শিশুর ঘাড় কখন শক্ত হয়

শিশুর ঘাড় কখন শক্ত হয়

শিশুর বসা কিংবা হাটা, চলাফেরা করা, এসবের ভিত্তিই হলো শিশুর ঘাড় শক্ত হওয়া এবং মাথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। জন্মের সময় শিশুর ঘাড়ের হাড় বেশ নরম থাকে, তাই সে নিজের মাথার ভার নিতে পারে না- যার ফলে মাথা নিজে নিজে নিয়ন্ত্রণও করতে পারে না। তবে ধীরে ধীরে একের পর এক শিশুর ঘাড় শক্ত হওয়া, বসা, হামাগুড়ি দেওয়া, হাটা ইত্যাদি মাইলস্টোন তার জন্মের এক বছরের মধ্যে আয়ত্তে আসতে শুরু করে।

এক বছর বয়সে শিশু শোয়া থেকে মাথা কিছুটা তুলতে পারে। ৪ মাস বয়স হলে, তাকে কোনকিছুতে হেলান দিয়ে কিংবা ধরে বসিয়ে রাখলে সে মাথা সোজা রাখতে পারে। এবং ৬ মাস বয়সের মধ্যেই শিশুর ঘাড় শক্ত হয়ে যায় এবং সে তার মাথার ভারসাম্যের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

কিভাবে শিশু মাথার নিয়ন্ত্রণ শেখে?

নবজাতক

জন্মের প্রথম মাসে শিশু তার মাথা ও ঘাড় নিয়ন্ত্রণের জন্যে মায়ের উপর নির্ভর করে। এজনে মা’য়েরা এই বয়সের শিশুদের কোলে নেওয়ার সময় ঘাড়ে ও কোমড়ে ধরে নিজের বুকের কাছে টেনে ধরে, এতে মায়ের এবং শিশুর বন্ধন দৃঢ় হতে থাকে। আপনার সাথে আপনার শিশুর বন্ধনের ভিত্তিটা মজবুত করতে প্রকৃতির কি অদ্ভুত সুন্দর এক নিয়ম!

প্রথম থেকে দ্বিতীয় মাস

প্রথম মাসের শেষ দিকে শিশু যখন পেটের উপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকবে তখন সে কিছু সময়ের জন্য মাথা তুলতে পারবে এবং ডানে বামে ঘুরাতে পারবে। ৬-৮ সপ্তাহে, শিশু যদি সুস্থ সবল থাকে তবে চিৎ হয়ে শোওয়া অবস্থায়ও সে মাথা কিছুটা উপরে তুলতে পারবে।

আপনি যখন তাকে আপনার কাধের উপর রাখবেন,  শিশু মাঝে মাঝে মাথা পুরোপুরি তুলে ফেলবে, যদিও সেটা বেশীক্ষণের জন্যে নয়। এমনকি তাকে গাড়ির সিটে বসিয়ে দিলে সে মাথা তোলার মত শক্তিও অর্জন করে ফেলবে। তবে তাকে তখনই স্ট্রলারে কিংবা বুকে নেওয়ার ব্যাগে নেবেন না, শিশু আপনার কোন সাহায্য ছাড়াই মাথা সোজা রাখার মত শক্তি অর্জন করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

শিশুকে কোলে নেওয়ার জন্যে কোন ব্যাগে নিতে হলে, তার মুখটা খোলামেলা রাখুন এবং আপনি যাতে দেখতে পান সেভাবে রাখুন, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে নিজে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্যে মাথা ঘোরাবার মত শক্তি অর্জন করে।

তৃতীয় থেকে চতুর্থ মাস

এই বয়সে, শিশুর মাথা নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত উন্নতি লক্ষ্য করবেন। তাকে যখন তার পেটের উপর শুইয়ে দেবেন, সে ৪৫° পর্যন্ত মাথা তুলে রাখতে সক্ষম হবে।

শিশুর সাথে এই বয়সে ছোট একটি খেলা খেলতে পারেন যা তার ঘাড়ের পেশী শক্ত করতেও সাহায্য করবে। তাকে চিৎ করে শুইয়ে  দিন।এরপর ধীরে ধীরে তার হাত ধরে টেনে তাকে বসিয়ে দিন। আবার হাত ধরে ধীরে ধীরে আগে অবস্থানে শুইয়ে দিন। এভাবে কয়েকবার করতে পারেন।

এই বয়সে শিশু তার মাথা সোজা করে তুলে রাখতে পারে। তাই এ সময় তাকে বেবি ক্যারিয়ার বা কাঁধে নেয়ার ব্যাগে নেয়া যেতে পারে।

পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ মাস

ষষ্ঠ মাসে, শিশু একদম সোজা করে মাথা তুলতে পারবে, তাকে যখন বসিয়ে দেবেন, সে মাথা সামনের দিকে ঝোঁকাতে সক্ষম হবে। এখন সে স্ট্রলারে বসার মতো প্রস্তুত।

শিশুর মাথা নিয়ন্ত্রনে আপনি কিভাবে সহায়তা করতে পারেন?

শিশুর ঘাড় শক্ত হওয়ায় আপনার আসলে তেমন কিছু করার নেই, কিন্তু এই সময়ে ঘাড় শক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনাকে শিশুর প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। প্রথম কয়েক মাসে, তাকে যখন কোলে নেবেন বা তুলবেন, তাকে মাথা এবং ঘাড়সহ ধরুন।

ঘুমানোর সময় শিশুকে অবশ্য চিৎ করে শোয়ানো উচিত। । সে যখন জেগে থাকবে, মাঝে মাঝে তাকে পেটের উপর ভর দিয়ে (Tummy Time) শোয়ানোর চেষ্টা করুন। সে যখন ঘাড় উঠিয়ে আপনাকে দেখতে চাইবে কিংবা কোন খেলনার দিকে তাকাতে চাইবে, এর মাধ্যমে তার ঘাড়ের শক্তি অর্জনের চর্চাটাও হয়ে যাবে।

শিশুর যখন তিন থেকে ছয় মাস বয়স, তাকে বসানোর চেষ্টা করতে পারেন। তার ঘাড়ে এবং মাথায় যথেষ্ট পরিমান সাপোর্ট পায় এমন জায়গায় তাকে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিন। বালিশের উপর বা কোলে নিয়ে বসতে পারেন যাতে সে আপনার গায়ে হেলান দিতে পারে। এভাবে বাসার বিভিন্ন রুমে তাকে নিয়ে বসুন যাতে সে ঘাড় ঘুড়িয়ে আশেপাশের বিভিন্ন জিনিস দেখতে চায়। তবে যখনই তাকে বসাবেন, তাকে কখনোই একা রেখে চলে যাবেন না, এক মুহূর্তের জন্যও না।

তার ঘাড় পর্যাপ্ত শক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে স্ট্রলারে বসাবেন না।

কি করবেন, যখন দেখবেন আপনার শিশু মাথা তুলছে না?

শিশুর বয়স যখন তৃতীয় মাস, তার যদি তখনও মাথা তুলতে কষ্ট হয়, ডাক্তারের সাথে নিয়মিত চেক-আপের সময়ে সেটা তাকে বলুন। সব শিশু একই বয়সে একই রকম স্কিল শেখে না। কোনোটা আগে পরে হতেই পারে। মাথার নিয়ন্ত্রণটাও একই রকম।

সাধারণ শিশু অপেক্ষা প্রিম্যাচ্যুর শিশুর ক্ষেত্রে মাথা নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আয়ত্বে আনতে তূলনামূলক বেশী সময় লাগে। তবুও আপনি যদি এটা নিয়ে চিন্তিত হন, শিশুর ডাক্তারের সাথে এটা নিয়ে কথা বলতে পারেন।

শিশু মাথা পুরোপুরি তুলতে শিখলো – এর পর?

শিশু যখন মাথা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা শিখে গেল, সে তখন বসার জন্যে, উপুর হয়ে শোয়ার জন্যে কিংবা হামাগুড়ি দেওয়ার জন্যে ধীরে ধীরে প্রস্তুত হতে থাকবে। শক্ত খাবার ঠিকঠাক গিলতে পারার জন্যে এবং উচু চেয়ারে (High Chair) বসার জন্যেও শিশুর ঘাড় শক্ত হওয়া জরুরি।

শিশুর অন্যান্য মাইলস্টোনগুলো সম্পর্কে পড়ুন-

বাচ্চা কোন বয়স থেকে উপুড় হতে বা গড়াতে শেখে?

বাচ্চা কোন বয়স থেকে বসতে শেখে?

বাচ্চা কোন বয়স থেকে হামাগুড়ি দেয়া শুরু করে?

বাচ্চা কোন বয়স থেকে দাঁড়াতে শেখে?

শিশুর হাঁটতে শেখা

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts