শিশুর বেড়ে ওঠা । ১৯ মাস

আপনার শিশুর বয়স এখন ১৯ মাস। এসময় শিশুকে টিভি অথবা মোবাইলে কোন কিছু দেখিয়ে ব্যস্ত রাখার ইচ্ছা হতে পারে। ছোটদের অনুষ্ঠান অথবা ইউটিউবে ছোটদের অনেক চ্যানেল আছে, তবে তার মানে এই না যে আপনি সবসময় শিশুদেরকে মোবাইল অথবা টিভির সাথে অভ্যস্ত করে তুলবেন। এ ব্যাপারে একটু বিশেষ ভাবে মনযোগী হতে হবে আপনাকে—কারণ শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে ১৮ থেকে ২৪ মাস বয়সী একটি শিশু প্রতিদিন এক ঘণ্টার বেশি টিভি অথবা মোবাইলের সাথে সময় পার না করাই উচিৎ।

তবে যেটুকু সময়েই টিভি অথবা মোবাইল স্ক্রিনে শিশু চোখ রাখুক না কেন, সে সময়টা পুরোপুরি শিক্ষণীয় ব্যাপারে হতে হবে। অর্থাৎ শিশুকে কোন কিছু শেখানোর জন্য আপনি চাইলে এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

খুব বেশি সময় টিভি অথবা মোবাইলের সামনে থাকলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাঁধাগ্রস্ত হয়। কেননা, এই সময়ে শিশু যদি নতুন নতুন কিছু না শিখে শুধুমাত্র টিভির সামনে বসে থাকে সেটা তার জন্য মোটেও ঠিক হবে না বরং এই অভ্যাস শিশুর মনের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। আদতে এই বয়সে একটা শিশু কখনই টিভি আর বাস্তবের সাথে পার্থক্য করতে পারে না।

১৯ মাস বয়সী শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি

আপনার ১৯ মাস বয়সী দুরন্ত শিশুটি কত দ্রুত সবকিছু শিখে নিচ্ছে আর নিত্য নতুন দক্ষতা অর্জন করছে। খুব অবাক লাগছে, তাই না? আসলেই নতুন অনেক কিছু শিখতে শিখতে এবং করতে করতে শিশুর যেভাবে নিজস্ব একটা ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠছে সেটা অবাক হওয়ার মতই একটা বিষয়। আপনার শিশু কি অনেক দুরন্ত নাকি অনেকটাই শান্ত শিষ্ট? এই বয়সটাতে শিশুর ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠার সাথে সাথেই আপনি শিশুর স্বভাবও বুঝে ফেলতে পারবেন। 

১৯ মাস বয়সী শিশুর ওজন এবং উচ্চতা

সাধারণত ১৯ মাস বয়সী ছেলে শিশুর ওজন ২৪.৬ পাউন্ড এবং মেয়ে শিশুর ২৩.৯ পাউন্ড হওয়া উচিৎ। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এই সময়ে ছেলে শিশুর উচ্চতা হওয়া উচিৎ ৩২.৮ ইঞ্চি এবং মেয়ে শিশুর ৩২.৩ ইঞ্চি।

১৯ মাস বয়সী শিশুর মাইলস্টোনগুলো

যারা নতুন বাবা মা হয়েছেন তাদের মনে সবসময়েই প্রশ্ন জাগে এই বয়সে আমার শিশুর ঠিক কি কি করা উচিৎ। নিম্নে ১৯ মাস বয়সী শিশু যে মাইলস্টোনগুলো অতিক্রম করতে পারে সেগুলো সম্পর্কে বলা হলঃ

হাঁটাঃ আপনার শিশু ইতোমধ্যে হয়ত দৌড়াতে পারছে অথবা কোন কিছু বেয়ে উপরে দিকে উঠে যাচ্ছে। দাঁড়ানো অবস্থা থেকেই ঝুঁকে কোন খেলনা মেঝে থেকে তুলে আবার দাঁড়িয়ে যেতে পারছে। এই ব্যাপারগুলো বাবা মায়ের জন্য খুবই চমৎকার কিছু দৃশ্য।

কথা বলাঃ সবসময় কিছু না কিছু বলতে থাকা আপনার ছোট্ট শিশুটির দিকে খেয়াল করলে দেখবেন সে প্রায় ১০ থেকে ২০টির মত শব্দ বলতে পারে। তবে যদি শিশু এখনো অনেক বেশি কিছু বলতে না পারে তাহলে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে মনের শান্তির জন্য হলেও আপনি চাইলে তাকে নিয়ে একজন শিশু বিশেষজ্ঞর সাথে আলাপ করতে পারেন। মনে রাখবেন, শিশু কথা কম বলতে শেখার একটা অন্যতম কারণ হল ঠিকমত কানে শুনতে না পাওয়া।

দাঁত ওঠা: এই সময়ে উপরের এবং নীচের পাটির আরও কিছু দাঁত উঠতে শুরু করার কারণে শিশুর মধ্যে অনেক ধরনের অস্বস্তি দেখা যেতে পারে।

নিজে নিজে বাথরুম করতে শেখানো (পটি ট্রেনিং)

পটি ট্রেনিং শুরু করার জন্য এই সময়টা বেছে নিতে পারেন। তবে আপনার শিশু এখনই এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত কি না সেটা আপনাকে প্রথমে বুঝে নিতে হবে। শিশু যদি আপনার দেখিয়ে দেয়া ছোট ছোট কাজ করা শুরু করতে পারে তাহলেই বুঝবেন পটি প্রশিক্ষণের সময় হয়ে গেছে। বাচ্চা পটি ট্রেনিং এর জন্য প্রস্তুত কিনা বা কিভাবে পটি ট্রেনিং শুরু করবেন তা জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।

তবে একটু খেয়াল রাখবেন যে ঠিক একই সময় শিশু কি বড় ধরনের কোন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি না, যেমন তার যদি নতুন ভাই/বোন হয় অথবা তাকে দেখাশোনা করার জন্য নতুন কাউকে রাখা হয় তবে তাৎক্ষনিক ভাবেই শিশুকে পটি প্রশিক্ষণ না দিয়ে বরং কিছুদিন অপেক্ষা করুন। নতুন অবস্থার সাথে শিশুকে খাপ খাইয়ে নিতে দিন। পরিশেষে, একটু ভেবে দেখুন যে পটি প্রশিক্ষণ শুরু করার জন্য যে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় দেয়া দরকার আপনি কি এই মুহূর্তে ততটা সময় শিশুর সাথে ব্যয় করতে পারবেন কি না।

১৯ মাস বয়সী শিশুর আচার আচরণ

আপনার ১৯ মাস বয়সী ছোট্ট শিশুটি এই সময়ে এমন অনেক ধরনের আচরণ করতে পারে যেটা সামাল দেয়া আপনার জন্য একটু কষ্টকর হতেই পারে। শিশুর বিভিন্ন ধরনের আচার আচরণ কীভাবে সামাল দিতে হয় সে সম্পর্কে নিম্নে কিছুটা বর্ণনা করা হলঃ

বদমেজাজ

আপনি হয়ত শুনেছেন যে দুই বছর বয়সের দিকে শিশু অনেক রাগ প্রকাশ করে, কিন্তু আপনার শিশুর দুই বছর পূর্ণ হয়নি অথচ আপনি ইতোমধ্যেই শিশুর মধ্যে বদমেজাজ প্রকাশ করার প্রবণতা দেখতে পাচ্ছেন ?  এগুলো নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হবেন না, কেননা এই বয়সে এই ধরনের আচরণ একদমই স্বাভাবিক। ১৯ মাস বয়সী শিশুটি এখনো বুঝতে পারছে না কীভাবে সে তার মনের ভাব ও আবেগ প্রকাশ করতে পারবে। তার এই দক্ষতা অর্জন করতে এখনো আরো বেশ কিছু সময় লাগবে।

সবচাইতে শান্ত যে শিশুটি তাকেও দেখবেন প্রায় সময় কান্না করছে, কোন কিছু নিয়ে জিদ করছে। আদতে শিশুর যে আসলে সাহায্যের প্রয়োজন সেটাই এই ধরনের আচরণ দ্বারা প্রকাশ পায়।

১৯ মাস বয়সী আপনার শিশুটি এখন নিত্য অনেক নতুন ধরনের কিছু না কিছু শিখছে, আর সব বিষয়ে ধীরে ধীরে দক্ষতা অর্জন করছে। শিশু যদি কোন কিছু করতে না পারে তার মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয় আর একেক শিশুকে একেক ভাবে সেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এমন অবস্থায় আপনাকে আসলে বুঝতে হবে যে শিশুর কোন ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন অথবা শিশুটি আপনার মনোযোগ পেতে চাচ্ছে।

যদি সম্ভব হয় তাহলে শিশুকে বুঝিয়ে দিন, আপনি ঠিকই বুঝতে পারছেন যে সে কেন রেগে আছে। শিশুর রাগ সম্পর্কে বুঝতে পারছেন সেটা জানান দিলেও খেয়াল রাখবেন এই ধরনের রাগ নিয়ে খুব বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না। শিশু যদি কোন কারণে রাগ দেখায় তাহলে তাকে একটু জড়িয়ে ধরে আদর করে দিন এবং তার মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে নিন। দেখবেন সামান্য এটুকুতেই আপনার শিশু একদম শান্ত হয়ে গিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে একটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন আর সেটা হল শিশুর কোন প্রিয় বস্তু,  হতে পারে সেটা একটা টেডি বিয়ার অথবা অন্য কোন খেলনা, যদি এই সময়ে শিশুর হাতে তুলে দেয়া হয় তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই শিশুর রাগ থেমে যায়। তবে সব শিশুরই একদম খুব প্রিয় কোন বস্তু যে থাকে তেমনটা নয়, তবে আপনার শিশুর যদি এমন কোন বস্তু থেকে থাকে তাহলে আপনি সেটা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া আপনি যদি অফিসে থাকার কারণে শিশুর সাথে যথেষ্ট সময় ব্যয় করতে না পারেন তাহলে অফিস থেকে বাসায় ফিরে অবশ্যই শিশুকে নিয়মিত সময় দেয়ার চেষ্টা করবেন।

শিশু যখন নিজের অনুভূতিগুলো ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারবে অর্থাৎ আরো কয়েক বছরের মধ্যেই শিশুর এই ধরনের আচরণ ও বদমেজাজ ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকবে।

[ আরও পড়ুনঃ শিশুর অতিরিক্ত রাগ ও বদমেজাজ (Temper Tantrum) কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন ]

আপনার থেকে দূরে চলে যাওয়ার উদ্বেগ বা সেপারেশন অ্যাঙ্গযায়েটি

এই বয়সে শিশুরা আপনার থেকে বিশেষ মনোযোগ পেতে চায়, আর সবসময় আপনার সাথেই থাকতে চায়। আর তাই আপনি যখন অফিসের জন্য চলে যাবেন তখন আপনার থেকে দূরে চলে যাওয়ার উদ্বেগ কাজ করে তাদের মধ্যে। শিশুর মনে হতে থাকে আপনি হয়ত তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন না তাই আপনি চলে যাচ্ছেন, বিশেষ করে শিশুরা যদি ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত অথবা অসুস্থ থাকে তখন তাদের মধ্যে এই ধরনের সেপারেশন অ্যাঙ্গযায়েটি খুব বেশি দেখা যায়।

ভদ্রতা ও আচরণ

আপনি যদি চান তাহলে এই সময়ে সাধারণ কিছু ভদ্রতা শেখাতে পারেন। প্লিজ, থ্যাংকিউ ধরনের ছোট শব্দ দিয়ে শুরু করাটাই ভালো। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখবেন, এই বয়সী শিশুকে কখনও যুক্তি দিয়ে কোন কিছু শেখাতে বা বুঝাতে যাবেন না, কেননা যুক্তি বুঝার মত বয়স এখনো শিশুর হয়ে উঠেনি।

শিশু যখন একদম শান্ত থাকে তখনই সে যুক্তি বুঝতে পারে না আর রেগে গেলে সে যুক্তি বুঝবে এমন আশা করাটা আসলে আপনারই ভুল হবে। শিশু তো শান্ত হবেই না বরং আপনার এত কথার কিছু বুঝতে না পেরে সে আরো অনেক বেশি রেগে যেতে পারে।

সামাজিক দক্ষতা

খেলনা সবার সাথে শেয়ার করে খেলা এই বয়সের শিশুর জন্য খুব কঠিন একটা বিষয়। তবে শিশু যদি তার খেলনা অন্য কাউকে খেলতে দেয় সাথে সাথে তার প্রশংসা করতে হবে, এতে করে শিশু বুঝবে এটা একটা ভালো অভ্যাস এবং আপনার মনোযোগ ও আদর পাওয়ার এটা সহজ একটা উপায়। এভাবেই ধীরে ধীরে শিশুর মধ্যে সামাজিক দক্ষতার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

১৯ মাস বয়সী শিশুর ঘুম

১৯ মাস বয়সী শিশুর জন্য ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। পরিমিত ঘুম শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা এবং মুডের উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুমের জন্য একটা নিয়মিত অভ্যাস মেনে চললে শিশু নিজ থেকেই বুঝতে পারে যে তার এখন ঘুমানোর সময় হয়েছে, এতে করে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর কষ্টটা অনেকাংশেই কমে যায়।

১৯ মাস বয়সী শিশুর জন্য ঠিক কতটুকু ঘুম জরুরী?

বেশীরভাগ ১৯ বয়সী শিশুর জন্য প্রতি রাতে ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমের পাশাপাশি দিনের বেলায় দেড় থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয় ১৯ বয়সী একটি শিশুর।

আপনার ১৯ মাস বয়সী শিশুটি যদি রাতে না ঘুমাতে চায়

এই বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে সাধারণ একটা সমস্যা হোল ঘুমাতে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ। আর এমনটা সাধারণত হয়ে থাকে যদি বাবা মাও জেগে থাকেন এবং শিশুর জন্য ঘুমের থেকে বেশি আকর্ষণীয় হল জেগে থাকা তাই শিশু ঘুমাতে যেতে চায় না। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে শিশুর ঘুমের পূর্বে তার জন্য একটা শান্ত পরিবেশ দরকার এবং প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস প্রয়োজন।

এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য সবচাইতে ভালো উপায় হল শিশুকে নিজ থেকে আবার ঘুমিয়ে পড়তে পারে সেজন্য মনযোগী হওয়া। এর মাধ্যমে শিশু যখন মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠবে তখন আপনার সাহায্য ছাড়াই সে নিজে থেকেই ঘুমিয়ে পড়তে পারবে।

মাঝরাতে চিৎকার করে ঘুম ভেঙে যাওয়া (নাইট টেরর)

মাঝরাতে শিশুর হঠাৎ ঘুম থেকে চিৎকার করে জেগে ওঠাকে নাইট টেরর বলে । নাইট টেররের সময় আদতে শিশুর ঘুম পুরোপুরি ভেঙে যায় না তবে ঘুমের মধ্যেই শিশু চিৎকার করে উঠে। আর তাই এই সময়ে শিশুর ঘুম না ভাঙ্গিয়ে তাকে আবার শান্ত করে ঘুমানোর ব্যবস্থা করাই ভালো পদক্ষেপ।

এছাড়া শিশু যদি ঘুমের মধ্যেই উঠে হাঁটা শুরু দেয় তাহলে তার রুমটি একটু নিরাপদ রাখতে হবে যাতে করে সে কোন ব্যথা না পায়। নাইট টেররের একটা ভালো দিক হল এই ধরনের সমস্যা হলে সেটা শুধুমাত্র আপনার জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, শিশুর এই স্মৃতি মনেই থাকে না। শিশু যখন পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তখন সে রাতের এই ঘটনার কথা কিছুই মনে রাখতে পারে না। মনে রাখবেন, শিশুর বয়স নয় বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুর মধ্যে এই ধরনের সমস্যা দেখা যেতে পারে। 

নাইট টেররের সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায় নি তবে ক্লান্তি, অভ্যাসের পরিবর্তন এবং উদ্বেগের কারণেও এমনটা হতে পারে। আর তাই শিশুর ঘুমের সময় একটা শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পূর্ণ বিশ্রাম যাতে সে পায় তাই দ্রুত ঘুম পাড়িয়ে দেয়াটাই সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ বলে গণ্য করা হয়।

১৯ মাস বয়সী শিশুর খাবার

১৯ মাস বয়সী শিশুর খাদ্যাভ্যাসে অনেক ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, এমনকি সে অনেক কিছু খেতে অস্বীকৃতিও জানাতে পারে।

এই বয়সী একটি শিশুর ঠিক কি পরিমাণে খাদ্য এবং পানীয় গ্রহণ প্রয়োজন?

এক থেকে দুই বছর বয়সী শিশুর খাদ্যাভ্যাস ঠিক আপনার মতই হওয়া প্রয়োজন অর্থাৎ তিন-বেলা খাবার এবং দুই বেলা নাস্তা। তবে শিশু যদি অন্যান্য খাবার থেকে পরিমিত ক্যালসিয়াম গ্রহণ না করে থাকে তাহলে তার আট আউন্স কাপে প্রতিদিন তিন কাপ পূর্ণ ননীযুক্ত দুধ পান করা জরুরী। মনে রাখতে হবে যাতে শিশু দৈনিক ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে।

এই সময়ে আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ ছাড়াতে চান তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটি যেন একটু ধীরে ধীরে হয়। এক বেলা বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করুন এবং আরো এক বেলা বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার আগে অন্তত এক সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। যদি আপনি খুব দ্রুত বুকের দুধ ছাড়াতে চেষ্টা করেন তাহলে আপনার প্লাগড মিল্ক ডাক্টস নামক ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া এই সময়টা খুব দ্রুত হলে শিশুর উপরে মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু হয়ত ভাবতে পারে আপনি তাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন।  আর তাই বুকের দুধ ছাড়ানোর সময় শিশুর প্রতি একটু বেশি মনযোগী হন।

১৯ মাস বয়সী শিশুকে কি খাওয়াবেন?

প্রতি বেলা খাবার এবং নাস্তার সময় শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে দিতে পারেন। বেশীরভাগ শিশুর এই বয়সে দৈনিক এক কাপের চার ভাগের তিন ভাগ সমপরিমাণ ফল এবং সবজী, এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ পূর্ণ শস্য এবং তিন টেবিল চামচ সমপরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন।

১৯ মাস বয়সী শিশু যদি খেতে না চায়

এই বয়সী শিশুরা “পিকি ইটিং” এর জন্য বেশ প্রসিদ্ধ, আর তাই শিশু যদি কোন পুষ্টিকর খাবার খেতে না চায় এবং কোন এক বেলায় প্রতিদিনের তুলনায় বেশ কম খায় তাহলে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

এটা মনে রাখতে হবে যে শিশু এখন “না” শব্দটি বলতে শিখে গেছে। নিজের স্বাধীনতা প্রকাশ করতেও সে মাঝেমধ্যে এমন খাওয়ার প্রতি অনীহা প্রকাশ করতে পারে। আর তাই আপনি যেটা করতে পারেন সেটা হল শিশুকে নিয়মিত ভিন্ন ভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার অফার করতে পারেন, তাকে সাথে নিয়ে খাবার তৈরি করতে পারেন।

কোন নির্দিষ্ট খাবার জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে বরং হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

১৯ মাস বয়সী শিশুরা সাধারণত যা যা করে থাকে

শিশু যেহেতু এই বয়সে নিত্য নতুন কিছু না কিছু শিখছে তাই খেলার সময়েও সেই নতুন ব্যাপারগুলোর দক্ষতা অর্জনের জন্য চেষ্টা করা যেতে পারে।

শিশুর খেলার সময়টা চমকপ্রদ এবং আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে আপনি যা করতে পারেনঃ

  • ফুটবল দিয়ে খেলতে পারেন যাতে করে সে লাথি দেয়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারে, এতে করে শিশুর পায়ের পেশীরও উপকার হবে।
  • পার্কে হাঁটতে যেতে পারেন। অনেক পার্কে দেখবেন শিশুদের জন্য আলাদা জায়গা থাকে, সেখানে শিশুর অনেক নতুন ধরনের দক্ষতা অর্জন করার মত খেলনা রয়েছে। যেমন, কোন কিছু বেয়ে উপরে উঠার জন্য সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে যন্ত্রপাতি দেখবেন, সেগুলো দিয়ে শিশুকে খেলতে দিলে শিশুর শারীরিক সক্ষমতা বাড়তে থাকবে।
  • শিশুকে পুতুল কিনে দিতে পারেন, এই বয়সী শিশুরা বাবা মাকে অনুকরণ করতে পছন্দ করে আর তাই দেখবেন শিশু হয়ত খেলার ছলে পুতুলকে খাওয়াচ্ছে এবং সবসময় কাছে কাছে রাখছে।
  • পাপেট দিয়ে খেলা এই সময়ে শিশুর বুদ্ধি এবং কল্পনা শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

১৯ মাস বয়সী শিশুর জন্য কিছু পরামর্শ এবং চেকলিস্ট

  • শিশুরা যাতে এই বয়সে নিজে নিজেই জামা কাপড় পরিবর্তন করতে পারে সে ব্যাপারে তাদের উৎসাহ দিন। এই দক্ষতা শিশু এবং আপনার উভয়ের জন্য ভালো। এতে করে দেখবেন আপনি অন্যান্য কাজ করার জন্যও পর্যাপ্ত সময় পেয়ে যাচ্ছেন।
  • ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় অথবা রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার সময় সাথে করে শিশুর খেলনা নিয়ে যাবেন, এতে করে অপেক্ষার সময়টা শিশু আপনাকে বিরক্ত না করে নিজের খেলনা দিয়ে খেলতে পারবে। সাধারণত এই সমস্ত যায়গায় শিশুদের জন্য খেলনার ব্যবস্থা থাকে তবে নিজ থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়াই ভালো।
  • প্লেনে করে কোথাও যাচ্ছেন? যাওয়ার আগে শিশুর সাথে এই বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ সময় দিন। কেননা, প্লেনের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক শিশুরই একটু বেশি সময় লাগতে পারে।
  • শিশু যদি কোন অন্যায় করার পর ইতোমধ্যেই একটু মন খারাপ করে থাকে তাহলে তাকে পুনরায় সেটা নিয়ে বকাঝকা অথবা বিস্তারিত বলতে যাবেন না। তাৎক্ষনিক ভাবে শিশুকে কিছু না বলে বরং শিশুকে শান্ত হতে দিন। শিশু শান্ত হয়ে গেলে পরে আপনি তাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন যে সে কি ভুলটি করেছিল।

একটি শিশু কীভাবে বেড়ে উঠবে এবং তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠিকমত হচ্ছে কি না এগুলো সম্পূর্ণ আপনার হাতেই। আর তাই শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কোন ধরনের আপোষ নয় বরং যে কোন উদ্বেগের সৃষ্টি হলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts