শিশুর আক্রমণাত্মক আচরণ। আঘাত করা।

Updated on

আপনার দারুণ বুদ্ধিমান ও মিষ্টি শিশুটিই যখন মাঠে খেলতে যাচ্ছে তখন তার খেলায় কেউ বাঁধা দিলেই তাকে মারছে? শিশু যখন কাউকে মারছে সেটা আপনার জন্য বেশ বিব্রতকর এবং উদ্বেগজনক।

আদতে ছোট বাচ্চাদের এই মারামারি তার স্বাভাবিক বৃদ্ধিরই একটা অংশ। তার এই আচরণ রোধের জন্য আপনাকে জানতে হবে তার রাগের কারণ সম্পর্কে এবং আরো জানতে হবে কীভাবে আপনি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

ছোট্ট বাচ্চাদের এই মারামারির অভ্যাস সম্পর্কে আপনার যে বিষয়গুলো জানা জরুরী, আমরা ঠিক সেগুলো নিয়েই এখানে আলোচনা করতে যাচ্ছি।

ছোট্ট শিশুরা কেন কাউকে আঘাত করে?

ছোট্ট শিশুর মারামারির অভ্যাস নিয়ে আপনি হয়তো চিন্তিত হয়ে পরেছেন যে, আপনার অভিভাবকত্বে ঠিক কোথায় ভুলটা হয়েছে যার কারণে আপনার শিশু এত মারামারি করছে। একটু ধিরস্থির হয়ে বসুন, একজন বাবা অথবা মা হিসেবে আপনার আসলে কোন দোষ নেই। ছোট্ট শিশু যখন খুব রেগে যায় অথবা হতাশ হয়ে যায় আর তার অনুভূতি সে মুখে বলে বোঝাতে পারেনা সাধারণত তখনই সে কাউকে আঘাত করে।

Rowedocs Telemedicine Network এর একজন শিশু বিশেষজ্ঞ টিলফোর্ড এ সম্পর্কে বলেন, “ছোট শিশুরা  আসলে মানসিক আবেগ অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করবে সেটা সে তেমন একটা বুঝতে পারে না, কেননা ভাষাগত ভাবে সে এখনো ততটা উন্নত হয়নি।” এছাড়াও শিশুরা খুব বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকে তাদের সঙ্গী সাথিকে সে সাধারণ বস্তু হিসেবে মনে করে এবং তার উপর শিশুর তেমন কোন সহানুভূতিও থাকে না।

ব্যাপারটা এভাবেও বলা যেতে পারে যে, শিশুর ক্লাসমেট যখন তার প্রিয় পুতুলটি নিয়ে যায়, তখন সে তাকে তার বন্ধু হিসেবে মনে করে না বরং তার ও খেলার পুতুলের মাঝে কেবল একটি বাঁধা হিসেবে দেখে। 

এটা বলা হয়ে থাকে যে শিশুদের কাউকে মারার অভ্যাসটা একদমই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার—তবে তার মানে এই নয় যে এটা আপনি মেনে নিবেন এবং অপেক্ষা করবেন কখন শিশু বড় হবে এবং এইসব অভ্যাস ত্যাগ করবে। শিশুর এই আঘাত করার অভ্যাস তার এক বছর শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে যেতে পারে এবং যদিও আঘাত করাটা যে খারাপ এটা তাকে এই বয়সে বুঝানো সম্ভব হয়ে ওঠে না তবু এটা বন্ধ করে ফেলা সম্ভব।

এ সম্পর্কে টিলফোর্ড বলেন, “কাউকে আঘাত করার অভ্যাস যে মেনে নেয়ার মত কিছু নয় এটা সে শিখে যেতে পারবে। যদিও তখনো সে পুরোপুরি ভাবে বুঝতে পারে না যে আঘাত করলে কেউ ব্যথা পায়”

নিউ ইয়র্ক সিটির কলম্বাস প্রি-স্কুল এর এডুকেশন ডিরেক্টর জুলি ক্যান্ডাল বলেন,“আপনার শিশু যদি ডে-কেয়ার অথবা প্রি স্কুলে যায় তাহলে তার শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করুন এবং আপনার শিশু যদি বাসায় খুব বেশি আবেগি হয় এবং প্রায়ই কাউকে আঘাত করছে তবে সেটা তাদের জানিয়ে রাখুন।”

এ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, “কামড়ে দেয়া, আঘাত করা অথবা কাউকে ধাক্কা দেয়ার মত কাজগুলো শিশু সাধারণত তখনই করে যখন সে রেগে যায় এবং তার আবেগকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারেনা অথবা যদি তাদের কোন কারণে ভুল বোঝা হয়” 

শিশুকে নতুন ক্লাসরুমে নিয়ে গেলে, নতুন ক্লাসমেটদের অথবা খেলার সাথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলে অথবা বাসায় যে কোন ধরনের হঠাৎ পরিবর্তন এলে, যেমন বাবা অথবা মা’র অফিসের সময় যদি হুট করে পরিবর্তিত হয়ে পড়ে তখন শিশু সাধারণত হতবিহবল হয়ে পড়ে। 

জুলি ক্যান্ডাল এ সম্পর্কে বলেন, “এই ধরনের যে কোন প্রকার পরিবর্তন সম্পর্কে টিচারকে জানিয়ে রাখলে খুব ভালো হয়, কেননা এতে করে তাঁরা শিশুর বাড়তি যত্ন নিতে পারেন”

শিশু যখন আপনাকে আঘাত করবে তখন আপনি কি করবেন?

ছোট শিশুটি যখন আঘাত করছে সেটা আপনার জন্য শুধুমাত্র মানসিক ভাবেই আঘাত করেনা বরং কখনো আপনি শারীরিক ব্যথাও পান—ছোট্ট হাতগুলো কিন্তু বেশ জোরেশোরেও আঘাত করতে পারে! তবে বাবা মা’কে আঘাত করার বিষয়টি হয়ত খুবই কমন একটা ব্যাপার। তবে সবচাইতে জরুরী বিষয়টি হল, আপনার শিশুকে বুঝিয়ে দিন এমন কাজ মেনে নেয়ার মত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে বোঝানোর সময় শিশুকে যেন কোন প্রকার আঘাত না করা হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ওয়ালফিশ এ সম্পর্কে বলেন, “কাউকে আঘাত করে অথবা ব্যথা দেয়া কখনই মেনে নেয়ার মত কিছু না এবং ভালো কিছু না, বাবা মা হিসেবে আপনাকে শুধু এই ব্যাপারটা ভালোভাবে বোঝাতে হবে আপনার শিশুকে।” কাউকে আঘাত করা থেকে শিশুকে বিরত রাখার জন্য কিছু উপায় নিচে বর্ণীত হল, 

শিশুকে নিয়মিত বোঝাতে থাকুনঃ ছোট শিশুটি হয়ত বুঝতে পারছেনা যে কাউকে মারলে সে ব্যথা পায় আর সে এটা নাও বুঝতে পারে যদি আপনি অনেক কথার মাধ্যমে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন।  তাই বিষয়টা সিম্পল রাখুন।

যখন শিশু আপনাকে আঘাত করবে তখন আপনি “আউ! ব্যথা পেয়েছি!” বলে উঠুন। আবার শিশু যখন তার বন্ধু, ভাই-বোন অথবা খেলার সাথীকে আঘাত করে তখন সে ব্যথা পেয়েছে কি না সেটা শিশুকে দেখিয়ে দেখিয়ে একটু বেশি সময় ধরেই পরীক্ষা করুন।

শিশুর সাথে কিছুক্ষণ কথা না বলে থাকুনঃ এ বিষয়ে টিলফোর্ড বলেন, “অল্প কিছুক্ষণ কথা না বলে থাকুন, এক্ষেত্রে এক বছরের শিশুর জন্য এক মিনিট এবং দুই বছরের শিশুর জন্য দুই মিনিট কথা বলা বন্ধ রাখলে সে এটা বুঝতে পারবে যে কাউকে আঘাত করার পরিণতি খুব একটা ভালো কিছু না। এছাড়াও এই সময়ের বিরতিটা শিশুকে শান্ত হতে সাহায্য করে।” এছাড়াও শিশুকে আলাদা কোথাও নিয়ে রাখার থেকে আপনি বরং শিশুর সাথে থাকুন সে সময়টা এবং তাকে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করুন।

অন্য কোন কাজের মাধ্যমে তার মনোযোগ সরিয়ে নিনঃ আপনার শিশু যখন আঘাত করে তার মানে এই যে তারা যে কাজটি করতে চাচ্ছে সেটা তার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। তখন সেটা আপনি আসতে কিন্তু দৃঢ় ভাবে সরিয়ে নিন। তাকে বলুন, “তুমি আঘাত করেছ? তাহলে তুমি এই খেলাটি খেলতে পারব না” এবং এই বলে যদি আপনি খেলনা অথবা বিষয়টি সরিয়ে দিন তার কাছ থেকে তাহলে আপনার শিশু বুঝতে পারবে আঘাত করলে এই মজার খেলা অথবা কাজটি আর কখনো করা যাবে না।

যদি আপনার শিশু নির্দিষ্ট কোন খেলনা পাওয়ার জন্য অথবা নির্দিষ্ট কোন খেলা খেলার জন্য খুব বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে তাহলে শিশুকে সেই স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে তাকে শান্ত হতে দেয়াটাই বুদ্ধিমানে কাজ হবে। এ সম্পর্কে টিলফোর্ড বলেন, “এটা কোন শাস্তি নয় বরং শিশুর আবেগ স্বাভাবিক ভাবে কমে আসার জন্য সুযোগ করে দেয়া।”

তাৎক্ষনিক ভাবে বোঝান: শিশুদের খুব কম সময় পর্যন্ত কথা মনে থাকে, আর তাই এই আঘাত করার ঘটনাও কিছুক্ষণ পরে সে ভুলে যেতে পারে। এ সম্পর্কে ক্যান্ডাল বলেন, আপনি যাই করেন না কেন, সেটা যেন ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই হয়।

আপনি যদি বেশ কিছুক্ষণ পর উপরে বর্ণীত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাহলে এটা শিশুকে বোঝার জন্য কোন সাহায্য করবেনা বরং শিশুটি তার আঘাত করার সাথে আপনার এই পদক্ষেপের সম্পর্ক কোথায় এটাও বুঝতে পারবেনা।  

তার শিক্ষকের সাথে আলোচনা করুনঃ শিশুদের আচরণ পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে শিক্ষকের সাথে আলোচনা একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। অনেক সময় কোন শিশু কেবলমাত্র একবার অথবা দুইবার কাউকে আঘাত করে শুধুমাত্র এই আচরণটি কেমন সেটা বোঝার জন্য আবার কোন শিশু এই আঘাত করাকে তার অভ্যাসে পরিণত করে। আপনার শিশুটি ঠিক কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছে এটার উপর নির্ভর করছে আপনি কীভাবে শিশুর আঘাত করার অভ্যাস থেকে নিয়ন্ত্রণ করবেন।

আপনার শিশু যদি অনেক পরিমাণে আঘাত করে তাহলে বুঝতে হবে সে তার অনুভূতি প্রকাশ করার মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছে না। আপনি এবং টিচার দুইজন মিলে শিশুর কি কোন বাড়তি সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না সেটা ঠিক করুন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যে শিশুরা খুব কম শব্দ বলতে পারে তাদের জন্য স্পিচ থেরাপি খুবই উপকারী।    

শিশুরা কখনো নিজেদেরকেও আঘাত করতে পারে। যদিও এটা দেখতে বেশ উদ্বেগজনক, তবে এই সম্পর্কে ক্যান্ডাল বলেন, “নিজেদের আঘাত করে শিশুরা মাঝে মধ্যে শুধু দেখতে চায় যে এটা করলে কেমন লাগে।” এছাড়াও হতে পারে তার আসলেই বুঝতে পারছেনা রেগে গেলে ঠিক কি করতে হবে তাদের। তাই শিশুর হাত যে কাউকে আঘাত করার জন্য না এমনকি নিজেকেও না, এটা তাকে বোঝানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

এই সময়ে শিশুর রাগ কমে যাওয়া পর্যন্ত কোন একটা কৌশল অবলম্বন করলে যেমন দৌড়, লাফ অথবা জোরে হাততালি দেয়া যেতে পারে। এছাড়া শিশু যদি প্রায়ই নিজেকে আঘাত করে তাহলে পরবর্তী করনীয় সম্পর্কে জানার জন্য একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করে নেয়াটা ভালো হবে। 

শিশুরা মাঝে মধ্যে নিজেদের আঘাত করে কেননা এতে তারা নিজেদের শরীরকে অনুভব করতে পারে, এক্ষেত্রে একজন পেশাদার থেরাপিস্ট শিশুকে অন্যকোন ভাবে নিজেকে অনুভব করতে সাহায্য করতে পারেন।  

শিশুর কাউকে আঘাত করা কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?

শিশুরা আঘাত করে, এটা হয়ত খুব সাধারণ একটা কথা কিন্তু এই আঘাত করার প্রত্যেকটা ঘটনাকে গুরুত্বের সাথে নেয়াটা খুবই জরুরী। শিশু যদি কোন কারণে রেগে যায় তাহলে সেই ঘটনা আরো বাড়তে না দেয়াটাই সবচাইতে ভালো একটি উপায়, তবে অনেক সময়েই এটা করা সম্ভব হয়ে উঠে না।

আবার যদি শিশু অন্য কাউকে আঘাত করে বসে তাহলে সেটা তাৎক্ষনিক ভাবে বন্ধ করাটা খুবই জরুরী। শিশুকে আঘাত করা থেকে কীভাবে বিরত রাখবেন অথবা তাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন এ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল…   

শিশুর প্রতি মনযোগী হনঃ পার্কে অথবা খেলা মাঠে সবসময় শিশুর সাথে থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার শিশু ঠিক কখন রেগে যাচ্ছে এবং আঘাত করার আগেই বিষয়টা আপনি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে পারবেন। 

আপনার শিশু হয়ত অনেকগুলো খেলনা একসাথে পেয়ে অথবা স্লাইড খেলায় দীর্ঘ লম্বা লাইন দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারে। আর এ সময় তার সাথে কথা বলে তার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে পারলে সেটা আপনার এবং শিশুর উভয়ের জন্যই ভালো।

যদি আপনার শিশু আরেকটু বড় হয় তাহলে সেদিনের কথা মনে করিয়ে তাকে পরবর্তীতে বুঝাতে পারেন। তাকে এই ধরনের কিছু বলতে পারেন, ‘ওয়াও! তুমি আজকে স্লাইড খেলার জন্য যেভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছিলে, সেটা খুবই ভালো ছিল’। ঘুমাতে যাওয়ার সময় এই ধরনের কথা বলাটা, শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে।       

ভালো আচরণের প্রশংসা করুনঃ যখন আপনি দেখবেন আপনার শিশু খুব ভালো হয়ে খেলাধুলা করছে তখন তাকে প্রশংসা করুন। এতে করে শিশু বুঝতে পারবে যে, ভালো আচরণের মাধ্যমেই সে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারছে, তাই মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য আলাদা করে কাউকে আঘাত করতে হবে না।

বাড়তি খেলনা কিনে দিনঃ ছোট শিশুদের জন্য তাদের খেলনা শেয়ার করে খেলাটা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। আর তাই যদি একাধিক বাচ্চা একসাথে খেলে তবে এটা খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রত্যেকটা শিশুই খেলার জন্য পর্যাপ্ত খেলনা পায়।

শিশুকে শিখানোর চেষ্টা করুনঃ যখনই আপনি দেখবেন আপনার শিশুর মুখ লাল হয়ে গেছে অথবা অন্য কোন ভাবে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার শিশু রেগে যাচ্ছে তখনই আপনি শিশুর দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। তার আচরণ এবং মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে আপনি তাকে বলতে পারেন, “বাহ! তুমি দেখি এখন রেগে গেছ। আসো আমরা লাফালাফি, দৌড়াদৌড়ি অথবা অন্য কিছু করার মধ্য দিয়ে তোমার রাগ কমিয়ে দেই!”

রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল অবলম্বন করুনঃ এ সম্পর্কে টিলফোর্ড বলেন, “যে শিশু রেগে গেলে আঘাত করে তাদের মনোযোগ সরিয়ে নেয়ার জন্য কথা বলে অন্য কোন কাজ করানো অথবা শিশুর সাথে একটু বিরতি নেয়া এই ধরনের কৌশলগুলো নিয়মিত অবলম্বন করাটাই সবচাইতে জরুরী।”

আপনার শিশু যদি ডে-কেয়ার অথবা প্রি-স্কুলে যায় তার শিক্ষককে জিজ্ঞেস করুন তারা কীভাবে শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেই একই কৌশল আপনি ঘরেও কাজে লাগাতে পারেন। ঘরের বাকি সবাই যেমন নার্স, দাদা-দাদি অথবা বেবি-সিটার সবাই যেন একই কৌশল অবলম্বন করে সেদিকে খেয়াল রাখাটাও জরুরী।  

শিশুরা যখন বাবা-মা অথবা ক্লাসমেট কাউকে আঘাত করে সেটা অভিভাবকদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক এমনকি বিব্রতকরও হতে পারে। আর তাই এটা যে আদতে শিশুর বৃদ্ধির একটা স্বাভাবিক অংশ তা জেনে রাখাটা বাবা মায়েদের জন্য একটু স্বস্তিকর হতে পারে। শিশুর রেগে যাওয়ার লক্ষণগুলো জানা এবং তাদের সাথে আবেগে প্রকাশের সঠিক উপায় নিয়ে আলোচনা করাটা শিশুর জন্য খুবই উপকারী।

এই ধরনের কাজের মধ্যে আদতে কোন ক্রুদ্ধ মনোভাব নেই, এটা আপনার শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য কথা বলার মতই আরেকটা উপায়। আপনার শিশু আপনাকে শুধুমাত্র এটাই জানাতে চাচ্ছে যে তার একটু সাহায্য প্রয়োজন। তাই আপনি তাকে সহযোগিতা করুন, ভালবাসুন এবং ভবিষ্যতে সে যাতে আঘাত না করে এজন্য কৌশলগুলো অবলম্বন করুন। 

[ আরও পড়ুনঃ শিশুর আক্রমণাত্মক আচরণ।কামড়ে দেয়া ]

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment