দুই বছর বয়সে শিশুর অতিরিক্ত বদমেজাজ বা “টেরিবল টু” কেন হয় এবং সামলানোর টিপস

Last Updated on

প্রত্যেকটি শিশুই একে অপরের থেকে আচার আচরণ ও স্বভাবগত ভাবে একদমই আলাদা এবং তারা দিন দিন যত বড় হয় তত ভালোভাবে তাদের ব্যক্তিত্ব বোঝা যায়। একটি শিশুর ব্যক্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্য তার আশেপাশের মানুষ, জিনগত প্রভাব ও সে কি পরিস্থিতিতে বসবাস করছে সবকিছুর উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে পরিপক্বতা লাভ করে। তবে বেশীরভাগ শিশুই যখন দুই বছর বয়স সীমা অতিক্রম করে তখন তাদের মধ্যে একটা বৈশিষ্ট্য সবসময় দেখা যায়, আর সেটা হল তাদের বদমেজাজ!

একটি শিশুর বয়স যখন ধীরে ধীরে দুই বছরের কাছাকাছি চলে আসে তখন তার অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠাটা  বাবা মায়েদের জন্য প্রায় নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় । তার খুব বদমেজাজ থাকতে পারে আবার খুব ছোট খাটো বিষয়ে সে চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারে।

তবে এই বদমেজাজ শিশুর ব্যক্তিত্বে স্থায়ী আসন গেড়ে নিচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার সময় এখনো আসে নি। কেননা, ঠিক এই বয়সটাতে শিশুর একটু বদমেজাজ তার স্বাভাবিক বৃদ্ধিরই একটা অংশ।

শিশুর টেরিবল টু বা দুরন্ত দুই বছরের লক্ষ্মণগুলো ঠিক কখন দেখা যেতে শুরু করে?

“দুরন্ত দুই” নামটা পড়েই হয়ত বুঝে যাচ্ছেন যে, শিশুর দুই বছর বয়সের সময়টাতেই তার এই ধরনের ভয়ানক বদমেজাজ দেখা যেতে থাকে। তবে একটা প্রশ্ন এখানে আসতেই পারে, শিশুর দুরন্ত দুই এর লক্ষ্মণ কি একটু আগে থেকেই শুরু হতে পারে? এর উত্তরে হল, হ্যাঁ! শিশুর মধ্যে এই দুরন্ত দুই এর বদমেজাজের লক্ষ্মণগুলো মাঝেমধ্যে ১৮ মাস বয়সেই শুরু হতে পারে, তবে এমনটা খুব কমই দেখা যায়।

দুরন্ত দুই এর এই লক্ষণগুলো শিশুর প্রায় বছর খানেকের বেশি সময় ধরে অর্থাৎ ৩ থেকে ৪ বছর বয়স পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। তবে এই সময়টা আসলে নির্ভর করে শিশুর মধ্যে এই লক্ষণগুলো ঠিক কখন শুরু হয়েছিল তার উপর। এই দুরন্ত দুই শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিরই একটা অংশ এবং শিশু তার বাবা মার সাথে যত বেশি আবেগ প্রকাশ করতে পারে ততই এই বদমেজাজ ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে।

এই দুরন্ত দুইয়ে শিশুর অতিরিক্ত বদমেজাজের কারণ কি?

শুরুতেই বাবা মায়েদের এটা মনে রাখতে হবে যে, দুরন্ত দুয়ের এইসব অদ্ভুত আচার আচরণ আদতে শিশুর ব্যক্তিত্বগত কোন সমস্যা নয়, তাই এই সময়টাতে শিশুর অতিরিক্ত রাগ নিয়ে বাবা মায়েদের খুব একটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হলেও চলবে। একদম ছোটবেলা থেকেই শিশুরা বড়দের দেখে তাদের সবদিক থেকেই অনুকরণ করতে চায়।

তবে দুই বছর বয়সের আগ পর্যন্ত শিশুরা নিজ থেকে কিছুই করতে পারে না, সবকিছুতেই তাদের বড়দের সাহায্য প্রয়োজন হয়। তবে এই দুই বছর বয়স হওয়ার সাথে সাথেই শিশু নিজে নিজেই সব কিছু করার চেষ্টা করতে থাকবে। এই প্রচেষ্টার সময়ে সে বারবার দেখতে থাকবে যে প্রায় অনেক কিছুতেই বড়দের সাহায্যের প্রয়োজন। আর নিজের এই অপারগতা শিশুকে হতাশার মধ্যে ফেলে দেয়, আর সেই হতাশা থেকেই জন্ম নেয় শিশুর বদমেজাজ।

শিশুর এই সময়ে অনেক স্বাধীনচেতা ভাবনা ও নিজেকে ঘিরে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং সেগুলো পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সে খুশি হতে পারে না। আর ঠিক যখনই তারা বুঝতে পারে তাদের সেই প্রত্যাশাগুলো পূর্ণ করার জন্য তার অন্য কারো সাহায্য প্রয়োজন তখনই তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয় এবং ঠিক তার সাথে সাথেই আরো একটি সমস্যা থেকে এই হতাশার জন্ম হয়—আর সেটা হল আবেগের সঠিক বহিঃপ্রকাশ।

শিশু যখন তার নিজের আবেগকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না, তখন তার মধ্যে অনেক হতাশা তৈরি হয়। কেননা, শিশুর এত আবেগ ও ইচ্ছেগুলো তার দুই বছরে শিখে নেওয়া সামান্য কয়েকটি শব্দ দিয়ে সে কখনই কাউকে বুঝাতে পারে না। আর এই বুঝাতে না পারার কারণেই তার আচরণের মধ্যে বদমেজাজ দেখা যায়।

সে যাই হোক, শিশু যত দ্রুত কথা বলা শিখে ও আবেগ প্রকাশ করার উপায় খুঁজে পায় ততই এই বদমেজাজ ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। আর তাই এই ধরনের রাগি আচরণ ও বদমেজাজ প্রায় বছর খানেকের মত থাকে। বাবা মা’রা চাইলেই এই সময়টা সুন্দর ভাবে পার করতে শিশুকে সাহায্য করতে পারেন।

শিশুর ভীতিজনক দুরন্ত দুই বছরের কিছু লক্ষণ

শিশুর এই দুরন্ত দুই বছরের ভীতিজনক লক্ষণ কিন্তু অনেকগুলোই আছে এবং বাবা মায়েরা খুব সহজেই সেগুলো খেয়াল করতে পারেন।

  • দেখা যেতে পারে আপনার শিশু খুব চমৎকার এবং শান্তশিষ্ট হয়ে সময় কাটাচ্ছে, ঠিক হুট করেই সে রেগে যাবে এবং আপনার সাথে রাগারাগি শুরু করবে।
  • যে কোন বিষয়ে মানা করে দেয়াটা এই সময়ে খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সে খেতে চাইবে না, জামা-কাপর ও ডায়পার চেঞ্জ করে চাইবে না, এমনকি বাবা মায়ের কাছেও শিশু না যেতে চাইতে পারে।
  • আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য শিশু এই সময়ে অদ্ভুত কিছু কাজ করতে পারে। আপনার দিকে তাকিয়ে খুব জোরে জোরে চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারে, হাতের কাছে যা পাবে তাই ছুঁড়ে ফেলতে পারে। আরেকটা ভয়ংকর কাজ সে করতে পারে এই সময়ে আর সেটা হল, দেয়ালের সাথে অথবা মেঝের সাথে নিজের মাথা বাড়ি দেয়া শুরু করতে পারে।
  • শিশুর এই দুরন্ত দুইয়ের ভীতিকর লক্ষ্মণগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বাবা মায়েদের সাথে শিশুর বৈরি মনোভাব এবং প্রতিনিয়ত মন মেজাজের পরিবর্তন।
  • বাবা-মাকে, ক্ষেত্রে বিশেষে অন্যদের লাথি দেয়া, কামড়ানো, আঁচড়ানো। নিজেকে আঘাত করা। হুটহাট মাটিতে শুয়ে পড়ে কান্না করা।
  • অন্য কারোর সাথে খেলনা বা খাবার ভাগাভাগি না করা। সব কিছুতে “আমি…আমি…আমার” এই বোধ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা।
  • প্রায়শই “না” বলা। এমনকি দরকার না হলেও। আসলে এই না বলার মাধ্যমে সে তার বাউন্ডারী পরীক্ষা করে দেখতে চায়।

শিশুর মত প্রকাশের উন্নতি

এই সময়ে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের মতই শিশু যে কোন বিষয়ে তার মত প্রকাশ করা শুরু করে। এটা প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকলেও বাবা মায়েদের জন্য বিষয়টি বোঝা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই বয়সের শিশু আর একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের মত প্রকাশের মধ্যে মুল পার্থক্য হল পূর্ণ বয়স্ক মানুষটি ভাষা-গত দক্ষতার সাথে নিজের মত প্রকাশ করতে পারে আর অথচ একটি শিশু সেটা পারে না।

শিশু শুধুমাত্র বুঝতে পারে যে সে কি চায় কিন্তু কীভাবে সেটা সে পেতে পারে তা একটা শিশু কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। তাই শিশু কোন কিছু চাওয়ার পর বাবা মা যখন সেটা মানা করে দেয় তখন শিশুটি ভাষা-গত ভাবে পরিপক্ব না হওয়ার কারণে সে শুধুমাত্র তার বদমেজাজই প্রকাশ করতে পারে।

এই বদমেজাজ প্রকাশের সময় শিশু প্রচুর চিৎকার করে, হাতের কাছে যা পায় তাই ছুঁড়ে দেয় এবং ক্রমাগত “না” শব্দটাই বারবার বলতে থাকে। “না” শব্দটা শিশু একদম ছোট বেলাতেই শিখে নেয় আর তাই এই বদমেজাজের সময় শিশু শুধু এই কথাটাই বারবার বলতে থাকে। মত প্রকাশের ক্ষমতা বৃদ্ধির এই সময়টাতে বাবা মায়েরা প্রায়শই শিশুর থেকে এই ধরনের অবাধ্য আচরণ পেয়ে থাকেন।

শিশু ও বাবা মায়ের উপর এই দুরন্ত দুইয়ের প্রভাব

ঠিক এই সময়ে শিশুর যাবতীয় রাগ এবং অবাধ্য আচরণের জন্য বাবা মায়েদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। এছাড়া আরেকটি বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো যে, এই ধরনের আচরণ শিশুর কোন বৈশিষ্ট্য নয় বরং বেশিরভাগ শিশুর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটা একটা স্বাভাবিক ধাপ।

এই ধরনের আচরণের সাথে বাবা মায়েরা যখন প্রথমবারের মত মুখোমুখি হন তখন এটাকে স্বাভাবিক ভাবে নেয়াটা তাদের জন্য অনেক কষ্টকর একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এমনকি শিশুর সাথে তাদের স্বাভাবিক সম্পর্কের উপরেও এটা বেশ প্রভাব ফেলে।

সে যাই হোক, এই দুরন্ত দুইয়ে শিশুর অবাধ্য আচরণের সাথে যদি ভালোভাবে মানিয়ে না চলা যায় তাহলে বাবা মায়েদের হয়ত এমন অবাধ্য আচরণ আরো দীর্ঘ সময়ে ধরে দেখতে হতে পারে। আর তাই এই সময়টাতে আপনাকে অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে শিশুর এই ধরনের আচরণের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

শিশুর দুরন্ত দুইয়ের এমন অবাধ্য আচরণ কখন শেষ হয়?

শিশুর বড় হওয়া এবং পারিপার্শ্বিক অনেক বিষয় বুঝে উঠতে থাকার সাথে সাথে শিশুর এই ধরনের অবাধ্য আচরণ ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে। এছাড়াও শিশু যখন আরো ভালো করে কথা বলতে পারে, তখন সে রাগ এবং বদ মেজাজ না দেখিয়ে বাবা মাকে বুঝিয়ে বলতে পারে যে ঠিক কি চাচ্ছে।

বেশিভাগ ক্ষেত্রেই এই দুরন্ত দুইয়ের প্রভাব শুধুমাত্র বছর খানেকের মত থাকে। তবে বাবা মা শিশুর সাথে এই সময়ে কি ধরনের আচরণ করছে এবং কীভাবে শিশুর রাগের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে তার উপরেও অনেকটা নির্ভর করে এই দুরন্ত দুইয়ের প্রভাব কতদিন পর্যন্ত থাকবে। বাবা মা যদি এই সময়ে শিশুর সাথে সঠিক এবং কৌশলগত পন্থা অবলম্বন করে তাহলে শিশুর অবাধ্য আচরণ এবং বদ মেজাজ দ্রুত কমে আসতে থাকবে।

এই দুরন্ত দুইয়ের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার কিছু পরামর্শ

বাবা মায়েরা কীভাবে তাদের রাগি এবং বদমেজাজি শিশুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন সে সম্পর্কে নিম্নে কিছু পরামর্শ দেয়া হলঃ

শিশুর এই ধরনের প্রত্যেকটা আচরণের একটা পরিণতি আছে সেটা শিশুকে খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। এই সময়ে শিশুর শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন রুটিন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু অবাধ্য আচরণের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিশুর প্রিয় খেলনা সরিয়ে নিয়ে বা এই ধরনের শাস্তি শিশুকে দেয়া যেতে পারে।

কখনো জনসম্মুখে সবাই কি ভাববে এটা ভেবে শিশুর অবাধ্য আচরণ এবং শিশু যে অন্যায় আবদার করছে তা মেনে নিবেন না। শিশু কান্নাকাটি করবে এটা খুবই স্বাভাবিক এবং মনে রাখবেন জনসম্মুখে শিশু কান্নাকাটি করলে সেটা মানে কিন্তু এই নয় যে আপনি একজন খারাপ অভিভাবক। শিশুর অবাধ্য আচরণ এবং অন্যায় আবদার আপনি যতই মেনে নিবেন দেখবেন যে তার বদমেজাজ এবং রাগ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সবসময় অল্প সংখ্যক জিনিস থেকে শিশুকে পছন্দ করতে দিন যাতে করে পছন্দ করাটা তার জন্য অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে উঠে। যখন অনেক কিছুর মধ্যে শিশুকে পছন্দ করতে দেয়া হয় তখন সেটা তার জন্য বেশ কঠিন একটা বিষয় হয়ে যায় এবং ফলাফল স্বরূপ তার বদমেজাজ প্রকাশ পায়।যে কোন বিষয়ের উপর শিশুকে নিয়ন্ত্রণ দিবেন না বরং সব বিষয়ে আপনি নিজে সিদ্ধান্ত দিন।

সবসময় শিশুকে স্বাস্থ্যকর এবং পরিমাণ মত খাবার খাওয়ান। এছাড়াও লক্ষ্য রাখবেন যে শিশু পরিমাণ মত ঘুমাচ্ছে কি না। কেননা যে শিশুরা প্রায় কম ঘুমায় এবং ক্ষুধার্ত থাকে তাদের মধ্যে বদ মেজাজ এবং রাগ বেশি দেখা যায়।

শিশুর জন্য একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন, কেননা তার দৈনন্দিন রুটিনে যদি প্রায়ই পরিবর্তন হয় তাহলে সেটা শিশুর আচার আচরণের উপর প্রভাব ফেলে।

মনে রাখবেন শিশুর ভালো আচরণের জন্যও তাকে পুরষ্কার দেয়া উচিৎ অথবা প্রশংসা করা উচিৎ। শিশু যদি একটা ভালো আচরণ করে এবং ফলাফল স্বরূপ সে একটা পুরষ্কার পায় অথবা আপনি যদি তাকে প্রশংসা করেন তাহলে পরবর্তীতে ভালো আচরণ করার জন্য সে বেশ উৎসাহী হবে।

ধৈর্য ধরুন, কেননা এই ধরনের অবাধ্য আচরণ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির একটা অংশ মাত্র। শিশুর চারপাশে এই সময়ে অনেক পরিবর্তন হচ্ছে সেগুলোর সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য শিশুকে প্রচুর পরিমাণে সময় দিন। এছাড়া শিশুর বদ মেজাজ প্রকাশের সময় আপনিও তার উপর রেগে উঠবেন না এবং কোন ধরনের রাগ প্রকাশ করবেন না।

আপনি কোন কিছু করার আগে তাকে একটু বুঝতে সময় দিন আপনি কি করতে যাচ্ছেন, যেমন বাইরে যাওয়ার আগে বলেন, “আমরা রেডি হয়ে বেড়াতে যাব বা পার্ক থেকে ফেরার আগে তাকে বলুন, আর ২/৩ বার তুমি দোলনায় চড়বে তারপর আমরা বাসায় যাব।“ হঠাৎ তার সামনে কোন কিছু ঘটলে ট্যান্ট্রাম ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তাদের কে লিমিটেড জিনিষের ভেতর থেকে পছন্দ করে নিতে দিন। যেমন তুমি আজকে আপেল খাবে না কমলা? বা লাল বলটা নিবে না নিল বলটা? এটা নাও বা এটা খাও বলে কোন কিছু জোর করে ধরিয়ে দিলে কারোরই সব সময় সেটা ভাল লাগে না।

বাচ্চাকে সব সময় না বলবেন না। না কথাটা বাচ্চারা সহজেই মেনে নিতে পারে না। বাচ্চাদের জন্য অতিরিক্ত ৫ মি কোথাও কাটালে কী আপনার খুব বেশি সমস্যা হয়ে যাবে কিনা সেটা একবার ভাবুন। সব সময় ওদের কে কঠিন ভাবে ম্যানেজ না করে একটু ছাড় দিন। 

আরো কিছু কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেগুলা ট্যান্ট্রাম তৈরিতে সাহায্য করে। যেমন- পারিবারিক অস্বাভাবিক অবস্থা , বা মায়ের অতিরিক্ত ব্যস্ততা, বাবা ও মায়ের ভেতর সমস্যা ইত্যাদি।

এই দুরন্ত দুইয়ের ভীতিকর প্রভাব এবং শিশুর অবাধ্য আচরণের জন্য বাবা মায়েদের প্রতি সবচাইতে উপকারী যে উপদেশ, সেটা হল ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কেননা এটা কেবলমাত্র শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির একটা ধাপ এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথেই এটা ঠিক হয়ে যাবে।

যাই হোক, আপনাকে কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে এই সময়টাতে শিশুর অবাধ্য আচরণ আপনার ও শিশুর সম্পর্কের উপর যাতে করে কোন প্রভাব না ফেলে এবং আপনাদের মাঝে যেন দূরত্ব তৈরি না হয়। আর তাই শিশুর উপর এই সময়ে রাগ প্রকাশ করবেন না। কেননা এই সময়ে শিশুর সাথে রাগ প্রকাশ করলে শিশু আরো হতাশ হয়ে পড়ে এবং এতে করে শিশুর অবাধ্য আচরণ আরো দীর্ঘায়ত হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts