ভালো ডাক্তারের ৭ টি বৈশিষ্ট্য

কোন গুণগুলো থাকলে একজন ডাক্তারকে ‘ভালো’ বলা যায়? আপনি যদি এই ব্যাপারটি নিয়ে আগে খুব বেশী একটা চিন্তা না করে থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন, আপনি একা নন, আপনার মতো অনেক মানুষই রয়েছে। How to Choose a Good Doctor বইয়ের লেখক সার্জন জর্জ লেমাইটর বলেন, অধিকাংশ মানুষ নিজের গাড়ি পছন্দ করতে যে সময় নেন, নিজের ডাক্তার পছন্দ করতে এর চেয়েও কম সময় নিয়ে থাকেন।

কিন্তু আপনি যখন গর্ভবতী কিংবা গর্ভবতী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন অথবা শিশুর সঠিক পরিচর্যা নিয়ে ভাবছেন, এমন সংবেদনশীল মুহুর্তে সঠিক ডাক্তার নির্বাচন করা আপনার জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

যখন আপনি কোন ডাক্তারকে দেখাবেন, তিনি এই সমস্যার জন্যে কতটা পারদর্শী, তার অভিজ্ঞতা আপনার কোন কাজে আসবে কিনা সর্বোপরি তিনি ডাক্তার হিসেবে কেমন – তা নির্ণয় করা জরুরি।

এই ব্যাপারে অভিজ্ঞদের সাথে কথা বলে আমরা একজন ভালো ডাক্তারের ৭ টি গুণের একটি তালিকা করেছি যা আপনি আপনার ডাক্তারের মধ্যে দেখতে চাইবেন।

যত্নশীল, আন্তরিক এবং সহানুভূতিশীল মনোভাবের অধিকারী

যদিও ডাক্তারের মনোভাবই সবকিছু নয় কিন্তু এমন ডাক্তারই আপনার পছন্দ করা উচিত যাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন, আপনার সকল সমস্যা খুলে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। আর ডাক্তার যদি আপনার শিশুর জন্যে হয়ে থাকে, সেও যাতে ডাক্তারের সাথে মন খুলে কথা বলতে পারে।

প্রথম দর্শনে আপনার মনে হতে পারে, যত্নশীল কিংবা সহানুভূতিশীলতার গুণটি প্রথম শ্রেণীর সার্টিফিকেটের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু যে ডাক্তার সত্যিই আপনার এবং আপনার শিশুর ভালো চান, তিনি আপনার সকল চিন্তাসমূহকে গুরুত্ব দিবে, আপনার কথা শুনবে, আপনার কিংবা শিশুর মধ্যে কোন রোগের উপসর্গ দেখা দিলে সেগুলো শুনবে, সেগুলো নিয়ে কাজ করবে এবং কোন ঔষুধ ঠিকঠাক কাজ  না করলে কারণ খুজে বের করবে।

লেমেইটার বলেন, “আপনি যখন একজন ভালো ডাক্তার খুঁজছেন তখন সবার আগে একজন ভালো মানুষের খোঁজ করুন যে মানুষের প্রতি আন্তরিক।” একজন ডাক্তারের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং সহানুভূতিশীল ব্যাবহার আপনাকে অনেক কঠিন সময় উতরে যেতে সহায়তা করে। যেমন- যখন আপনি শিশুর জন্ম দিচ্ছেন কিংবা যখন আপনার শিশু অসুস্থ, তখন ডাক্তারের হাসিমুখ অনেক দরকারি একটা জিনিস।

কিভাবে আপনার শিশুকে শান্ত করতে হয় , আপনার ডাক্তার তা জানবেন। জিদ করা শিশুর জিদ কিভাবে ভাঙাতে হয়, স্কুল পড়ুয়া শিশুকে কিভাবে শান্ত করতে হয়, জানবেন সেটাও। ভালো ডাক্তাররা শিশুর সাথে একদম শিশুর মতো মিশে যান, তার বয়স উপযোগী পদ্ধতিতে তাকে বোঝাবার চেষ্টা করেন।

একজন ভালো ডাক্তার কিংবা পুষ্টিবিদ শিশুর সাথে একদম জন্মের পর থেকেই সুসম্পর্ক তৈরী করে ফেলেন, শিশুকে যখন চেকআপ করেন তখন তার সাথে কথা বলেন, তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসেন। এতে করে শিশু যখন বড় হয়ে যায়, তখন সে আর ডাক্তারের কাছে যেতে ভয় পায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে আপনি যখন আপনার একজন পছন্দের ডাক্তার খুঁজে পাবেন তখন আপনি শুধু তার সন্তুষ্ট রোগী থাকবেন না বরং এর আরও একটি বড় উপকার আছে। একজন যত্নশীল ডাক্তার একটি পরিবারের জন্যে আশীর্বাদস্বরূপ। ডাক্তার যত যত্নশীল হয়ে থাকেন, অভিভাবকেরা ডাক্তারকে ততই বিশ্বাস করতে থাকেন, তখন ডাক্তারের চিকিৎসা এবং সব উপদেশ মেনে চলেন। আর অভিভাকদের কপালের চিন্তার ভাঁজটাও মুছে যেতে থাকে।

খোলাখুলি কথা বলা যায় এবং সংবেদনশীল শ্রোতা

একজন ভালো ডাক্তার আপনার ছোট বড় সকল সমস্যা মনযোগ ও যথেষ্ট সময় নিয়ে শুনবেন এবং সে অনুযায়ী পরামর্শ দেবেন।

শুধুমাত্র ভদ্রতা রক্ষা করার জন্যেই যে ডাক্তারেরা মনযোগ দিয়ে কথা শোনেন, তা নয়, সঠিক রোগ নির্ণয় করতে এর বিকল্প কিছু নেই৷ সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ লরলে শুলজ বলেন, “আপনার রোগ নির্ণয় করতে হলে সবার আগে ডাক্তারকে আপনি কি বলতে চান, সব কথা শুনতে হবে।”

চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি আপনার ইচ্ছাকে কতটুকু গুরুত্ব দেন সেটা দেখাও জরুরী। আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন, আপনার অবশ্যই এই মূল্যবান সময়কে ঘিরে অনেক স্বাদ- আহ্লাদ রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন ডাক্তারই পছন্দ করা উচিত, যিনি আপনার সব আহ্লাদ পূরণে আপনাকে সহায়তা করবেন।

ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের মেটারনাল-ফেটাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাক্তার উইলিয়াম বার্থ জুনিয়র বলেন, “গর্ভধারণ নিয়ে ধারণা আদান-প্রদান করতে আমি প্রচুর কাউন্সেলিং করে থাকি। মায়েদের জন্যে কোনটা জরুরি, তাদের সাথে চুপচাপ বসে সেটা নিয়ে ধীর স্থির ভাবে কথা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

আপনার শিশুর সুস্বাস্থ্য নিয়ে যদি চিন্তা করে থাকেন, অবশ্যই এমন ডাক্তার পছন্দ করা উচিত যিনি অন্তত শিশুর বিষয়ে আপনার মতামত এবং সিদ্ধান্তকে,  অন্ততপক্ষে শিশুকে দুধ পান করানো, ঘুম পাড়ানো, টিকা দেওয়া বা অন্যান্য জিনিস নিয়ে আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান এবং কোন উপসদেশ থাকলে তা আপনার সাথে শেয়ার করবেন ।

এক মা জানান, তার ডাক্তার তার শিশুর ঘুমানো নিয়ে এমন কঠিন সব সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছিলেন যে পরবর্তী সময় থেকে ডাক্তারকে এ নিয়ে কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। “তিনি এতটাই কট্টর ছিলেন যে, আমি এ বিষয়ে আর কথাই তুলতে সাহস পাইনি। আর এর পর থেকে ডাক্তারের অন্যসব উপদেশ শুনতেও আর ভরসা পাইনি।” পরিশেষে তিনি ডাক্তার পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।

সাম্প্রতিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত এবং বোঝানোর ক্ষমতা

আপনি ডাক্তারের কাছে যে সমস্যা নিয়ে এসেছেন, একজন ভালো ডাক্তার শুধু সেই সমস্যা নিয়েই কাজ করে না, পাশাপাশি আপনার আরো কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা এগুলো নিয়ে কথা বলে এবং আপনার মধ্যে বড় কোন অসুখ তৈরি হচ্ছে কিনা সে সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং কিভাবে স্বাস্থ্য আরো ভালো করা যায়, সে ব্যাপারে চিন্তিত থাকে। আর এটা করার জন্যে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রের নিত্যনতুন জ্ঞান বিজ্ঞান সম্বন্ধে অবগত থাকেন।

ভালো ডাক্তারেরা এসব জ্ঞান নিজেরা জানার পাশাপাশি শিশুর অভিভাবকদেরও সে সব জানাতে আগ্রহী থাকেন। মেডিকেলের ভাষায় নয়, বরং তারা বুঝতে পারে এমন ভাষায় সেগুলো জানান।

আপনার, আপনার শিশুসহ পরিবারের সকলের স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখতে আপনার কি কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, আপনার পরিবারের খাদ্যতালিকা, পুষ্টির সঠিকভাবে বন্টন হচ্ছে কিনা সে সংক্রান্ত তথ্য সবই আপনি আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে আশা করবেন। সুস্থ ও স্বাভাবিক গর্ভাবস্থা সম্বন্ধে আপনার ডাক্তার ব্যাবহারিকভাবে অবগত থাকবেন, এমনকি কি কি উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিলে বোঝা যায় যে কোন সমস্যা হচ্ছে, সেসব সম্পর্কেও সচেতন থাকবেন এবকং আপনাকে সতর্ক করবেন।

আর আপনি যদি প্রথমবারের মতো মা হয়ে থাকেন, তবে আপনার ডাক্তারই বুকের দুধ পান করানো, ফর্মুলা খাওয়ানো, শিশুকে শক্ত খাবারের সাথে পরিচয় করানো, টিকাপ্রদানসহ শিশু ঠিকঠাক বেড়ে উঠছে কিনা সে সম্বন্ধে তথ্য সরবরাহ করে আপনার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবে অনেকাংশে।

“শিশুর অভিভাবকের স্বাস্থ্যসচেতন করা একজন ভালো ডাক্তারের কাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ”, বলছিলেন আটলান্টার পুষ্টিবিদ এবং আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের মুখপাত্র জেনিফার শু। তিনি বলেন, “নতুন বাবা-মা হয়েছেন যারা, তারা তো জানেন না যে ডাক্তারকে কোন প্রশ্নটা করা দরকার, সেক্ষেত্রে ডাক্তারকেই ভবিষ্যৎবাণী করতে হবে। ডাক্তারের উচিত সময়ের আগেই শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশ সম্বন্ধে তাদের জানানো এবং কি কি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া।”

সুনামধারী পরিচয়ের অধিকারী

আপনার একজন বন্ধু বললো, তাই এই ডাক্তারকে দেখাবেন- এমন না হয়ে বিশেষ ক্ষেত্রে সুনাম রয়েছে এমন ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই শ্রেয়। আশেপাশের লোকজনের মুখের কথা শুনেই অধিকাংশ মানুষ ডাক্তার পছন্দ করে থাকেন। সেটা খারাপ না, কিন্তু কথা বলার ক্ষেত্রে অনেক বেশী মানুষের সাথে কথা বলে নিলে ভালো, তাহলে আপনার কাছে অনেক বেশী অপশন থাকবে, আপনি তুলনা করার সুযোগ পাবেন।

“কেউ যখন কোন নতুন একটি জায়গায় এসে বসবাস শুরু করে, আমি তাদের উপদেশ দেই ডাক্তার পছন্দ করার জন্যে আশেপাশে যাকে পাবে, সবার সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে। যে নামটি সবচেয়ে বেশী সামনে আসবে, সে নামের উপরেই আমি ভরসা রাখতে বলবো”, বলছিলেন বে এরিয়ার পুষ্টিবিদ শুলজ!

আর যখন আপনি কোন বিশেষজ্ঞের খোঁজ করছেন, সেক্ষেত্রে আপনার বতর্মান যে নিয়মিত ডাক্তার রয়েছেন বা পরিচিত কোন ডাক্তারের সাথে কথা বলে পছন্দ করতে পারেন।

আপনি অনলাইনেও বিভিন্ন সাইটে কিংবা ফেসবুকে ভালো ডাক্তারের খোঁজ করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে শুধু দু-একটি রিভিউ দেখে কোন ডাক্তারকে বিচার করা ঠিক হবে না। যে নামগুলো বেশী বেশী সামনে আসছে, সেগুলোর তালিকা করুন, যাকে নিয়ে ইতিবাচক রিভিউ বেশী, তার উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন। আর কোন ডাক্তারের বড় কোন ভুল অথবা নৈতিকতা নিয়ে রিপোর্ট আছে কিনা তা জানতে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন।

সহজেই এপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়

একজন ভালো ডাক্তারের অফিসের সময়, চেম্বারের সময় নির্দিষ্ট থাকে এবং তার সকল রোগীদেরও তা অবগত করেন এবং ছুটির দিনেও কখন তার থেকে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে তা জানিয়ে রাখেন। একজন ভালো ডাক্তারকে যদি তৎক্ষণাৎ ফোন কলে পাওয়া না যায়, তিনি শীঘ্রই কল ব্যাক করেন। ডাক্তারের সান্যিধ্য পাওয়া আপনার জন্যে যত দ্রুত হবে, আপনার জীবন ততটাই সহজ হয়ে উঠবে।

আপনি যখন আপনার শিশুর জন্যে ডাক্তার ঠিক করবেন, আগে দেখুন ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট সহজে পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে কিনা। একজন শিশুর প্রায় সবকিছুই অনিশ্চিত। ডাক্তার পছন্দের আগেই দেখে নিন ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট বাতিল করার পলিসিটা কি।

অনেক অফিস থাকে যেখানে এপয়েন্টমেন্ট বাতিলের আগে যথেষ্ট নোটিস না দিলে তারা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চার্জ করে। এছাড়াও প্রতিদিন তারা কিছু খালি এপয়েন্টমেন্ট রেখে দেয় কিনা, তাও জিজ্ঞেস করে নেবেন কারণ যে কোন জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত আপনার ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া লাগতেই পারে।

আপনি যদি আপনার ডেলিভারি করানোর জন্যে কোন ডাক্তার কিংবা নার্স নির্বাচন করতে চান, সেক্ষেত্রে তাকে ফোনে আর্জেন্টলি পাওয়া যায় কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। গর্ভাবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময় যেখানে খুব জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সে সময়ে আপনি এমন ডাক্তারকেই চাইবেন যাকে সহজেই ফোনে পাওয়া যায়, তাতে পরিবারের কষ্ট অনেকটাই কমে যায়।

সবশেষে খেয়াল রাখবেন, আপনি যে ডাক্তার দেখাবেন, তার চেম্বারের লোক কিংবা অফিস স্টাফেরা যথেষ্ট মানসম্পন্ন কি না।

ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের ডাক্তার বার্থ বলেন, “আমার একজন অসাধারণ সহকারী নার্স আছেন, আমার রোগীদের মতে- তিনি কখনো কখনো আমার চেয়েও বেশী দায়িত্বশীল। তিনি আমাকে সবসময় ফোনে সবকিছু সম্বন্ধে অবগত রাখেন এবং আমাকে কখনোই কোন এপয়েন্টমেন্ট মিস হয়ে যেতে দেয় না। সে রোগীদের সাথে অনেক্ষণ ধরে কথা বলে, যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সে ঠিকঠাক জানে, তার জবাব দেয়। রোগীরা কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকলে তাদের শান্ত করে, সাহস জোগায়।”

আপনার সময়কে শ্রদ্ধা জানায়

গর্ভবতী অবস্থায় বা আপনার শিশুর জন্যে যখন ডাক্তার খুঁজবেন, আগে দেখে নিন ডাক্তারের চেম্বারে সাধারণত কত সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। তবে এটা মাথায় রাখুন যে, আপনার সময়কে শ্রদ্ধা করা মানে কিন্তু এই না যে আপনাকে একদমই অপেক্ষা করতে হবে না।

শুলজ বলেন, “আমি একেকজন রোগীকে আলাদা আলাদা কেস ধরে, যথেষ্ট সময় নিয়ে চেক আপ করি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। আমার কাছে একজন পেটের ব্যাথায় আক্রান্ত শিশু আসুক কিংবা আত্মহত্যা করতে চাওয়া হতাশাগ্রস্ত তরুণ আসুক, আমি তার সাথে যত সময় প্রয়োজন ততক্ষন ধরেই কথা বলবো, সমস্যা খোঁজার চেষ্টা করবো- এক্ষেত্রে আমি ঘড়ির দিকে তাকাবো না। হ্যা, তার পরের যিনি আছেন, তার হয়তোবা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তার ক্ষেত্রে কেসটা আরো জরুরি কিছু হতে পারে, তবে আমি তাকে নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমি তাকেও ঠিক একইভাবে সময় নিয়ে পরীক্ষা করবো এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সহকারী কিংবা অফিসের স্টাফদের আপনাকে সহায়তা করতে হবে। সপ্তাহের ব্যস্ততম দিনেও তারা সচেষ্ট থাকবে যাতে আপনি কল করলে আপনাকে অনির্দিষ্ট সময় ধরে অপেক্ষা করতে না হয়, ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পেতে অনুমানিক কত সময় ধরে অপেক্ষা করতে হবে, তারা জানিয়ে দেবে সেটাও।

ডাক্তারের সঠিক সার্টিফিকেট এবং লাইসেন্স আছে

আপনার দেখা সবচেয়ে খারাপ ডাক্তারটিরও বেশ ভালো ডিগ্রী অথবা প্রশংসাপত্র থাকতে পারে। তাই শুধু ডিগ্রী দেখে ডাক্তার যাচাই করা উচিত কাজ নয়। “একজন ডাক্তার একটা খারাপ মেডিকেল কলেজের শ্রেষ্ঠ ছাত্র হতে পারে, আবার একটা ভালো কলেজের খারাপ ছাত্রও হতে পারে। আমি বেশ কিছু ভালো ডাক্তারকে চিনি যারা এমন কলেজে পড়েছেন, যেসব কলেজের নামও আমি কখনো শুনিনি।” ডাক্তারের ডিগ্রী নিয়ে বলছিলেন বে এরিয়ার শুলজ।

তারপরও, কিছু কিছু ব্যাপার আছে যা থাকা বাধ্যতামূলক, যেগুলো না থাকা ডাক্তারের কাছে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রত্যেকটি ডাক্তারই চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যচেলর ডিগ্রীধারী হলেও তাদের রোগী দেখার লাইসেন্স আছে কিনা তা ঠিকঠাক আগেই জেনে নিন। আপনার ডাক্তার কোন ভালো হাসপাতালের কিনা, তাও দেখে নিন। আপনি অবশ্যই চাইবেন আপনার ডাক্তার এমন ভালো, সুখ্যাত হাসপাতালের হোক, যেখানে যে কোন জরুরি মুহুর্তে আপনি আপনার শিশু কিংবা পরিবারের যে কাওকে নিয়ে সহজেই যেতে পারেন৷

কোন হাসপাতালে কর্মরত নেই কিংবা কোন দুর্নাম রয়েছে এমন হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছে যেয়ে অযথা ঝুঁকি নেয়ার প্রয়োজন নেই। হাসপাতাল ভালো কিনা খারাপ তা জানতে অনলাইনে জিজ্ঞেস করার পাশাপাশি পরিচিতজনদের কাছেও জানতে চাইতে পারেন।

আপনি যে হাসপাতালে ডেলিভারি করাবেন, সেখানকার নার্সরা কেমন দক্ষ সেটা আগে জেনে নিন। সেক্ষেত্রে এখান থেকে আগে ডেলিভারি করিয়েছেন এমন মানুষদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলুন। ডাক্তার বার্থ বলেন, “ডেলিভারির আগে আগে ডাক্তারের চেয়েও বেশী সময় ধরে মায়ের সাথে থাকেন যিনি, তিনি হলেন হাসপাতালের পরিচারিকা এবং নার্সরা। আমি হয়তো প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় এসে অবস্থা বুঝে যাচ্ছি কিন্তু নার্সরা সর্বক্ষণ একজন মায়ের সাথে কাটান এবং এই সংবেদনশীল সময়ে তাদের অভিজ্ঞতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়”।

আরেকটি ব্যাপারে নজর রাখবেন, তা হলো- আপনার ডাক্তার কোন ডাক্তারদের গ্রুপ বা কমিটির সদস্য কিনা। যেসব ডাক্তাররা এরকম গ্রুপের সদস্য হয়ে থাকেন, তাদের কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত ভালো সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনই গ্রুপের সদস্য শুলজ বলেন, “আমরা ডাক্তারেরা সবাই মিলে একসাথে বসে বিভিন্ন কেস নিয়ে কথা বলি, নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন আদান প্রদান করি, একসাথে মিলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। আমাদের রোগীরা আমাদের সমন্বিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা থেকে অপেক্ষাকৃত বেশী উপকৃত হন”।

অনেক গ্রুপের সদস্যরা আবার রোগীদের আরো বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। যেমন – কোন ডাক্তারের রোগীরা সে ডাক্তারের ছুটির দিনে জরুরি প্রয়োজনে গ্রুপের অন্য আরেকজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts