সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভাবস্থা । সপ্তাহ – ৮

আপনার শিশু এখন তার বিকাশের প্রায় ষষ্ঠ সপ্তাহে পৌঁছে গেছে । এই সপ্তাহটি হল বৃদ্ধির জন্য একটি বড় সময় । আপনার শিশুর নেত্রপল্লবের ভাঁজ ও কানের গঠন শুরু হয়ে গেছে। হাত এবং পায়ের ছোট্ট ছোট্ট আঙ্গুল যা এখন হাঁসের পায়ের মতো দেখতে, সেগুলির বিকাশ হচ্ছে এবং সে আপনার গর্ভে সাঁতারও কাটতে শুরু করেছে ।

এসময় শিশুর আকার একটি বরই এর সমান হয় (৩০ মি.মি. বা পুরো এক ইঞ্চি) এবং প্রতিদিন প্রায় এক মি.মি. হারে এর আকার বাড়ছে। এর মধ্যে পেছনের লেজের মত অংশটি প্রায় মিলিয়ে গেছে এবং তার মধ্যে মানুষের মত কিছু চিহ্ন দৃশ্যমান হচ্ছে। আপনি কিছু টের না পেলেও, ছোট বাচ্চাটি কিন্তু এর মধ্যেই হাত ও পায়ের আঙ্গুল নাড়াচাড়া করতে শুরু করেছে।

এই সপ্তাহের পর থেকে আপনার বাচ্চাটিকে পরিণত ভ্রুণ বা ফিটাস বলা যাবে। এর মধ্যেই হৃদপিন্ডের কুঠুরী তৈরি হয়ে গেছে এবং ফুসফুসের সাথে কণ্ঠের সংযোগ ঘটেছে। ক্ষুদে হাড়গুলোতে ক্যালসিয়াম সঞ্চিত হতে শুরু করেছে যার দরুন এগুলোকে পুরোদস্তুর হাড়ের মত দেখাচ্ছে। দ্রুত বেড়ে ওঠা মস্তিষ্কের দরুন আকৃতি এবং ওজনে মাথাটি এখন আপনার বাচ্চার শরীরের অর্ধেকটা জুড়ে আছে।

এ সপ্তাহের শারীরিক পরিবর্তন এবং করনীয়

আগের সপ্তাহগুলোর চাইতে বেশী বমিবমি ভাব, গন্ধ সংবেদনশীলতা এবং মেজাজের উঠানামা হতে পারে। শরীরের হরমোনাল পরিবর্তনের কারনেই এমনটা হয়ে থাকে।স্তন আগের চাইতে বেশী sensitive হয়ে উঠতে পারে। এবং আকার বৃদ্ধি পেতে পারে।

এসময় তলপেটে মাংসপেশিতে খিঁচুনীর অনুভূতি হতে পারে, আপনার পেশি আপনা থেকে শক্তি বাড়াচ্ছে বলেই এমন অনূভুতি হবে। ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিপথে সামান্য রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। রক্তক্ষরণ হলে সেটাকে অবহেলা করবেন না এবং জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন।

গ্রীষ্মের দাহ বা উষ্ণ আবহাওয়া স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দুর্বিসহ মনে হলে বুঝবেন শরীরে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যাওয়াতেই এমনটা হচ্ছে।অতিরিক্ত পরিশ্রম, ক্ষুদা এবং গরম লাগলে মাথা ব্যথা হতে পারে৷ একারণে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত৷

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দুপুরে ঘুমিয়ে তা পুষিয়ে নিন। এসময় ক্লান্ত বোধ করাই স্বাভাবিক এবং এটা মেনে নেয়াই ভাল। রাতের দুঃস্বপ্ন আরো ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, আর আপনার মেজাজও খিটিখিটে হতে যেতে পারে।৷ বিকেলে হঁাটা, শোবার আগে গরম দুধ খাওয়া বা বই পড়া ইত্যাদিতে উপকার হতে পারে৷ঘুমের অসুবিধা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন৷

আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্য সময়ের চেয়ে বেশি পরিমাণে প্রোটিন, ফলিক এসিড ও অয়রন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন। আপনার উদরে বেড়ে উঠা শিশুর বৃদ্ধির জন্য এই উপাদানগুলো অনেক বেশি প্রয়োজন।

গর্ভবতী হবার পর নয় মাসে একজন মায়ের ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়ে ,এটাই স্বাভাবিক। গর্ভের শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মাকে দৈনিক ৩০০ ক্যালরি অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন করতে হবে।

গর্ভের শিশুর হাড় গঠনে এবং মায়ের হাড়ের ক্ষয় রোধে ক্যালসিয়াম খুব জরুরি। গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পরবর্তী সময়ে মাকে দৈনিক কমপক্ষে ১০০০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। ক্যালসিয়াম হাড় গঠন ছাড়াও মায়ের উচ্চ রক্ত চাপও প্রতিরোধ করে। ডিম,দুধ,মাছ,পালং শাক, বাদাম থেকে অনেক ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

“প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ হোক মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত ”

<<গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ৭
গর্ভাবস্থা সপ্তাহ ৯>>

 

তথ্যসূত্রঃ
maya.com.bd/content/web/language/bn/1865/
babycenter.com
parenting.com

 

Related posts

Leave a Comment