হাইপোথাইরয়েডিজম। গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা

Updated on

হাইপোথাইরয়েডিজম কি?

হাইপোথাইরয়েডিজম হল এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যে অবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ হরমোন উৎপাদন করতে সক্ষম হয় না। কখনো কখনো এই অবস্থাকে আনডার অ্যাক্টিভ থাইরয়েড (underactive thyroid) ও বলা হয়ে থাকে।

থাইরয়েড হল ঘাড়ের সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির একটি গ্রন্থি, যেটা triidothyronine (T3) এবং thyroxine (T4) নামক দুই ধরনের হরমোন উৎপন্ন করে থাকে। এই দুই ধরনের হরমোন শরীরের পাকযন্ত্রের গতি ও প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আপনার পাকযন্ত্র মূলত ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ক্যামিকেল প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার গ্রহণ করা খাবার থেকে আপনার বেঁচে থাকার জন্য, শরীর পরিচালনা করার শক্তি উৎপন্ন করে থাকে।

গর্ভাবস্থায় আপনার শরীর T3 এবং T4 নামক এই দুই হরমোন পূর্বের তুলনায় শতকরা পঞ্চাশ ভাগ বেশি উৎপন্ন করে, কেননা গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গর্ভকালীন সময়ে আপনার থাইরয়েড যদি স্বাভাবিক এবং সুস্থ থাকে তাহলেই কেবল হরমোনের এই অতিরিক্ত প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। কিন্তু আপনার যদি গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম থাকে তাহলে আপনাকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি সিনথেটিক হরমোন গ্রহণ করতে হবে।

প্রতি একশন জন মানুষের মধ্যে ২ থেকে ৩ জনের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তবে এই সমস্যাটি সাধারণত নারীদের মধ্যেই বেশি  হয় বলে জানা যায়। গর্ভধারণ করার আগ পর্যন্ত আপনি হয়ত জানতেও পারবেন না যে আপনার হাইপোথাইরয়েডিজম রয়েছে।

আবার কখনো আপনার শরীর প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করে থাকে। ডাক্তারি ভাষায় এই ধরনের সমস্যাকে হাইপারথাইরয়েডিজম (hyperthyroidism) অথবা ওভার রিয়েকটিভ থাইরয়েড বলা হয়।

হাইপোথাইরয়েডিজম এর লক্ষণগুলো কি?

আপনার থাইরয়েড গ্রন্থি যদি প্রয়োজন অনুসারে হরমোন উৎপন্ন না করতে পারে তাহলে আপনার শরীর একটু স্থবির হয়ে যাবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, আপনার হয়ত মনে হতে পারে আপনি আগের মত দ্রুত চিন্তা করতে পারছেন না অথবা দ্রুত চলাফেরা করতে পারছেন না। হাইপোথাইরয়েডিজমের অন্যান্য কিছু লক্ষণগুলো সম্পর্কে নিম্নে বর্ণনা করা হলঃ

  • অবসাদ
  • ঠাণ্ডা লাগা
  • শুষ্ক ত্বক
  • মুখ ফুলে উঠা
  • বিষণ্ণতা
  • পেশীতে খিল ধরা
  • হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা
  • ওজন বৃদ্ধি
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • চুল পড়ে যাওয়া
  • ঘাড়ের সামনের দিকে ফুলে ওঠা

এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যার কারণে অতিরিক্ত ও অনিয়মিত মাসিক হতে পারে অথবা শরীরের উর্বর ক্ষমতা কমে আসতে পারে। আর তাই আপনার যদি গর্ভধারণ নিয়ে কোন ধরনের জটিলতায় ভুগে থাকেন, তাহলে ডাক্তার আপনার থাইরয়েডের উপর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন যে সমস্যাটি থাইরয়েড জনিত কি না।

বেশীরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই থাইরয়েডের লক্ষণগুলো খুব ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায়। কয়েক মাস ধরে এমনকি কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে থাইরয়েডের সমস্যার লক্ষণগুলো প্রকট হয়ে উঠতে পারে। আর থাইরয়েডের সমস্যার লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ, তাই এই লক্ষণগুলো নিয়ে সবার মধ্যে অতটা উদ্বেগ দেখা নাও যেতে পারে।

বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এটা খুবই স্বাভাবিক যে আপনি অবসাদগ্রস্ত হবেন, আপনার ক্লান্তি লাগবে এবং আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে। হাইপোথাইরয়েডিজমের অন্যান্য লক্ষণ যেমন পেশিতে ব্যথা বা পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও গর্ভকালীন সময়ে খুবই সাধারণ বিষয় তাই এগুলো যে থাইরয়েডের কারণেও হতে পারে এ নিয়ে সবার মধ্যে তেমন একটা উদ্বেগ দেখা যায় না।

হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণ কি?

যুক্তরাষ্ট্রে থাইরয়েড সক্রিয় না থাকার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হল Hashimoto’s disease অথবা Hashimoto’s thyroiditis নামক একটি রোগ। এটি একটি অটো ইমিউন ব্যাধি, অর্থাৎ আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা ভুল করে আপনার ভালো কোষগুলোকে আক্রমণ করছে।

Hashimoto’s disease নামক রোগের ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাইরয়েডের উপর আক্রমণ করে এবং যার ফলে থাইরয়েড ফুলে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এভাবে বেশ কিছু সময় চলতে থাকলে একটা সময়ে এই ক্ষত’র কারণে থাইরয়েড আমাদের শরীরের প্রয়োজন অনুপাতে হরমোন উৎপন্ন করতে পারে না। আর গর্ভকালীন অবস্থায় ঠিক যখনই আপনার শরীরে অতিরিক্ত হরমোনের প্রয়োজন পড়ে, ঠিক তখনই এই রোগ প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

এছাড়া হাইপোথাইরয়েডিজম এর অন্যান্য আরো কিছু কারণ সম্পর্কে নিম্নে বর্ণনা করা হলঃ

  • অপারেশনের মাধ্যমে থাইরয়েডের অংশ বিশেষ অথবা পুরো থাইরয়েড গ্রন্থি সরিয়ে ফেলা হলে। থাইরয়েডের অপারেশন বিভিন্ন কারণে প্রয়োজন হতে পারে যেমন, থাইরয়েড নডুলস নামক সমস্যা দেখা গেলে (এটা এক ধরনের টিউমার যার ফলে থাইরয়েড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হরমোন নিঃসৃত হতে থাকে), থাইরয়েড ক্যানসারের কারণে, অথবা সবচাইতে বেশি প্রচলিত হাইপারথাইরয়েডিজম রোগ Graves’ disease এর কারণে।
  • Graves’ disease এর চিকিৎসা প্রদানের সময়ে রেডিয়েশন পদ্ধতি গ্রহণ করলে। কেননা এই পদ্ধতি পুরোপুরি ভাবে থাইরয়েডের ক্ষতি করতে পারে এবং তখন থাইরয়েড প্রয়োজন অনুপাতে হরমোন উৎপন্ন করতে পারে না।
  • ক্যানসারের চিকিৎসা করতে গিয়ে যদি ঘাড়ে রেডিয়েশন চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়। কেননা রেডিয়েশনের কারণে থাইরয়েড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • শরীরে যদি খুব বেশি অথবা খুব অল্প পরিমাণে আয়োডিন থাকে। তবে বর্তমানে লবণের সাথে আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট থাকার কারণে শরীরে অল্প পরিমাণ আয়োডিন থাকা খুবই বিরল ঘটনা।
  • থাইরয়েডে যদি কোন ধরনের জন্মগত সমস্যা থেকে থাকে (যেমন Congenital hypothyroidism)
  • ইথিয়াম, এমিওডারন নামক নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের কারণে, কেননা এই ধরনের ওষুধ থাইরয়েড হরমোন এর পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে।

হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে গর্ভাবস্থায় কি ধরনের সমস্যা ভুগতে হয়?

আপনি যদি থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে আপনি হয়ত কোন ধরনের সমস্যায় ভোগা ছাড়াই খুব সুন্দর, স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর একটা গর্ভকালীন সময় পার করবেন। কিন্তু কোন প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ না করলে হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে গর্ভকালীন সময়ে অনেক ধরনের জটিলতা দেখা যেতে পারে। নিম্নে তারমধ্যে কিছু বর্ণনা করা হলঃ

এছাড়া গর্ভকালীন অবস্থায় শিশু মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠনে থাইরয়েড হরমোনের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই থাইরয়েড সমস্যার প্রকৃত চিকিৎসা যদি গ্রহণ করা না হয় তাহলে শিশুর চিন্তা চেতনা ও বুদ্ধির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে।

গর্ভকালীন সময়ে কি আপনাকে থাইরয়েডের পরীক্ষা করা হবে?

সম্ভবত! গর্ভকালীন সময়ে সবাইকেই থাইরয়েডের পরীক্ষা করা হয় বিষয়টা এমন নয়। তবে আপনার ডাক্তার যদি শারীরিক লক্ষণ দেখে মনে করেন যে আপনার থাইরয়েডের পরীক্ষা করা প্রয়োজন তাহলেই কেবল আপনার এই ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে।

আপনার ডাক্তার যদি মনে করেন আপনার থাইরয়েড জনিত কোন ধরনের জটিলটা থাকতে পারে পারে তাহলে তিনি রক্ত পরীক্ষা দিবেন থাইরয়েড ঠিকমত কাজ করছে কি না সেটা দেখার জন্য।

নিম্ন বর্ণীত কারণে ডাক্তার আপনাকে থাইরয়েডের পরীক্ষা করতে পরামর্শ দিবেনঃ

  • আপনার যদি ইতোপূর্বে থাইরয়েডের কোন সমস্যা দেখা গিয়ে থাকে, বা পূর্বে থাইরয়ডের কোন চিকিৎসা নেয়া হয়ে থাকে।  
  • থাইরয়েডে এন্টিবডির টেস্ট যদি পজিটিভ হয়, যেটা কিনা সাধারণত অটো ইমিউন ডিজঅর্ডার থাকলে সেটা প্রকাশ করে।
  • যদি থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার কারণে ঘাড়ের দিকে ফুলে গিয়ে থাকে।
  • পরিবারে যদি কারো ইতোমধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা থেকে থাকে।
  • আপনার বয়স ৩০ অথবা তার বেশি হয়ে থাকে।
  • আপনার BMI যদি নুন্যতম ৪০ হয়ে থাকে।
  • টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিক অথবা অন্য কোন ধরনের অটো ইমিউন ডিজঅর্ডার থেকে থাকে।
  • গর্ভধারণ করতে কোন ধরনের জটিলটা দেখা গেলে।
  • ইতোমধ্যে যদি প্রিম্যাচিউর শিশু জন্ম নিয়ে থাকে।
  • ইতোপূর্বে যদি গর্ভপাত অথবা মৃত শিশু জন্ম দিয়ে থাকেন।

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম আছে কি না, কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

আপনার থাইরয়েড কি ভালোমতো কাজ করছে কি না, এই ব্যাপারে যদি কোন ধরনের উদ্বেগ থেকে থাকে তাহলে আপনার রুটিন চেকআপের সময় ডাক্তার আপনার রক্তে থাইরয়েড স্টিমুলেশনের পরিমাণ পরীক্ষা (TSH) করে দেখবেন। আপনার রক্তে যদি TSH এর পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে তাহলে তা এটা নির্দেশ করতে পারে যে আপনার থাইরয়েড যথেষ্ট পরিমাণে T3 এবং T4 নামক থাইরয়েড উৎপন্ন করছে না।

আপনার মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি মূলত TSH তৈরি করে থাকে যেটা আপনার থাইরয়েডকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর আপনা শরীর যখন নির্দিষ্ট অনুপাতে প্রয়োজনমত T3 এবং T4 হরমোন তৈরি করতে পারে না তখনই আপনার শরীর থাইরয়েডকে সাহায্য করার জন্য অতিরিক্ত THS নিঃসৃত করে।

আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন আপনার THS এর পরিমাণ কত হও উচিত। গর্ভাবস্থায় মেয়েদের সাধারণত ২.৫mIU/L এর থেকে কম থাকলে চলে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী এটা অন্যরকম হতেও পারে। (গর্ভাবস্থা অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে এর পরিমাণ বাড়তে পারে)

যদি TSH এর পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে ডাক্তার T4 এবং অন্যান্য হরমোনের পরিমাণ পরীক্ষা করার জন্য রক্ত পরীক্ষা করে এ সম্পর্কে সুনিশ্চিত হবেন। 

যদি আপনার শরীরে T4 হরমোন এর পরিমাণ কম থাকে তাহলে সম্ভবত আপনার হাইপোথাইরয়েডিজম হয়েছে। আবার যদি গর্ভকালীন সময়ে আপনার T4 এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে তাহলে আপনার হয়ত subclinical hypothyroidism নামক হালকা ধরনের থাইরয়েডের অসুখ হয়েছে।

এই ধরনের অবস্থায় সাধারণত রোগের কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না, কিন্তু তারপরেও গর্ভকালীন সময়ে এর চিকিৎসা অতীব প্রয়োজনীয়। কেননা এইধরনের অসুখের জন্যও গর্ভপাত এবং প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্ম হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা বা প্রতিকার কি?

গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা বা প্রতিকার এর জন্য Levothyroxine নামক হরমোন প্রতিস্থাপনের এক ধরনের ওষুধ ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। Levothyroxine হল আপনার থাইরয়েড যে T4 নাম হরমোন তৈরি করে তার সিনথেটিক বা কৃত্রিম ভার্শন। এটা আপনার এবং আপনার শিশু উভয়ের জন্যই নিরাপদ।

Levothyroxine নামক ওষুধ গ্রহণ করার ফলে গর্ভকালীন বিভিন্ন ধরনের জটিলতার ঝুঁকি কমে আসে এবং শিশুর বৃদ্ধি জনিত যে কোন সমস্যা তৈরি হওয়া থেকে এই ওষুধ প্রতিহত করে। তবে এই ওষুধ গ্রহণের পরিমাণটি সঠিক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা অতিরিক্ত মাত্রায় এই ওষুধ গ্রহণ করলে আপনার থাইরয়েড খুব বেশি পরিমাণ হরমোন নিঃসৃত করা শুরু করবে এবং অল্প পরিমাণ গ্রহণ করলে আপনার অসুখের ক্ষেত্রে সেটা খুব একটা কার্যকরী হবে না।

ডাক্তার প্রতিনিয়ত আপনার TSH এর পরিমাণ পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী ওষুধের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিতে থাকবেন। আপনার হরমোনের পরিমাণ সঠিক মাত্রায় এসে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রতি চার মাস অন্তর TSH এর পরিমাণ পরীক্ষা করা হতে থাকবে।

আপনার গায়নোকোলোজিস্ট আপনাকে এই ধরনের সেবা প্রদান করবেন তবে এই অবস্থায় একজন হরমোন জনিত এই ধরনের সমস্যার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের (endocrinologist) সাথে আলাপ করে নেয়াটা ভালো।

কীভাবে এই ওষুধ গ্রহণ করতে হবে সে ব্যাপারে আপনাকে ডাক্তারই নির্দেশনা দিয়ে দিবেন। সাধারণত প্রতিদিন একই সময়ে খালি পেটে এই ওষুধ খাওয়া ভালো। সকালে নাস্তা করার আধা ঘণ্টা আগে খেলে সবচেয়ে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।  

হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য ওষুধ এর সাথে অন্য কি ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ?

Levothyroxine খাওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে যে কোন ধরনের ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন সাপলিমেন্ট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া বেশ কিছু খাবারও এই ওষুধের কার্যকারিতায় বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। আর তাই এই ওষুধ খাওয়ার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা নিম্ন বর্ণীত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবেঃ

  • সয়াবিন আটা থেকে তৈরি খাবার। যেমন মাংস এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবারের বিকল্প হিসেবে সয়াবিনের তৈরি খাবার ব্যাবহার করা হয়।
  • আখরোট বা walnut
  • আঁশ জাতীয় খাবার, যেমন ফল ও সবজী এবং হোল গ্রেইন সিরিয়াল এবং পাউরুটি।
  • ক্যালসিয়াম ফরটিফাইড ফলের জুস।

এছাড়া আপনি যদি গর্ভধারণ করার আগ থেকেই এই ওষুধ সেবন করে থাকেন, তাহলে গর্ভধারণ করার ব্যাপার নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই আপনার ডাক্তারের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করুন। কেননা, যথা সম্ভব আপনার ওষুধের মাত্রাটি কিঞ্চিৎ বাড়িয়ে দিতে হবে।

American Thyroid Association এর মতে, গর্ভধারণ করার পর সাথে সাথেই ওষুধের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ ভাগ বাড়িয়ে দিতে হবে। অথবা ডাক্তার দেখানোর জন্য অপেক্ষা করার সময় প্রতি সপ্তাহে দুইটি ট্যাবলেট গ্রহণ করা উচিৎ। 

পরিপূর্ণ এবং স্বাভাবিক ভাবে কাজ করার জন্য থাইরয়েডের প্রয়োজন পড়ে আয়োডিনের সাহায্যের। যেটা এক ধরনের মিনারেল এবং অনেক ধরনের দুগ্ধ জাতীয় খাবার, সামুদ্রিক খাবার, মাংস জাতীয় খাবারে পাওয়া যায়।

এখন বেশীরভাগ লবণেই আয়োডিন থাকে। তাই বেশীরভাগ মানুষ তাদের খাবারের সাথে অথবা মাল্টি-ভিটামিন ট্যাবলেটের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুসারে আয়োডিন গ্রহণ করে থাকে। আর তাই আয়োডিনের অভাবে হাইপোথাইরয়েডিজম হওয়াটা বেশ বিরল একটি ঘটনা।

সন্তান জন্ম নেয়ার পরেও কি হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন আছে?

সম্ভবত হ্যাঁ! এবং আপনার ওষুধের মাত্রাও সন্তান জন্ম গ্রহণ করার পর পুনঃ-নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আপনি যদি গর্ভধারণ করার পূর্বেই এই সমস্যা জনিত ওষুধ খেয়ে থাকেন তাহলে সন্তান প্রসবের পর আবার সেই আগের পরিমাণ ওষুধে আপনাকে ফিরে যেতে হতে পারে।

আর যদি আপনি গর্ভকালীন সময়ে এই ওষুধ গ্রহণ করা শুরু করে থাকেন, তাহলে সন্তান জন্ম নেয়ার পর আপনাকে ওষুধ নাও নিতে হতে পারে। যে কোন অবস্থাতেই সন্তান জন্ম গ্রহণ করার ছয় সপ্তাহ পর আপনার TSH এর পরিমাণ পরীক্ষা করা হবে।

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগে ভোগা অবস্থায় কি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে?

সাধারণত, হ্যাঁ । তবে হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে বুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধ তৈরি না হতে পারে বা বাচ্চার দুধ খেতে অসুবিধা (Letdown reflex) হতে পারে।  

যদি বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে আপনি জটিলতায় ভুগেন তবে আপনার ডাক্তারের সাথে অবশ্যই আপনার উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করে নিবেন। levothyroxine এর মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াটা হয়ত আপনার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারে এবং এটা শিশুর জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।   

সবার জন্য শুভকামনা।

তথ্য সূত্রঃ

ACOG. 2017. Practice bulletin 148: Thyroid disease in pregnancy. American College of Obstetricians and Gynecologists. https://www.acog.org/Resources%20And%20Publications/Practice%20Bulletins/Committee%20on%20Practice%20Bulletins%20Obstetrics/Thyroid%20Disease%20in%20Pregnancy.aspx [Accessed June 2018]

ATA. 2014a. Thyroid disease and pregnancy FAQ. American Thyroid Association. http://www.thyroid.org/wp-content/uploads/patients/brochures/Pregnancy_FAQs.pdf [Accessed June 2018]

ATA. 2014b. Postpartum thyroiditis. American Thyroid Association. http://www.thyroid.org/wp-content/uploads/patients/brochures/Postpartum_Thyroiditis_brochure.pdf [Accessed June 2018]

NIDDK. 2016. Hypothyroidism (underactive thyroid). National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases. https://www.niddk.nih.gov/health-information/endocrine-diseases/hypothyroidism [Accessed June 2018]

https://www.babycenter.com/0_hypothyroidism-in-pregnancy_20004472.bc?fbclid=IwAR34hqHS_PPmEt15mtozescQPVq2DsO6izswfpPMpFOvecsAH2dWbDDhyZo

বেবি সেন্টার থেকে অনূদিত ।

Related posts