শিশুর জ্বর সম্পর্কে যে ৭টি বিষয় হয়ত আপনার জানা নেই

Last Updated on

শিশুর মলদ্বারের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা তার থেকে বেশি হলে সেটাকে জ্বর বলে ধরা হয় 

আপনার শিশুর হয়ত ঘুম ভেঙ্গে যাবে জ্বরের কারণে, আর আপনি দেখবেন তাপমাত্রার কারণে তার গাল রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। আর তখন ডিজিটাল থার্মোমিটারের মাধ্যমে আপনি তার মলদ্বারের তাপমাত্রা পরিমাপ করে দেখলেন তাপমাত্রা দেখাচ্ছে ৯৯.৯৯ ডিগ্রি।

এমনটা দেখার সাথে সাথেই কি আপনি শিশুকে ওষুধ খাওয়াবেন অথবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন? হয়ত না… আদতে এমন তাপমাত্রাকে সাধারণত জ্বর বলে আমরা আখ্যায়িত করিনা। কেননা একদম নবজাতকের ক্ষেত্রেও মলদ্বারের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত কম থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত একে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বলে ধারণা করা হয়।

ঠিক প্রাপ্তবয়স্কের মতই শিশুদের শরীরের তাপমাত্রাও শারীরিক শ্রম, গোসল, অতিরিক্ত জামা কাপড় পরিধান করা সহ অনেক কারণেই বাড়তে পারে। এমনকি সময় ভেদেও তাপমাত্রার মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত করা যায়। যেমন পরন্ত বিকেলের দিকে তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে এবং ভোর সকালে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকতে পারে। আর তাই যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর মলদ্বারের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি অথবা তার থেকে কম থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে আপনার শিশুর কোন জ্বর নেই।

মনে রাখবেনঃ হিট-স্ট্রোককেও জ্বর ভেবে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে যান। আর এমনটা হয় যখন শরীরের তাপমাত্রা বিপদজনক ভাবে বেড়ে যায় (গরম আবহাওয়ার মধ্যে শিশুকে অতিরিক্ত জামা কাপড় পড়ালেও এমনটা হয়ে থাকে)। আর তাই যখন আবহাওয়া বেশ গরম তখন আপনার শিশুকে হালকা জামা কাপড় পরিধান করান।

[ আরও পড়ুনঃ শিশুর জ্বর । কখন স্বাভাবিক, কখন নয় ]

মলদ্বারের মাধ্যমে তাপমাত্রা মাপলে বেশীরভাগ সময় তা নির্ভুল হয়

আপনার হয়ত শিশুর মলদ্বারের মাধ্যমে তাপমাত্রা পরিমাপ করতে তেমন একটা ইচ্ছে করে না তবে শিশুর বয়স যদি তিন বছরের থেকে কম হয় তাহলে এভাবে তাপমাত্রা মাপলেই আপনি একদম নির্ভুল তাপমাত্রাটি পেয়ে যাবেন। (কখনই কাঁচের তৈরি থার্মোমিটার ব্যবহার করবেন না, কেননা সেটি কোন কারণে ভেঙ্গে গেলে থার্মোমিটারের ভেতরে থাকা পারদ আপনার শিশুর শারীরিক ক্ষতি করতে পারে)।

নিউ জার্সি’র একজন ইমারজেন্সি রুম ফিজি-শিয়ান টায়িস গেইন্স বলেন, মলদ্বারের মাধ্যমে তাপমাত্রা পরিমাপ করলেই কেবল একদম সঠিক ও নির্ভুল তাপমাত্রাটি পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, বগলের নিচে তাপমাত্রা পরিমাপ, কপালের তাপমাত্রা পরিমাপ এমনকি কানের তাপমাত্রা পরিমাপও সবসময় একদম নির্ভুল হয় না।

অন্যান্য ধরনের থার্মোমিটার মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত বেশি অথবা কম তাপমাত্রা দেখাতে পারে। আর তাই রেক্টাল ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার না করলে আপনি হয়ত মাঝেমধ্যে বুঝতেই পারবেন না যে আপনার শিশুর জ্বর হয়েছে অথবা ভুল পরিমাপের কারণে অনেক বেশি জ্বর ভেবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠবেন এবং অযথাই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চলে যাবেন।

ব্যাকটেরিয়া জনিত জ্বর নাকি ভাইরাস জনিত কারণে জ্বর এসেছে? পার্থক্য নির্ধারণ করাটা জরুরী

লিটল রক, আরকানসাস চিলড্রেন হাসপাতালের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ক্যারি ব্রাউন এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, ভাইরাস জনিত কারণে তখনই জ্বর আসে যখন আপনার শিশু ভাইরাস জনিত কোন অসুখের সাথে লড়ছে। হতে পারে সেটা শরীরের অভ্যন্তরীণ কোন ধরনের ইনফেকশন, ফ্লু অথবা সাধারণ সর্দি জ্বর। ভাইরাস জ্বরে শিশুকে এন্টি বায়োটিক খাওয়ানোর কোন প্রয়োজন নেই, কেননা এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের উপর কোন ধরনের প্রভাব বিস্তার করে না। এ ধরণের জ্বর সাধারণত তিন দিনের ভেতর কমে আসে।

অপরদিকে, ব্যাকটেরিয়া জনিত ইনফেকশনের কারণে যদি জ্বর আসে যেমন কানের ইনফেকশন (তবে কানের ইনফেকশন ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস উভয়ের কারণেই হতে পারে), প্রস্রাবের ইনফেকশন ইত্যাদি। ব্যাকটেরিয়ার কারণে জ্বর আসাটা ভাইরাস জনিত কারণে জ্বর আসার মত প্রায়শই দেখা যায় না এবং ব্যাকটেরিয়ার কারণে জ্বর আসলে আর সেটার চিকিৎসা না করলে বড় ধরনের কোন অসুখে ভোগার সম্ভাবনা থাকে। তাই এটা ভাইরাস থেকে একটু বেশি উদ্বেগের কারণ। ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণে জ্বর আসলে তখন সারিয়ে তোলার জন্য ডাক্তাররা সাধারণত এন্টি-বায়োটিক প্রদান করেন।

নিম্ন বর্ণিত অবস্থার সাথে যদি মিলে যায়, তাহলে আপনার শিশু যাতে করে সঠিক চিকিৎসা পায় সেটা নিশ্চিত করার জন্য অতি দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হনঃ

  • আপনার শিশুর বয়স যদি তিন মাস থেকে ছোট হয় এবং তার মলদ্বারের তাপমাত্রা যদি ১০০.৪ ডিগ্রি থেকে বেশি হয়।
  • আপনার শিশু যদি ২ বছর থেকে ছোট হয় এবং তার জ্বর ২৪ ঘণ্টা অতিক্রম করে
  • আপনার শিশুর বয়স যদি ২ বছর অথবা তার থেকে বেশি হয় এবং তার জ্বর তিনদিন অতিক্রম করে।
  • আপনার শিশুর জ্বর যদি ১০৪ ডিগ্রি অতিক্রম করে তাহলে সে যে বয়সীই হোক না কেন অতি সত্বর ডাক্তারের শরণাপন্ন হন

৩ মাস থেকে কম বয়সী শিশুর জ্বরের ক্ষেত্রে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরী

আমেরিকান একাডেমী অফ পেডিয়াট্রিক্স এর মতে ৩ মাস অথবা তার থেকে কম বয়সী শিশুর মলদ্বারে তাপমাত্রা পরিমাপ করে যদি ১০০.৪ ডিগ্রি থেকে বেশি পাওয়া যায় তাহলে অতি শীঘ্রই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।

শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করুন, উনাকে জানান যে আপনার তিন মাসের কম বয়সী শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত। যদি আপনার শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে এই মুহূর্তে যোগাযোগ করতে না পারেন তাহলে অতি শীঘ্রই যে কোন হাসপাতালের জরুরী বিভাগে শিশুকে নিয়ে যান, হোক সেটা একদম মধ্যরাতে! তবুও দেরী করবেন না। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত আপনার শিশুকে কোন ধরনের ওষুধ খাওয়াবেন না, কেননা এতে করে শিশুর শারীরিক লক্ষণগুলো ডাক্তার দেখার আগেই সাময়িক ভাবে দূরভীত হয়ে যেতে পারে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ব্রাউন এ সম্পর্কে বলেন, শিশুর জ্বর হলে তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুটি কারণ রয়েছে। প্রথম কারণ হল, রক্ত প্রবাহ এবং সেন্ট্রাল নার্ভ সিস্টেমের মধ্যে কোষের প্রতিরক্ষামূলক স্তরটি এ বয়সী শিশুদের একদম পাতলা থাকে। আর ঠিক এই কারণেই ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন হলে, ব্যাকটেরিয়া অল্প বয়সী শিশুর খুব দ্রুত ক্ষতি সাধন করতে পারে।

এছাড়াও বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে যতটা দ্রুত ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায় ততটা দ্রুত কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। কোন ধরনের লক্ষণ ছাড়াই একটা ছোট শিশুর ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে।

তবে যদি ভাইরাস জনিত জ্বর হয় তবে ইনফেকশনের জন্য অতটা উদ্বিগ্ন না হলেও হবে। তবে সমস্যা হল একটাই, সেটা হল সাধারণ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এটা নির্ণয় করা খুবই কঠিন যে শিশুর কি ভাইরাস জ্বর হয়েছে নাকি ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন জনিত জ্বর হয়েছে।  আর তাই নবজাতক শিশুর যখন জ্বর হবে তখন সেটা কি ব্যাকটেরিয়া জনিত ইনফেকশনের কারণে জ্বর হয়েছে কি না সেটা পরীক্ষার জন্য তার রক্ত, প্রস্রাব, এক্স-রে এবং মল পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে। (শিশু বিশেষজ্ঞ আপনার শিশুর বয়স এবং লক্ষণ বিচার বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা করাতে বলবেন)

এছাড়া নবজাতক শিশুর খুবই বিরল কিন্তু সিরিয়াস ধরনের ইনফেকশন Meningitis (মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কর্ড এর মধ্যকার আবরণের ইনফেকশন এবং প্রদাহ) এর পরীক্ষা করার জন্য শিশুর স্পাইনাল ট্যাপ নামক পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে। 

জ্বরের কত তাপমাত্রা সেটা মুখ্য নয় বরং তার কি কি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে সেটাই জরুরী

অনেক বাবা মায়েদের ধারনা শিশুর জ্বরের তাপমাত্রা যত বেশি, তাদের শিশুটিও ঠিক ততটাই অসুস্থ, তবে সবসময়েই ব্যাপারটা যে ঠিক এমন, তা নয়। ১০৩ তিন ডিগ্রি জ্বর নিয়েও দেখা যেতে পারে একটা শিশু একদম স্বাভাবিক ভাবে খেলাধুলা করছে আবার ১০১ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও একটা শিশু একদম কাহিল হয়ে যেতে পারে।

তবে কি ব্যাপারটা এমন দাঁড়াচ্ছে যে, আপনার শিশু যদি জ্বর নিয়েও একদম স্বাভাবিক থাকে তাহলে তার জ্বর কমানোর জন্য কোন ধরনের ওষুধের প্রয়োজন নেই? শিশু বিশেষজ্ঞ জ্যানিস সুলিভান এর মতে, ঠিক তাই! শিশু যদি অস্বস্তির মধ্যে থাকে এবং তার মধ্যে যদি কোন ধরনের রোগের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন, উচ্চ তাপমাত্রা নিয়েও যদি শিশু একদম স্বাভাবিক থাকে তাহলে খুব একটা উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

মনে রাখবেন, শরীরকে ইনফেকশনের মোকাবিলা করার জন্য জ্বর সাহায্য করে। জ্বর শরীরকে জীবাণুর থাকার জন্য অসহিষ্ণু জায়গা হিসেবে তৈরি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে শ্বেত রক্ত কণিকার কথা, যেটা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করে।

শিশু ঠিক কতটা অসুস্থ সেটা নির্ণয় করার জন্য তার মধ্যে কি কি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন এবং সেই লক্ষণ অনুসারে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।   

জ্বর আমাদের শরীরের খুবই স্বাভাবিক একটা প্রতিক্রিয়া

জ্বর সম্পর্কে আপনি যাই শুনে থাকেন না কেন, জ্বরের কারণে আপনার শিশুর মস্তিষ্কে কোন ধরনের ক্ষতি সাধন হয় না। শিশু বিশেষজ্ঞ গেইন্স বলেন, আদতে জ্বর শরীরের কোন প্রকার ক্ষতি করে না। এমনকি জ্বরের কারণে febrile seizures এর ফলে শরীরে যে তাৎক্ষনিক কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায় সেগুলোও বেশিরভাগ সময় শরীরের কোন ক্ষতি করে না। (তবে seizures এর সময় শিশু মাঝে মধ্যে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার সময় লালা ও বমি ভেতরে চলে যেতে পারে. এর কারণে aspiration pneumonia হতে পারে। এছাড়া শক্ত কোন কিছুতে পড়ে গিয়ে শিশু আঘাত পেতে পারে)। জ্বর কমানোর ওষুধের মাধ্যমে জ্বর হয়ত কমানো যায় তবে febrile seizure হওয়া থেকে বিরত রাখা যায় না।

যখন জ্বরাক্রান্ত শিশুকে নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তখন মনে রাখবেন জ্বর হওয়া মানে কিন্তু এই যে, আপনার শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিকমত কাজ করছে। হ্যাঁ! ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা খুবই জরুরী, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর সামান্য জ্বর নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।

শিশু বিশেষজ্ঞ গেইন্স এ সম্পর্কে বলেন, ভাইরাস জনিত ইনফেকশনের কারণে হোক অথবা ব্যাকটেরিয়া জনিত ইনফেকশনের কারণে হোক অথবা টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে হোক, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। আর তাই এজন্য উদ্বিগ্ন হবেন না বরং এটা ভাবুন যে আপনার শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক ভাবে কাজ করছে।

বিচক্ষণতার সাথে ওষুধ ব্যবহার করুন

ibuprofen এর মত ওষুধ (৬ মাস বা তার বেশি বয়সী শিশুর জন্য ) এবং acetaminophen সাময়িক ভাবে জ্বর কমিয়ে নিয়ে আসে এবং শরীরের অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। তবে এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করার পূর্বে শিশুকে স্পঞ্জ দিয়ে গা মুছিয়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করুন। হালকা কুসুম গরম পানি (৮৫-৯০ ডিগ্রি) ব্যাবহার করে শিশুর শরীর মুছে দিন, বিশেষ করে কপাল এবং বগলে। এই উপায়গুলো আশ্চর্যজনকভাবে বেশ কাজে দেয়।

এছাড়া শিশু যাতে পানি শুন্যতায় না ভুগে সেদিকে লক্ষ্য রাখার মাধ্যমেও শিশুকে একটু ভালো অনুভব করানো সম্ভব, আর তাই শিশুকে বেশি করে বুকের দুধ অথবা ফরমুলা দুধ খাওয়ান।

এছাড়া শিশুকে হালকা জামা কাপড় পরিধান করানোর মাধ্যমে শিশুর জন্য পরিবেশকে স্বাচ্ছ্যন্দকর করে রাখা যায়। উদাহরণ হিসেবে আরো একটি বিষয় বলা যায়, সেটা হল আপনার শিশুর রুমটি যদি গরম এবং বাতাস কম চলাচল করে তাহলে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাসের জন্য একটা ফ্যান চালিয়ে রাখতে পারেন।

আপনার শিশু যদি তারপরেও অস্বস্তির মধ্যে থাকে, তাহলে জ্বর নিয়ন্ত্রক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুর বয়স যদি তিন মাসের কম হয় তাহলে কোন অবস্থাতেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে জ্বর নিয়ন্ত্রক ওষুধ দিবেন না। এছাড়া যখনই শিশুকে জ্বর নিয়ন্ত্রক ওষুধ দিবেন তখন নিম্নের এই নিরাপদে থাকার নির্দেশিকা অনুসরণ করবেনঃ

  • আপনার শিশুর বয়স যদি ২ বছরের কম হয় তাহলে সঠিক পরিমাণ ওষুধের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করুন।
  • আপনার শিশুর বয়স যদি ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে হয় তাহলে আপনি তাকে acetaminophen দিতে পারেন তবে ibuprofen ব্যাবহার করা যাবে না।
  • আপনার শিশুর বয়স ছয় মাস হওয়ার পর থেকে বেশির ভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই acetaminophen অথবা ibuprofen এর যে কোন একটা ব্যবহার করা যায়।
  • ওষুধের পরিমাণ নির্ধারণ হয় শিশুর ওজনের উপর নির্ভর করে, বয়সের উপর নয়।
  • শিশুকে কখনো এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দিবেন না, কেননা এটা ব্যবহারের মাধ্যমে reye’s syndrome নামক একটা প্রাণঘাতী কিন্তু বিরল অসুখ হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমী অফ পেডিয়াট্রিক্স এর মতে, আপনার শিশু যদি শান্তিতে ঘুমায় তাহলে তাকে জ্বরের ওষুধ খাওয়ানোর জন্য জাগানোর দরকার নেই। শিশুকে ঘুমাতে দিন—এবং আপনি নিজেও বিশ্রাম নিয়ে নিন।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts