চাইল্ড অ্যাবিউস বা শিশু নির্যাতন : কিভাবে আপনার শিশুকে নিরাপদ রাখবেন

Updated on

শিশু নির্যাতন, বর্তমানে অভিভাবকদের অন্যতম আতঙ্কের বিষয়। বাংলাদেশে প্রতি ৪ জন মেয়ে শিশুর মধ্যে একজন এবং ৬ জন ছেলে শিশুর মধ্যে একজন যৌন নির্যাতনের শিকার। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ৭৫% যৌন হয়রানির ঘটনাই ঘটে পরিবারের ঘনিষ্ঠজন, বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে। (সূত্র)

শুধু পুরুষ নয়, শিশুরা কখনো কখনো নারীর হাতেও যৌন হয়রানির শিকার হয়৷ শিশুদের যৌন হয়রানির মধ্যে ধর্ষণ ছাড়াও তাদের ওপর নানা ধরনের শারীরিক আক্রমণ, বলাৎকার, স্পর্শকাতর ও যৌনাঙ্গে অসৎ উদ্দেশ্যে স্পর্শ অন্যতম৷

হয়রানি বা নির্যাতন শিশুর মস্তিষ্কে স্থায়ী প্রভাব ফেলে যা অনেকে বড় হওয়ার পরও বয়ে বেড়ায় এবং একসময় তা বিভিন্ন মানসিক রোগে আক্রান্ত করে ফেলতে সক্ষম। কিন্তু শিশুকে আগে থেকেই এ বিষয়ে প্রকৃত শিক্ষা দিয়ে সচেতন করে, এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে কিভাবে তা প্রতিরোধ করতে হবে, তা নিয়ে শিক্ষাদানের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে শিশুকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

শিশুকে নিজের একটা সীমানা নির্ধারণ করা শেখাতে হবে এবং যখন কেউ সেই সীমানা অতিক্রম করে ফেলবে, কিভাবে সাহায্য চাইতে হবে সেটাও তাকে শেখাতে হবে।

নির্যাতনের বিভিন্ন ধাপ যে রয়েছে অর্থাৎ শারিরীক, মানসিক, যৌন – এটা শিশুকে বোঝাতে হবে। তবে অবশ্যই শিশুকে ভয় দেখিয়ে নয়। শিশুর সাথে বেশ খোলামেলা একটা সম্পর্ক রক্ষা করুন, তার বিশ্বাস অর্জন করুন।

আপনি যদি তাকে এটা বোঝাতে পারেন যে, আপনার শিশু কি চিন্তা করছে বা কি বলছে আপনি সেটা গুরুত্বের সাথে নেন, তাহলে শিশু যে কোন সমস্যা কিংবা উদ্ভট অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হোক না কেন, সে তা আপনার সাথে শেয়ার করবে।

নিম্নোক্ত উপায়ে আপনার শিশুকে হয়রানি বা নির্যাতন (চাইল্ড অ্যাবিউস) সম্পর্কে অবগত করার পাশাপাশি তাকে সতর্ক ও সচেতন করতে পারেন।

প্রথম ধাপ – শিশুকে সীমানা নির্ধারণ করতে সাহায্য করা

১. শিশুকে জানান যে প্রত্যেকের একটা ব্যাক্তিগত জায়গা আছে, সেটাকে সম্মান জানানো উচিত। কখনো কখনো মানুষ চাইতেই পারে যে তাকে কেউ স্পর্শ না করুক। হতে পারে সেটা সামান্য হাত ধরা কিংবা কাধে হাত রাখা।

শিশুর এটা জানা থাকা দরকার, যদি কেউ চায় যে তাকে কেউ না ধরুক, সেক্ষেত্রে তার অবশ্যই ‘না’ বলার অধিকার আছে। ঠিক তেমনি সে যদি কাউকে স্পর্শ করতে যায় এবং কেউ আপত্তি জানায়, তার আপত্তিকে সম্মান জানানো অবশ্যই আপনার শিশুর কর্তব্য।

শিশু যখন কথা বুঝতে শিখবে, তার সাথে স্বাভাবিকভাবেই কথা শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে তাকে ‘ব্যাক্তিগত যায়গা’ সম্পর্কে অবগত করুন। কাধে একটা গুতো দেওয়াটাকে হয়তোবা হয়রানি বলা যায় না, তবে ‘ব্যক্তিগত সীমানা’ সম্বন্ধে শিশুকে আগে থেকে জানিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে শিশু কোন হয়রানির সম্ভাবনা দেখলে তা বুঝতে শিখবে।

শিশুকে জানান,শুধুমাত্র শরীরের গোপনাঙ্গ নয়, কারো শরীরের যেখানেই স্পর্শ করা হোক না কেন, সেটা করতে হবে তার অনুমতি নিয়ে। যেখানে যেভাবে হোক না কেন, হতে পারে সেটা গুতো দেওয়া, জড়িয়ে ধরা, দুষ্টুমি করে কাতুকুতু দেওয়া এমনকি কেবল হাত ধরতে গেলেও অনুমতি প্রয়োজন।

দুইটা পুতুলের মাধ্যমে আপনার শিশুকে পুরো ব্যাপারটা বোঝাতে পারেন। হতে পারে, একটা পুতুল আরেকটা পুতুলকে কয়েকবার ধরে খোঁচাচ্ছে, এতে করে ওই পুতুলটা বেশ বিরক্ত হয়ে বললো, “প্লিজ, একা থাকতে দাও” অথবা “প্লিজ থামো। আমাকে ধরো না”।  এভাবে খেলার মাধ্যমে শিশুকে পুরো ব্যাপারটা প্র‍্যাক্টিকালি বোঝাতে পারেন।

২. শরীরের গোপনাঙ্গ ব্যাপারটাকে ট্যাবু হিসেবে না দেখে সে সম্পর্কে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই জ্ঞান দিয়ে রাখুন। শিশুর বয়স ২/৩ বছর হলেই এগুলো নিয়ে তার সাথে কথা বলুন। তাকে জানান, আপনি এবং বাসার কাজের মহিলা যিনি তার যত্ন নেবেন, ডাক্তার – এরা ছাড়া শরীরের এই এই অংশগুলো আর কেউ দেখতে পারবে না।

ডাক্তারের ব্যাপারটা শিশুকে পরিষ্কার করে দিন। শুধুমাত্র আপনার উপস্থিতিতে ডাক্তার চেক আপ কিংবা ঔষুধ দেওয়ার জন্যেই শরীরের গোপন অংশগুলো স্পর্শ করতে পারবে এছাড়া আর কেউ দেখতেও পারবে পারবে না, এমনকি যদি সে বলে সে ডাক্তার – তাও নয়।

শিশুকে বলুন, বাসায় শুধুমাত্র আপনি এবং আপনার শিশুর পরিচারিকা শিশুকে গোসল করানো, ডায়াপার পাল্টানো, কাপড় পাল্টানোর সময় শিশুর শরীরের ব্যাক্তিগত জায়গাগুলো দেখতে পারবেন। এছাড়া ডে-কেয়ার কিংবা স্কুলে শুধুমাত্র আপনার দেখিয়ে দেওয়া আয়া কিংবা শিক্ষিকাই তাকে প্রস্রাব করানোর জন্যে টয়লেটে নিয়ে যেতে পারবে। এই সময়গুলো ছাড়া আর কেউই ‘ব্যাক্তিগত যায়গা’গুলো দেখা কিংবা স্পর্শ করার অধিকার রাখে না।

শরীরের ব্যাক্তিগত স্থানগুলো নিয়ে কথা বলার সময় আপনি নিজে কখনোই সংকোচ বোধ করবেন না। শিশ্নকে শিশ্নই বলুন, যোনীকে যোনীই বলুন, শিশুকেও তা শেখান।  আপনি নিঃসংকোচে কথা বললে শিশুর জন্যেও ব্যাপারটি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং সে যদি কখনো কোন উদ্ভট পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, আপনার কাছে সেটা বর্ণনা করাও অনেক সহজ হবে।

৩. শিশুর এটা পরিষ্কার থাকা দরকার যে, কাউকে কখনোই আঘাত করা ঠিক নয়। কাউকে মারা, চুল ধরে টানা, লাথি দেওয়া, কামড় দেওয়া এর কোনোটাই করা ঠিক নয় কারণ এর দ্বারা আরেকজন মানুষ ব্যাথা পায়। শিশু যদি কাওকে আঘাত করে, তাকে ধীরস্থির ভাবে বসিয়ে বোঝাতে হবে যে সে যে কাজটা করেছে তা ঠিক হয়নি। এটাও বলতে হবে যে, তাকে যদি কেউ আঘাত করে কিংবা সে দেখে যে কেউ কাওকে আঘাত করছে, সেটা সাথে সাথে বড় কাওকে জানাতে হবে।

শিশুরা মিলে যখন একসাথে খেলবে কিংবা মজা করবে, তাদেরকে ভালোভাবে লক্ষ্য করুন এবং তারা যাতে উশৃংখল না হয়ে যায় সেটা বারবার মনে করিয়ে দিন। শিশু যদি কাওকে মারা শুরু করে, কামড়ায় কিংবা কোনোভাবে বাড়াবাড়ি করে, সাথে সাথে তাদের থামিয়ে দিন।

কেউ যদি খেলতে না চায়, তার সাথে খেলা যাবে না।ইচ্ছাকৃত খেলাধূলা এবং হয়রানি এই দুটোর মধ্যে তফাতটা শিশুর জানা দরকার। যে খেলায় একজন ব্যাথা পাচ্ছে, সে খেলতে চাচ্ছে না, এটা কখনো খেলা হতে পারে না।

৪. শিশুকে তার ব্যক্তিগত সীমানা রক্ষা করতে সহায়তা করুন। শিশু কথা পুরোপুরি শেখার আগেই তো তাকে তার ব্যাক্তিগত সীমানা সম্বন্ধে ধারণা দেবেন, তারপর যখন শিশু কথা বলা শিখবে, তাকে প্রথমে ছেড়ে দিন, কিন্তু খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

শিশুকে কেউ জড়িয়ে ধরলে, চুমো খেলে বা ব্যাথা পেলে সে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেটা দেখুন, সে অস্বস্তি অনুভিব করলে তাকে প্রতিবাদ করার সুযোগ দিন। কিন্তু শিশু যদি অস্বস্থি অনুভব করেও ‘না’ করার মতো যথেষ্ট সাহস জোগাড় করতে না পারে, অথবা তার ‘না’ তার বন্ধু না শোনে,সেক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই এগিয়ে আসবেন।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি বলতে পারেন, “আনিকা, তুমি লাইসার চুল ধরে টানা বন্ধ করো। ও তোমাকে দুই বার মানাও করেছে, তোমার ওর কথাকে সম্মান জানানো উচিত।” অথবা এমনটা বলতে পারেন, “শাফায়েত, আমি জাহেদকে পারসোনাল বাউন্ডারি কিভাবে রক্ষা করতে হয় সেটা শেখাচ্ছি। তার গালে চুমো দিলে সে যদি মানা করে, তাকে আর চুমো দিও না, ঠিক আছে?”

ঠিক একইভাবে, আপনার শিশু যখন নিজের বাউন্ডারি সম্পর্কে সচেতনতা দেখাবে, প্রতিবাদ করবে, সেটাকে সমর্থন দিন, অবশ্যই প্রশংসা করুন। তাকে জানান, “বাহ রিয়া, তুমি দেখি লিসাকে গালে চুমো দিতে মানা করেছো! তোমার খুব অস্বস্থি লেগেছিল, তাই না! বেশ করেছো। এইতো আমার সাহসী মেয়েটা।”

৫. শিশুকে তার কথা বলার গুরুত্বটা বুঝিয়ে দিতে হবে। শিশু যখন নিজের বাউন্ডারি সম্বন্ধে সচেতন হবে, তাকে সাথে সাথে প্রশংসাবাক্য শুনিয়ে দিন। “ভাইয়াকে বলেছো যে তোমার ভালো লাগছে না? ওয়াও! আমার আম্মুটা দেখি সব কথাই বলতে পারে!” অথবা “খাওয়ার সময় তোমাকে জড়িয়ে ধরলে ভালো লাগে না! আচ্ছা! তুমি যা বলো, তা-ই হবে।” এভাবে আদরের মাধ্যমে শিশুকে বোঝাতে হবে যে, অস্বস্তি লাগলে কথা বলাটা ভালো জিনিস এবং সে যদি কথা বলে, প্রতিবাদ করে, সে কথার অবশ্যই গুরুত্ব রয়েছে।

এর সাথে সাথে আপনার শিশুকে নিয়ে যখন রেস্টুরেন্টে যাবেন, তাকে তার  নিজের খাবারটা নিজেকেই অর্ডার দিতে বলুন, দোকানে গেলে কোন আইসক্রিমটা লাগে সেটাও নিজ থেকেই চাইতে বলুন, টাকা ফেরত দিলে সেটাও নিজের হাতে নিতে দিন। এসবের মাধ্যমে শিশু জনস্মমুখে কথা বলা শিখবে, অপরিচিত বা অল্পপরিচিত মানুষদের সাথে কথা বলার সংকোচটা ভাঙবে, পাশাপাশি নিজের কথার ভ্যালু বুঝতে শিখবে।

৬.  আপনার শিশুকে বলুন, সে যেন আপনার কাছে কোন জিনিসই গোপন না করে। বড় কেউ হোক কিংবা তার কোন বন্ধু, কেউ যদি আপনার শিশুকে বলে যে “এই ঘটনাটা/কথাটা তোমার আম্মুকে বলো না”, আপনার শিশু যেন সাথে সাথে সেটা আপনাকে জানায়। বিশেষত কেউ স্পর্শ করে বা ব্যাথা দিয়ে যদি আপনার শিশুকে এমনটি বলে থাকে, শিশুর সেটা আপনাকে জানানো খুবই জরুরি, এটাও তাকে ভালোমত বোঝাবেন।

শিশুকে বলুন, “যদি তোমাকে বড় কেউ অথবা তোমার কোন বন্ধু তোমাকে স্পর্শ করে, ব্যাথা দেয় কিংবা তোমার অস্বস্তি হয়, এমন কোন কাজ করে এবং বলে যে কাওকে বলো না, তুমি সাথে সাথেই আমাকে, কিংবা স্কুলের টিচারকে কিংবা আশেপাশে অন্য কোন বড় কাওকে জানাবে। না জানালে কিন্তু তোমার অনেক ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। এ সময় অবশ্যই অন্য কারো সাহায্য চাইবে, ঠিক আছে?”

পাশাপাশি আপনার শিশুর কোন বন্ধুর সাথেও যদি এমনটা হয়ে থাকে এবং আপনার শিশু তা দেখে বা জানতে পারে, শিশু যাতে সেটাও আপনাকে জানায়। আপনার সাথে শিশুর সম্পর্কটা যদি বন্ধুভাবাপন্ন রাখতে পারেন, সেক্ষেত্রে শিশু এবং আপনার মধ্যে ‘গোপন’ বলে আর কিছু থাকার সম্ভাবনা থাকে না।

৭.  ‘প্রাইভেসি’কে সম্মান জানানোর শিক্ষাটা শুরু হোক নিজ বাসা থেকেই। বেডরুমে কিংবা ওয়াশরুমে ঢোকার সময় দরজায় টোকা দেওয়া, অনুমতি নিয়ে ঢোকা প্রভৃতি জিনিসগুলো ঘরের নিয়ম করে ফেলুন, প্রয়োজনে বোর্ডে লিখে দেয়ালে টানিয়ে দিন।

আপনার শিশু যখন নিজে নিজে কাপড় পড়া শিখে যাবে, তাকে একান্তে গোপনীয়তা রক্ষা করে কাপড় পাল্টাতে বলুন। এর মাধ্যমে শিশু ব্যক্তিগত বাউন্ডারি বা সীমানাকে সম্মান জানাতে শিখবে।

প্রত্যেকের প্রাইভেসিকে সম্মান জানানোটাকে ঘরের নিয়ম বানিয়ে ফেললে শিশুর ব্যাক্তিগত বাউন্ডারিকে সম্মান জানানোর অভ্যাসটা হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় ধাপ : শিশুকে “হয়রানি” বা “নির্যাতন” ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা

১. শিশুকে ভয় না দেখিয়ে সম্ভাব্য অনিরাপদ পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। শিশুকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে সে বিপদ ঘটার আগেই বিপদটা বুঝতে পারে এবং অন্য কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারে। শিশুকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার সময় অবশ্যই সে ভয় পেয়ে যায়, এমন ভাষায় বলা যাবে না। আদর দিয়ে, সাহস দিয়ে বোঝাতে হবে।

শিশুর বয়স যখন ৩/৪ বছর, তখন থেকেই তাকে ধীরে ধীরে এই বিষয়ে কথা বলা শুরু করতে পারেন। ধাপে ধাপে শিশুকে পুরো ব্যাপারটা বোঝাতে পারেন।

প্রথমত, ব্যাক্তিগত জিনিসগুলো যে কেবল ‘ব্যাক্তিগত’ই, সেটা তাকে বোঝান, তারপর তাকে বলুন সে যাতে অপরিচিত কারো সাথে কথা না বলে, এর পর তাকে বলুন কিভাবে পরিচিত কোন বড় মানুষ থেকে সাহায্য চাওয়া যায়। শিশু যখন মাস কয়েক পর আরেকটু বুঝতে শিখবে, একই জিনিসগুলো তাকে আবারো বলুন, কিন্তু এবার আরো কিছু কথা ও সতর্কবাণী যোগ করে।

শিশুকে বলতে পারেন, “এমন কিছু মানুষ আছে যারা তোমার ব্যাক্তিগত যায়গাগুলো নিয়ে বেশী বেশী কথা বলবে, ধরতে চাইবে কিংবা দেখতে চাইবে অথবা তাদেরটা দেখাবে। তুমি হয়তো তাকে চেনোই না, অথচ সে তোমার সাথে খুবই ভাল ব্যাবহার করতে পারে, তোমাকে খেলনা, চকলেট এগুলো দিতে চাইবে। হয়তো তার সাথে তোমাকে যেতে বলতে পারে, তার গাড়িতে উঠতে বলতে পারে। যদিও তারা তোমার সাথে খুব ভালো ব্যাবহার করে, কিন্তু তারা তোমাকে ব্যাথা দিতে পারে। এমন কাওকে দেখলে তোমাকে কিন্তু খুব সাহসী হতে হবে, ঠিক আছে? তুমি সাথে সাথে মানা করবে এবং পরিচিত কোন চাচ্চু, ম্যাম কিংবা টিচার আশেপাশে থাকলে দৌড়ে চলে যাবে এবং বলে দেবে।”

২. অপরিচিত মানুষ থেকে দূরে থাকতে বলুন। আপনি যখন শিশুকে নিয়ে বাইরে যাবেন, তাকে আপনার একদম সাথে সাথে থাকতে বলুন। শিশু যদি হেঁটে স্কুলে যায়, মাঠে কিংবা বন্ধুর বাসায় খেলতে যায়, তাকে অবশ্যই তার দলের সাথে, বন্ধুদের সাথে একসাথে থাকতে বলে দিন। সে যাতে অল্পপরিচিত কোন যায়গায় ঘোরাঘুরি না করে, অপরিচিত কারো সাথে কথা না বলে।

শিশুর সাথে যদি অপরিচিত কেউ কথা বলতে আসে কিংবা ফলো করে, শিশুকে শিখিয়ে দিন সে যেন মানুষ বেশী রয়েছে, এমন কোন যায়গায় দ্রুত চলে যায়।

শিশুর কাছে যদি মোবাইল ফোন থাকে, তবে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে শিশু যাতে আপনাকে, তার আব্বুকে কিংবা পরিচিত বড় বিশ্বস্ত কাওকে ফোন করে এবং তার নিজের অবস্থান এবং ওই লোকটি সম্বন্ধে জানায়। আর শিশুকে এটাও শিখিয়ে দিন এবং বলে দিন যদি সে সত্যি সত্যিই আঁচ করে ফেলে যে সে হয়তো বিপদে পড়তে যাচ্ছে সে যাতে সরাসরি ইমার্জেন্সি হেল্পলাইনে ফোন করে। ইমার্জেন্সি হেল্পলাইনের নাম্বারটা তাই শিশুর মোবাইলে সেভ করে দিন।

৩. ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী শিশুদের অবশ্যই অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করে দিতে হবে। শিশু যদি অনলাইনে গেম খেলে থাকে যেখানে র‍্যান্ডম মানুষদের সাথে কথা বলা যায়, সে যদি ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যাবহার করে, তাহলে শিশুকে জানিয়ে দিন সে যেন কেবল পরিচিত মানুষদের সাথেই কথা বলে। বাসার কম্পিউটার, ভিডিও গেমস ইত্যাদি বাসার কোন কোণায় না রেখে সবার চোখের সামনে ব্যাবহার করতে হয়, এমন যায়গায় রাখা উচিত।

আপনার শিশুকে বলুন, “ভিডিও গেমস খেলার সময় কিংবা ফেসবুকে শুধু তোমার বন্ধু এবং ক্লাসমেটদের সাথেই কথা বলবে, ঠিক আছে? অনেক খারাপ মানুষ আছে, যারা বাচ্চা সেজে তোমার সাথে কথা বলতে চাইবে, বন্ধু হতে চাইবে। তাই ইন্টারনেটে যে কারো সাথে কথা বলার আগে নিশ্চিত হয়ে নেবে যে তুমি তাকে সামনাসামনি দেখেছো এবং চেনো।”

শিশুকে শিখিয়ে দিন সে যাতে কখনোই নিজের ডাকনাম, বাসার ঠিকানা কিংবা সে কোন স্কুলে পড়ে এগুলো ফেসবুকে কিংবা ইন্টারনেটের কোথাও না জানায়। কেবল বাস্তবজীবনের বন্ধুদের সাথে টুকটাক যোগাযোগের জন্যেই যাতে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যাবহার করে, সেটা নিশ্চিত হোন।

৪. শিশু যখন বেড়ে উঠবে, তাকে সম্মতি অসম্মতি ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিন। তার বয়স যখন ১২/১৪ বছর, তাকে সম্মতিসূচক স্পর্শ করার ব্যাপারটি বোঝানোতে বেশী জোর দিন। যৌন হয়রানি এবং পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে যৌন স্পর্শের মাঝে তফাতটা তার জানা জরুরি।

শিশু যদি আপনার সাথে এসব বিষয়ে কথা বলতে অস্বস্থিবোধ করে, তাকে জানান যে তার উপযুক্ত বয়স হয়েছে বলেই তার সাথে এসব বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে। আপনার ১৬/১৭ বছর বয়সী শিশুর এটা জানা থাকা উচিত যে কেবল দুই পক্ষই যদি রাজি থাকে, সম্মত হয়, তবেই যৌন সম্পর্ক সংগঠিত হতে পারে, তা ব্যাতীত নয়।

শিশুকে এটাও বলুন যে, যদি কেউ প্রথমে রাজি হয়, কিন্তু পরবর্তীতে অস্বস্তিতে ভোগে এবং মানা করে, বুঝতে হবে তার সম্মতি নেই, সেখানে আর জোর চলে না।

আপনার টিনএজ শিশুকে বোঝান যে, মানুষের যৌন অনুভূতিটি খুবই স্বাভাবিক কিন্তু যৌন সম্পর্ক করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ এবং এখনই এটা করার সময় নয়। তাদের পূর্ণবয়স্ক হওয়া এবং সত্যিকারের ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলুন।

৫. উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলা, গালি দেওয়া এগুলো শিশুরা যেমন করে, তেমনি বড়রাও করতে পারে। এসব কথায় প্ররোচিত হওয়া চলবে না। কাওকে মারা, হেয়-প্রতিপন্ন করে নাম বিকৃত করে ডাকা, এগুলো যেমন শিশুরা করতে পারে, বড়রাও করতে পারে এবং উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা খারাপ। শিশুকে বোঝান যে যারা এমন উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে, বাজে নাম ধরে ডাকে, এটা পুরোটাই যে করছে, তার দোষ, যাকে ডাকা হচ্ছে তার কোন দোষ নেই; সুতরাং এসবে প্ররোচিত হওয়া কিংবা লাগতে যাওয়া উচিত নয়।

শিশুকে বলুন, “কাওকে মারতে যাওয়া, কাওকে নিয়ে হাসাহাসি করা, বাজে নাম ধরে ডাকা- এগুলো খুবই খারাপ কাজ। কখনো তো করবেই না, বরং তোমার সাথে কখনো ঘটলে চুপ করে না থেকে তুমি সাথে সাথেই আমাকে কিংবা স্কুলের টিচারকে তা জানিয়ে দেবে।”

৬. কিভাবে অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে বের হতে হবে, তা শিশুকে শিখিয়ে দিন। কেউ যদি তার সাথে গোপন অঙ্গ নিয়ে বার বার কথা বলতে চায়, জোর করে, স্পর্শ করতে চায়, সেক্ষেত্রে তার উচিত যথেষ্ট জোর দিয়ে ‘না’ বলা এবং কিভাবে দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ যায়গায় চলে যাওয়া সেটা ব্যবস্থা করা। তাকে বোঝান, যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে এবং বিশ্বস্থ কাওকে জানাতে হবে যে মাত্র তার সাথে কি ঘটেছে।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে শিশুকে আগে থেকেই কয়েকজন বিশ্বস্ত বয়স্ক ব্যাক্তির কথা উল্লেখ করে দিন যার কাছে যেয়ে শিশু তার বিপদের কথা বলতে পারে। স্কুলে এমন পরিস্থিতি হলে স্কুলের কোন কোন শিক্ষকের কাছে সে নিরাপদ, বাসায় কিংবা অন্য কোথাও হলে কোন কোন আত্মীয়কে সে তার বিপদের কথা বলতে পারবে, সেটাও আপনি ঠিক করে দিতে পারেন। এমন হলে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিশুর জন্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।

তৃতীয় ধাপ : শিশুকে নিরাপদে রাখুন

১. শিশুর সাথে যখনই কথা বলবেন, সময় দিয়ে মনযোগ সহকারে শুনুন। শিশু কি ভাবছে, তার সাথে কি কি হয়েছে এগুলো ঠিকঠাক জানার জন্যে কথা বলার চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। তার সাথে মন খুলে কথা বলুন, “আরিয়া, আজ স্কুলে কি হলো?” অথবা “নতুন বন্ধুটাকে তোমার কেমন লেগেছে?” এভাবে দুইজনেই প্রচুর কথা বলতে পারেন মতো করে প্রশ্ন করুন। তাকে বুঝতে দিন যে আপনি তার সাথে পূর্ণ মনযোগ দিয়ে কথা বলছেন। তার দিকে তাকিয়ে, মাথা নাড়িয়ে, হেসে ঠিকঠাক উত্তর দিয়ে কথা বলুন।

চাইলেই কিন্তু শিশুকে “আজ টিফিন টাইমটা ভালো কেটেছে?” না বলে “আজ টিফিন টাইমে কি কি মজা করলে? বলা যায়। এতে করে শিশুর সাথে বেশীক্ষণ কথা বলা হবে, শিশুর মনের কথাটাও শোনা হবে।

শিশুর ছোটখাট সমস্যাও বেশ মনযোগ দিয়ে শুনবেন এবং সমাধান করবেন। শিশু যদি ছোটখাট সমস্যার সমাধান আপনার কাছে পায়, তাহলে সে বড় সমস্যা আপনার কাছে নিয়ে আসতে দ্বিধাবোধ করবে না।

 ২. শিশুর জীবনের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করুন। ডে-কেয়ার কিংবা স্কুলে তার কাজকর্মে সহায়তা করুন। বাসার বাইরে শিশুকে যে কোন প্রকার হয়রানি থেকে রক্ষা করতে শিশুর জীবনের সাথে মিশে যাওয়াটা বেশ দরকারি। যাদের সাথে শিশুর প্রায় নিয়মিত দেখা হয়, কথা হয়, যেমন স্কুলের শিক্ষক, কোচ- তাদের সাথে ক’দিন পর পর যেয়ে আপনিও কথা বলে আসুন, খোঁজখবর নিন।

আপনি যদি সক্রিয় থাকেন, তাহলে শিশুর আশেপাশের নিয়মিত মানুষদের মধ্যে কোন সন্দেহজনক আচরণ দেখলে আপনি সাথে সাথেই তা বুঝতে পারবেন- যেমন বেশী বেশী গা ঘেষা, কোন শিশুর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া কিংবা বেশী বেশী শিশুর খোঁজ খবর নেওয়া, টেক্সট করা ইত্যাদি। তবে যারা হয়রানি করে থাকে, তারা বেশ ধূর্ত হয় এবং আদতে দেখে বোঝার উপায় নেই। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, যারা আপনার শিশুকে আদর করে, অধিকাংশের উদ্দেশ্যই কিন্তু ভালো।

৩. আপনার শিশুর দিকে অতিরিক্ত নজর দিচ্ছে এমন মানুষদের থেকে সাবধান থাকুন। কোন শিক্ষক কিংবা কোচ যদি আপনার শিশুর সাথে একা কোন কথোপকথন করতে চায়, সেটা অবশ্যই হতে হবে আপনার অনুমতি নিয়ে এবং খোলামেলা পরিবেশে আপনার সামনে।

শিশুকে কেউ এমনিতেই খেলনা, চকলেট এগুলো দিচ্ছে কিনা, বার বার ধরছে কিনা সেগুলো নোট করে রাখুন। বার বার স্পর্শ করার ধরণটা যত স্বাভাবিকই হোক না কেন,(পিঠে বা গালে হাত বুলিয়ে দেওয়া) আপনাকে কিন্তু সতর্ক থাকতেই হবে।

আপনি কোন সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করা মানেই কিন্তু এই না যে শিশু সত্যি সত্যিই হয়রানির শিকার হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে। আপনি যদি সন্দেহ করেন, তাহলে আগে শিশুকে জিজ্ঞেস করে নিন কিংবা তাকে ওই ‘বিশেষ’ লোকটি থেকে দূরে দূরে থাকতে বলে দিন।

৪. শিশু ইন্টারনেটে কি কি করে তা ভালোভাবে খেয়াল করুন। শিশুর কম্পিউটারটি কোনভাবেই তার শোবার ঘরে রাখবেন না। বাসার ড্রয়িংরুমে, যেখানে সে কি করছে না করছে সব দেখা যায়,এমন যায়গার থাকুক কম্পিউটারটি। এবং শিশু রাতে ঘুমুতে গেলে ফোন নিয়ে বেডরুমে যেতে পারবে না,  ফোন ড্রয়িংরুমে রেখে যেতে হবে- এটা ঘরের নিয়ম করে ফেলুন।

শিশুর বয়স যদি ১৫/১৬ বছর হয়ে যায়, সে যতক্ষন না কোন বিপদে পড়ছে কিংবা কোন আইন ভঙ্গ করছে, সে তার মেসেজ, ফেসবুক বা ইমেইলের পাসওয়ার্ড ইত্যাদি ‘প্রাইভেট’ করে রাখার অধিকার রাখে কিন্তু তবুও আপনি নজর দেওয়া থামাবেন না। শিশুর সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তার বন্ধু হিসেবে যুক্ত হয়ে নিন যাতে তার কার্যক্রমগুলো দেখতে পারেন।

৫. হয়রানির লক্ষণ দেখতে পান কিনা খেয়াল করুন।  হঠাৎ করে মুড অফ হয়ে যাওয়া, মন খারাপ করে বসে থাকা কিংবা অযথাই রেগে যাওয়া, স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘ্যাত ঘটা প্রভৃতি যেমন লক্ষণের মধ্যে পড়তে পারে, তেমনি আবার বয়সের তুলনায় যৌনতা সম্বন্ধে বেশী জানা, শরীরের কোন কোন যায়গায় আচড় কিংবা কামড়ের দাগ প্রভৃতিও কিন্তু যৌন হয়রানির লক্ষণ হতে পারে।

মনে রাখবেন, এমন কোন লক্ষণ দেখা মানেই যে শিশু হয়রানির শিকার, তা কিন্তু নয়। এটা টিনেজ বয়েসের স্বাভাবিক মুডের পরিবর্তন কিংবা অন্য কোন কারণেও হতে পারে। আপনি যদি নিশ্চিত না হন কিন্তু চিন্তিত থাকেন, সেক্ষেত্রে শিশুর সাথে কথা বলুন অথবা শিশুকে একবার ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে আসুন – সেক্ষেত্রে শিশুর শরীরের চেক-আপটাও হয়ে যাবে।

চতুর্থ ধাপ : শিশু হয়রানি বা নির্যাতিত হলে মোকাবেলা করা

১. শিশুকে ধীরেসুস্থে, নরমভাবে কিন্তু সরাসরি জিজ্ঞেস করুন কোন সমস্যা হয়েছে কি না। আপনি যদি শিশুর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করে থাকেন কিংবা কোন শারীরিক হয়রানির লক্ষণ নিয়ে মোটামুটি নিশ্চিত হন, সেক্ষেত্রে একান্তে শিশুর সাথে কথা বলুন।

তাকে অনেকটা আদর করেই জিজ্ঞেস করুন তার সাথে কিছু হয়েছে কি না। তার সাথে অবশ্যই নমনীয় থাকুন কিন্তু সরাসরি এবং নির্দিষ্ট প্রশ্নটাই করুন। সরাসরি জিজ্ঞেস করলে শিশুর ‘কিভাবে বলবো?’র ইতস্তত ভাবটা কেটে যায়, সে কথা বলতে সাহস পায়।

শিশু যদি মন খারাপ করে, মুড অফ রেখে থাকে, তাকে সরাসরিই জিজ্ঞেস করুন, “তোমার মন বেশ খারাপ মনে হচ্ছে, আবার কেমন যেন অন্যমনস্কও। আমাকে কি বলবে তোমার কি হয়েছে?”

আপনি যদি যৌন হয়রানির ব্যাপারে সন্দেহ করে থাকেন, তাহলে বলতে পারেন, “কেউ কি তোমার শরীরের গোপন অংশগুলো (আপনি চাইলে সরাসরি শিশ্ন কিংবা যোনীও বলতে পারেন) নিয়ে কিছু বলেছে বা করেছে? তুমি তো জানোই আম্মু, কেউ যদি তোমাকে এভাবে ধরে, এতে তোমার তো কোন দোষ নেই, তাইনা?”

অথবা বলতে পারেন, “তোমার হাতে এই দাগটা কিসের? কেউ কি আমার আব্বুটাকে মেরেছে?”

আপনি প্রশ্ন করার পর শিশুর প্রতিক্রিয়া খুব ভালোভাবে খেয়াল করুন। সে যদি আপনার সন্দেহটা নিশ্চিত করে, কিংবা বলতে ভয় পায় কিংবা কান্নাকাটি শুরু করে, সেক্ষেত্রে আপনার দ্রুত ইমার্জেন্সিতে কল করতে হবে, শিশুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং দক্ষ শিশু মনোবিদের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

২. আপনি যথাসম্ভব মাথা ঠান্ডা রাখুন, শিশুকে যে হয়রানি করেছে তাকে তখনই হুমকি ধামকি দেওয়ার দরকার নেই। আপনার রাগ, কষ্ট ও ভয় মিলে মিশ্র এক অনুভূতি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবুও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিন। শিশুকে যে হয়রানি করেছে কিংবা সন্দেহভাজন ব্যাক্তিকে “শাস্তি দেব” অথবা “দেখে নেব” বলে হুমকি তো দেবেনই না, তার সাথে আপাতত যোগাযোগই করবেন না। আগে শিশু, তারপর সবকিছু।

মনে রাখবেন, শিশু হয়রানির শাস্তি প্রদানে আইন আছে, আপনাকে সেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগুতে হবে। ব্যাপারটা নিজের হাতে তুলে নিলে সেখানে ভালো’র চেয়ে খারাপ কিছু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

৩. আপনার শিশু যে কোন ভুল করেনি, সে বিষয়টিই তাকে বার বার বোঝান। তাকে বলুন যে আপনি খুবই খুশি হয়েছেন যে সে আপনাকে সব কথা বলেছে এবং সে একদম ঠিক কাজটাই করেছে। তাকে মনে করিয়ে দিন, সে কতটা সাহসী যে সে সব কথা আপনাকে বলতে পেরেছে। এসবে যে আপনার শিশুর কোন ভুলই নেই, সেটা বোঝানোতেই বেশি গুরুত্ব দিন।

এই সময়ে শিশুকে অনেক বেশী আদর করবেন। বার বার মনে করিয়ে দেবেন আপনি তাকে কতটা ভালোবাসেন, তাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী সময় দেবেন, তার মন খারাপ হলে সে যাতে আপনার কাছে ছুটে আসতে পারে, সে সুযোগ করে দেবেন।

৪. শিশুকে বোঝান যে তার সাথে যা হয়েছে সেটা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোটা খুবই জরুরি। পুলিশে কল করুন এবং শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে কিংবা আপনার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। সেখানে হয়রানির চিহ্নগুলো পরীক্ষা করান এবং যদি প্রয়োজন হয় সেগুলোর প্রমাণাদি সংরক্ষণ করুন।

আপনার শিশুর হয়রানি নিয়ে করনীয় জানতে এবং যে হয়রানি করেছে, তাকে রিপোর্ট করতে বাংলাদেশের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইমার্জেন্সী হেল্পলাইন ১০৯ তে কল করুন যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য, সহায়তা ও পরামর্শ পাবেন।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts