গর্ভাবস্থায় মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হয় কেন?

Updated on

গর্ভাবস্থায় মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হওয়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ! গর্ভকালীন সময়ে মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হওয়াটা বেশ স্বাভাবিক একটা বিষয়। এই অতিরিক্ত লালা তৈরি হওয়ার অবস্থাটাকে ডাক্তারি ভাষায় Ptyalism অথবা sialorreha বলা হয় এবং এর কারণে আপনার শিশুর কোন ধরনের ক্ষতি হবে না।

সাধারণত আপনার মুখে দৈনিক এক গ্যালনের এক চতুর্থাংশ লাল তৈরি হয় কিন্তু আপনি সেটা তেমন একটা বুঝতে পারেন না, কেননা আপনি প্রতিনিয়তই একদমই অবচেতন মনে আপনার মুখের লালাগুলো গিলে ফেলছেন। আর এখন আপনি গর্ভধারণ করেছেন এবং আপনি লক্ষ্য করছেন যে আপনার মুখে সাধারণ অবস্থার চেয়ে একটু অতিরিক্ত লালা জমা হচ্ছে।

এর কারণ হতে পারে আপনার মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হচ্ছে অথবা আপনি কম লালা গিলে ফেলছেন। আবার এমনও হতে পারে যে দুই অবস্থারই একটা মিশেল প্রক্রিয়ায় আপনার মুখে অতিরিক্ত লালা হচ্ছে।

কোন নারীর যখন বমি বমি ভাব হয় তখন তারা অনুভব করে তাদের মুখে বেশি লালা তৈরি হচ্ছে। আবার অল্প কিছু নারীর ক্ষেত্রে এমনটা হয় যে তাদের মুখে এতই লালা তৈরি হয় যে তাদেরকে সেটা থুথু দিয়ে বের করে ফেলতে হয়।

গর্ভাবস্থায় আপনার মুখে কেন অতিরিক্ত লালা তৈরি হয়?

বেশ কিছু কারণে গর্ভকালীন অবস্থায় আপনার মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে। তার মধ্যে কিছু কারণ সম্পর্কে নিম্নে বর্ণীত হলঃ

হরমোনের পরিবর্তনের কারনেঃ আদতে বিশেষজ্ঞদের জানা নেই, গর্ভকালীন অবস্থায় কেন অতিরিক্ত লালা তৈরি হয়। তবে হরমোনের পরিবর্তন এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হিসেবে গণ্য করা যায়।

বমি বমি ভাবঃ বমি বমি ভাবের কারণে অনেকেই মুখের লালা গিলে ফেলতে চান না আর এই কাড়নেও মুখে অতিরিক্ত লালা জমে থাকতে পারে। এছাড়া সেই সব নারীদের মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে দেখা যায় যারা hyperemesis gravidarum নামক রোগে ভুগে থাকেন।  মর্নিং সিকনেস এর তীব্র অবস্থাকে এই নামে আখ্যায়িত করা হয়।

বুক জ্বালাপোড়া করাঃ বুক জ্বালাপোড়ার কারণেও মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে এবং এটা গর্ভাবস্থায় খুব সাধারণ একটি দৃশ্য। আপনার পাকস্থলীতে সাধারণত অম্ল পদার্থ তৈরি হয় আর এই অম্ল যখন উপরের দিকে উঠে আসে তখন এই অম্ল আপনার খাদ্যনালীকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলতে পারে। যখন এমন ঘটে, খাদ্যনালী আপনার লালা গ্রন্থিকে সংকেত পাঠায় যাতে আরও বেশী পরিমাণে লালা উৎপন্ন করে।  তখন আপনার মুখে প্রচুর পরিমাণ bicarbonate সমৃদ্ধ লালা তৈরি হয়, যেটা ক্ষারীয় পদার্থ। এই লালা যখন আপনি গিলে ফেলেন তখন তা  খাদ্যনালী এবং পাকস্থলীর এসিড বা অম্লকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।  (বমি বমি ভাব আসা নারীদের মুখে কেন অতিরিক্ত লালা তৈরি হয়, তার একটা ব্যাখ্যা হিসেবেও এটা ব্যাবহার করা যেতে পারে)

যন্ত্রণাদায়ক পদার্থঃ কিছু কিছু পদার্থ যেমন, ধূমপানের কারণেও মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে, দাঁতের ক্ষয় বা ইনফেকশনের কারণেও হতে পারে। এছাড়া কিছু ওষুধের কারণে, বিষক্রিয়ার কারণে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণেও মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় মুখে যাতে কম লালা তৈরি হয়, সেজন্য আপনার করনীয় কি?

আপনার ডাক্তারকে জানিয়ে দিন যে আপনার মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হচ্ছে, যাতে করে উনি আপনার সমস্যা নির্ণয় করতে পারেন এবং তদনুযায়ী আপনার বমি ভাব, বুক জ্বালাপোড়া জাতীয় সমস্যার সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন। এছাড়া আপনার আর তেমন কিছু একটা করনীয় নেই, যদিও কেউ কেউ বলেছেন নিম্নোক্ত উপায় অবলম্বন করলে কিছু উপকার পাওয়া যায়ঃ

  • নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা এবং দৈনিক কয়েকবার মাউথওয়াশ ব্যাবহার করা।
  • অল্প করে সুষম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত শ্বেতসারবহুল খাবার না খাওয়া।
  • পরিমাণ মত পানি পান করতে হবে। হাতের কাছে সবসময় পানির বোতল রাখতে হবে এবং নিয়মিত সেখান থেকে পানি পান করতে হবে। (এটা আপনাকে হাইড্রেটেদ রাখবে)
  • যদি সম্ভব হয় তাহলে অতিরিক্ত লালা গিলে ফেলতে হবে। এছাড়া, শক্ত ক্যান্ডি চুষলে অথবা চিনিমুক্ত চুইংগাম থেকেও বেশ উপকার পাওয়া যায়। তবে এই পদ্ধতি আপনার কম লালা উৎপন্ন করবে না তবে তৈরি হওয়া লালা সহজে গিলে ফেলতে সাহায্য করবে।
  • যদি অতিরিক্ত লালা গিলে ফেললে আপনার বমি বমি ভাব হয় তাহলে অতিরিক্ত লালা টিস্যু, কাপড় অথবা কাপের মধ্যে ফেলে দিন।

অনেক নারীদের ক্ষেত্রেই এটা বেশ বিরক্তিকর এবং নিতান্তই পীড়াদায়ক। তবে আনন্দের সংবাদ এই যে প্রথম তিন মাস পার হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এই ধরনের সমস্যা কমে আসতে থাকে। কেননা, প্রথম তিন মাস পার হওয়ার পর বমি বমি ভাব কমে আসে। সে যাই হোক, বমি ভাব এবং মর্নিং সিকনেসের মতই অল্প কিছু নারীদের ক্ষেত্রে পুরো গর্ভকালীন সময়েই তাদের মুখে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে।

সবার জন্য শুভকামনা।

Related posts