শিশুর বেড়ে ওঠা । ১৬ মাস

Last Updated on

এই সময়টাতে আপনার শিশু হয়ত একদম সারাদিন খুব চাঞ্চল্যতার সাথে কাটাচ্ছে। সে হাঁটছে, খেলছে, যে কোন কিছু বেয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে আবার এমনকি দৌড়চ্ছে! আপনার শিশু যদি যে কোন কিছু বেয়ে উঠতে খুবই পছন্দ করে, তাহলে একটু সবকিছু ভালোভাবে লক্ষ্য রাখুন। কেননা শিশুর নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। শিশুর বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে যাতে ব্যথা না পায়, এজন্য শিশুর বিছানার পাশে মেঝেতে সবসময় কারপেট অথবা নরম কিছু রেখে দিন। 

১৬ মাস বয়সী শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি

এই সময়ে আপনার শিশু নিজে সার্বক্ষণিক চঞ্চল তো থাকছেই, সেই সাথে আপনাকেও বিভিন্ন রকম কাজ কর্মের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত রাখছে এবং একই সাথে আপনার শিশু ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে।

১৬ মাস বয়সী শিশুর উচ্চতা এবং ওজন

এই বয়সের একটি শিশুর স্বাভাবিক উচ্চতা এবং ওজন কেমন হওয়া উচিৎ? ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, এই সময়ে ছেলে ও মেয়ে শিশুর ওজন যথাক্রমে ২৩.২ পাউন্ড এবং ২১.৬ পাউন্ড হওয়া উচিৎ। একই রকম ভাবে তাদের উচ্চতা হওয়া উচিৎ যথাক্রমে ৩১.৬ ইঞ্চি এবং ৩০.৯ ইঞ্চি।

আরও পড়ুনঃবয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির চার্ট । ১৩-২৪ মাস ]

১৬ মাস বয়সী শিশুর মাইলস্টোনগুলো

এইতো গত কয়েক মাস ধরে আপনার শিশু খুব চঞ্চল হয়ে উঠেছে এবং যা পাচ্ছে সামনে তাই ধরছে, মুখে দিয়ে দিচ্ছে অথবা মেঝেতে আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলছে একদম। এছাড়াও আপনি আরেকটু লক্ষ্য করলে দেখবেন যে সে তার শারীরিক অপারগতাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। যেমন, শিশু জানে যে সে হাঁটতে পারে আর সে একইসাথে অনেক ভারী কিছু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এই সময়ে আপনার শিশু খুবই আত্মবিশ্বাসের সাথে সোফা বেয়ে উপড়ে উঠে যাচ্ছে আবার দেখা যায় কোথাও থেকে একটা চেয়ার টেনে এনে সেটার উপরে উঠে ওয়ারড্রবের উপরে ঠিক কি রাখা আছে সেটা নিয়ে সে প্রচণ্ড কৌতূহলী হয়ে উঠছে। আর তাই আপনার বাসার যদি ইতোমধ্যেই শিশুর জন্য নিরাপদ করে না ফেলেন, তাহলে দ্রুত করে ফেলুন। সবসময় খেয়াল রাখবেন, শিশুর এইসব চাঞ্চল্যতার কারণে যেন সে বড় ধরনের কোন আঘাত না পেয়ে যায় আর এইজন্য ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সবকিছু শিশুর জন্য নিরাপদ করে রাখা প্রয়োজন।

[ আরও পড়ুনঃ হামাগুড়ি দেয়া ও সদ্য হাঁটতে শেখা শিশুর নিরাপত্তা ]

এই সময়ে আপনার শিশুর তার আঙুল এবং হাতের ব্যাবহারে বেশ রপ্ত হয়ে যায়। ব্লকের খেলনা দিয়ে আপনার শিশুকে দুটো বা তিনটা ব্লক দিয়ে টাওয়ার বানাতে দেখা যাবে, আবার একই সাথে সেই টাওয়ার খুব আনন্দের সাথে ভাঙতেও দেখা যাবে। আপনি যখন বই পড়তে বসবেন, তখন দেখা যাবে আপনার শিশু এসে আপনার জন্য পৃষ্ঠা উল্টে দিবে। কেননা সে এখন পুরো বই উল্টানো ছাড়াও একটা দুইটা করে পৃষ্ঠাও উলটে দিতে শিখেছে।

আপনি যদি তার হাতে একটা ক্রেয়ন ধরিয়ে দেন, তাহলে দেখবেন সে সেটার সঠিক ব্যবহার করতে পারবে। তবে এই রঙ দিয়ে খেলার সময় আপনি শিশুর আশেপাশেই থাকবেন। কেননা সে হয়ত আপনার ঘরের দেয়াল, কোন বই অথবা অন্য কোন দামি জিনিসে রঙ দিয়ে সেটা নষ্ট করে ফেলতে পারে। এই সময়ে সে বিভিন্ন আকারের ব্লকের খেলনা বোর্ডের মধ্যে তার সঠিক পরিমাপের গর্তে ঢুকাতে পারবে। তারমানে হল, এই সময়ে বিভিন্ন কিছুর আকার আকৃতি উচ্চতা সম্পর্কে শিশুর মধ্যে ধারনা তৈরি হতে থাকবে।

হাঁটাঃ এই বয়সে বেশীরভাগ শিশুই ভালোমতো হাঁটতে পারে। এর পরবর্তী ধাপে সে দৌড়াতে, কোন কিছু বেয়ে উঠতে এবং বিভিন্ন গানের সাথে নাচানাচি করা শুরু করবে।

আরও পড়ুনঃ শিশুর হাঁটতে শেখা ]

কথা বলাঃ প্রায় অর্ধেকেরও বেশি শিশু এই বয়সে নুন্যতম তিনটা শব্দ বলতে পারে, এরমধ্যে কোন শিশু ১৫ শব্দেরও বেশি বলতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বাচ্চার প্রথম কথা বলা কখন থেকে শুরু হয় ? ]

দাঁত ওঠাঃ ১৬ মাস বয়সের সময় নীচের পাটির সামনের দিকের তৃতীয় দাঁত (cuspids or canines) ওঠা শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ শিশুর প্রথম দাঁত ওঠা ]

পটি ট্রেনিংঃ আপনি এই সময়ে শিশুকে কথা বলে বুঝাতে পারেন যে কীভাবে বাথরুমে যেতে হয় এবং কীভাবে পটির মধ্যে প্রস্রাব পায়খানা করে। তবে এরমধ্যেই এগুলো শিশুকে শিখিয়ে ফেলতে হবে, এমন কোন তাড়াহুড়া রাখবেন না। আপনার শিশু হয়ত ইতোমধ্যেই পটির মধ্যে কীভাবে বসতে হয় সেটা শিখে গেছে। কিন্তু সে যদি ইতোমধ্যে পটির মধ্যে বসতে না চায়, তাহলে তাকে তার মত থাকতে দিন। কেননা বেশ কিছু গবেষণায় এটা উঠে এসেছে যে, ২৭ থেকে ৩২ মাস বয়সের সময়টা শিশুকে এইসব শিখানোর জন্য সবচাইতে সেরা সময়।

আরও পড়ুনঃ বাচ্চার পটি ট্রেনিং বা টয়লেট ট্রেনিং এর কিছু টিপস ]

১৬ মাস বয়সের শিশুর আচার আচরণ

আপনার শিশু এই ছোট বয়সেও বুঝতে পারে যে তার ভালো কাজগুলোর জন্য আপনি হয়ত তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করবেন অথবা তার প্রশংসা করবেন। ঠিক একইভাবে সে বুঝতে পারে যে সে যদি কোন অন্যায় কাজ করে থাকে তাহলে তাকে বকা খেতে হবে অথবা এজন্য তাকে কোন প্রকার শাস্তি পেতে হবে।

এই বয়সে তার মধ্যে আপনি সামাজিক আচার আচরণের মধ্যে খুব সামান্য কিছু আচরণ দেখতে পাবেন, যেমন কাউকে হাত নেড়ে বিদায় দেয়া, হাই দেয়া অথবা কারো দিকে তাকিয়ে হাসা। এগুলো কিন্তু শিশুর সামাজিক আচরণ শেখার একদম প্রথম পর্যায়, এভাবেই ধীরে ধীরে শিশুর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক আচার আচরণের বহিঃপ্রকাশ হবে। এই সময়ে সে যেভাবে আদর পাবে ঠিক সেভাবেই আপনাকে আদর ফিরিয়ে দেয়া শিখবে, যেমন আপনি তাকে জড়িয়ে ধরলে সেও আপনাকে জড়িয়ে ধরবে এবং চুমু দিবে।

আত্ম সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে

একটা নবজাতক শিশু কিন্তু কখনোই তার আপনার মধ্যে অথবা অন্য কোন কিছুর মধ্যে কোন প্রকার পার্থক্য করতে পারে না। কোন কিছুর স্বাদ অনুভব করা, ধরা এবং চারপাশের শব্দ শুনার মাধ্যমেই সে ধীরে ধীরে নিজেকে আলাদা করে চিনতে শিখবে এবং বুঝতে শিখবে।

এই ১৬ মাস বয়সের সময়েই আপনার শিশু চিনতে পারবে যে সে একদম আলাদা একজন মানুষ এবং আপনি যে তাকে বিভিন্ন ব্যাপারে সাহায্য করবেন সেটাও সে এই বয়সেই বুঝতে শিখে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, সে যদি কোন খেলনা দেখতে পায় যেটা তার নাগালের বাইরে তখন সে আপনাকে সেই খেলনা নিয়ে দেয়ার জন্য ইশারা করতে পারবে।

এই সময়টাতে শিশুর চারপাশ ঘিরে আলাদা একটা জগত তৈরি হতে থাকে এবং সেই জগতের মধ্যমণি হিসেবে সে নিজেকেই জানবে। এছাড়াও আপনার যে কোন প্রকার উৎসাহ এবং মনোযোগ তাকে কোন একটা কাজ বারবার করার জন্য উৎসাহী করে তুলবে। এমনকি কোন কিছু করতে না পারলেও সে বারবার চেষ্টা করতেই থাকবে।

আপনি এই সময়ে আপনার শিশুকে বিভিন্ন ভারী বস্তু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা থেকে নেয়ার জন্য চেষ্টা করতে দেখবেন। যদিও সেটা তার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে যায়, তবু তাকে আপনি চেষ্টা করা থেকে বিরত রাখতে পারবেন না। সে যখন কোন কিছু করতে পারবে না তখন তাকে সেটা নিয়ে সাহায্য না করে বরং তাকে সেই কষ্টে কিছুটা কাঁদতে দিন। এতে করে সে আবার সেটা করার চেষ্টা করবে এবং ধীরে ধীরে সে এভাবেই সে বিভিন্ন সফলতার স্বাদ পেতে থাকবে।

আপনি যখন রান্না করবেন তখন আপনাকে অনুকরণ করতে দিন, যদিও সে কখনো এই বয়সে আপনাকে রান্না করে খাওয়াতে পারবে না। কিন্তু এই অনুকরণের মধ্য দিয়েই আপনার শিশু তার কোন কিছু করতে না পারার কষ্টগুলো ভুলে যাবে এবং এটা তার আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করবে। এই ১৬ মাস বয়সের শিশুর জন্য বড়দের অনুকরণ করার খেলনা, যেমন হাড়ি-পাতিল, কাপ পিরিচ তার জন্য অনেক মজার একটা ব্যাপার হয়ে উঠবে।

এই বয়সে শিশু এমন কিছু আচরণ করবে যেটা সামলানো আপনার জন্য একটু কঠিনই হয়ে উঠবে। যেমনঃ

১৬ মাস বয়সী শিশুর ঘুম

এই বয়সে একটা শিশুর জন্য কতটুকু ঘুম প্রয়োজন?

দৈনিক ১৬ মাস বয়সী একটা শিশুর জন্য ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। এই সময়ে আপনার শিশু হয়ত এরমধ্যে দিনে এক বেলা ঘুমবে, এছাড়াও আপনাকে তার দৈনন্দিন ঘুমের রুটিনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে। সাধারণত দেখা যায় শিশু সকালের ঘুমটা বাদ দেয় এবং বিকেলে একটু বেশি ঘুমায় আবার রাতেও সে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে পারে। প্রত্যেকটা শিশু যেহেতু একদমই আলাদা তাই আপনার শিশুর অভ্যাস অনুযায়ী তার জন্য আপনাকে রুটিন তৈরি করতে হবে। তবে আপনাকে এগুলো নিয়ে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না, কেননা সৌভাগ্যবশত এই ধরনের পরিবর্তনগুলো একদম স্বাভাবিক ভাবেই হয়।

[ আরও পড়ুনঃ ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের শিশুর সঠিক ঘুমের অভ্যাস কিভাবে গড়ে তুলবেন ]

১৬ মাস বয়সী শিশুর ঘুমাতে না চাওয়া

আপনার ১৬ মাস বয়সী শিশু কিছুতেই ঘুমাতে চাচ্ছেনা, অথচ আপনি চাচ্ছেন আরেকটু সহজে তাকে ঘুম পাড়াতে? এজন্য ঘুমানোর সময় আসার ত্রিশ মিনিট আগ থেকে প্রতিদিন আপনাকে একই রুটিন মেনে চলতে হবে এবং ঘুমাতে যাওয়ার ২০ মিনিট আগে শিশুকে জানিয়ে দিন যে তার ঘুমানোর সময় হয়ে আসছে। শিশু সাধারণত যে সময়ে ঘুমিয়ে যায়, সেই সময়টাকেই রুটিন তৈরি করার সময় গুরুত্ব দিন। এরপর শিশুর অভ্যাস অনুযায়ী এই রুটিন ধীরে ধীরে শিশুর অভ্যাসের সাথে খাপ খাইয়ে নিন। বাবা মা’দের এই ধরনের কৌশলগুলো শিশুর রুটিন তৈরি করার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

[ আরও পড়ুনঃ শিশুর গড়ে ওঠা ঘুমের অভ্যাসের হঠাৎ পরিবর্তন বা স্লীপ রিগ্রেশন ]

১৬ মাস বয়সী শিশুর খাবার

এই বয়সে একটা শিশুর কতটুকু খাবার এবং পানীয়র প্রয়োজন হয়?

এই বয়সে প্রতিদিন আপনার শিশুকে তিন বেলা খাবার এবং দুই বেলা নাস্তা দিন। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সে শিশুর দৈনিক এক হাজার ক্যালোরির প্রয়োজন। তবে এটা মাপার জন্য আরেকটি সহজ উপায় হিসেবে আপনি এটা মনে রাখতে পারেন যে, শিশুর প্রতি ইঞ্চি উচ্চতার জন্য ৪০ ক্যালোরি প্রয়োজন।

এই সময়ে কোনদিন যদি শিশু অনেক পরিমাণ খাবার খায় আবার পরের দিন দেখা যায় সে যদি একদমই খেতে চায় তবে এটা কিন্তু একেবারেই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সাধারণত, শিশু কতটুকু খাবার খাওয়া প্রয়োজন সেটা সে নিজেই খুব ভালো করে বুঝতে পারে। এছাড়া মনে রাখবেন, শিশুকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের খাবারের ৪ ভাগের এক ভাগ পরিমাণ খাবার দিতে হবে।

এই সময়ে শিশুর যদি চামচ অথবা কাটা চামচ ব্যবহার না করতে পারে, তাহলে তাকে এগুলোর প্রতি উৎসাহী করার জন্য এটাই সবচেয়ে সেরা সময়।

আপনার ১৬ মাস বয়সী শিশুকে কি খাওয়াবেন?

আপনার শিশু যদি অন্য কোন খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম না পেয়ে থাকে তবে তার দৈনিক ৮ আউন্স পরিমাণের কাপের তিন কাপ দুধ খাওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন শিশুকে ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়ানোর জন্য টার্গেট করুন। শিশুকে দুধ খাওয়ানোর জন্য যতটা সম্ভব সাধারণ কাপ ব্যাবহার করুন। এই সময়ে শিশুর মধ্যে যাতে ফিডারে করে খাওয়ার অভ্যাস একদমই দূর হয়ে যায় সেই চেষ্টা করুন। এছাড়া সিপি কাপ দিয়েও না খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন, কেননা ডাক্তারদের মতে এই ধরনের কাপে খেলে শিশুর দাঁত ক্ষয় হয়ে যেতে পারে এবং শিশুর স্বাভাবিক কথা বলায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

শিশুরা সাধারণত ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ফাইবার জাতীয় খাবার তেমন একটা খেতে চায় না। আর তাই দুধ খাওয়ানোর সাথে সাথে আপনি অন্যান্য ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার যেমন, সবুজ সবজী, ব্রকলি এবং টফু খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। ফাইবার জাতীয় খাবারের জন্য শিশুকে বিন, আলু বোখারা, কলা এবং পুরো-গমের পাস্তা খাওয়াতে পারেন।

যতটা সম্ভব বাজারে শিশুদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি খাবার থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবেন ও আমরা দৈনন্দিন যে ধরনের খাবার খাই সেগুলো খাওয়াবেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যে খাবার খায়, সেগুলোকেই ছোট ছোট করে টুকরো করে অথবা অল্প পরিমাণে শিশুকে খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে শিশুর শাক সবজী থেকে যে ধরনের ভিটামিন পায় সেটা পাওয়ার একমাত্র উপায় যদি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি খাবার হয়ে থাকে, তাহলে শিশুকে সেগুলোও সাধারণ খাবারের পাশাপাশি অল্প অল্প করে খাওয়াতে পারেন।

আপনার ১৬ মাস বয়সী শিশু যখন খাবার খেতে চায় না

আপনার ১৬ মাস বয়সী শিশু যদি খাবার খেতে না চায়, তার মানে এটা হতে পারে যে আপনার শিশু অনেক বেছে বেছে খাবার খায়। তাই অস্বাস্থ্যকর খাবার না খাইয়ে বরং বিভিন্ন ধরনের খাবার খাইয়ে দেখতে পারেন, আপনার শিশুটি ঠিক কোন ধরনের খাবারটি বেশি পছন্দ করছে।  তবে শিশুর খাবার খাওয়া নিয়ে কখনই তার সাথে খুব বেশি জোরাজুরি করবেন না।

এছাড়া আপনার শিশু যদি একদমই কোন খাবার না খায়, তাহলে আপনার শিশু হয়ত অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে শিশুকে নিয়ে আলাপ করে নিতে পারেন। 

১৬ মাস বয়সী শিশুর সাথে যে অ্যাকটিভিটিগুলো করা যেতে পারে

আপনার ১৬ মাস বয়সী শিশুর সাথে আপনি কি কি করতে পারেন? ১৬ মাস বয়সী শিশুর বিভিন্ন ধরনের মজা এবং কিছু খেলা ও খেলনা হলঃ

ব্লকঃ এই সময়ে শিশুরা ব্লক দিয়ে টাওয়ার বানাতে অনেক পছন্দ করে তাই এই ধরনের খেলনা শিশুকে কিনে দিন। 

রঙ করাঃ এই সময়ে শিশু রঙ করতে পারে। তাই রঙ করার জন্য রঙ পেন্সিল অথবা ক্রেয়ন তাকে দিতে পারেন (তবে কলম এবং পার্মানেন্ট মার্কার শিশু থেকে লুকিয়ে রাখুন)।

বড়দের অনুকরণীয় ছোট খেলনাঃ এই বয়সী শিশুরা বড়দের অনুকরণ করতে অনেক পছন্দ করে। তাই রান্না ঘরের বিভিন্ন কিছুর ছোট ছোট খেলনা অথবা বড়দের ফোনের মত খেলনা ফোন দিলে সে খুব আনন্দ নিয়ে আপনার অনুকরণ করতে পারবে।

১৬ মাস বয়সী শিশুর ব্যাপারে কিছু পরামর্শ

  • শিশুর দাঁতে ব্যথা? তাকে ঠাণ্ডা মটর খেতে দিন, এটা খাওয়ার সময় মাড়িতে সে অনেক আরাম অনুভব করবে এবং এটা খেতেও বেশ সুস্বাদু। এছাড়া এটা যে খুবই স্বাস্থ্যকর একটা খাবার সে কথা বলাই বাহুল্য।
  • শিশুর কাপড় যখন পাল্টে দিবেন, তখন তাকে বুঝিয়ে দিন যে আপনি কি করছেন। কেননা এতে করে খুব দ্রুত সে নিজে নিজেই জামা খুলতে পারবে। এমনকি সে ধীরে ধীরে জামা পড়তেও শিখে যাবে।
  • শিশুর জন্য নিরাপদ খেলার জন্য একটা যায়গা তৈরি করতে পারেন এবং শিশুকে বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে খেলতে হয় এমন খেলনা কিনে দিন, যেমনঃ লেগো, আকৃতি অনুযায়ী বক্স সাজানো ইত্যাদি।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts