প্রসবের পর প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বা ইনকন্টিনেন্স

Updated on

শিশু জন্ম দেওয়ার পরে, মায়েদের পোশাকে প্রস্রাব করা নিয়ে অনেক জোকস হয়তো আপনি শুনে থাকতে পারেন, কিন্তু প্রসবোত্তর এই প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণ বা ইনকন্টিনেন্স (Postpartum Incontinence) কি আসলেই ঠাট্টা করার মতো কোন কিছু!

বেশিরভাগ মানুষই এটা ভেবে ভুল করেন যে, প্রসবোত্তর এই অনিয়ন্ত্রণটা বুঝি স্বাভাবিক কিছুই। যদিও অধিকাংশ মায়েদের ক্ষেত্রেই এটা ঘটে থাকে, কিন্তু এর মানে এই না যে, এটা স্বাভাবিক কিছু। কোন মায়ের যদি প্রসবোত্তর প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণ বা ইনকন্টিনেন্স ঘটেই থাকে, তাহলে এর চিকিৎসা সম্বন্ধেও তার সচেতন থাকা উচিত।

প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণটা নারীদের বেশ সিরিয়াস একটা কন্ডিশন যা সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়ে অনেক নারীদের সাথেই ঘটে থাকে। এর ফলে হয়তো আপনার জীবনযাত্রা একদম ওলট পালট হয়ে যাবে এমন নয়, কিন্তু এই সমস্যাটা কতটুকু সিরিয়াস হতে পারে, কিভাবে ডাক্তারকে আপনি সমস্যার কথা খুলে বলতে পারেন, এর চিকিৎসা ব্যাবস্থা কি কি রয়েছে প্রভৃতি এবং কিভাবে আবার পুনরায় ব্লাডার নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা যায় তা সহ এ সম্পর্কিত আপনার যা যা জানা প্রয়োজন, তা নিয়েই এই আর্টিকেল।

প্রসবের পর প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বা ইনকন্টিনেন্স কি?

প্রসবোত্তর অনিয়ন্ত্রণ বলতে মূলত প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্র বা ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সকেই  বোঝায়। গর্ভাবস্থায় কিংবা শিশুর জন্মের পর অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্লাডার থেকে অল্প পরিমানে কিংবা পুরো প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়াকে ইনকন্টিনেন্স বলা যায়। বেশিরভাগ নারীদের ক্ষেত্রেই, ব্লাডার যখন পরিপূর্ণ থাকে, তখন যদি তারা পরিশ্রমের কাজ করেন যেমন দৌড়ানো কিংবা লাফানো অথবা পেটে চাপ পরে এমন কিছু যেমন হাচি কিংবা কাশি দেন, তাহলে ব্লাডার থেকে অল্প পরিমাণে প্রস্রাব বেড়িয়ে যেতে পারে।

২০০৪ সালে, গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণের উপর বায়োমেড সেন্ট্রাল প্রেগন্যান্সি এন্ড চাইল্ডবার্থের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ না থাকাটা বেশ কমন একটি বিষয়। প্রায় ৫০ শতাংশ নারীদের ক্ষেত্রেই এটি ঘটে থাকে।

যদি গর্ভাবস্থায় কোন নারীর প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ না থাকে, সেক্ষেত্রে বাচ্চা প্রসবের পরেও ব্লাডার নিয়ন্ত্রণে না থাকার সম্ভাবনা অবশ্যই রয়ে যায়। বায়োমেডের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গর্ভবতী অবস্থায় যেসব নারীদের প্রস্রাবের অসুবিধা হয়, শিশু জন্মের পরেও তাদের ব্লাডার নিয়ন্ত্রণে না থাকার সম্ভাবনা অন্য নারীদের তুলনায় ৩ গুণ বেশী থাকে। ডেলিভারির ৩ মাস পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণহীনতা চলমান থাকতে পারে

[ আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে কেন?]

প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণ বা ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স কি ধরণের হতে পারে? 

দ্য আমেরিকান কলেজ অফ অবসটেট্রিশন এন্ড গাইনোকোলিস্টের মতে, প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণ মূলত তিন ধরণের হয়ে থাকে:

স্ট্রেস ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স (Stress urinary incontinence) : এই ধরণের প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণহীনতা তখনই হয় যখন পেটে চাপ পড়ে এমন কোন কাজ যেমন হাচি, কাশি, হাসি প্রভৃতি অথবা শারিরীক পরিশ্রমের কোন কাজ যেমন দৌড়ানো, লাফানো, ব্যায়াম ইত্যাদি করা হয়। ভারী কিছু তোলার চেষ্টা করলে সেটাও পেটে চাপ ফেলে।

আর্জেন্সি ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স (Urgency urinary incontinence): এই ধরনের নিয়ন্ত্রণহীনতায়, কারো হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ পেয়ে গেলে সে তা টয়লেটে যাওয়া পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে না। টয়লেটে যাওয়ার পথেই প্রস্রাব কিছুটা পড়ে যেতে পারে।

মিক্সড ইনকন্টিনেন্স (Mixed incontinence): স্ট্রেস ও আর্জেন্সি দুই ধরনের  নিয়ন্ত্রণহীনতা একই সাথে বিদ্যমান থাকতে পারে। একে মিক্সড ইনকন্টিনেন্স বলা যায়।

তিন ধরণের নিয়ন্ত্রণহীনতাই প্রসব পরবর্তী মায়েদের সাথে হতে পারে। সম্প্রতি মা হয়েছেন এমন কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স বেশী দেখা যায়। আর্জেন্সি ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সটা মূলত নারীদের বয়স বাড়ার কারণেই হয়ে থাকে, প্রসব-পরবর্তী নিয়ন্ত্রনহীনতার সাথে এর তেমন কোন সম্পর্ক নেই। গর্ভবতী থাকা অবস্থায় যদি কারো প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে ডেলিভারির পরও তা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়ে যায়।

পায়খানায় নিয়ন্ত্রণহীনতা বা ফিকাল ইনকন্টিনেন্স ( Fecal Incontinence) : গর্ভধারণ কিংবা ডেলিভারির পরে, কোন কোন ক্ষেত্রে পায়খানার নিয়ন্ত্রণহীনতাও হতে পারে তবে যদিও এটা খুব বেশি একটা দেখা যায় না। মলদ্বার কেটে বা ফোর্থ ডিগ্রি পর্যন্ত ছিড়ে গেলে অথবা যোনি থেকে মলদ্বার পর্যন্ত কোন ফিশার (ক্ষত বা কাটা) হলে, তখন এ ধরণের নিয়ন্ত্রণহীনতা ঘটতে পারে।

মাঝে মাঝে শারিরীক কোন থেরাপির মাধ্যমে প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণহীনতা নিরাময় করা সম্ভব হয় তবে পায়খানার নিয়ন্ত্রণহীনতা নিরাময়ে কিন্তু অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রসবোত্তর অনিয়ন্ত্রণ কেন ঘটে থাকে?

শিশু জন্মদানের কারণে প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ না থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, এটা বিশেষজ্ঞরা জানেন। কিন্তু এটা তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না যে জন্মদান প্রক্রিয়ার ঠিক কোন অংশের কারণে নিয়ন্ত্রণহীনতা ঘটে থাকে।

প্রসবোত্তর নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণ হিসেবে কোন একটি নির্দিষ্ট প্রমাণিত কারণের বদলে ডাক্তাররা অনেকগুলো ফ্যাক্টর সামনে এনে দাড় করিয়েছেন যার মধ্যে জেনেটিক্স রয়েছে, কিভাবে ডেলিভারি হয়েছে সেটাও আছে।

উদাহরণস্বরূপ, যাদের সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে, তাদের তুলনায় যাদের স্বাভাবিক ভ্যাজিনাল ডেলিভারি হয়েছে তাদের প্রসবোত্তর নিয়ন্ত্রণহীনতা ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

নিম্নোক্ত ব্যাপারগুলো ঘটে থাকলে, তবেও প্রসবোত্তর নিয়ন্ত্রণহীনতা হতে পারে:

  • আপনার ওজন বেশি হলে
  • গর্ভধারণ অবস্থায় কিংবা এরও পূর্বে প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণহীনতা ঘটে থাকলে
  • যমজ অর্থাৎ একাধিক সন্তান পেটে ধারণ করলে
  • পূর্বে গর্ভবতী হলে কিংবা বাচ্চা প্রসব করলে
  • ফোরসেপের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে
  • ভ্যাকুম ডেলিভারি হলে

নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণ হিসেবে বেশ কিছু কমন থিওরি রয়েছে। যেমন, ডেলিভারির সময়ে কোন ইনজুরির কারণে হতে পারে। আবার অনেকটা একই ধরণের আরেকটি কারণ রয়েছে, – ডেলিভারির সময় ব্লাডারকে সাপোর্ট করে রাখা স্ট্রাকচার এবং কোন মাংসপেশি যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, সেক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণহীনতা ঘটতে পারে। এই ইনজুরিকে পেলভিক ফ্লোর ইনজুরি বলা হয়।

পেলভিক ফ্লোর ব্লাডারে সাপোর্ট দিয়ে রাখে এবং গর্ভধারণের ফলে সে মাসলে চাপ পড়ে। শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে পেলভিক ফ্লোরে ক্রমাগত চাপ পড়ে তা কিছুটা দুর্বল হতে থাকে এবং প্রসববেদনার চাপের ফলে ব্লাডারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বলা যেতে পারে, ডেলিভারির কারণে নয়, বরং গর্ভাবস্থায় মাংসপেশির পরিবর্তনের কারণেই প্রসবোত্তর নিয়ন্ত্রণহীনতা ঘটে থাকে।

তবে ডেলিভারির সময় যোনিতে কোথাও যদি ছিড়ে যায়, তবে তার ফলে প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণ হওয়ার ঝুঁকি খুব একটা নেই। পূর্বে, কিছু কিছু ডাক্তার মনে করতেন যে শিশু যদি বড় হয়, ওজন বেশী হয় তাহলে ব্লাডারের নিয়ন্ত্রণহানি ঘটতে পারে। তবে গবেষণায় এই অনুমানের সত্যতা মেলেনি।

প্রসবোত্তর অনিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ করা যায় কিভাবে?

এটা পূর্বে ধারণা করা হতো যে, এপিসিওটোমি করার মাধ্যমে নারীদের পেলভিক ফ্লোর সুরক্ষিত রাখা যায়, যার মাধ্যমে প্রসবোত্তর অনিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু বায়োমেডের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রসবোত্তর অনিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধে এপিসিওটোমি তেমন কোন ভূমিকা পালন করে না। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, পেরিন্যাল মেসেজের মাধ্যমেও ব্লাডারের অনিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

ব্লাডারের অনিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধে যে কাজটি করা সবচেয়ে জরুরি, তা হলো- কোন প্রকার ইনজুরি হওয়ার আগেই পেলভিক ফ্লোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

নিম্নোক্ত কাজগুলো করার মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় পেলভিক ফ্লোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন:

  • পেলভিক ফ্লোরের জন্যে বিশেষায়িত ব্যায়াম নিয়ে কথা বলতে, গর্ভবতী অবস্থায় একজন ফিজিক্যাল থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • কিভাবে পেলভিক ফ্লোর নিরাপদে রাখা যায় সে বিষয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। আপনার গর্ভাবস্থা কেমন চলছে, সেটার উপর বিবেচনা করে ডাক্তার আপনাকে করণীয় বলে দেবেন। ডাক্তার যা বলে দেবেন তা ঠিকঠাক পালন করুন।
  • পেলভিক ফ্লোরে বেশী প্রভাব ফেলে এমন ব্যায়াম যেমন শূন্যে লাফানো, দড়ি লাফানো প্রভৃতি ব্যায়াম গর্ভাবস্থায় পরিহার করা উচিত।
  • পুরো গর্ভাবস্থায় কোর-স্ট্রেংদেনিং প্রোগ্রাম চালু রাখা উচিত- যেমন প্রিন্যাটাল ইয়োগা।

প্রতিরোধমূলক ব্যায়াম

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম বন্ধ করার কোন কারণ নেই। অবশ্য যদি ডাক্তার কোন বিশেষ কারণে বেডরেস্টে থাকার নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে ভিন্ন কথা। বরং নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার পেলভিক ফ্লোর নিরাপদে থাকবে। তবে গর্ভাবস্থায় নিরাপদ ব্যায়াম সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

গর্ভাবস্থায়, পেটের পেশিগুলো বেশ খানিকটাই সরে যায়। তার এই সময়ে এমন কোন ব্যায়াম করা উচিত নয় যার ফলে সেখানে টান লাগতে পারে যা পরবর্তীতে পেলভিক ফ্লোরকে ইনজুরিতে ফেলে দিতে পারে।

যেহেতু টিভিএ ( ট্রান্সভার্স এবডোমিনাল) মাসলগুলো গর্ভাবস্থায় আলাদা থাকে, তাই সেখানে বেশী চাপ পড়তে পারে এমন ব্যায়াম পরিহার করারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তারেরা৷ এ জাতীয় ব্যায়ামের মধ্যে প্ল্যানক্স, সিট-আপস, স্ট্রেইট লেগ রেইজ, টুইস্টিং ক্রাঞ্চ অন্যতম।

এ ব্যাপারে ডাক্তারের সাথে কিভাবে কথা বলবো?

ডাক্তারের সাথে যখন কথা বলবেন, আপনি যে প্রসবোত্তর প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি চান সেটা অবশ্যই তাকে বুঝিয়ে বলাটা জরুরি। ডাক্তার হয়তো এই ব্যাপারটিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে আপনার দুশ্চিন্তা উড়িয়ে দিতে পারেন কিংবা “শিশুর জন্যে কিছু কষ্ট স্বীকার তো করতেই হবে”- এ রকম কথাও বলতে পারেন। কিন্তু তা কখনো হতে দেওয়া উচিত না।

প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণহীনতা কোন স্বাভাবিক কিছু নয়, এর নিরাময়ে চিকিৎসা ব্যাবস্থাও রয়েছে। আপনার ডাক্তার যদি আপনাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে না চান, তাহলে খুব সম্ভবত আপনার ডাক্তার পরিবর্তনের সময় এসেছে।

প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাপারটা যদি অতো সিরিয়াস না হয়ে অল্প অল্প পরিমাণে হয়, তবেও ডাক্তারের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলা উচিত। অল্প অল্প করে প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়াটা আরো বড় কোন রোগ যেমন পেলভিক অর্গান প্রোল্যাপসের লক্ষণও হতে পারে। যদিও রোগটা এত বেশি একটা দেখা যায় না।

ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসা

প্রসবোত্তর নিয়ন্ত্রণহীনতা কতটা সিরিয়াস, এটা দৈনন্দিন জীবনে কতটা সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং এর কারণ কি- এগুলোর উপর ভিত্তি করেই এর চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রস্রাবের এই নিয়ন্ত্রণহীনতা দিনে দিনে আপনা আপনিই সেড়ে যাবে না বা কমে যাবে না, বরং ঠিকঠাক চিকিৎসা না করলে বেড়ে যেতে পারে।

প্রসবোত্তর চিকিৎসায় প্রথম যে কাজটা করা উচিত, তা হলো একজন ফিজিক্যাল থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হওয়া, যিনি পেলভিক ফ্লোরের পেশি শক্তিশালী করতে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশি, যা ব্লাডারকে সাপোর্ট দিয়ে থাকে, সে পেশি শক্তিশালী করার মাধ্যমে একজন নারী সহজেই নিজের ব্লাডার পুনরায় নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। কোথায় পেলভিক ফ্লোরের জন্যে বিশেষায়িত ব্যায়াম করা যাবে, সে ব্যাপারে আপনার ডাক্তার আপনাকে পরামর্শ দেবেন।

পেলভিক ফ্লোর থেরাপির মাধ্যমে প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণহীনতা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও হয়তো এটা পুরোপুরি সেরে যাবে না। অবস্থা কতটা সিরিয়াস সেটার উপর নির্ভর করে সাধারণত নিম্নোক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়:

  • বারবার প্রস্রাব হওয়া এবং হঠাৎ করে বেশি প্রস্রাব চাপার প্রবণতা কমাতে ঔষধ প্রয়োগ।
  • অল্প অল্প করে প্রস্রাব বের হওয়া বন্ধ করতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইউরেথ্রাতে সাপোর্ট দেওয়া।
  • নার্ভ স্টিমুলেশনের মাধ্যমে ব্লাডারে সংযুক্ত নার্ভসমূহকে সারিয়ে তোলা

আমাদের কিছু কথা

আশেপাশের অনেকেই হয়তো বলতে পারেন যে প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণহীনতাটা বেশ স্বাভাবিক এবং অনেকেই এই পরিস্থিতির শিকার। কিন্তু না, আপনি নিজের ক্ষেত্রে তা হতে দেবেন না।

আপনি যদি প্রসবোত্তর প্রস্রাবের অনিয়ন্ত্রণে ভুগে থাকেন অবশ্যই তা ডাক্তারকে জানান এবং একজন ফিজিক্যাল থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন যিনি আপনার পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশি শক্তিশালী করতে আপনাকে সাহায্য করবেন।

থেরাপি করে এবং থেরাপিস্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে অনেক মায়েরাই প্রসবোত্তর নিয়ন্ত্রণহীনতার সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে সুস্থভাবে আছেন।

অতি আদরের সন্তান পৃথিবীতে আনতে আপনাকে অবশ্যই কষ্ট সহ্য করতে হবে কিন্তু এর মানে এই না যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আপনার কাপড় ভিজে যাওয়াটাকে আপনার মেনে নিতে হবে। তাই এই ধরণের কোন সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারকে জানান এবং চিকিৎসা পদ্ধতি জেনে নিন এবং সে অনুযায়ীই চলুন। সুস্থ থাকুন।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts