১ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর বিষম খাওয়া বা শ্বাসনালীতে কিছু আটকে গেলে ও শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার (CPR) জন্য জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসা

Updated on

একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো আপনি এমন একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে আপনার ছোট্ট শিশুটির জীবন বাঁচানোর জন্য আপনাকে জরুরী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হচ্ছে। কী? খুব ভয়াবহ একটা ব্যাপার তাই না? হ্যাঁ! জীবনে এমন একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে আমরা কেউই চাই না, তবুও এমন পরিস্থিতি ঘটতেই পারে আমাদের জীবনে। তাই এর জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকা খুব জরুরী, কেননা শিশুরা তাদের জীবন বিপন্ন হওয়ার মত হুট করে অনেক কিছুই করে বসতে পারে। যে কোন মুহূর্তেই শিশুর শ্বাসনালীতে খাবার আটকে যেতে পারে, কোথাও থেকে পড়ে যেতে পারে, পানিতে ডুবে যেতে পারে!

এই গাইডটির মধ্যে শ্বাসনালীতে কিছু আটকে গেলে করনীয় অথবা জরুরীভাবে শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার প্রত্যেকটি ধাপের প্রাথমিক বিষয়গুলো বর্ণীত আছে। তবে এই বিষয়ে তথ্যের একমাত্র সূত্র হিসেবে কখনই শুধুমাত্র এই আর্টিকেলের উপর নির্ভর করবেন না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এই ধরনের বিষয়ের উপর অনেক প্রশিক্ষণ চালু থাকে, একটু সময় বের করে এই প্রশিক্ষণগুলো নিয়ে নিন।

মনে রাখবেন, শিশুর বয়স অনুযায়ী এই ধরনের পন্থা পরিবর্তিত হতে পারে। এছাড়াও জরুরী চিকিৎসার নিয়মগুলো পরিপূর্ণভাবে মেনে না চললে সেটা শিশুর জন্য অনেক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। আপনি যদি প্রশিক্ষণ নিতে চান, তাহলে স্থানীয় রেড ক্রসের সাথে যোগাযোগ করুন।

নিম্নোক্ত নির্দেশাবলীগুলো শুধুমাত্র ১ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর জন্য প্রযোজ্য। ১২ মাস থেকে কম বয়সী শিশুর শ্বাস নালীতে কিছু আটকে গেলে কি করনীয় অথবা জরুরী অবস্থায় শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনা বিষয়ক তথ্যাবলি জানতে চাইলে  “নবজাতক শিশুর শ্বাসনালীতে কিছু আটকে যাওয়া ও শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার (CPR) জন্য জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসা”  নামক আর্টিকেলটি পড়ুন।

শিশুর শ্বাস-নালীতে কিছু আটকে গেলে করনীয় কি?  

প্রথম ধাপঃ খুব দ্রুত অবস্থা যাচাই করুন

আপনার শিশু যদি হুট করেই কান্না করতে না পারে, কথা আটকে যায় অথবা তার শ্বাসনালীতে কোন কিছু আটকে যায় তাহলে আপনাকেই সেটা বের করতে শিশুকে সাহায্য করতে হবে। এমন সময়ে তার মুখ থেকে অদ্ভুত শব্দ বের হতে পারে অথবা মুখ হা করে কোন শব্দই করতে পারে না। এছাড়া তার ত্বক এই সময়ে নীল অথবা লাল হয়ে উঠতে পারে।

যদি আপনার শিশু এমতাবস্থায় কাশতে পারে অথবা মুখ দিয়ে শব্দ করতে পারে তার মানে হল শিশুর শ্বাসনালী আংশিক ভাবে আটকে গেছে। আর যদি বিষয়টি এমনই হয়ে থাকে তাহলে আপনার শিশুকে কাশতে দিন। কেননা এইসব ক্ষেত্রে কাশিই সবচেয়ে বড় সমাধান এবং  কাশির মাধ্যমে সহজেই শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া বস্তু বের হয়ে যায়।

আপনার শিশু যদি কাশির মাধ্যমে বস্তুটি বের করে না দিতে পারে তাহলে কাউকে জরুরী নাম্বারে কল করতে বলুন আর সেই সময়ে আপনি নিম্নে বর্ণিত প্রাথমিত চিকিৎসা দিতে থাকুন।

যদি শিশুর সাথে একমাত্র আপনিই থাকেন, তাহলে প্রথমে দুই মিনিট তাকে জরুরী চিকিৎসা দিন এবং এরপর জরুরী নাম্বারে কল করুন।

এছাড়াও আপনার যদি এমনটা ধারনা হয়ে থাকে যে, আপনার শিশুর গলা অথবা শ্বাসনালী ফুলে গিয়ে তার শ্বাসরোধ হয়ে গেছে তাহলে তাৎক্ষনিক অবস্থায় জরুরী নাম্বারে কল করুন। কেননা আপনার শিশুর হয়ত কোন খাবারের কারণে অথবা পোকার কামড়ের কারণে এলার্জিতে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও সে হয়ত আরো অন্যান্য রোগের কারণে অসুস্থ হতে পারে।

এছাড়াও শিশুর যদি হৃদযন্ত্রের কোন সমস্যা থাকে অথবা হুট করে যদি শিশু অজ্ঞান হয়ে যায় অথবা শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে দ্রুত ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল করুন।

দ্বিতীয় ধাপঃ পিঠে চাপড় দিয়ে (Back blow) এবং তলপেটে চাপ দিয়ে (Abdominal thrust) এর মাধ্যমে শ্বাসনালীতে আটকে থাকা জিনিসটি বের করার চেষ্টা করুন

আপনার শিশুর যদি জ্ঞান থাকে কিন্তু সে কাশতে পারছেনা, কথা বলতে পারছেনা অথবা নিঃশ্বাস নিতে পারছেনা তাহলে তার পিছনে গিয়ে দাঁড়ান অথবা হাঁটু গেড়ে বসুন। আড়াআড়ি ভাবে এক হাত তার বুকের উপর রেখে সাপোর্ট দিয়ে তাকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন।

শিশুর দুই কাঁধের মাঝখানে আপনার অন্য হাতের তালুর নীচের স্থান দিয়ে শক্ত ভাবে ধাক্কা দিন। প্রত্যেকটা ধাক্কা এভাবে একদম আলাদা ভাবে দিতে হবে এবং এর মাধ্যমে শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়া বস্তু বের করে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এভাবে পাঁচবার পিঠে চাপড় বা back blow দিন।

এরপর শিশুকে abdominal thrust এর মাধ্যমে চিকিৎসা দিন।

শিশুর পিছনে হাঁটু গেঁড়ে বসে দুই হাত দিয়ে শিশুর কোমর জড়িয়ে ধরুন। এক অথবা দুই আঙুল দিয়ে শিশুর নাভি খুঁজে বের করুন। অপর হাত মুঠো করে বৃদ্ধাঙ্গুলির সাইড দিয়ে শিশুর তলপেটের ঠিক মাঝখানে ধরুন। তবে সেটা অবশ্যই নাভির একটু উপরে এবং বুক থেকে বেশ কিছুটা নিচে হতে হবে।

এবার অন্য হাত দিয়ে এই হাতটির কব্জি চেপে ধরুন, তারপর দুইহাত দিয়ে উপর এবং ভিতর দিক বরাবর শিশুর পেটে জোরে চাপ দিন। এভাবে পর পর পাঁচবার চাপ দিন। লক্ষ রাখতে হবে শিশুর পাঁজরের হাড়ে যেন চাপ না লাগে, এতে পাঁজর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বুকে চাপ বা পেটে চাপ দেয়ার পর, এবার আপনার শিশুর অবস্থা বুঝার চেষ্টা করুন। এরপরেও যদি আটকে যাওয়া বস্তুটি বের হয়ে না আসে এবং তখনও শিশুর জ্ঞান থাকে, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যেতে থাকুন।

back blow এবং abdominal thrust এর পুনরাবৃত্তি করুন

এভাবে back blow এবং abdominal thrust দিতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত না শিশুর শ্বাসনালীতে আটকে থাকা বস্তুটি বের না হয়ে যায় অথবা শিশু জোরে জোরে কাশতে পারে, কথা বলতে পারে,  কাঁদতে পারে অথবা অচেতন হয়ে যায়। যদি শিশু কাশতে পারে তাহলে তাকে আরো বেশি করে কাশতে বলুন, কেননা কাশির মাধ্যমে আটকে থাকা বস্তুটি বের হয়ে আসতে পারে।

আপনার শিশু যদি অচেতন হয়ে পড়ে

আপনার শিশুর শ্বাসনালীতে কিছু আটকে গিয়ে যদি সে অচেতন হয়ে পড়ে তাহলে জরুরী অবস্থায় শ্বাস ফিরিয়ে আনার পদ্ধতিটি একটু ভিন্নভাবে অনুসরণ করতে হবে।

শিশুকে শক্ত ও সমান একটা স্থানে চিত করে শুইয়ে দিন। তার বুকের অংশের পাশে হাঁটু গেড়ে বসুন। হাতের তালুর নীচের অংশ তার বুকের হাড্ডির ঠিক মাঝখানে (sternum)   রাখুন। অপর হাতটি প্রথম হাতের উপরে রাখুন। এবং দুহাতের আঙ্গুল একটি অপরটির ভেতর ঢুকিয়ে ধরুন।  লক্ষ রাখবেন আপনার হাতের আঙ্গুলগুলো যেন শিশুর বুক থেকে আলগা থাকে অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভর থাকতে হবে হাতের তালুর নীচের অংশে

এরপর বুকে দুই ইঞ্চি নিচ পর্যন্ত ৩০ বার চাপ দিন। প্রত্যেকবার চাপ দেয়ার আগে শিশুর বুককে তার আগের অবস্থায় ফিরে আসার সময় দিন।

শিশুর মুখ হা করিয়ে কোন বস্তু আটিকে আছে কি না লক্ষ্য রাখুন। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন যদি কোন বস্তু না দেখেন তাহলে কোন অবস্থাতেই মুখের মধ্যে আঙুল ঢুকাবেন না। কেননা এতে করে আটকে থাকা বস্তুটি আরো গভীরে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যদি কিছু দেখেন, তবেই আঙুল ঢুকিয়ে সেটা বের করে নিয়ে আসুন।

যদি আপনি আটকে যাওয়া বস্তুটি বের করে নিয়ে আনতে না পারেন এবং আপনার শিশু অচেতন অবস্থায় থাকে তাহলে দুইবার নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে জরুরী শ্বাস প্রদান করুন।

শিশুর মাথা এক হাত দিয়ে সোজা করে রাখুন এবং ওপর হাত দিয়ে তার থুতনি ধরে সামান্য উঁচু করুন। এভাবে শিশুর শ্বাসনালী খুলে যাবে। এরপর দু আঙ্গুল দিয়ে শিশুর নাক শক্ত করে বন্ধ করুন এবং তার মুখের উপর আপনার মুখ রেখে জোরে যতক্ষণ পর্যন্ত না শিশুর বুক ফুলে উঠে ততক্ষণ পর্যন্ত  তার ফুসফুসে বাতাস দিন।

তবে যদি দেখেন যে শিশুর বুক ফুলে উঠছে না তাহলে আপনার ৩০ বার আগের মত করে শিশুর বুকে চাপ দিন এবং কোন বস্তু বের হয়ে এসেছে কিনা শিশুর মুখ খুলে চেক করুন। এরপর পুনরায় শিশুর মুখ দিয়ে বাতাস দেয়ার চেষ্টা করুন। এভাবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আটকে থাকা বস্তু বের হয়ে আসে, শিশু নিঃশ্বাস নেয়া শুরু করতে পারে অথবা জরুরী চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ কেউ চলে আসে ততক্ষণ পর্যন্ত এ চিকিৎসা চালিয়ে যান।  

এই ধরনের ঘটনার পর শিশুকে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে চেক করিয়ে নিবেন।

শিশুর শ্বাস প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা (CPR) কীভাবে করবেন?

CPR কি?

CPR শব্দটির পূর্ণ অর্থ হল Cardiopulmonary resuscitation. শিশু যদি অচেতন হয়ে পড়ার সাথে সাথে তার শ্বাস প্রশ্বাস যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এটা শিশুকে বাঁচানোর জন্য এই পদ্ধতিটি খুবই কার্যকরী পদক্ষেপ। 

CPR এ chest compression দেয়া হয় এবং শিশুর মুখ দিয়ে জরুরী ভাবে নিঃশ্বাস প্রদান করা হয়, যেন জরুরী সাহায্য আসার আগ পর্যন্ত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত যাতে করে মস্তিষ্ক সহ শরীরের জরুরী অঙ্গগুলোতে প্রবাহিত হয়। অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের যে কোন ধরনের ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা যায়। রক্ত সঞ্চালন না হলে মস্তিষ্কে যে কোন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়, এমনকি এতে করে শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।

আপনি যদি CPR এর উপর পুরোপুরি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নাও হন, তাহলে আপনি শুধু Chest compression পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

নিম্নের নিয়মগুলো মেনে চলুনঃ

প্রথম ধাপঃ প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুর তাৎক্ষনিক অবস্থা যাচাই করুন।

আপনার শিশুর কাঁধে হালকা ধাক্কা দিন এবং শিশুর নাম ধরে তাকে ডাক দিন। যদি শিশু এতে করে কোন সাড়া না দেয় তাহলে কাউকে জরুরী নাম্বারে কল করতে বলুন। তবে আপনি যদি শিশুর সাথে সেই মুহূর্তে একা অবস্থান করেন তাহলে প্রথমে দুই মিনিট শিশুকে জরুরী চিকিৎসা দিন এবং এরপর জরুরী নাম্বারে সাহায্যের জন্য কল করুন।

শিশুকে একটা শক্ত ও সমতল স্থানে শুইয়ে রাখুন এবং তার পাশে হাঁটু গেঁড়ে বসুন।

প্রথমে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, শিশুর শরীরে কোন ধরনের রক্তপাত হচ্ছে না। যদি শিশুর শরীরে কোন ধরনের রক্তপাত হয় তাহলে সেই অংশ চেপে ধরে রক্তপাত বন্ধ করুন। রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে আসার আগ পর্যন্ত CPR এর মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া শুরু করবেন না।

দ্বিতীয় ধাপঃ ৩০ বার বুকে প্রেশার দিন অর্থাৎ Chest compression দিন।

হাতের তালুর শক্ত অংশটি অর্থাৎ হাতের সাথে তালুর সংযোগ স্থানটি শিশুর বুকের ঠিক মধ্যখানে রাখুন এবং তার উপর অন্য হাতটি রাখুন। প্রথম হাতের আঙুলগুলো একটু উপরের দিকে উঁচু করে রাখুন যাতে করে সম্পূর্ণ ভার হাতের তালুর শক্ত অংশের উপরে থাকে। এরপর আপনার শরীরকে এমনভাবে রাখুন যাতে আপনার বাহু হাতের ঠিক উপরের দিকেই থাকে।  এছাড়া মনে রাখবেন আপনার শিশু যদি বেশি ছোট হয়ে থাকে তাহলে দুই হাতের পরিবর্তে এক হাত দিয়ে এই ধরনের পন্থা অবলম্বন করতে পারেন।

আপনার বাহু সোজা রেখে শিশুর বুকে দুই ইঞ্চি পরিমাণ ধাক্কা দিন, এরপর শিশুর বুক আবার তার আগের পর্যায়ে ফিরে আসার জন্য সময় দিন। খেয়াল রাখবেন এই ধাক্কাটা যেন দৃঢ় এবং অপেক্ষাকৃত একটু জোরে হয়। তবে এই ধাক্কাটার কারণে শিশুর শরীর যাতে ঝাঁকি না খায়, ধাক্কাটা যেন স্থবির ও স্বাভাবিক থাকে।

এভাবে প্রতি সেকেন্ডে দুইটা করে ধাক্কা দিয়ে সর্বমোট ৩০ টা ধাক্কা দিন। সময় এবং গণনার হিসেব রাখার জন্য জোরে জোরে, “এক এবং দুই এবং তিন” এভাবে বলে বলে হাত দিয়ে ধাক্কা দিতে পারেন। ধাক্কা দেয়ার সময় “এক” আবার হাত উঠানোর সময় “এবং” এভাবে বললে সময় এবং গণনা সঠিক থাকবে এবং একটা নির্দিষ্ট ছন্দের সাথে ধাক্কাটা দেয়া হবে।

তৃতীয় ধাপঃ অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য দুইবার শিশুর মুখ দিয়ে শ্বাস দিন

শিশুর মাথা এক হাত দিয়ে সোজা করে রাখুন এবং ওপর হাত দিয়ে তার থুতনি ধরে সামান্য উঁচু করুন। এভাবে শিশুর শ্বাসনালী খুলে যাবে। এরপর দু আঙ্গুল দিয়ে শিশুর নাক শক্ত করে বন্ধ করুন এবং তার মুখের উপর আপনার মুখ রেখে জোরে যতক্ষণ পর্যন্ত না শিশুর বুক ফুলে উঠে ততক্ষণ পর্যন্ত  তার ফুসফুসে বাতাস দিন।

যদি শিশুর বুক উঁচু না হয়ে থাকে তাহলে তার মাথা আবার সমতল অবস্থায় আনুন এবং নাক এবং মুখ যাতে একদম ভালো করে বন্ধ থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

যদি শিশুর বুক কোনভাবেই উঁচু না হয়, তার মানে হল শিশুর শ্বাস নালীতে কোন কিছু আটকে আছে। শিশুর মুখ খুলুন এবং ভালো করে দেখুন কোথাও কিছু আটকে আছে কি না এবং যদি সম্ভব হয় তাহলে সেটা সরিয়ে ফেলুন। এভাবে প্রতিবার বুকে চাপ দেয়ার পরপর শিশুর মুখ খুলে চেক করে দেখুন শ্বাসনালী থেকে কিছু কি বের হয়েছে কি না। এভাবে দেখতে থাকুন যতক্ষণ না শিশুর বুক আপনার নিঃশ্বাস দেয়ার সাথে সাথে উঁচু নিচু হয়।

CPR ছবিঃ abc.net.au/

এভাবে ৩০বার বুকে চাপ দিন এবং দুইবার বাতাস দিন যতক্ষণ না আপনি নিম্নোক্ত এমন কিছু দেখেনঃ  

  • শিশু বেঁচে আছে এবং নিঃশ্বাস নিচ্ছে এমন কোন লক্ষণ যদি দেখেন।
  • যখন এভাবে নিঃশ্বাস দেয়ার জন্য অটোমেটিক মেশিন AED (automated external defibrillator) হাতের কাছে চলে আসে। তাহলে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস দেয়ার পরিবর্তীতে সেটা ব্যবহার করুন।
  • আপনি পরপর পাঁচ সেট অর্থাৎ প্রায় দুই মিনিট ধরে CPR দেয়ার পর, আপনার আশেপাশে যদি এভাবে জরুরী চিকিৎসার জন্য কাউকে পান তাহলে তাকে এই জরুরী চিকিৎসা দিতে দিন।
  • আপনি যদি শিশুর সাথে একদম একা থাকেন, তাহলে টানা দুই মিনিট ধরে পাঁচ সেট CPR দেয়ার পর একটু থামুন এবং ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল করুন।
  • কোন জরুরী চিকিৎসক চলে আসলে তাকে চিকিৎসা দিতে দিন।
  • আপনি যদি অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েন তাহলে থেমে যান।
  • পুরো অবস্থাটা দেখে যদি CPR দেয়াটা আপনার কাছে নিরাপদ মনে না হয়।

জরুরী চিকিৎসক আসার সময়ের মধ্যে যদি শিশুর শ্বাস প্রশ্বাস আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং শিশু সুস্থ হয়ে যায় তবুও ডাক্তার তাকে ভালো করে পরীক্ষা করবেন। তিনি ভালো করে পরীক্ষা করে দেখবেন যে শিশুর শ্বাসনালীতে কি এখনো কোন কিছু রয়ে গেছে কি না অথবা শিশু শরীরের অভ্যন্তরীণ কোন ধরনের আঘাত পেয়েছে কি না। 

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts