গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত গরম ও ঘামের কারণ ও করণীয়

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে একটি মন্তব্য হয়ত আপনারা অনেকেই শুনে থাকবেন, আর সেটা হল তাদের চেহারা যেন চকচক করছে! তবে চেহারার এই চকচকে ভাবের একটা মূল কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ঘাম।

গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত ঘামানো খুবই স্বাভাবিক। ঠিক তাই, গর্ভকালীন সময়ে ঘরের অন্য সবাই যখন একদম স্বাভাবিক অবস্থায় আছে তখন আপনি যদি একটু বেশি গরম অনুভব করেন এবং একটু বেশিই ঘামানো শুরু করেন তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কেননা মাতৃত্ব কালীন অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

কেন এই ঘাম আর কতদিন পর্যন্ত এমন হয়ে থাকে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়াও কিভাবে এই অতিরিক্ত ঘামের মধ্যেই একটু খানি ভালো থাকা যায় সেগুলো বিস্তারিত জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন।

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত গরম লাগা এবং ঘাম কেন হয়?

প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা ঘেমে থাকি। গর্ভকালীন সময় এমনিতেই শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে যায়। যেহেতু আপনার শরীরের মধ্যে অন্য একটি শরীর ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে, সেহেতু আপনার শরীরের কিঞ্চিৎ উচ্চ তাপমাত্রা হতেই পারে। এছাড়া গর্ভকালীন সময়ে অনেক ধরনের হরমোন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি নিঃসৃত হওয়া, শরীরে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধি এসবের কারণের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

যখন আপনার গরম লাগতে থাকে তখন আপনার শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘাম নিঃসরণ করে যা শরীরকে অতিরিক্ত উষ্ণ হওয়া থেকে রক্ষা করে যেটা গর্ভাবস্থায় মা এবং গর্ভের শিশু দুজনের জন্যই ক্ষতিকর। কখনো কখনো আবার এমন হতে পারে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে আপনার মস্তিষ্কের হাইপথ্যালামাস এমন সিগনাল পেতে পারে যে আপনার শরীর অনেক বেশি গরম হয়ে গেছে আসলে হয়তো ততটা গরম না। এতে আপনার শরীর আরও অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করতে থাকে।

সাধারণত গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত ঘামের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে যে, বেশ কিছু অন্যান্য রোগের লক্ষ্মণও কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম! আর তাই প্রয়োজন মনে করলে এই মাত্রাতিরিক্ত ঘামের জন্য আপনি ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

যে কারণগুলোতে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হয়ে থাকে

গর্ভকালীন সময়ে আপনার পেটে স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশিই গরম অনুভব হতে পারে। তবে পুরো শরীরের মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই গরম ও ঘামের উৎপত্তি। সাধারণত একজন গর্ভবতী নারী যে সকল কারণে অতিরিক্ত ঘামাতে থাকেন সেগুলো হলঃ

১। শরীরের হরমোনের পরিবর্তন

সাধারণত গর্ভকালীন সময়ে শরীরে হরমোনের প্রচুর পরিবর্তন ঘটে এবং ঠিক এই হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই গর্ভবতী নারীরা শরীরের উচ্চতাপমাত্রা, অতিরিক্ত ঘাম সহ বেশীরভাগ অস্বস্তি এবং কষ্টগুলো অনুভব করে থাকেন।

২। শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি

যেহেতু গর্ভকালীন সময়ে শরীরের রক্ত সঞ্চালন একটু বেড়ে যায় তাই ফলাফল স্বরূপ আপনার স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি গরম লাগতেই পারে। গর্ভধারণের তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে শরীরের এই রক্ত সঞ্চালন প্রায় পঞ্চাশ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে যায়।

৩। মেটাবোলিজম বেড়ে যায়

মাতৃত্ব কালীন এই সময়টাতে আপনার শরীর বেশি ক্যালোরি খরচ করে থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে দেয়। মূলত এই সময়টাতে আপনি এবং গর্ভের শিশু অর্থাৎ দুইজনের জন্যই কিন্তু শরীর কাজ করে থাকে। আর এই অতিরিক্ত কাজের জন্যই এই “অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ” এবং “শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া”।

৪। ওজন বৃদ্ধি

আপনি যেহেতু শরীরে একটু অতিরিক্ত ওজন বহন করে চলছেন তাই আপনার চলাচল এবং স্বাভাবিক কাজ করে যেতেও আগের তুলনায় একটু বেশি কষ্ট করতে হবে। বিশেষত গর্ভধারণের ৭ম মাসের পর থেকেই শরীরের এই অতিরিক্ত প্রয়াসের কারণে শরীরের তাপমাত্রাও কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

এছাড়াও আপনি যেহেতু গর্ভে একটি শিশু বহন করে চলছেন তাই আপনার শরীরের মধ্যাকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে যার কারণে শরীরের ব্যাল্যান্স ঠিক রাখার জন্য আপনাকে একটু অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় এবং বৃদ্ধি পায় শরীরের গরম ও ঘাম।

৫। আবহাওয়ার প্রভাব

আপনি যদি গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ার বাইরে বেশি থাকেন তাহলে অতিরিক্ত ঘাম হতেই পারে। কেননা মাতৃত্ব কালীন সময়ে দৈহিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনার শরীরকে একটু বেশিই কষ্ট করতে হয়।

৬। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা

গর্ভকালীন সময়ে আপনি যখন ব্যায়াম করেন, ঘর পরিষ্কার করেন অথবা বিকেলের দিকে একটু হাঁটতে বের হন তখন আপনার শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশিই ঘামাতে থাকে।

৭। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা

মানসিকভাবে চাপে অথবা নার্ভাস থাকলে শরীর এমনিতেই অতিরিক্ত ঘামতে থাকে। আর তাই গর্ভকালীন সময়ে আপনি যদি কোন কারণে উদ্বিগ্ন থাকেন তাহলে শরীর একটু মাত্রাতিরিক্তই ঘামতে থাকে।

৮। অসুস্থতা

জ্বর অথবা অন্যান্য কোন অসুস্থতার কারণেও গর্ভকালীন সময়ে শরীর অন্যান্য সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত ঘামাতে থাকে।

৯। হাইপারথাইরয়েডিজম

প্রায় সময় দেখা যায় গর্ভকালীন অবস্থায় শরীরে থাইরয়েডের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, যেটা শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সাধারণত এই সময়ে হাইপারথাইরয়েডিজমকে স্বাভাবিক বিষয় বলে গণ্য করা হয় না। এছাড়া থাইরয়েডের এই অত্যধিক কার্যক্রম হৃৎস্পন্দনও বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে অতিরিক্ত ঘাম সহ অন্যান্য আরো কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

১০। ওষুধ সেবন

মর্নিং সিকনেসের ওষুধ সহ অন্যান্য আরো বেশ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও শরীরে অতিরিক্ত ঘাম দেখা যেতে পারে।

গর্ভকালীন সময়ে কখন অতিরিক্ত গরম লাগা ও ঘাম শুরু হয় এবং কখন শেষ হয়?

পুরো গর্ভকালীন সময় জুড়ে এবং প্রসব পরবর্তী বেশ কিছুদিন ধরেই অতিরিক্ত ঘাম হওয়াটা একদম স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে বেশ কিছু মায়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, গর্ভধারণের একদম প্রথম দিক থেকেই তারা অতিরিক্ত ঘামাতে শুরু করেন।

গর্ভধারণের একদম শুরুর দিক থেকেই শরীরের হরমোনে কিছুটা পরিবর্তন আসা শুরু করার সাথে সাথে রক্ত সঞ্চালনও সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে যায়। আপনার গরম অনুভূতি ও পূর্বের তুলনায় অতিরিক্ত ঘামানো শুরু করার জন্য এই সামান্য পরিবর্তনই যথেষ্ট! গর্ভধারণ করার পর শরীরে যে লক্ষণগুলো প্রাথমিক অবস্থায় দেখা যায় তারমধ্যে গরম লাগা এবং অতিরিক্ত ঘামানো অন্যতম।

শরীরের এই অতিরিক্ত ঘামানো পুরো গর্ভকালীন সময় জুড়েই আপনাকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। তবে সাধারণত দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের শুরুর দিক থেকে কিছুদিনের জন্য আপনি সাময়িক একটু স্বস্তিতে ফিরতে পারেন। আর প্রসবের তারিখ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে যদি এই ঘামানোর পরিমাণটাও অতিরিক্ত হারে বাড়তে থাকে তাহলে কিন্তু মোটেও অবাক হবে না! এক্ষেত্রে শেষের দিনগুলো যদি গ্রীষ্মকালীন সময়ের হয়ে থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই।

গর্ভকালীন সময়ের মতই প্রসব পরবর্তী বেশ কিছুদিন একটু অতিরিক্ত ঘামানো একদমই স্বাভাবিক। গর্ভকালীন সময়ে আপনার শরীরে যে অতিরিক্ত পানি জমা হয়ে যায় সেগুলো নিঃসারণ করাটাও প্রসব পরবর্তী ঘামের অন্যতম কারণ। এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ের হরমোনের পরিবর্তনগুলো যেহেতু ধীরে ধীরে প্রসব পরবর্তী সময়ে ঠিক হয়ে আসতে শুরু করে তাই এই সময়টাতে ঘুমের মধ্যেও মায়েদের প্রচুর পরিমাণে ঘামাতে দেখা যায়।

আর তাই আপনার সন্তান জন্ম গ্রহণের পরবর্তী বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই অতিরিক্ত ঘাম হতে দেখা যায়। কেননা, শরীরের বিভিন্ন হরমোন এবং আপনার শরীর তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

এই সময়ে একটু স্বস্তি পেতে পারেন যেভাবে

গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত ঘামানোর জন্য উষ্ণ অথবা আর্দ্র আবহাওয়ার কোন প্রয়োজন পরে না বরং একজন গর্ভবতী নারী তীব্র শীতের মধ্যেও অনেক ঘামাতে পারেন। এই সময়টাতে আপনার শরীরের হরমোনের পরিবর্তন এবং সেই অনুসারে শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যদিও আপনার তেমন কিছু একটা করার থাকে না, তবে বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

সারাবছর ধরেই স্বস্তির জন্য কিছু পরামর্শ

  • ঘামের সাথে যেহেতু আপনি শরীর থেকে প্রচুর আর্দ্রতা হারাচ্ছেন, তাই এই সময়ে শরীরের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • সুতির তৈরি পাতলা এবং হালকা বাতাস চলাচলের উপযুক্ত কাপড় পরতে হবে। এছাড়া উলের মত গরম কাপড় পরিত্যাগ করতে হবে।
  • বেশ কয়েকটি স্তরে স্তরে কাপড় পরিধান করতে হবে, যেন একটু গরম লাগলেই এর যে কোন এক অংশ খুলে রেখে দেয়া যায়।
  • ঘরে যদি এসি থাকে তাহলে সেটা চালু করে দিন অথবা ফ্যানের কাছাকাছি থাকুন যাতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • প্রতিদিন নিয়মিত হালকা গরম পানিতে গোসল করলে ফ্রেশ লাগবে।
  • ঝাল খাবার, ক্যাফেইন এবং অন্যান্য যে পানিয় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে দেয় সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • বাইরে কোথাও বের হলে সাথে ছোট ফ্যান রাখতে পারেন। যাতে করে অতিরিক্ত গরম লাগবে একটু স্বস্তি অনুভব করা যায়।
  • সাথে করে ওয়েট টিস্যু রাখতে পারেন, যাতে করে গরম লাগলে সাময়িক ভাবে শরীরকে একটু ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়া সম্ভব হয়।
  • যেহেতু শরীরের ওজন বৃদ্ধি হলেও গরম বেশি লাগে, তাই ওজন বৃদ্ধির বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন।
  • মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন।

ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম

রাতের বেলায় ঘুমের মধ্যে ঘামানোর ব্যাপারটা দিনের মত অতটা সাধারণ নয়। এই সময়ে ঘাম এমনকি আপনার কাপড় ভিজিয়ে দিতে পারে এবং যার ফলে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। এছাড়াও ঘুমের মধ্যে এই ঘাম পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গর্ভকালীন সময় এবং প্রসব পরবর্তী ঘুমের মধ্যে ঘামানোর ক্ষেত্রে একটু স্বস্তির জন্য কিছু পরামর্শ প্রদান করা হলঃ

  • হালকা এবং ঢোলা জামা কাপড় পরে রাতে ঘুমাতে যান।
  • আপনার বিছানার চাদরও পাতলা সুতীর এবং যেগুলো একটু বেশি ঠাণ্ডা থাকে সেটা ব্যবহার করুন।  
  • গায়ে কাঁথা অথবা কম্বল দেয়ার ক্ষেত্রে একটু হালকা কাপড় ব্যবহার করুন। এছাড়া দিনের বেলার মত বেশ কয়েকটি স্তরে কাঁথা দিতে পারেন যাতে করে একটু গরম লাগার সাথে সাথেই একেকটি স্তর সরিয়ে রাখা যায়।
  • রুমে এসি থাকলে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেটা অন করে রাখুন।
  • এসি না থাকলে রুমে জোরে জোরে ফ্যান চালিয়ে দিন এবং প্রয়োজন পড়লে একটি টেবিল ফ্যান সংগ্রহ করে রুমে রাখুন।
  • সম্ভব হলে রুমের জানালা খুলে দিন যাতে বাইরে থেকে যথেষ্ট পরিমাণে বাতাস চলাচল করতে পারে।
  • সম্ভব হলে বেশ কয়েকটি তোয়ালের উপর ঘুমানোর চেষ্টা করুন, এতে করে তোয়ালে আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম শুষে নিবে এবং বিছানার চাদর ভিজিয়ে দিবে না। এছাড়াও প্রতিদিন বিছানার চাদর পরিবর্তন করার চেয়ে তোয়ালে পরিবর্তন করাও বেশ সহজ।
  • যেহেতু রাতে ঘুমের মধ্যেও আপনি প্রচুর পরিমাণ ঘামছেন, তাই দিনের বেলায় প্রচুর পরিমাণে পানি এবং পানি জাতীয় দ্রব্য পান করুন।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন?

যদিও গর্ভকালীন বেশ কিছু স্বাভাবিক পার্শ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ঘামানো এবং ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া অন্যতম। তবুও ডাক্তারের কাছে নিয়মিত রুটিন চেকআপের সময় এগুলো নিয়েও আলাপ করে রাখাটা বেশ বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কেননা, এতে করে ডাক্তার তখনই বলে দিতে পারবেন যে এই ঘামানো কি গর্ভজনিত কারনে নাকি অন্য কোন অসুস্থতার কারণে এমনটা হচ্ছে।

এছাড়াও গর্ভকালীন এবং প্রসব পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ঘাম জনিত অস্বস্তি থেকে কীভাবে আরাম পেতে পারেন অথবা কীভাবে একটু স্বস্তিতে থাকতে পারেন সেগুলো নিয়েও ডাক্তার আপনাকে বেশ উপকারী পরামর্শ দিতে পারেন।       

তবে নিম্নে বর্ণীত যে কোন কিছু দেখলেই তাৎক্ষনিক ভাবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেনঃ

  • আপনার শরীর যদি প্রচুর পরিমাণে চুলকায় ।
  • যদি আপনার শরীরের তাপমাত্রা একশ ডিগ্রি থেকে বেড়ে যায়।
  • পানিশূন্যতার অথবা অন্য কোন অসুস্থতার লক্ষণ যদি আপনার শরীরে দেখা যায়।
  • যদি কোন কারণে অজ্ঞান হয়ে পড়েন অথবা মাথা ঝিম ঝিম করতে থাকে।
  • যদি অতিরিক্ত মাত্রায় অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন।
  • প্রসব পরবর্তী ছয় সপ্তাহ পরেও যদি অতিরিক্ত ঘামানো বন্ধ না হয়ে যায়।

পরিশেষে এটা বলা যেতে পারে যে, গর্ভকালীন সময়ে একটু অতিরিক্ত গরম লাগা অথবা শরীর ঘামানো একদমই স্বাভাবিক ব্যাপার। এমনকি মাঝরাতে ঘামে জবজবে হয়ে ঘুম ভেঙ্গেও যেতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি আপনার জন্য বেশ অস্বস্তিকর এবং অসুবিধার, তবে এগুলো সবই গর্ভধারণের স্বাভাবিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। এই সমস্ত ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উদ্বেগের অথবা দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।

এই সময়ে আপনার শারীরিক হরমোন জনিত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যদিও আপনার কিছু করার থাকে না তবুও বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করলে আপনি কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেতে পারেন। এক্ষেত্রে আশার কথা হল, অতিরিক্ত ঘামের কারণে বড় ধরনের কোন সমস্যার সৃষ্টি হওয়াটা খুব একটা দেখা যায় না। আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত হাইড্রেটেড থাকবেন এবং শরীরের ত্বক ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক রাখবেন ততোক্ষণ পর্যন্ত আপনি খুব বেশি সমস্যায় পড়বেন না।

সবকিছু ছাপিয়ে যে কথাটি বলা যায় সেটি হল, গর্ভাবস্থায় আপনি ঘামাচ্ছেন, তার মানে হল আপনার শরীর তার স্বাভাবিক কাজ করে চলছে আর এতকিছুর মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভালো এবং জরুরী খবর!

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts