শিশুর সবুজ মল | কখন স্বাভাবিক, কখন নয়

Spread the love

নবজাতক শিশুদের মলত্যাগ মায়েদের জন্য বেশ উদ্বেগের, বিশেষ করে যদি নতুন মা হয়ে থাকেন তাহলে সেই উদ্বেগ অনেকটাই মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। শিশু কতটুকু মলত্যাগ করছে, ঠিকমত করছে কি না, কোন রঙের মলত্যাগ করছে, বা বাচ্চার সলিড খাবারের কারণে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা ইত্যাদি হাজারো রকম চিন্তা মায়েদের সবসময় ঘিরে থাকে।

স্বাভাবিকভাবে শিশু দৈনিক কতবার মলত্যাগ করে এবং তার রঙ কি ধরণের হতে পারে?

শিশুর জন্মের পর তার প্রথম মল হয় কালচে বর্ণের এবং সেটা বেশ আঠালো ধরণের হয়। এটিকে মিকোনিয়াম বলে। মায়েরা যখন বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন তখন সেই কালচে বর্ণ ধীরে ধীরে গাড় সবুজ বর্ণ ধারণ করে।

বিজ্ঞাপণ

নবজাতক শিশুর জন্মের পঞ্চম দিনের সময় শিশুর মলের রঙে হলদেটে ভাব আসতে থাকে। এই সময় শিশুর মল তরলের মত থাকে তবে কখনো তাতে বীজের মত ছোট দানা দানা থাকতে পারে। শিশুর এই ধরণের মলে কোন পরিবর্তন আসবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু খাওয়া শুরু করে।বুকের দুধে যে ফ্যাট থাকে সেটার কারণেই শিশুর মল হলদেটে হয়।

সাধারণত জন্ম পরিবর্তী প্রথম এক দেড় মাস যে সকল শিশুদের ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে তারা দৈনিক তিন থেকে চারবারের মত মলত্যাগ করে থাকে। তবে প্রতিদিন যদি আরো বেশি মলত্যাগ করে তাহলে অত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কেননা বেশি মলত্যাগ করছে তার মানে হল আপনার শিশু বেশি বেশি বুকের দুধ খাচ্ছে, যেটা শিশুর জন্য ভালো। তবে শিশু যদি নিয়মিতভাবে দুই একদিন মলত্যাগ না করে তাহলে শিশুর ওজন পরিমাপ করা জরুরী ।

শিশুর বয়স যদি ছয় সপ্তাহ থেকে কম হয় এবং দৈনিক তিন চারবারের কম মলত্যাগ করে অথবা জন্ম পরবর্তী পঞ্চম দিন থেকে মলত্যাগের রঙ সবুজ থেক হলুদ বর্ণ ধারনা না করে তাহলে শিশুর ওজন পরিমাপ করে দেখে নিতে হবে যে আদৌ কোন উদ্বেগের কারণ রয়েছে কি না।

ছয় সপ্তাহ পার হয়ে গেলে অনেকসময় বুকের দুধ খাওয়া স্বাস্থ্যবান কিছু শিশু অনেক কম বার মলত্যাগ করতে পারে। আর এটা এতটাই কমে আসতে পারে যে দেখা গেল, শিশু হয়ত সপ্তাহে একবার মলত্যাগ করছে! এতে ভয়ের তেমন কোন কারণ নেই।  

এই সময়ে শিশুর নিয়মিত ওজন পরীক্ষা করাটা বেশ জরুরী। যদি দেখা যায় প্রতিদিন শিশুর ওজন ত্রিশ গ্রাম বা তার বেশি করে বাড়ছে তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, শিশু পরিমিত বুকের দুধ খাচ্ছে এবং তার স্বাভাবিক ভাবেই বৃদ্ধি হচ্ছে। যদি শিশুর ওজন ঠিকঠাক বাড়তে থাকে তবে তার মলত্যাগ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।  

শিশুর সবুজ মলত্যাগ করার কারণ

শিশুর মলের রঙ সাধারণত লিভার থেকে যে পিত্ত উৎপন্ন হয় তার উপর নির্ভর করে থাকে এবং এই রঙ পরিবর্তনের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। শিশুর মল সবুজ বর্ণ ধারণ করার কিছু কারণ নিম্নে বর্ণনা করা হলঃ

সবুজ শাক সবজী খাওয়ার কারনে

শিশু যদি বুকের দুধ খায় তাহলে মায়ের খাবারের উপরেও শিশুর মলের রঙ অনেকটা নির্ভর করে। আর শিশু যদি বুকে দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবার খায় তাহলে তার উপরেও সেটা নির্ভর করে থাকে। বুকের দুধ পান করানো মায়েরা যদি অনেক বেশি পরিমাণে সবুজ শাক সবজী খায় তাহলে সেই প্রাকৃতিক রঙের প্রভাব মায়ের বুকের দুধের উপরেও আসে। আর পরোক্ষ ভাবেই শিশু সবুজ রঙের মলত্যাগ করে থাকে।

আয়রন সাপলিমেন্ট গ্রহণের কারণেও হতে পারে

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে যদি আয়রন সাপলিমেন্ট দেয়া হয়, তাহলে শিশুর গাড় সবুজ রঙের মলত্যাগ করতে পারে। শরীর যে আয়রনগুলো এবজর্ব করতে পারে না, সেগুলোর কারণেই মূলত শিশুর মলের রঙ গাড় সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে।

এছাড়াও বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরাও যদি আয়রন সাপলিমেন্ট গ্রহণ করে থাকেন তাহলেও শিশুর মল সবুজ রঙের হতে পারে।

ফোরমিল্ক গ্রহণের কারনে

মায়েরা যখন বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন, তখন শুরুর দিকে সেই দুধ অনেক পাতলা ও অতিরিক্ত পানিযুক্ত হতে পারে। আর এই ধরনের পাতলা ও পানি যুক্ত দুধকে ফোরমিল্ক বলা হয়ে থাকে। এই দুধের কারণেও শিশুর মলত্যাগের রঙ সবুজ বর্ণ ধারণ করতে পারে। এই ফোরমিল্কের মধ্যে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক কম থাকে এবং এটা আপনার শিশুর তৃষ্ণা নিবারণ করে।

উল্লেখ্য যে ফোরমিল্ক এর মধ্যে ল্যাকটোজের পরিমাণ অনেক বেশি, আর এই ল্যাকটোজ হল বুকের দুধের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক চিনির উপাদান। শিশু যখন অতিরিক্ত ল্যাকটোজ গ্রহণ করে থাকে তখন তার মলের রঙ সবুজ হয়ে যায়।

সাধারণত মায়ের বুকে যখন অতিরিক্ত দুধ হয়ে যায় অথবা দুধ খাওয়ানোর সময় এক বুক থেকে গাড় দুধ পাওয়া শুরু করার আগেই শিশুকে অন্য বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন, তখন এমনটা হয়ে থাকে।

এছাড়া মায়ের বুকে যখন অতিরিক্ত দুধ থাকে তখন ফোরমিল্ক খেয়েই শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে গাড় দুধ আসার আগেই খাওয়া বন্ধ করে দেয়। উভয় পরিস্থিতিতেই শিশু অতিরিক্ত পরিমাণে ল্যাকটোজ গ্রহণ করে থাকে।

বুকের দুধ থেকে পরিপূর্ণ পুষ্টি গ্রহণ করার জন্য শিশুকে মূলত ফোরমিল্ক শেষ হওয়ার পর গাড় দুধ বা হাইন্ড মিল্ক পান করতে হয়, যেটাতে অনেক বেশি পরিমাণ ফ্যাট থাকে এবং এটা শিশুর জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ইনফেকশনের কারনে

শিশুর পেটে যদি কোন ধরণের ইনফেকশন হয় তাহলে তাদের মলের রঙেও পরিবর্তন আসে এবং সেটা সবুজ বর্ণ ধারণ করে। আপনার যদি মনে হয় যে শিশু কোন ধরণের ইনফেকশনে ভুগছে তাহলে তাৎক্ষণিক ভাবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো। এছাড়াও মনে রাখবেন শিশুর যে কোন ধরণের ইনফেকশন হলে, বুকের দুধ যাতে নিয়মিত খাওয়ানো হয়ে থাকে। কেননা, বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর ইনফেকশন দ্রুত সেরে উঠে।

ডায়রিয়া হলে

শিশুদের মধ্যে এই কারণটাই সবচাইতে বেশি দেখা যায়। শিশুর মল যখন অনেক পাতলা, সবুজ এবং দুর্গন্ধ যুক্ত হবে তখনই বুঝতে পারবেন শিশুর পাতলা পায়খানা হয়েছে। এটা সাধারণত ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে তাই তখন চেক করে দেখবেন যে শিশুর মলে কোন শ্লেষ্মা জাতীয় কিছু বের হচ্ছে কি না। যদি এমন কিছু দেখে থাকেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার শিশু ইনফেকশনে ভুগছে এবং তাৎক্ষণিক ভাবে শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

ফরমুলা দুধের ব্র্যান্ড পরিবর্তনের কারনে

সব ধরনের ফরমুলা দুধ শিশুরা স্বাভাবিক ভাবে হজম নাও করতে পারে। কোন কোন ব্র্যান্ডের ফরমুলা দুধের তাদের এলার্জি হতে পারে আর ফলাফল স্বরূপ মলত্যাগের রঙও সবুজ বর্ণ ধারণ করতে পারে। আর তাই যখনই আপনি ফরমুলা দুধের ব্র্যান্ড পরিবর্তনের সাথে সাথে শিশুর মলত্যাগের রঙের মধ্যেও পরিবর্তন দেখতে পান তাহলে অন্য কোন ব্র্যান্ডে পরিবর্তন করার আগেই সাথে সাথে একজন শিশুর বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করে নিলে ভালো হয়।

মনে রাখবেন এমনটা শিশুদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যায় এবং এতে তেমন একটা উদ্বেগের কিছু নেই। এক্ষেত্রে যে ব্র্যান্ডের ফরমুলা দুধ আপনার শিশুর সাথে খুব ভালোভাবে মানিয়ে যায় শুধুমাত্র সেই ব্র্যান্ডটিই ব্যবহার করবেন।

দাঁত উঠার সময়

শিশুর যখন দাঁত উঠার সময় হয় তখন শিশুর মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা ঝরতে থাকে। এবং এই অতিরিক্ত লালা শিশুর হজম শক্তিতে প্রভাব ফেলে এবং শিশুর মলের রঙেও বেশ পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

বিজ্ঞাপণ

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন অথবা শক্ত খাবার শুরু করার পর

শিশুর নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে যদি তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয় অথবা শিশুকে যদি প্রথমবারের মত শক্ত খাবার দেয়া শুরু করা হয় তাহলেও শিশুর মলত্যাগের রঙ সবুজ বর্ণ ধারণ করতে পারে।

পেটে সমস্যা হলে

স্টমাক ফ্লু অথবা বদহজমের কারণেও শিশুর মল সবুজ বর্ণের হতে পারে।

ঠাণ্ডা লাগলে

শিশুর যদি ঠাণ্ডা লেগে থাকে তাহলে তার প্রভাব শিশুর হজমের উপরেও পরে। ফলাফল স্বরূপ শিশুর মলত্যাগের রঙ সবুজ বর্ণের হতে পারে।

দুগ্ধ জাতীয় খাবারে সমস্যা থাকলে

বুকের দুধ খাওয়ানো মা যদি নিজের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে এমন কোন দুগ্ধ জাতীয় খাবার যোগ করেন, যে খাবারে শিশুর সমস্যা রয়েছে তাহলে শিশুর মলের রঙ সবুজ বর্ণ ধারণ করতে পারে। এই সমস্ত সময়ে দেখা যায় শিশু খুব বেশি বিরক্ত করছে অথবা কান্নাকাটি করছে।

এছাড়াও শিশুর এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে গরুর দুধ খাওয়ানো ঠিক নয়, এমতাবস্থায় কেউ যদি শিশুকে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গরুর দুধ খাওয়ান তাহলেও শিশুর মলের রঙ সবুজ বর্ণের হতে পারে। তাই বুকের দুধ খাওয়ানোটাই সবচাইতে জরুরী আর সেটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে অবশ্যই ফরমুলা দুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে কোন অবস্থাতেই গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে না।

এন্টিবায়োটিকে যদি কোন সমস্যা থাকে

বুকের দুধ খাওয়ানো মা অথবা শিশু যদি নির্দিষ্ট কোন এন্টিবায়োটিক খায় যেটাতে শিশুর সমস্যা রয়েছে তাহলেও শিশুর মলত্যাগের রঙ সবুজ বর্ণের হতে পারে। এমতাবস্থায় কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নেয়া ভালো।   

শিশুর সবুজ মল নিয়ে কখন উদ্বিগ্ন হবেন?

বেশীরভাগ সময়েই শিশুর মলত্যাগের রঙ যদি সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে তাহলে তেমন একটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে আপনাকে সবসময়েই জেনে নিতে হবে কখন এটা স্বাভাবিক কারণেই হয় আর কখন আপনার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ।

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন যদি স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং শিশু সুস্থ থাকে তাহলে শিশু কতবার মলত্যাগ করল আর সেই মলত্যাগের রঙ কি, এগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। তবে যখনই আপনার মনে কোন ধরনের দুশ্চিন্তা আসে সাথে সাথে একজন শিশু বিশেষজ্ঞর শরণাপন্ন হয়ে নেয়াটাই ভালো।

মাঝেমধ্যে শিশুর মলত্যাগের রঙ সবুজ বর্ণ ধারণ করলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না, কেননা এটা বেশ কিছু কারণেই হতে পারে। তবে আপনি যদি নিম্নবর্তী লক্ষণগুলো দেখে থাকেন তাহলে তাৎক্ষনিক ভাবে শিশুকে নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবেঃ

প্রতিনিয়ত সবুজ রঙের মলত্যাগ করলে, বিষয়টি নিয়ে ডাক্তারের সাথে আলাপ করে নেয়া উচিৎ।

বিজ্ঞাপণ

পানিশূন্যতা: শিশুর সবুজ রঙের মলত্যাগ হওয়ার সাথে সাথে তার মধ্যে যদি পানিশূন্যতার লক্ষণও দেখা যায় তাহলে সাথে সাথেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কেননা, শিশুদের মধ্যে পানিশুন্যতা বেশ ক্ষতিকর একটি ব্যাপার এবং এমনটা হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

মলের সাথে রক্ত গেলে: শিশুর সবুজ বর্ণের মলের সাথে যদি রক্ত দেখা যায় তাহলে তাৎক্ষনিক শিশুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান।

শিশুর যদি অস্বাভাবিক মলত্যাগের পাশাপাশি শরীরে র‍্যাশ হয়ে থাকে তাহলে শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান, কেননা এটা যে কোন ধরনের এলার্জির লক্ষণ হতে পারে।

শিশুর সবুজ রঙের মলে যদি ফ্যানা থাকে এবং সেটা থেকে যদি প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হয়, তাহলে এটা ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। তবে শিশুর যদি অনেক বেশি ফোরমিল্ক গ্রহণ করে তাহলেও শিশুর মলে ফ্যানা থাকতে পারে। তবে এমনটা আবার মলের সাথে শ্লেষ বের হওয়ার কারণেও হয়ে থাকে। তাই এমতাবস্থায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

হুট করেই শিশুর ওজন কমে গেলে: শিশু যদি প্রায়শই সবুজ রঙের মলত্যাগ করে এবং পাশাপাশি শিশুর ওজন কমে যেতে থাকে তাহলে এটা বেশ উদ্বেগের বিষয়। এমতাবস্থায় ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন এবং নিজের উদ্বেগ ডাক্তারকে জানান।

পেট ফোলা: শিশুর যদি দুই দিনের বেশি সময় ধরে পেট ফুলে যাওয়ার সাথে সাথে সবুজ রঙের মলত্যাগ হতে থাকে তাহলে এই বিষয়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

শিশুর যদি পেট ব্যথা হয়: যেহেতু আপনার শিশু এখনো কথা বলতে শিখেনি তাই এটা জানা সত্যিই খুব কষ্টকর যে শিশুর পেট ব্যথা হচ্ছে কি না। তবে শিশু যদি সবসময় খিটখিটে মেজাজের হয়ে থাকে এবং বিরক্ত করতে থাকার পাশাপাশি কান্না করার সময় পা উপরের দিকে উঠিয়ে দেয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার শিশুর হয়ত পেট ব্যথা হচ্ছে। এমতাবস্থায় শিশুকে একজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

পরিশিষ্ট

শিশুর মল যদি দীর্ঘ সময় ডায়পারের মধ্যে থাকে তাহলে অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার কারণে সেই মলের রঙ পরিবর্তন হয়ে সবুজ বর্ণ ধারণ করতে পারে। তাই শিশু মলত্যাগ করার সাথে সাথেই তার রঙ খেয়াল রাখা উচিৎ।

শিশুর ওজন যদি স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি হতে থাকে তাহলে সবুজ রঙের মলত্যাগ হলেও এতে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। তবে ইতোমধ্যেই যা বর্ণনা করা হয়েছে তেমন কোন ধরনের অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা গেলে সাথে সাথে শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাৎক্ষনিক ভাবে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেই কেবল সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।        

সবার জন্য শুভকামনা।


Spread the love

Related posts

Leave a Comment