গলা জ্বলায় করনিয়

0 like 0 dislike
901 views
asked Oct 15, 2017 in গর্ভকালীন by anonymous

1 Answer

0 like 0 dislike
answered Nov 9, 2017 by admin (1,560 points)
খাবার দাবার নিয়ন্ত্রন করা ছাড়াও এখানে কিছু সাধারন পরামর্শ দেয়া হোল যা খাবার ভালো ভাবে হজম হতে সাহায্য করার পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়া থেকে স্বস্তি পেতে সাহায্য করবে।

বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা থাকলে ৩ বেলা বেশি করে খাবার পরিবর্তে কম সময়ের বিরতি দিয়ে কম খাবার বার বার খান।এভাবে খেলে খাবার সঠিক ভাবে হজম হবে এবং সমস্যা কমবে।
পেট ফুলে থাকা,গ্যাসের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা সাধারণত হয়ে থাকে খাবার ভালো ভাবে হজম না হওয়ার কারনে। ভালো করে চিবিয়ে খাবার খেলে তা সহজে হজম হয়।কারন খাবার হজমের প্রথম ধাপ শুরু হয় চর্বণ প্রক্রিয়ায় খাবার ভেঙ্গে লালার সাথে মিশে যাওয়ার মাধ্যমে।খাবার সময় কথা না বলার চেষ্টা করুন।
ধীরে খাবার খান। কারন যখন খুব দ্রুত খাবার খাওয়া হয় তখন খাবারের সাথে কিছু বাতাসও পেটে ঢুকে যায় এবং ফোলা ভাবের সৃষ্টি করে।
খাওয়া সময় পানি কম পান করুন। খাওয়ার সময় পানি বেশি খেলে খাবার হজমে সহায়তাকারি হাড্রক্লোরিক এসিড পাতলা হয়ে যায়। ফলে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং এসিডকে উপরের দিকে চাপ দেয় ও বুক জ্বালাপোড়া বৃদ্ধি করে। তাই খাওয়ার সময় বেশী পানি না খেয়ে সারাদিন প্রয়োজনীয় পানি পান করার চেষ্টা করুন। গ্লাস বা কাপে ঢেলে পানি পান করুন। বোতল থেকে বা স্ট্র দিয়ে পানি না খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে পানির সাথে সাথে বাতাস ও পেটে ঢুকে যায়। পানি খাওয়ার সময় ছোট ছোট ঢোকে পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
অনেকেই গর্ভকালীন সময় হাঁটাচলা করা কমিয়ে দেন। এই কাজটি করা একদমই উচিত নয়। প্রতিদিন নিয়ম করে কমপক্ষে ৩০মিনিট হাঁটুন। এটি শুধুমাত্র খাবার হজমে সাহায্য করবে না, এরসাথে মাংসপেশী সচল রাখবে। অন্য যেকোন ব্যায়াম করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
খাবার খেয়ে সাথে সাথে শুয়ে পড়া উচিত নয়। বরং বসে বই পড়া,ঘরের ছোট ছোট কাজ গুলো করা,ধীরে ধীরে হাঁটা উচিত। আবার এমন কোন কাজ করা উচিত না যা নুয়ে বা ঝুঁকে করতে হয়। ঘুমাতে যাওয়ার দুই থেকে তিন ঘন্টা আগে খাবার খাওয়া উচিত।
বমি বমি ভাব, পেটের গ্যাস, বদহজমের সমস্যা দূরে আদা বেশ কার্যকর। আদাতে জিনজারলোস( gingerols) এবং শাগোলোস( shgaols) নামক দুটি উপাদান রয়েছে যা পেটের সমস্যা দূর করে থাকে।  একটি আদা কুচি, এক কাপ পানিতে জ্বাল দিন। এরসাথে আপানর পছন্দমত লেবু বা মধু যোগ করতে পারেন। জ্বাল হয়ে আসলে এটি চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। খাবার খাওয়ার আগে অথবা পরে এটি পান করুন।
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের টক স্বাদ আপনার মুখে রুচি এনে দিতে পারে। এছাড়া এটি বুক জ্বালাপোড়া এবং গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে পান করবেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে পান করুন।
খাবার সময় বা পান করার সময় তা বসে করার চেষ্টা করুন, এমনকি ছোট কোন স্ন্যাক খাওয়ার সময়ও বসে পড়ুন।
ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। কারণ আঁটসাঁট পোশাক আপনার পাকস্থলী ও তলপেটে চাপ সৃষ্টি করে সমস্যার বৃদ্ধি ঘটায়।
রাতে ঘুমানোর সময় বিছানা থেকে মাথা কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উঁচু রাখা দরকার।
ডাবের পানি বদহজম দূর করে এবং শরীর থেকে টক্সিন পর্দাথ বের করে দেয়। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে। ডাবের পানি তাৎক্ষনিকভাবে বুক জ্বালাপোড়া ভাব দূর করে দেয়।
ধূমপান করা যাবে না। এটি সেই পেশিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যেগুলো গ্যাসকে পাকস্থলী থেকে খাদ্যনালিতে যেতে বাধা দেয়। শুধু খাওয়াদাওয়া মানাই তো সব নয়, তাই না? পাশাপাশি যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে হবে। আরেকটা কথা, সামান্য সমস্যা হলেই নিজে নিজে প্যারাসিটামল, এসপিরিনসহ নন-স্টেরয়ডাল এবং ব্যথানাশক কিংবা জ্বালা-পোড়া নিরোধক বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটোরি ওষুধ সেবন পরিত্যাগ করুন।
যদি খুব বেশি সমস্যা হয় তবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে যে কোন ওষুধ সেবনের আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

32 questions

26 answers

2 comments

1 user

গর্ভাবস্থা, গর্ভধারণ, শিশু লালন পালন বা মা ও শিশু বিষয়ক যে কোন প্রশ্ন করুন। আমাদের টীম এবং আমাদের ইউজাররা যথাসাধ্য চেষ্টা করবে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেও অবদান রাখতে পারেন।
...