বুকের দুধ শুকানোর উপায় : ল্যাকটেশন সাপ্রেশন

Updated on

বুকের দুধ শুকানোর ব্যাপারটা কয়েকদিনে হতে পারে আবার সেটা কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। পুরো ব্যাপারটা নির্ভর করে কতদিন ধরে আপনি শিশুকে দুধ পান করাচ্ছেন সেটার উপর।

সাধারণত, আপনি যত বেশীদিন ধরে শিশুকে বুকের দুধ পান করাবেন, বুকের দুধ শুকানোর ক্ষেত্রে সময়ও লাগবে তত বেশী।  এমনকি কিছু কিছু মায়েদের ক্ষেত্রে, শিশুকে বুকের দুধ পান করানো বন্ধ করার অনেকদিন পর পর্যন্ত বুকে অল্পপরিমাণে দুধ রয়েই যায়।

গর্ভাবস্থাতেই বুকে সামান্য পরিমাণে দুধ উৎপন্ন হওয়া শুরু হয়। প্রসবের পর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এসময়টাতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বুকের দুধ তৈরি হতে থাকে।

আপনি যদি বাচ্চাকে বুকের দুধ না খাওয়ান বা পাম্প না করেন তবে আপনার শরীর ধীরে ধীরে বুকের দুধ তৈরি করা বন্ধ করে দিবে। অর্থাৎ আপনি যদি বাচ্চাকে শুরু থেকেই বুকের দুধ না খাওয়ান তারপরও আপনার বুকের দুধ তৈরি হওয়া সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে যাবেনা।

নতুনভাবে বুকের দুধ উৎপাদন বন্ধ করা

আপনি যদি শিশুকে একেবারেই বুকের দুধ না খাওয়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে হয়তো আপনি এমন কোন উপায় খুঁজছেন যার মাধ্যমে দুধের উৎপাদনই বন্ধ করা যাবে। কিন্তু আসলে এমন কোন উপায় নেই যার মাধ্যমে শিশু জন্মদানের আগেই আপনি বুকের দুধ উৎপাদন বন্ধ করতে পারবেন।

অন্যান্য সকল গর্ভবতী নারীদের হরমোনের ক্রিয়ার অংশ হিসেবে যে দুধ উৎপাদিত হয়, আপনার ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হবে না।  ডেলিভারির পর, বুকের দুধ যদি বাচ্চাকে খাওয়ানো না হয়, তাহলেই ধীরে ধীরে তা শুকিয়ে যায়। তার মানে, বুকে দুধ আসার পর স্তন কিংবা নিপলে যত কম উদ্দীপনা দেওয়া যায়, তত দ্রুত দুধ শুকিয়ে আসে।

কখন বুকের দুধ শুকানোর প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত?

এর আসলে কোন সঠিক সময় নেই, পরিস্থিতিভেদে ভিন্নতা থাকতে পারে। কিছু কিছু মায়েরা একেবারেই শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা ডেলিভারির পরপরই বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে চান।

আবার কারো যদি ডেলিভারির পর সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদটা শুনতে হয় যে শিশু মারা গিয়েছে, সেক্ষেত্রে তিনি হয়তো তার জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে দ্রুত মুছে ফেলতে চান। তিনি যদি পাম্প করে বুকের দুধ দান করে দেওয়াতে রাজি না থাকেন, সেক্ষেত্রে এমন মায়েরাও দ্রুত বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলতে আগ্রহী হয়ে থাকেন।

অনেক মায়েরা আবার কোন রোগবালাই সংক্রান্ত কারণে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদে শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারেন না, সেক্ষেত্রে তারাও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বুকের দুধের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে আগ্রহী হন।

আপনার কোন অসুখের কারণে যদি শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে না পারেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তা IBCLC (International Board Certified Lactation Consultant)  স্বীকৃত পুষ্টিবিদের সাথে আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।

কখন শুকিয়ে ফেলতে চান সেটা আপনার এবং আপনার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপরে নির্ভর করে, তাই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও পুষ্টিবিদ কিংবা ডাক্তারের কাছ থেকে উপদেশ নিয়ে নিন।

বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চিন্তা করুন কি উপায়ে আপনি এগুবেন। কিছু কিছু মায়েরা সাধারণত প্রাকৃতিক নিয়মই পছন্দ করেন, কেউবা আবার বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলার জন্যে বিভিন্ন প্রকার ঔষধের আশ্রয় নেন।

দু’টোর যেকোনটাই আপনি পছন্দ করতে পারেন, কিন্তু যে কোন ঔষধ কিংবা ঔষধি খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলে, মতামত জেনে তবেই খাওয়া উচিত।

ঔষধের মাধ্যমে বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলা

যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ পান করিয়ে থাকেন, তাদের কিছু কিছু ঔষধ ব্যাবহারে মানা করে দেওয়া হয় কারণ এগুলোর কারণে দুধ উৎপাদন কমে যায়। কাজেই, যেসব মায়েরা নিজের ইচ্ছাতেই বুকের দুধের উৎপাদন কমিয়ে ফেলতে চান, তারা এ জাতীয় ঔষধ খেতে পারেন।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল

কম্বিনেশন বার্থ কন্ট্রোল পিলই (অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী) হতে পারে প্রথম পছন্দ। কম্বিনেশন পিলে এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টিন থাকে (মিনিপিলে শুধু প্রজেস্টিনই থাকে, যা বুকের দুধ পান করানো মায়েদের জন্যে প্রযোজ্য)। এদের মধ্যে এস্ট্রোজেন বুকের দুধের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে।

তবে একটা জিনিস ভুলে গেলে চলবে না, এই পিলগুলো কিন্তু গর্ভনিরোধক পিল। আপনার যদি দ্রুত আবারো গর্ভবতী হওয়ার পরিকল্পনা থাকে, সেক্ষেত্রে এই মেথড আপনার জন্যে প্রযোজ্য হবে না।

ডিকনজেসট্যান্টস (Decongestants)

আপনার দ্বিতীয় পছন্দ হতে পারে ডিকনজেসট্যান্টস ক্যাটাগরির ঔষধ, যা মূলত ঠান্ডা সর্দির জন্যে ব্যবহৃত হয়। শরীরে সেক্রেশনের (যার মধ্যে বুকের দুধও আছে) মাত্রা কমাতে বেশ পরিচিত সেউডোফেড্রিন (ব্র‍্যান্ড নাম – Sudafed)। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ মিলিগ্রাম সেউডোফেড্রিন প্রায় ২৪% পর্যন্ত বুকের দুধের উৎপাদন কমাতে সক্ষম।

লেবেলছাড়া এবং কখনো কখনো বেআইনিভাবে ব্যবহারের কারণে অনেক জায়গাতেই সেউডোফেড্রিনের বিকিকিনি কিছুটা সীমিত তবে একদমই পাওয়া যায় না তা নয়। তবে ঔষধের অনেক মারাত্মক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে, তাই এই মেথড চিন্তা করার আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন।

বর্তমানে অপ্রচলিত কিছু ঔষধ

কিছু কিছু ঔষধ আছে, যেগুলো আগে বুকের দুধ দ্রুত শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে এই ঔষধগুলো বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য কোন দ্রুততা যে আনতো, তা নয়, তবে যেসব মায়েরা শিশুকে আর বুকের দুধ খাওয়াতে চান না তারা সেগুলো খেতে পারতেন।

আপনি হয়তো আপনার মা, দাদী থেকে শুনতে পারেন যে তারা বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলার জন্যে এই ঔষধটা খেয়েছেন। পায়রোডক্সিন, প্যারলোডেল (ব্রোমোক্রিপ্টিন) এবং উচ্চ মাত্রার এস্ট্রোজেন যার মধ্যে অন্যতম। এগুলো অকার্যকর তো বটেই, বিপদজনকও হতে পারে। খুবই খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অকার্যকারিতার কারণে এই ঔষধগুলো এখন আর বাজারে পাওয়া যায়না।

প্রাকৃতিক উপায়ে বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলা

যেসব মায়েরা প্রাকৃতিক উপায়ে বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলতে চান, তারা নিজ নিজ অঞ্চল কিংবা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন ঔষধি পণ্য ব্যবহার করে থাকেন। তবে ঔষধি পণ্য যেহেতু ঔষধের মতোই কাজ করে, তাই এগুলো গ্রহণের পূর্বেও ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি।

তুলসী এবং মেন্থল এজাতীয় ঔষধির মধ্যে অন্যতম। বাজারে বিভিন্ন উপায়ে তুলসই পাওয়া যার যার মধ্যে টিনের কৌটায়, পিল আকারে কিংবা চায়ের আকার অন্যতম। অনেক হারবাল ডাক্তারই বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলতে দিনে কয়েক কাপ তুলসী চা খেতে উৎসাহিত করেন।

অনেক কোম্পানি আবার বুকের দুধের উৎপাদন কমানোর উদ্দেশ্যেই কিছু বিশেষ তুলসী চা বাজারে এনেছে। যার মধ্যে ‘আর্থ মামা এঞ্জেল বেবি’র ‘নো মোর মিল্ক টি’ অন্যতম। যদি নিয়মিত দীর্ঘদিন ব্যাবহার করা যায়, সেক্ষেত্রে বাধাকপির পাতাও বুকের দুধের উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে।

বাধাকপির পাতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে:

  •  বাধাকপি থেকে পাতাগুলো খুলে নিন এবং ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • পাতাগুলো একটি পাত্রে রাখুন এবং পাত্রটি ঠান্ডা হওয়ার জন্যে ফ্রিজে রেখে দিন।
  • একটি একটি করে দুটি পাতা দুই স্তনের উপর রেখে ব্রা পরিধান করে ফেলুন।
  • পাতাগুলো নেতিয়ে যাওয়ার পর কিংবা প্রতি দুইঘন্টা পর পর পাতাগুলো পরিবর্তন করে দিন।

বাধাকপির পাতা আপনার স্তনের ফুলে যাওয়া কমাবে এবং দুধের উৎপাদনেও প্রভাব ফেলবে। এগুলো ছাড়াও, শিশুকে দুধ পান করানোর শুরুর দিকে স্তনে অধিক দুধ জমে যাওয়া (engorgement)  প্রতিরোধেও এই পাতা বেশ কাজ করে।

সাময়িক সময়ের জন্যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা

আপনাকে যদি বলা হয় যে, আপনি শিশুকে কিছু সময়ের জন্যে বুকের দুধ থেকে দূরে রাখুন, তাহলে ভালোভাবে ব্যাপারটা বুঝে নিন। যেমন, হয়তো আপনার কোন অসুখ হয়েছে, যার জন্যে আপনাকে এমন কোন ঔষধ খেতে হচ্ছে, যেগুলো খেলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো যায় না, বরং সেগুলো বের করে ফেলে দিতে হয়।

আবার এমনও হতে পারে যে, শিশুকে কোন টেস্ট কিংবা বিশেষ কোন কারণে কিছু সময়ের জন্যে ডাক্তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে মানা করেছেন। কি কারণে মানা করেছেন সেটা ঠিকঠাক বুঝতে পারলে তবেই আপনার করণীয়গুলো আপনি ঠিক করতে পারবেন।

সাময়িকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বুকের দুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখা। এটা এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে আপনার ডাক্তার কিংবা বিশেষজ্ঞ কারো সাথে কথা বলা উচিত।

বুকের দুধের উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখতে নিয়মিত পাম্প করে কিংবা হাতে চেপে দুধ বের করে ফেলতে পারেন। শিশু সাধারণত যে যে সময়ে দুধ পান করে, যতটা সম্ভব সেই সময়েই পাম্প কিংবা হাতে চেপে দুধ বের করতে পারলে ভালো। এর ফলে শিশু যখন আবার বুকের দুধ পান করা শুরু করবে, তখন আর আপনার কোন সমস্যা হবে না।

যদি বাচ্চাকে সাময়িক বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণ কোন মেডিকেল কন্ডিশন বা ওষুধ গ্রহন না হয়, সেক্ষেত্রে পাম্প করে বের করা দুধ আপনি চাইলে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন যাতে শিশুকে পরে খাওয়াতে পারেন। কিভাবে দুধ সংরক্ষণ করা যায় তা ডাক্তারের সাথে কথা বলে জেনে নিন।

বুকের দুধ শুকানোর ধাপসমুহ 

বুকের দুধের প্রয়োজনীয়তা এবং তা পান করানো নিয়ে এত বেশী আলোচনা হয় যে, বুকের দুধ পান বন্ধ করানোর বেসিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনাটি অনেক সময়ই বাদ পড়ে যায়।

এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, বুকের দুধ ব্যাপারটি চাহিদা অনুযায়ী যোগানের উপর নির্ভরশীল। তাই যোগান কমাতে হলে অবশ্যই চাহিদাটাও কমাতে হবে। এর মানে হলো, বুকের দুধ শুকানোর সময় যদি আপনি অস্বস্তি কমাতে পাম্প করেন তবে যতটা সম্ভব কম পাম্প করতে হবে।

আপনি যদি শিশুকে নিয়মিত স্তন্যপান করান কিংবা পাম্প করে বের শিশুকে বুকের দুধ পান করিয়ে থাকেন, তাহলে হঠাৎ করে তা বন্ধ করে না দিয়ে বরং ধীরে ধীরে করুন – এতে স্তনে ব্যাথা কম হবে।

বুকের দুধ পান করানো একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার পর, কিছুটা আরামের জন্যে পাম্প করা কিংবা হাতে চেপে ম্যাসাজ করা থেকে বিরত থাকুন। স্তনে বা নিপলে হাত দিয়ে চাপা মানেই তাকে উদ্দীপিত করা আর উদ্দীপনা নতুন দুধ উৎপাদনে সাহায্য করে। আর তাইতো এখনও দুধ আছে কি না সেটা হাত দিয়ে পরীক্ষা করার লোভটাও সামলাতে হবে- তা না হলে অল্প অল্প করে দুধ প্রতিনিয়ত উৎপাদিত হতেই থাকবে।

এটা তো জানেনই যে উষ্ণতা দুধ উৎপাদনে সহায়তা করে। অনেক মায়েরা আবার এটাও বলে থাকেন যে গরম শাওয়ারের পানি সরাসরি বুকে পড়লে সেটার প্রভাবেও দুধ চুইয়ে চুইয়ে পড়তে পারে। শাওয়ারে পিঠ ফিরে গোসল করলে এই ঘটনা ঘটার আর সম্ভাবনা থাকে না। যদি সামনে ফিরতেই হয়, সেক্ষেত্রে বুকের উপর একটা তোয়ালে রেখে দিলেও হয়। এই সময়ে ল্যাকটোজেনিক খাবার যেমন ওটমিল, কর্ণফ্লেক্স, ইস্ট প্রভৃতি না খাওয়াই উচিত।

[ আরও পড়ুনঃ বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো কিভাবে বন্ধ করবেন ]

যে মেথডগুলো পালন করা উচিত হবে না

নিচের মেথডগুলো কিংবা এই মেথডগুলোর কাছাকাছি কিছু মেথডের কথা হয়তো আপনি শুনে থাকবেন কিন্তু এগুলো কার্যকরী হিসেবে অতোটা পরীক্ষিত তো নয়ই, অনেক ক্ষেত্রে বিপদজনকও বটে।

বেঁধে রাখা

এই প্রক্রিয়ায় স্তনকে শক্ত করে মুড়ে রাখা হয়। বুকের দুধ উৎপাদন বন্ধ করতে স্তন বেধে রাখার প্রক্রিয়া যুগ যুগ ধরেই পালন করে আসছে মানুষ।

২০০৩ সালে, প্রসবোত্তর সময়ে শিশুকে বুকের দুধ পান করান না এমন মায়েদের উপর এক গবেষণায়, মায়ের স্তনে বেধে রাখার প্রভাব এবং সাপোর্ট ব্রা পড়ার প্রভাবের মধ্যে পারস্পরিক তুলনা করা হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে যে স্তনে বেধে রাখা কিংবা সাপোর্ট ব্রা পড়া- উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম দশদিনে স্তন ফুলে যাওয়ার প্রভাবে তেমন কোন পার্থক্য পাওয়া যায় নি।

তবে যাদের স্তন বাধা হয়েছে, তাদের মধ্যে তূলনামূলক বেশী ব্যাথা এবং চুইয়ে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আর এই প্রেক্ষিতেই গবেষকেরা বেধে রাখাকে নিরুৎসাহিত করে থাকেন।

পানি কম খাওয়া

যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ পান করিয়ে থাকেন, তাদের প্রায়শই বলা হয়ে থাকে যে বুকের দুধের উৎপাদন ঠিক রাখতে বেশী করে পানি পান করা উচিত। এখন আপনি হয়তো এটা ভাবতে পারেন যে, তাহলে তো পানি কম খেলে দুধের উৎপাদনও কমে যাবে।

এই বিষয়টি নিয়ে আসলে এখনো ততো গভীর গবেষণা হয় নি। বরং বেশী পানি পান করলে বুকের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এই কথাটি হয় তো ঠিক না – এমনটাই সম্প্রতি বলেছেন গবেষকরা।

তাই বুকের দুধের সাথে পানির মধ্যকার কোন সম্পর্ক নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানার আগ পর্যন্ত পানি ঠিকঠাকই খেতে থাকুন। পানি বেশী পান করা কিংবা কমানো কোনোটাই দরকার নেই, এ ব্যাপারে স্বাভাবিক থাকুন।

বুকের দুধ শুকানোর সময় অস্বস্তি কমাতে কি করতে পারেন

বুকের দুধ শুকানোর সময় আপনি বেশ কিছু অস্বস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণে অস্বস্তি কিছুটা কমানো সম্ভব।

  • ঠিকঠাক ফিটিং ব্রা পরিধান করা। সাধারণের চেয়ে ব্রা যদি কিছুটা টাইট হয়, তাহলে ব্যাথাও বেশী হয়, আবার স্তনে দুধ জমে থাকা অথবা ম্যাসটিটিস হওয়ার ঝুঁকিও বেশী থাকে।
  • ব্যাথা এবং চাপ নিরাময়ে ওভার দ্য কাউন্টার ব্যাথা নিরোধক যেমন টাইলিনল (এইসটামিনোফেন) অথবা মট্রিন (ইবোপ্রোফেন) ইত্যাদি গ্রহণ করতে পারেন।
  • ঠান্ডা কিছু দিয়ে স্তনে আলতো আলতো করে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাথা কিছুটা নিরাময় এবং ফোলা কমানো যায়। স্তনে বাধাকপির পাতা ব্যাবহারের কথা তো পূর্বেই বলা হয়েছে, আপনি যদি চান যে কোন ঠান্ডা কিছু দিয়েই (বেশী ঠান্ডা হলে যাতে সরাসরি ত্বকে না লাগে) চাপ দিয়ে রাখলে আরাম লাগবে।
  • হট শাওয়ার নেওয়া কিংবা গরম কিছু দিয়ে সেক দেওয়া যাবে না। উষ্ণ কিছু কিংবা গরম পানির স্পর্শ স্তনের দুধ উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে।
  • স্তন থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে দুধ চুইয়ে পড়তে পারে। স্তন মাত্রাতিরিক্ত পূর্ণ হয়ে গেলে, শিশুর কথা চিন্তা করলে, শিশুর কান্না শুনলে বা বিনিন্ন কারণেই এটা হতে পারে। চুইয়ে পড়া দুধ শুষে নিতে ব্রার ভেতরে ব্রেস্ট প্যাড ব্যবহার করতে পারেন।
  • যদি স্তনে অসহ্য ব্যাথা করে, সেক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্থির জন্যে আপনি কিছু দুধ চেপে বের করে দিতে পারেন। যদি করেনও, সম্পূর্ণ দুধ চেপে বের করার দরকার নেই। ব্যাথা এবং চাপ থেকে একটু আরাম পেতে যতটুকু বের করা উচিত, ততটুকুই করুন। বেশী চাপলে কিংবা স্তন চেপে খালি করে দিলে তা পুনরায় আবার দুধ তৈরির জন্য সিগনাল পাঠায়।

ম্যাসটিটিস

যেসব মায়েরা হঠাৎ করে শিশুকে বুকের দুধ পান করানো বন্ধ করে দেন, তাদের ম্যাসটিটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশী থাকে। আপনার মধ্যে নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে তাকে বিষয়গুলো খুলে বলুন-

  • জ্বর
  • শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
  • ঘেমে যাওয়া
  • স্তনে আঁকাবাঁকা বিভিন্নরকম দাগ
  • স্তন স্পর্শ করলে উষ্ণতা অনুভব করা
  • ফ্লু এর মত অনুভব করা
  • এসব লক্ষণগুলোর সাথে স্তনে শক্ত পিন্ড অনুভব করা

এগুলো স্তনের ইনফেকশনের লক্ষণ। ধীরে ধীরে শিশুকে বুকের দুধ পান করানো বন্ধ করলে এই সমস্যা আর হয় না।

আমাদের কথা

বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলাটা একটা প্রক্রিয়া। আপনি শিশুকে পূর্বে বুকের দুধ পান করান কিংবা না করান, – এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কিছু সময় তো লাগবেই। ধৈর্য্য ধরে এবং কিছু ছোট খাটো পদ্ধতি অবলম্বন করে সহজেই কোন ব্যাথা ও ইনফেকশন ছাড়াই আপনি বুকের দুধ শুকিয়ে ফেলার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এবং অবশ্যই স্পর্শকাতর এ বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলতে দ্বিধা করবেন না।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts