গর্ভাবস্থায় হঠাৎ পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা পেটে টান লাগা অনুভূতি কেন হয়?

গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যাথা সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই সময়ে বেশ কিছু কারণের জন্য পেটে ব্যথা হওয়া, পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা পেটে হঠাৎ টান লাগা অনুভূতি হওয়া  স্বাভাবিক। কারণ এসময়ে নারীদের দেহের অনেক অঙ্গের মাঝে পরিবর্তন ঘটে, জরায়ু আকারে বড় হয়ে যায়, লিগামেন্ট টান টান হয়ে যায়।

বাচ্চার ওজন বহন করার কারনে এ সময় মায়েদের শরীরের পেশী, জয়েন্ট এবং শিরার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যার কারণে পাকস্থলীর আশপাশের জায়গাগুলোতে অস্বস্তি বোধ হয়।

তবে তাই বলে সব ব্যাথাকেই স্বাভাবিক ভাবা উচিত নয়। যখন পেটে ব্যথা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন অবশ্যই চিন্তার কারণ রয়েছে ও সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তাই এ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরী যাতে গর্ভাবস্থায় এসবের সম্ভাব্য কারণ ও লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারনা থাকে এবং ভয়ের কোন কারণ থাকলে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া যায়।

প্রথম ট্রাইমেস্টার

প্রথম ট্রাইমেস্টারে মায়দের পেট শক্ত লাগা বা টান টান অনুভূতি হতে পারে কারণ এ সময় মায়ের জরায়ু তার গর্ভের সন্তানের বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে থাকে। এর সাথে আরও কিছু অনুভূতি হতে পারে, যেমন- পেটের পাশে তীক্ষ্ণ ব্যাথা।  এর কারণ হলো- এসময় পেটের পেশী গুলো টান টান হয়ে যায় এবং লম্বা হতে থাকে।

গর্ভপাত

প্রথম ট্রাইমেস্টারে পেট টান টান হয়ে যাওয়ার সাথে তীক্ষ্ণ ব্যাথা গর্ভপাতের লক্ষণ হতে পারে। ডিম্বানু নিষিক্ত হওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ মাসের (২০ সপ্তাহ) মধ্যে যে কোন সময়ে প্রসবের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যাওয়াকেই মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত বলে।

অনেক কারনেই গর্ভপাত হতে পারে। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়না। যদি প্রথম ট্রামেস্টারে গর্ভপাত হয় তবে তা সাধারনত ভ্রুনের কোন সমস্যার কারনে হয়। প্রতি চারটি গর্ভপাতের তিনটি প্রথম ট্রাইমেস্টারে হয়।

যদি দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে গর্ভপাত হয় তবে তা সাধারনত মায়ের কোন শারীরিক সমস্যার কারণে হয়। এ ধরনের গর্ভপাত সাধারনত কোন ধরনের ইনফেকশনের কারনে হতে পারে যার কারনে পানিপূর্ণ থলিটি কোন ব্যাথা বা রক্তপাত ছাড়াই ভেঙ্গে যায়। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে জরায়ু মুখ আগে আগে খুলে যাওয়ার কারনেও গর্ভপাত হতে পারে।

গর্ভপাতের লক্ষণ গুলোর মধ্যে  আছে-

  • পেট শক্ত বা টান টান হয়ে যাওয়া।
  • প্রথমে পিঠের বা কোমড়ের দিকে ব্যথা হয়।
  • ব্যথা অনেকক্ষণ স্থায়ী হয়।
  • বাদামি  বা উজ্জ্বল  লাল রক্ত যাওয়া, সাথে cramping বা পেটের বা কোমড়ের পেশীর সংকোচন থাকতে পারে নাও পারে।
  • অতিরিক্ত রক্ত গেলে, ঘণ্টায় ১টার বেশি প্যাড ভিজলে।
  • হঠাৎ রক্তপাত হলে।

এ ধরনের লক্ষন দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারকে জানাতে হবে।

দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার

গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় তিনমাসের মধ্যে, জরায়ু অনেকটুকু বড় হয়ে যাবে এবং আপনার শ্রোণী হাড় এবং নাভির মধ্যে আটকে যাবে। এই সময় জরায়ু পেটের দেয়ালে চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে , আপনার পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা টান টান হয়ে যাওয়া  অনুভূতি হয়।  দিন এগোতে থাকলে এই অনুভূতি বেশ স্বাভাবিক হয়ে যায়।  এই অবস্থা অনেক গর্ভবতী মহিলাদের জীবনেই ঘটে থাকে|

কিছু ক্ষেত্রে, এই অনুভূতি গর্ভাবস্থার ১২ সপ্তাহের  পরে হতে পারে।  বাস্তবে, প্রথম তিনমাসের সময় এটা ঘটে যখন জরায়ু প্রসারিত হতে শুরু করে। তাছাড়া, যখন দ্বিতীয় তিনমাসের সময় শিশুর বৃদ্ধি ঘটে, পেটে অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তখন মায়েদের এ ধরনের অনুভূতি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় পেট শক্ত হয়ে যাওয়া, মায়ের দেহের ধরনের উপরেও অনেকটা নির্ভর করে। গর্ভাবস্থায় রোগা এবং মোটা মহিলাদের পেট শক্ত হয়ে যাওয়া অনুভূতি বিভিন্ন হতে পারে। প্রধানত, রোগা মহিলারা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এটি অনুভব করেন এবং মোটা মহিলারা তৃতীয় তিনমাসের মধ্যে তা অনুভব করে থাকেন।

রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন

মেয়েদের পেলভিসে একজোড়া লিগামেন্ট থাকে যা রাউন্ড লিগামেন্ট নামে পরিচিত। এগুলোর কাজ হোল জরায়ুকে সঠিক স্থানে ধরে রাখা। গর্ভধারণের আগে এ লিগামেন্টগুলো পুরু এবং ছোট থাকে। গর্ভধারণের পড়ে জরায়ুর আকার বাড়ার সাথে সাথে এ লিগামেন্টগুলো রাবার ব্যান্ডের মত প্রসারিত হয় এবং পাতলা হয়ে যায়। এ কারণে গর্ভাবস্থায় লিগামেন্টগুলো টান টান অবস্থায় থাকে এবং এতে হঠাৎ কোন চাপ পড়লে ব্যাথা অনুভূত হতে পারে।

গর্ভবতী মায়েরা যখন হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করেন তখন সাধারণত  রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন অনুভূত হতে পারে, যেমন- বিছানা বা চেয়ার থেকে ওঠার সময়। কাশি দেয়ার সময় বা বিছানায় নড়াচড়া করার সময়ও এ ব্যাথা হতে পারে। রাউন্ড লিগামেন্ট পেইনের কারণে শারীরিক ধকল গেলেও চাপা ব্যাথা অনুভূত হতে পারে।

রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন এক ধরনের তীব্র ব্যাথা যা সাধারনত অল্প সময়ের জন্য হয় এবং অনেকটা মাংশপেশীর খিঁচুনির মত মনে হতে পারে। এ ব্যাথা দুপাশেই হতে পারে তবে ডান পাশে বেশী হয় যা কুঁচকি (groin) পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশনের সময় জরায়ু, তলপেট বা কুঁচকির অংশে সংকোচন অনুভূত হয়। অর্থাৎ এসব অংশ একবার শক্ত হয়ে যায় আবার ছেঁড়ে দেয়। প্রসবের সময়ও এ ধরনের অনুভূতিই হয়। তবে ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন এবং আসল প্রসব যন্ত্রণার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন সাধারণত অনিয়মিত এবং ব্যাথাহীন হয়। তবে তা মাঝে মাঝে তীব্র, ব্যাথাযুক্ত এবং অস্বস্তিকর হতে পারে। প্রসব শুরুর লক্ষন বা আসল প্রসব বেদনা সম্পর্কে আমাদের লেখা আর্টিকেল থেকে জেনে নিন।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশনকে “প্র্যাকটিস কন্ট্রাকশন” ও বলা হয় কারন এ ধরনের কন্ট্রাকশন মায়ের শরীরকে আসল প্রসবের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। কিন্তু এ ধরনের কন্ট্রাকশনের ফলে প্রসব শুরু হয়না। ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন গর্ভাবস্থার ১৬ সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে। তবে শুরুর দিকে এটি এতই মৃদু থাকে যে অনেক মাই তাই অনুভব করতে পারেনা। জরায়ু যতই বড় হতে থাকে ততই এ কন্ট্রাকশন বেশী অনুভূত হয়।

কিছু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশনের অন্যতম কারন হোল পানিশূন্যতা। আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশ জরায়ুর কন্ট্রাকশন নিয়ন্ত্রন করে সে অংশ এবং যে অংশ আমাদের তৃষ্ণার অনুভুতি নিয়ন্ত্রন করে সে অংশ, পাশাপাশি থাকে।  তাই যখন মায়েরা পানিশূন্যতায় ভোগেন বা তৃষ্ণার্ত থাকেন তখন মায়েদের মস্তিষ্কের কন্ট্রাকশনের অংশটি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন বা পেটে খিঁচুনি হতে পারে।

ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের কারনেও এ ধরনের কন্ট্রাকশন হতে পারে। এছারাও মায়ের অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারনেও ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন দেখা দিতে পারে। মুত্রথলী পরিপূর্ণ থাকা এবং সহবাসের সাথেও এর সম্পর্ক আছে। ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন বা ফলস লেবার পেইন যে কোন সময় হতে পারে তবে রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

তৃতীয় ট্রাইমেস্টার

প্রি-টার্ম লেবার

স্বাভাবিক গর্ভাবস্থা সাধারণত ৪০ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। এর সময় শুরু হয় শেষ মাসিকের প্রথম দিন হতে। লেবার বা প্রসব যন্ত্রণা গর্ভাবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যাতে জরায়ুর সঙ্কোচনের ফলে Cervix বা জারায়ু মুখ পাতলা হয়ে যায় এবং খুলে যায় যার ফলে বাচ্চা বেড়িয়ে আসতে পারে। এ প্রক্রিয়া টি স্বাভাবিক অবস্থায় গর্ভাবস্থার ৩৭-৪২ সপ্তাহের মধ্যে হয়।

যদি কোন কারণে ৩৭ সপ্তাহের আগেই গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত জরায়ু সংকোচন হতে থাকে এবং তার ফলে জরায়ু মুখ খুলে যায় তবে তাকে প্রি-টার্ম লেবার বলে। এটি প্রি-ম্যাচিউর লেবার নামেও পরিচিত।

নিচের লক্ষন গুলো দেখা দিলে দেরী না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে-

  • যোনিপথে নির্গত স্রাবের পরিমান বেড়ে গেলে বা স্রাব পানির মত, শ্লেষ্মা জাতীয় বা রক্ত মিশ্রিত থাকলে।
  • যোনিপথে রক্ত বা স্পটিং দেখা গেলে।
  • প্রতি ১০ মিনিট অন্তর বা প্রতি ঘণ্টায় চারবার বা তার বেশি জরায়ুর সঙ্কোচনের ফলে তলপেটে ব্যথা অনুভূত হলে, পাশাপাশি কোমরে ব্যথা বা খিল ধরা অনুভুতি হলে। জরায়ু সঙ্কোচনের ফলে ব্যাথা অনুভব না হলেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
  • পেলভিক এরিয়াতে বেশী চাপ অনুভব করলে। (যদি মনে হয় বাচ্চা নিচের দিকে চাপ দিচ্ছে)
  • অনবরত চাপা বা কিছুক্ষন পর পর পিঠে ব্যাথা করলে।
  • যদি মনে হয় আপনার পানি ভেঙ্গে গেছে এবং যোনিপথে অতিরিক্ত তরল নির্গত হলে।
  • ডায়রিয়ার কারণে বা ডায়রিয়া ছাড়াই পেটে খিলধরা অনুভুতি থাকলে।

এই লক্ষনগুলো অনেক সময় বিভ্রান্তিকর কারণ কিছু কিছু লক্ষন গর্ভাবস্থায় হওয়াটা স্বাভাবিক যেমন- পেলভিকে চাপ বা লো ব্যাক্ পেইন। এছাড়াও অনিয়মিত সংকোচন ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশনের কারনেও হতে পারে। তাই আপনার যদি মনে সামান্যতম সন্দেহ হয় যে সবকিছু ঠিক নেয় তাহলে দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের সাথে দেখা করুন। ফলস লেবার কিনা সেটা নিয়ে ভাববেন না। নিজের মনে অনেক কিছু ভাবার চাইতে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হওয়াটা সবসময়ই উপকারী।

প্রি-টার্ম লেবার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন

ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন হোল জরায়ুর অনিয়মিত সংকোচন যা গর্ভাবস্থার মধ্যবর্তী সময়ে (দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার) দেখা দিতে পারে। তবে তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে এটি বেশী বোঝা যায়। প্রসবের দু এক সপ্তাহ আগে প্রসবের প্রস্তুতি হিসেবে মায়ের জরায়ু মুখ আস্তে আস্তে নরম হতে থাকে।

এ সময়ে কন্ট্রাকশন আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে এবং এর ফলে মায়ের ব্যাথা অনুভূত হতে পারে বা অস্বস্তি হতে পারে। এ সময়ের কন্ট্রাকশনের ফলে মায়ের জরায়ুমুখ পাতলা (efface) হয়ে যেতে পারে এবং সামান্য খুলে (Dilate) যেতে পারে। এ সময়কে মাঝে মাঝে প্রি-লেবার বলা হয়।

তবে মনে রাখতে হবে ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন বা ফলস লেবার পেইন এবং প্রি-টার্ম লেবারের লক্ষনগুলোর মধ্যে পার্থক্য বোঝা অনেক সময় কঠিন হতে পারে। তাই সাবধান থাকা জরুরী। যদি ৩৭ সপ্তাহ হওয়ার আগেই নিয়মিত কন্ট্রাকশন হতে থাকে এবং প্রি-টার্ম লেবারের কোন লক্ষন দেখা যায় তবে দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

প্রসব শুরু হওয়া

প্রসব শুরু হওয়ার ৪টি লক্ষণ রয়েছে

  • প্রসব বেদনা ও সঙ্গে সঙ্গে জরায়ুর সংকোচন
  • যোনীপথে রক্ত মিশ্রিত স্রাব বের হওয়া
  • জরায়ুর মুখ খুলে যাওয়া
  • পানিপূর্ণ থলি ফেটে যাওয়া

যদি গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ অতিক্রম করে যায় এবং এসব লক্ষন দেখা যায়, যেমন- পানি ভেঙ্গে যাওয়া (কন্ট্রাকশন না হলেও), যোনী পথে রক্তপাত, অল্প সময়ের ব্যাবধানে কন্ট্রাকশন, তীব্র ব্যাথা ইত্যাদি দেখা যায় তবে তা প্রসব শুরু লক্ষন হিসেবে ধরে নিতে পারেন এবং অতিসত্বর ডাক্তারকে জানাতে হবে।

পেট শক্ত বা টান টান অনুভূতির আর যেসব সাধারণ কারণ থাকতে পারে

পেটে গ্যাস

গর্ভাবস্থায় গ্যাসের সমস্যা বেশী হওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। প্রোজেস্টেরন হরমোনের কারণে মায়েদের শরীরের পেশীগুলো শিথীল হয়ে পড়ে। যেহেতু পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলোও শিথীল হয়ে পড়ে, ফলে মায়েদের খাবার হজম ধীরে হয়। এর ফলে শরীরে গ্যাস সহজে বাড়তে থাকে এবং ঢেঁকুর বা বায়ু ত্যাগের মাধ্যমে বেড়িয়ে আসে।

গর্ভাবস্থার শেষের দিকে যখন বর্ধিত জরায়ু অ্যাবডোমিনাল ক্যাভিটিতে চাপ সৃষ্টি করে তখন এ সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এসময় বাড়তি গ্যাসের কারণে গর্ভাবস্থায় পেট শক্ত হয়ে যাওয়া অনুভূতি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় পেটে গ্যাস হওয়ার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য

গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন এবং  গর্ভজাত শিশুসহ জরায়ুর বৃহদন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টির কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে যার কারণেও পেট শক্ত হয়ে যাওয়ার উপসর্গ তৈরি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।

গর্ভের শিশুর নড়াচড়া

সাধারণত গর্ভের ১৮ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে মায়েরা গর্ভস্থ বাচ্চার নড়াচড়া বা মুভমেন্ট টের পেয়ে থাকেন। যারা প্রথমবার গর্ভধারণ করেছেন তাদের ক্ষেত্রে মুভমেন্ট বুঝতে কিছুটা সময় বেশি লেগে থাকে। বাচ্চা যখন মায়ের পেটে অবস্থান পরিবর্তন করে তখন মায়ের পেটে টান টান অনুভূতি হতে পারে। এই সময় মায়েদের অস্বস্তিকর অনভুতি হতে পারে, অনেকটা বেশী খাবার খেয়ে ফেলার পড় যেমন লাগে তেমনটা। তবে এটি খুব বেশিক্ষণ থাকেনা এবং তেমন কোন অসুবিধার ও সৃষ্টি করেনা।

পেটে টান টান লাগা থেকে স্বস্তি পেতে কি করা যেতে পারে?

পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন। কারন এ ধরনের কন্ট্রাকশন পানিশূন্যতার সাথে সম্পর্কিত। রিলাক্সেশনের ব্যায়াম করতে পারেন বা আস্তে আস্তে গভীরভাবে শ্বাস নিতে পারেন। এগুলো করলে ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশন চলে যাবেনা, কিন্তু এর অস্বস্তির সাথে আপনি মানিয়ে নিতে পারবেন। এ ধরনের শ্বাস প্রশ্বাস পরবর্তীতে আপনার প্রসব বেদনা নিয়ন্ত্রনেও সাহায্য করবে।

রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন হলেই বসে পড়ুন এবং রিলাক্স করার চেষ্টা করুন। কিছুক্ষন বিশ্রাম নিলেই এর থেকে স্বস্তি পাবেন। যদি বসে থাকা অবস্থায় ব্যাথা হয় তবে দাঁড়িয়ে পড়ুন বা হাঁটা চলা করুন। মোট কথা পজিশন পরিবর্তন করুন।

বিছানা থেকে বা বসা থেকে ওঠার সময় আস্তে আস্তে উঠুন। হঠাৎ নড়াচড়ার কারণে রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন বেশী হয়। তাই ধীরে নড়াচড়া করুন।হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় কোমর ও হাঁটু সামান্য বাঁকিয়ে নিন। এতে লিগামেন্টে চাপ কম পড়ে।

হালকা গরম সেঁক দেয়া যেতে পারে বা হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিতে পারেন। এতে ব্যাথা নিরাময় হয়। তবে মনে রাখতে হবে বেশী গরম লাগানো চলবেনা কারণ এতে গর্ভের বাচ্চার ক্ষতি হয়।

তবে মনে রাখতে হবে পেটে টান টান লাগার সাথে সাথে যদি অন্য বিপদজ্জনক লক্ষণ গুলো দেখা দেয় তবে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

  • What Causes Stomach Tightening During Pregnancy? – https://www.healthline.com/health/pregnancy/stomach-tightening-during-pregnancy
  • Causes of stomach tightening during each trimester – https://www.medicalnewstoday.com/articles/321659.php
  • What Causes My Belly to Feel Hard and Tight? – https://www.lamaze.org/Giving-Birth-with-Confidence/GBWC-Post/what-causes-my-belly-to-feel-hard-and-tight
  • Are You in Labor? – https://kidshealth.org/en/parents/true-labor.html
  • Abdominal Tightening During Pregnancy – https://www.thebump.com/a/abdominal-tightening-during-pregnancy
  • Braxton Hicks contractions – https://www.pregnancybirthbaby.org.au/braxton-hicks-contractions
গর্ভাবস্থায় পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা টান লাগা অনুভূতি কেন হয়? | Audio Article

Related posts

Leave a Comment