শিশুর ফুড অ্যালার্জি বা খাবারে অ্যালার্জি

শিশুর ফুড অ্যালার্জি বা খাবারে অ্যালার্জি কেন হয়?

কোন কিছু খাওয়ানোর পরে খাবারের কোন উপাদানের প্রতি বাচ্চার শরীরের প্রতিরক্ষা সিস্টেম (Immune System) যখন কোন ধরনের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং বিভিন্ন অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে যখন তা প্রতিরোধের চেষ্টা করে তখন সেটাকে ফুড অ্যালার্জি বলা হয়। খাবারের এসব উপাদান বাচ্চার শরীরের জন্য ক্ষতিকর না হওয়া সত্ত্বেও তার ইমিউন সিস্টেম এসব উপাদানের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

আরেকটু সহজ করে বলতে, যখন বাচ্চাকে এমন কিছু খাওয়ানো হয় যেগুলোর প্রতি সে অ্যালার্জিক, তৎক্ষনাৎ বা অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শরীর ইম্যুন সিস্টেমে সঙ্কেত পাঠায় তাকে প্রতিহত করার জন্য। তখন এই প্রক্রিয়ায় বাচ্চার শরীর ‘হিস্টামিন’ ও আরও কয়েক ধরনের কেমিক্যাল নিঃসরণ করে যার ফলে বাচ্চার শরীর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে, যেমন- চুল্কানি, আমবাত, র‍্যাশ, চোখের নিচে বা চারপাশে ফুলে উঠা ইত্যাদি।

আপনার বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি আছে কিনা বাচ্চাকে কোন কিছু খাওয়ানোর পরে তার শরীরের উপসর্গ গুলো দেখে বুঝে নেওয়া সম্ভব। এর প্রতিক্রিয়া এক এক বাচ্চার ক্ষেত্রে এক এক ধরনের হতে পারে।

[ আরও পড়ুনঃ শিশুর অ্যালার্জি ]

বাচ্চাদের ফুড অ্যালার্জি কতটা স্বাভাবিক স্বাভাবিক?

ছোট বাচ্চাদের ফুড অ্যালার্জি এখন খুবই কমন। জরিপ অনুযায়ী ৩ বছরের কম বয়সের প্রায় ৮% বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি রয়েছে। যদিও ফুড অ্যালার্জি তেমন বড় ধরনের কোন সমস্যা না, কিন্তু এটার স্থিতিশিলতা ধিরে ধিরে গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

আপনার পরিবারের বা বংশের কারো ফুড অ্যালার্জি বা অন্য কোন অ্যালার্জির সমস্যা ( অ্যাজমা, হে ফিভার বা একজিমা) থাকলে সেক্ষেত্রে আপনার বাচ্চারও ফুড অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যেসব বাচ্চার ৩ মাসের কম বয়সে গুরুতর একজিমা থাকে সেসব বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

অন্যভাবে বললে, বাচ্চা যত কম বয়সে এবং যত বেশি মারাত্মকভাবে একজিমায় আক্রান্ত হবে তার ফুড অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি ।

কোন খাবারে অ্যালার্জি সবচাইতে বেশি হয়

বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি যেকোনো খাবার থেকেই হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু খাবার আছে যা বেশিরভাগ বাচ্চারই অ্যালার্জিক হওয়ার জন্য দায়ী এবং সেগুলো হল- দুধ, ডিম, বাদাম, মাছ, খোলাযুক্ত মাছ (চিংড়ি মাছ) ইত্যাদি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী-

  • দুধঃ প্রায় ১.৬% থেকে ৭% শিশুর দুধে অ্যালার্জি আছে ।
  • ডিমঃ  যাদের বয়স ৩ বছরের নিচে এরকম প্রায় ২% বাচ্চার ডিমে অ্যালার্জি আছে।
  • বাদামঃ প্রায় ২% বাচ্চার বাদামে অ্যালার্জি আছে।

ফুড অ্যালার্জির লক্ষন গুলো কি কি?

কোন কিছু খাওয়ানোর পরে বাচ্চার শরীরে তাৎক্ষনিক কিছু উপসর্গ খেয়াল করে আপনার বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি আছে কিনা  তা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। উপসর্গ গুলো হল-

  • আমবাত (Hives)- মুখের চারপাশে, চোখের নিচে এমনকি সাড়া শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • নাক, সমস্ত মুখ-মণ্ডল ও চোখের চারপাশে ফুলে উঠা।
  • অতিরিক্ত হাঁচি ও চোখ লালচে হয়ে যাওয়া, নাক থেকে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া।
  • সমস্ত মুখ-মণ্ডল, গলা এমন কি সাড়া শরীরে চুলকানি ও র‍্যাস উঠা।
  • বমি বমি ভাব এমন কি ডাইরিয়াও হতে পারে।

বাচ্চার অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া যদি তীব্র হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে হাঁপানি, গলা ও জিহ্বা ফুলে উঠা, শ্বাস-কষ্ট এমন কি হঠাৎ ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়ার মত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে অ্যানাফাইলেক্সিস (anaphylaxis) বা অ্যানাফাইলেক্টিক শক ( anaphylactic shock) বলা হয়ে থাকে।

যদিও এই ধরণের তীব্র প্রতিক্রিয়া খুবই কম দেখা যায়, তবে এটা পরিলক্ষিত হলে তৎক্ষনাৎ প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে  Adrenaline Auto-Injector pen  ব্যাবহার করতে হবে (যদি ডাক্তার প্রেস্ক্রাইব করে থাকে তাহলে) এবং যত দ্রুত সম্ভব এ্যাম্বুলেন্স ডেকে নিকটস্থ শিশু হসপিটাল অথবা ক্লিনিক এ ভর্তি করাতে হবে। অন্যথায় তা বাচ্চার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াতে পারে। বাচ্চাকে এসময় বমি করানোর চেষ্টা করবেন না।

 

বাচ্চার ফুড অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেরীতে হলে কি হতে পারে?

বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানোর পর তৎক্ষনাৎ এলার্জি প্রতিক্রিয়া না দেখা দিলে তা নির্ণয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে এলার্জির উপসর্গ পরিলক্ষিত হতে বেশ কিছুক্ষণ সময় নেয় কারন এই সময়ে তার শরীরের ইমিউন সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ ধিরে ধিরে আক্রান্ত হয়। এই ধরনের অ্যালার্জিকে বলা হয় ধীরগতির অ্যালার্জি (delayed-onset বা non-IgE mediated allergies)

এই ধরনের অ্যালার্জির লক্ষন গুলো হল-

  • রিফ্লাক্স
  • কলিক
  • ডাইরিয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • রক্ত আমাশয় বা বাচ্চার মলের সাথে রক্ত বা মিউকাস যাওয়া।
  • মৃদু থেকে তীব্র একজিমা (সাধারনত যেই বাচ্চার দুধে এলার্জি আছে তাদের ক্ষেত্রে)

তবে মনে রাখতে হবে এই উপসর্গ গুলো দেখা গেলেই যে তা বাচ্চার অ্যালার্জির কারণে হচ্ছে তা নয় কারণ এইসব উপসর্গ সব বাচ্চাদেরই কম বেশি দেখা যায়।

 

কিভাবে আপনার বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি নির্ণয় করা হয়?

আপনার বাচ্চা ফুড অ্যালার্জিক হলে ভাল কোন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। বাচ্চার ফুড এলার্জি সংক্রান্ত যে যে উপসর্গ পরিলক্ষিত হয় তা খুলে বলার পর ডাক্তার ব্লাড টেস্ট (Radioallergosorbent Blood Test-RAST), স্কিন টেস্ট সহ আরও কিছু টেস্ট করতে বলতে পারেন। ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত কখনো নিজে থেকে কোন ধরনের পরিক্ষা করা উচিত নয়।

অন্যদিকে আপনার বাচ্চার যদি ধীরগতির অ্যালার্জি হয় অর্থাৎ, খাবার খাওয়ার অনেক্ষন পর অ্যালার্জি উপসর্গ পরিলক্ষিত হয় সেক্ষেত্রে ডাক্তার নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারে। যেমন-

  • খাবার খাওয়ার কতক্ষণ পর এলার্জির প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে?
  • বাচ্চাকে কোন খাবার খাওয়ানো হয়েছিল?
  • পরিবারে আর কার কোন ধরনের অ্যালার্জি আছে কি না? যেমন- একজিমা, অ্যাজমা ইত্যাদি।

এই ধরণের অ্যালার্জি কোন খাবার থেকে হচ্ছে তা নির্ণয় করার জন্য সাধারণত বাচ্চার খাবার থেকে আস্তে আস্তে একটি করে খাবার বাদ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা করা হয় কোন খাবারে তার অ্যালার্জি হচ্ছে। কোনো  খাবার সন্দেহ হলে তা ২-৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বাদ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়ার কারনে অ্যালার্জিক হয়ে থাকলে ডাক্তার মায়ের দৈনিক খাবারের প্ল্যান পরিবর্তন করতে বলবেন। আবার, আপনার বাচ্চা যদি ফর্মুলা খায় সেক্ষেত্রে ডাক্তার দুধ পরিবর্তন করার পরামর্শ দিতে পারেন।

 

বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি কি প্রতিরোধ সম্ভব?

গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়েদের খাবারের সাথে  বাচ্চার অ্যালার্জি হওয়া বা না হওয়ার সম্পর্ক আছে কিনা সেটার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাচ্চাকে অ্যালার্জি প্রতিরোধী করতে অ্যালার্জিক খাবার নিয়মিত খাওয়ানো উচিত নাকি অনুচিত সেটাও প্রমাণিত নয়।

কিছু গবেষণায় বলা হচ্ছে শিশুদেরকে খুব অল্প বয়সেই বাদাম ও ডিমের মতো খাবার খাওয়ানো শুরু করলে পরবর্তী জীবনে এসব খাবারের কারণে তাদের মধ্যে বিপজ্জনক কোনো অ্যালার্জির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

অ্যালার্জি ইউকে এর ক্লিনিকাল সার্ভিসের প্রধান আমেনা ওয়ার্নার দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, “এখন এ ব্যাপারে যথেষ্ট পরিমাণ বিজ্ঞানসম্মত সাক্ষ্যপ্রমাণই রয়েছে যে, ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বাচ্চাদেরকে খুব অল্প বয়সেই (৪-১১ মাস) বাদামযুক্ত খাবার যেমন বাদামের মাখন বা হালুয়া খাওয়ানো শুরু করা দরকার (৫ বছরের আগে আস্ত বাদাম খাওয়ানো শুরু করা যাবে না)। বিশেষ করে সেসব দেশে যেসব দেশে বাদাম অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে (যেমন যুক্তরাজ্য)। কারণ দেরিতে বাদাম জাতীয় খাবার খাওয়ানো শুরু করার ফলে পরবর্তী জীবনে বাদাম অ্যালার্জিতে আক্রান্ত ঝুঁকি কয়েকগুন বেড়ে যায়।’

মনে রাখতে হবে এই পদ্ধতি শুধুমাত্র বাদাম এবং ডিমের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্যসব অ্যালার্জিক খাবারের ক্ষেত্রে তা এখনো প্রমাণিত নয়।

যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ কর্তৃক বাচ্চার বয়স ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শুধু মাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য বলা হয়েছে। ৬ মাস পর বাচ্চাকে সাধারন অ্যালার্জি জাতিয় খাবার যেমন- গরুর দুধের তৈরি খাবার (দই, পনির ইত্যাদি), ডিম ইত্যাদি খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বাচ্চাকে সবধরনের খাবার দেয়া একসাথে শুরু করবেন না। একটি কিছুদিন খাওয়ানোর পর বাকিটা শুরু করবেন। এভাবে আপনার বাচ্চা কোন খাবারের প্রতি অ্যালার্জিক তা বের করা সহজ হবে।

সর্বোপরি, বাচ্চা যদি ফুড অ্যালার্জির উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে ( যদি গুরুতর একজিমা থাকে) তবে অ্যালার্জি উদ্রেককারী খাবার শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে প্রোবায়োটিক (Probiotic) নিলে বাচ্চার ফুড অ্যালার্জির ঝুঁকি কমতে পারে। প্রোবায়োটিক এক ধরনের উপকারি ব্যাকটেরিয়া, যা আমাদের পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে প্রতিরোধ করে। তবে এটিও এখন পর্যন্ত প্রমাণিত নয়।

মায়ের যদি বাদাম বা অন্য খাবারে অ্যালার্জি না থাকে তবে গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের এসব খাবার খেতে কোন বাঁধা নেই। এর সাথে বাচ্চার অ্যালার্জি হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।

তবে যাদের ইতিমধ্যেই বিশেষ বিশেষ খাবারের প্রতি অ্যালার্জি তৈরি হয়েছে, তাদের আর এখন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেও কোনো লাভ হবে না। অ্যালার্জি উদ্রেককারী খাবার এড়িয়ে চলাই তাদের জন্য মঙ্গলজনক।

বাচ্চা একজিমাতে সংক্রামিত হলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আপনার বাচ্চার যদি একজিমা থাকে তাহলে যথাযত ভাবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কেননা আমরা উপরের আলচনায় জেনেছি যে একজিমা ফুড এলার্জির অন্যতম প্রধান কারন। তাইএকজিমার  ব্যাপারে সতর্ক থাকা মানে ফুড এলার্জির ঝুঁকি কম থাকা। যদি আপনার বাচ্চার একজিমা নিয়ন্ত্রণে সাহাজ্যের প্রয়োজন হয় তাহলে ভাল কোন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

 

ফুড অ্যালার্জি প্রতিকার কি আদৌ সম্ভব?

এখন পর্যন্ত ফুড অ্যালার্জি পুরোপুরি ভালো করার কোন চিকিৎসা বা ওষুধ বের করা সম্ভব হয়নি। কিভাবে ফুড অ্যালার্জি প্রতিকার এবং প্রতিরোধ করা যায় তার উপর গবেষকেরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

অনেক বাচ্চার অ্যালার্জি বড় হতে হতে সেরে যেতে পারে। তবে তা নির্ভর করছে সে কোন খাবারের প্রতি অ্যালার্জিক সেটার উপর। দেখা গেছে প্রায় ৯০ ভাগ শিশু যাদের গরুর দুধে অ্যালার্জি ছিল তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে অ্যালার্জির প্রবণতা কমে গিয়েছিল। পক্ষান্তরে বাদামে অ্যালার্জি ছিল এমন শিশুদের মাত্র ১০ ভাগের ক্ষেত্রে এর প্রবণতা কমেছিল।

তবে বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি সেরে যাওয়ার পর আবার অন্য কোন ধরণের অ্যালার্জির প্রবণতা দেখা দিতে পারে যেমন- অ্যাজমা বা হে ফিভার।

ফুড অ্যালার্জি ও ফুড ইনটলারেন্স

আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দেরীতে দেখা দেয়া ফুড অ্যালার্জি ও ফুড ইনটলারেন্স ( Food Intolarance) এর মধ্যে কনফিউশনে পড়ে যাই। কোনটা ফুড অ্যালার্জি আর কোনটা ফুড ইনটলারেন্স ( Food Intolarance) তা সঠিক ভাবে না বোঝার কারনে যথাযত চিকিৎসা নিতে পারিনা। যার ফলে বাচ্চার জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

বাচ্চার মাঝে মাঝে কিছু কিছু খাবার সহ্য নাও হতে পারে। ফুড অ্যালার্জি আর ফুড ইনটলারেন্স এর মধ্যে মুল পার্থক্যটা হল, অ্যালার্জি শরীরের ইমিউন সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত। অন্যদিকে ফুড ইনটলারেন্স হয়ে থাকে মুলত বদ হজমের কারনে । এর লক্ষণগুলো হলো-

  • পেটে ব্যাথা
  • কলিক
  • পেট ফাঁপা
  • পেটে গ্যাস
  • ডায়রিয়া
  • বমি করা

বাচ্চাদের সবচাইতে কমন ইন্টলারেন্স হচ্ছে  দুধ এবং ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স। এটা সাধারত পেট খারাপ হওয়ার পরে হয়  এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

যদি মনে হয় বাচ্চার কোন খাবার সহ্য হচ্ছেনা তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা জরুরী কারণ এই লক্ষণগুলো অন্য সমস্যার কারণেও হতে পারে যেমন সিলিয়াক ডিজিজ(celiac disease) যা সাধারণ শস্যে থাকা গ্লুটেনের কারণে হয়।

 

যেভাবে বাচ্চার ফুড অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রনে রাখবেন

যদিও অ্যালার্জি প্রতিকারে এখন পর্যন্ত কোন রিসার্চে তেমন কোন সফলতা আসেনি, তারপরেও ডেইলি লাইফস্টাইল ও খাদ্যভাসে কিছুটা পরিবর্তন করে ফুড অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়। এক্ষেত্রে  অ্যালার্জি চিহ্নিত করার পর ডাক্তার অথবা ডায়েটিয়ান এর পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চার দৈনিক খাবার তালিকা থেকে অ্যালার্জেন খাবার গুলো বাদ দিতে হবে।

বাচ্চার যদি মৃদু অ্যালার্জি থাকে, যেমন- ডিমে, সেক্ষেত্রে ডিম দিয়ে রান্না করা খাবারে তার সমস্যা নাও হতে পারে। কিন্তু যদি বাচ্চার তীব্র অ্যালার্জি থাকে তবে সে ধরণের খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময় বাচ্চার প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment