কিভাবে নবজাতক শিশুর জন্য তৈরি ফর্মুলা দুধের নিরাপদ ব্যাবহার নিশ্চিত করবেন

Updated on

ফর্মুলা দুধ প্রস্তুত করা তেমন কঠিন কিছু নয়, তবে শিশুর সঠিক পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করার জন্য এতে পরিমাণমত পানি মেশানো জরুরী।এছাড়াও বিশেষ করে নবজাতক শিশুর শরীরে যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো সেভাবে  তৈরি হয়নি, তাই একটু বাড়তি সতর্কতা থাকাও উচিৎ।  আর এই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য যে সকল বিষয় আপনার জানা দরকার, আমরা সেগুলোই নিম্নে তুলে ধরছিঃ

ফর্মুলা ব্যাবহারের শেষ সময় (ExpiryDate) দেখে নিন

আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মতই ফর্মুলা দুধের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য প্রত্যেকটি ফর্মুলা দুধের কৌটায় ব্যাবহারের শেষ সময় উল্লেখ করা থাকে। একইভাবে বাড়তি সতর্কতা মূলক ভাবে আপনি (যদি একসাথে অনেকগুলো ফর্মুলা কিনে থাকেন) প্রত্যেকটা প্যাকেট ব্যাবহারের পূর্বেই ব্যাবহারের শেষ সময় চেক করে নিন।

যদি একসাথে অনেকগুলো দুধের প্যাকেট কিনতে চান তবে কেনার আগের মাস খানেক অপেক্ষা করুন।এতে করে আপনি আপনার শিশুর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জেনে নিতে পারবেন এবং আপনি বুঝতে পারবেন ঠিক কতগুলো প্যাকেট একসাথে কিনলে সবগুলোই আপনি ব্যাবহারের শেষ সময় অতিক্রম করার আগেই শেষ করতে পারবেন।

ফর্মুলা দুধ কেনার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যাতে করে এর প্যাকেটের মধ্যে কোন ফুটো না থাকে। আর যদি সেটা টিনের পাত্র হয়ে থাকে তাহলে এ ধরনের ক্রুটি অবশ্যই পরিহার্য। এ সমস্ত ক্রুটি ফর্মুলা দুধ এর জন্য খুবই ক্ষতিকারক, কেননা এতে করে টিনের পাত্রটিতে জং ধরে যেতে পারে এবং ফর্মুলা দুধ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।একটি সামান্য ফুটোর কারণে পুরো এক প্যাকেট দুধ নষ্ট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই কেনার পূর্বে ভালো করে দেখে নিন।

এছাড়াও যদি ভুলবশত ব্যাবহারের শেষ সময় পার হয়ে যাওয়া পণ্য কিনে ফেলেন, তবে এটা খুলে ফেলার আগেই আপনি দোকানে ফেরত দিয়ে নতুন আরেকটি ফর্মুলা দুধ নিয়ে নিতে পারবেন।

ফর্মুলা দুধ শুষ্ক ও ঠাণ্ডা জায়গায় রাখুন, তবে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা স্থান পরিহার করুন

অতিরিক্ত গরম এবং ঠাণ্ডা ফর্মুলা দুধের গুণগত মান নষ্ট করে দিতে পারে, আর তাই আপনার অব্যবহৃত ফর্মুলা দুধটি অবশ্যই শুষ্ক এবং ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। তরল এবং পাউডার ফর্মুলা দুধ সংরক্ষণের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন সহনীয় মাত্রা যথাক্রমে ৫৫ ডিগ্রি এবং ৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট।তবে খেয়াল রাখবেন কখনোই যেন এর তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রির উপরে না উঠে এবং ৩২ ডিগ্রির নিচে না নেমে যায়।

আপনার বাসার ক্যাবিনেট ও শেলফেও এটা সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে সেটা যেন স্টোভ, ওভেন অথবা গরম পানির পাইপের আশেপাশে না হয়। কোন অবস্থাতেই ফর্মুলার কৌটা সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে অথবা ফ্রিজের মধ্যে রাখবেন না।

তরল ফর্মুলা দুধের কৌটাটি যখন খুলে ফেলবেন, তখন কৌটার গায়ে সংরক্ষণের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। বেশিরভাগ প্রস্ততকারকের পরামর্শ হল খুলে ফেলা কৌটাটি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ঢেকে রেখে ব্যাবহার করা যায়।

পাউডার ফর্মুলা দুধের ক্ষেত্রে এর কৌটা ফ্রিজে না রাখাই ভালো। তবে এর সাথে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে ফর্মুলা দুধের প্যাকেটটি যেন ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে যায়গায় না রাখা হয়। এতে করে পাউডার জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে এর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া পাউডার দুধের কৌটো খুলে ফেলার পর, সর্বচ্চো একমাস এর মধ্যেই ব্যাবহার করে ফেলুন।

বাচ্চার ফর্মুলা তৈরিতে নীচের পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করুন

১। ফর্মুলা তৈরির সরঞ্জামগুলো সব ভালোমতো ধুয়ে নিন

ফিডার এবং নিপলটি জীবাণুনাশক করে ফেলার জন্য সাবান পানি দিয়ে খুব আলতোভাবে ব্রাশ করে এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ঝাঁকিয়ে ধুয়ে নিন। বিশেষজ্ঞদের মতে ফর্মুলা দুধ প্রস্তুত করার জন্য সকল উপকরণ যেমন ফিডার, নিপল, পরিমাপের কাপ, চামচ সবকিছুই স্ট্যারিলাইযার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ কেউ বলেন, আপনার এলাকায় যদি নিরাপদ পানির সাপ্লাইথাকে তাহলে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। তবে আপনার শিশুর বয়স যদি ৩ মাসের কম হয় তাহলে স্ট্যারিলাইযার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নেয়াই ভালো।

প্রয়োজনে এই জীবাণুমুক্ত করন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে আপনার নিকটবর্তী শিশু ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স(এ,এ,পি) একটা বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলে,যাতে করে প্ল্যাস্টিকের কোন বোতল/ফিডার ফুটন্ত পানি, ডিশওয়াশার, মাইক্রোওয়েভ অথবা কোন উচ্চতাপমাত্রার যন্ত্র দিয়ে পরিষ্কার না করা হয়। কেননা উচ্চ তাপমাত্রা প্ল্যাস্টিকের বোতলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। আপনার প্ল্যাস্টিকের বোতলটি কুসুম গরম পানিতে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়াও আপনি কাঁচের অথবা স্টেইনলেসস স্টিলের তৈরি বোতল ব্যাবহার করুন, এ ধরনের বোতল ডিশওয়াশার দিয়ে বা ফুটন্ত পানিতে দিয়ে পরিষ্কার করাটা আপনার শিশুর জন্য নিরাপদ।

প্রতিবার ফর্মুলা দুধ খাওয়ানোর পর পরই বোতল ধুয়ে ফেলা ভালো, কেননা এতে করে ফর্মুলা দুধ বোতলে শুকিয়ে আটকে থাকতে পারেনা। পরিষ্কার করার পূর্বে ফিডার থেকে নিপল, ঢাকনা ইত্যাদি খুলে ফেলুন এতে করে বোতলটি ভালোভাবে পরিষ্কার হবে। 

আপনি যদি জীবাণুমুক্ত করতে স্ট্যারিলাইয করতে চান, তাহলে ব্যাবহারের পূর্বে পাঁচ মিনিটের মত আপনার কাঁচের অথবা স্টিলের তৈরি বোতলটি ফুটন্ত পানিতে রেখে দিন। এছাড়াও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে  সমপরিমাণ পানি ও ভিনেগার দিয়ে নিপলটি ধুয়ে নিতে পারেন।

ভেজা বোতল এবং আনুষঙ্গিক সবকিছু খোলা বাতাসে শুকিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন। মনে রাখবেন,কোন অবস্থাতেই ডিশ টাওয়েল দিয়ে বোতল শুকাবেন না কারণ তাতে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে।  যদি আপনার তাৎক্ষনিক ভাবে বোতলটি ব্যবহার করতে হয়, তাহলে টিস্যু অথবা কাপড়ের  টাওয়েল দিয়ে বোতলটি মুছে নিতে পারেন। 

তবে নিপলটি হাসপাতাল অথবা ডক্টরের চেম্বার থেকে স্যাম্পল হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে,তাহলে আপনি সেটা সরাসরি ব্যাবহার কতে পারবেন। কেননা এগুলো জীবাণুমুক্ত করেই প্যাকেট করা হয়ে থাকে।তবে সেগুলো কিন্তু শুধুমাত্র একবার ব্যাবহার করার জন্যই, আর তাই একবার ব্যবহারের পরেই নিপলটি ফেলে দিন।

২। ফর্মুলা দুধের কৌটাটি খোলার আগে কৌটার উপরের অংশ ধুয়ে শুকিয়ে নিন

এতে করে কৌটার উপর কোন ধুলো ময়লা অথবা তরল পদার্থ জমে থাকলে সেটা পরিষ্কার হয়ে যায়। এছাড়াও যদি আপনি ক্যান ওপেনার দিয়ে টিনের কৌটোটি খুলেন, তাহলে প্রতিবার ব্যাবহারের পূর্বে ক্যান ওপেনারটিও ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন।

৩। নিজের হাত পরিষ্কার করুন

ফর্মুলা দুধ তৈরির আগে নিজের হাত পরিষ্কার আছে কিনা সে ব্যাপারে সতর্ক হন। সাবান এবং কুসুম গরম পানিতে কমপক্ষে বিশ সেকেন্ড ধরে ধুয়ে নিন এবং টিস্যু অথবা কাগজের টাওয়েল দিয়ে হাত শুকিয়ে নিন।

৪। ফর্মুলা দুধ তৈরি করার সময় প্যাকেটের নির্দেশনা অনুসরণ করুন

একেক কোম্পানির ফর্মুলা দুধ তৈরি করার নির্দেশনা একেক রকম হতে পারে। এছাড়াও পানি মেশানোর পরিমাণ অনেকাংশে নির্ভর করে দুধটি পাউডার অথবা তরল কি না তার উপর। আর তাই প্যাকেটের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করুন।

ফর্মুলা দুধে খুবই সামান্য পরিমাণ পানি মেশানো আপনার শিশুর কিডনির জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। এতে করে আপনার শিশু পানিশুন্যতাতেও ভুগতে পারে। অপরদিকে বেশি পরিমাণ পানি মেশালে ফর্মুলা দুধের গুণগত মান নষ্ট নয়ে যেতে পারে এবং এমনটা যদি প্রায়শই ঘটতে থাকে তাহলে বাচ্চার সঠিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তাই এই পরিমাপটি সঠিক রাখার জন্য ফিডারের পরিমাণের দাগ অনুসরণ না করে এই পরিমাপের জন্য ফর্মুলার কৌটার সাথে দেয়া কাপ ব্যাবহার করাটাই শ্রেয়।

৫। পরিষ্কার এবং নিরাপদ পানি ব্যাবহার করুন

আপনার ফর্মুলা দুধটি পাউডার অথবা তরল যাই হোকনা কেন অবশ্যই পরিষ্কার এবং নিরাপদ পানি ব্যাবহার করুন। 

আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স(এ,এ,পি) এ সম্পর্কে বলে, আপনি চাইলে ট্যাপের পানিও ব্যাবহার করতে পারেন যদি সেটা আপনার স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নিরাপদ এবং বিশুদ্ধপানি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়ে থাকে। ট্যাপের পানি নিরাপদ হওয়ার পরেও সেটা ব্যাবহারের আগে কমপক্ষে এক অথবা দুই মিনিটের জন্য চালু রাখুন। এতে করে যদি কোন ময়লা ট্যাপের মধ্যে লেগেও থাকে তাহলে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এছাড়াও পানি সরবরাহের জন্য আপনার যদি নিজস্ব কোন ব্যবস্থা থাকে (যেমন টিউবওয়েল) তাহলে ফর্মুলা দুধ তৈরি করার আগেই সেই পানি বিশুদ্ধ ও নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা করে নিন।

পানি বিশুদ্ধ করন সম্পর্কে আমেরিকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলে, পানি ফুটার এক মিনিটের মধ্যেই সেটা নামিয়ে নিন এবং ঠাণ্ডা হতে কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট সময় দিন। কেননা পানি যদি অতিরিক্ত ফুটানো হয়ে থাকে, তাহলে এতে করে পানির গুণগত মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

The Centers for Disease Control এর নির্দেশনা এ সম্পর্কে একটু ব্যতিক্রম। তারা বলেন, পানি ফুটন্ত অবস্থাতেই ফর্মুলা দুধ তৈরি করে নেয়া ভালো। এতে করে যে কোন প্রকার ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।কেননা মাঝে মাঝে পাউডার দুধে ক্রোনোবেক্টর নামক এক ধরনের বিরল কিন্তু ক্ষতিকারক জীবাণু পাওয়া যায়। যদি এটা পাউডার ফর্মুলা দুধে থেকে থাকে তাহলে পানি ফুটার সাথেসাথেই (১৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর নিচে তাপমাত্রা নেমে আসার আগেই) যদি পাউডার দুধ তৈরি করা হয়, সেক্ষেত্রে জীবাণুটি মারা যায়।

ফর্মুলা দুধ তৈরি করার ক্ষেত্রে বোতল জাত অথবা ফিল্টার করা পানি ব্যাবহার না করায় ভালো। এটা মনে রাখতে হবে, পানি ফিল্টার করার ক্ষেত্রে, ফিলটারটি যদি নিয়মিত পরিবর্তন না করা হয় তাহলে এতে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে।

নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আপনার এলাকার পানি নিরাপদ কিনা জেনে নিন। আরো জেনে নিন যে, ফর্মুলা দুধ তৈরির ক্ষেত্রে এইপানি আপনাকে ফুটিয়ে ব্যাবহার করতে হবে কি না।

তৈরি করা ফর্মুলা দুধ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাবহার করে ফেলুন আর বাকিটুকু ফেলে দিন

পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আপনার শিশু কি পরিমাণ ফর্মুলা দুধ খেতে পারে, ঠিক সেই অনুসারে একবারে প্রস্তুতকরে নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, যদি আপনি চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত তৈরি করা ফর্মুলা দুধটি ব্যাবহার করতে চান তাহলে তৈরি করার সাথে সাথেই সেটা ফ্রিজে রেখে দিন। খেয়াল রাখবেন যাতে করে এটা খোলা যায়গায় ঠাণ্ডা না হতে পারে, এটাকে অবশ্যই ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুসারে চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত আপনার শিশুকে খাওয়াতে পারবেন।

ফিডারে যে পরিমাণ দুধটুকু নিয়েছেন, সেটা যদি আপনার শিশু পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে না পারে তাহলে বাকিটুকু ফেলে দিবেন। মনে রাখবেন আপনার শিশুর মুখ থেকে জীবাণু ফিডারের মধ্যে চলে গেলে সেটা একঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পর যদি খাওয়ান তাহলে আপনার শিশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে ফর্মুলা দুধের অপচয় এবং সময় বাঁচানোর জন্য পরামর্শ হল, একসাথে ২৪ ঘণ্টার পরিমাণে তৈরি করে নিন এবং সেটা বেশ কয়েকটা তিন-চার আউন্সের বোতলে নিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। এতে করে আপনি সারাদিন সেই ফর্মুলা দুধ ব্যাবহার করতে পারবেন।

তৈরি করা ফর্মুলা দুধটি ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন

আপনার রুমের নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রা ফর্মুলা দুধের মধ্যে জীবাণুর সংক্রমণের জন্য খুবই উপযোগী। তাই ফর্মুলা দুধটি বানানোর সাথে সাথেই আপনা শিশুকে খেতে দিন। সাধারণ তাপমাত্রায় যে দুধটুকু প্রায় এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে রাখা হয়েছে সেটা ফেলে দিন।

আপনি যদি ফর্মুলা দুধের বোতল নিয়ে বাইরে বের হতে চান, তাহলে সেটা তাপ রোধী ব্যাগে ঢুকিয়ে নিন।

খাবারের কারণে অসুস্থতার লক্ষণগুলো জেনে নিন

খাবার জনিত অসুস্থতার সবচাইতে সাধারণ উপসর্গ হল বারবার বমি এবং ডায়রিয়া। আপনার শিশুর মধ্যে যদি এই ধরনের কোন উপসর্গ দেখা যায় তাহলে সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। কেননা শিশুদের জন্য এই ধরনের খাবার জনিত রোগ খুবই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এর ফলে ডিহাইড্রেশন এবং কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এই সামান্য খাবার জনিত অসুস্থতার কারণে আপনার শিশুটি মারাও যেতে পারে।

যে কোন সমস্যায় সাথে সাথে কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করে দিন

সাধারণত ফর্মুলা দুধের ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের দূষণের অথবা রোগের জীবাণু পাওয়া গেলে সাথে সাথে কোম্পানি সেটা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। তাই এই ধরনের প্রত্যাহারের ঘোষণা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখুন।

ফর্মুলা দুধের ক্ষেত্রে যদি আপনার কোন ধরনের অভিযোগ থাকে, বিশেষকরে আপনি যদি মনে করেন এই ফর্মুলা দুধটি আপনার শিশুকে অসুস্থ করে দিচ্ছে তাহলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করে দিন। সেই ফর্মুলা দুধের বোতলটি ফেলে না দিয়ে সাথে রাখুন,যাতে করে আপনি অভিযোগ করার সময় কোম্পানি ও প্যাকেটটি সম্পর্কে যে কোন ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে সক্ষম হন।    

এছাড়াও ফর্মুলা দুধের প্রস্ততকারক কোম্পানিকেও আপনার সমস্যা সম্পর্কে অতিবাহিত করুন। প্যাকেটের গায়ে কোম্পানির “কাস্টোমারসার্ভিস” এর নাম্বারটিতে যোগাযোগ করুন।

সবার জন্য শুভকামনা। 

Related posts