়ে বসুন। লক্ষ্য রাখুন তার থেকে কি কোন ধরনের রক্তপাত হচ্ছে কি না। যদি সে কোন কারণে আঘাত পায় এবং সেখান থেকে রক্তপাত হয় তাহলে প্রথমে সেই স্থানে চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন। রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই CPR শুরু করতে যাবেন না।

দ্বিতীয় ধাপঃ ৩০ বার chest compressions অর্থাৎ বুকে চাপ দিন।

শিশুর কপালে আপনার এক হাত রাখুন। এরপর দুই আঙুল একসাথে করে বুকে ঠিক মাঝ বরাবর এক থেকে আধা ইঞ্চি পরিমাণ চাপ দিন এবং ছেড়ে দিন। জোরে এবং দ্রুত চাপ দিন, তবে খেয়াল রাখবেন এই চাপ যেন সাবলীল হয় এবং শিশু যাতে করে কোন ঝাঁকি না খায়।

প্রতি সেকেন্ডে দুইবার এভাবে চাপ দিতে থাকুন এবং জোরে জোরে এক, দুই, তিন করে গুনতে থাকুন। একটা নির্দিষ্ট ছন্দের সাথে সাথে গণনা করুন এতে করে শিশুর বুকে চাপ দেয়ার সময়টাও একটা নির্দিষ্ট ছন্দের মধ্য দিয়ে এগুবে।

chest compressions

তৃতীয় ধাপঃ অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য দুইবার শিশুর মুখ দিয়ে শ্বাস দিন

মনে রাখবেন, শিশুর মুখ দিয়ে শ্বাস প্রদান করতে আপনার যদি অস্বস্তি হয় অথবা যদি দিতে না চান তাহলে বুকে চাপ অর্থাৎ chest compression পদ্ধতি অবলম্বন করুন। কিছু না করা থেকে অন্তত এটা করা যেতে পারে।

শিশুর কপালে এক হাত এবং দুই আঙুল দিয়ে শিশুর চিবুক ধরে তার মাথা পেছনের দিকে আনুন। এতে তার শ্বাসনালী উন্মুক্ত হবে। খেয়াল রাখবেন মাথা যাতে সমতল অবস্থায় থাকে। শিশুর মুখ দিয়ে যখন নিঃশ্বাস দিবেন তখন শিশুর নাক এবং মুখ আপনার মুখ দিয়ে এমনভাবে ঢেকে দিন যাতে বাতাস বের হতে না পারে।

সাধারণ নিঃশ্বাস নেয়ার মত করে নিশ্বাস নিন এবং  শিশুর নাক এবং মুখ দিয়ে এক সেকেন্ডের মত নিঃশ্বাস ছাড়ুন, দেখুন যে শিশুর বুক একটু উঁচু হয়েছে কি না। যদি শিশুর বুক উঁচু না হয়ে থাকে তাহলে তার মাথা আবার সমতল অবস্থায় আনুন এবং নাক এবং মুখ যাতে একদম ভালো করে বন্ধ থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

Rescue breath ছবিঃ HealthLink BC

যদি শিশুর বুক কোনভাবেই উঁচু না হয়, তার মানে হল শিশুর শ্বাস নালীতে কোন কিছু আটকে আছে। শিশুর মুখ খুলুন এবং ভালো করে দেখুন কোথাও কিছু আটকে আছে কি না এবং যদি সম্ভব হয় তাহলে সেটা সরিয়ে ফেলুন। এভাবে প্রতিবার বুকে চাপ দেয়ার পরপর শিশুর মুখ খুলে চেক করে দেখুন শ্বাসনালী থেকে কিছু কি বের হয়েছে কি না। এভাবে দেখতে থাকুন যতক্ষণ না শিশুর বুক আপনার নিঃশ্বাস দেয়ার সাথে সাথে উঁচু নিচু হয়।

এভাবে ৩০বার বুকে চাপ দিন এবং দুইবার বাতাস দিন যতক্ষণ না আপনি নিম্নোক্ত এমন কিছু দেখেনঃ  

  • শিশু বেঁচে আছে এবং নিঃশ্বাস নিচ্ছে এমন কোন লক্ষণ যদি দেখেন।
  • যখন এভাবে নিঃশ্বাস দেয়ার জন্য অটোমেটিক মেশিন AED (automated external defibrillator) হাতের কাছে চলে আসে। তাহলে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস দেয়ার পরিবর্তীতে সেটা ব্যবহার করুন।
  • আপনি পরপর পাঁচ সেট অর্থাৎ প্রায় দুই মিনিট ধরে CPR দেয়ার পর, আপনার আশেপাশে যদি এভাবে জরুরী চিকিৎসার জন্য কাউকে পান তাহলে তাকে এই জরুরী চিকিৎসা দিতে দিন।
  • আপনি যদি শিশুর সাথে একদম একা থাকেন, তাহলে টানা দুই মিনিট ধরে পাঁচ সেট CPR দেয়ার পর একটু থামুন এবং ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল করুন।
  • কোন জরুরী চিকিৎসক চলে আসলে তাকে চিকিৎসা দিতে দিন।
  • আপনি যদি অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েন তাহলে থেমে যান।
  • পুরো অবস্থাটা দেখে যদি CPR দেয়াটা আপনার কাছে নিরাপদ মনে না হয়।

জরুরী চিকিৎসক আসার সময়ের মধ্যে যদি শিশুর শ্বাস প্রশ্বাস আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং শিশু সুস্থ হয়ে যায় তবুও ডাক্তার তাকে ভালো করে পরীক্ষা করবেন। তিনি ভালো করে পরীক্ষা করে দেখবেন যে শিশুর শ্বাসনালীতে কি এখনো কোন কিছু রয়ে গেছে কি না অথবা শিশু শরীরের অভ্যন্তরীণ কোন ধরনের আঘাত পেয়েছে কি না। 

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts