শিশুর বেড়ে ওঠা । ১৭ মাস

আপনার ১৭ মাস বয়সের শিশুটি এখন বেশ বাড়ন্ত আর খুব চঞ্চল, নিত্য নতুন দুষ্টুমি দিয়ে আপনার চারপাশ মাতিয়ে রাখে। সে এখন ক্যাবিনেটের দরজা খুলে ফেলা, ঘরের মধ্যে খেলনাগুলো এলোমেলো করে রাখা, ডায়পার ছিঁড়ে ফেলার মত নতুন অনেক দুষ্টুমি করা শিখে গেছে। এমনকি ইদানীং মাঝেমধ্যে তীক্ষ্ণ শব্দে চিৎকার করে আপনার কান ঝালাপালা করে দিতে সে মোটেও পিছপা হচ্ছেনা।

এই সময়ে আপনি দেখবেন যে আপনার শিশুটি হয়ত কুকুর এবং অপরিচিত মানুষ দেখলে খুব ভয় পাচ্ছে, আবার কখনো দেখবেন যে সে কোন কিছুতেই ভয় পাচ্ছে না। আপনার শিশুর যখন আপনাকে প্রয়োজন হবে তখন তাকে সাপোর্ট দিন এবং দেখেশুনে রাখুন। কেননা অন্যান্য সবকিছু থেকে তার আপনাকেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

সবচাইতে প্রিয় কে? এই প্রশ্নের উত্তরে এখন শিশু আপনাকেই দেখাবে। তাই পরিবারের অন্যান্য সবাই বিশেষ করে বাবাকে বলুন যাতে মন খারাপ না করে, কারণ কিছুদিন পরেই হয়তো তিনি প্রথম স্থানটির দখল নেবেন। 

১৭ মাস বয়সী শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি

এই বয়সে নতুন নতুন দুষ্টুমি শিখে ফেলাটা আপনার শিশুর জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়। কেননা আপনার শিশু এখন প্রতিনয়ত বড় হওয়ার মাধ্যমে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করছে।

১৭ মাস বয়সী শিশুর ওজন এবং উচ্চতা

১৭ মাস বয়সী শিশুর ওজন এবং উচ্চতা কতটা হওয়া উচিত? এ প্রশ্নের উত্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এই বয়সে ছেলে এবং মেয়ে শিশুর ওজন হওয়া উচিৎ যথাক্রমে ২৩.৭ পাউন্ড এবং ২২.১ পাউন্ড। এছাড়া ১৭ মাস বয়সী ছেলে ও মেয়ে শিশুর স্বাভাবিক উচ্চতা হওয়া উচিৎ যথাক্রমে ৩২ ইঞ্চি এবং ৩১.৪ ইঞ্চি।

পরবর্তী মাসে অর্থাৎ ১৮ মাস বয়সের সময় রুটিন চেকআপে শিশুর ডাক্তার এসব কিছুই পরীক্ষা করে দেখবেন যে আপনার শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হচ্ছে কি না।

আরও পড়ুনঃবয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির চার্ট । ১৩-২৪ মাস ]

১৭ মাস বয়সী শিশুর মাইলস্টোনগুলো

যেহেতু আপনার শিশু এখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে, অনেক কিছুই বুঝতে শিখছে বলতে শিখছে তাই সে এখন একদমই অন্য একজনে পরিণত হয়েছে। এই সময়ে আপনার শিশুর বৃদ্ধির অসাধারণ কিছু ধাপগুলো এক নজরে দেখে নিনঃ

হাঁটাঃ ১৭ মাস বয়সী আপনার চঞ্চল শিশুটি কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো বা দৌড়ানো শুরু করে দেবে এমনকি সে সিঁড়ি বেয়ে কয়েক ধাপ উপরের দিকেও উঠতে পারবে।

কথা বলাঃ বেশীরভাগ শিশুই এই সময়ের মধ্যে অন্তত ২ থেকে ৩টা শব্দ বলা শিখে যায় আবার খুব কম সংখ্যক বাচ্চা  ৪০-৫০টা থেকেও বেশি শব্দ বলতে পারে। তবে এই সময়ে যদি তার শব্দ ভাণ্ডারে বেশ কিছু শব্দ যোগ হয়ে নাও থাকে, তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

বেশ কিছু লক্ষণের দিকে একটু খেয়াল রাখবেন, যেমন আপনার শিশু কি কোন কিছুর দিকে আঙ্গুল তুলে ইশারা করতে পারে? সে কি বিভিন্ন রকম শব্দ করতে পারে? আপনি যা বলছেন সেগুলো কি সে সব বুঝতে পারছে? এসব কিছুর উত্তরে যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে বুঝতে হবে আর কিছুদিনের মধ্যেই আপনার শিশু অনেক কথা বলে আপনার কান ঝালাপালা করে দিতে যাচ্ছে। (যদি এগুলোর উত্তর না হয়, তাহলে ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন, আপনার শিশু কানে ঠিকমত শুনছে কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখুন)

দাঁত উঠাঃ ১৬ থেকে ২২ মাসের মধ্যেই যে কোন সময় শিশুর উপরের মাড়ির দাঁত উঠা শুরু করে এবং ১৭ থেকে ২৩ মাসের মধ্যে যে কোন সময় শিশুর নিচের মাড়ির দাঁত উঁকি দেয়। আর তাই এই সময়ে দাঁত উঠার যে কোন এক ধাপের মধ্যে আপনার শিশুকে পাবেন।

পটি ট্রেনিংঃ আপনার পাশের বাসার কাউকে হয়ত খুব গর্ব করে বলতে শুনতে পারেন যে দেড় বছর বয়স থেকেই তার শিশু পটিতে বসে বাথরুম করতে পারে, কিন্তু তার মানে এই না যে আপনার শিশুকেও তা পারতে হবে। তবে আপনি যদি দেখেন যে আপনার শিশু এই সম্পর্কে কিছুটা বুঝতে শিখছে তাহলে তাকে পটিতে বসার জন্য উৎসাহিত করতে একটা পটি কিনে নিতে পারেন।

পটিতে বসা শেখানোর বই পড়তে পারেন অথবা একটু বড় শিশুর দিকে দেখিয়ে আপনার শিশুকে শেখাতে পারেন যে কিভাবে পটিতে বসতে হয়। কিছুদিনের মধ্যেই হয়ত আপনার শিশু আপনাকে বুঝাতে শুরু করবে যে সে আর ডায়পার পরে থাকতে চায় না। তবে এগুলো নিয়ে খুব তাড়াহুড়ার কিছু নেই, আপনার শিশুকে প্রায়ই পটিতে বসে বাথরুম করানোর চেষ্টা করুন, ধীরে ধীরে শিশু উৎসাহী হয়ে সবকিছু শিখে নিবে।

১৭ মাস বয়সী শিশুর আচার আচরণ

আপনার ১৭ মাস বয়সী শিশু এই সময়ে এমন সব অদ্ভুত আচরণ করতে পারে যেগুলো সামাল দিতে আপনার অনেক কষ্ট হতে পারে। নিম্ন বর্ণীত অবস্থা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে হলে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়ে নিনঃ

এই মাসে নতুন যেটা আপনি লক্ষ্য করতে পারেন যে শিশু তার পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে বেশ সচেতন হয়ে উঠছে। আপনি হয়ত বেশ অবাক হয়ে যাবেন যে আপনার শিশুর পছন্দ এবং অপছন্দগুলো নিয়ে তার অনুভূতি প্রকাশের তীব্রতা দেখে। এমনকি এই বয়সের শিশুরা বেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে পারে যে সে কি পরবে, কি খাবে এবং তার কি করতে ইচ্ছে করছে ইত্যাদি।

কোন কোন শিশুর মধ্যে আরেকটি অবাক করার মত বিষয় দেখতে পারেন, আর সেটা হল আঘাত করা, বিশেষ করে যখন তারা খুব হতাশ থাকে। আর দেখবেন যে শিশু কেবল আপনাকেই আঘাত করেছে! ব্যাপারটা আপনাকে অবাক করলেও মনে রাখবেন এটা হল এক ধরনের লক্ষণ যে শিশু আদতে আপনাকে বিশ্বাস করছে এবং আপনার উপরেই সে নির্ভরশীল। কেননা, ১৭ মাস বয়সী আপনার শিশুটি এখন জানে এবং বুঝতে পারে যে তার হতাশা এবং রাগ প্রকাশ করার জন্য সবচাইতে নিরাপদ মানুষটি হলেন আপনি।

এই সময়ে আপনার করনিয় কি?

এই সময়ে আপনি হয়ত লক্ষ্য করবেন যে মাঝেমধ্যে আপনার শিশুটি হয়ত ইচ্ছে করেই আপনার কথার অবাধ্য হচ্ছে। যেমন ধরুন আপনি তাকে বললেন যে, “তুমি ঐ ফুলদানী থেকে সরে আসো” তখন আপনার শিশু হয়ত আপনার দিকে তাকাবে এবং এরপর সে ইচ্ছে করেই ফুলদানীটি ধরবে অথবা সেখান থেকে ফুল বের করে ফেলবে।

আপনি বুঝতে পারছেন যে শিশু আপনার কথা বুঝতে পেরেছে এবং সে ইচ্ছে করেই এমনটা করল। বিশেষজ্ঞদের মতে এমন সময়গুলোতে শিশুর সাথে রাগ না করে যতটা সম্ভব শিশুর এই অদ্ভুত আচরণগুলো উপেক্ষা করুন। বিশেষ করে এমন ছোট ছোট বিষয়গুলোতে শিশুর সাথে রাগ না করে থাকাটা খুবই জরুরী।

শিশুর একটা নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য মানুষদেরও বিশ্বাস করতে শুরু করা

আপনি যদি কোন একদিন ঘুমানোর সময় শিশুকে গল্প শোনাতে ভুলে যান, তাহলে দেখবেন হয়ত আপনার শিশুই আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, আর এমনটা ঘটলে মোটেও অবাক হবেন না যেন। এই বয়সের শিশুরা একটা নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে তখন তারা সবকিছু মনে রাখতে পারে। তাই শিশুর দৈনিক রুটিনের মধ্যে গোসল কড়া, চুল শুকানো, দাঁত মাজা, ঘুমানোর সময় গল্পের বই পড়ে শোনানো এগুলোর মধ্যে কোন একটা যদি একদিন বাদ পরে যায়, দেখবেন আপনার ১৭ মাস বয়সী শিশু হয়তো তার প্রতিবাদ করবে।

এমনকি এই বয়সী শিশুর নির্দিষ্ট কোন কাজের প্রতি একটু বেশি ঝোঁক দেখে আপনি বেশ অবাকই হয়ে যেতে পারেন। যেমন রাতে ঘুমানোর সময় যখন আপনি তার গায়ে চাদর দিয়ে দিবেন তখন দেখবেন হয়ত নির্দিষ্ট কোন একটা চাদর দিয়ে তার কোন খেলনা ভালুককেও ঢেকে দিতে হবে, অন্য কোন চাদর দিয়ে ঢাকলে হবে না। অথবা সে দুধ খাওয়ার জন্য একটা কাপ নির্দিষ্ট করে রাখতে পারে, দেখা যাবে অন্য কাপে খেতে দিলে আপনার শিশু খেতে চাইবে না।

একইরকম ভাবে প্রতিদিন নাস্তার সময় নির্দিষ্ট কোন সিরিয়াল খেতে সে প্রাধান্য দিতে পারে সবসময়। যদিও এই ধরনের অভ্যাসগুলো আপনাকে একটু দ্বিধায় ফেলে দিতে পারে এমনকি আপনি বিরক্তও হতে পারেন, তবে এই ধরনের অভ্যাসগুলো কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা একটা নির্দিষ্ট রুটিনের মধ্যে থাকলে আপনার শিশুর কাছে তার দৈনন্দিন কাজকর্ম অনেক সহজ হয়ে যাবে।

এছাড়া ১৭ মাস বয়সী শিশুরা আগের মত অচেনা মানুষদের আর তেমন একটা ভয় নাও পেতে পারে। আপনার শিশুকে নিয়ে দোকানে গেলে দেখতে পারেন সে সবাইকেই হাই দিচ্ছে—যেটা সে আগে কখনই করত না। এই সময়ে বাবা মা যদিও তার জীবনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, তবুও অন্যান্য আরো অনেকের সাথে তার বেশ ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া পরিবারের অন্য কোন সদস্য, ডাক্তার, প্রতিবেশীর সাথেও বেশ ভালো সম্পর্কে গড়ে উঠতে পারে আপনার শিশুর। আপনি যখন শিশুকে নিয়ে তার দাদা বাড়িতে অথবা নানা বাড়িতে ঘুরতে যাবেন, দেখবেন শিশু হয়ত তার দাদার সাথে বাগান দেখতে বের হয়ে গেছে এবং খুব সহজেই তাদের দুইজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে।

১৭ মাস বয়সী শিশুর ঘুম

১৭ মাস বয়সী শিশুর কতটুকু ঘুমের প্রয়োজন?

এক থেকে দুই বছর বয়সী শিশুর জন্য প্রতিদিন ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। এই বয়সে শিশুরা হয়ত দৈনিক দুইবার অর্থাৎ রাতে এবং দুপুর বেলা ঘুমিয়ে এই প্রয়োজন পূরণ করে—যদিও কোন কোন শিশুকে দেখা যায় সকালেও অল্প সময়ের জন্য কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়।

আরও পড়ুনঃ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের শিশুর সঠিক ঘুমের অভ্যাস কিভাবে গড়ে তুলবেন ]

১৭ মাস বয়সী শিশুর ঘুম না আসা 

দাঁত ওঠা, ভয়, দুঃস্বপ্ন, আপনার থেকে বিচ্ছেদের ভয় সহ আরো অনেক রকম কারণেই ১৭ মাস বয়সী শিশুর আগের মত ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। শিশুর ঘুমের আগের অভ্যাস ফিরিয়ে আনার জন্য আপনার প্রথমে তার কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে হবে, তাহলেই আপনি তাদের আবার আগের অভ্যাসে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন। শিশুর প্রতিদিনের নিয়মিত ঘুমের সময়টা নিয়ম মত মেনে চলুন, কেননা এটা শিশুকে ঠিকমত ঘুমাতে অনেক সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃশিশুর গড়ে ওঠা ঘুমের অভ্যাসের হঠাৎ পরিবর্তন বা স্লীপ রিগ্রেশন ]

আপনার ১৭ মাস বয়সী শিশু ঘুমাতে চাচ্ছে না?

আপনার ১৭ মাস বয়সী ছোট্ট শিশুটি তার মনে যত ধরনের বুদ্ধি এবং অজুহাত আছে সবগুলো দিয়ে হলেও সে ঘুমাতে না যাওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। তাই ঘুমের সময় হলে তার চারপাশে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে দিন—টিভি, গান এবং মোবাইল এবং ডিভাইস বন্ধ রাখুন; ঘুমানোর সময় গল্প পড়ে শোনান। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হল শিশুর ঘুমের রুটিনটা প্রতিনিয়ত মেনে চলুন—একটা গল্প, একটু চুমু, অল্প একটু পানি—এরপরেই লাইট বন্ধ করে দিন। আপনার শিশু ঘুমাতে দেরী করে যেতে চাইলেও তাকে সেটা করতে দিবেন না। 

১৭ মাস বয়সী শিশুর খাবার

১৭ মাস বয়সী একটি শিশুর জন্য কতটুকু পরিমাণ খাবার এবং পানীয় প্রয়োজন?

আপনার ১৭ মাস বয়সী শিশুকে প্রতিদিন তিন বেলা সুষম খাবার দিন এবং দুই বেলা স্বাস্থ্যকর নাস্তা। কিন্তু কি পরিমাণ খাবার দিবেন, সে প্রশ্নটা রয়েই যাচ্ছে। এই বয়সের একটি শিশুর খাবারের পরিমাণ হওয়া উচিৎ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের খাবারের চার ভাগের এক ভাগ। একটি সুষম খাবারের উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, দুই টেবিল চামচ মাংস, চার টেবিল চামচ পাস্তা এবং ১/৮ কাপ ফল ও এক টেবিল চামচ শাক সবজী।

১৭ মাস বয়সী শিশুকে কি ধরনের খাবার খাওয়াবেন?

১৭ মাস বয়সী শিশু যদি অন্যান্য খাবার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ না করতে পারে তাহলে প্রতিদিন ৮ আউন্স পরিমাণ কাপে তিন কাপ পূর্ণ ননী যুক্ত দুধ খাওয়া প্রয়োজনীয়। আপনার শিশু যেন প্রতিদিন ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

১৭ মাস বয়সের দিকেও অনেক শিশুকে দেখা যায় বুকের দুধ খেতে এবং আপনি ও শিশু উভয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত এটা পছন্দ করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত এটা চালিয়ে যেতে পারেন। আর আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ ছাড়াতে চান তাহলে মনে রাখবেন, ব্যাপারটা যেন বেশ ধীরে ধীরে হয়, হুট করেই শিশুকে বুকের দুধ ছাড়িয়ে দিবেন না।

এক বেলা বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিন এবং আরো এক বেলা বন্ধ করার আগে নুন্যতম সাত দিন সময় নিন। এভাবেই ধীরে ধীরে শিশুকে বুকের দুধ ছাড়িয়ে দিন। আপনি যদি খুব দ্রুত এটা করতে যান তাহলে আপনার “ক্লগ মিল্ক ডাক্ট” অর্থাৎ নিপলে দুধ জমে শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং Mastitis অর্থাৎ আপনার স্তনে প্রদাহ হতে পারে।

এছাড়া মনে রাখবেন দুধ ছাড়ানোর সময় আপনার শিশু নিজেকে অনেক অসংরক্ষিত ও অবাঞ্ছনীয় ভাবতে পারে তাই এই সময়টাতে আপনার শিশুর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিন এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ঘনিয়ে আসলে কিভাবে তার মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়া যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

অনেক মা “ডোন্ট অফার, ডোন্ট রিফিউজ” পদ্ধতি বেশ পছন্দ করেন অর্থাৎ আপনার শিশুকে আগ বাড়িয়ে বুকের দুধ খাওয়াতে যাবেন না আবার সে যখন খেতে চাইবে তখন তাকে নিষেধও করবেন না। অনেক মায়েদের কাছেই এই পদ্ধতিটা বেশ কার্যকরী।

আপনার ১৭ মাস বয়সী শিশু যদি খেতে না চায়

আপনার ১৭ মাস বয়সী শিশু যদি খেতে না চায় এবং অন্যান্য সবকিছু স্বাভাবিক থাকে তাহলে সে হয়ত “পিকি ইটার” । একজন শিশু বিশেষজ্ঞ যদি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিগুলোর দিকে নজর রেখে থাকেন তাহলে আপনাকে এইসব ব্যাপারে অতটা চিন্তিত না হলেও চলবে। শিশুকে বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে দিন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দূরে রাখুন। কিন্তু একটা ব্যাপারে মনে রাখবেন কখনো শিশুকে জোর করে এবং কোন কিছু দেয়ার বিনিময়ে খাওয়াবেন না।

তবে আপনার শিশু যদি একেবারেই খেতে না চায় তাহলে এটা হয়ত কোন  রোগের লক্ষণ, তাই এই বিষয়ে আলাপ করার জন্য অতি দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

১৭ মাস বয়সী শিশুর কার্যকলাপ

১৭ মাস বয়সী শিশুর সাথে যে অ্যাকটিভিটিগুলো করা যেতে পারে?

১৭ মাস বয়সী শিশুর সাথে আপনি যে ধরনের কাজ, খেলনা দিয়ে খেলতে পারেন তা নিম্নে বর্ণীত হলঃ

যে সব খেলনা চালানো যায় সেগুলো দিয়ে খেলা যেতে পারে। ১৭ মাস বয়সী শিশুরা সাধারণত কন কিছু চালাচ্ছে যেমন খেলনা ঘোড়া অথবা খেলনা গাড়ি এইসব দিয়ে খেলতে পছন্দ করে।

বল খেলা যেতে পারে। এই সময়ে শিশু হাত দিয়ে বল ছুঁড়ে খেলতে পছন্দ করে এবং কিছুদিনের মধ্যে সে পা দিয়েও বলা খেলা শিখে যাবে।

১৭ মাস বয়সী শিশুকে আপনি কিভাবে রঙ এবং আকৃতি অনুসারে খেলনা আলাদা করে বেছে রাখতে হয় সেটা শিখাতে পারেন। হয়ত একদিন দেখবেন শিশু জামা কাপড়ও এভাবে রঙ এবং আকৃতি অনুসারে আলাদা করে রাখতে পারছে।

[ আরও পড়ুনঃবয়স অনুযায়ী বাচ্চার খেলনা কেমন হওয়া উচিত ]

আপনার ১৭ মাস বয়সী শিশুর জন্য কিছু পরামর্শ ও চেক-লিস্ট

আপনার ১৭ মাস বয়সী শিশু কিন্তু এখনো অতটা বড় হয়নি যে আপনি তাকে একা রেখে কোথাও চলে যেতে পারেন, এমনকি কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও! আপনাকে যদি হুট করেই শিশুকে কিছুক্ষণের জন্য একা রেখে বাথরুমে যেতে হয় অথবা ওভেনে খাবার গরম করতে যেতে হয় তাহলে শিশুর জন্য একটা নিরাপদ খেলার যায়গা তৈরি করুন, যেখানে শিশু আপনি ফিরে আসা পর্যন্ত হলেও নিরাপদে থাকতে পারবে।

এই বয়সী শিশুর কোন প্রিয় খেলনা অথবা প্রিয় চাদর থাকতে পারে যেটা শিশুর জন্য স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিতে পারে। যদি সম্ভব হয় তাহলে সেই একই রকম দেখতে আরেকটি খেলনা অথবা চাদর কিনে রাখুন। যাতে করে কোন কারণে যদি খেলনা অথবা চাদরটি হারিয়ে গেলে অথবা নষ্ট হয়ে গেলে তখন আপনি তাকে যেন আরেকটি একই রকম জিনিস দিতে পারেন।

আপনি যদি শিশুকে তার মল-মূত্র দিয়ে খেলতে দেখে থাকেন এবং সেটা যদি একের অধিক সময়ে এমন হয় তাহলে শিশুর ডায়পারের মধ্যে যাতে হাত না যায় সেজন্য শক্ত করে আটকানো যায় এমন ডায়পার কিনে নিন এবং শিশুকে ডায়পারের উপর আরেকটি কাপড় পরিয়ে দিন। 

নিজের যত্ন নেয়ার জন্য হলেও আলাদা একটু সময় বের করে নিন। কেননা শিশুর চিৎকার চেঁচামেচি, খেলনা ছোঁড়াছুড়ি এবং মল-মূত্রের সাথে খেলা ইত্যাদি এগুলো সামাল দেয়া অতটা সহজ কোন ব্যাপার নয়। তাই নিজের জন্য একটু আলাদা সময় আপনার খুবই প্রয়োজন।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts