শিশুর সর্দি বা ঠাণ্ডা লাগলে করনীয়

বাচ্চার ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে যার কারণে তারা সহজেই অসুখে আক্রান্ত হতে পারে। এ কারণে বাচ্চাদের বেশী সর্দি হয় বা ঠাণ্ডা লাগে । প্রায় ২০০ ধরনের ভাইরাস শিশুর কমন কোল্ড বা বাংলায় আমরা যাকে বলি ঠাণ্ডা লাগা বা সর্দির কারণ। বাচ্চাদের শরীর আস্তে আস্তে এসব ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। আমদের সারাজীবনে কতবার ঠাণ্ডা লেগেছে বা সর্দি হয়েছে তা একবার ভাবুন। আপনার বাচ্চারও এসবের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এর ফলে তার শরীরে এসব ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও গড়ে উঠবে।

বাচ্চা যখন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সে আস্তে আস্তে বিভিন্ন জিনিস আবিষ্কার করতে থাকে এসময় সে এসব জিনিসে হাত দেয় (মাঝে মাঝে তা জিব দিয়ে চেটেও দেখে)। এর ফলে তার হাতে সর্দির ভাইরাস লাগতে পারে। এরপর যখন সে হাত মুখে দেয় বা হাত দিয়ে নাক মুখ কচলায় তখনই ভাইরাস তার শরীরে বাসা বাঁধার সুযোগ পেয়ে যায়।

বাচ্চা শীতের সময় খুব বেশী এসবে আক্রান্ত হয় কারণ ঠাণ্ডা বাতাস এবং ঘরের গরম আবহাওয়া তার নাকের মেমব্রেনগুলো শুকিয়ে দেয় যাতে ভাইরাসের সেখানে অবস্থান করতে সুবিধা হয়। শীতে বাচ্চাদের বেশীরভাগ সময় বাসাতেই রাখা হয় যার কারণে একজনের কাছ থেকে আরেকজনের ভাইরাস সংক্রমণও বেশী হয়।

বেশীরভাগ বাচ্চারই বছরে গড়ে ছয় থেকে দশবার সর্দি হতে পারে। যাদের বাচ্চারা স্কুল বা ডে কেয়ারে থাকে তাদের ক্ষেত্রে বছরে গড়ে ১২ বার পর্যন্ত সর্দি লাগতে পারে। ( গড়ে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের বছের দুই থেকে চার বার সর্দি হয়)

কিভাবে বুঝবেন বাচ্চার শুধুমাত্র  ঠাণ্ডা লেগেছে- ফ্লু, অ্যালার্জি বা অন্য কোন অসুখ নয়?

এটা বোঝাটা একটু কষ্টসাধ্য। বাচ্চার সর্দি হলে বা ঠাণ্ডা লাগলে তার নাক দিয়ে পানি ঝরতে পারে, মিউকাস পরিষ্কার থাকতে পারে যা আস্তে আস্তে ঘন, ধুসর, হলুদ বা সবুজ বর্ণ ধারন করতে পারে। তার হালকা কফ ও জ্বরও থাকতে পারে।

যদি বাচ্চার জ্বর থাকে তবে জ্বর কমার পর তার দিকে খেয়াল রাখুন। যদি তার খাওয়া এবং খেলা স্বাভাবিক থাকে (বা প্রায় স্বাভাবিক থাকে- এ সময় সে একটু কম খেতে চাইতে পারে), তাহলে ধরে নেয়া যায় তার শুধু মাত্র সাধারন সর্দিই হয়েছে। যদি বাচ্চার জ্বর কমে আসার পরও মনে হয় সে অসুস্থ এবং নির্জীব তবে তার সর্দির চাইতে বেশী কিছু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যদিও ফ্লু বা অন্যান্য অসুস্থতা হঠাৎ করেই হতে পারে তবে তার সাথে সাথে বাচ্চার ডায়রিয়া বা বমির সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে বাচ্চার জ্বরের আগে জদি নাক বন্ধ থাকা বা কাশি হয় তবে সে ক্ষেত্রে সর্দির সম্ভাবনায় বেশী।

চোখ নাক থেকে পানি পড়া বা লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি হওয়া এবং যদি ঘন ঘন হাঁচি হয় বা চামড়ায় চুলকানি হয় যা সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে থাকে, তবে সেগুলো অ্যালার্জির লক্ষন। এছারাও এসব ক্ষেত্রে বাচ্চার নাকে থেকে যে মিউকাস ঝরে তা সবসময় পরিষ্কার থাকে। সাধারণ সর্দির মত আস্তে আস্তে ঘন বা হলুদ বর্ণের হয়ে যায়না। অ্যালার্জির কারণে সাধারনত জ্বরও আসেনা।

ঠাণ্ডা লাগলে বা সর্দিতে বাচ্চাকে কিভাবে স্বস্তি দেয়া যায়?

কোন ওষুধই বাচ্চাকে ভাইরাস থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে পারেনা। তবে কিছু কিছু যত্নের মাধ্যমে আপনি বাচ্চার এই ইনফেশন আরও খারাপ হওয়া থেকে এবং বাচ্চাকে আরাম দিতে পারেন। এ সময় বাচ্চার অনেক বেশী বিশ্রাম এবং পানীয় দরকার হয়। ৬ মাসের নিচের বাচ্চাদের জন্য বুকের দুধ বা যারা ফর্মুলা খায় তাদের বেশী বেশী দুধ খাওয়াতে হবে। ৬ মাস পর থেকে বাচ্চাকে কিছু পানি ও দিতে পারেন।

যেহেতু বেশীরভাগ বাচ্চাই নাক ঝারতে পারেনা তাই নিচের কিছু টিপস অনুসরন করে তার নাক বন্ধভাব আপনি কিছুটা কমাতে পারেন

স্যালাইন ও সাকশন ব্যাবহারঃ বাচ্চার মাথা সামান্য পেছনের দিকে ঝুঁকিয়ে বাচ্চার দু নাকে কয়েক ফোঁটা নরসল বা স্যালাইন পানি দিন। এতে নাকের মিউকাস পাতলা হবে। এর পর ন্যাসাল অ্যাসপিরেটরের সাহায্যে বাচ্চার নাকের মিউকাস সাকশন করে বের করে আনতে পারেন। ন্যাসাল অ্যাসপিরেটর আজকাল সব বেবি শপেই কিনতে পাওয়া যায়।

বাচ্চাকে যদি সর্দিতে দুধ খাওয়াতে সমস্যা হয় তবে দুধ খাওয়ানোর ১৫ মিনিট আগে এটা করতে পারেন। এতে বাচ্চার জন্য দুধ খাওয়ার সময় নিঃশ্বাস নিতে সুবিধা হবে।

বাচ্চার নাকের আসে পাশে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানঃ এর ফলে বাচ্চার নাকে জ্বালা পোড়া কম হবে এবং বাচ্চা স্বস্তি পাবে।

ঘরের আবহাওয়া আদ্র রাখুনঃ যদি বাসায় হিউমিডিফায়ার থাকে তবে বাচ্চার রুম আদ্র রাখার চেষ্টা করুন। আর তা হলে বাচ্চাকে বাথরুমে নিয়ে বাথরুমের দরজা জানালা বন্ধ করুন, গীজার থাকলে গরম পানি ছেড়ে দিন বা তাও যদি না থাকে তবে কয়েকটি বালতিতে গরম পানি ঢেলে দিন যাতে পানির বাষ্প বাথ্বরুমের বাইরে যেতে না পারে। বাষ্প ভর্তি বাথরুমে ১৫ মিনিটের মত বসে থাকুন। গরম পানিতে গোসলও সর্দিতে অনেক আরাম দেয়। তবে এ সময় প্রতিটি মুহূর্তে বাচ্চাকে আগলে রাখুন যাতে সে গরম পানির সংস্পর্শে যেতে না পারে।

যেসব বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত

এ সময় বাচ্চার মাথা উপর করে রাখার জন্য হয়তো তাকে কার সিট, বাউন্সি চেয়ারে ঘুম পাড়ানোর চিন্তা মাথায় আসতে পারে। তবে তা কখনোয় উচিত নয়। বাচ্চা যে কোন সময় উল্টে যেতে পারে বা তার মাথা হঠাৎ সামনের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে যাতে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।বাচ্চার চারপাশে বালিশ বা স্লীপ পজিশনার দিয়ে রাখবেন না। এতেও বাচ্চার সাফোকেশন হতে পারে।

এগুলো বাচ্চার সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম বা সিডস এরও কারণ।

বাচ্চাকে সর্দির ওষুধ খাওয়ানো কি নিরাপদ?

বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে বাচ্চাকে সর্দির ওষুধ খাওয়ানো নিরাপদ নয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স এর মতে সর্দির ওষুধ ৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কার্যকর নয় এমনকি এর ফলে ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। মনে রাখবেন সর্দির ওষুধ বাচ্চার সর্দি কমায় না বা এর ফলে আরও যেসব জটিলতা হতে পারে যেমন কানের ইনফেকশন বা সাইনাস ইনফেকশন, তাও প্রতিরোধ করতে পারেনা।

বাচ্চার যদি সর্দির সাথে জ্বর থাকে তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাচ্চাদের acetaminophen বা ibuprofen খাওয়ানো যেতে পারে। তবে কখনোয়ই অ্যাস্পিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবেনা। এর ফলে Reye’s syndrome এর মত ভয়ঙ্কর জতিলতায় বাচ্চা আক্রান্ত হতে পারে।

সর্দিতে বাচ্চাকে স্বস্তি দিতে কিছু প্রাকৃতিক উপায়

অনেক অভিভাবক শিশুর সর্দি কাশি হলে গোসল করাতে চান না। এটা ঠিক নয়, প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে শিশুটিকে গোসল করাতে হবে।এতে সর্দি বুকে বসতে পারে না।

একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে সেটি দিয়ে শিশুটিকে ভাপ দিন। এভাবে শিশুটিকে কিছুক্ষণ রাখুন।গরম বাষ্প শিশুর বুকে জমে থাকা সর্দি, কফ বের করে দিতে সাহায্য করে। নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে নেবুলাইজার ব্যবহার করা হয়। ঘরে নেবুলাইজার  না থাকলে শিশুকে কুসুম গরম পানিতে গোসল করাতে পারেন। কিংবা একটি কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিতে পারেন। এইরকম কয়েকবার করুন। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্বর অনেকখানি নেমে যাবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন রাতে দুই চামচ মধু খাওয়ানোর পর রাতের বেলা তাদের কাশি অনেকটাই কমে গেছে। তবে এক বছরের নিচে শিশুদের মধু না দেওয়াই ভালো। কাশি উপশমে এক কাপ হালকা গরম পানিতে বা এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করাটা সবচেয়ে ভালো। মধু বন্ধ শ্বাসনালী খুলে দেয় ও প্রদাহ কমায়। এছাড়া মধুতে বেশ খানিকটা ক্যালোরি মেলে, যা শিশুদের বাড়তি শক্তি যোগায়। ২ বছরের বেশী বয়সী শিশুদের তুলসী চা, আদা চা ইত্যাদিও দেয়া যেতে পারে।

অসুখে বিশ্রামের কোনও বিকল্প নেই।শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় রাত জেগে খেলতে দেবেন না। বেশী ছোটাছুটি করলেও বেড়ে যেতে পারে অসুখ। শিশু যেন ঠিক মতো বিশ্রাম নেয়, সে বিষয়ে মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে।

শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে, তাকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ান। আর যদি বয়স হয় ছয় মাসের বেশি, তাহলে অল্প অল্প করে পানি, তরল ও নরম খাবার বারবার খাওয়ানো যেতে পারে।শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে শিশুকে স্যুপ দিতে পারেন। হজম করতে পারে এমন সবজি যেমন আলু, গাজর, পেঁয়াজ, আদা দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন স্যুপ। এটি শিশুর অভ্যন্তরীণ ইনফেকশন দূর করার সাথে সাথে শিশুর পেট ভরিয়ে দেবে। ২ বছরের বেশী বয়সী শিশুদের তুলসী চা, আদা চা ইত্যাদিও দেয়া যেতে পারে। এরসাথে দুই ফোঁটা বিশুদ্ধ মধু মেশাতে ভুলবেন না। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হিসেবে কাজ করবে।

জ্বরের সময় শিশুটিকে বেশি কাপড় পরিয়ে রাখবেন না। শিশুটির কাপড় কিছু ঢিলাঢালা করে দিন। কম কাপড় আপনার শিশুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করবে না, বরং তাপমাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করবে। যদি তার শীত লাগে তবে কম্বল বা লেপ জাতীয় কিছু জড়িয়ে দিন।অনেক বাবা মা শিশুর জ্বর আসলে তাকে ফ্যান থেকে দূরে রাখেন। কিন্তু ফ্যান শিশুর শরীরে তাপমাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে। তবে হ্যাঁ খুব বেশিক্ষণ শিশুকে ফ্যানের নিচে রাখবেন না। শিশুর ঘরে ফ্যান বন্ধ রাখবেন না। অল্প গতিতে ফ্যান ছেড়ে শিশুকে ফ্যানের নিচে রাখুন।

ভেজা প্রস্রাবের কাঁথা বা জামা অনেকক্ষন পড়ে থাকলে বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে, তাই কিছুক্ষণ পরপর বাচ্চা প্রস্রাব করেছে কিনা তা চেক করুন। বাইরে যাওয়া অবস্থায় অবশ্যই উচ্চ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন এবং বাচ্চার জন্য আরামদায়ক হয় এমন ডায়াপার ব্যবহার করবেন। ঘরে থাকা অবস্থায়ও যদি বাচ্চার দিকে খেয়াল রাখা সম্ভব না হয় তাহলেও ডায়াপার ব্যবহার করাই ভাল হবে।

শিশু সর্দিতে আক্রান্ত হলে, তাকে কোলে নিয়ে কখনোই ধূমপান করবেন না, এমনকি শিশুর সামনেও নয়। রান্নার ধোঁয়ায়ও তার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই রান্নার সময় রান্নাঘরের জানালা খুলে দিন বা এগজস্ট ফ্যান চালিয়ে দিন। আর শিশুকে কোলে নিয়ে রান্না করা থেকে বিরত থাকুন। যারা নিজেরা ঠান্ডার সমস্যায় ভুগছেন, তারা শিশুকে কোলে নেওয়া ও আদর করা থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে শিশুকে নিউমোনিয়ার প্রতিষেধক দিন।

শিশুকে নিয়ে কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?

যদি বাচ্চার বয়স ৩ মাসের কম হয় তবে অসুস্থতার লক্ষন দেখা দিলেই ডাক্তারের কাছে নেয়া উচিত। বিশেষ করে যদি জ্বর ১০০.৪ ডিগ্রীর উপরে থাকে বা বাচ্চার যদি কাশি হয়।যদি বাচ্চা ৩-৬ মাসের হয় তবে জ্বর ১০১ ডিগ্রীর উপরে গেলে এবং ৬ মাসের বেশী হলে ১০৩ ডিগ্রী হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

এছাড়াও যদি নিচের লক্ষন গুলো থাকে তবে যে কোন ক্ষেত্রেই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে-

  • জ্বর দুই দিনের বেশী থাকলে
  • কাশি বেড়ে গেলে, ঘন ঘন শ্বাস নিলে বা শ্বাসকষ্ট হলে। এগুলো নিউমোনিয়ার লক্ষন হতে পারে।
  • কান টানতে থাকলে বা কান ঘষতে থাকলে, দুধ খাওয়ার সময় বা শুইয়ে দিলে কান্না করতে থাকলে। এগুলো কানের ইনফেকশনের লক্ষন হতে পারে।
  • চোখ লাল ও ভেজা হয়ে থাকলে যা পিঙ্ক আয় রোগের লক্কন।
  • বাচ্চা বিরক্ত থাকলে, ঘুমের ব্যাঘাত হলে, বা খাওয়া বা ঘুমের অভ্যাস অস্বাভাবিক হয়ে গেলে।
  • ৫-৭ দিনের মধ্যে বাচ্চার অসুস্থতার উন্নতি না হয়ে অবনতি হতে থাকলে বা তার সর্দির লক্ষন ১৪ দিনের বেশী থাকলে।

বাচ্চার সর্দি প্রতিরোধে কি করা যেতে পারে?

বাচ্চার সব সর্দি আপনি প্রতিরোধ করতে পারবেন না। তবে এসব ভাইরাস থেকে দূরে রাখার জন্য আপনি কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারেন-

  • ধুলাবালি থেকে দূরে থাকা। বাইরে বের হলে মাস্ক বা নাকে রুমাল ব্যবহার করা।
  • চুলা ও সিগারেটের ধোঁয়া, মশার কয়েল থেকে শিশুদের দূরে রাখা।
  • নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা। শুধু বাচ্চাদের নয়। বাবা মা এবং আত্মীয় স্বজনদেরও বাচ্চাকে কোলে নেয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। বাচ্চার ডায়াপার পালটানোর পর এবং বাচ্চার খাবার তৈরি করার আগে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
  • স্যাঁতসেঁতে বদ্ধঘরে এই রোগ বেশি হয়, তাই আলো-বাতাসপূর্ণ পরিবেশে বাচ্চাকে রাখা।
  • বাচ্চাকে অসুস্থ মানুষজন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।
  • বাচ্চাকে হাইড্রেটেড রাখুন।

সবার জন্য শুভকামনা

Related posts

Leave a Comment