শিশুর আক্রমণাত্মক আচরণ। কামড়ে দেয়া

Updated on

আপনার ছোট্ট শিশুটি হয়ত বেশ মজার, দুষ্টু এবং একাধারে খুবই বুদ্ধিমান… কিন্তু আপনি হয়ত মাত্র শুনেছেন যে আপনার শিশু তার কোন ক্লাসমেটকে কামড়ে দিয়েছে। এটা শুনে হয়ত আপনার মন কিছুটা খারাপ হতে পারে এবং একই সাথে আপনি কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারেন শিশুর এমন আচরণের জন্য।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে ছোট্ট শিশুর যখন তখন কামড়ে দেয়াটা তার স্বাভাবিক বৃদ্ধির একটা অংশ। এই কামড়ে দেয়ার অভ্যাসটা একদম স্বাভাবিক হলেও তারমানে এই না যে ব্যাপারটি মোটেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু না এবং আপনাকে বাসায় এবং স্কুলে শিশুর এই অভ্যাস দূর করার জন্য কোন প্রকার চেষ্টাও করতে হবে না। শিশুরা কেন কামড়ে দেয়, কামড়ে দিলে কি করতে হবে এবং কীভাবে শিশুর এই অভ্যাসটি দূর করতে হবে এ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল।

এই আর্টিকেলে আপনি যে সম্পর্কে জানতে পারবেনঃ  

  • শিশুরা কেন কামড়ে দেয়?
  • শিশু কামড়ে দিলে কি করবেন?
  • শিশু কামড়ে দেয়া প্রতিরোধ/প্রতীকার কীভাবে করবেন?

শিশু কেন কামড়ে দেয়?

আপনার শিশু কি প্রায়ই কামড়ে দেয়? এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার আগে একটু ধীরেসুস্থে বসুন। যদিও আপনার শিশুর এই ধরনের আচরণ একেবারেই উপেক্ষা করার মত কোন বিষয় নয়, তবে জেনে রাখা ভালো যে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। সাধারণত যোগাযোগের একটা মাধ্যম হিসেবে শিশুরা এটা ব্যাবহার করে থাকে।

এ সম্পর্কে Rowedoces Telemedicine এর সাথে সম্পৃক্ত শিশু বিশেষজ্ঞ ক্যাট্রিসিয়া টিলফোর্ড বলেন, “যেহেতু শিশুটি এখনো ভাষাগত ভাবে অতটা পরিপক্ব হয়নি এবং তার ইমোশনের উপর এখনো সেইভাবে নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই তারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে এই ধরনের আচরণ করে থাকে” তিনি এই সম্পর্কে আরো বলেন, “এই ধরনের মারা অথবা কামড়ে দেয়ার মত আচরণ শিশুরা সাধারণত যখন রেগে যায় এবং তার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেনা, তখন করে থাকে”

আপনার শিশুর সার্বক্ষণিক শুশ্রূষায় যিনিই থাকবেন তিনি দেখতে পারবেন যে শিশুর এই কামড়ে দেয়ার অভ্যাসের মধ্যে নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আছে। উদাহরণ স্বরূপ দেখতে পারেন যে আপনার শিশু যখন ক্লান্ত অথবা ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে তখন সে শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। শিশু বিশেষজ্ঞ টিলফোর্ড এই সম্পর্কে বলেন, “আপনার শিশুর হুট করে রেগে যাওয়ার মূল কারণ অনুসন্ধান করুন। এই অনুসন্ধান, আপনি এবং শিশু দুইজনকেই বিভিন্ন সময়ে সাহায্য করবে। যেমন, আপনি যদি দূরে কোথাও বের হন তাহলে সাথে করে শিশুর জন্য খাবার নিয়ে নিন ”

সাধারণত শিশুদের কামড়ে দেয়ার অভ্যাসটা ১২ মাস বয়সের দিকে শুরু হয়। এই সময়ে শিশু অনেকটাই আত্মকেন্দ্রিক অর্থাৎ নিজেকে ছাড়া আর কাউকে তেমন একটা বুঝতে পারে না। যেমন, সে হয়ত বুঝতেই পারছেনা যে কামড়ে দেয়াটা ভালো কিছু না অথবা কামড়ে দিলে ব্যথা লাগে। তারা শুধু এটাই বুঝতে পারে যে কামড়ে দিলে সে সাথে সাথেই মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারছে। একটু বয়স্ক শিশু হয়ত বুঝতে পারে যে কামড়ে দিলে ব্যথা পাওয়া যায়, তবে সে হয়ত যা চাচ্ছে তা পাওয়ার জন্য অন্য কোন উপায় খুঁজে না পেয়েই কামড়ে দিচ্ছে।

শিশুকে তার বয়স অনুসারে এই ধরনের আচরণ সম্পর্কে শিখাতে হবে। কেননা বেশিরভাগ শিশুই শুধুমাত্র তার প্রয়োজনটা বুঝাতে অন্য কোন উপায় খুঁজে না পেয়েই কামড়ে দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন বুঝানোর জন্য অন্য কোন উপায় খুঁজে পেতে একটু দেরিও হতে পারে। তবে এই কামড়ে দেয়ার মাধ্যমে যদি কোন ইনজুরি হয়, চামড়া কেটে রক্ত বের হয় অথবা এই ক্রুদ্ধ মনোভাব যদি দিন দিন বাড়তেই থাকে তাহলে আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। কেননা শিশুকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের প্রভাব শিশুর উপর একটু বেশিই হয়।

শিশু কামড়ে দিলে কি করবেন?

কখনো এমন হতে পারে যে, আপনি একদমই বুঝতে পারেননি আপনার শিশু এখনই কাউকে কামড়ে দিতে যাচ্ছে। আবার এমন দেখা যায়, যে শিশু বাসায় একদম শান্ত শিষ্ট সেই শিশুটিই কেন ডে-কেয়ার সেন্টারে গেলে কামড়ে দিচ্ছে, এটা ভেবে বাবা মা’রা প্রায়ই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন। এই সমস্ত ক্ষেত্রে শিশুর শিক্ষক অথবা শুশ্রূষাকারী অর্থাৎ নার্স আপনাকে অনেক সাহায্য করতে পারে। দুইজন মিলেও শিশুকে খুব ভালোভাবে তার রাগ নিয়ন্ত্রণ করা শিখাতে পারেন। শিশুকে কীভাবে কামড়ে দেয়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন, সে সম্পর্কে কিছু টিপস নিচে দেয়া হলঃ

শিশুকে না বলুনঃ বাচ্চা যখনই কামড়ে দেবে তখনই তাকে খুব শক্তভাবে “না” বলুন। এ সম্পর্কে টিলফোর্ড বলেন, কামড় দিলে যে মানুষ ব্যথা পায় এটা বোঝার আগেই, কামড় দেয়া যে খারাপ একটা অভ্যাস এটা শিশুরা খুব সহজেই বুঝতে পারে।

শিশুর সাথে চিৎকার করে কথা বলবেন নাঃ শিশুর সাথে চিৎকার করে রাগ দেখানো, জোরে বকা দেয়া অথবা খুব বেশি রিয়েকশন দেখানোর মানে হল আপনি শিশুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এই ব্যাপারে। নিউ ইয়র্ক শহরের কলম্বাস প্রি-স্কুলের এডুকেশন ডিরেক্টর জুলি ক্যান্ডাল এ সম্পর্কে বলেন, “যখনই আপনি দেখবেন আপনার শিশু কাউকে কামড়ে দিয়েছে, সাথে সাথে মনোযোগ শিশুর থেকে সরিয়ে নিন এবং যে কামড় খেয়েছে সে ঠিক আছে কি না অথবা তার কোন প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োজন কি না এসবের দিকে নজর দিন। কেননা এর মাধ্যমে শিশু বুঝতে পারবে যে এই ধরনের খারাপ আচরণের জন্য সে আপনার মনোযোগ পাবেনা।

কিছু সময়ের জন্য তার সাথে কথা বলা বন্ধ রাখুনঃ এ সম্পর্কে টিলফোর্ড বলেন, “শিশুর বয়স যখন এক বছরের মত হবে তখন তার সাথে কথা বলা থেকে এক মিনিটের জন্য বিরত থাকুন অর্থাৎ এক মিনিট তার সাথে কথা বলবেন না।” এই বিরতির সময়টা প্রতি বছরের জন্য এক মিনিট করে নিতে হবে অর্থাৎ শিশুর বয়স যদি দুই বছর হয় তাহলে তার সাথে দুই মিনিটের বিরতি নিন।

খেয়াল রাখুন যে প্রতিবারের ক্ষেত্রেই যেন ঠিক এক মিনিটের বিরতির কৌশলটি অবলম্বন করা হয়। এছাড়া আপনার ডে-কেয়ার সেন্টারের সবাই অথবা শিশুর শুশ্রূষা প্রদানকারী নার্সও যেন এই কৌশলটি অবলম্বন করে।  

কখনই দুষ্টামি করে হলেও তাকে কামড়াতে যাবেননাঃ কখনো কখনো কামড় দিলে যে ব্যথা লাগে এটা শিশুকে বোঝানোর জন্য বাবা মা’রাও শিশুকে কামড় দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলাফলটা বিপরীত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। আপনি যেহেতু একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ তাই আপনি শিশুকে কথার মাধ্যমে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করুন যে কথার অথবা অন্য কোন মাধ্যমেও রাগ প্রকাশ করা যায়। আপনার শিশু যেহেতু আপনাকেই অনুকরণ করে সবসময়, তাই এভাবে তাকে বোঝানোটা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

শিশুকে অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করুনঃ সাধারণত শিশুরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না দেখেই কামড়ে দেয়। তাই তারা যখন কথা খুঁজে পায় না তখন আপনি তাকে সাহায্য করুন যাতে সে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ক্যান্ডাল এ সম্পর্কে বলেন, “শিশুর জন্য অনুভূতি প্রকাশ করার সঠিক মাধ্যম শিখতে পারাটা খুবই জরুরী। যেমন- অন্য কোন বাচ্চা যদি তার খেলনা ধরতে চায় এবং সেটা যদি তার পছন্দ না হয় তবে তার “না” বলতে পারা বা আপনার কাছে সাহায্য চাওয়া ইত্যাদি । এইসব দক্ষতা যদি আপনার শিশুর মধ্যেও নিয়ে আসতে পারেন তাহলে তার কামড়ে দেয়ার অভ্যাস বন্ধ হয়ে যাবে”

পূর্বের কোন উদাহরণ দিয়ে শিশুর সাথে কথা বলবেন নাঃ শিশুরা সাধারণত বর্তমান মুহূর্তটিতেই বসবাস করে। তাই শিশু যদি বেশ কিছুক্ষণ আগে অথবা এক সপ্তাহ আগে কামড় দিয়ে থাকে তাহলে সেই পুরনো কিছু নিয়ে তাকে কখনো বোঝানোর চেষ্টা করবেন না। কামড় দেয়ার সাথে সাথেই তাকে এটা নিয়ে তার সাথে কথা বলুন।

ভালো আচরণ করার জন্য তাকে উৎসাহ দিনঃ এই সম্পর্কে টিলফোর্ড বলেন, “যখন কোন শিশু খুব ভালোভাবে আচরণ করছে অথবা ভালো করে খেলাধুলা করছে তাকে সাথে সাথেই সেটা নিয়ে উৎসাহ দিন। এর মাধ্যমে সে কোন ধরনের খারাপ আচরণ করা থেকে বিরত থাকবে।”

এমন যদি হয় যে আপনার শিশু খেলনা গাড়ি নিয়ে খেলতে চাচ্ছে কিন্তু সেই খেলনা অন্য বাচ্চার হাতে বলে সে পুতুল দিয়ে খেলছে তখন তাকে উৎসাহ দিন। তাকে বলুন, তোমার এই সিদ্ধান্তটা খুবই ভালো হয়েছে। এই ধরনের উৎসাহ ভবিষ্যতে তাকে আবারও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

কোন ধারনা নিয়ে বসে থাকবেন না অর্থাৎ শিশু আগে কি করেছিল আর আগামীতে কি করতে পারে এগুলো নিয়ে তার সাথে কথা বলতে যাবেন না। যেহেতু প্রত্যেকটি শিশু তার বর্তমান অবস্থাতেই বাস করে তাই কোন কিছু ঘটলে তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করবেন।

শিশুর শিক্ষকের সাথে নিয়মিত আলাপ করুনঃ আপনার শিশু কাউকে কামড়ে দিলে সেটা আপনার জন্য মন খারাপের বিষয় হলেও মনে রাখবেন এটা কিন্তু শিশুর জন্য একদম সাধারণ একটা ঘটনা। তাই শিশুর শিক্ষকের সাথে আলাপ করুন, কেননা ইতোমধ্যে তিনি অবশ্যই এই ধরনের অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন।

এ সম্পর্কে এডুকেশন ডিরেক্টর ক্যান্ডাল বলেন, শিশুদের জন্য একটা ক্লাসরুমের মধ্যে থাকা মানে সামাজিকতা অনেকটুকু শেখা হয়ে যাওয়া। কেননা এখানে তাদের অনেক কিছুই বাকি ক্লাসমেটদের সাথে শেয়ার করতে হয় এমনকি কোন খেলনা দিয়ে খেলতে হলেও তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আর এসব কাজ দিয়েই শিশুর চিন্তা ভাবনার মধ্যে নমনীয়তা এবং সমঝোতার প্রভাব আসে।

তবে এটা মনে রাখতে হবে, শিশুর মধ্যে কিন্তু এই ধরনের চিন্তা ভাবনা রাতারাতি চলে আসবে না, এর জন্য তার সময় প্রয়োজন। এছাড়া সে বাসায় কেমন আচরণ করে অথবা রেগে গেলে কি করে এসব কথা তার শিক্ষকের সাথে আলোচনা করে রাখলে শিশুকে সামলানোটা তাঁর জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।

মা’কে ছাড়া ক্লাসে থাকার জন্য অথবা বাবা-মা’র অফিসে যাওয়ার জন্য শিশুর মন খারাপ থাকতে পারে তাই শিশু সম্পর্কে যদি একটু বিস্তারিত তার শিক্ষকরা আগে থেকেই জানতে পারে তাহলে তার উপর আলাদা ভাবে খেয়াল রাখাটা সহজ হয়।

স্কুলের উপর দোষ চাপিয়ে দিবেন নাঃ সাধারণত স্কুলে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বাবা মা’রা স্কুলের উপর দোষারোপ করে থাকেন, তবে স্কুলে ঘটে যাওয়া এই ধরনের ঘটনা আগে থেকেই চাইলে বাবা মা’রা প্রতিরোধ করতে পারবেন। আর তাই এক্ষেত্রে সবচাইতে ভালো হবে যদি শিক্ষকের সাথে আলাপ করে উভয়ে মিলেই শিশুর এই ধরনের আচরণ প্রতিরোধ করা যায়।  

শিশু কামড়ে দেয়া প্রতিরোধ/প্রতিকার কিভাবে করবেন?

সবচাইতে ভালো উপায় হল, শিশু যখন রেগে যাচ্ছে তখন তার কামড়ে দেয়ার মত অবস্থায় যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন। যেমন ধরুন আপনি যদি আগে থেকেই জেনে থাকেন যে ঘুম পেলে আপনার শিশু একটু রেগে থাকে তাহলে সে সময়ে তাকে অন্য কারো সাথে খেলতে না দিয়ে বরং বাসায় নিজের কাছে শান্ত পরিবেশে রেখে দিলে এই ধরনের কামড়ে দেয়ার মত ঘটনা তৈরি হবে না। শিশুর কামড়ে দেয়ার অভ্যাস প্রতিরোধ করার জন্য কিছু টিপস নিচে দেয়া হলঃ

শিশুর মনোযোগ সরিয়ে নিনঃ এ সম্পর্কে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ টিলফোর্ড বলেন, “যখন আপনি দেখবে যে আপনার শিশু কোন কারণে রেগে যাচ্ছে, আপনি নিজে থেকেই এগিয়ে আসুন এবং সমস্যাটির সমাধান করে দিন”। আবার যদি সে কোন একটা বিশেষ খেলনা নেয়ার জন্য রাগ করছে, সেই খেলনাটি যদি তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে না দেয়া যায় তাহলে অন্য কোন খেলনা দিন বা অন্য কোন কাজে তার মনোযোগ ঘুরিয়ে দিন। এ সম্পর্কে টিলফোর্ড আরো বলেন, “শিশুর রেগে যাওয়ার কারণ থেকে তার মনোযোগ সরিয়ে নেয়াটাই শিশুর কামড়ে দেয়ার অভ্যাস প্রতিরোধের প্রাথমিক উপায়”

তার অনুভূতিকে সমর্থন করুনঃ এ সম্পর্কে টিলফোর্ড বলেন, “শিশুরা সাধারণত রেগে গেলে কামড়ে দেয়। তখন তার রাগকে সমর্থন করে তাকে রাগ প্রকাশের অন্য উপায় সম্পর্কে শেখানোর চেষ্টা করুন।”

আপনার নিজের আচরণ সুন্দর করুনঃ এর মানে এই না যে আপনি কাউকে কামড়ে দিতে যাচ্ছেন আর আপনার শিশু তা দেখে শিখছে। এ সম্পর্কে টিলফোর্ড বলেন, আদতে শিশু কিন্তু আপনাকেই অনুকরণ করবে, তাই আপনি কীভাবে আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং কীভাবে সমস্যা সমাধান করছেন এগুলো তার উপর বেশ ভালো প্রভাব ফেলে”

পুরো ব্যাপারটাকে একটা প্রক্রিয়া হিসেবে ধরে নিনঃ শুধুমাত্র শিশুর কামড়ে দেয়াটা বন্ধ করা নয় বরং পুরো ব্যাপারটাকে  শিশুর অনুভূতির যথাযথ প্রকাশ ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা শেখানোর প্রক্রিয়া হিসেবে ধরুন। এভাবে চিন্তা করলে হুট করে সমস্যা সমাধানের চিন্তা মাথার মধ্যে আসবেনা এবং আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন যে পুরো প্রক্রিয়াটাই একটু সময় সাপেক্ষ।

শিশুর অনুভূতিগুলোকে চিহ্নিত করুনঃ শিশু হুট করে রেগে গেলে কোন রকম চিন্তা করা ছাড়াই যে কাউকে আঘাত করে ফেলতে পারে। তাদের অনুভূতিগুলো চিহ্নিত করুন এবং শিশুকে তার অনুভূতি সম্পর্কে ভালো করে বুঝিয়ে বলুন। এতে করে শিশু ধীরে ধীরে তার অনুভূতিকে অর্থাৎ এমন হুট করে রেগে গিয়ে কাউকে আঘাত করাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। 

আদতে শিশু যখন কাউকে কামড়ে দেয় সেটা আলাদা করে বিশেষ কোন ঘটনা নয় বরং এটা একদমই স্বাভাবিক। এর মাধ্যমেই কিন্তু আপনার শিশু তার অনুভূতি প্রকাশ করছে এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তাই এইসব বিষয়ে মন খারাপ ও নিজেকে অপরাধী না করে বরং শিশুকে তাঁর অনুভূতিগুলোর বহিঃপ্রকাশ করার জন্য সাহায্য করাটাই এখানে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts