বাচ্চাকে কিভাবে ঘুমের প্রশিক্ষণ দেবেন।

Updated on

ছোট শিশুর ঘুমের প্রশিক্ষণ বলতে কি বোঝায়?

ঘুমের প্রশিক্ষণ হল এমন কিছু উপায় অবলম্বন করা যেগুলো আপনার শিশুকে পরিমিত এবং একটা নির্দিষ্ট রুটিনে ঘুমাতে সাহায্য করবে। যখনই সেই উপায়ের মাধ্যমে তার পরিমিত ও রুটিন মাফিক ঘুম নিশ্চিত করা যাবে তখনই দেখা যাবে আপনার শিশু ঠিকই সারা রাত ধরে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমাচ্ছে।

কোন কোন শিশু এটা খুব সহজেই শিখে নেয়। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে ঘুমের উপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসাটা একটু সময় সাপেক্ষ হতে পারে।

এই ঘুমের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ধরনের উপায় অবলম্বন করা হয়ঃ

প্রথম উপায়ে শিশু সামান্য কান্না করতে পারে। দ্বিতীয় উপায়ে শিশু কান্না করার আগেই তাকে শান্ত করার ব্যাবস্থা করতে হবে। কোন ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করবেন সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আপনার উপর।

আপনার শিশু যদি অসুস্থ হয় তাহলে ঘুমের প্রশিক্ষণের কোন পন্থাই অবলম্বন করতে যাবেন না, কেননা অসুস্থ অবস্থায় এই ধরনের পন্থা কখনই কাজ করে না। এছাড়া আপনার শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক যদি কোন বিশেষ প্রয়োজন থাকে তাহলে ঘুমের প্রশিক্ষণ শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে আলাপ করে নিবেন।

ঘুম বিষয়ক প্রশিক্ষণের কোন পদ্ধতি কি অবশ্যই মেনে চলতে হবে?

না, আপনাকে কোন পদ্ধতি মেনে চলতেই হবে, এমনটা নয়। অনেক বাবা মা’ই ঘুমের প্রশিক্ষণ এর ব্যাপারে একটু উদ্বিগ্ন থাকে অথবা এটা মেনে চলতে তাদের অনেক কষ্ট হয়।

আদতে আপনাকে প্রথমে নিজেকেই একটা প্রশ্ন করতে হবে, সেটা হল আপনি অথবা আপনার সঙ্গী/সঙ্গিনী শিশুকে দিনের বেলায় ভালোভাবে দেখাশোনা করার জন্য রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারছেন তো? যদি এর উত্তর হয়, “না”, তাহলে শিশুকে রাতে ঠিকমত ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করতে এই ঘুমের প্রশিক্ষণের যে কোন একটি পদ্ধতি আপনাকে অনুসরণ করতে পারেন।

তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, একই প্রশিক্ষণের পদ্ধতি সবার ক্ষেত্রে কাজ না ও করতে পারে। কোন পদ্ধতির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে একটি শিশুর জন্য সেটা খুবই কার্যকরী আবার অন্য একটি শিশুর উপর সেই পদ্ধতি তেমন একটা কাজ করছে না। সুতরাং কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতি যদি আপনার শিশুর উপর কাজ না করে তাহলে এ নিয়ে চিন্তা করার তেমন কোন প্রয়োজন নেই।

একটা ব্যাপার মনে রাখবেন, শিশু জন্মের পর বেশ কয়েক মাস পর্যন্তই কিন্তু বিভিন্ন কারণে রাতের বেলায় জেগে উঠে এবং এই জেগে উঠাটা একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। এছাড়াও রাতের বেলায় শিশু যদি খাবার খাওয়ার জন্য জেগে উঠে তাহলে তখন তার উপর ঘুমের প্রশিক্ষণের কোন পদ্ধতিই কাজ করবে না। তবে খাবার খাওয়ার পর, দ্রুত ঘুমানোর জন্য আবার ঘুমের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কাজ করবে। 

আপনি কখন ঘুমের পদ্ধতি অনুসরণ করা শুরু করবেন?

বেশিরভাগ অভিভাবকই যখন দেখেন যে শিশুর ঘুমের অনিয়মের সাথে তারা আর মানিয়ে চলতে পারছেন না, তখনই তারা ঘুমের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। ঘুমের অনিয়ম এমনিতেও বেশ কষ্টদায়ক বিশেষ করে যখন আপনার ছোট আরেকটা বাচ্চা থাকে। কেননা শিশুর ঘুমের অনিয়মের সাথে নিজের ঘুমের অনিয়মও বেশ সম্পৃক্ত।

এছাড়াও শিশুর ঘুমের অনিয়ম যদি শিশুর এবং আপনার শারীরিক সুস্থতার উপর প্রভাব ফেলে তাহলে শিশু যাতে করে নিজ থেকেই ঘুমিয়ে যায় এই ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত। 

বেশ কিছু গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, আপনার শিশুর বয়স যখন নুন্যতম তিন মাস হয় তখন থেকেই সে নিজ থেকেই ঘুমিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তবে তার মানে এই না যে তিন মাস বয়স থেকেই সে নিজে নিজে ঘুমানো শুরু করবে, তবে এই তিন মাস বয়স হলেই শিশুকে নিজে থেকেই ঘুমানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে। 

তবে কোন কোন বিশেষজ্ঞদের মতে ঘুমের প্রশিক্ষণ শুরু করার আগে শিশুর বয়স ছয় মাস হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এর সাথে আরেকটা ব্যাপার আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, প্রত্যেকটা শিশুই একে অপরের থেকে একদমই আলাদা। তাই, যদি আপনি মনে করেন যে আপনার শিশু ছয় মাস হওয়ার আগেই ঘুমের প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য প্রস্তুত তাহলে আপনি ঘুমের প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারেন।

অপরদিকে আপনি যদি আবার মনে করেন না, শিশুর রাতের বেলায় না ঘুমালে আপনার আরো কিছুদিন কোন সমস্যা হবে না তাহলে আপনি অপেক্ষা করতে পারেন। মূলকথা হল, এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত একদমই আপনার উপর নির্ভর করে।

ঘুমের প্রশিক্ষণের ঠিক কোন পদ্ধতিটি আপনার অনুসরণ করা উচিৎ?

আমেরিকান একাডেমী অফ স্লিপ মেডিসিন, শিশু অল্প কাঁদবে এমন ঘুমের প্রশিক্ষণ সহ আরো বেশ কিছু ঘুমের প্রশিক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যালোচনা করেছেন। মূলকথা হল, ঘুমের প্রশিক্ষণের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট এবং সবচাইতে সেরা কোন পদ্ধতি নেই। সবগুলো পদ্ধতিই কাজ করে, যদি আপনি সেটা নিয়মিত অনুসরণ করে থাকেন।

যে পদ্ধতিই আপনি অনুসরণ করেন না কেন, আপনাকে সবচাইতে জরুরী যে বিষয়টাতে খেয়াল রাখতে হবে, সেটা হল আপনি এই পদ্ধতি কি নিয়মিত অনুসরণ করতে পারবেন কি না? আর তাই আপনি এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করুন যেটা আপনি নিয়মিত অনুসরণ ও মেনে চলতে পারবেন। এতে করে সেই পদ্ধতিটি আপনার ও আপনার শিশুর সাথে মানিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।  

বেশিরভাগ ঘুমের প্রশিক্ষণই মূলত দুই ধরনের পদ্ধতির উপর নির্ভরশীলঃ

  • যে পদ্ধতি অনুসরণ করলে শিশু অল্প কাঁদতে পারে
  • যে পদ্ধতি অনুসরণ করলে শিশু কান্না করার আগেই তাকে শান্ত করার ব্যাবস্থা করবেন।

শিশু অল্প কাঁদতে পারে এমন পদ্ধতি

বেশিরভাগ বাবা মা’ই মনে করে থাকেন যে, শিশু কাঁদবে এমন পদ্ধতির মানে এই যে, শিশুকে তারা একা রেখে দিবেন এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত শিশু কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যায় অপেক্ষা করবেন। কিন্তু আসলে বিষয়টি এমন নয়। বরং ঘুমের প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ফারবার এর মতে, শিশুকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁদতে দিতে হবে, এরপর তার কাছে গিয়ে তাকে আশ্বাস দিতে হবে।

নির্দিষ্ট ঘুমের সময় হয়ে গেলে, আপনার শিশু যদি জেগে থাকে তবুও শিশুকে তার বিছানায় নিয়ে যান। রুম থেক বের হয়ে যাওয়ার আগে তাকে একটি চুমু দিয়ে বলুন, ‘এখন তোমার ঘুমের সময় হয়েছে’। 

বিছানায় রেখে দেয়ার পরেও যদি শিশু আপনার জন্য কাঁদতে থাকে তাহলে বিশেষজ্ঞদের মতে, তার কাছে যাওয়ার পূর্বে দুই থেকে দশ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন। বিছানায় থাকা অবস্থাতেই, খুব আলতো করে শিশুকে আদর করে দিতে পারেন অথবা তাকে একটু কোলে নিয়ে আবার বিছানায় রেখে দিতে পারেন। কীভাবে তাকে আদর করবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সেই সময়টা খুব ছোট হয় এবং রুমের লাইট বন্ধ থাকে।

আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, সেই সময়ে শিশুর সাথে কথা বলা যাবে না এবং তার চোখের দিকে তাকানো যাবে না। এই অভ্যাস শিশুকে বুঝতে সাহায্য করবে যে, রাতের সময়টা হল ঘুমের সময়। অল্প কিছু সময় পর তাকে আবার শুভরাত্রি জানিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যান।   

এভাবে প্রত্যেকবার কান্নার পর শিশুর কাছে যাওয়ার সময়টা একটু দীর্ঘ করুন। কেননা এতে করে শিশু কান্না থামিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাসটা রপ্ত করে ফেলবে।

শিশু অল্প কাঁদবে এমন ঘুমের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি কিছুটা বিতর্কমূলক। কেননা কেউ কেউ মনে করে থাকেন যে শিশুকে এভাবে একা একা কাঁদতে রেখে দিলে এটা তার শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলবে। যদিও আপনার শিশুকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কাঁদতে রেখে দেয়াটা ঠিক নয়, তবে সমসাময়িক কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অল্প সময়ের জন্য শিশুকে কাঁদতে দিলে কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তবে এই পদ্ধতিটি সব বাচ্চা এবং বাবা মা’দের জন্য নয়। যদি বেশ কিছু রাত এই পদ্ধতি অবলম্বন করার পরেও শিশু এই পদ্ধতিটির সাথে খাপ না খাওয়াতে পারে তাহলে এক এক সপ্তাহ অপেক্ষা করুন এবং পুনরায় আবার এই পদ্ধতিটি অবলম্বনের চেষ্টা করুন। তবুও আপনার যদি শিশুকে এভাবে একা কাঁদতে দিতে ইচ্ছে না করে তাহলে যে ঘুমের পদ্ধতিতে শিশু কাঁদবে না সেই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। 

যে ঘুমের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে শিশু কাঁদবে না

শিশুকে একা কাঁদতে দেয়ার পরিবর্তে আপনি চাইলে শিশু ঘুমানোর আগ পর্যন্ত তার কাছে যতবার খুশি যেতে পারেন অথবা সে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত তার কাছে থাকতেও পারেন।

একটা ছোট্ট গবেষণায় উঠে এসেছে, যে সকল বাবা মা রা তাদের শিশুর কাছে নির্দিষ্ট সময় অনুসরণ না করে তাদের ইচ্ছেমত সময়ে শিশুর কাছে যান, সেই সব বাবা মা এবং শিশু উভয়েরই ঘুম ভালো হয়।

শিশু একদমই কাঁদবে না এমন ঘুমের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু উপদেশ ও পরামর্শ রয়েছে। শিশুর সঠিক উপায়ে দেখাশুনা করার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ এ ব্যাপারে বলেন, শিশু ঘুমানোর আগ পর্যন্ত শিশুর সাথে শুয়ে থাকতে পারেন, তাকে কোলে দিয়ে দোল দিতে পারেন, দুধ খাওয়াতে পারেন অথবা শিশুকে জড়িয়ে ধরে রাখতে পারেন। এরপর শিশু ঘুমিয়ে গেলে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিন। 

এই পদ্ধতিতে শিশুকে ধীরে ধীরে একা ঘুমাতে শেখানো হয়। শিশুর মধ্যে যখন ঘুম ঘুম ভাব চলে আসবে তবে এখনো ঘুমায়নি সেই সময়ে শিশুকে তার বিছানায় শুইয়ে দিন। এরপর তাকে রেখে চলে না গিয়ে তার সাথে থাকুন। তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিন যতক্ষণ না সে ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবে কিছু রাত পার হয়ে গেলে শিশু থেকে একটু দূরে গিয়ে বসুন। এভাবে কিছু রাত পরপরই আরেকটু করে দূরে সরতে থাকুন। এভাবে দেখবেন যে এক সময় আপনাকে ছাড়াই শিশু নিজ থেকে ঘুমিয়ে পড়ছে।

আরেকটি পদ্ধতি হল, শিশুকে কোলে নিয়ে আবার রেখে দেয়া। আপনার শিশু যদি রাতে জেগে উঠে আপনাকে খুঁজে অথবা কান্না করে তখন তার কাছে যান এবং সে শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোলে রাখুন। এরপর একটু শান্ত হয়ে আসলে শিশুকে আবার বিছানায় শুইয়ে দিন।

সবশেষে শিশু কাঁদবে না এমন আরেকটি পদ্ধতি হল শিশুকে শান্ত রাখার জন্য কিছু শব্দ উচ্চারণ করা যেমন, “শশশশস” অথবা “বাবু ঘুমাও।” এই শব্দ অথবা বাক্য বারবার খুব আস্তে আস্তে বলতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত শিশু ঘুমিয়ে না যায়। এভাবে বলতে থাকলে বাচ্চারা ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করে যে এই শব্দগুলো করা মানে হলো এখন ঘুমানোর সময়।

শিশু কাঁদবে না এমন পদ্ধতিগুলো অন্যান্য পদ্ধতি যেগুলোতে শিশু কাঁদবে সেগুলো থেকে অনেক সহজেই অনুসরণ করা যায়। অনেক বাবা মা’রাই বলেন যে এই পদ্ধতি বাবা-মা এবং শিশু উভয়ের ক্ষেত্রেই কাজ করে।   তবে আপনি হয়ত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেখতে পারেন যে, এই পদ্ধতিতে শিশু নিজ থেকে ঘুমাচ্ছে না বরং সে আপনার উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে থাকছে।

শিশুর ঘুমের প্রশিক্ষণের জন্য কি বাস্তবিক এবং কার্যকরী কোন টিপস আছে?

যে কোন ঘুমের প্রশিক্ষণের পদ্ধতি অনুসরণ করার আগেই শিশুর জন্য সহজ একটি ঘুমের রুটিন তৈরি করুন এবং সেটা অনুসরণ করুন। এতে করে শিশু আগে থেকেই বুঝতে পারবে যে এখন তার ঘুমের সময় হয়েছে। রাতের ঘুমের রুটিনের মত দিনের ঘুমেরও নির্দিষ্ট রুটিন থাকা উচিত।

ঘুমের প্রশিক্ষণের জন্য সঠিক সময়টি বেছে নিন। একটু আগে থেকে ঘুমানোর প্রশিক্ষণ শুরু করার পূর্বে প্রস্তুতি নিয়ে নিন। এমন একটা সময় থেকে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা বেছে নিন যখন আপনি তুলনামূলক ভাবে একটু কম ব্যস্ত থাকেন। কেননা এই পদ্ধতি অনুসরণ করার সময় প্রথম কিছুদিন আপনার হয়ত ঠিকমত ঘুম নাও হতে পারে।

আপনার সঙ্গীর সাথে সময় মিলিয়ে নিন, যাতে করে আপনারা নিয়মিত সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। কেননা অনিয়মিত পদ্ধতি অনুসরণ করলে সেটা কাজ করবে না।

শিশুর ঘুমের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে যে পরিকল্পনাই করে থাকুন না কেন, খেয়াল রাখবেন সেটা যাতে নিয়মিত অনুসরণ করা হয়। কেননা যে সব বাবা-মা’রা ঘুমের প্রশিক্ষণের নিয়মের মধ্যে থেকেছেন তারা সবাই একটা ব্যাপারে একমত যে, যে কোন পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করাটাই সবচাইতে কার্যকরী। খুব ভোরে যদি শিশুর ঘুম ভেঙ্গে যায়, তাহলে আপনার হয়ত ইচ্ছে করতে পারে যে তাকে নিয়ে কোলে দুলিয়ে বা হেঁটে ঘুম পাড়িয়ে দেই।

খেয়াল রাখবেন যদি কোন ঘুমের পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন তাহলে তার ব্যতিক্রম করবেন না। এছাড়াও যে কোন পরিবর্তন মানিয়ে নিতে কিছু শিশুর কিছু সময়ের প্রয়োজন। শিশুর রুটিনে যদি কোন পরিবর্তন নিয়ে আসেন তাহলে কিছুদিন তাকে সেটা মানিয়ে নিতে সময় দিন। 

কিছু নির্ঘুম রাত কাটানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনি যদি এমন পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন যেটাতে শিশু একটু কাঁদবে তবে মনে রাখবেন শিশু একা একা কান্না করছে এটা সহ্য করা বাবা-মা’র জন্য কিন্তু একটু কষ্টকরই বটে। তাই সেই পদ্ধতি অনুসরণ করার পূর্বে প্রস্তুত থাকুন, কেননা শিশুর ভালো একটা ঘুমের অভ্যাসের জন্য এই কান্না আপনাকে সহ্য করতেই হবে।

আপনার পরিবারের সাথে যেই পদ্ধতি মানিয়ে যায়, সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করুন। শিশুকে একা একা কাঁদতে দেয়াটা আপনার জন্য একটু মন খারাপের কারণ হতে পারে অথবা এই কান্নার শব্দে আপনার অন্য শিশুটির ঘুমে সমস্যা হতে পারে। তাই এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করবেন যেটা আপনার শিশু এবং পরিবার উভয়ের সাথেই মানানসই।

যে কোন পরিবর্তনের ব্যাপারে প্রস্তুত থাকুন। শিশুর ঘুমের প্রশিক্ষণ দেয়ার পরেও মাঝে মধ্যে অভ্যাসের একটু সাময়িক পরিবর্তন কিন্তু একেবারেই স্বাভাবিক, বিশেষ করে যখন সে অসুস্থ থাকে, দাঁত উঠে অথবা হাঁটা এবং দাঁড়ানোর মত নতুন কিছু শিখতে থাকে। এমতাবস্থায় এসব অসুস্থতার পর শিশুর ঘুমের অভ্যাস ফিরিয়ে আনার জন্য আপনাকে আবার পুনরায় ঘুমের প্রশিক্ষণের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তার আগের অভ্যাস ফিরে আসে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts

Leave a Comment