বিকল্প গর্ভধারণ পদ্ধতি : টেস্ট টিউব বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)

Updated on

আইভিএফ (IVF) বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (In vitro fertilization) এক ধরণের বিকল্প গর্ভধারণ পদ্ধতি যেখানে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মধ্যকার নিষেক কাজটি ল্যাবরেটরিতে করা হয়। নিষেকের ফলে জন্ম নেওয়া ভ্রুণগুলোর মান যাচাই করা হয় এবং এক বা একাধিক ভ্রুণকে সারভিক্সের মাধ্যমে আবার জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

আইভিএফ বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্প গর্ভধারণ পদ্ধতি। সহযোগী গর্ভধারণ পদ্ধতি বা এসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজিগুলোর (ART) মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৯৯% এরও বেশি) ব্যবহৃত হয় এই পদ্ধতি। আমেরিকায় জন্ম হওয়া শিশুদের মধ্যে ১.৫ শতাংশ শিশুই বিকল্প গর্ভধারণ পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণ করে।

যে কেউই কি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে?

স্বাভাবিক গর্ভধারণে বিবিধ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে – এমন যে কেউই ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতে গর্ভধারণ করতে পারে। একজন নারী অনেক সমস্যার কারণেই স্বাভাবিক গর্ভধারণে অক্ষম হতে পারে, যেমন – ডিম্বস্ফুটনে সমস্যা, ডিম্বাণুর নিম্নমান, ফেলোপিয়ান টিউব বন্ধ থাকা অথবা এন্ডোমেট্রিওসিস (endometriosis) ইত্যাদি। এছাড়াও পুরুষ সঙ্গীর বিভিন্ন সমস্যা যেমন বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ অথবা সজীব শুক্রাণুর পরিমাণ কমে যাওয়া প্রভৃতি।

এছাড়াও অনেক দম্পতির চিকিৎসা করানোর সময় ডাক্তার বন্ধ্যাত্বের কোন কারণ খুঁজে পান না (একে ‘আনএক্সপ্লেইনড ইনফার্টিলিটি’ বলা হয়) আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক ধরণের চিকিৎসা করালেও, কোনোটাই কাজ করছে না। এমতাবস্থায় ডাক্তার আইভিএফ করানোর ব্যাপারে মত দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশেও এখন বেশ কিছু বড় বড় হাসপাতালে আইভিএফ করা যায়।

আইভিএফ কিভাবে কাজ করে?

আইভিএফ অনেকগুলো ধাপের সমন্বয়ে একটি বড় প্রক্রিয়া। আইভিএফ এর ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

ডিম্বাশয়কে উদ্দীপ্ত করা: মাসিক চক্র শুরু হওয়ার , ৮ থেকে ১৪ দিন আগে আপনাকে গোনাডোট্রোপিন (Gonadotropin) খেতে দেওয়া হবে। এটি এক ধরণের ঔষধ যা ডিম্বাশয়কে একটি নয়, বরং একাধিক ডিম্বাণুকে নিষিক্তের জন্যে পরিণত করতে সহায়তা করে।

এছাড়াও আপনাকে সিনথেটিক হরমোন যেমন লিওপ্রোলাইড অথবা সেট্রোরেলিক্স খেতে দেওয়া হতে পারে যা ডিম্বাণুকে আগে আগে ডিম্বাশয় থেকে বের হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

ফলিকোলের বেড়ে ওঠা: উপরের ঔষধগুলো খাওয়া চলাকালীন অবশ্যই দু’তিনদিন পরপর ডাক্তারের সাথে চেম্বারে অথবা ক্লিনিকে যোগাযোগ রাখুন। এই সময়ে ডাক্তার আপনার রক্তের হরমোণ লেভেল এবং ডিম্বাশয়ের আল্ট্রাসাউন্ড পরিমাপ করবেন। এর মাধ্যমে ফলিকোলগুলো কতটা বেড়ে উঠলো তা ডাক্তার বোঝার চেষ্টা করবেন। ফলিকোল হলো তরলভর্তি থলি যেখানে মূলত ডিম্বাণু পরিণত হয়।

ট্রিগার শট: ফলিকোলগুলো যখন প্রস্তুত হয়ে যাবে, তখন ডাক্তার আপনাকে ‘ট্রিগার শট’ দেবেন। এটি হলো একটি ইনজেকশন, যা ডিম্বাণুকে পর্যাপ্ত পরিণত করে তুলবে এবং নিষিক্তের জন্যে প্রস্তুত করবে। ট্রিগার শট দেওয়ার ৩৬ ঘন্টা পর, ডিম্বাণুগুলো ডিম্বাশয় থেকে সংগ্রহ করার জন্যে প্রস্তুত হয়ে যায়।

ডিম্বাণু সংগ্রহ করা: ডাক্তার প্রথমে আপনাকে চেতনানাশক দিয়ে দেবেন এবং এরপর যোনীর মধ্য দিয়ে একটি ‘আল্ট্রাসাউন্ড প্রব’ প্রবেশ করাবেন যাতে ডিম্বাশয় এবং ফলিকোলগুলোর অবস্থান তিনি বুঝতে পারেন। তারপর পাতলা একটু সূচের মাধ্যমে ফলিকোল থেকে ডিম্বাণু বের করে আনা হবে।

সাধারণত আটটি থেকে পনেরটি ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এই ছোট্ট অপারেশনের পর আপনার কিছুটা ক্র‍্যাম্প কিংবা ফোটা ফোটা রক্তপাত হতে পারে যা কয়েকদিন পরই সেড়ে উঠবে। অধিকাংশ নারীদের ক্ষেত্রে ১/২ দিন পরই তেমন কোন অস্বস্তি থাকে না।

নিষিক্ত: একজন এমব্রিওলজিস্ট (ডিম্বাণু, শুক্রাণু, ভ্রুণ প্রভৃতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ) প্রথমে ডিম্বাণুগুলো ঠিকঠাক আছে কিনা তা পরীক্ষা করবেন এবং তারপর শুক্রাণুর সাথে মিশিয়ে একদিন ইনকিউবেটরে সংরক্ষণ করবেন। মূলত এই সময়ের মধ্যেই নিষিক্তকার্য সম্পাদিত হয় তবে ডিম্বাণু যদি স্বাভাবিক সুস্থ না থাকে, তাহলে তা নিষিক্ত নাও হতে পারে।

যদি শুক্রাণুর গুণাগুণ অতো একটা ভালো না হয় অথবা পূর্বের আইভিএফ কোন কারণে সফলভাবে সম্পন্ন না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ডাক্তার হয়তো বিশেষ ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (ICSI) দিতে পারেন। ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশনের মাধ্যমে একটি শুক্রাণুকে সরাসরি পরিণত ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।

ভ্রূণে পরিণত হওয়া: তিন দিন পর, যে ডিম্বাণুগুলো সফলভাবে নিষিক্ত হবে, সেগুলো ছয় থেকে দশটি কোষ বিশিষ্ট ভ্রুণে পরিণত হবে। পঞ্চম দিনের মাথায়, ভ্রুণগুলো তরল ভর্তি ক্যাভিটি সমৃদ্ধ ব্লাস্টোসিস্টে পরিণত হবে যেখানে টিস্যুও থাকে যা পরবর্তীতে প্লাসেন্টা এবং শিশুতে রূপান্তরিত হয়।

ভ্রুণ নির্বাচন: একজন ভ্রুণ বিশেষজ্ঞ সবগুলো ভ্রুণ পরীক্ষা করে দেখবেন এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিনের মাথায়, সবেচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকা এক কিংবা একাধিক ভ্রুণকে আবার জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের জন্যে নির্বাচন করবেন। বাকি ভ্রুণগুলো (যদি থাকে) ভবিষ্যতে আইভিএফ চক্রে ব্যাবহারের জন্যে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে রাখা যায়।

ভ্রুণ প্রতিস্থাপন: বাছাইকৃত ভ্রুণগুলো একটি চিকন নলের মাধ্যমে সারভিক্সের মধ্য দিয়ে জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। বয়স ও শারিরীক অবস্থা বিবেচনা করে একটি থেকে পাঁচটি পর্যন্ত ভ্রুণ  প্রতিস্থাপন হয়। এই কাজ করার সময় রোগীকে অচেতন করার প্রয়োজন পড়ে না, কেবল মৃদু ক্র‍্যাম্প হতে পারে।

সফলভাবে প্রতিস্থাপন: পুরো প্রক্রিয়া যদি ঠিকঠাক কাজ করে, তাহলে ভ্রুণগুলো জরায়ু পৃষ্ঠে ঠিকঠাক ভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে ভ্রুণ বড় হতে থাকে এবং পূর্ণাঙ্গ শিশুতে রূপান্তরিত হয়। যদি আপনার জরায়ুতে একাধিক ভ্রুণ প্রতিস্থাপন করা হয়, তাহলে আপনার গর্ভবতী হওয়ার চান্স অনেক বেশি থাকে, তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাক্তার একাধিক ভ্রুণই জরায়ুতে স্থাপন করেন।

একটা ব্যাপার এখানে মাথায় রাখা জরুরি- এর ফলে কিন্তু একাধিক শিশু পেটে আসার সম্ভাবনাও থাকে। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন সফল হয়েছে এমন নারীদের মধ্যে ২০% নারীই একাধিক (দু’টি, তিনটি বা এর চেয়েও বেশি) সন্তানের মা হয়েছেন।

ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন ঠিকঠাক করেছে কিনা তা জানতে জরায়ুতে ভ্রুণ স্থাপনের দু সপ্তাহ পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করাতে পারেন।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কত সময় লাগে?

একবার পুরো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন চক্র সম্পন্ন করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগে।

ডিম্বাণুগুলো পরিণত হওয়ার জন্যে আপনাকে কয়েক সপ্তাহ সময় দিতে হবে। তারপর আপনার থেকে ডিম্বাণু এবং আপনার সঙ্গীর শরীর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহের জন্যে আধবেলা ডাক্তারের চেম্বার কিংবা ক্লিনিকে থাকতে হবে।

ডাক্তারেরা নির্দেশনা অনুযায়ী, এর তিন থেকে চার দিন পর ভ্রুণগুলো জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের জন্যে আবারো ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। যেহেতু এই পর্বে চেতনানাশকের ব্যবহার নেই, তাই আপনি ওই দিনই বাসায় চলে আসতে পারবেন।

আইভিএফ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি সফল হবে কিনা তা কিছু বিষয় যেমন দম্পতির বয়স কিংবা বন্ধ্যাত্বের কারণ প্রভৃতির উপর নির্ভর করে। কম বয়সী নারীদের ডিম্বাণু বেশ সুস্থ থাকে, তাই তাদের ক্ষেত্রে সফলতার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি। বিভিন্ন বয়সের নারীদের উপর আইভিএফ পদ্ধতি সফল (এক বা একাধিক জীবিত শিশুর জন্ম) হওয়ার সম্ভাবনা নিচে দেওয়া হল:

  • ৩৪ বছর কিংবা এর চেয়ে কম বয়সী নারী – ৪০%
  • ৩৫ থেকে ৩৭ বছর বয়সী নারী – ৩১%
  • ৩৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারী – ২১%
  • ৪১ থেকে ৪২ বছর বয়সী নারী – ১১%
  • ৪৩ বছর কিংবা এর চেয়ে বেশি বয়সী নারী – ৫%

আইভিএফ পদ্ধতির ইতিবাচক দিকগুলো কি কি?

সুপরীক্ষিত: আইভিএফ হলো বিকল্প গর্ভধারণ পদ্ধতি বা এসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন- সেই ১৯৭৮ সাল থেকে এই পদ্ধতি কার্যকর হয়ে আসছে। তখন থেকেই গবেষকেরা এর বিভিন্ন সম্ভাব্য সমস্যাদি নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন, পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুর স্বাস্থ্য নিয়েও বিস্তর গবেষণা হয়েছে। এখন পর্যন্ত, এই পদ্ধতির সাথে কোন মেডিকেল সমস্যার সরাসরি সংযোগ কেউ খুঁজে পাননি।

 ক্যান্সারের সাথে সংযোগ নেই: পূর্বে কিছু কিছু গবেষণায় দেখানো হয়েছিল যে, ডিম্বস্ফুটনকে প্রভাবিত করে এমন বন্ধ্যাত্বরোধী ঔষধ (যা সাধারণত বিকল্প গর্ভধারণ পদ্ধতিতে ব্যাবহার করা হয়) খাওয়ার ফলে ওভারিয়ান ক্যান্সার বা গর্ভের কোন অংশের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায়, এই ঔষধগুলোর সাথে ক্যান্সারের কোন সংযোগ খুঁজে পাওয়া যায় নি।

প্রযুক্তির উন্নয়ন: গবেষকেরা আইভিএফ পদ্ধতি প্রতিনিয়ত আরো নির্ভুল এবং উন্নত করার জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভ্রুণ সংরক্ষণ পদ্ধতি (cryopreservation) এতটাই উন্নত হয়েছে যে, সংরক্ষিত ভ্রূণ দ্বারা গর্ভধারণের সফলতার হার এখন নতুন ভ্রুণ দ্বারা গর্ভধারণের সফলতার হারের প্রায় সমানই হয়ে গিয়েছে।

আর নেতিবাচক দিকগুলো?

ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ: ডিম্বাণু শরীরের বাইরে বের করে আনা, সেগুলো ল্যাবে নিষেক ঘটানো, এরপর আবার শরীরে প্রবেশ করানো প্রভৃতি কাজ করাতে ল্যাবে অনেক টাকার বিল আসবে। আবার ঔষধের জন্যে আলাদা খরচ তো আছেই।

এছাড়াও ঔষধ শরীরে কতটুকু কাজ করছে, তা বোঝার জন্যে বেশ সময়ের প্রয়োজন। এই সময়ের মধ্যে ডাক্তার আপনাকে অনেক ব্লাড টেস্ট এবং আল্ট্রাসাউন্ড টেস্টও দেবেন।

একাধিক শিশু: যেহেতু ভ্রুণ প্রতিস্থাপনের সময় একাধিক ভ্রুণ জরায়ুতে রাখা হয়, তাই দুটি কিংবা এর বেশি শিশু জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ২০%। যদিও অনেক দম্পতিই এটাকে আশির্বাদ হিসেবে গ্রহণ করবেন, কিন্তু মায়ের পেটে একাধিক শিশু গর্ভপাত, প্রিটার্ম লেবর কিংবা অন্যান্য আরও সমস্যার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় অনেকাংশে।

আর তাইতো, পেটে যদি তিনটি কিংবা এর বেশি ভ্রুণ সফলভাবে বেড়ে ওঠা শুরু করে, কিছু কিছু ডাক্তার হয়তো আপনাকে কিছুটা বিসর্জন করে দিতে বলবেন। যা আপনাকে এমন কোন আবেগঘন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে যা পরবর্তীতে আপনাকে মানসিকভাবে তাড়া করে ফিরতে পারে। এই কারণে, একাধিক ভ্রুণ যাতে গর্ভে বেড়ে না ওঠে সেজন্যে অবশ্য আইভিএফ গবেষকেরা কাজ করে যাচ্ছেন।

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা: যেসব নারীদের স্বাভাবিকভাবে গর্ভবতী হতে বিভিন্ন সমস্যা হয়, তাদের এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে; তা যে পদ্ধতিতেই গর্ভধারণ করানো হোক না কেন। বিকল্প গর্ভধারণ পদ্ধতিগুলোতেও (আইভিএফ সহ) এর ঝুঁকি সমান থাকে।

ভ্রুণ যখন জরায়ুতে বেড়ে ওঠার পরিবর্তে ফেলোপিয়ান টিউব অথবা এবডোমিনাল ক্যাভিটিতে বেড়ে ওঠা শুরু করে, একে এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বলে। মেথোট্রেক্সেট ঔষধের মাধ্যমে অথবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মায়ের মুক্তি সম্ভব। চিকিৎসা না করালে শিশু ওই স্থানেই বড় হতে থাকে যা মায়ের জন্যে বড় ধরণের ইনজুরিসহ ভয়াবহ বিপদ আনতে পারে।

ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS) হওয়ার ঝুঁকি: কোন কোন নারীর শরীরে বন্ধ্যাত্বরোধী ঔষধ বেশি প্রভাব ফেলে, যার ফলে ডিম্বাশয় অনেক বেশী ডিম্বাণু উৎপাদন করা শুরু করে।

গ্যানোডোট্রোপিন খান, এমন নারীদের মধ্যে ১০ থেকে ২০ শতাংশ নারী হালকা ওএইচএসএস (OHSS) এর শিকার হন; তাদের মধ্যে ওজন বেড়ে যাওয়া, পেট ফোলা অনুভূতি হওয়া প্রভৃতি উপসর্গ দেখা যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে জোরে নিঃশ্বাস নিতে না পারা, অবসাদগ্রস্ত থাকা, পেলভিক অঞ্চলে ব্যাথা হওয়া, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হওয়া প্রভৃতি লক্ষণও দেখা যেতে পারে।

আপনার যদি ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS) হয়, তাহলে আপনার ডিম্বাশয় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফুলে যাবে এবং অতিরিক্ত তরল উৎপাদন করা শুরু করবে যা এবডোমিনাল ক্যাভিটিতে জমা হতে থাকে।

সাধারণত, ডাক্তারের সহচর্যে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে এই সিনড্রোম থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব৷ যদিও এটা হওয়া খুবই দুর্লভ, তাও বলে রাখা ভালো-  এই সিনড্রোমের কারণে কিন্তু আপনার জীবন পর্যন্ত হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং আপনার নিবিড় পরিচর্যার জন্যে হাসপাতালে কয়েকদিন থাকার প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুর সম্ভাব্য জটিলতা: অনেক বেশি প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতিতে (যেমন আইভিএফ) যদি গর্ভধারণ করা হয়, তাহলে প্রিম্যাচুর ডেলিভারি বা শিশুর ওজন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া, তাদের ক্ষেত্রে জন্মত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করা সম্ভাবনাও বেশি থাকে। তবে বন্ধ্যাত্ব যে কারণে হয়, সে কারণে এই জটিলতাগুলো হচ্ছে নাকি বন্ধ্যাত্বরোধী ঔষধের কারণে হচ্ছে – এটা বিশেষজ্ঞরা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

ফলাফল নাও পেতে পারেন: ২০% আইভিএফ কেসের ক্ষেত্রে, ডিম সংগ্রহের পূর্বেই প্রক্রিয়া বাতিল করে দিতে হয়; মূলত ফলিকোল ঠিকভাবে বেড়ে না ওঠার কারণেই এটা করতে হয়। অনেক সময় ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS) এর ঝুঁকি কমাতে যেয়েও প্রক্রিয়া বাতিল করতে হয়।

ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ করার খরচ কেমন?

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন  পদ্ধতির খরচ অনেকটা কমে আসলেও বাংলাদেশে এখনো এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ করতে হবে।

২০১৮ সালে এনটিভির এক অনুষ্ঠানে বিআরবি হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা কামরুন নেসা বলেন, “বাংলাদেশে এখনো সরকারি পর্যায়ে টেস্ট টিউব বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতির ব্যাবস্থা করা যায় নি, তাই খরচ অনেক বেশি। খরচটা মূলত নির্ভর করছে রোগের অবস্থা এবং তা নিরাময়ে কত ঔষধ লাগছে সেটার উপর। ক্ষেত্রে বিশেষে দুই থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। কখনো কখনো এর বেশিও লাগতে পারে।”

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts