গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টাজনিত কি কি জটিলতা দেখা দিতে পারে?

প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল কি?

প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল একটি ফুল আকৃতির অঙ্গ যা গর্ভাবস্থায় মায়েদের জরায়ূর ভেতরে লেগে থাকে এবং সন্তানের সাথে মায়ের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এটি গর্ভের শিশুর রক্তসঞ্চালনকে মায়ের রক্তসঞ্চালন থেকে পৃথক রাখে। গর্ভের শিশুর শরীর যে সমস্ত কাজের জন্য উপযোগী হয়ে উঠে না, গর্ভফুল সে কাজগুলি তার হয়ে করে থাকে। শিশুর সাথে এটি নাড়ির মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে।

প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) হলো মাতৃগর্ভে শিশুর সুরক্ষা বা সাপোর্ট সিস্টেম। প্লাসেন্টা কোনো কারনে ঠিকভাবে কাজ না করলে শিশুর  স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  প্লাসেন্টা  গর্ভের সন্তানকে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান সরবরাহ করে এবং শিশুর রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি জরায়ুর দেয়াল সংলগ্ন একটি চ্যাপ্টা ও কিছুটা গোলাকৃতির অঙ্গ যা  শিশুর নাড়ী (আম্বিলিক্যাল কর্ড) এর মাধ্যমে ভ্রুনের সাথে সংযুক্ত থাকে।

প্লাসেন্টা বা গর্ভফুলের কাজ কি?

মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে পুষ্টি উপাদান পরিবহন করে:

অক্সিজেন ও খাদ্য মায়ের রক্ত থেকে র্গভফুলে স্থানান্তরিত হয়। সেখান থেকে নাড়ির মাধ্যমে অক্সিজেন ও খাদ্যকে তা শিশুর কাছে পৌঁছে দেয়।

শিশুর শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ সরিয়ে ফেলে:

শিশুর শরীরে সৃষ্ট বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ যেমন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নাড়ির মাধ্যমে গর্ভফুলে ফেরত যায় এবং সেখান থেকে মায়ের রক্তপ্রবাহে চলে যায়, যেন মায়ের শরীর তা বের করে ফেলতে পারে।

হরমোন:

গর্ভফুল বিবিধ হরমোন তৈরি করে যা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।

সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে:

শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় গর্ভফুল সংক্রমণ থেকে শিশুকে রক্ষা করে থাকে। অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া থেকে এটি শিশুকে রক্ষা করতে পারে। তবে এটি ভাইরাসের হাত থেকে শিশুকে রক্ষা করতে পারে না। যেমন, মা যদি (র্জামান মিজেল্স) এ আক্রান্ত হয়ে থাকে, আর মায়ের শরীর যদি রুবেলা ভাইরাস প্রতিরোধী না হয়ে থাকে তবে সেটা গর্ভফুল অতিক্রম করে শিশুর শরীরে চলে যেতে পারে এবং তা গর্ভপাত, মায়ের গর্ভে মৃত্যু, প্রসবকালীন শিশু মৃত্যু, জন্ম ত্রুটি যেমন বধিরতা, মস্তিষ্কের ক্ষতি, হৃৎপিন্ডে সমস্যা, চোখের ছানি প্রভৃতি সমস্যা নিয়ে শিশু জম্মগ্রহণ করতে পারে।

অ্যান্টিবডির জন্য পথ করে দেয়:

গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে গর্ভফুল মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে এন্টিবডি যাবার জন্য পথ করে দেয়, এটি জন্মের পর প্রায় তিন মাস পর্যন্ত শিশুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে। তবে এটি কেবল সেসব অ্যান্টিবডিই পারাপারের ব্যবস্থা করে যা মায়ের শরীরে থাকে।

গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টাজনিত কি কি সমস্যা হতে পারে?

গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা জনিত যে সমস্যাগুলো সবচাইতে বেশী দেখা যায় সেগুলো হোল-

  • প্লাসেন্টা প্রিভিয়া
  • প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা
  • প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন
  • প্লাসেন্টাল ইনসাফিশিয়েন্সি

প্লাসেন্টাজনিত যে কোন সমস্যাই গর্ভাবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং তা মা শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

প্লাসেন্টা প্রিভিয়া

বেশিরভাগ গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা জরায়ুর শীর্ষভাগে অথবা পাশে অবস্থান করে । কিন্তু গর্ভফুলটি যদি জরায়ুর একদম নিচের দিকে বা জরায়ুমুখে লেগে থাকে, তাহলে এই মেডিকেল কন্ডিশনকে প্লাসেন্টা প্রিভিয়া বা লো লায়িং প্লাসেন্টা বলে। প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার ক্ষেত্রে গর্ভের সন্তানের মাথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপরের দিকে বা আড়াআড়ি থাকতে দেখা যায় , এ অবস্থানকে  বলা হয় ব্রীচ পজিশন। এবং এ সমস্যায় সাধারণত গর্ভবতী নারীরা স্পটিং  বা হালকা থেকে ভারী রক্তপাতের সম্মুখীন হয়ে থাকেন। কিন্তু এ রক্তপাতের সময় কোন ব্যথা অনুভূত হয় না এবং রক্তের রং থাকে উজ্জ্বল লাল।

যদি প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল জরায়ুর পুরো মুখ জুড়ে থাকে তবে তাকে টোটাল বা কমপ্লিট  প্রিভিয়া বলে। যদি তা জরায়ুর মুখ আংশিক বন্ধ করে রাখে তাহলে সেটাকে বলা হয় মারজিনাল প্রিভিয়া বা পারসিয়াল প্রিভিয়া (যদি জরায়ুমুখের ২ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকে গর্ভফুলটি, কিন্তু জরায়ুমুখকে ঢেকে রাখেনি, এই সমস্যাকে বলা হয় লো লায়িং প্লাসেন্টা )আপনার প্লাসেন্টার অবস্থান সাধারণত গর্ভধারণের ১৬ থেকে ২০ সপ্তাহের আলট্রাসাউন্ড এর সময় পরীক্ষা করা হয়।

প্লাসেন্টা প্রিভিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা

প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা এমন একটি কন্ডিশন যাতে প্লাসেন্টা জরায়ুর দেয়ালের অনেক গভীরে সংযুক্ত থাকে। প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা থাকলে তা প্রসবের সময় সহজে জরায়ু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়না এবং এতে অনেক রক্তক্ষরণ হতে পারে। জরায়ুর দেয়ালের কতটা গভীরে বিস্তৃত তার উপর ভিত্তি করে এই কন্ডিশনকে তিন ধরনের নাম করন করা হয়েছে-

  • প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা- এ ক্ষেত্রে প্লাসেন্টা জরায়ুর দেয়ালের গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে কিন্তু জরায়ুর পেশী ভেদ করে যায়না।
  • প্লাসেন্টা ইনক্রিটা- এ ক্ষেত্রে প্লাসেন্টা জরায়ুর পেশী ভেদ করে যায়।
  • প্লাসেন্টা পারক্রিটা- এ ক্ষেত্রে প্লাসেন্টা জরায়ুর পেশী ভেদ করে বেড়িয়ে যেতে পারে এবং অন্য অঙ্গ যেমন ব্লাডার এর সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে।

তবে প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা সবচাইতে কমন এবং আনুমানিক প্রতি ২৫০০ মায়ের মধ্যে ১ জনের এ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সবচাইতে উদ্বেগের বিষয় হোল এর হার দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং গবেষণায় সি-সেকশনের বৃদ্ধির হারকেই এর প্রধান কারণ বলা হচ্ছে।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্লাসেন্টা অ্যাকরিটার কোন লক্ষন বা উপসর্গ দেখা দেয়না। আপনি হয়ত সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু জানতেই পারবেন না। মাঝে মাঝে আলট্রাসাউন্ডে এর লক্ষন ধরা দিতে পারে। তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে যোনিপথে রক্তক্ষরণও এর লক্ষন হতে পারে। তাই তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে রক্তক্ষরণ হলে অতিসত্বর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আপনার চিকিৎসক যদি প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা সন্দেহ করেন তবে এর অবস্থান এবং গভীরতা জানার জন্য আপনাকে আলট্রাসাউন্ড ও MRI  করার পরামর্শ দেয়া হবে। পরীক্ষাগুলো ব্যাথাহীন এবং গর্ভের শিশুর জন্য নিরাপদ।রক্তে আলফা-ফেটোপ্রটিনের পরিমাণ দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে। গর্ভস্থ শিশু এ প্রোটিন উৎপাদন করে এবং প্লাসেন্টা অ্যাকরিটার ক্ষেত্রে সাধারণত এর পরিমাণ বেড়ে যায়।

প্লাসেন্টা অ্যাকরিটার ক্ষেত্রে বেশীরভাগ সময় নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বাচ্চা প্রসবের প্রয়োজন হয়ে দাড়ায়। এছারাও আরও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা হলে প্লাসেন্টা সন্তান প্রসবের পর সহজে জরায়ু থেকে আলাদা হয়না। এটি আলাদা করার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে যাতে মৃত্যু ঝুঁকিও থাকে। এ সময় জরায়ু বা শরীরের অন্য অঙ্গের ক্ষতি হওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে  পুরো জরায়ু কেটে ফেলার প্রয়োজন পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে আর কোন গর্ভধারণ করা সম্ভব হয়না।

প্লাসেন্টা অ্যাকরিটা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন

গর্ভকালীন বা সন্তান প্রসবের পূর্বে অনেক সময় প্লাসেন্টা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে জরায়ুর দেয়াল থেকে আলাদা হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যেতে পারে।  এ অবস্থার সৃষ্টি হলে শিশুর শরীরে অক্সিজেন ও পুষ্টির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এর কারণে অতিরিক্ত রক্তপাত ঘটতে পারে যা মা ও শিশু দুজনের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশনের কারণে বাচ্চার বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি এর মাত্রা বেশী হয় তবে প্রি-ম্যাচিউর (অপরিনত)  সন্তান প্রসব এমনকি গর্ভে সন্তানের মৃত্যু ও ঘটতে পারে।প্রতি ১৫০ জন গর্ভবতী মহিলার মধ্যে একজনের এ সমস্যা হতে পারে।  যদিও তৃতীয় ট্রাইমেস্টার বা গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এ সমস্যাটি ঘটার আশঙ্কা বেশী থাকে। তবে ২০ সপ্তাহের পরে যেকোনো সময় তা হতে পারে।

প্রতি ১০টি  অ্যাবরাপশনের ৮ টির ক্ষেত্রেই যোনিপথে রক্তক্ষরণ হতে পারে। রক্তক্ষরণের পরিমাণ অল্পও হতে পারে বা প্রকট আকারেও দেখা দিতে পারে। রক্ত কখনো উজ্জ্বল লাল আবার কখনো গাঁড় বর্ণের হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যোনিপথে রক্তক্ষরণ নাও দেখা যেতে পারে। সেসব ক্ষেত্রে রক্ত প্লাসেন্টার পেছনে জরায়ুতেই রয়ে যায়। এমনটা হলে আপনি কোমরের পেছনে এবং পেটে ব্যাথা অনুভব করবেন। ১০ টির মধ্যে ৭ টির ক্ষেত্রেই জরায়ু স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে  এবং ব্যাথা অনুভূত হয়।

প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

প্লাসেন্টাল ইনসাফিশিয়েন্সি

প্লাসেন্টাল ইনসাফিশিয়েন্সি হলো এমন একটি কন্ডিশন যখন প্লাসেন্টা গর্ভের শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে পারেনা। প্লাসেন্টা ঠিকভাবে গঠিত না হলে এমনটা হয়। এর কারণে ভ্রুনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং কম ওজনের বাচ্চার জন্ম হতে পারে। মায়ের রক্ত বা রক্তনালী সম্পর্কিত কোন সমস্যা থাকলে এ ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে তবে মায়ের জীবন যাপন পদ্ধতি এবং শারীরিক কোন সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে, যেমন-

  • ডায়াবেটিস
  • দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ
  • রক্ত জমাট বাঁধা
  • রক্তশূন্যতা
  • কিছু কিছু ওষুধের কারণে
  • মায়ের ধূমপান বা ড্রাগের অভ্যাস থাকলে।

প্লাসেন্টাল ইনসাফিশিয়েন্সির তেমন কোন লক্ষন দেখা যায়না। তবে কিছু কিছু বিষয়ে সন্দেহ হলে ডাক্তারকে জানানো উচিত। এ ধরনের জটিলতা থাকলে মায়ের জরায়ুর আকার ছোট থাকতে পারে। এবং গর্ভের বাচ্চার নড়াচড়াও কম হতে পারে। বাচ্চা ঠিকমতো বেড়ে উঠতে না পারলে মায়ের পেটের আকারও ছোট হবে এবং বাচ্চার নড়াচড়াও তেমন একটা অনুভূত হবেনা। প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশনের কারণে যদি এটা হয় তবে যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে।

প্লাসেন্টাল ইনসাফিশিয়েন্সি সাধারনত মায়ের জন্য প্রাণঘাতী হয়না। তবে মায়ের যদি উচ্চরক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকে তবে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে তা হলো-

গর্ভাবস্থায় যত আগে প্লাসেন্টাল ইনসাফিশিয়েন্সি দেখা দেয় ততই তা বাচ্চার জন্য ভয়ঙ্কর হবে। এর ফলে বাচ্চার যে ঝুঁকিগুলো থাকে তা হোল-

  • বাচ্চার অক্সিজেন সরবরাহ কম হতে পারে।
  • বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা কম হতে পারে (হাইপোথারমিয়া)
  • ব্লাড সুগারের লেভেল কম হতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
  • রক্তে ক্যালসিয়াম কম থাকতে পারে (হাইপোক্যালসেমিয়া)
  • অতিরিক্ত লোহিত রক্ত কণিকা থাকতে পারে (পলিসাইথেমিয়া)
  • সময়ের আগেই প্রসব যন্ত্রণা
  • ভ্রুনের মৃত্যু

গর্ভাবস্থায় যথাযথ চেকআপের মাধ্যমে প্রথমদিকেই এ সমস্যা নির্ণয় করা যায়। এর ফলে মা এবং বাচ্চার ঝুঁকি কমানো যায়। এক্ষেত্রে বাচ্চাকে নিয়মিত মনিটরিং এ রাখা হয় এবং কোন ধরনের জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়।

প্লাসেন্টাজনিত জটিলতা প্রতিরোধের উপায় কি?

প্লাসেন্টার সমস্যা সরাসরি প্রতিরোধের কোন উপায় নেই। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করে এবং নিয়মের মধ্যে থেকে আপনি এর ঝুঁকি কমাতে পারেন। যেমন- ধূমপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহন থেকে বিরত থাকুন। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং তা নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করুন।

গর্ভাবস্থায় এমন সব কাজকর্ম করা থেকে বিরত থাকুন যাতে শরীরে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং আগে প্লাসেন্টা জনিত সমস্যা হয়েছে তার গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করবেন এবং নিয়মিত চেক আপে থাকবেন।সঠিক জীবন যাপন পদ্ধতি এবং ডায়েট মেনটেইন করে এসব ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায়। যেমন নিয়মিত ফলিক এসিড গ্রহন করা, নিয়মিত ঘুম ইত্যাদি।

আমাদের দেশের অনেক মায়েরাই গর্ভাবস্থার এসব জটিলতা সম্পর্কে জানেন না। তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। একটুখানি সচেতনতায় অনেকগুলো জীবন রক্ষা পেতে পারে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment