আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত

Spread the love

আজকে আলোচনা করবো গর্ভকালীন সময়ে করা একটি কমন জিজ্ঞাসা নিয়ে, আর সেটি হলো আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট (Pregnancy Ultrasound Report) কিভাবে বুঝবো? কারণ আমরা আকুল হয়ে প্রতীক্ষা করি গর্ভে বেড়ে ওঠা ছোট্ট প্রাণটি কেমন আছে তা জানার জন্য।  আর প্রযুক্তির এই যুগে মা বাবার এই দুশ্চিন্তা আর কৌতুহলের উত্তর দিতে রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাফি – শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে একটি যন্ত্রের সাহায্যে জানিয়ে দেয়া হয় গর্ভের ভ্রূণের অবস্থান ও বিকাশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য। কোন রেডিয়েশান ব্যবহৃত হয় না বলে, আলট্রাসাউন্ড -টেকনোলজি সম্পুর্ন নিরাপদ।

ডাক্তারের পাশাপাশি মায়েরাও আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টটা দেখে বোঝার চেষ্টা করেন তার অনাগত সন্তানের বর্তমান অবস্থা৷ আজকের আর্টিকেলটি পড়লেই ডাক্তারকে কিংবা বিভিন্ন মাতৃত্বের গ্রুপে প্রশ্ন করার আগেই আলট্রাসনোগ্রাফি  রিপোর্টের ব্যাসিক কিছু বিষয় বুঝতে পারবেন আপনি নিজেই।  তবে হ্যাঁ, রিপোর্ট অবশ্যই আপনার গাইনোকোলজিস্টকে দিয়ে চেক করিয়ে নিবেন, এই লেখাটি আপনাকে এ ব্যাপারে কিছু  সাধারণ ধারণা দেয়ার লক্ষ্যেই  লেখা।  

বিজ্ঞাপণ
আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট কিভাবে বুঝবেন

আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে  গর্ভের ভ্রূণের সামগ্রিক অবস্থা কিভাবে বুঝবেন?

আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে ভ্রূণের সামগ্রিক অবস্থা বোঝাতে বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত ইংরেজী টার্ম ব্যাবহার করা হয় রিপোর্টে৷  যেমন:

Number of fetus: ফিটাস শব্দের অর্থ ভ্রুণ৷  জন্মানোর আগ পর্যন্ত মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় একটি মানবশিশুকে  “ফিটাস” নামে অভিহিত করা হয়৷ “number of fetus”এই শব্দগুচ্ছ মায়ের গর্ভে ফিটাসের সংখ্যাকে ইংগিত করে৷ 

বাচ্চা একটি নাকি জমজ হবে তা number of fetus দ্বারা বোঝা যায়৷  সাধারণত সংখ্যাটি ১ হলেও জমজ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ২ এমনকি এর বেশিও ( multiple) থাকতে পারে দুর্লভ কিছু অবস্থায়। 

Cardiac activity : এখানে ফিটাসের স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন হচ্ছে কিনা তা উল্লেখ করা হয়৷  যদি হৃদস্পন্দন টের পাওয়া যায় তাহলে  present এবং পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে absent উল্লেখ করা হয়।

রিপোর্টে HR ( হার্ট রেট) বা FHR ( ফিটাল হার্ট রেট) হিসেবেও উল্লেখ করা থাকতে পারে৷ হার্টরেট উল্লেখ করতে সাধারণত BPM বা Beat per minute দেয়া থাকে। অর্থাৎ প্রতি ১ মিনিটে কতবার হৃদস্পন্দন হচ্ছে সেটা উল্লেখ করা থাকে।

Gross fetal movement: ফিটাসের উল্লেখযোগ্য নড়াচড়া আছে, নাকি তা একেবারেই স্থির তা বোঝা যায় gross fetal movement দ্বারা৷ যদিও ফিটাসের স্বাভাবিক নড়াচড়া ৪-৫ মাসের আগে সাধারণত বোঝা যায় না। ফিটাসের নড়াচড়া তার সুস্থতার ইংগিত বহন করে৷ গর্ভাবস্থার একত্বই নির্দিষ্ট সময় পর ভ্রূণের একেবারেই নড়াচড়া না থাকাটা দুশ্চিন্তার বিষয় হতে পারে৷ 

Amount of liquid বা Amniotic Fluid Index (AFI): গর্ভের ভ্রূণ যে তরলে ভাসমান অবস্থায় থাকে তার পরিমাণ প্রকাশ করা হয়৷ এ তরলকে অ্যাম্নিওটিক ফ্লুইড (Amniotic Fluid) বলে। আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে এটি সাধারণত সেন্টিমিটারে বা মিলিমিটারে দেয়া থাকে।

এর স্বাভাবিক মাত্রা ধরা হয় ৫-২৫ সেমি। অর্থাৎ ৫ সেমি এর কম হলে ফ্লুইড কম আছে এবং ২৫ সেমি এর বেশি হলে ফ্লুইড বেশি আছে ধরা হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে গর্ভের শিশু ছেলে না মেয়ে তা উল্লেখ করা থাকেনা৷  যদি থাকে তবে সেখানে male বা female সরাসরি লেখা থাকে অথবা অথবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে xy বা xx লেখা থাকতে পারে। আমাদের দেশে আইনগতভাবে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ নিষিদ্ধ না হলেও নৈতিকভাবে অনেক ডাক্তার তা সাপোর্ট করেন না। তাই এই বিষয়ে তেমন একটা আলোচনা আমাদের ওয়েব সাইটে করা হয়না।

আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে গর্ভধারণ এবং প্রসবের সময়কাল বোঝাতে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়

LMP (Last menstrual period): সর্বশেষ পিরিয়ডের প্রথম দিনটি LMP হিসেবে উল্লেখ করা থাকে রিপোর্টে৷ 

Gestational age: জেস্টেশনাল এইজ হল গর্ভধারণের সময়। অর্থাৎ গর্ভাবস্থার কত সপ্তাহ চলছে তা নির্দেশ করতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।  

EDD (Estimated due date বা Estimated date of delivery): আনুমানিক কবে নাগাদ স্বাভাবিক প্রসব বা নরমাল ডেলিভারি হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য ডেট দেয়া হয়। LMP এর সাথে ৯ মাস ৭ দিন যোগ করে এটি হিসেব করা হয়। মনে রাখবেন, কেবল শতকরা ৪% শিশুর ক্ষেত্রে আলট্রাসাউন্ডে নির্দিষ্ট করে দেওয়া তারিখে নরমাল ডেলিভারি হয়।

গর্ভাবস্থার সময় ও ডিউ ডেইট নির্ণয় করতে আমাদের ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করুন।

গর্ভে ভ্রূনের অবস্থান বোঝাতে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে যেসব শব্দ উল্লেখ থাকে

Location: আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হল location বা অবস্থান৷ আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে ভ্রুণ জরায়ুর মধ্যে অবস্থান করলে ‘Intra uterine.’  এবং জরায়ুর বাইরে অবস্থান করলে extra uterine লেখা থাকে । 

আমরা জানি যে ফিটাস মায়ের জরায়ুতেই বড় হয়।  কিন্তু কখনো কখনো বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরী হয় যখন ফিটাসের অবস্থান থাকে জরায়ুর বাইরে৷ এটি হতে পারে জরায়ু নালীতে বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে (fallopian tube)।  মেডিকেলের পরিভাষায় একে বলা হয় ectopic pregnancy (একটোপিক প্রেগন্যান্সি)। 

এক্টপিক প্রেগন্যান্সি
এক্টপিক প্রেগন্যান্সি। ছবিঃ Insider

গর্ভে ভ্রূণ কি অবস্থানে রয়েছে তা বোঝানোর জন্য আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে সাধারণত Presentation এবং Lie  এই শব্দ দুটি ব্যাবহার করা হয়৷

Presentation: প্রেযেন্ট্যাশান বলতে বোঝায় ভ্রূনের শরীরের কোন অঙ্গটি জরায়ু মুখের সবচাইতে কাছাকাছি আছে বা প্রসবের সময় কোন অঙ্গটি আগে বেরিয়ে আসবে। প্রেযেন্ট্যাশান তিন ধরণের হতে পারে – যেমন:

Cephalic Presentation: এটি গর্ভে ভ্রূণের সবচেয়ে ভালো অবস্থান। এই ধরণের প্রেযেন্ট্যাশানে মায়ের গর্ভে ভ্রূণের মাথা নিচে এবং পা উপরে থাকে, অর্থাৎ ভ্রূণের মাথা জন্মনালীর কাছাকাছি থাকে৷ সেফালিক প্রেযেন্ট্যাশান আবার দুই ধরণের হয়। আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে এর উল্লেখ থাকে ‘Anterior’ এবং ‘Posterior’ হিসেবে।  

  • Anterior: মায়ের গর্ভে ভ্রূণের সবচাইতে সাধারণ অবস্থান হল অ্যান্টেরিয়র প্রেযেন্ট্যাশান । ৯৬.৫% ক্ষেত্রে এই ধরণের প্রেযেন্ট্যাশান দেখা যায়।অ্যান্টেরিয়র পজিশনের ক্ষেত্রে ভ্রূণের মাথা নিচের দিকে থাকে এবং তার মুখ মায়ের পিঠের দিকে ঘোরানো থাকে অর্থাৎ ভ্রূণের পিঠ থাকে মায়ের পেটের দিকে। ভ্রূণের থুতনি তার বুকের সাথে লেগে থাকে এবং ভ্রূণের মাথা মায়ের পেলভিসে ঢোকার জন্য তৈরি থাকে। এই পজিশনকে সাধারনত occipito-anterior প্রেযেন্ট্যাশান বলে।
  • Posterior: যখন গর্ভে শিশুর মাথা নীচের দিকে থাকে কিন্ত মুখ মায়ের পেটের দিকে ঘোরানো থাকে তখন ভ্রূণের এই পজিশনকে বলা হয় occiput posterior (OP) position বা সংক্ষেপে পোস্টেরিয়র পজিশন।এ ধরনের পজিশনকে অনেক সময় “ফেস আপ” বা “সানি সাইড আপ’ বলা হয়।
সেফালিক প্রেজেন্টেশন

Breech Presentation: ভ্রূণের স্বাভাবিক অবস্থানের উল্টোটা হল ব্রিচ পজিশন৷ ব্রীচ পজিশনের ক্ষেত্রে শিশুর মাথা উপরের দিকে এবং তার নিম্নভাগ বা পা নিচের দিকে থাকে। অর্থাৎ গর্ভে শিশু উল্টো হয়ে থাকে।

ব্রীচ পজিশন সাধারণত তিন ধরনের হয়-

  • ফ্র্যাঙ্ক ব্রীচ- এক্ষেত্রে শিশুর নিতম্ব নীচের দিকে থাকে। পা উপরের দিকে মাথার কাছাকাছি বাঁকানো অবস্থায় থাকে। এটাই সবচাইতে কমন ব্রীচ পজিশন।
  • কমপ্লিট ব্রীচ- এ ধরনের পজিশনে শিশুর নিতম্ব নীচের দিকে থাকে। সেই সাথে তার পা ও হাঁটু বাঁকানো অবস্থায় নিতম্বের কাছাকাছি থাকে।
  • ফুটলিং ব্রীচ- এই পজিশনে  শিশুর এক পা বা উভয় পা নীচের দিকে জন্মনালীর দিকে ফেরানো থাকে।
ব্রীচ পজিশন
ব্রীচ প্রেজেন্টেশন

Shoulder presentation: অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় শিশুর ঘাড়, পিঠ বা হাত জন্মনালীর দিকে ফিরানো থাকে। এ ধরনের পযিশানকে বলা হয় শোল্ডার প্রেযেন্ট্যাশান । এই প্রেযেন্ট্যাশানে ভ্রূণ ট্রান্সভার্স -লাই অবস্থানে থাকে অর্থাৎ সে জরায়ুতে লম্বালম্বিভাবে না থেকে পাশাপাশি অবস্থান করে।

প্রতি ৪০০ টি গর্ভধারণের ১ টিতে ভ্রূণ এই পযিশনে থাকতে পারে। যখন এমন হয় তখন ভ্রূণের পিঠ বা ঘাড় জরায়ু মুখ ঢেকে রাখে। এ ক্ষেত্রে বাচ্চা ও মায়ের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞাপণ
শোল্ডার প্রেজেন্টেশন
শোল্ডার প্রেজেন্টেশন

Lie: লাই শব্দটি দিয়ে গর্ভের ভ্রূণের স্পাইনাল কলাম বা মেরুদণ্ড মায়ের স্পাইনাল কলামের সাথে কোন অবস্থানে আছে তা বোঝানো হয়।সাধারণত তিন ধরণের ফিটাল লাই হয়ে থাকে –

Longitudinal lie: লঞ্জিটিউডিনাল-লাই এ ভ্রূণের স্পাইনাল কলাম বা মেরুদণ্ড মায়ের মেরুদণ্ডের সমান্তরালে থাকে। এক্ষেত্রে ভ্রূণের অবস্থান থাকে লম্বালম্বি ভাবে। সেফালিক এবং ব্রীচ প্রেযেন্ট্যাশানের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়।

Transverse lie: ট্রান্সভার্স লাই হলে ভ্রূণের স্পাইনাল কলাম মায়ের স্পাইনাল কলামের সাথে আড়াআড়ি ভাবে থাকে অর্থাৎ ভ্রূণটি মায়ের জরায়ুতে পাশাপাশি অবস্থান করে।

Oblique lie: ভ্রূণের স্পাইনাল কলাম যখন মায়ের স্পাইনাল কলামের সাথে ৪৫ ডিগ্রী বা তার কাছাকাছি কোণ সৃষ্টি করে তখন তাকে অব্লিক লাই বলা হয়। অর্থাৎ ভ্রূণটি লঞ্জিটিউডিনাল এবং ট্রান্সভার্স লাই-এর মাঝামাঝি বেঁকে থাকে।

লঞ্জিটিউডিনাল, অব্লিক এবং ট্রান্সভার্স লাই
লঞ্জিটিউডিনাল, অব্লিক এবং ট্রান্সভার্স লাই

৩৬ সপ্তাহের পরে করা আলট্রাসাউন্ডে Unstable lie শব্দটির উল্লেখ থাকতে পারে। সাধারণত ৩৬-৩৭ সপ্তাহের মধ্যে বেশিরভাগ শিশুই প্রসবের জন্য নির্দিষ্ট অবস্থানে চলে আসে। এসময়ের পর সে তেমন একটা অবস্থান পরিবর্তন করেনা। তবে কিছু কিছু ভ্রূণ এসময়ও নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। এধরনের পরিস্থিতিকে আন্সটেবল লাই বলা হয়।    

প্লাসেন্টা বা গর্ভফুলের অবস্থা ও অবস্থান বোঝাতে আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়

Placenta:  প্লাসেন্টা বা অমরা হল মায়ের সাথে ভ্রূণের মূল সংযোগ৷  ভ্রূণ  এর মধ্য দিয়েই মায়ের কাছ থেকে খাদ্য ও পুষ্টি পায়৷ সেইসাথে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড আদান প্রদান করে৷  

প্লাসেন্টার অবস্থা বা পরিপক্বতার অবস্থা বোঝাতে রিপোর্টে Grade 0, Grade 1, Grade 2 এবং Grade 3 উল্লেখ করা থাকে। গর্ভাবস্থার সময় বাড়ার সাথে সাথে প্লাসেন্টা পরিবর্তিত  হতে থাকে এবং পরিপক্বতা পেতে থাকে। সেই অনুযায়ীই এই গ্রেডিং করা হয়। গর্ভাবস্থার সময় অনুযায়ী সাধারণত যে গ্রেডগুলো থাকতে পারে তা হলো-

  • Grade 0 – ১৮ সপ্তাহের আগ পর্যন্ত
  • Grade 1 – ১৮-২৯ সপ্তাহ পর্যন্ত
  • Grade 2 – ৩০-৩৮ সপ্তাহ পর্যন্ত
  • Grade 3 – ৩৮ সপ্তাহের পর

৩৮ সপ্তাহের আগে Grade 3 প্লাসেন্টা পাওয়া গেলে তা কিছু জটিলতার নির্দেশ করতে পারে। এ বিষয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

প্লাসেন্টার অবস্থান

গর্ভাবস্থার ১৮-২০ সপ্তাহের আলট্রাসাউন্ডে প্লাসেন্টার অবস্থান জানা যায়। আল্ট্রাসাউন্ডে প্লাসেন্টার অবস্থান বোঝাতে যেসব শব্দের উল্লেখ থাকতে পারে-

  • অ্যান্টেরিয়র প্লাসেন্টা (Anterior placenta)– প্লাসেন্টা যখন জরায়ুর দেয়ালের সামনের অংশে থাকে।
  • পোস্টেরিয়র প্লাসেন্টা (Posterior placenta)– প্লাসেন্টা যখন জরায়ুর দেয়ালের পেছনের অংশে থাকে।
  • ফান্ডাল পজিশন (Fundal position)– প্লাসেন্টা যখন জরায়ুর দেয়ালের উপরের অংশে থাকে।
  • Right or left lateral position – প্লাসেন্টা যখন জরায়ুর দেয়ালের ডান বা বাম পাশে থাকে।
  • Upper segment: (উপরের অংশ)  জরায়ুর উপরের দিকে প্লাসেন্টা যুক্ত থাকাকে বোঝায়৷  
  • Lower segment: জরায়ুর নিচের দিকে প্লাসেন্টা যুক্ত রয়েছে৷ 
  • Placenta Previa: প্লাসেন্টা যখন জরায়ু মুখ ঢেকে রাখে।
  • Low lying placenta: প্লাসেন্টা জরায়ুমুখ ঢেকে রাখেনি কিন্তু জরায়ু মুখের ২ সেমি এর ভেতর অবস্থিত।
  • Away from OS: প্লাসেন্টা যখন জরায়ুমুখ থেকে দুরে অবস্থান করে।
প্লাসেন্টার অবস্থান
প্লাসেন্টার অবস্থান । ছবিঃ Pregnancy Birth and Baby

গর্ভের ভ্রূণের ওজন ও উচ্চতার পরিমাপ বোঝাতে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়

 ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য গর্ভের ভ্রূণের ওজন ও উচ্চতার পরিমাপের আবশ্যকতা রয়েছে৷  বিভিন্ন ধরণের পরিমাপ রিপোর্টে উল্লেখ করা থাকে৷ সেন্টিমিটার  বা মিলিমিটার স্কেলে  এসব পরিমাপ প্রকাশ করা হয়। 

CRL: ভ্রূণের মাথা থেকে পশ্চাৎদেশ পর্যন্ত অংশের পরিমাপ হল CRL বা Crown Rump Length. 

ক্রাউন রাম্প লেংথ  Crown rump length
ক্রাউন রাম্প লেংথ

BPD (Biparietal diameter): ভ্রূণের মাথার খুলির ব্যাসের পরিমাপের জন্য এই শব্দটি ব্যাবহার করা হয়৷ ফিটাসের বয়স ও ওজন পরিমাপে এর ভূমিকা রয়েছে। 

বিজ্ঞাপণ

Head c/r, HC বা Head circumference: ভ্রূণের মাথার গোল অংশের পরিধি কত তা বোঝানো হয় head circumference দ্বারা৷ ভ্রূণের সম্ভাব্য ওজন পরিমাপের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

Abdomen c/r, AC বা Abdominal circumference: Abdomen শব্দের অর্থ উদর বা পেট৷ ভ্রূনের পেটের পরিধি প্রকাশ করার জন্য এই তিনটি টার্মের যেকোনো একটি ব্যাবহার করা হতে পারে। এই পরিমাপটি ভ্রূণের আকার, গর্ভধারণের সময় এবং ডিউ ডেইট নির্ণয় করতে ব্যবহার করা হয়।

FL (Femur length): মানুষের সবচেয়ে লম্বা অস্থিটি হল ফিমার৷ আমাদের উরূতে এই হাঁড়টি রয়েছে। ফিমার লেংথ দ্বারা ভ্রূণের ফিমারের দৈর্ঘ্য প্রকাশ করা হয়৷ এই পরিমাপটি ভ্রূণের বয়স নির্ণয় করতে এবং তার স্বাভাবিক বৃদ্ধির মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

Estimated Fetal weight বা EFW: ভ্রূণের ওজনের পরিমাপ৷ এটি সাধারণত গ্রামে প্রকাশ করা হয়। 

এই লেখায় ব্যাবহৃত সবগুলো মেডিকেল টার্ম যে সব রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে তা কিন্তু নয়৷  বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে ভিন্নতা দেখা যায়৷  রিপোর্ট যেমনই হোক, কিছু মৌলিক বিষয় সব প্রেগন্যান্সি আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টেই উল্লেখ থাকে৷  

অনাগত শিশুর ভবিষ্যত সুস্থ ও সুন্দর রাখতে নিয়মিত চেকাপ জরুরী। কিন্তু অনেকেই ভাবেন এই সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার তেমন কোন গুরুত্ব নেই৷  আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট যদি নিজে পড়ে বুঝতে পারেন, তাহলে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করাটা সহজ হবে সবার জন্য৷  প্রতিটি মাতৃত্ব হোক সুস্থ ও নিরাপদ ।

সবার জন্য শুভকামনা।

 

 


Spread the love

Related posts

Leave a Comment