কিভাবে নবজাতক শিশুর যৌনাঙ্গের সঠিক যত্ন নেবেন

Updated on

নবজাতক শিশুর যৌনাঙ্গ অনেক স্পর্শকাতর একটা যায়গা, তাই এটা পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্ন নিতে হবে। খুব বেশি বেশি ধুয়ে নেয়া অথবা মুছে দেয়াটা শিশুর ত্বকের জন্য খুব একটা ভালো না তাই পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রেও একটু সচেতনতা জরুরী। 

শিশুর যৌনাঙ্গের যত্নে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরী

নিয়মিত নবজাতক শিশুর ডায়াপার বা ন্যাপি পরিবর্তন করুন। যদি সে মলত্যাগ করে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সেটা পরিষ্কার করে ফেলুন। কেননা মল তার প্রস্রাবের সাথে মিশে গেলে সেটা তার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে র‍্যাশ তৈরি হতে পারে এবং সেটা তার যৌনাঙ্গ, ঊরুসন্ধি এবং মলত্যাগের রাস্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহে শিশুর যৌনাঙ্গের অপরিষ্কার জায়গাগুলো কুসুম গরম পানি দিয়ে ঢুয়ে দিন। শিশুদের পরিষ্কারের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি লিকুইড ক্লিঞ্জার এই কুসুম গরম পানির মধ্যে হালকা পরিমাণে মিশিয়েও নেয়া যেতে পারে। অথবা স্পর্শকাতর নবজাতক শিশুর জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘ওয়েট টিস্যু’ ব্যবহার করা যেতে পারে। জেনে রাখা ভালো যে, নবজাতক শিশুর জন্য বিশেষভাবে তৈরি এগুলো ব্যাবহার করলে শিশুর ত্বকের কোন ক্ষতি হয় না। 

তবে পরিষ্কারের জন্য তৈরি ক্লিঞ্জারে যদি সাবান থাকে অথবা ওয়েট টিস্যু যদি এলকোহল অথবা সুগন্ধি দিয়ে তৈরি করা হয় তাহলে সেই পণ্যগুলো ব্যবহার না করাই ভালো। কেননা এই উপাদানগুলো শিশুর শরীরের ত্বকের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশুর নিম্নভাগ খুব কোমলভাবে পরিষ্কার করুন এবং এরপর শুকনো এবং নরম টাওয়েল দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। নবজাতকের ত্বকে যাতে কোন প্রকার প্রদাহ তৈরি না হয় এজন্য আপনি চাইলে এজন্য বিশেষ ভাবে তৈরি ক্রিম (ডায়াপার র‍্যাশ ক্রীম)  ব্যবহার করতে পারেন। সবচাইতে ভালো হয় যদি পারা যায় যতটা সম্ভব বাচ্চাকে ডায়াপার না পরিয়ে রাখা।

আপনার নবজাতক শিশুর ত্বক যদি শুষ্ক হয় তাহলে শরীর আর্দ্র রাখার জন্য তৈরি বিশেষ Emollient দিয়ে আপনার শিশুকে গোসল করাতে পারেন। তবে এই emollient পানিতে মিশিয়ে গোসল করানোর পরপর আপনার শিশুর ত্বক খুবই পিচ্ছিল হয়ে থাকবে আর তাই আপনার হাত থেকে যেন পিছলে না যায় এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকবেন।

[ আরও পড়ুনঃ নবজাতক শিশুর যৌনাঙ্গের ৯টি সাধারণ সমস্যা ]

নবজাতক ছেলে শিশুর যৌনাঙ্গের পরিচর্যা কীভাবে করবেন?

শিশুর ডায়াপার বা ন্যাপি পরিবর্তনের সময় অথবা গোসল করার সময়, লেগে থাক ময়লা পরিষ্কারের জন্য ভালো করে লিঙ্গ ও অণ্ডকোষের চারপাশ ধুয়ে নিন অথবা ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুছে নিন।

এক্ষেত্রে আপনি পরিষ্কার কাপড় অথবা তুলার প্যাডের মধ্যে পানি অথবা নবজাতকের পরিষ্কারের জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের তরল (Baby cleansing liquid) মিশিয়ে নিয়ে পারেন। বিশেষ করে শুধুমাত্র নবজাতকের জন্যই বানানো এই ধরনের তরল শিশুর ত্বকের জন্য বেশ ভালো। এতে করে ত্বকের উপর কোন ক্ষতিকারক প্রভাব থাকে না।

তুলার প্যাড এবং পানির মতই নবজাতকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ওয়েট টিস্যু শিশুর ত্বকের জন্য বেশ ভালো। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যাতে এই ধরনের টিস্যুতে এলকোহল অথবা কোন সুগন্ধি যেন না থাকে।

আপনার নবজাতক সন্তান যদি ছেলে হয়ে থাকে তাহলে তার লিঙ্গের অগ্রভাগ বেশীরভাগ সময়ে নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়ে থাকে। তবে যদি কখনো পরিষ্কার করতেও হয় তাহলে খেয়াল রাখবেন এর অগ্রভাগের চামড়া কখনো টেনে ধরে পরিষ্কার করবেন না এতে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে এবং এই চামড়া আবার আগের অবস্থান ফেরত আসেনা।

নবজাতক শিশুর লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া তার লিঙ্গের সাথে লেগেই থাকে এবং তা তার দু বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে আলাদা হতে শুরু করে।  তাই এই চামড়া আপনি নিজেই আলাদা করার চেষ্টা করেন তাহলে নবজাতকের জন্য ভালো তো হবেই না বরং তার জন্য ক্ষতিকর একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

যদি আপনার নবজাতকের খৎনা (Circumcision) করা হয়ে থাকে তাহলে তার ডায়াপার বা ন্যাপি নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং তার লিঙ্গ পরিষ্কার রাখুন। লিঙ্গ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে আপনি পানির সাথে সামান্য পরিমাণে নবজাতক শিশুর পরিষ্কারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি তরল সাবান ব্যবহার করতে পারেন। খৎনার পর সেই ক্ষতে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে দিয়ে এরপর ডায়াপার বা ন্যাপি পরাবেন। ক্ষত একদম ঠিক হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাস লাগে সেই ব্যবস্থা করুন, প্রয়োজনে যতটা সম্ভব ডায়াপার ছাড়া রাখতে পারেন।

খৎনার পর নবজাতক শিশুর লিঙ্গ ঠিক হতে প্রায় সাত থেকে দশ দিনের মত সময় লাগে। খৎনা করানোর প্রথম কিছুদিনের মধ্যে শিশুর লিঙ্গ কিছুটা ফোলা ফোলা এবং লালচে দেখানোর সাথে ক্ষতের পাশে কিছুটা হলদে ভাব দেখা যেতে পারে। এতে চিন্তার কিছু নেই, এগুলো সবই স্বাভাবিক ভাবে ঠিক হয়ে যাওয়ার লক্ষণ।

যদি আপনার শিশুর লিঙ্গে কোন প্রকার সংক্রমণ অথবা ইনফেকশন দেখা যায়, তাহলে লালচে ভাবটা ধীরে ধীরে চলে যায় না এবং সামান্য রক্ত ক্ষরণ ও লিঙ্গের উপরিভাগ ফুলে যেতে পারে। এমতাবস্থায় প্রস্রাবের সময় শিশু ব্যথা অনুভব করবে। আর তাই যদি শিশুর কান্নায় যদি অস্বাভাবিকতা দেখেন এবং এই ধরনের লক্ষণ দেখতে পান তাহলে অতিসত্বর ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

মেয়ে শিশুর যৌনাঙ্গ কীভাবে পরিচর্যা করবেন?

ডায়াপার বা ন্যাপি পরিবর্তন অথবা গোসলের সময় আপনার নবজাতক মেয়ে শিশুর যৌনাঙ্গ এবং মলত্যাগের রাস্তা পানি দিয়ে ধুয়ে দিন অথবা ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুছে দিন। মোছার সময় ধীরে ধীরে সামনে থেকে শুরু করে পিছনের অংশ মুছবেন। এক্ষেত্রে পরিষ্কার কাপড় অথবা তুলার প্যাড এর সাথে পানি অথবা পানির সাথে নবজাতকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি তরল সাবান ব্যবহার করতে পারেন।

নবজাতক শিশুর জন্য বিশেষভাবে তৈরি সুগন্ধি  বিহীন ওয়েট টিস্যু ব্যাবহার পরিষ্কার কাপড় এবং তুলার প্যাডের মতই নিরাপদ। তবে সবসময় লক্ষ্য রাখবেন, যাতে ওয়েট টিস্যুটি এলকোহল-মুক্ত হয়। নবজাতক মেয়ে শিশুর যৌনাঙ্গ এবং প্রস্রাব করার রাস্তাও মুছে দিবেন। 

যদি আপনার নবজাতক মেয়ে শিশুর মল তার কাপড়ের মধ্যে বেশি ছড়িয়ে যায় এবং মল তার যৌনাঙ্গের উপরের পাপড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে আপনাকে যা করতে হবে তা নিম্নরূপ-

  • পরিষ্কার আঙ্গুল দিয়ে খুব আলতো করে যৌনাঙ্গের পাপড়ি দুই দিকে সরিয়ে দিন
  • একটি ভেজা তুলা, পরিষ্কার ভেজা কাপড় অথবা ওয়েট টিস্যু দিয়ে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সমস্ত অংশ মুছে নিন।
  • অতঃপর, যৌনাঙ্গের পাপড়ির দুই সাইডে একই ভাবে মুছে নিন।  

যৌনাঙ্গ থেকে শুরু করে মলত্যাগের রাস্তা পর্যন্ত এভাবে মোছার কারণ হলো, এতে করে মলত্যাগের রাস্তা থেকে জীবাণু যৌনাঙ্গ এবং প্রস্রাব করার রাস্তায় সংক্রমিত হয় না। আবার যখন শিশুকে গোসল করাবেন তখন পরিষ্কার কাপড় অথবা স্পঞ্জ দিয়ে এই সমস্ত অংশে পানি দিয়ে মুছে দিন। এক্ষেত্রেও লক্ষ্য রাখবেন যাতে যৌনাঙ্গ থেকে শুরু করে পিছনের দিকে মুছে দেয়া হয়।

নবজাতক মেয়ে শিশুর জন্মের প্রথম কয়েকদিন আপনি হয়ত লক্ষ্য করতে পারেন যে, তার যৌনাঙ্গ কিছু ফোলা এবং লালচে বর্ণ ধারণ করেছে অথবা যৌনাঙ্গ দিয়ে সাদা অথবা রক্ত মিশ্রিত স্রাব বের হচ্ছে। এই ধরনের লক্ষণগুলো খুবই স্বাভাবিক। জন্মের আগে মায়ের হরমোনের সংস্পর্শে আসার কারণে শিশুর এমনটা হয়ে থাকে। 

প্রথম ছয় সপ্তাহ পরেও যদি এমন স্রাব লক্ষ্য করেন তাহলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞর সাথে সাক্ষাৎ করুন এবং এই ব্যাপারে চিকিৎসা গ্রহণ করুন।    

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts